3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

যে ৭টি কারণে বিশ্বকাপে ফেবারিট ব্রাজিল

Now Reading
যে ৭টি কারণে বিশ্বকাপে ফেবারিট ব্রাজিল

বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল ফেবারিটের তালিকায় থাকবে না, সেটা কখনো সম্ভব নয় এবং এখনও পর্যন্ত ঘটেনি। ব্রাজিলের জনগণের রয়েছে ফুটবলের প্রতি মারাত্মক এক ভালবাসা, বলা হয় জন্মের পর থেকে ব্রাজিলের একটি বাচ্ছা খেলাধুলার অনুষঙ্গ হিসেবে প্রথমেই একটি বল পায় মা-বাবা থেকে। আগ্রহ ও আকর্ষণ এবং ফুটবলে ঈর্ষনীয় সাফল্য, বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে অন্যতম ফেবারিটের আসনে বসিয়ে দেয় ব্রাজিলকে। তবে এবার সত্যিকার অর্থেই ব্রাজিল রয়েছে ফেবারিটের তালিকায় শীর্ষ আসনটিতে। কয়েকটি দেশকে চাইলেও কোনভাবেই বিশ্বকাপের ফেবারিটের তালিকা থেকে বাদ দেয়া যায় না, আর তাদের মধ্যে অন্যতম ব্রাজিল। আর এবার কোচ তিতে যেভাবে দলটিকে তৈরি করেছেন, তাতে সর্বমহলের প্রশংসা পেয়েছেন। ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিততে না পারাটাই হবে এবার আশ্চর্যের।

চলুন জেনে নিই কেন তিতের এই ব্রাজিলকে এবার সবচেয়ে ফেবারিট ধরা হচ্ছে? এমন কি বিশেষ বৈশিষ্ট আছে এই দলটিতে? ব্রাজিলের শক্তির উৎসটাই বা কি? কিংবা অন্যদের সঙ্গে তাদের মূল পার্থক্য কোন কোন জায়গায়? এমন চমকপ্রদ সাতটি বিষয় জেনে গেলে যে কেউ ব্রাজিলকে ফেবারিট বলে দিতে পারেন নির্দ্বিধায়।

১. ব্রাজিলের স্তম্ব তার শক্তিশালী ডিফেন্সঃ কোচ তিতে তার ডিফেন্সকে বেশ শক্তিশালী রুপে গড়ে তোলার দিকেই প্রথম নজর দিয়েছিলেন। তিনি প্রথমেই দলের ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভার মধ্যে একপ্রকার হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হন। কেননা গত বিশ্বকাপে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কোচ দুঙ্গা প্রথমেই থিয়াগো সিলভার কাছ থেকে ক্যাপ্টেনসি কেড়ে নিয়েছিলেন, আর তাতেই মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙ্গে পড়েন সিল্ভা। তিতের সাহসী উদ্যোগে থিয়াগো সিলভার নেতৃত্বে এখন সেন্টার হাফে মিরান্দা এবং মার্কুইনহোসকে নিয়ে পৃথিবীর সেরা এবং শক্তিশালী ডিফেন্স লাইন তৈরি করে ফেলেছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এই ডিফেন্স ভাঙা যে কারও জন্য সত্যিই খুব কঠিন হবে। অন্যদিকে থিয়াগো-মিরান্দা এবং মার্কুইনহোসের সম্মুখভাগে তিতে রেখেছেন কাসেমিরো এবং পওলিনহোকে। এই দু’জন যেমন ভারসাম্য তৈরি করতে পারছেন, তেমনি রক্ষণভাগকেও দিচ্ছেন দারুণ এক নিরাপত্তা। প্রশ্ন জাগতে পারে সেটা আবার কেমন? ব্রাজিলের ম্যাচের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। কারণ, এই ডিফেন্স লাইনের বদৌলতে ব্রাজিল এখনও পর্যন্ত ১৯ ম্যাচে ৩৯টি গোল দিয়ে বিপরীতে মাত্র ৫টি গোল হজম করেছে।

২. বিশ্বসেরা গোলরক্ষকঃ ২০০২ বিশ্বকাপের পর আর কোন গোলরক্ষকই স্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। সম্ভবত রাশিয়া বিশ্বকাপে এই প্রথম একজন বিশ্বসেরা গোলরক্ষক নিজেকে জানান দিয়েছে সে কতটা সেরা। আর তিনি হচ্ছেন ব্রাজিলের অ্যালিসন। ইতালিয়ান ক্লাব রোমা এবং জাতীয় দল ব্রাজিলের হয়ে যে তিনি কতটা নির্ভরশীল গোলরক্ষক- সেটা ইতিমধ্যেই শক্তভাবে প্রমাণ দিয়েছেন। আর এ কারণেই, এখন থেকেই অ্যালিসনের উপর নজর ফেলেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। তাছাড়া এবারের ব্রাজিলের লাইনআপে অ্যালিসনের ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছেন আরেক নির্ভরশীল গোলরক্ষক অ্যাডারসন। তাকেও ভাবা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে।

৩. দলের প্রায় প্রতিটি খেলোয়াড়ই রয়েছেন ফর্মের তুঙ্গেঃ কোচ তিতে তার নিয়মিত লাইনআপ তৈরি করছেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা ফুটবলারদের সমন্বয়ে। আর ব্রাজিল ফুটবলাররাও ভাল করে জানেন, তারা যদি ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেন, তবেই তিতের দলে পরের সুযোগটা পাবেন নয়তো নয়। পারফরম্যান্সে সামান্য ঘাটতি থাকলেই পড়ে যাবেন বাতিলের খাতায়। আর এই প্র্যাকটিসটা সম্ভবত শুরু হয়েছে এবার কেননা গত আট বছরের ইতিহাসে এমন উদাহরণ দেখা যায়নি ব্রাজিল দলে। কিন্তু এবার তা করতে পেরেছেন তিতে, দলের খেলোয়াড়দের বুঝাতে পেরেছেন খেলার ভেতরেই থাকতে হবে।

৪. নেইমার নির্ভরতা অবসানঃ নিঃসন্দেহে নেইমার ব্রাজিল তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকা ফুটবলার। তবে বর্তমান ব্রাজিল দলটিতে নেইমারই একমাত্র বিশ্বসেরা ফুটবলার নন। দলটিতে তার সাথে আরও রয়েছেন বেশ কয়েকজন বিশ্বসেরা ফুটবলার। যেমন মার্চেলো, কৌতিনহো, উইলিয়ান, ডগলাস কস্তা, গ্যাব্রিয়েল জেসুসরা এখন নেইমারকে ছাড়াও জেতাতে পারেন দলকে।

৫. দলের ত্রাতা নাম্বার নাইনঃ ব্রাজিলের হাতে রয়েছে ত্রুপের তাস অর্থাৎ একজন বিশ্বসেরা সেন্টার ফরোয়ার্ড। গোলের সামনে যার ওপর আস্থা রাখতে পারেন তিতে থেকে শুরু করে গোটা ব্রাজিলই। ব্রাজিলের এই একটা সেন্টার ফরোয়ার্ডের অভাবেই গত কয়েকটি বছর বেশ ভুগতে হয়েছে। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেন্টার ফরোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন লুই ফ্যাবিয়ানো। ফ্যাবিয়ানো শক্তিশালী একজন ফুটবলার ছিলেন বটে কিন্তু সেরা ছিলেননা। এর পরের ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেন্টার ফরোয়ার্ড ছিলেন ফ্রেড। যাকে ব্রাজিল সমর্থকরাই ভালভাবে মেনে নিতে পারেননি, শুনতে হয়েছিল ধুয়ো ধ্বনি। এর কারণ, পোস্টের সামনে সহজ বল পেয়েও জালে জড়াতে ব্যর্থ হতেন ফ্রেড। তবে সেই অভাব এখন আর নেই, তা কাটিয়ে দিয়েছেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। বয়সে তরুণ এই ফুটবলার ব্রাজিলের হয়ে ইতিমধ্যেই ১৫ ম্যাচে করেছেন ৯ গোল। তাকে ব্রাজিলের বিশ্বনন্দিত স্ট্রাইকার রোনালদোর উত্তরসুরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৬. পুনর্জীবিত আত্মবিশ্বাসঃ দুঙ্গার কাছ থেকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর তিতে ব্রাজিলকে যেভাবে গড়ে তুলেছেন সেটা সত্যিই বিস্ময়কর। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে না হেরে টানা সাফল্য, এবং সবার আগে ফেবারিট হয়ে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করা এবং বাছাই পর্বের পর প্রায় প্রতিটি প্রীতি ম্যাচেই দারুণ সাফল্য ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে শতগুণে। সর্বশেষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নেইমারকে ছাড়া ১-০ গোলে জয় নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপের পূর্বেই ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস পুনর্জীবিত হয়েছে।

৭. বিতর্কহীন একজন কোচঃ ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তিই হচ্ছে সম্পূর্ণ বিতর্কহীন একজন কোচ পাওয়া। তিতে তার পূর্বসূরী দুইজনের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের এবং সদালাভি। দুঙ্গা এবং স্কলারির চেয়ে খেলোয়াড় এবং মিডিয়ার সঙ্গে তিতের সম্পর্ক বেশ বন্ধুর্থপূর্ণ। তিতের এই স্নেহ ভালবাসার কারণেই খেলোয়াড়রা সত্যি সত্যিই বিশ্বকাপের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ব্রাজিল দলের খেলোয়াড়রা আর কিছু না হোক, অন্তত কোচের সম্মান রক্ষার্থেই মাঠে তারা জান-প্রাণ উজাড় করে জয়ের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত।

 

আর্জেন্টাইন সমর্থকরা নিষিদ্ধ রাশিয়া বিশ্বকাপে!

Now Reading
আর্জেন্টাইন সমর্থকরা নিষিদ্ধ রাশিয়া বিশ্বকাপে!

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের পাগলা একটি সমর্থক গোষ্ঠীর নাম ‘বারাস ব্রাভাস’। ফুটবল মাঠে সমর্থক হিসেবে এই বারস ব্রাভাসদের সুখ্যাতির চেয়ে কুখ্যাতিটাই দ্বিগুণ। ১৯৫০ সালে আর্জেন্টিনায় সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা হয় বারাস ব্রাভাস নামের এই সংগঠনটি। ইউরোপের অন্যান্য চরমপন্থী সমর্থক সংগঠনের আদলে গড়ে উঠেছে দলটি এবং ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়েছে লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোতেও। বারাস ব্রাভাস গ্রুপ আর্জেন্টিনার স্থানীয় ফুটবলে কুখ্যাত হিসেবে পরিচিত। গ্রুপটি আর্জেন্টিনার স্থানীয় ফুটবলের আসরে প্রায় প্রতিটিতেই তুলকালাম বাঁধিয়ে দেয়। মাঠে বোমা-পটকা ফাটানো, স্ল্যাং করা, বিকট সুরে চিল্লানো, বিকৃত অঙ্গভঙ্গি, মারামারি, বিশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে যত সহিংস কাজ করা সম্ভব তার যেন সবটুকুই উজার করে দেয় তারা। আর্জেন্টিনা দল মাঠে খেললে দর্শক সাড়িতে বারাস ব্রাভাসরা এসব কর্মকাণ্ডের প্রায় সবগুলোই ‘সফল’ বাস্তবায়ন ঘটায়। অর্থাৎ আর্জেন্টিনা মাঠে খেলবে আর বারাস ব্রাভাসরা হট্টগোল পাকাবে না, এ যেন কল্পনাই করা যায় না। যার ফলে এদের অনেককেই চিহ্নিত করে স্থানীয় ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আর্জেন্টাইন ফুটবল কর্তৃপক্ষ (এএফএ) বদনাম থেকে বাঁচতে আগেভাগেই রাশিয়াকে এমন তিন হাজার উগ্র সমর্থকদের তালিকা সরবরাহ করে। কেননা প্রতি বিশ্বকাপেই এই বারাস ব্রাভাসদের কারণে কথা শুনতে হয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনকে (এএফএ)। আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থাটি এই বারাস ব্রাভাসদের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে এতটাই বিরক্ত যে শুধু তালিকা দিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তারা সরকারি ছয়জন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে রাশিয়ায় প্রেরণ করছেন যারা সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখবেন যেন আর্জেন্টিনার বারাস ব্রাভাসরা ফাঁকি দিয়ে মাঠে ঢুকে পড়তে না পারে। ফলে বারাস ব্রাভাসরা রাশিয়া গেলেও কোন ভেন্যুতে প্রবেশ করার সুযোগ থাকছেনা।

এদিকে রাশিয়াও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, দাঙ্গাবাজ কিংবা বিতর্কিত কোনো আর্জেন্টাইন সমর্থককে তারা অনুমোদন দেওয়া কিংবা স্বাগত জানাবে না। বিশেষ করে বারাস ব্রাভাস গ্রুপ এর সদস্যদের প্রতি তাদের বাড়তি মনযোগ থাকবে এবং বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোতে তারা কোনভাবেই প্রবেশ করতে পারবেনা। আর্জেন্টাইন ফুটবল ম্যাচের নিরাপত্তা পরিচালক গুইলারমো মাডেরো স্বীকার করেছেন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নামের তালিকা রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি। ঐ কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ান ফেডারেশনের সাথে তাদের একটি চুক্তি হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-জার্মানি মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের পূর্বেই বারাস ব্রাভাসের নিজেদের মারামারিতে কেপটাউনে নিহত হয়েছে এক আর্জেন্টাইন সমর্থক, তখন এই সংগঠনটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ফুটবল নিয়ে দাঙ্গায় আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে প্রতি বছর হতাহতের ঘটনা প্রায় স্বাভাবিক বিষয় বলা যায়।

রাশিয়ায় ঢুকতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে বটে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের জন্য, তবে আশার কথা হচ্ছে সেটা কেবল আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের উগ্র সমর্থক গোষ্ঠী ‘বারাস ব্রাভাস’ এর জন্য। শান্ত আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থকদের মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে কোন বাঁধা নেই।