আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত “আইওএম” এর রোহিঙ্গা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম

Now Reading
আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত “আইওএম” এর রোহিঙ্গা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছে। তারা ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। বর্তমানে সংস্থাটি আর্থিক তহবিল সংকটে পড়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে যদি তারা আন্তর্জাতিক কিংবা বহুজাতিক কোম্পানির সহায়তা না পায় তবে তারা এ সেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা যদি তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় তবে শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুগুলোও ঠেকানো সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেছে। গত ৬ জুন আইওএম তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব উল্ল্যেখ করেছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ লাখ মানুষ। তারা কক্সবাজারের টেকনাফ ও এর পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে আশ্রিত।  এত বিপুল পরিমাণ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বিপরীতে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজারে প্রায় ৪ লাখেরও বেশি পরামর্শসেবা দিয়েছে এই আন্তর্জাতিক শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির সেচ্ছাসেবক ও চিকিৎসাকর্মীরা রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনসাধারণকে এতদিন এসব সেবা বিনামুল্যে দিয়েছেন। বিগত কয়েক মাসের মধ্যে আইওএম এর স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রতিদিন গড়ে ৭০০ জন স্থানীয় ও রোহিঙ্গা নারীকে তাদের সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এমনকি তাদের স্বাস্থ্য সেবার মধ্যে সিজারের মাধম্যে প্রসব ব্যবস্থাও যুক্ত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আইওএম এর অর্থায়নকৃত সার্জিক্যাল ফ্যাসিলিটির আওতায় ১০ জন শিশু সিজারের মাধম্যে জন্ম নিয়েছে। তারা গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতা ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবাও দিয়েছেন তাদের কার্যক্রমে। আইওএম-এর পরিচালিত ক্লিনিকগুলোতে পরামর্শ ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে শিশুদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।

এদিকে সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিজনিত কারণে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রকট হয়েছে। ফলে চিকিৎসাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, তাদের কার্যক্রম আরো প্রসার করতে হবে। তবে তহবিল সংকটে জরুরিভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা না পেলে শিগগিরই এসব সেবা পুনরায় চালু করা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান আইওএম। তারা আরো আশঙ্কা করছে যে, আর্থিক সংকটে এ কর্মসূচী বন্ধ হয়ে গেলে আগামীতে লাখো মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে এবং চোখের সামনে তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটবে।

এদিকে কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয়দের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে আইওএম ব্যাপক কাজকর্ম এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতার জন্য আইওএম কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন আরো বলেন, হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করার পাশাপাশি তারা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকেও শক্তিশালী করেছে। আইওএম-এর সহযোগিতা ছাড়া আমরা কক্সবাজারের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এতোটা সফল হতাম না।

তাছাড়া কক্সবাজার ও টেকনাফে আইওএম এর কার্যক্রমে বেশ সন্তুষ্ট সুবিধাভোগী জনসাধারণ। এমতাবস্থা আর্থিক সংকটে যদি এহেন জনপ্রিয় মানবিক সহায়তা প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায় তবে সে ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকট দেখা দেবে কক্সবাজার জেলা সহ সকল শরণার্থী শিবিরে।

বাংলাদেশের সাথে আবারো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করল মিয়ানমার

Now Reading
বাংলাদেশের সাথে আবারো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করল মিয়ানমার

মিয়ানমার বাংলাদেশকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে তাদের কারাগারে আটক ৮৩জন বাংলাদেশীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। তারা আদৌ বাংলাদেশী কিনা তা প্রকাশ না করে কিংবা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা যাচাই বাচাইয়ের সময় দিতেও নারাজ। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে এই ৮৩ জন কারাবন্দীকে ফেরত নিতে মিয়ানমার কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার চেয়েছিল বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপি এর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এসব রাজনৈতিক বন্দীদের চিহ্নিত করে যেন তাঁদের ফেরত আনা যায়। মিয়ানমার তাঁদের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়েও এসব বন্দীদের প্রত্যাবাসনে আগ্রহী নয়। এখন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই বন্দীদের বোঝা উল্ল্যেখ করে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত বিমান করে ফেরত নিতে চাপ দিচ্ছে। মিয়ানমার সরকার তাদের প্রেরিত চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের কারাগারে আটক বাংলাদেশীদের মুক্তি দিয়ে রাজধানী ইয়াঙ্গুনে স্থানান্তর করতে তাদের আর্থিক খরচ ও অন্যান্য সহযোগিতা বাড়তি বোঝার মত। আটক বাংলাদেশীদের বিমানে ফিরিয়ে দিতে ইয়াঙ্গুন হাইকমিশনের আর্থিক সামর্থ্য অপর্যাপ্ত। তাই বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগেই এসব বন্দীদের কালক্ষেপণ না করে বিমানে ফিরিয়ে নিতে হবে।

মিয়ানমারের এমন অবন্ধুত্বসুলভ আচরণে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সরকার। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের এই আচরণকে ঔদ্ধত্যমূলক ও সুপ্রতিবেশীসুলভ নয় বলে জানিয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে তাদের ১১লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে মানবিক কারণে বাংলাদেশ নিজ ভূখণ্ডে সাময়িক স্থান দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মিয়ানমারের অনুরোধে বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নিদর্শন স্থাপন করতে গিয়ে তাদের নাগরিককে ক্ষমা করে দিয়েছে।  সমুদ্রপথে অবৈধ উপায়ে মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটককৃতদের নাম ও পরিচয় বাংলাদেশের কাছে পাঠানোর রীতি অনুসরণ করত মিয়ানমার যেটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও একইভাবে অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এবারের মিয়ানমারের তোড়জোড় পূর্বের সকল উদাহরণকে ছাপিয়ে উদ্দেশ্যমূলক মনে করছে বাংলাদেশ।

সূত্রমতে, বাংলাদেশের কারাগারে মিয়ানমারের প্রায় দেড়শ বন্দী রয়েছে, সে বিষয়ে তারা নির্বিকার। তাদের বন্দীদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে কোন আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। তাদের এহেন আচরণে বাংলাদেশও সেইসব বন্দীদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে বলবে।

১৯৮০ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ আটক অনুপ্রবেশকারীদের বিভিন্ন সময়ে বিনিময় বা হস্তান্তর করেছে। অনেক সময় বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া দুইদেশের জেলেরা ভুলবশত একে অন্যের সীমানায় প্রবেশ করে আটক হত। পরে দুই দেশের সমতা ও আলাপের ভিত্তিতে বন্দী বিনিময় বা হস্তান্তর হত। কিন্তু হটাত মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যু পরবর্তীতে বাংলাদেশের সাথে অবন্ধুত্বসুলভ আচরণ করে যাচ্ছে।

এবারের পুলিৎজারে আছেন আমাদের পনিরও

Now Reading
এবারের পুলিৎজারে আছেন আমাদের পনিরও

আলোকচিত্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার স্বীকৃতি হিসেবে সাংবাদিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা পুলিতজার পুরস্কার জিতে নিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফটোগ্রাফি টিম। বাংলাদেশে নিযুক্ত রয়টার্সের আলোকচিত্রী মোহাম্মদ পনির হোসেন ওই টিমের এক গর্বিত সদস্য । এ খবরে উচ্ছ¡সিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রয়টার্সের তৈরি করা ফটো-স্টোরিতে তিনটি ছবি রয়েছে আমার তোলা।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সে দেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যা পরিস্থিতি আলোকচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য রয়টার্সের ফটোগ্রাফি টিমকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। পনির বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে রয়টার্সের একটি টিম কাজ করেছি। কাজটি যে সবাই একসঙ্গে করেছি, এমনও না। বাইরে থেকে রয়টার্সের যারা এসেছিলেন, তারা হয়তো একদিনের ভিসা নিয়ে এসেছিলেন, ফলে তাদেরও টানা অনেক দিন এখানে থাকার সুযোগ ছিল না। পরবর্তীতে আমাদের সবার তোলা ছবি নিয়ে একটি স্টোরি তৈরি করা হয়, যেখানে আমারও তিনটি ছবি ছিল। ছবিগুলোর বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনটি ছবির একটি ছিল সাগর পাড়ি দিয়ে ভেলায় চড়ে ভেসে আসছে রোহিঙ্গারা, একটি বৃষ্টির তোড়ে অসহায় রোহিঙ্গা শিশু আর বয়স্কদের ছবি, আর একটি ছিল একজন রোহিঙ্গা নারী তার সদ্যমৃত শিশুকে চুমু খাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি বিভাগের এ পুরস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বিভাগেও পুরস্কার জিতেছে বার্তা সংস্থাটি। এই প্রথম একসঙ্গে দুটি পুরস্কার জিতল রয়টার্স। এদিকে হলিউডে যৌন হয়রানির খবর ফাঁস করে নিউইয়র্ক টাইমসও ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে ওয়াশিংটন পোস্ট যৌথভাবে পুরস্কার জিতেছে। পাশাপাশি, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তের মাদকবিরোধী যুদ্ধে পুলিশের কিলিং স্কোয়াডের তৎপরতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বিভাগেও পুরস্কার পেয়েছে রয়টার্স।

এ বিষয়ে রয়টার্সের এডিটর-ইন-চিফ স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলির ওপর কাজের জন্য এ বছর অনেকগুলো পুলিতজার পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বিশ্বের নজর কাড়তে পারায় রয়টার্সের কর্মী হিসেবে আমরা গর্বিত। ফিলিপাইন নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, মাদকবিরোধী স্কোয়াডের একজন পুলিশ সদস্য কী অস্বাভাবিক সংখ্যায় মানুষ হত্যা করছে। এ স্কোয়াডের অনেক সদস্যকে তার নিজ শহর থেকেই কিলিং স্কোয়াডে রিক্রুট করা হয়েছে। দুতার্তে সেখানে মেয়র থাকাকালেও এ স্কোয়াডের মাধ্যমে অনেককে হত্যা করেছেন।

অ্যাডলার আরো বলেন, বাংলাদেশের উদ্দেশে ধাবমান রোহিঙ্গা জনস্রোতের অসাধারণ ছবিগুলোতে শুধু যুদ্ধের মানবিক ক্ষতির বিষয়টাই দেখানো হয়নি, এসব ঘটনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে ফটো সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয় ভূমিকার বিষয়টিও উঠে এসেছে এতে। রোহিঙ্গা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার জেরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ গত ১২ ডিসেম্বর থেকে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে আটকে রেখেছে। তারা রাখাইন রাজ্যের চাঞ্চল্যকর ১০ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনার খবরাখবর সংগ্রহ করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক যুগের দাপ্তরিক গোপনীয়তা ভঙ্গ আইনে মামলা হয়েছে।

 

 

[পোস্টটি অন্য সাইট থেকে গৃহীত]

মিয়ানমারের কেন এই লুকোচুরি?

Now Reading
মিয়ানমারের কেন এই লুকোচুরি?

কার্যত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বেশ জটিলতা সৃষ্টি করে রেখেছে মায়ানমার। তারা স্বীকার করে নিয়েছে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। এই প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের রাখাইন প্রাদেশিক সরকারের সচিব টিন মং সোয়ে জানিয়েছেন, ২৫শে অগাস্টের পর থেকে প্রায় ৫৩৫,০০০ মুসলমান মংডু ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৯৬৭ জন। এর বাইরেও অনিবন্ধিত আরও রোহিঙ্গা আছে বলে অনেকের ধারণা।

এত বিশাল পরিমাণ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের ১মকিস্তিতে বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা দেয়া হলেও তারা এর মধ্যে আটশ জনেরও মতো রোহিঙ্গার নাম অনুমোদন করেছে মায়ানমার। মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন ও পপুলেশন ডিপার্টমেন্টের স্থায়ী সচিব মিন্ট কায়িং জানিয়েছেন এমুহূর্তে তারা বাংলাদেশ থেকে ৬৭৫ জন শরণার্থীকে ফেরত নিতে প্রস্তুত আছে এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছেন তারা। রাখাইন রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই সচিব গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, গত বছর ২৫শে অগাস্টের আগে রাখাইনে “প্রায় ১০ লাখ পাঁচ হাজার মুসলিম” ছিল। যা এখন সে সংখ্যা প্রায় চার লক্ষ ৭০ হাজার জনের মত। এদিকে দেখা যাচ্ছে জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের যে হিসেব দিচ্ছে, তার তুলনায় মিয়ানমার সরকারের হিসেবে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ কম। যদিও মায়ানমার সরকারের তরফে এর পূর্বে রোহিঙ্গা পালিয়ে যাওয়া বা সংখ্যার বিষয়ে সরাসরি কেউ মন্তব্য করেনি। রাখাইন সরকারের সচিব টিন মং সোয়ে প্রথম এতো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে নিলেন।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সূত্র বলেছে, মিয়ানমারের প্রস্তাব বা শর্ত মেনে সুষ্ঠুভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ব্যাবস্থা নেওয়া হলেও দেশটি একের পর এক নানা অজুহাত দিয়ে কালক্ষেপণ করছে। তারা একদিকে যেমন মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে, আবার অন্যদিকে একের পর এক আলোচনা, চুক্তি, তালিকা হস্তান্তর, যাচাই-বাছাইসহ নানা কিছুর পরও সেই অর্থে প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি নেই। এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে যে সংখ্যায় কম হলেও প্রতিদিন রোহিঙ্গাদের আগমন অব্যাহত রয়েছে।

মিয়ানমারের এহেন আচরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ঢাকায় সফররত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব সলিল শেঠিকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে চুক্তি সম্পাদিত হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তেমন দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না।

তথ্য মতে ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে আসা ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সময় লেগেছিল ১৩ বছর। আর নতুন আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে যে কত বছর সময় লাগবে, তা নির্ভর করছে মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর। রাখাইনে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি রোহিঙ্গারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের আশংকা এলাকায় ফিরে নিজেদের ঘরবাড়ি যে চিহ্নিত করতে পারবে তারা এমন পরিস্থিতি সেখানে আর নেই।

এদিকে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নানাবিধ সমস্যা তৈরি করে রেখেছে। তারা যে সব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে তাদের অবশ্যই ‘বাঙালি’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার ব্যাপারে রাজি হতে হবে তারপর আরও কয়েক স্তর পার হয়েই মিলবে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব। মিয়ানমার চাইছে রোহিঙ্গাদের এই বাঙালি আখ্যা দিয়েই একটা পৃথক জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে। রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের মতে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ডে (এনভিসি) নাম থাকতে হবে এমন বিষয় তাদের অধিকার আদায়ে যথেষ্ট নয়। তথ্য মতে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ মিয়ানমার সরকারের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মাত্র ৭ হাজার ৬০০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ এই কার্ডে যুক্ত হওয়ার বিপরীতে নাগরিকত্ব পেয়েছেন হাতে গোনা কয়েক শ জন।

মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের এই অভিযানকে জাতিসংঘ আখ্যা দিয়েছে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে। বিগত দিনগুলোতে মিয়ানমারের ভূমিকা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, চাপে পড়ে তারা কিছুটা নমনীয় হলেও, আবার নিজেদের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে মিয়ানমার। দুই দেশের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে তালিকা বিনিময় হয়েছে সে প্রক্রিয়া কার্যত আর এগোচ্ছে না। হতাশাজনকভাবে এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিপরীতে  মাত্র ৬০০ জনের ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে মিয়ানমার সরকার।

এদিকে এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপাইন এর প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে বলেছেন, মিয়ানমারে গণহত্যা থেকে বাঁচাতে যেসব রোহিঙ্গা মুসলিম দেশটি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, তাদের আশ্রয় দিতে ইচ্ছুক তিনি। দুতার্তে এ ব্যাপারে ইউরোপের অন্যান্য দেশকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। যদি সত্যিই এমন কিছু বাস্তবে পরিণত হয় তবে রোহিঙ্গা এই সংকট থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে বাংলাদেশের।

অং সান সূচীর রোহিঙ্গা প্রেমিক – ট্যক উইথ NR

Now Reading
অং সান সূচীর রোহিঙ্গা প্রেমিক – ট্যক উইথ NR

শুনেছেন নাকি? অং সান সূচী – নোবেল জয়ী অশান্তির নেতা, উনার যৌবনে তার এক রোহিঙ্গা প্রেমিক ছিল যার সাথে কিছু হয়নি শেষ পর্যন্ত আর সে কারনে রোহিঙ্গাদের উপর তিনি ক্ষ্যাপা। কথা আমাদের না, এগুলো নিয়ে রীতিমত গবেষনা করছে ট্যাবলয়েডগুলো।

সূচী আর মায়ানমারের কিছু ইস্যু নিয়ে আমাদের আজকের ভিডিওটা সাজানো হয়েছে যেখানে কয়েকটি বিশেষ টোপিক নিয়ে আনা হয়ে আপনাদের কাছে যেখানে আপনাদের মতামত খুব বেশী জরুরী।

১। মায়ানমারকে কি মিলিটারী শক্তি দিয়ে সোজা করতে হবে নাকি কূটনীতি।
২। ৮০,০০০ রোহিঙ্গা মহিলা সন্তান সম্ভাবা – বাচ্চাগুলোর জন্মের পর কি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হবে?
৩। আরাকন স্টেটকে যদি বাংলাদেশের মানচিত্রের অংশ করে ফেলা হয় তাহলে রোহিংগাদের কি আরেকটু ভালভাবে তাদের সাপোর্ট দেয়া যাবে?
৪। পাকিস্তানের ভূমিকা এত খারাপ কেন এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে
৫। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী কেন এত দৌড়াদৌড়ি করছেন।

দেখে নিন নীচের ভিডিওটি আর আপনার মূল্যবান মতামত দিন।