3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

আজ আমার বিয়ে – শেষ পর্ব

Now Reading
আজ আমার বিয়ে – শেষ পর্ব

আমি খুব বেশি চিন্তিত । বিয়ে করলাম বেশি দিন হলো না এর মধ্যে কি সব ঝামেলায় যে পড়লাম । সেদিন রুপা আমার সাথে আর কোনো কথা বলেনি । পরের দিন অফিসে বসে ভাবছি কে এই জান্নাত , হুট করে ফেসবুকের টোন কানে আসলে মানে কেউ একজন ম্যাসেজ দিয়েছে । কম্পিউটারের দিকে চোখ যেতে দেখি আবার সেই জান্নাত ।

কেমন আছেন চাঁদ – ওই পাশ থেকে বলছে
কে আপনার চাঁদ , আর আপনি কে , কেন আমাকে বিরক্ত করছেন । আপনার জন্য আজ আমার সংসারে অশান্তি । বিয়ে করে দুই দিন ও যেতে পারলো না কি শুরু করে দিয়েছেন । আপনাকে আমি কত বার বলেছে আমি বিবাহিত । আমি এক নিঃশ্বাসে সব লিখে গেলাম ।
কিছুক্ষণ পর উত্তর আসলো আপনি জানি আপনি বিবাহিত , আপনার বউ থেকে আমি অনেক সুন্দর । আমার মতো মেয়ে আপনি কোথাও পাবেন না ।
আমি আপনার মতো মেয়ে চাইও না । আমার বউ আমার কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর । এই কথা লিখতে লিখতেই দেখি আমার নাম্বারে কল । তাকিয়ে দেখি রুপা কল দিয়েছে ।
কি করো – কল ধরার সাথে সাথেই রুপার প্রশ্ন
কিছু না বসে আছি ।
বসে বসে কি জান্নাতের কথা ভাব । কি ব্যাপার ফেসবুকের ম্যাসেজের শব্দ শুনতে পেলাম । ও বুঝেছি জান্নাতের সাথে চ্যাট করছও বুঝি । ভালো ভালো করো ।
এই কথা বলে ,লাইন কেটে দিলো ।
মেজাজ তখন চরম খারাপ , জান্নাতকে ম্যাসেজে খুব কড়া কথা বলে কম্পিউটার বন্ধ করে রেখে দিলাম ।
সন্ধ্যার সময় বাসায় ফেরার পথে রুপার জন্য আইস ক্রিম কিনে নিয়ে আসলাম ।ভাবলাম রাগ বুঝি কমে গিয়েছে ।
কিন্তু না বাসায় এসে দেখি এক পাশে বসে আছে । আমাকে জামা কাপড় এগিয়ে দিচ্ছে কিন্তু কথা বলছে না । আমি তাকে কত ভাবে যে বোঝানোর চেষ্টা করলাম আমি জান্নাত নামের কাউকে চিনি না , সে বিশ্বাস করলো না । যাই হোক গোসল করে খেতে যাবো , দেখি টেবিল আমার সব প্রিয় খাবার । আমি অবাক হয়ে বললাম এই গুলো কি আপনি রান্না করেছেন
না জান্নাত রান্না করেছে ।
এই কথা শুনে আর দ্বিতীয় প্রশ্ন করার সাহস পায়নি । খাওয়া শেষে চুপ চাপ উঠে চলে গেলাম বেলকনিতে । একটু পরে দেখলাম রুপাও এসে বসেছে কিন্তু কোনো কথা বলছে না ।
আমি তার হাত ধরে বললাম রুপা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি । বিশ্বাস করো আমি জান্নাত নামের কোনো মেয়ে কে চিনি না । আমার কোনো বন্ধু হয়তো মেয়ের আইডি খুলে ফাজলামো করছে । আমার জীবনে তুমি প্রথম কোনো মেয়ে যার হাত আমি ধরেছি । আমি আল্লাহকে ভয় পাই , তাই নিজেকে গচ্ছিত রেখেছি তোমার জন্য ।
এই কথা গুলো বলে আমি চুপ করে বসে আছি । কিছুক্ষণ পর দেখলাম আমার উনি মানে আমার রুপা আমার কাঁধে মাথা রেখে বলে
আমি তোমাকে অনেক বিশ্বাস করি । আমি জানি তুমি এমন কিছুই করনি । আর ওই জান্নাত আইডিটাও আমার । বাসায় তেমন কোনো কাজ নেই । কিছু দিন আগে আইডিটা খুলে তোমার সাথে চ্যাট করে সময় পার করতাম । আমি তোমাকে বাজিয়ে দেখলাম যে তুমি কেমন বাজো ।
তুমি খুব ভালো একজন মানুষ । তুমি জানো আমাদের সমাজে কিছু মানুষ পুরুষ থাকে , যারা শুধুই পুরুষ । তারা পুরুষ থেকে মানুষ হতে পারে না । ঘরে বউ আছে কিন্তু বাহিরে পরকীয়া করে বেড়াচ্ছে । বউয়ের গায়ে বিনা কারণে হাত তুলছে । তারা আসলে পুরুষ কিন্তু মানুষ না । আমি জানি না তুমি সেই গণ্ডি থেকে বের হতে পেরেছো কিনা । কিন্তু আমার কাছে তুমি একজন পুরুষের পাশাপাশি একজন মানুষ । আমি নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করছি তোমার মতো জীবন সঙ্গী পেয়ে । আমি যেমন চেয়েছিলাম ঠিক তেমন আমার মনের মানুষ পেয়েছি । আজ আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই ।

দেখো রুপা একজন বিবাহিত মানুষের জীবনে টাকা পয়সা , গাড়ি বাড়ি এই সব কিছু করার আগে নিজের মধ্যে বিশ্বাস নামক বস্তুটা জন্ম দিতে হবে । তা না হলে সেই সম্পর্ক দিনে দিনে বিষের মতো হয়ে উঠবে । আমি যতই টাকা পয়সা ইনকাম করনি না কেন , যদি একে অপরের প্রতি বিশ্বাস না রাখি তাহলে সুখ নামের পাখিটা কখনো ধরা দিবে না । আমি তোমাকে অনেক বিশ্বাস করি , কারণ আমি তোমার মধ্যে দেখেছি আমার প্রতি এক অন্য রকম ভালোবাসা । আমি শুধু তোমাকে নিয়ে ইহকালে নয় পরকালেও থাকতে চাই । আমি চাই তোমাকে আমার জনম জনমের সাথী করতে ।

আমিও চাই তোমাকে নিয়ে বাঁচতে । তোমার মাঝে বাঁচতে । আমার ভালোবাসা তো আমি তোমার মাঝে দেখেছি । আমি বেশি কিছু চাইনা তোমার কাছে । শুধু বলবো আজ আমাকে যেভাবে ভালোবাসো , ঠিক আজীবন ভালোবেসে দিও একই রকম করে । এই দুনিয়ায় কেন , পরকালে যদি সঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে বলা হয় প্লিজ তুমি আমাকেই তোমার সঙ্গী করে নিয়ে ।

রুপা এই কথা বলে আমার বুকের মাঝে মুখ লুকল । আমি তার কথা শোনার সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে পূর্ণিমার চাঁদ দেখছিলাম । যখন সে আমার বুকে মাথা রাখল আমি তখন তার দিকে তাকালাম । কি তার মায়াবী মুখ । আকাশের জোছনা তখন মেঘে ঢেকে গিয়েছে । যাবেই না কেন , চাঁদ যে আমার বুকে আজ মাথা লুকিয়েছে । এই পূর্ণিমা শুধুই আমার ।

প্রথম থেকে সব পর্ব পড়ার জন্য সাইটে প্রবেশ করুন । আমার নামের ওপর ক্লিক করলে সব আর্টিকেল পেয়ে যাবেন

আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৫ম

Now Reading
আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৫ম

আজ আমার বাসর রাত।অনেক জল্পনা কল্পনা শেষ করে আমার কাছে ধরা দিলো আজকের রাত । আমি তাহারে অবশেষে পাইলাম । এই রকম কিছু কথা আমার মনের মধ্যে বার বার বেজে উঠছিল । বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হওয়ার কারণে ঝামেলা একটু কম হয়েছে । আমি কাজ শেষ করে ঘরে ঢুকবো । আমার উনি মানে আমার বউ আমার জন্য অপেক্ষা করছে । আমি ঘরে ঢুকে প্রথমে তাকে সালাম দিলাম
আসসালামু আলাইকুম , আমি বললাম
ওয়ালাইকুম আসসালাম
আমি আর কোনো কথা না বলে তার পাশে গিয়ে বসলাম । আজ ও আমি প্রথম দিনের মতো চুপ করে বসে আছি । কিন্তু এইবার আর তাকে আগে কথা বলতে দিলাম না ।কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আমি নিজেই বললাম – ওযু করেছেন ?
তিনি হয়তো একটু অবাক হয়েছে আমার কথা শুনে । উনার উত্তর – জী না , এখনো ওযু করিনি ।
আমি বললাম – আমার ওযু আছে , আপনি ওযু করে আসেন দুই জন এক সাথে নামাজ আদায় করে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি ।
তিনি কোনো কথা না বলে ওযু করতে চলে গেলেন । ওযু করে এসে দুই জন এক সাথে নামাজ পড়ে উঠলাম ।
নামাজ পড়ে উঠে আমি তার কপালে চুমু খেয়ে বললাম আমি আজ অনেক খুশি আলহামদুলিয়াহ ।
উনি আমার কথা শুনে কোনো উত্তর না দিয়ে বলে উঠলেন – আপনার বেলকনিটা অনেক সুন্দর ।
জী আমি নিজের হাতে সাজিয়েছি আমার বেলকনিকে । মাঝে মাঝে আমি এখানে বসে বই পড়ি । আবার চাঁদের জোছনা উপভোগ করি । চলেন আজ আপনাকে নিয়ে বসি , কিছু কথা শেয়ার করি ।
আমি আর উনি চলে গেলাম বারান্দায় । একে অপরের সাথে গল্প করছিলাম নিজেদের জীবন নিয়ে । কে কি করেছি , কিভাবে বিয়ের আগে নিজেদের হেফাজত করেছি ।
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি রাত প্রায় ৪ বাজে । আমি তাকে বললাম ফজরের সময় হয়ে গিয়েছে , নামাজ পড়ে শুয়ে পড়ি । আমি নামাজ পড়ে শুয়ে পড়লাম । আমার উনি ও শুয়ে ছিলেন
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে চলে গেলেন রান্না ঘরে । মা , মামা , চাচা ও আমার জন্য নাস্তা বানিয়ে আমাকে ঢাক দিলেন ।
সকাল সকাল কানে বাজছে – এই যে লাল জীন ঘুম থেকে উঠেন । ও বলতে ভুলে গিয়েছি আমাকে উনি লাল জীন বলে ঢাকে । অবশ্য আমি কারণ জিজ্ঞেস করেনি ।
আমি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে এসে দেখি সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে । আমি রুটিটা মুখে দিয়ে বললাম – মা আজ তুমি খুব ভালো রুটি বানিয়েছ ।
আমার আমাকে ঝাড়ি দিয়ে বলল আমি আজ রুটি বানায়নি তোমার বউ বানিয়েছে । আমি আর কোন কথা বললাম না । লজ্জা পেয়ে গেলাম অনেক ।খাবার খেয়ে নিজের ঘরে এসে পড়লাম । উনি একটু পর আসলো ।
আপনি নাস্তা খেয়েছেন ? আমি প্রশ্ন করলাম ।

জী আপনারা খেয়ে যাওয়ার পর আমি খেয়েছি ।
কিছু দিন এভাবে কেটে যায় আমাদের নভ বিবাহিত জীবন । কিছু দিনের মধ্যে অফিস খুলে যায় । আমি অফিসে বসে শুধু আমার রুপার কথা ভাবছি । ভালো লাগছিল না ।
কম্পিউটার সামনে ছিল তাই ফেসবুকটা ওপেন করলাম । ওপেন করে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল । অনেক দিন ঢোকা হয় না , যার ফলে অনেক ম্যাসেজ এসে জমা হয়েছে । ম্যাসেজ এ চোখ বুলাতে বুলাতে একটা কবিতা চোখে পড়লো
তোমার চোখের আমি হারিয়ে যেতে চাই স্বপ্ন লোকে । অবাক হলাম কবিতাটা পড়ে । নাম খেয়াল করলাম । উনার নাম জান্নাত । আজ সকালে ম্যাসেজ দিয়েছে আমাকে । খুব দুরু দুরু বুক নিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম
কে আপনি ?
সাথে সাথে উত্তর আসলো আপনার মনের মান্নাত । আমি তো আপনারই জান্নাত ।
আপনি কি কবিতা ছাড়া কথা বলতে পারেন না ?
কেন আমার কবিতা আপনার ভাল লাগে না ? আমি তো আপনার জন্য কবিতা লিখি । আপনি জানেন আপনার জন্য কত রাত ঘুমায়নি ?
আরে আজব তো আপনি কে ? আর আমি বিবাহিত , আমাকে আপনি কি সব কথা বলছেন ।
এই কথা বলে আমি আর এক মিনিট ও ফেসবুকে থাকলাম না বের হয়ে পড়লাম ।

মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখি বউ কল দিয়েছে । ফেসবুকে থাকার কারণে খেয়াল করা হয়নি । কল ঘুরাতে প্রশ্ন আসলো
খুব ব্যস্ত নাকি আপনি ?
আরে না একটু কাজ ছিল করছিলাম ।
তাই বুঝি ,
জী
আচ্ছা আপনার ফেসবুকের ছবিতে এক মেয়ে কমেন্ট করলো তুমি আমার চাঁদ । আমি তোমার জোছনা ? আপনি না বিয়ের আগে প্রেম করেনি তাহলে এখন চাঁদ জোছনা কোথা থেকে আসছে ?
কি বল এই সব ।মাফ করবেন আপনাকে তুমি করে বলেছি । কি সব বলছেন আপনি । কোন মেয়ে , আর কেনই বা এইসব কোথা বলবে ?
হ্যাঁ অন্য সব মেয়েকে তুমি করে বলতে সমস্যা নাই চাঁদ বলেন জোছনা বলেন ।শুধু আমার বেলায় সমস্যা । মেয়ের নাম জান্নাত । আপনি থাকেন আপনার জান্নাতকে নিয়ে । আমি রাখি ।
এই কথা বলে সাথে সাথে রেখে দিল ।
কি যে বিপদে পড়লাম । কে আবার এই জান্নাত , কি সব যে করছে ।

 

চলবে

সব গুলো লিংক এর জন্য সাইটে প্রবেশ করুন

আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৪র্থ

Now Reading
আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৪র্থ

মেয়ের মা মেয়েকে বলেছে – মা আমি তোমাকে আজ কিছু কথা বলবো , তুমি তা সারা জীবন মনে রাখবে । আর কিছু দিন পর তুমি তোমার স্বামীর সংসারে যাবে । তোমার শাশুড়ি তার ঘরের সব দায়িত্ব তোমার উপর দিবে । তখন তোমার উচিত হবে তিনি যেভাবে তার সংসার এতো দিন দেখাশুনা করেছে , ঠিক তার মতো করে সংসার দেখাশুনা করা । আর সবচেয়ে জরুরি বিষয় , তোমার স্বামী সারা দিন কাজ করে আসবে , তখন তুমি যদি তার সাথে খারাপ ব্যবহার করো তাহলে সে অনেক বেশি কষ্ট পাবে । তখন তোমার উচিত হবে তার সেবা যত্ন করা । তার দিকে খেয়াল রাখা তোমার প্রধান কাজ । তিনি হয়তো মাঝে মাঝে কাজের প্রেসারে তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারে , তুমি তা কিছু মনে রেখো না । সে অসুস্থ হলে তোমার উচিত হবে তার সেবা করা । তিনি কি খেতে পছন্দ করেন সেই দিকে তুমি সর্বদা খেয়াল রাখবে । আর তুমি ওই বাড়িতে যাওয়া মাত্র তোমার শাশুড়ি হয়ে যাবে তোমার মা ।তোমার উচিত আমাকে তুমি যেভাবে সম্মান করো , ঠিক উনাকেও সেভাবে সম্মান করবে । আর কখন স্বামীর সাধ্যের বাহিরে কিছু চাপিয়ে দিবে না । খুব ভালো হয় তুমি তার কাছে কিছু চাইবে না , উনি তোমাকে সেধে জিজ্ঞেস করবে । কারণ তুমি কিছু চাইলে তখন যদি উনি দিতে না পারে তাহলে তার থেকে কষ্ট বেশি কেউ পাবে না ।

মা এই সব কথা বলছিলো আমি চুপ করে শুনছিলাম । মায়ের বলা শেষ হলে আমি চলে গেলাম রান্না ঘরে । আমি মাঝে মাঝে রান্না করি , কিন্তু এখন থেকে নিয়মিত রান্না করবো । আমার উনাকে রান্না করে খাওয়াতে হবেনা । মামা আর মা খাবার টেবিলে বসা । আমি রান্না করে নিয়ে আসলাম তাদের সামনে । মামা গরুর মাংস খেয়ে বলে – কি ব্যাপার ভাগ্নি আজ এতো মজা হলো কি ভাবে ?
আমি বললাম কোথায় মামা , আমি তো সব সময় যেভাবে রান্না করি আজ ও সেভাবে রান্না করলাম ।
তখন মামা বলে উঠলো ও বুঝেছি , কিছু দিন পর স্বামীর বাড়ি যাবে ,এখন থেকে মজার মজার রান্না করছো যাতে জামাইকে ভালো মতো খাওয়াতে পারে ।
মামা আপনি কি সব যে বলেন । এই কথা বলে আমি আর এক মুহূর্ত সেখানে রইলাম না । নিজের রুমে চলে এসে মনে মনে বললাম , আমি তো শুধু আমার স্বামীর জন্য । আমার সব ভালোবাসা তার জন্য রেখে দিয়েছি ।

সাদ রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো , এমন সময় তার বন্ধুর সাথে দেখা .
কিরে দোস্ত তুই নাকি বিয়ে করবি ।
হুম দোস্ত দোয়া করিস ।
তো বৌয়ের ছবি দেখা দোস্ত ?
হি হি হি সরি দোস্ত দেখানো যাবে না । আমার বৌয়ের দেখার অধিকার শুধু মাত্র আমার । তোমাকে দেখাই আর তুমি তখন বলবে আমার বৌয়ের চোখ সুন্দর , নাক সুন্দর তা হবে না বন্ধু । আমার বৌয়ের প্রশংসা শুধু আমি করবো ।
আচ্ছা তাহলে বিয়েতে দাওয়াত দিস ।
আচ্ছা কিছু খোরমা খেজুর ছিটিয়ে দিমু নে , খেয়েনিস । হাহাহা । এই বলে আমি হাঁটা ধরলাম । আমার বউ আমার কাছে রাজরানী । আমি কেন আমার রানীকে অন্য মানুষ কে দেখতে দিবো ।

একদিন আমি মায়ের মোবাইল থেকে তার নম্বর নেই তাকে কল দেয়ার জন্য । কল দিয়ে শুরুতে পরিচয় দিলে সে আমাকে চিনেও না চেনার ভান করে । পরে আমি রেখে দিলে সে আবার কল ঘুরিয়ে বলে আপনাকে পরীক্ষা করে দেখলাম । আমি বললাম আপনাদের বাসায় ঢোকার আগ থেকে আমাকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে । আচ্ছা যাই হোক , আপনাকে কিছু কথা বলার অন্য কল দিয়েছি । উনি বললো জ্বী বলুন । আমি বললাম – দেখেন বিয়েতে ইচ্ছা করলে অনেক টাকা খরচ করা যায় । অনেক মানুষ কে দাওয়াত করে খাওয়ানো যায় । এতে করে দুই পরিবারের মিলে কম করে হলেও ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা খচর হবে ।
উনি জবাব দিলো জ্বী আপনি ঠিক বলেছেন ।
আমি আবার বলা শুরু করলাম – আমি ভেবেছি অনুষ্ঠানটা পারিবারিক ভাবে করবো । আমার পরিবার থেকে কিছু মানুষ যাবে আর আপনার পরিবারের কিছু মানুষ মিলে ২০ হাজার টাকার মধ্যে করে ফেলবো । তাহলে আমাদের বাকি টাকা আমরা ব্যাংক বা নিজেদের কাছে জমিয়ে রাখতে পারি । পরবর্তীতে এইটা আমাদের সন্তানের কাজে আসবে । আবার আমরা বিয়ে পর দুই ফ্যামিলি মিলে ঘুরে আসতে পারি কিছু টাকা দিয়ে । দেখেন আজ আমরা মানুষ কে খাওয়ালে কাল তারা আর আমাদের মনে রাখবে না । আর যদি না খাওয়াই তাহলে আমাদের অনেক বদনাম হবে ঠিক আছে, কিন্তু আমরা একবেলা না খেয়ে থাকলে তারা কোনো দিন আমাদের খাওয়াবে না । আমাদের খোঁজ খবর নিবে না । আমাদের পরিবারই আমাদের পাশে থাকবে । তাই এমন মানুষের জন্য করা উচিত যে সুখ দুঃখের বন্ধু । তার জন্য করা উচিত নয় যে শুধু সুখের বন্ধু । আমার বলা শেষ ।আমি শুধু আমার মতামত দিয়েছি । এখন আপনি বলতে পারেন ।

উনি বললো – শুরুতে আপনাকে যতটা বোকা ভেবেছি আপনি আসলে ততটা বোকা না
এই কথা শুনে আমি কেশে উঠলাম ।
উনি বললো আসলে আপনি খুব ভালোমানুষ । আমি আপনার বউ হবো এই ভাবে অনেক আনন্দিত ।
এই কথা শোনার পর মনে হলো কেউ বোধ হয় আমার পচাৎ অংশে একটি রকেট লাগিয়ে দিয়েছি আর আমি আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছি ।
উনি আর কথা বাড়ালেন না । এইটুকু বলে লাইন কেটে দিলেন ।

চলবে…

 

আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৩য়

Now Reading
আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৩য়

বাসায় এসে কোনো রকম নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম । প্রতিদিনের মত ঘুম থেকে উঠে নিজেকে ঘুছিয়ে বের হলাম অফিসের উদ্দেশ্য । রিকশায় উঠে বসলাম । আজ কেন যেন এক সাইডে বসতে ইচ্ছে করলো । মানে প্রতিদিন রিক্সায় উঠলে নিজে রিলেক্স করে বসতাম । আজ ডান সাইড একটু চেপে বসলাম , বাম সাইডের জায়গাটা উনার জন্য রেখে আগে থেকে অভ্যাস করছিলাম । উনার কথা ভেবে এখন থেকেই লজ্জা লাগছে । আর কিছু দিন পর আমাকে আর এক বসতে হবে না রিকশাতে ।

অফিস করে বাসায় ফেরের পথে হঠাৎ চোখে লাল চুড়ি পড়লো । রাস্তার পাশে এক মহিলা চুড়ি বিক্রি করছে । আমি নেমে তার জন্য দুই ডজন চুড়ি কিনে নিলাম । এই প্রথম কোনো মেয়ের জন্য কিছু কিনলাম । রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি আর কল্পনা করছি , উনাকে প্রথম রাতে নিজ হাতে আমি চুড়ি গুলো পরিয়ে দিয়ে বলবো আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে । মনে হচ্ছে চাঁদের জোছনা একদম পরিপূণ হয়ে গেলো চুড়ি গুলো হাতে দিয়ে ।

বাসায় এসে তারা হুরা করে নিজে রুমের ভিতর ঢুকে গেলাম । যদি কেউ দেখে ফেলে আমি চুড়ি কিনেছি তাহলে আমাকে নিয়ে মজা করবে বলবে বউ আসার নাম নেই উনি আছেন চুড়ি নিয়ে । আচ্ছা বুঝলাম না একটা ব্যাপার । আগে প্রত্যেকটা দিন , রাত, সময় , বছর কিভাবে কেটে যেত টের পেতাম না , কিন্তু কাল থেকে আজ মনে হচ্ছে ১ বছর সময় পার হয়ে গিয়েছে । অপেক্ষা আমাকে মেরে ফেলছে । আমার হবু বউ কে উনি উনি করে বলছি , মোটেও ভাল লাগছে না । তার নাম ও তো জানি নেই । আচ্ছা আমি একটা নাম দিয়ে দেই । তার নাম হবে রুপা । হুমায়ন আহমেদ এর হিমু গল্পের রুপা । না আমি হিমু না । আমি সাদ , আর রুপা হলো সাদের ।

রাতে ভাত খাওয়ার সময় মা বলছিলো – বাবা এখন থেকে তোমার উপর অনেক দায়িত্ব । আর কিছু দিন পর থেকে তুমি একা থাকবে না । তোমার সঙ্গী হবে । আমি তোমার বন্ধু হিসেবে কিছু কথা বলবো তোমাকে তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে ।
আমি কোনো কথা বলছিলাম না , মা বলে যাচ্ছে আমি মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম ।
মা বলছে – তুমি একটা মেয়েকে তার মা . বাবা , ভাই , বোন সবার থেকে আলাদা করে নিয়ে আসবে । মেয়েটা সবাই কে পর করে দিয়ে তোমাকে আপন করে নিবে । তোমার উচিত হবে সর্ব অবস্থায় থাকে ভালোরাখা । কারণ ওর একমাত্র ভরসা তুমি । তুমি যদি তাকে কষ্ট দাও সে অনেক বেশি কষ্ট পাবে । তোমার উচিত হবে সব সময় তার মন জয় করে চলা । সে তোমার অর্ধেক । এই কথাটা মনে রাখবে । তার খুশির দিকটা খেয়াল রাখা তোমার দায়িত্ব । সারা দিনের মধ্যে কিছুটা সময় তোমার উচিত তার জন্য বরাদ্ধ রাখা । তুমি তোমার সারা দিনের কিছু উল্লেখ যোগ্য ঘটনা তার সাথে শেয়ার করতে পারো । তুমি কাজ করে আসার পর যদি মনে হয় তুমি তাকে তার কাজে সাহায্য করতে পারবে তাহলে তুমি অবশ্যই সাহায্য করবে । আরেকটা কথা , আমি তার মায়ের মতো । আমার সাথে শুরুতে তার চলতে একটু সমস্যা হবে । আমি চেষ্টা করবো খুব দ্রুত মানিয়ে নিয়ে চলতে । তখন ও অনেক একাকিত্ব বোধ করবে । তখন তোমার কাজ হবে তাকে বোঝানো । ধর্মীয় কাজে তাকে সহযোগিতা করবে । আর তোমার বৌয়ের শাসন করার ব্যাপারে খুব বেশি করা করি হবে না , আবার একেবারে নরম প্রন্থা অবলম্বন করবে না । তুমি যদি আমার কথা গুলো মেনে চলতে পারো তাহলে বাবা তুমি তোমার বিবাহিত জীবনে অনেক সুখী হবে .

আমি কোনো কোথায়ই বললাম না । একদম বাধ্য ছেলের মতো সব কথা শুনে গেলাম । পরিশেষে মা একটি কথা বললো যা আমার মনে দাগ কেটে গিয়েছে

মা বললো – বাবা সুখ টাকার মাঝে নেই । সুখ হলো একজন কে আরেক জন বিশ্বাস করার মাঝে । ধরো তোমাদের অনেক টাকা কিন্তু একজন কে আরেক জন সন্দেহ করো , তাহলে সারা দিনের পরিশ্রম আর টাকা সব বৃথা । আর যদি ঘরে টাকা না থাকে , খাবার না থাকে কিন্তু ভালবাসা আর বিশ্বাস যদি থাকে তাহলে সুখ নামের পাখিটা ধরা দিতে বাধ্য ।

আমি খেয়ে উঠে পড়লাম । ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চিন্তা করছিলাম , আমার মনের ভিতরে যেই ঘর বেঁধে রেখেছি আমার রুপার জন্য , তাকে আমি সেই ঘরের রানী বানাবো আর আমি হবো একমাত্র রাজা । যেখানে কোনো প্রজা বা আর কোনো মানুষের স্থান থাকবে না । ভাবছিলাম ও যখন প্রেগনেট হবে তখন আমি কাজ করবো না । ছুটি নিয়ে নিবো কয়েক মাসের । রুপা যদি টয়লেটে যায় তাহলে আমি টয়লেট পর্যন্ত কোলা করে নিয়ে যাবে , যদি হাটতে গেলে ব্যথা পায় । ওর সব কাজ আমি করে দিবো । নিজের হাতে খাইয়ে দিবো । নিজে নিজে ভাবছি আর মুচকি হাঁচি । বিয়েই হলো না এখনই বাবা হবার স্বপ্ন দেখছি ।

চলবে….

 প্রথম পর্ব আর দ্বিতীয় পর্বের লিংক দিয়ে দিলাম

 

আজ আমার বিয়ে – পর্ব ২য়

Now Reading
আজ আমার বিয়ে – পর্ব ২য়

যখন দাঁড়ালাম তখন খেয়াল করলাম ঘরের মধ্যে কেউ একজন আমাকে উঁকি মেরে দেখছে । আমি আর কোনো কথা না বলে চুপ করে বসে পড়লাম । মা আর মামা কথা বলছে মেয়ের বাবার সাথে । কি কথা বলছে আমি খেয়াল করি নি । আমার মনে তখন একটাই চিন্তা এখন আমার কি হবে ? আসলে যা হবার তো তা হবে । সাদ , এই সাদ এই রকম একটা কিছু আমার কানে ভেসে আসতেই আমি তাকিয়ে দেখলাম মা ডাকছে । আমি বললাম কি মা বলো । মা তখন বললো পাশের ঘরে মেয়ে আছে তুমি গিয়ে দেখে আসো । আমি কোনো কথা না বলে উঠে সোজা হাটতে শুরু করলাম । দেখলাম খাটের এক পাশে একটি মেয়ে বসে আছে , মাথার অনেক বড় ঘোমটা । আমি প্রথমে ঢুকে তাকে সালাম দিলাম ।
উনি উত্তরে ওয়ালাইকুম আসসালাম বলে চুপ করে আছে । এই দিকে আমার অবস্থা খুব খারাপ । একটা হাটু যেন আরেকটা হাঁটুর সাথে বাড়ি খাচ্ছে । আমি রুমাল দিয়ে আমার ঘাম মুছে বসে পড়লাম খাটের এক পাশে ।কেউ কোনো কথা বলছি না । মনে হচ্ছে সারা দুনিয়া থেমে আছে । আমি একদম চুপ ।

ওই প্রান্ত থেকে প্রথম প্রশ্ন আসলো আপনার নাম কি ?
সাদ আমার নাম – আমি জবাব দিলাম ।
উনি আমাকে বললো আচ্ছা আপনি কি আমার হাত ধরতে পারবেন এখন ?
এই রকম কোনো প্রশ্নের জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না । এই রকম কিছু শোনার পর তখন আমার নিউটন এর কথা মনে পড়লো । উনি তার গতি সূত্রে বলেছিলাম প্রত্যেক বস্তুর একটি সমান ও বিপরীত মুখী ক্রিয়া আছে । কিন্তু আমাদের মধ্যে শুধু সমান ক্রিয়া কাজ করছে বিপরীত ক্রিয়া কাজ করছে না । মানে মাটির ভিতরে চলে যাবো বলে মনে হচ্ছে । আমি উত্তর দেয়ার আগে আবার আমাকে প্রশ্ন করলো আমি কয়টা প্রেম করেছি ?
আমি গলা কেশে বেশ শক্ত ভাবে বললাম আমি মোটেও ওই রকম ছেলে না । আমি নিজেকে আমার বৌয়ের জন্য পবিত্র রেখেছে । আমার উত্তরটা শুনে তিনি একটু হাসলেন ।
তখন সে আমাকে বললো নামাজ পড়েন ?
জ্বী নিয়মিত নামাজ পড়ি ।
আপনার ইন্টারভিউ নেয়া শেষ এইবার আপনি আসতে পারেন । যাওয়ার সময় পিছন ফিরে তাকিয়ে ছিলাম । শুধু এক পলক তার চেহারাটা দেখতে পেলাম । মনে হলো কোনো এক জান্নাতের পরী পৃথিবীতে নেমে এসেছে ।
আমি এতটা বোকা যে তার না জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছি । আচ্ছা উনি আমাকে কেন হাত ধরতে বললেন , এই কথা ভাবতে ভাবতে আমি এসে পড়লাম ডাইনিং রুমে । এসে বসতেও পারলাম না পিচ্চি টা বলে বসলো কি ভাই ভাবি কেমন ? আমি বললাম চুপ থাক । বেশি কথা বলিস না । মা বললো বাবা তোমার কেমন লেগেছে মেয়ে কে ? আমি কোনো কথা বলছিলাম না । কি বলবো তার কথা বলতে গেলে তার রূপের বর্ণনা দেয়া শুরু হয়ে যাবে । মা তখন বললো ভাই সব কিছু মনে করবেন না , আমার ছেলে একটু লাজুক টাইপের তো তাই কোনো উত্তর দিচ্ছে না । ওর মুখ দেখে বুঝতে পারছি ও রাজি । আপনি মেয়েকে আনেন আমি ওকে আংটি পরিয়ে দেয় ।

ভাবি আপনি মেয়েকে তো দেখলেন না । মেয়ের বাবা প্রশ্ন করলো
ভাই আমি আপনার মেয়ের কথা অনেক শুনেছি আমার ছোট বোনের কাছে । কথা শুনেই মেয়ে কে ভালো লেগেছে ।

কিছুক্ষন পর আমার হবু বউ বিশাল বড় এক ঘোমটা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো । প্রবেশ করে সবার পা ধরে সালাম করছিলো । যখন আমার সামনে এসে পা ধরে সালাম করছিলো তখনি উনি আমার পায়ে সালাম না করে দিলো চিমটি কেটে । আমি উফফ করে উঠলে মা বললো বাবা কি হয়েছে । আমি বললাম অরে মা দেখোনা পিচ্চি টা কি শুরু করেছে খালি আমাকে চিমটি দেয় । তখন মামাতো ভাই বলে উঠলো ফুপু আমি কিছু করি নি । ভাবি, এই কথা বলতে যাবে তখনি আমি মুখ চেপে বললাম চুপ থাকো । তুমি অনেক দুষ্ট হয়ে গিয়েছো । পিচ্চিটা বলে উঠলো আমি কিন্তু সবই বুঝি । মেয়ে গিয়ে আমার মায়ের পাশে বসলো । মা বললো দেখি মা তোমার ঘোমটা টা একটু নামাওতো দেখি । মা বলে উঠলো একদম পরীর মতো মেয়ে । আমার খুব ভাল লেগেছে । আমিও তখন আমার হবু বৌকে মন ভোরে দেখে নিলাম । হঠাৎ করে আবার কানে হাসির শব্দ আসলো । দেখলাম উনার ছোট বোনেরা আমাকে দেখে হাসছে । আমি মাথা নিচু করে বসে আছি । আগামী মাসের ১২ তারিখে আমাদের বিয়ে ।কথা ফাইনাল করে ফিরার পথে দেখলাম তিনি আমাকে দেখে হাসছে আর শুধুই হাসছে । আমিও তার দিকে থাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বের হয়ে গেলাম ঘর থেকে । গাড়িতে গিয়ে বসলাম । মুহূর্তের মধ্যে বাসায় এসে পড়লাম । বুঝলাম না যেকোন এতো দ্রুত আসলাম কিভাবে ।

চলবে

নিচে প্রথম পর্বের লিংক দিয়ে দিলাম

http://footprint.press/%E0%A6%86%E0%A6%9C-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A7%E0%A6%AE/

আজ আমার বিয়ে – পর্ব ১ম

Now Reading
আজ আমার বিয়ে – পর্ব ১ম

আজ আমি কুরবানী হতে চলেছি । না ভয় পাওয়ার কিছু নেই । আজ আমার বিয়ে । অনেক দিনের সাধনা আজ পূরণ হতে যাচ্ছে । জীবনের ২৫ টা বসন্ত একা কাটিয়ে ২৬ তম বসন্তে মনের কোকিল এর কাছে যাচ্ছি নিজেকে উজাড় করে দিতে ।

বেশ কিছু দিন আগে ভার্সিটি পাস করে একটি ছোট খাটো চাকরি করছি । এর আগে থেকে বাসায় বলছিলাম বিয়ে করবো । কিন্তু তাদের একটাই উত্তর বিয়ে করে বউ কে খাওয়াবি কি ? এই কথার উত্তর জানা নেই দেখে পরের লাইনে আর কোনো দিন যাওয়া হয়নি । যখনি চাকরিটা পেয়েগিয়েছি তখন আর আমাকে আটকায় কে । প্রথম মাসের বেতন মা এর হাতে দিয়ে বলে দিলাম আমার জন্য মেয়ে দেখো আগামী মাসের মধ্যে বিয়ে করবো । যখনি আমাকে সেই শায়েস্তা খাঁ আমলের প্রশ্ন করতে যাবে বিয়ে করে বৌকে খাওয়াবি কি ? এর আগেই আমি উত্তর দিয়ে দিলাম যা বেতন পাই তা দিয়ে আমাদের সবার হয়ে যাবে । এর উত্তরে মা আর কিছু বললো না । বাবা নেই । মানে বাবা মারা গিয়েছে অনেক আগে । আমি যখন ক্লাস ৪ এর পড়ি তখন ।

আজ আমার জন্য মেয়ে দেখতে যাবে মা , মামা আর চাচা মিলে । সাথে আমার ছোট মামাতো ভাইও ছিল । খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পরে নিলাম । আজ আমার মনের ভিতর ঈদের আনন্দ চলছে । মনে হচ্ছে আমি হৈমন্তীর গল্পের মতো বলি আমি তাহাকে পাইলাম । অবশ্য এখনো আমি উনাকে মানে আজ যাকে দেখতে যাবো তাকে আগে কখনো দেখিনি । মা এক লোকের মধ্য জানতে পেরেছে কোথায় নাকি একটি ভাল পরিবারের ধার্মিক মেয়ে রয়েছে । নামাজ পরে দ্রুত নিজেকে শান্ত করলাম । মনে মনে বললাম সাদ এতো লাফাইস না । মেয়ে দেখতে যাবি বেশি লাফাইলে দেখতে খারাপ লাগবে । নিজের সাথে নিজে কথা বলছি আর লজ্জা পাচ্ছি । এর মধ্যে মা উঠে পড়লো । উনি নাস্তা বানিয়ে রেডি হবে । যখন নাস্তা খাচ্ছিলাম আর মুচকি মুচকি হচ্ছিলাম , মা বলে উঠলো – কিরে তুই হাসছিস কেন ? আমি বললাম আর না মা , কোথায় আমি হাসলাম । তখনি পাশে থাকে মামাতো ভাইটা বলে উঠলো – ফুপু সে হাসছে এই ভেবে আজ তোমার হাতের রুটি খাচ্ছে আর কিছু দিন পর বউ এর হাতের বানানো রুটি খাবে । আমি ওর মাথায় একটা থাপ্পড় মেরে বলি – বেশি পেকে গিয়েছিস তাই না । আমি আর কোনো কথা না বলে খেয়ে উঠলাম । নিজেকে তৈরী করছিলাম তার জন্য । যতই সময় ঘনাচ্ছে আমার ভিতরের অস্থিরতা ততই বেড়েই চলছে । সারা শরীর ঘেমে একা কার । খুব ভয় লাগছে , কেন যে ভয় লাগছে বুঝতে পারছি না । আমি পাঞ্জাবি পরে নিলাম । ঘরে সবাই এসে পড়ছে । মা , মামা আর চাচা সবাই রেডি ।

মামার গাড়ি আছে । আমি সামনে বসলাম পিচ্চি ভাইটাকে নিয়ে । পিছনে সব মুরব্বি। চুপ চাপ বসে আছি আর পিচ্চি টা খালি পা দিয়ে আমাকে খোঁচা দিচ্ছে । কিছু করার নেই হাতি এখন গর্তে । বুঝলাম না আজ কি রাস্তার দৈর্ঘ্য বেড়ে গেলো নাকি । যেখানে ধানমন্ডি থেকে বনানী যেতে সময় লাগে ৪৫ মিনিট , আজ সেখানে রাস্তা শেষ হচ্ছে না । মনে হচ্ছে ২ ঘন্টা হয়ে গিয়েছে । ঘড়ির দিকে থাকিয়ে দেখলাম , না মাত্র ১৫ মিনিট হয়েছে ঘর থেকে বের হয়েছি । কি জানি আজ কেন জানি সব অন্য রকম লাগছে আমার কাছে । গাড়িতে বসে থাকতে থাকতে কখন যে চোখ লেগে আসলো বুঝতে পারিনি । স্বপ্নে দেখছি আমার উনি আমাকে রুটি বানিয়ে নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে । সেই সাথে আমি কাজ করে এসেছি , আমার শরীরের যত ঘাম সব তার ওড়না দিয়ে মুছে দিচ্ছে । ঠিক তখন কানের মধ্যে আসলো – ভাইয়া. ওই ভাইয়া নামবে না আমরা তো চলে এসেছি ভাবীদের বাসার সামনে । এই কথা শুনে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলাম । আসলে তো আমি আমার রাজকন্যার বাসার সামনে । মা , মামা , চাচা সবাই ভিতরে চলে গিয়েছে । আমি গাড়ি থেকে নামবো এমন সময় কিছু মেয়ে এসে আমাকে বললো দুলাভাই এর শরবত টা খেয়ে নেন । আমি ডানে বামে তাকিয়ে দেখলাম কেউ আছে কিনা , যেই ভাবে আমাকে দুলাভাই ডাকছে কেউ দেখলো তো বিপদে পরে যাবো । আমি আর কোনো কথা না বলে চুপ চাপ এক ঢোকে গিলে ফেললাম পুরো শরবত । বুঝলাম না শরবত মিষ্টি লাগার বদলে এতো ঝাল আর তিতা লাগছে কেন ? বুঝতে বাকি রইলো না এই সব আমার হবু শালীদের কাজ । কি আর করবো ঘরের ঢোকার আগে ঝাল দিয়ে শুরু করলাম যাত্রা , না জানি কপালে কি আছে ? কোনো কথা না বলে সোজা ঘরে ঢুকে পড়লাম । ঢুকেই দেখি মামা আর মা এক দিকে বসা আর চাচা অন্য দিকে বসা । আমি গিয়ে বসলাম মামাতো ভাইটার সাথে । মেয়ের মা , বাবা , মামা আসলো । আমি তাদের দেখে দাঁড়িয়ে গিয়ে সালাম দিলাম । যখনি বসতে যাবো তখন খেয়াল করলাম ….

চলবে …..