5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

ক্ষমতা দখল ও ভোট কারচুপির সংস্কৃতি চালু করে জিয়াউর রহমান – আমু।

Now Reading
ক্ষমতা দখল ও ভোট কারচুপির সংস্কৃতি চালু করে জিয়াউর রহমান – আমু।

জিয়াউর রহমানই এ দেশে ক্ষমতা দখল ও নির্বাচনে ভোট কারচুপির সংস্কৃতি চালু করেন বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু। আমু বলেন জিয়াউর রহমানের সময়েই ব্যালট বাক্স হাইজ্যাকের সংস্কৃতি চালু হয়।
এবারের নির্বাচনে আমাদের ইশহেতারের স্লোগান ছিল ‘আমার গ্রাম আমার শহর’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এটাও বাস্তবায়ন হবে বলে বিশ্বাস করে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদ। তিনি আরো বলেন আমি নিজেই নিজের এলাকায় গ্রামগুলোর দ্রুত পাল্টে যাওয়া দেখে অবাক হয়ে যাই।
গতকাল সোমবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নানা কূটকৌশল অবলম্বন করছে বলে মন্তব্য করেন আমির হোসেন আমু । তিনি আরো জানান ২০১৪ সালে তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এবার অংশ নিয়েও তারা সঠিকভাবে নির্বাচনটা করেনি বলে তিনি বলেন। আমির হোসেন আমু বলেন নির্বাচনের নামে বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করল। জনগণের ভোটে তাদের পক্ষে কোনোদিন ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়, এটা বিএনপিও বুঝে গেছে ।
বিএনপি প্রতিটি ক্ষেত্রে এ সরকারের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে চায় বলে আমু বলেন। সরকার যখন পদ্মা সেতু করে তখন বলে এটা আওয়ামী লীগের ব্রিজ। যখন বিনা পয়সায় বই দেয় তখন তারা ২ কোটি বই পুড়িয়ে দেয়। তারা ভেবেছিল এই বই আওয়ামী লীগের লোকজনের সন্তানেরা পড়বে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে এ দেশে স্বাধীনতার চেতনা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন, ছুড়ে ফেলা হয়েছিল সংবিধানকে । বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনার সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবার বাংলাদেশ পরিচালিত হতে শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হয়েছে শেখ হাসিনার সময়েই ।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ছিলেন তারা সবাই ছিলেন খালেদা জিয়ার ঘরের লোক বলে জানা আমু। ড. ফখরুদ্দীন, মইন উ আহমেদসহ সবাই ছিলেন খালেদা জিয়ার আমলে সুবিধাভোগী। তাদের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি আবারও ক্ষমতায় যাবেন বলে মনে করছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু জনগণ তার সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে।

আমরা এখনও টকশোসহ বিভিন্ন স্থানে কাউকে কাউকে বিএনপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগকে একই পাল্লায় মাপার চেষ্টা করতে শুনি বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ধ্বংস করে, আর শেখ হাসিনা গড়েন। বিএনপি-জামায়াত মানুষকে আগুনে পুড়ে মারে বলে বললেন তিনি।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) বলেছেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান কার্যক্রমে দেশবাসীর মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর সুফল ভোগ করবে।
কওমি মাদ্রাসা ও হেফাজতে ইসলামের আমির আলামা আহমদ শফীকে নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের দেয়া বক্তব্যে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।
তিনি বলেছেন, ‘কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান মর্যাদা দিয়ে এই সংসদে আইন পাস হয়েছে। আইন পাস হওয়ার পর এ ধরনের মন্তব্য আমাদের একটু আহত করেছে। কারণ আমিও কওমি সন্তান।

সরকারের বাজেট যেমন বেড়েছে তেমনি কর্মপরিধিও বেড়েছে বলে বললেন লিটন। রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে সরকার ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করেছে। এই রূপকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ফলে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। এর ফলে বেকারত্ব দূর হবে।

আমুর আগে দেয়া বক্তব্যে (গ্রামের পাল্টে যাওয়া দেখে নিজেই অবাক হই ) তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাধীনতার চেতনা ধূলিসাৎ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আজ বিশ্ব মানচিত্রে আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক মানেই পোশাক বনাম দৃষ্টিভঙ্গি।দায়ী কোনটি?

Now Reading
ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক মানেই পোশাক বনাম দৃষ্টিভঙ্গি।দায়ী কোনটি?

গত কয়েকদিন ধরেই দেশের অন্যতম এক আলোচনীয় বিষয় হলো ধর্ষণ।

আসলে গত কয়েকদিন না।এর আগেও কয়েকবার এই টপিক নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছিল দেশ।এইতো সেদিন তনুকে ধর্ষণ ও হত্যা করে কিছু নরপশু।যদিওবা আজ পর্যন্ত এর বিচার পাবার মতো কোনো প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পারিনি।তাই যা হবার তাই হচ্ছে।পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিছুদিন আগে।তবে এবার আর কাউকে তনুর মতো প্রাণ দিতে হয়নি।তবে যা ক্ষতি হয়েছে তা পূরণীয় নয়।একই সাথে এইসব বিষয় জানান দিচ্ছে জাতি ক্রমাগত অবক্ষয় এর।

তবে আজকের টপিকটা একটু ভিন্ন।এখানে আমরা আলোচনা করবো এইসব ধর্ষণের কারণ কি?কি মনে করে এসব নিয়ে এখনকার সমাজ?কেমন চিন্তাধারা প্রদর্শন করছে আমাদের তরুণ-তরুণীরা?চলুন দেখি তারা কি ভাবে আর তাদের চিন্তা কতটুকু ঠিক বা ভুল।

কিছুদিন ধরে দেখলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বর্তমান সময়ে কোনো ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন এর কোনো টপিক উঠলেই শুরু হয় কাঁদা ছোড়াছুড়ি।ছেলেদের অধিকাংশ স্বাভাবিক ভাবে বা বরাবরের মতোই মেয়েদের পোশাক নিয়ে কথা বলে।অনেকে আবার ‘বোরকা’ পড়ার এডভাইস দেয়।আবার অনেকে বলে অন্তত হিজাব পড়া উচিত।

ছেলেদেরকে দিয়েই শুরু করি যদিও আমরা বলি ‘লেডিস ফার্স্ট’।উপরে লিখিত কথাগুলো বেশিরভাগ ছেলেই বলে থাকে।অনেকে আবার এসবের সাথে কিছু বাণী জুড়ে দেয়।আমি তাদের বলবো তাদের কথা ঠিক তবে যুক্তিসংগত নয়।বোরকা,হিজাব এসব কিছুই হয়ে দাঁড়াবে না যখন আপনার উদ্দেশ্য হবে পিশাচ এর মতো।যখন আপনি নারীর মর্যাদা দিতে না পেরে তার পোশাকের উপর আঙুল দেবেন।নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা খারাপ উদ্দেশ্যকে সামলাতে না পেরে হামলা করে বসবেন একজন নিরীহ মেয়ের উপর?কোথায় বলা আছে এমন পাষণ্ড টাইপ কাজ করার কথা?নিজেকে সামলে রাখার মতো শক্তি কি আমাদের দেয়া হয়নি?আমরা কি এতই কাপুরুষ যে গায়ের জোঁড়ে মায়ের জাতির সম্মানহানি করবো?

আমি কিছুদিন আগে এই টাইপের কমেন্টকারী কয়েকজনের ফেসবুক আইডি ঘুরে আসি।তাজ্জব হয়ে যাই তাদের টাইমলাইন,ছবির কালেকশন দেখে।বেশিরভাগ ব্যক্তির সাথেই অসংখ্য মেয়ে আইডির যোগ রয়েছে।তবে এসব মেয়ের কোনো ছবিতেই তাদের বোরকা পড়া অবস্থায় দেখলাম না।তবে চিন্তা করে দেখুন ওই ব্যক্তির চিন্তাধারা কতটা মারাত্মক।আমাদের যুবসমাজের বেশিরভাগ এর এই অবস্থাই চলছে।নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা না বলে দায় চাপিয়ে দিচ্ছি আরেকজনের ঘাড়ে।আমাদের ছেলেদেরই কাতুকুতু বেশি।আর যাই বলুন এটা বিশ্বাস করাই লাগবে।আমরা যদি নিজেদের দৃষ্টি বা নজর ঠিক রাখি তবে কখনই এমনটা হতো না।

আমার কথার সাথে অনেকেই একমত হতে নাও পারেন।আবার অনেকে অনেক নীতিকথা বলে নিজের পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিতে পারেন।তবে আমি একটা কথাই বলবো নিজের দিকটা ঠিক রাখলে এমন পাপের কর্ম কখনো হতো না।তাই দোষটা আমাদের অর্থাৎ ছেলেদেরই নিতে হবে।কারণ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক থাকলে এমন কাজ হওয়া প্রায় অসম্ভব।

এবার আসি মেয়েদের ব্যাপারে।মেয়েদের আমি তেমন কোনো দোষ দেবো না।তবে আমি জানিনা কোন কারণে একদিনের জন্য আমরা পহেলা বৈশাখ,পহেলা ফাল্গুনসহ আরো কয়েকখানা দিন পালন করি।এখনকার জেনারেশান মানে আমরা সত্যি বলতে একটু উপভোগ করার জন্য দিনগুলোতে রাস্তায় নামি।কাজে দেশের কোনো সংস্কৃতি-ঐতিহ্য এর ধার ধারি না শুধু দিনগুলো আসলেই নানান সাজে নিজেদের উপস্থাপন করি বাঙালি হিসেবে।এসবের কোনো মূল্য নেই।দিনরাত পশ্চিমা সংস্কৃতির পেছনে দৌড় দিতে দিতে আজ আমরা ওয়েস্টার্ন জগতে পা দেয়ার চেষ্টা করছি।আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বাঙালি।আমাদের আছে গৌরবের এক ঐতিহ্য।একজন জিন্স-শার্ট পড়া বাঙালি মেয়ের চাইতে শাড়ি পড়া বাঙালি মেয়েকে দেখতে আরো বহুগুণ সুন্দর লাগে।বিশ্বাস না হলে দয়া করে একবার যাচাই করে দেখবেন।বাঙালির গৌরবকে ধরে রাখা আমাদেরই কর্তব্য।তাই আমাদের পশ্চিমা অশ্লীলতাকে ছুঁড়ে ফেলে নিজেদেরকে একদিনের নয় চিরদিনের বাঙালি করে তুলতে হবে।তবে আমি মানুষের নিজ ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা করি।তাই কেউ সেই পশ্চিমাদের ফলো করতে চাইলে তার প্রতি সমবেদনা এইযে তার কোনো সৌন্দর্য এর মাধ্যমে অন্তত প্রকাশ পাবে না।কারণ বাঙালির সৌন্দর্য বাঙালির সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যতেই লুকিয়ে আছে।যদি আপনি এখন পর্যন্ত ইউরোপ-আমেরিকান মডেলদের ফলো করে এসে থাকেন আর যদি ভেবে থাকেন আপনি নিজের সৌন্দর্যতা প্রকাশ করছেন।তবে আফসোস আপনি এই কাজটিতে ব্যর্থ।

আমি একজন সাধারণ বাঙালি।ধর্ষণ এর মতো কাজ আমার জন্য অপমানের।কারণ এই কাজ দ্বারা আমার মায়ের জাতির উপর কেউ আঘাত এনেছে বলেই আমি মনে করি।আমি ঘৃণা করে তাদের যারা বলে নারী কেবল তার পোশাকের কারণেই ধর্ষিত হয়।খারাপ লাগে এইসব কথা শুনে।কোন সমাজে থাকি আমরা যেখানে নারীকে বিবেচনা করা হয় তার পোশাক দিয়ে?আপনি আজ পোশাকের সমালোচনা করছে কয়দিন পর আপনার বোন বা মেয়েকেই ওই পোশাকে দেখা গেলে আপনি ভেবে দেখুন আপনার মতো লোকেরা কি ভাবতে পারে মনে মনে।ভাগ্যিস বিজ্ঞানীরা এখনো মানুষের প্রতি সেকেন্ডের চিন্তাধারা জানার মতো কোনো প্রযুক্তি তৈরি করতে পারেনি।নইলে সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন আমাদের কি হতো।

পরিশেষে বলতে চাই ধর্ষণ বিতর্কে পোশাকের ব্যাপারটা প্রায় নিরর্থক।কারণ ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট বিষয় থেকে আজ ছোট বাচ্চারাও রেহাই পাচ্ছে না।এই সবই আমাদের অর্থাৎ ছেলেদের নৈতিক অবক্ষয় আর অশ্লীলতাকেই আমাই দায়ী করি।আর মেয়েদের বলবো ভারতীয় বা পশ্চিমা রঙ ঢং ছেড়ে জাতির ঐতিহ্যকে কাছে টেনে নিতে হবে।বাঁচাতে হবে দেশের সংস্কৃতি।

নিজেরা এভাবে চলতে পারলেই হয়ত একদিন আমাদের দেশে ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে না।করতে হবে না তনুর মতো মেয়েদের ধর্ষণ আর হত্যার বিচারের জন্য অপেক্ষা।

“বদলে যেতে হবে আমাদেরই”

Page Sidebar