রক্ত (১ম পর্ব)

Now Reading
রক্ত (১ম পর্ব)

শীতের বিকাল।রিমাদের বাড়িতে আজ বিরাট আয়োজন হয়েছে।আর হবেই না কেন?আজ যে রিমার বড় দিদির গায়ে হলুদ।বোনের গায়ে হলুদ হলেও রিমার সাজ দেখে যে কারো মনে হবে আজ ওর নিজেরই বিয়ে হতে চলেছে।

যাই হোক,বহুদিন পর বাড়িতে সব আত্বীয়রা একত্রিত হয়েছেন।এই দেখুন রিমার বোনের নামটা বলতে ভুলে গেলাম।আমাদের কনের নাম সুমোনা।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগ হতে স্নাতক পাস করেছে।সেখানেই তার হবু বরের সাথে দেখা,পরিচয়,একে অপরকে চেনা আর এইযে পরশু বিয়ে।খুব সহজ ব্যাপারটা।বরের নামটা আপাতত গোপন থাক।সে সময় বুঝে ঠিকই এসে পড়বে।

রিমা,সুমোনার কিন্তু একজন বড় ভাই রয়েছে।তার পুরো নামটা বলি।তার পুরো নাম “মাহমুদ আল রিমন” ।বয়স প্রায় ২৮ এর মতো হবে।রিমন তার ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেই জার্মানিতে পা দেয়।কয়েক বন্ধুর সাথে সেখানের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছিল সেখানে।যদিও সেখানে এক মজার কান্ড বাঁধিয়ে আসে আমাদের রিমন ভাই।কৌতুহলবশত জার্মানির এক বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থায় চাকরি পেতে পরীক্ষা দেয় সে।ছোট থেকেই বিচক্ষণ রিমনের চাকরিটা পেতে দেরি হয়নি।তবে এক বছরের মাথায় কোনো এক কারণে তার বাবার অনুরোধে দেশে ফিরে আসে।এখানে এসেও তিনি থামেননি।ইনভেস্টিগেটর হিসেবে কাজ করছেন দেশের এক গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে।বহু ব্যস্ততার মাঝেও একমাত্র নিজের বোনের বিয়ে আছে বলেই মাত্র তিনদিনের ছুটিতে বাড়িতে আছে।

এদিকে বাড়িতে আসা আত্বীয়দের নিয়ে ব্যস্ত আছেন রহমান সাহেব।তিনি আর কেউ নন।রিমা,সুমোনা আর রিমনের বাবা।বুড়োদের নিয়ে আড্ডার আসরে বসেছেন তিনি।এত কিছুর ব্যবস্থা করতে হবে তাও যেন এসব কিছুই না তার কাছে।কিছু বললেই বলেন দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে বড় করেছি।এগুলো এর চেয়ে কঠিন কাজ হবে কি?হ্যাঁ বলতে গেলে দুই মেয়ে আর ছেলেকে একাই বড় করেছেন তিনি।রিমার জন্মের দুই বছরের মাথায় এক রোড এক্সিডেন্টে মারা যান তার স্ত্রী সুষমা।এত তাড়াতাড়ি ছেলে-মেয়েদের ছেড়ে চলে গেলেও রহমান সাহেব ভেঙে পড়েননি।তিনি জানতেন তার সামনে বহু চ্যালেঞ্জ।আর ভেঙে পড়লে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে না।আর আজ তো মনে হচ্ছে তিনি তার চ্যালেঞ্জকে দুমড়ে দিয়েছেন।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।সবাই বসে আছে কখন সব আয়োজন শুরু হয়।এদিকে রহমান সাহেব ছেলে রিমনকে খুঁজছেন।অবশেষে খুঁজে পেলেন বারান্দায়।তবে একি!ছেলে অনুষ্ঠানের সাজ না সেজে নিজের ডিউটির পোশাক পড়েছে যে?যা তিনি ভেবেছিলেন তাই হলো।জরুরি ভিত্তিতে ডাক পড়েছে রিমনের।কোনো এক ইনভেস্টিগেশন এর কাজে এখনই তাকে ঢাকা ছাড়তে হবে।বোনের বিয়েতে একমাত্র আর বড় ভাই থাকবে না ভেবে ভেঙে পড়তে বসেছেন রহমান সাহেব।ছেলে বাবাকে বোঝানোর সব চেস্টাই করছে তবে কাজ হচ্ছে না।এদিকে রিমা তার কাজ করে চলছে।বাবার অনুপস্থিতিতে সে নিজেই যেন বাড়ির বড় কর্তী হয়েছেন।আর তাই শুরু হয়ে গেছে হলুদের মূল আনুষ্ঠানিকতা।সবার মনে তখনো অনেক আনন্দ।কিন্তু তখনো কেউ জানেই না বোনের হলুদে বাড়িতে থাকবে না ভাই।রিমা আর সুমোনা জানতে পারলে কি হবে ভেবে দেখুন একবার।

রিমন বাড়ি থেকে বেড়িয়ে সিএনজি নিয়ে রওনা দিয়েছেন শাহজালাল বিমান বন্দরের দিকে।সেখানেই তার সাথে দেখা করবেন এ ইনভেস্টিগেশনে তার সহযোগী সাত্তার।রিমন এখনো কিছুই জানে না কি হয়েছে বা কি ঘটতে চলেছে।বাবাকে শুধু কথা দিয়েছে বিয়েতে সে উপস্থিত থাকবেই থাকবে।যদিও সে জানে তা সম্ভব না হবার সম্ভাবনাই বেশি।বিমানবন্দরের সামনে আসতেই তার মনে পড়লো ভুল করে নিজের মানিব্যাগ ফেলে এসেছেন।নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে তার।কিন্তু দেখলেন সিএনজি চালক চলে যাচ্ছেন।অবাক হয়ে হা করে দাঁড়িয়ে থাকলেও সিএনজি যাবার পর তার কাছেই দাঁড়িয়েছিল একজন।ব্যক্তিটি বললো,”কিছু মনে করবেন না।আমিই ভাড়া দিয়ে দিয়েছি।আমার নাম সাত্তার।আমার সাথেই আপনার দেখা করার কথা ছিল।”এতক্ষণে রিমন বুঝতে পারলো আসল ব্যাপার।ইনিই তার সহযোগী হবেন এ ইনভেস্টিগেশনে।সাত্তারকে ধন্যবাদ জানিয়ে দুজনই হাঁটা দিলেন বিমানবন্দরের ভেতরের দিকে।যেতে যেতে কথা হচ্ছিল তাদের।

রিমনঃ”আচ্ছা,বলুনতো কি হয়েছে?আমাকে এখনো হেডকোয়ার্টার থেকে কিছুই বলা হয়নি।”
সাত্তারঃ”আসলে একটা জোঁড়া খুন হয়েছে রাঙামাটির এক গ্রামে।জায়গাটা আমার পরিচিত বলেই আমাকে আপনার সাথে পাঠিয়েছে।”
রিমনঃ”তারমানে আমরা রাঙামাটি যাচ্ছি?ওহ আমার আর নিজের বোনের বিয়েতেও উপস্থিত থাকা হচ্ছে না তাহলে।”
সাত্তারঃ”ব্যাপারটা দুঃখজনক।তবে এটাই আমাদের কাজ।”
রিমনঃ”চলুন,কি আর করার আছে?ছুটিটাও ঠিকমতো পেলাম না এবারো।”
রিমনের কথায় মৃদু একটা হাসি দিল সাত্তার।হাসিটা রিমনের কাছে কিছুটা রহস্যের মনে হলেও তার কাছে এখন এসব নিয়ে চিন্তা করে কাজ নেই।

সব কাজ শেষ।এবার শুধু বিমানে উঠে রওনা দেবার পালা।বিমানে ওঠার আগে সরাসরি বাবাকে ফোন না দিয়ে ভয়েস মেসেজে নিজের ব্যস্ততার সারাংশ পেশ করে দিলেন।মনে মনে ভাবছে আবার বোধহয় আর বাড়িতেই ঢুকতে পারবেন না আর।বিমান চলতে শুরু করেছে।সাথে শুরু হয়েছে রিমনের নতুন অভিযান।এবার সাথে সঙ্গী সাত্তার।প্রথমে চট্টগ্রাম তারপর সেখান থেকে সংস্থার দেয়া গাড়িতে করে যাবে সেই জায়গায় যেখানে তাদের কাজ করতে হবে।খুনের কেইস আর তাই রিমনের মনে অনেক কৌতুহল ।কি হতে যাচ্ছে?ছোটবেলায় পড়া গল্পের মতোই কি হবে অভিযান নাকি এবার আরো দুর্ধর্ষ কিছু হতে চলেছে?পাশে সাত্তার প্রায় ঝিমুচ্ছে ।বিমানের জানালা দিয়ে বাইরের আবহাওয়া দেখছে রিমন।কালো আঁধারের মতোই যেন দিনটা পার হয়েছে তার।আগামীকাল কি হবে তা সে জানে না।আশেপাশের সবাই প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে।ক্লান্ত রিমনেরও ঘুম পাচ্ছে।মনে মনে কি যেন ভাবতে ভাবতে তার দুচোখের পাতা মিলে গেল। (চলবে….)

ক্ষতি

Now Reading
ক্ষতি

“বাবা!” খবরের কাগজ থেকে মুখ তুললেন শরীফ সাহেব। তাঁর একমাত্র ছেলে রায়হান দাঁড়িয়ে আছে সামনে, একটু ভীত মনে হচ্ছে তাকে। “কিছু বলবে?” গম্ভীরভাবে জিজ্ঞেস করলেন তিনি। “না মানে, আমার কিছু টাকা দরকার ছিল,” ভয়ে ভয়ে বললো জবাব দিল রায়হান। “কত টাকা?” ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন ছুঁড়লেন শরীফ সাহেব। “পাঁচ হাজারের মতো,” আমতা আমতা করে উত্তর দিল রায়হান, “বন্ধুদের সাথে পিকনিকে যেতাম”। “পিকনিকে যেতে পাঁচ হাজার টাকা লাগে? টাকা তো গাছের পাতা না যে চাইলেই পাওয়া যাবে। আমি দিনরাত খেটে টাকা তো তোমার পিকনিকের জন্য উপার্জন করি না। যাও এখন চোখের সামনে থেকে!” বলে খবরের কাগজে মুখ গুঁজলেন আবার তিনি। আড়চোখে দেখলেন রায়হানের গোমড়ামুখে চলে যাওয়া। কিছু করার নেই, ছেলেকে এভাবেই বাস্তবতা শেখাতে হবে। শরীফ সাহেবের টাকার অভাব নেই, কিন্তু তিনি বেশ কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছেন। তিনি চান তাঁর ছেলেও সফলতার মর্ম বুঝতে শিখুক। বন্ধুদের সাথে পিকনিক করে বেড়ানো কোনো কাজের কথা না।

সকাল ৯.০০টার মতো বাজে। শরীফ সাহেব মগবাজার মোড়ে জ্যামে আটকে আছেন। প্রায় প্রতিদিনই তাঁর অফিসে যেতে দেরী হয়ে যায় এই অসহ্য জ্যামের কারণে। গাড়ির ভেতর এসির শীতল হাওয়ায় শরীরটা একটু এলিয়ে দেন তিনি। এমন সময়ে মায়াকাড়া চেহারার একটা মেয়ে এসে তাঁর জানালায় টোকা দেয়, মেয়েটা ফুল বিক্রি করছিলো। শরীফ সাহেব দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন, এসব উটকো ঝামেলার দিকে নজর দিতে ইচ্ছে করছে না। হঠাৎ তাঁর ড্রাইভার জানালা খুলে মেয়েটাকে একশো টাকার একটা নোট বের করে দিয়ে দিল। ভ্রু কুঁচকে উঠলো শরীফ সাহেবের, ব্যাপারটা তাঁর কাছে বেশ অপমানজনক মনে হলো। “হারামজাদা নিশ্চয়ই তেলের টাকা চুরি করছে,” মনে মনে ভাবলেন তিনি। পরের মাসেই ব্যাটাকে বিদেয় করে নেবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন শরীফ সাহেব। তিনি একজন ব্যবসায়ী, কোনো ধরণের ক্ষতি তিনি সহ্য করতে পারেন না।

সিগন্যালে জ্যাম ছেড়েছে, ট্রাফিক পুলিশ ইশারা করতেই গাড়িগুলো চলতে শুরু করলো। কিন্তু কিছুদূর গিয়েই তাঁর গাড়ি থমকে দাঁড়ালো। ড্রাইভার বারবার চেষ্টা করেও আর স্টার্ট করতে পারলো না। সে নেমে গিয়ে ইঞ্জিন পরীক্ষা করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর শুকনো মুখে এসে বললো যে ব্যাটারী ডাউন হয়ে গেছে, গ্যারেজে নিয়ে যেতে হবে। রাগে ফেটে পড়েন শরীফ সাহেব, “ব্যাটা মূর্খ! বাসা থেকে বেরোবার আগে দেখে নিতে পারো না? যতসব অকর্মা পুষে রেখেছি আমি। যাও, একটা রিকশা নিয়ে এসো এখন, আর গাড়িটা ঠিক করিয়ে অফিসে নিয়ে আসবে।” দিনটা খারাপভাবেই শুরু হল শরীফ সাহেবের, সকাল সকাল মেজাজ খারাপ করতে তাঁর ভালো লাগে না। হঠাৎ সিগারেটের তৃষ্ণা পেলো তাঁর, মেজাজ খারাপ থাকলে শরীর আরও বেশী নিকোটিন চায়। পকেট হাতড়ালেন তিনি প্যাকেটের জন্য, নেই ওটা। মনে করতে পারলেন না কোথায় রেখেছেন। “নিশ্চয়ই বাসায় ফেলে এসেছি!” মনে মনে বললেন শরীফ সাহেব। নিজের ওপর এখন রাগ হতে থাকলো তাঁর। গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশের দোকানে গিয়ে এক প্যাকেট সিগারেট কিনলেন শরীফ সাহেব। মানিব্যাগ বের করে একটা পাঁচশো টাকার নোট বাড়িয়ে দিলেন দোকানদারের দিকে। নোটটা হাতে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ উল্টেপাল্টে দেখার পর দোকানদার টাকাটা ফেরত দিলো, “স্যার, এই নোট কোথায় পেলেন? এটা তো জাল নোট।” দোকানদারের কথা শুনে নিজে নোটটা হাতে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখলেন তিনি, আসলেই জাল। “কোত্থেকে এলো এটা?” মনে করতে পারলেন না তিনি। সিগারেট না কিনেই ফিরে এলেন। এখন অন্য কিছু তাঁর মাথায় আর নেই, এই পাঁচশো টাকা যে তাঁর ক্ষতি হচ্ছে, এই চিন্তাতেই তিনি এখন বিভোর। তিনি একজন ব্যবসায়ী, কোন ক্ষতি তিনি সহ্য করতে পারেন না। ক্ষতি হলে তা তাঁকে পুষিয়ে নিতেই হবে। আশেপাশের কয়েকটা দোকানে গিয়ে তিনি নোটটা চালানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু কেউই নিলো না। এর মধ্যে তাঁর ড্রাইভার রিকশা নিয়ে এসেছে, মেজাজ খারাপ করে তিনি রিকশায় উঠলেন। জ্যাম কিছুটা কমেছে, হাওয়া খেতে খেতে রিকশায় যেতে ভালোই লাগছে তাঁর। বেশ ফুরফুরে মেজাজে রিকশাওয়ালার সাথে গল্প জুড়ে দিলেন তিনি।

“ছেলেমেয়ে কয়টা তোমার?”
-“পাঁচখান স্যার, তিনটা পোলা আর দুইটা মাইয়া।”
“দিনে কামাই হয় কেমন?”
-“ঠিক নাই স্যার, একেকদিন একেকরকম, তয় দিনে তিন-চাইরশো টেকার মতো হয়।”

হঠাৎ শরীফ সাহেবের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেলো। অফিসের প্রায় আধামাইল আগেই তিনি রিকশা থামালেন। নেমে সেই জাল পাঁচশো টাকার নোটটা দিলেন রিক্সাওয়ালার দিকে ভাড়া রাখার জন্য। রিক্সাওয়ালা দেখে আঁতকে উঠলো, “এতো বড় নোটের ভাংতি নাইতো স্যার!” “আমার কাছেও ভাংতি নাই, কতো আছে তোমার কাছে?” বিরক্তির একটা ভাব ফুটিয়ে জিজ্ঞেস করলেন শরীফ সাহেব। “২২০ টাকা আছে স্যার সব মিলাইয়া।” “আমার তাড়া আছে অনেক, ঠিক আছে, যা আছে তাই দাও আমাকে, আর পাঁচশো টাকাটা নিয়ে যাও।” খুশিতে প্রায় সবকয়টা দাঁত বেরিয়ে পড়লো রিকশাওয়ালার, “আল্লাহ আপনের ভালো করুক স্যার।” খুশিমনে জাল নোটটা নিয়ে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে গেলো সে। কিছুক্ষণ তার গমনপথের দিকে তাকিয়ে থেকে অফিসের দিকে হাঁটা ধরলেন শরীফ সাহেব, পাঁচ-ছয় মিনিটের বেশী লাগার কথা না এখান থেকে অফিসে যেতে। মনের ভেতর একটা চিন্তার মেঘ ঘনিয়ে আছে তাঁর, এজন্য নয় যে তিনি একটা গরীব রিকশাওয়ালাকে ঠকিয়েছেন, কিন্তু এইজন্য যে তাঁর আজ ২৮০ টাকার ক্ষতি হলো। এই ক্ষতি তো তিনি কোনদিন পূরণ করতে পারবেন না, এই ২৮০ টাকার কষ্ট তাঁকে অনেকদিন খোঁচাবে।

হাজার হোক, তিনি একজন ব্যবসায়ী, কোন ক্ষতি তিনি মেনে নিতে পারেন না।