ঘুরে আসুন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির হাওর হাকালুকি হাওর

Now Reading
ঘুরে আসুন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির হাওর হাকালুকি হাওর

বাংলাদেশকে বলা হয় নদী মাত্রিক দেশ । আবার ষড়ঋতুর দেশেও বলা হয় আমাদের দেশ কে । কি নেই আমাদের দেশে ? আপনি সব কিছু খুঁজে পাবেন আমাদের এই বাংলাদেশে । তাইতো লেখক বলেছে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,7
সকল দেশের রানি সে যে – আমার জন্মভূমি।
আসলে আমাদের দেশ সকল দেশের রানী ।

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে রয়েছে অসংখ্য হাওর ।সম্ভবত সিলেট বিভাগ একমাত্র বিভাগ যেখানে এতো পরিমাণ হাওর রয়েছে । আজ আমি আলোচনা করবো মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর ।বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম হাওর । পাখিদের অভয় অরণ্য বলা হয়ে এই হাকালুকি হাওর কে । শীতকালে প্রচুর পরিমাণে অতিথি পাখি আসে এই হাওরে ।

হাওর পরিচিতি

মৌলভীবাজারের অন্যতম বৃহত্তর হাওর । মৌলভীবাজারের অনেক গুলো উপজেলাকে নিয়ে গঠিত এই হাওর । সর্ববৃহৎ বড়লেখা কে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই হাওর । মূল হাওরের প্রায় ৪০% বড়লেখায় পড়েছে । এই হাওর প্রায় ২৩৮ টি বিল নিয়ে গঠিত । বাংলাদেশে যে কয়টি মিঠা পানির হাওর আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো হাকালুকি হাওর । মাছের জন্য বিখ্যাত এই হাওর । বর্ষার মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ডিম পাড়ে মা মাছ । সিলেট সহ প্রায় বাংলাদেশের অনেক জেলাতে এই মাছ সরবরাহ করে মাছের চাহিদা পূরণ করা হয় । শীত কালে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির হাঁস সহ অনেক পাখি আসে । প্রতিবছর শীত কালে তাদের আনাগোনা পাওয়া যায় । শুধু যে শীতে পাখি দেখতে পাওয়া যায় তা কিন্তু না , শীত ব্যতীত সারা বছর এই হায়রে পাখি থাকে । তাই পাখিদের জন্য অভয় অরণ্য বলা হয় । হাকালুকি হায়রে প্রায় ৫২০ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে । শুধু বিদেশী পাখি না , সেখানে আছে দেশি প্রজাতির পাখি । তাদের সংখ্যা ও কম না । প্রায় ৩০০ প্রজাতির উপরে আছে দেশি পাখি । অনেক প্রজাতির মাছ ও আছে । এমন অনেক প্রাণী আপনি দেখতে পাবেন যা বিলুপ্তির পথে । শীতকালে পানি কমে যায় । যার ফলে অনেকে ধান চাষ করে । আবার কেউবা কম পানি থাকার কারণে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে ।

আপনি যদি যেতে চান তাহলে দুই সময়ে যেতে পারেন । শীত কালে আর বর্ষাকালে । আমি বলবো শীত কাল বেস্ট হবে । তখন অতিথি পাখির আগমন থাকে । যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই । আরো ভালো হয় যদি আপনি হাওরের পাশে রাত্রি যাপন করতে পারেন তাঁবু ফেলে । জোছনা রাত , পাশে পানির শব্দ সেই সাথে হায়রে অতিথি পাখি । স্বর্গীয় সুখ আপনার জন্য ।

কিভাবে যাবেন ?

আপনি দুইটি পথ ধরে যেতে পারেন হাকালুকি ।মূলত কয়েকটা উপজেলা নিয়ে গঠিত হওয়ার কারণে আপনি বাস বা ট্রেন দিয়ে গেলে এক এক জেলায় নামতে হবে ।

ট্রেন – আপনি যদি ট্রেনে যেতে চান তাহলে আপনাকে কুলাউড়া নেমে যেতে হবে । কারণ হাওরের কিছু অংশ কুলাউড়া পড়েছে । প্রথমে আপনাকে ঢাকা থেকে ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে । ভাড়া পড়বে ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে । সিলেট গামী যেকোনো ট্রেনের টিকিট কাটলেই হবে । আপনার পৌঁছাতে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লাগবে ।ট্রেনে করে গেলে আপনি যেমন আপনার জার্নি কে উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন ঠিক টাকাও বেঁচে যাবে । কুলাউড়া নেমে আপনি সি এন জি করে চলে আসুন বড়লেখা । সেখানে নেমে অটো রিক্সা করে চলে আসুন হায়রে ।

বাস – আপনি বসে করে সরাসরি নেমে যেতে পারেন বড়লেখায় । শ্যামলী বা হানিফ এ করে আসতে পারেন । ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে । বসে আসলে একটু টাকা হয়তো বেশি লাগবে কিন্তু সময়ের দিকে থেকে আপনি বেঁচে যাবেন । মানে আপনি অনেক সময় সেভ করতে পারবেন । মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাগবে মৌলভীবাজার আসতে । আপনি বড়লেখা নেমে সি এন জি করে চলে আসুন কানন গো বাজার । এখানে আপনাকে একটি তথ্য দিয়ে রাখি । আপনি যদি বসে করে বড়লেখা নামেন তাহলে কয়েকবার আপনাকে সি এন জি পাল্টাতে হবে । প্রথমে কানন গো বাজার পর্যন্ত । আবার সেখানে নেমে সি এন জি করে কুটাউরা বাজার পর্যন্ত । এখন আপনি ইচ্ছা করলে হেঁটে বা সি এন জি তে করে ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত যেতে পারেন । যদি বসে যান তাহলে রাতে রওনা দেয়ার চেষ্টা করবেন । আর ট্রেনে গেলেও রাতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন । তাহলে আপনি পরের সম্পূর্ণ দিনটা পাবেন ।

কি আছে দেখার মতো ?

আমি যেভাবে যান না কেন , যদি পৌঁছাতে পারেন তাহলে হাকালুকি আপনাকে স্বাগতম করার জন্য বসে আছে । আপনি সেখানে পাখি ওয়াচ টাওয়ার দেখতে পাবেন । আপনি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সম্পূর্ণ হাওর কে কভার করতে পারবেন । অপরূপ সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে বাধ্য । আর যদি আপনি শক্তি কালে গিয়ে থাকেন তাহলে তো কথায় নেই । আপনার ভ্রমণের সম্পূর্ণ টাকা উসুল । আপনি নৌকা ভাড়া করে হাওর ঘুরতে পারবেন । আবার আপনি সরাসরি জেলে থেকে মাছ কিনতে পারবেন ।
হাওরের আশে পাশের কোনো থাকার হোটেল পাবেন না । আপনাকে থাকতে হলে দিনে দিনে ফিরে আসতে হবে কুলাউড়া অথবা বড়লেখা । সেখানে কিছু ভালো মানের রেস্ট হাউস পাবেন । কিছু হোটেল পাবেন কিন্তু তেমন উন্নত মানের নয় । খাবারের দাম কম । বিশেষ করে মাছের দাম খুব কম পাবেন ।

জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ১ম

Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ১ম

কিছু জিনিস নিয়ে মানুষের জানার আগ্রহ থাকে অনেক আগে থেকেই । আর সেই জিনিস যদি হয় প্যারানোমাল টাইপের কিছু তাহলে তো আগ্রহের মাত্রা থাকে তুমুল পর্যায়ে । মূলত বেশির ভাব প্যারানরমাল জিনিস ঘটে থাকে জ্বীন দ্বারা । আজ থেকে এই পর্বে তেমনি কিছু সত্য গল্প থাকবে আপনাদের জন্য । প্রথম পর্বে থাকছে আমার নিজের সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ।

ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জের জেলায় । প্রথম থেকে শুরু করা যাক । আমি সহ আমার ৩ দিন বন্ধু ঠিক করলাম আমার নানার বাড়ি যাবো । সেদিন রাতেই আমরা রওনা দিলাম । রাট ১০ টায় বাসে করে । সকাল ৬ টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম সিলেট শহরে । শাহ জালাল ও শাহ পরানের মাজার জিয়ারত করে সেই দিন দুপুরে ট্রেনে করে ফিরলাম শায়েস্তাগঞ্জে । ট্রেনে থেকে নেমে এক বন্ধু বললো আজ আমরা মুরগি পুরানো মানে বারবিকিউ করবো । আমি বললাম আজ সারা দিন জার্নি করলাম , আজ না কাল করি ? কে শুনে কার কথা মুরগি কিনে ফেললো । বিকেলের আগেই বাসায় পৌঁছে হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে দিলাম ঘুম । আমিও তানভীর ঘুমালেও আনিস আর সৌরভ বের হয়ে পড়লো লাকড়ি এর ধান্দায় । ৩০ মিনিট ও ঘুমাতে পারিনি এসে ডাক দিয়ে বললো চল মুরগি পোড়াবো । আমি বললাম কোথায় মুরগি পোড়াবো । তারা বললো যেই জায়গা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর । আমি প্রথমে ফাজলামো হিসেবে কথাটা নিলাম কিন্তু তারা মোটেও ফাজলামো করছিলো না ।

এর আগে আমার নানার বাড়ির সম্পর্কে কিছু কথা বলে নেই । লোক মুখে প্রায় দুইটি জায়গার কথা শোনা যায় যে , এইসব জায়গা গুলো খুব বেশি ভয়ঙ্কর । একটি জায়গার নাম সারাবাড়ি , আরেকটি জায়গার নাম বেলপোতা । সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জায়গাটি হলো বেলপোতা । সারাবাড়ি নামের জায়গাটি আমার নানার বাড়ির উঠান থেকে দাঁড়িয়ে দেখা যায় । সারাবাড়ির নাম বাড়ি হলেও সেখানে কোনো বাড়ি নেই । স্থানটি দেখলে মনে হবে কোনো এক সমুদ্রের মাঝে দ্বীপ জেগে উঠেছে । চার পাশে ধানক্ষেত আর মাঝে অনেকটা উঁচু জায়গা । অনেকটা বাগান টাইপের । সেখান দুইটি জাম গাছ আর ৩ টি তাল গাছ সহ আরো কিছু গাছ ছিল । প্রায় রাতে নাকি মানুষ সেখান দিয়ে গেলে বা বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেতো।

এখন মূল ঘটনায় ফিরে আসি । আমি বললাম এই খানে মুরগি পোড়ানোর মতো একটি জায়গা আছে খুব ভয়ঙ্কর । নাম সারাবাড়ি । আমরা সেখানে মুরগি পোড়াতে পারি ।আর যদি ভাগ্যে থাকে তাহলে কিছু একটা দেখতেও পারি । এই বলে আমরা নানাকে বললাম সারাবাড়িতে মুরগি পড়াবো , এই কথা শুনে নানা সহ আসে পাশের অনেকে মানা করলো । সবার একটা কথা জায়গাটা ভাল না । কে শুনে কার কথা । আমরা মুরগি মামী কে দিলাম ভাল ভাবে কেটে মসলা মিশাতে । সেই সাথে কিছু লাকড়ি জোগাড় করে চলে গেলাম সারাবাড়িতে । তখন বিকেল হয় হয় অবস্থা । গ্রামের মানুষ এর আগে সম্ভবত এইভাবে মুরগি পোড়ানো দেখনি । যার কারণে আমাদের সাথে কিছু মানুষ যাচ্ছিলো । কিছু ক্ষণ এর মধ্যে একটি বিশাল সাইজের জাম গাছের নিচে কিছুটা মাটি খুঁড়ে দুইপাশে দুইটা লাঠি দাঁড় করিয়ে উপর দিয়ে আরেকটা লাঠির মধ্যে মুরগি ভরে বাকি দুটো লাঠির উপর বসিয়ে দিলাম । আর নিচে আগুন ধরালাম অনেক কষ্টে । কিছু ক্ষণ পর সবাই চলে গেলো রয়ে গেলাম শুধু আমি আর আমার বাকি ৩ বন্ধু ।তখন বর্ষা কাল ছিল হঠাৎ করে দেখি আকাশ কালো হয়ে গিয়েছে । মামী বাসা থেকে ৪ তা ছাতা দিয়ে পাঠালো । আমি আর চশমা তানভীর দুইটা দুইটা করে ছাতা ধরলাম চার পাশে । সৌরভ তখন আগুন যাতে না নিভে যায় সেদিকে খেলা রাখছে । বাকি যেই একজন ছিল আনিস সে আমাদের হাত থেকে একটি ছাতা নিয়ে ধরলো । তখন চারিদিক একদম অন্ধকার । আমি সারাবাড়ির একদম পারে দাঁড়িয়ে ছিলাম । হুট্ করে মনে হলো কে যেন আমাকে ধাক্কা দিলো । আমি পরে যেতে নিয়েছিলাম তখনি চশমা তানভীর আমাকে ধরে বললো কিরে কি হয়েছে তোর ? আমি বললাম কিছু না বৃষ্টি হয়েছে তো তাই পা পিছলে গিয়েছে । আমি কেউ কে বুঝতে দেয় নি যদি ভয় পেয়ে সব গুলো দৌড় দেয় । কিছুক্ষন পর খেয়াল করলাম চশমা তানভীর তার চশমা খুলে ধোয়া পরিষ্কার করছে চশমা থেকে । ঠিক ওই মুহূর্তে ঘটলো আসল ঘটনা । আমি খেয়াল করলাম কি যেন এক কালো ছায়া ওই সাদা ধোয়া এর মধ্যে দিয়ে ওকে ধাক্কা দিয়ে গেলো । ও তখন কেঁপে উঠলো । আমি জিজ্ঞেস করলাম কিরে কি হয়েছে তোর ? ও বললো কিছু না । আমি আর সে দিকে মনো যোগ দিলাম না । মুরগি পোড়ানো শেষে আমরা সবাই ঘরে ফিরে আসলাম । বাসায় আসে আমি তানভীর কে বললাম কিরে তুই কি কিছু দেখেছিলি ? ও বললো হ্যাঁ , কেন তুই কি কিছু বুঝেছিলি নাকি ? আমি বললাম তুই যখন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলি কিরে তোর কি হয়েছে , আমি বলেছিলাম কিছু না পিচ্ছিল ছিল তাই পরে গিয়েছি তখনি আমার কাছে মনো হলো কিছু একটা আমাকে ধাক্কা দিয়েছে । আর তোকে আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম কিরে তুই কেঁপে উঠেছিলো কেন তখন আমি কিছু একটা দেখেছি । এই কথা শুনে সৌরভ বলে উঠলো তোরা এখন খেয়াল করেছিস, আমি যখন মুরগি পড়েছিলাম আমি দেখছিলাম আমার মুগরী বার বার এক পাশে চলে যাচ্ছে । আবার মুরগি মাঝে আসলে আগুন সরে যাচ্ছে । আমরা সবাই একে অপরকে প্রশ্ন করলাম কেন বললাম না সবার উত্তর আসলো যদি ভয় পাই । যার খুব দেখার ইচ্ছ ছিল মানে আনিস সে কিছুই দেখে নাই । তখন আমরা কি দেখলাম এক এক করে তার কাছে বর্ণনা করলাম । পরে আনিস বললো আমাদের সবার বর্ণনা একই রকম । আমরা না হয় এক জন ভুল দেখতে পারি কিন্তু তিন জন কি ভাবে একই জিনিস দেখবো ?

পরের দিন এক হুজুর কে আমাদের সবার ঘটনা খুলে বললে উনি বলে, মূলত যা দেখেছো সে ছিল জ্বীন । আমাদের সাহস আর আমাদের মধ্যে কেউ একজন আয়াতুল কুরসী পড়ছিলো তাই সে আমাদের ক্ষতি করতে পারেনি । তখন চশমা তানভীর বলে উঠলো আমি আয়াতুল কুরসী পড়ছিলাম । যদি এই গুলো মিথ্যা হয়ে থাকে তাহলে হুজুরী বা কিভাবে জন্য কেউ আয়াতুল কুরসী পড়ছিলো ।

পরবর্তীতে আরো সত্য গল্প নিয়ে আমি হাজির হবো । এইসব গল্প থাকবে মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ।

চলবে

জাফলং ভ্রমণ

Now Reading
জাফলং ভ্রমণ

ভালবাসার আরেক নাম বাংলাদেশ 

খুব সুন্দর আমাদের এই বাংলাদেশ । সবুজের ছায়া ঘেরা , নদী মাতৃক আমাদের এই সুন্দর দেশ । যতোই রুপ দেখবেন তারপরেও যেন দেখা শেষ হবে না । কবির ছন্দের মত আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ । ষড় ঋতুর এই দেশে যেন এক এক সময় রঙের খেলা শুরু হয় । যেমন ঋতুর খেলা আছে আমাদের দেশে ঠিক আবার এক এক জেলা যেন সেজেছে তার আপন রুপে । কোথাও পাহাড়ের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা , আবার কোথাও সাগরের খেলা । কোথাও আবার নদীর মোহনা মীলিত হবার খেলা , কোথাও আবার সবুজে ঘেরা । অপরূপ আমাদের এই বাংলাদেশ ।

আজ জানবো আমরা সিলেট সম্পর্কে ।

শাহ্‌ পরানের দেশ সিলেট । শাহ্‌ জালালের দেশ সিলেট ।সুরমা নদীর দেশ সিলেট । এই রকম হাজারো নামে পরিচিত করা যায় সিলেট কে । বাংলাদেশের লন্ডন হল আমাদের এই সিলেট । কতই না সুন্দর  আমাদের এই সিলেট । কিছু দিন আগে ঘুরে আসলাম এই সিলেট নগরি।আজ তা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিছু অভিজ্ঞতা।

সিলেটে কিছু দিন 

বেশ কিছু দিনের আগে থেকে প্ল্যান ছিল সিলেটের জাফলং গিয়ে ঘুরে আসবো । এর আগেও গিয়েছিলাম কিন্তু জাফলং যাওয়া হয়নি । এই বার আমি ও আমার কাছের এক বড় ভাই ঠিক করলাম ডিসেম্বর এর শেষের দিকে গিয়ে ঘুরে আসবো । যাই হক সিন্ধান্ত নিলাম ডিসেম্বার এর ২৩ তারিখ রাতে ট্রেন এ করেন সিলেট যাব। তাই ১৯ তারিখে আমরা ট্রেন এর টিকেট অগ্রিম কেটে নিলাম , তা না হলে সিট পাওয়া যাবে না। শোভন চেয়ার নিয়ে নিলাম ৩২০ টাকা কর । পারাবত ট্রেন ২৩ তারিখ বিকেল ৩.১০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবার কথা । আমরা ২.৩৫ মিনিটে প্লাটফর্মে হাজির হলাম । ট্রেন প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিলা। কিন্তু কি এক না জানা কারনে ট্রেন ছাড়লও বিকেল ৪.৩০ মিনিটে । 

কিছু ক্ষনের মধ্যে শীতের ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে শীত ধরিয়ে দিলা ।জানালার পাশে বসা ছিলাম , মনে হচ্ছিল রাস্তা পিছনের দিকে যাচ্ছে আর আমি এগিয়ে চলছি আমার গন্তবে । কিছু ক্ষনের মধ্যে আসে পড়লাম এয়ারপোর্ট এ । কিছু যাত্রী নিয়ে আবার ট্রেন চললো তার আপন গতিতে । জানালে দিয়ে দিনের শেষ আলোতে দেখা যাচ্ছিল জেলেরা মাছ ধরছে । আর কিছু মানুষ কাজ করছে সবজির ক্ষেতে । যেন তারা আমাদের জন্যই তৈরি করছে শীতের সবজি । কিছু দূর যাওয়ার পর গাড়িতে হরেক রকমের খাবার নিয়ে উঠলো ফেরিওয়ালারা । তখন প্রায় সন্ধ্যা নেমে গিয়েছে । এর মধ্যে শরিফ ভাই দুই কাপ রঙ চা নিলেন ট্রেন এর ভিতর চা ওয়ালা থেকে । ভালোই লাগছিল জানালা দিয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাস আর গরম গরম চায়ে চুমুক দেয়া , এ যেন এক স্বর্গের অনুভূতি । বাহিরে কুয়াশার জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।বাহিরে দূশ্য দেখতে দেখতে যে কখন চা এর কাপ থেকে চা শেষ হয়ে গিয়েছে টেরি পেলাম না । এর মধ্যে ট্রেনের এক যাত্রীর সাথে খুব ভাল খাতির হল আমার । উনি প্রবাসি ভাই । উনি থাকেন তুর্কি তে । উনি বিয়ে করেছেন এক ইজরাইল এর মেয়ে কে।উনার সাথে খুব ভাল একটা আড্ডা জমে উঠলো আমার।অনেক্ কথা হল আমাদের । এই দিকে গাড়ি চলছে তার গতিতে । কিছু দূর যাবার পর ট্রেন থেমে গেল । সামনে আরেকটি ট্রেন যাবে তাই তাকে রাস্তা দিচ্ছে । আমি ট্রেন থেকে নেমে সামনে বাজারে গিয়ে কয়েক টা গরম গরম চিতল পিঠা কিনে নিয়া আসলাম আর সাথে আনলাম ঝাল শুঁটকির ভর্তা । আমি শরিফ ভাই আর ট্রেন ভাইয়াটা খেলাম । কি যে মজা তা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। শীতের বাতাসের আর কুয়াশার মধ্যে ট্রেন এ বসে পিঠা খাওয়ার মজাই অন্য রকম । কিছু দুর যাবার পর আবার ট্রেন থেমে গেল ক্রসিং এর জন্য । এরি মধ্যে আমরা আশুগঞ্জ এ আসে পড়লাম । সেখানে ট্রেন ৫ মিনিট এর মত দাঁড়ালো । আমি নেমে পড়লাম কিছু হালকা নাস্তা করার জন্য । কিছু নাস্তা নিয়ে উঠে গেলাম ট্রেন এ । ঘড়িতে তখন রাত ৯ বেজে ১০ মিনিট। কিছু ক্ষনের মধ্যে ট্রেন আবার যাত্রা শুরু করলো । কিছু ক্ষন চলার পর যখন ট্রেন আবার ক্রসিং এ পড়লো ঠিক তখনি ঘটলো এক ঘটনা । ট্রেন এর বগি থেকে চিৎকার এর শব্দ । দৌড়ে গেলাম । গিয়ে দেখি ক্রসিং এ থামার সময় ঐ মহিলা মোবাইলটা জানালার কাছে নিয়ে বসছিল , কোন এক লোক আসে তার মোবাইলটি টান দিয়ে নিয়ে গিয়েছে । হাতে কিছুটা ব্যথা পেয়ছিল । আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাই সাবধান হয়ে গিয়ে ছিলাম । মাঠ ঘাঁট পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের ট্রেন । জানালা থেকে খুব জমকালো একটি প্রাসাধ আমার চোখে পড়লো । সেটি ছিল কেল্লা শাহ্‌ এর মাজার শরীফ । শীতের সময় প্রায় সব মাজারে ওরস হয়ে থাকে । তখন ভক্ত দের ভীর জমে উঠে এই সব মাজারে।বাহিয়ের ঘন অন্ধকার আর কুয়াশা দেখে খুব ভালোই কাটছিল সময় গুলো।

ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জ এর টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে।

Now Reading
ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জ এর টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে।

আমাদের বাংলাদেশে অনেক সুন্দর সুন্দর দর্শনীক স্থান আছে তা আমরা কেও তেমন তা জানি না। গত বছর এর ডিসেম্বরের শেষ এর দিকে একদিন গুগল এ সার্চ করি আমাদের দেশের  কিছু সুন্দর সুন্দর tourish spot. হঠাৎ করে চোখে পরলো টাঙ্গুয়ার হাওর এর ছবি। কি অপুরুপ তার দৃশ্য। সবুজ পাহাড় নিচে নীল জলরাশি। ঠিক তার পর এর দিন এক বন্ধু কে নিয়ে plan করলাম তাঙ্গুর হাওরে ঘুরতে যাওয়ার তো সে দিন সন্ধ্যায় শুক্রাবাদ  থেকে Green Line এর টিকেট কাটলাম দুইটি সিলেটের। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার journey করার পর সিলেতে পউছালাম।

সেখান থেকে সুনামগাঞ্জ এর বাস এ উঠেবসলাম। ২ ঘণ্টা পর সুনামগাঞ্জ এ পউছানর পর   সেখানে একটি হোটেল থেকে সকাল এর নাশতাটা করেফেলি। টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। তাই আমরা তাহিরপুর এর  পউছানর পর ৫০০ টাকা দিয়ে ১টি speed boat ভাড়া করি। তারপর আমরা পুরো টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে বেরাই। একদম ছবির মতো তার দৃশ্য। কিন্তু  বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকাগুলোতে যতবার গিয়েছি, একটা দীর্ঘশ্বাস পড়েছে। কারণ, সিলেট-নেত্রকোণা বেল্ট সহ প্রায় সীমান্ত এলাকাগুলোতেই সব পাহাড়গুলো ভারতীয়দের দখলে। যাই হোক এখন বলি টাঙ্গুয়ার হাওর এর কিছু পরিচিতিঃ

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরা (ঝরণা) এসে মিশেছে এই হাওরে।[৩] দুই উপজেলার ১৮টি মৌজায় ৫১টি হাওরের সমন্বয়ে ৯,৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি। পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ গ্রামগঞ্জ ও কৃষিজমি।[১] একসময় গাছ-মাছ-পাখি আর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের আধার ছিল এই হাওর। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গুয়ার হাওরকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখনই অবসান হয় দীর্ঘ ৬০ বছরের ইজারাদারির। ২০০০ খ্রিস্টাব্দে ২০ জানুয়ারি এই হাওরকে ‘রামসার স্থান’ (Ramsar site) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। হাওর এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড সরকারের মধ্যে ২০০১ খ্রিস্টাব্দে ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর থেকে হাওরের নিয়ন্ত্রণ নেয় জেলা প্রশাসন।[৪]

শীত মৌসুমে পানি শুকিয়ে কমে গেলে এখানকার প্রায় ২৪টি বিলের পাড় (স্থানীয় ভাষায় কান্দা) জেগে উঠলে শুধু কান্দা’র ভিতরের অংশেই আদি বিল থাকে, আর শুকিয়ে যাওয়া অংশে স্থানীয় কৃষকেরা রবিশস্য ও বোরো ধানের আবাদ করেন। এসময় এলাকাটি গোচারণভূমি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বর্ষায় থৈ থৈ পানিতে নিমগ্ন হাওরের জেগে থাকা উঁচু কান্দাগুলোতে আশ্রয় নেয় পরিযায়ী পাখিরা —রোদ পোহায়, জিরিয়ে নেয়। কান্দাগুলো এখন (২০১২) আর দেখা যায় না বলে স্থানীয় এনজিও ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুঁতে দেয়া হয়েছে বাঁশ বা কাঠের ছোট ছোট বিশ্রাম-দণ্ড।

তো এই ছিল আমার ভ্রমণ কাহিনি আপনাদের কাছে আমার একটি অনুরোদ আপনারা বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার আগে নিজের দেশটি একবার ভাল করে ঘুরে দেখেবেন।

ফুটপ্রিন্ট লেখক লগিন