পৃথিবীতে যে সমুদ্র সৈকতগুলো প্রথম স্থানে রয়েছে

Now Reading
পৃথিবীতে যে সমুদ্র সৈকতগুলো প্রথম স্থানে রয়েছে

প্রকৃতি তার অপরূপ সৌন্দর্য কত জায়গায় কত সাজে সজ্জিত করে রেখেছে তার কোন শেষ নেই। এই পৃথিবীতে অনেক অদ্ভুত কিছু স্থান রয়েছে, অনেক মনোরম মনোমুগ্ধকর কিছু পাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে যা দেখে আমারা মুগ্ধ হতে বাধ্য। তেমনি কিছু সৌন্দর্য মিশ্রিত সমুদ্র সৈকত আছে যা অনেকের অগোচরে। পৃথিবীতে অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু সমুদ্র সৈকত রয়েছে, যা আমাদের অবাক করিয়ে ছাড়বে।

Hidden Beach, Mexico: আমাদের লিস্টে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এই হিডেন বিচ তার অদ্ভুত আকার ও বৈচিত্র্যের জন্য। আপনিও অবাক হয়ে যাবেন এর অদ্ভুত আকৃতি এবং অবস্থান দেখলে, আপনার মনে তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাবে, যে এই অদ্ভুত বিচ কি ভাবে সৃষ্টি হল। এই বিচটির সৃষ্টির ইতিহাস একটু ভিন্ন, অতিতে এই স্থানটিতে ম্যাক্সিকোর সরকার মিলেটারি প্রশিক্ষণ দিতেন এবং পরমাণু বোমার টেস্টিং করানোর জন্য এই জায়গাটা ব্যবহার করতেন। আর এর ফলেই এই অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর বিচটির সৃষ্টি হয়েছিলো। বর্তমানে এই সমুদ্র সৈকতটি তার সৌন্দর্য এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশে দিয়ে সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

Desert Beach, Brazil: বিচের নাম শুনলেই আমাদের মনে নাড়া দিয়ে ওঠে, অপরূপ সমুদ্র সৈকতের সেই ঢেউয়ের কথা যেখানে বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পরছে সমুদ্রতটে। কিন্তু ব্রাজিলের ডেসার্ট বিচ, এটি অবস্থিত মরুভূমির মধ্যে, যেখানে বৃষ্টির জল জমা হয়ে বিশাল এক জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। কোন সমুদ্রের কিনারায় অবস্থিত নয় এটি। এই বিচটি অবস্থিত ব্রাজিলের ন্যাশানাল পার্কে। এই বিচটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার অন্য একটি কারণ হচ্ছে এখানকার সাদা বালি। এই সাদা বালি পর্যটকদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। এই বিচটি শুধু মাত্র মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যবহারের প্রযোজ্য থাকে। এরপর ধীরে ধীরে এই জলাশয়ের জল শুকিয়ে যেতে থাকে।

Pink Beach, Indonesia: পৃথিবীতে সাতটি সমুদ্র সৈকতের মধ্যে একটি হচ্ছে পিংক বিচ। যেখানকার বালির রঙ গোলাপি। এই বিচটি শুধুমাত্র গোলাপি রঙের সমুদ্র সৈকত এবং প্রাকৃতিক সোন্দর্যের জন্য সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। মনোরম এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এখানকার পরিবেশে আপনার মন মুগ্ধ হয়ে যাবে নিশ্চিত। অন্যরকম অনুভূতি কাজ করবে আপনার মধ্যে যখন আপনি খালি পায়ে এই গোলাপি রঙের বালির উপর দিয়ে হেঁটে যাবেন। এখানকার জল খুব সচ্ছ। জলে উপস্থিত রঙিন মাছ ও কোরালের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন আপনি সমুদ্রের কিনারায় দাঁড়িয়ে।

Glowing Beach, Maldives: এই সমুদ্র সৈকত সারা বিশ্বে বিখ্যাত নিজের অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য। এই সমুদ্রতটকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করে তুলেছে রাতের বেলা নীল আলোকরশ্মি যুক্ত ঢেউ। এই অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর দৃশ্য দেখে মনে হয়, যেন সমুদ্রের বুকে সাঁতরে বেড়াছে আকাশের লক্ষ লক্ষ তারারা। এখানে বসবাসকারী ফ্লাইটো প্ল্যাংটন নামক এক প্রকারের সূক্ষ্মজীব হচ্ছে এই রহস্যময় নীল আলোর আসল উৎস, যারা এই অদ্ভুত আলোর প্রদর্শন করে এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের নাড়াচড়ার ফলে জ্বলে ওঠে । এখানে সারা রাত পর্যাটকেরা উপস্থিত থাকে শুধুমাত্র সমুদ্রের বুকে এই রহস্যময় আলোর প্রদর্শনি দেখার জন্য।

Glass Beach, California: সবাই পছন্দ করে সমুদ্রতটে বসে বালির উপর নাম লিখতে, কিন্তু যদি এমন হয় , যে সমুদ্রতীরে বালির জায়গায় ছড়িয়ে রঙিন কাঁচের টুকরো? অবাক হলেও সত্য কার্লিফর্নিয়াতে এই রকমই একটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে এবং সেই সমুদ্র সৈকতের নাম গ্লাস বিচ। সমুদ্রের কিনারায় দাঁড়িয়ে যতদূর আপনার চোখ যাবে, ততদূরই আপনি ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য রঙিন কাঁচের টুকরো দেখতে পাবেন। ১৯৪৯ সালের আগে পর্যন্ত এই বিচটি আস্তাকুড় হিসাবে ব্যাবহার করত কার্লিফনিয়ার সরকার, যেখানে শুধুমাত্র কাঁচের তৈরি জিনিষই ফেলা হত। পরবর্তী কালে সমুদ্রের ঢেউয়ের ধাক্কায় কাঁচগুলি টুকরো টুকরো হয়ে পুরো সমুদ্রতটে ছড়িয়ে যায়। আজ এই গ্লাস বিচ গ্লাসের জন্য পর্যাটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি স্থান।

 

ঘুরে আসুন বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত মাত্র ৫১০ টাকায়

Now Reading
ঘুরে আসুন বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত মাত্র ৫১০ টাকায়

ভাই একটা ম্যাজিক দেখবেন ।
আমার বন্ধু আমাকে বলছিল । আমি বললাম কি ম্যাজিক ? সে আমাকে বলল আমি সাগরের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারি । আমি এই কথা শুনে হাসবো নাকি কাঁদবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না । জিজ্ঞেস করলাম পাগল হয়ে গেলি নাকি ?
বন্ধু বলল পাগল না , বাংলাদেশে এই প্রথম চট্টগ্রামের মানুষ সমুদ্রের উপর দিয়ে হাঁটার ব্যবস্থা করে দিয়েছে ।
তখন আমার মাথায় কিছু ঢুকছিল না । আমি আবারো বললাম , বন্ধু ব্যাপারটা খুলে বলো । তখন সে আমাকে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এর কথা বলল । সে আমাকে সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলল । আমি শুনে অবাক । পরের দিন আমি প্ল্যান করে ফেলি আমিও যাবো বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত ।

অনেক জায়গায় ট্যুর দিয়েছি । সব জায়গায় চেয়েছি কম টাকায় কিভাবে আরামদায়ক ভ্রমণ করা যায় । সাথে সাথে নেটে বসে তথ্য নেয়া শুরু করলাম । সব ঠিকঠাক করে বন্ধু অভি কে নিয়ে বের হয়ে পড়লাম বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত জয় করার জন্য ।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

আমাদের যাত্রা শুরু পকেটে ১ হাজার টাকার কচকচে নোট নিয়ে বের হয়ে গেলাম দুই বন্ধু । রাত তখন ৮টা বাজে । তাড়াতাড়ি না গেলে মেইল ট্রেনের টিকিট পাবো না । রাত ৯ টার মধ্যে টিকিট পেয়ে গেলাম । স্টেশন এ দাঁড়িয়ে ছিলাম । কারণ মেইল ট্রেনের নিয়ম হলো যে আগে উঠে সিট নিতে পারবে সিট তার হবে । রাত ১০ টায় ট্রেন আসলো । ট্রেনে উঠেই সিটে বসে পড়লাম । কেন জানি খুব ক্লান্ত লাগছিলো । উঠেই আমি আর অভি শুয়ে পড়ি ।মাঝে একবার ঘুম ভাঙলেও আবার শুয়ে পড়ি । খুব ভোরে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছাই । নেমে দ্রুত নাস্তা করে বাহিরে বের হয়ে একটি লোকাল সিএনজি তে বসে পরি । আমাদের সাথে আরো ৩ জন যাত্রী ছিল । তাদের প্রায় সবাই ফেনী মহীপাল যাবে । সিএনজি তে করে মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছে যাই মহীপালে । আমরা সবচেয়ে বড় যে সমস্যায় পড়েছি তা হলো, মহীপাল থেকে লোকাল বাস পাওয়া । চট্টগ্রাম গামী কোনো লোকাল বাস সহজে পাওয়া যায় না । দুই একটা পাওয়া যায় তা আবার অনেক ভাড়া । একটা বাস পেয়েছিলাম ভাড়া ৬০ টাকা করে । বাঁশবাড়িয়া বাজার বললেই হবে , আপনাকে তারা সেখানে নামিয়ে দিবে । আমি যেদিন রওনা দিয়েছিলাম তার আগের দিন অনেক বৃষ্টি হয়েছিল । যার কারণে রাস্তা অনেকটা পিচ্ছিল । বাঁশবাড়িয়া যাওয়ার সময় দুই পাশের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য । বেশি সময় নেয়নি মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের বাঁশবাড়িয়া বাজারে নামিয়ে দিলো ।
সেখান থেকে আমি অনেক লোকাল অটো পাবেন । যা আপনাকে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাবে । আমার আর অভির জন্য খুশির খবর হল , আজ আকাশ একদম ফকফকে । কিছুক্ষণ এর মধ্যে পৌঁছে গেলাম । স্বর্গে আসলাম? না ভুল বলছি না একদম স্বর্গের মতো দেখতে । উপরে খোলা আকাশ পাশে খোলা জায়গা , একটু সামনে এগিয়ে গেলে বিশাল সমুদ্র । আপনি যদি একটু মনোযোগী হন , তাহলে আপনি সাগরের শো শো শব্দ শুনতে পাবেন । আমি আর আমার বন্ধু জুতা এক পাশে রেখে দৌড় দিলাম সমুদ্রের দিকে । নিজেদের ভিজিয়ে নিলাম সমুদ্রের জলে । এই আনন্দ মনে হয় লিখে প্রকাশ করার মতো না । সমুদ্র দেখতে যাচ্ছি সাথে জামা কাপড় নিবো না . তা কি হয় নাকি । ইচ্ছে মতো দৌড় ঝাঁপ করে ভিজিয়ে নিলাম নিজেদের । হাতের ডান দিক দিয়ে একটু সামনে এগিয়ে গেলে দেখতে পাবেন বাঁশের তৈরি একটি ব্রিজ । ব্রিজ বললে ভুল হবে , দেখে মনে হবে কেউ একজন সমুদ্রের উপর আপনার হাঁটার ব্যবস্থা করে দিয়েছে । ঠিক তখন আমার সেই বন্ধুর কথা মনে পরে গেলো । যে আমাকে বলেছিল সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কথা । দুপুর গড়িয়ে তখন বিকেল । ব্রিজের উপর দিয়ে হেঁটে একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছলাম । একটু পর পর ঢেউ আছড়ে এসে আমার পায়ে পড়ছে । নিজেকে মনে হচ্ছে সমুদ্রের বুকের উপর আমি দাঁড়িয়ে আছি ।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

ফেরার পথে – পৃথিবীতে সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত হল কোনো কিছু বিদায় দেয়া । ঠিক প্রকৃতিকে বিদায় দিতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো । কিন্তু কি করবো সব কিছুর শেষ আছে । শেষ হয় আবার নতুন করে শুরু করার জন্য । বিকেলের শেষে আবার অটো তে করে বাঁশবাড়িয়া বাজারে এসে পৌঁছলাম । সেখান থেকে লোকাল বসে করে মহীপালে এসে পড়লাম । আসার সময় একটু বেশি ভাড়া নিয়েছিল । মহীপাল থেকে সিএনজি করে চলে এলাম ফেনী রেলওয়ে স্টেশন । ট্রেন রাতে ছাড়বে । তার মধ্যে ক্ষুধাও লেগেছে । আশে পাশে থেকে খেয়ে নিলাম ।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

খরচ –

ঢাকা থেকে ফেনী , ফেনী থেকে ঢাকা ট্রেন ভাড়া – ৯০*২ = ১৮০ টাকা
স্টেশন থেকে মহীপাল ভাড়া – ২০ টাকা জন প্রতি । মোট পড়েছে ৪০ টাকা
মহীপাল থেকে বাঁশবাড়িয়া ৬০ এবং বাঁশবাড়িয়া থেকে মহীপাল ৮০ টাকা । মোট ১৪০ টাকা ।
সকাল ও দুপুরের খাবার ১২০ টাকা । সকালের নাস্তা ৩০ টাকা । আর দুপুরের খাবার ১৫০ টাকা ।
সর্বমোট খরচ হয়েছে ৫১০ টাকা ।

Page Sidebar