1
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
ফ্রেশ!
REGISTER

সৌদি সরকার ফোনে আড়ি পেতেছিল

Now Reading
সৌদি সরকার ফোনে আড়ি পেতেছিল

আমাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজোসের নিরাপত্তাপ্রধান গেভিন ডে বেকার জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সরকার জেফ বেজোসের ফোনে আড়ি পেতে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে দেশটি বেজোসের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জানুয়ারিতে বেজোস ও লরেন সানচেজের মধ্যে ‘ঘনিষ্ঠ বার্তা’ প্রকাশ করা হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ডেইলি বিস্ট-এ লেখা এক নিবন্ধে জেফ বেজোসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলোকপাত করে বেকার বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে জেফ বেজোস ও সাবেক টিভি উপস্থাপিকা লরেন সানচেজের গোপন টেক্সট মেসেজসংক্রান্ত খবর সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়।
ন্যাশনাল এনকোয়ারার নামে একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকায় এ খবরটি প্রকাশিত হয়। এতে জেফ বেজোসের সঙ্গে লরেন সানচেজের প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর পর গত ফেব্রুয়ারিতে ন্যাশনাল এনকোয়ারারের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তোলেন জেফ বেজোস।
এক ব্লগপোস্টে তিনি বলেন, বান্ধবীর সঙ্গে তোলা গোপন কিছু ছবি নিয়ে তাকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করছে ন্যাশনাল এনকোয়ারার। আর পত্রিকাটির মূল প্রতিষ্ঠান আমেরিকান মিডিয়া ইনকর্পোরেশনের (এএমআই) সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে সৌদি আরবের।
গেভিন ডে বেকার বলেন, তদন্তকারী এবং একাধিক বিশেষজ্ঞ বেজোসের ফোনে সৌদি আরব আড়ি পেতেছিল বলে জানিয়েছেন। এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি দূতাবাসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জেফ বেজোসের মালিকানাধীন দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের কাভারেজ নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে সৌদির।
ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংসভাবে খুন হওয়া খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র গোপনে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রর অনুমোদন দিল সৌদি আরবকে

Now Reading
যুক্তরাষ্ট্র গোপনে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রর অনুমোদন দিল সৌদি আরবকে

যুক্তরাষ্ট্র গোপনে অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরবের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। ট্রাম্পের জ্বালানিমন্ত্রী রিক পেরি এ অনুমোদন দেন। বুধবার এর একটি কপি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে এসেছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত পাওয়ায় সৌদি আরবের কাছে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রযুক্তি বিক্রিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর কোনও বাধা থাকলো না।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ পেতে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলোও আগ্রহী। ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি ভাগাভাগি করে নিতে একটি বিশদ চুক্তিতে উপনীত হতে চায়। তবে শেষ পর্যন্ত কারা কাজ পাবে সে সিদ্ধান্ত নেবে রিয়াদ। এ বছরের শেষদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি জানাতে পারে সৌদি সরকার। তবে দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্রই এ কাজ পেতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এর আওতায় দেশটিতে অন্তত দুইটি পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি সামনে রেখে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের জন্য এ সংক্রান্ত প্রাথমিক কাজ সম্পাদন করতে পারবে। তবে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতো সামগ্রী চুক্তির আগে সৌদিতে পাঠানো যাবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে সৌদি আরব কি আদৌ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকতে চায়? নাকি তার বাড়তি অভিলাষ রয়েছে। দেশটির পারমাণবিক বোমা অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়টি ইতোমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, সৌদি আরব যেখানে কম খরচে বাইরে থেকে পারমাণবিক জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারে, সেখানে নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদনে যাওয়ার নেপথ্যের রহস্য কী?
গত বছরই ইরানকে মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির হুমকি দিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো নেতা বা অনানুষ্ঠানিক সরকার প্রধান মনে করা হয়। সিবিএস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব কোনও পারমাণবিক বোমা অর্জন করতে চায় না। তবে ইরান যদি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তাহলে আমরাও যত দ্রুত সম্ভব তার অনুসরণ করবো।’
আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার লড়াই নতুন নয়। বরং এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে দুই দেশ কার্যত এক ধরনের ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত। ১৯৭৯ সালে ইরানে সংঘটিত ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে সৌদি আরব। এরমধ্যেই তুরস্ক ও কাতারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে রিয়াদ। ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে সৌদি জোট। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলে সৌদি আরবের ক্ষমতাবলয় এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই একদিকে ইরানকে ঠেকানো অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের ক্রমক্ষয়িষ্ণু প্রভাব ধরে রাখতে দৃশ্যত পারমাণবিক বোমা অর্জনের দিকেই নজর দিচ্ছে রিয়াদ।

চার আরব দেশ ট্রাম্পের গোলান স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করল

Now Reading
চার আরব দেশ ট্রাম্পের গোলান স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেছে উপসাগরীয় চারটি দেশ।উপসাগরীয় চার আরব দেশ সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েত ট্রাম্পের স্বীকৃতির সমালোচনা করে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, “অধিকৃত ওই ভূমি আরবদের।” তাছাড়া ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ইস্যুতে তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসঙ্ঘে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। সৌদি আরব, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কাতার ও লেবাননও ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্পের এ স্বীকৃতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে এবং শক্তি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি আরব।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে ইসরায়েল। সামরিক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ মালভূমিটিকে ইসরায়েল ১৯৮১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ভূখণ্ডের অর্ন্তভুক্ত করে নিলেও বিশ্ব সম্প্রদায় তা মেনে নেয়নি।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে ‘গোলান মালভূমি ইসরায়েলি ভূখণ্ড’ বলে ঘোষণা দেওয়া স্বীকৃতিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

সৌদি আরবের রাজকন্যা অংশগ্রহণ করবেন উট দৌড় প্রতিযোগিতায়

Now Reading
সৌদি আরবের রাজকন্যা অংশগ্রহণ করবেন উট দৌড় প্রতিযোগিতায়

সৌদি আরবে উট দৌড় প্রতিযোগিতায় অনেক জনপ্রিয় একটি খেলা। এবারের সৌদি আরবে উট দৌড় প্রতিযোগিতা অন্যান্য বারারে চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। কারন প্রথম বারেরে মত এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন একজন নারী। দেশটির ক্যামেলস ক্লাবের চেয়ারম্যান শেখ হাহাদ বিন ফালাহ বিন হাথলিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো বলেছেন, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজকন্যা জামিলা বিনতে আবদুল মাজিদ বিন সৌদ বিন আবদুল আজিজ ওই প্রতিযোগিতায় উট নিয়ে অংশ নেবেন।
রাজকন্যা জামিলাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিন হাথলিন। এই প্রথমবারের মতো উট প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর ফলে ইতিহাসেরও অংশ হয়ে গেলেন জামিলা। জানা গেছে, সৌদি আরবের এই রাজকন্যা অনেকটাই প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয়ও। প্রতিযোগিতায় রাজকন্যার জয়লাভের প্রত্যাশা করছেন অনেকেই।

সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানের কর্তৃত্ব খর্ব করা হয়েছে

Now Reading
সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানের কর্তৃত্ব খর্ব করা হয়েছে

সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানের কর্তৃত্ব খর্ব করে দিয়েছেন তার বাবা বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, গত ১৫ দিনে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা ও কূটনৈতিক বৈঠকে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি তাকে। এতে ধারণা করা হচ্ছে তিনি কয়েকটি অর্থনৈতিক ও আর্থিক কর্তৃত্ব খুইয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যার পর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন যুবরাজ মোহাম্মদ। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে যুবরাজের হাত রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমবিএস নামে পরিচিত ৩৩ বছর বয়সী যুবরাজের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এ ছাড়া গুজব রটেছে যে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে যুবরাজের বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে নৃশংস ইয়েমেন সংঘাতে সৌদি আরবের ভূমিকার ফল সৌদি রাজকীয় আদালতে উত্তেজনা চরম উঠেছে কিনা তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

এমনটিও বলা হচ্ছে যে, চলতি মাসের শুরুতে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের কাছে বাদশাহ এ ঘোষণা দিয়েছেন। যুবরাজকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে থাকতে তার ৮৩ বছর বয়সী বাবা নির্দেশ দিলেও তিনি তাতে থাকেননি। এতে নিজেদের উত্তরসূরির ওপর বাদশাহ অসন্তুষ্ট হয়েছেন। কাজেই এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত অনুমোদন লাগবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে বসেননি যুবরাজ মোহাম্মদ। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান, চীন ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও বসেননি তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি দূতাবাস থেকে কোনো জবাব আসেনি। সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের মধ্যে বিরোধের বিষয়ে চলতি মাসের শুরুতে বিশেষজ্ঞরা আভাস দিয়েছিলেন, যাতে বাদশাহ সালমানকে বিজয়ী হিসেবে দেখা গেছে।

সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার নতুন তথ্য উন্মোচন

Now Reading
সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার নতুন তথ্য উন্মোচন

সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার এক বছরের বেশি সময় আগে সৌদি আরবের বিদ্রোহীদের দমনে একটি অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, যুবরাজ সৌদি নাগরিকদের নজরদারি, অপহরণ, আটক ও নির্যাতনের বিষয়গুলো অনুমোদন দেন। শ্রেণিবদ্ধ গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখে এই তথ্য জানিয়েছেন সেই কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, অভিযান চালানো ওই দলটির নাম সৌদি র‍্যাপিড ইন্টারভেনশন গ্রুপ।

র‍্যাপিড ইন্টারভেনশন গ্রুপের সদস্যরাই কিছু গোপন মিশন পরিচালনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা ও খাসোগির সহযোগীরা বলেছেন এই দলটির সদস্যরা খাসোগিকে হত্যা করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছরে সৌদি প্রতিষ্ঠিত নারী অধিকারকর্মীদের আটক ও নির্যাতনের সঙ্গেও র‍্যাপিড ইন্টারভেনশন গ্রুপ জড়িত। তবে সৌদির কর্মকর্তারা এমন গ্রুপ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রিয়াদ ও আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে

Now Reading
হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রিয়াদ ও আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে

সৌদি আরবের রিয়াদ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করার অভিযোগে দেশ দুইটির বিরুদ্ধে এসেছে তাদের এই হুমকি। অন্যদিকে সৌদি আরবের অভিযোগ হুথিরাই চুক্তির শর্ত মানছে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে রিয়াদ ও আবুধাবিতে হামলা চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত গড়ে তোলার দাবি করেছে হুথি সেনা কর্মকর্তা।

সৌদি আরব অভিযোগ করেছে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে স্টকহোমে স্বাক্ষরিত অস্ত্রবিরতি চুক্তিটির শর্ত মেনে চলছে না হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের হুদেইদাহ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা। অন্যদিকে হুথিরা বলছে, তারা জাতিসংঘের কাছ থেকে আরও বেশি মাত্রার নিশ্চয়তা চায় এই মর্মে যে তারা যদি হুদেইদাহ ছেড়ে দেয় তাহলে সৌদি আরব তার অনৈতিক সুযোগ নেবে না।

হুদেইদাহতে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যে অস্ত্র বিরতি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের কাছে এমন ‘ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আছে’ যা দিয়ে তারা সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে আঘাত হানতে সক্ষম।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পালিয়ে যান হাদি। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব।

লোহিত সাগরে অবস্থিত হুদেইদাহ বন্দরটি ইয়েমেনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান পথ। বন্দরটি আক্রান্ত হলে লাখ লাখ ইয়েমেনির জন্য খাবার, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ এই বন্দরটি দিয়েই মানবিক সংকটে থাকা ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়। জাতিসংঘের মতে, ইয়েমেন এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানবিক সংকট চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দেশটির প্রায় ৮৪ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় আছে। ২০১৫ সালের আগে ইয়েমেনের মানবিক সহায়তার ত্রাণ, খাবার ও জ্বালানির ৭০ শতাংশ আমদানি হতো হুদেইদাহ বন্দর দিয়ে। সৌদি আরব দাবি করেন, হুথিরা এখনও ওই বন্দর দিয়ে প্রতিমাসে ৩ থেকে ৪ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করে। এসব অর্থ তারা ইরান থেকে অস্ত্র কিনতে ব্যয় করে।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কারাগারে আটক থাকা কয়েক’শ রোহিঙ্গা নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে সৌদি আরব

Now Reading
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কারাগারে আটক থাকা কয়েক’শ রোহিঙ্গা নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে সৌদি আরব

অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে সৌদির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানে আটক হওয়া কয়েক‘শ রোহিঙ্গা নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। জেদ্দায় শুমাইছি বন্দিশিবির থেকে রোহিঙ্গা বন্দীরা বের হয়ে আসছে। শিবিরটিতে আরো কয়েক হাজার অনিবন্ধিত কর্মী রয়েছে।

১৯৭০–এর দশকে বাদশাহ ফয়সালের শাসনামলে মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয় সৌদি আরব। ওই সময় সৌদিতে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা এখনো সেখানে প্রজন্মান্তরে বসবাস করছে। এরই মধ্যে ২০১১ সালের পর মিয়ানমারে আবারও দাঙ্গার শিকার হয়ে অনেক রোহিঙ্গা জাল নথিপত্র দিয়ে পাসপোর্ট করে সৌদিতে পাড়ি জমান।

তবে সৌদিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিযান শুরু করে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। অভিযানে শত শত অবৈধ বিদেশি কর্মী আটক হন। এই আটক কর্মীদের অনেককে কয়েক দিনের মধ্যেই স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় আটক রোহিঙ্গাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠায়নি সৌদি আরব। শুমাইছি আটক শিবিরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে আটক থেকে অনেক রোহিঙ্গা মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছে এবং কেউ কেউ মারা গেছেন। তবে তার সত্যতা এখনো যাচাই হয়নি। আর বাকি রোহিঙ্গাদের দেশে পাঠানো হবে কিনা তা নিয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন বন্ধে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ভোটাভুটি চলছে

Now Reading
ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন বন্ধে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ভোটাভুটি চলছে

চার মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো একই বিষয়বস্তু ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর মাইক লি-কে নিয়ে সিনেটে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন এবং সিনেটে ভোটাভুটির প্রস্তাব দেন। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স চান যে, মধ্যপ্রাচ্যের দারিদ্রকবলিত দেশটিতে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যেন সমর্থন না দেয়।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পালিয়ে যান হাদি। হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর এই যুদ্ধের সমালোচনা তীব্র হতে থাকে। গত ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে মানবিক সহায়তার জন্য ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতেই ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব তোলেন বার্নি স্যান্ডার্স।

ট্রাম্পের ভেটো উপেক্ষা করে প্রস্তাবটিকে কংগ্রেসে পাস করাতে হলে দুই কক্ষেই দুই তৃতীয়াংশ ভোট নিশ্চিত করতে হবে ডেমোক্র্যাটদের। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সিনেট এখনও রিপাবলিকানদের দখলে। সিনেটের অনেক রিপাবলিকান সদস্যও আগ্রাসনে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতার বিরোধী। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই প্রস্তাব যথার্থ নয়। কেননা ইয়েমেন যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী শুধু বিমানের জ্বালানি ও অন্য সহায়তা দিচ্ছে তারা সরাসরি যুদ্ধ করছে না।

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর ফলে জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধে মার্কিন সক্ষমতা ক্ষুণ্ন হবে। তবে ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক আগ্রসনকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জিম ম্যাক গভর্ন-এর ভাষায়, ইয়েমেনে নিক্ষেপ করা প্রায় সব বোমাই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানেও বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না মানুষের বাড়িঘর থেকে শুরু করে হাসপাতাল পর্যন্ত। এমনকি জানাজা, শরণার্থী শিবির ও স্কুল বাসেও বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। আকাশ থেকে এভাবে বোমা নিক্ষেপের ফলে প্রতিনিয়ত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বেসামরিক ব্যক্তিরা।

মার্কিন সিনেটররা ২০১৮ সালেও ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধের ব্যাপারে মত দিয়েছেন । মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সহায়তা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে মত দিয়ে আসলেও এর বিপরীতে রায় দেন অধিকাংশ সিনেটর। তবে ওই বছরের মতো কংগ্রেস মুলতুবি হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আর বাড়ানো হয়নি।

অস্ত্রবিক্রির মেয়াদ বাড়ালেন জার্মানি………

Now Reading
অস্ত্রবিক্রির মেয়াদ বাড়ালেন জার্মানি………

সৌদি আরবের অস্ত্রবিক্রির ওপর আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে জার্মানি। সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় সৌদি আরবের ভূমিকায় উদ্বিগ্ন হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ৯ মার্চ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা পুরো মার্চ মাস বহাল রাখা হয়েছে।

২০১৮ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবের কাছে ২০১৯ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত অস্ত্র বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর বার্লিন এ সিদ্ধান্ত নেয়। জার্মানির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আসছে ফ্রান্স ও ব্রিটেন।
পরে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পুরো মার্চ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকার ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের সেনাবাহিনীর ভূমিকা মূল্যায়ন করার সুযোগ পাবে।
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলের মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস জানান যে, ইয়েমেন পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু যে এই মাসের শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হবে তা না যেসব পণ্যকে ইতোমধ্যে অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেগুলোও সরবরাহ করা হবে না।

ইয়েমেন যুদ্ধে হতাহতের কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। ২০১৭ সালে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত ১০ হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা এরচেয়ে পাঁচগুণ বেশি হতে পারে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ইয়েমেন যুদ্ধে অভিযান শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মনসুর হাদিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য সৌদি আরবের এই অভিযান। ২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাদিকে উচ্ছেদ করে নির্বাসনে পাঠায়।
এইসকল কারণ মাথায় রেখেই সৌদি আরবের অস্ত্রবিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে জার্মানি।

ফুটপ্রিন্ট লেখক লগিন