5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

যাঁর অদম্য ইচ্ছা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিশ্বে প্রতিষ্ঠা পেল স্কাউটিং (পর্ব-২)

Now Reading
যাঁর অদম্য ইচ্ছা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিশ্বে প্রতিষ্ঠা পেল স্কাউটিং (পর্ব-২)

স্কাউটস এর জনক “রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড বেডেন পাওয়েল অব গিলুয়েল” আজকের পর্ব এই মহান ব্যাক্তিটিকে নিয়ে, চলুন জেনে নিই তাঁর সম্পর্কে বিশদ।

রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড বেডেন পাওয়েল ১৮৫৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর পিতা ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী রেভারেন্ড এইচ.জি. ব্যাডেন পাওয়েল। মা ছিলেন ব্রিটিশ নৌ সেনাপতি এ্যাডমিরাল উইলিয়াম স্মিথের কণ্যা হেনরিয়েটা গ্রেস। এই উইলিয়াম স্মিথ অর্থাৎ বেডেন পাওয়েলের নানা  আমেরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্য প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখেন। মাত্র তিন বছর বয়সেই বিপি পিতৃহারা হন, সাত ভাই-বোনের মধ্যে  তাঁর অবস্থান পঞ্চম। তিনি স্কাউট আন্দোলনের সূচনা করে বিশ্ব যুবসমাজের মঙ্গল করেছিলেন। তারই স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে লর্ড বেডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল উপাধি দেয়া হয়। আর এ উপাধি দিয়েছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশরাজ পঞ্চম জর্জ। মূলত তখন থেকেই তিনি বিশ্বব্যাপী লর্ড বেডেন পাওয়েল বা বিপি নামেই সুপরিচিত।

বিপি পরিণত বয়সে একজন বীর সেনা নায়ক ছিলেন, মাত্র ১৯ বছর বয়সে সাব-লেফটেনেন্ট হিসেবে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করে ভারতে গমনের সুযোগ লাভ করেন। সামরিক কাজে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি ২৬ বছর বয়সে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন। ১৮৮৭ সালে তিনি আফ্রিকায় রণাভিযান পরিচালনা করেন, আফ্রিকার স্বদেশীয় জনগণ তার সাহস, স্কাউটিং নৈপুন্য, বিস্ময়কর চিহ্ন অনুসরণ শক্তি ও দক্ষতার জন্য তাঁকে এত বেশি ভয় করত যে তারা বিপির নামই দিয়েছিল “সদা জাগ্রত নেকড়ে বাঘ”। ১৮৯৯ সালে বিপি কর্ণেল পদে উন্নীত হন। ঐ বছরেই তিনি যখন দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্তের ক্ষুদ্র শহর “ম্যাফে কিং”-এ ২১৭ দিন বুয়রদের দ্বারা অবরুদ্ধ ছিলেন তখন তার নিজ সেনা দলের স্কাউটসদের ব্যবহার করে বিশাল এক সফলতা লাভ করেন। পরবর্তীতে সেই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে স্কাউটিং বালক-বালিকাদের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা কালক্রমে আন্দোলনে পরিণত হয়।

বিপির স্কাউটিং মূল মন্ত্র সারা পৃথিবীর মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গ্রহণ করে আত্মতৃপ্তি লাভ করেছে। ১৯০১ সালে বিপি দক্ষিণ আফ্রিকা হতে ইংল্যান্ডে ফিরলে ব্রিটিশ নাগরিকগণ এবং বালকদের কাছে তিনি এক মহান বীর রুপে আবির্ভূত হন। ম্যাফেকিং অবরোধের সফলতা ব্যাডেন পাওয়েলকে ব্রিটিশ রাজকীয় সেনাবাহিনীর মেজর-জেনারেল পদে অধিষ্ঠিত করে। তিনি ১৯০৭ সালের ১ আগস্ট ইংলিশ চ্যানেলে অবস্থিত ব্রাউন্সি দ্বীপে মাত্র ২০ জন ছেলেকে নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে বিশ্বের প্রথম স্কাউট ক্যাম্প আয়োজন করেন যার কারণে সারা ইংল্যান্ড তথা আমেরিকায় স্কাউটিং খুবই জনপ্রিয়তা ও প্রসার লাভ করে। ১৯০৮ সালে বি.পি’র লেখা বিখ্যাত জনপ্রিয় বই “স্কাউটিং ফর বয়েজ” প্রকাশিত হয়। 

১৯১০ সালে ব্যাডেন পাওয়েল “লেফট্যানেন্ট জেনারেল” থাকাবস্থায় সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯১২ সালের জানুয়ারিতে রবার্ট ব্যাডেন পাওয়েল স্কাউটের বিশ্ব সফরের অংশ হিসেবে নিউইয়র্কের পথে বের হন সেসময় ঘটে যায় এক ঘটনা। পথিমধ্যে সুন্দরী ভদ্রমহিলা ওলেভ সেন্ট ক্লেয়ার সোমেজের সাথে পরিচয়, সেই থেকেই দুজন একে অপরকে পছন্দ করেন এবং ভালবাসেন। ওলেভ এর একটা গুণ ছিল, তিনি ভাল ভায়োলিন বাজাতে পারতেন…! ২৩ বছর বয়সী ওলেভ এবং ৫৫ বছর বয়সী রবার্ট একই তারিখে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তারিখটি ছিল ২২ ফেব্রুয়ারি, আর এই দিনটিকেই সারা পৃথিবীর স্কাউটগন বিপি দিবস হিসেবে পালন করে। তাদের মধ্যে বয়সের ব্যাবধান থাকলেও বিপির অসম্ভব জনপ্রিয়তা ও খ্যাতির ফলে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে তারা বাগদান পর্ব সম্পন্ন করেন ১৯১২ সালের সেপ্টেম্বরে। তারপর তারা কঠোর গোপনীয়তায় পার্কস্টোনের সেন্ট পিটার্স চার্চে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

মজার ব্যাপার কি জানেন!  ইংল্যান্ডের স্কাউট এবং গাইডরা বিপিকে এতই ভালবাসত যে, প্রত্যেকেই এক পেনি করে চাঁদা সংগ্রহ করেন আর সংগ্রহীত অর্থ দিয়েই ব্যাডেন-পাওয়েল দম্পতিকে বিয়ের উপহারস্বরূপ দেন একটি গাড়ী। ব্রাউনসী আইল্যান্ডের সেন্ট ম্যারি’জ চার্চের অভ্যন্তরে তাঁদের বিয়ের স্মারক চিহ্ন রয়েছে। রবার্ট ব্যাডেন-পাওয়েল এবং ওলেভ সেন্ট ক্লেয়ার ব্যাডেন পাওয়েল হ্যাম্পশায়ারের বেন্টলের কাছাকাছি প্যাক্স হিলে ১৯১৯ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত বসবাস করেছিলেন।

বিপি ১৯২০ সালে লন্ডনে দুনিয়ার সকল স্কাউটিং এর সমন্বয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক সমাবেশ বা বিশ্ব জাম্বুরী আয়োজন করেন।  ৬ আগস্ট এই জাম্বুরীর শেষ সন্ধ্যায় উৎফুল্ল বালক, জনতার বিরাট সমাবেশ বিপিকে “বিশ্বের প্রধান স্কাউট” রুপে ঘোষণা করে। এটা ছিল বিপির প্রাপ্য এবং যোগ্য সম্মান। বিপি  ১৯৪১ সালের জানুয়ারি তিরাশি বছর বয়সে কেনিয়ার নাইরোবিতে মৃত্যুবরণ করেন। সেখানেই তাকে সমাধিস্থ করা হয়। তাকে স্মরণীয় করে রাখা হয়েছে বিশ্বের সর্বপ্রথম স্কাউটের পদে বরণ করে। বিভিন্ন দেশ থেকে তার স্মরণে প্রচুর ডাকটিকিট প্রকাশ হয়।

আজ এই পর্যন্তই পরবর্তী পর্বে আরো থাকছে স্কাউটিং এর নতুন কোন বিষয় নিয়ে।

স্কাউটিং কি ও কেন? (পর্ব ১)

Now Reading
স্কাউটিং কি ও কেন? (পর্ব ১)

স্কাউটিং হল একটি সামাজিক আন্দোলন যার প্রধান উদ্দেশ্য আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষা দান করা। স্কাউটিং এর মাধ্যমে একজন ছেলে বা মেয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার  প্রয়াস লাভ করে। স্কাউটিং এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে অপার আনন্দ যার স্বাদ নিতে হলে যোগদান করতে হবে এই আন্দোলনে। ১৯০৭ সালে স্যার রবার্ট স্টিফেন্সন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অফ গিলওয়েল সংক্ষেপে বি.পি এই আন্দোলনের শুরু করেন। আসুন জেনে নিই বাংলাদেশের স্কাউটিং মুভমেন্ট কিভাবে পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ স্কাউট আন্দোলন প্রধানত তিনটি শাখায় বিভক্ত। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ থেকে ১০+ বয়সী শিশুদের কাব স্কাউট, স্কুল ও মাদ্রাসার ১১ থেকে ১৬+ বয়সী বালক-বালিকাদের স্কাউট এবং কলেজ বিশ্ববিদ্যলয়ের ১৭-২৫ বয়সী যুবক রোভার স্কাউট বলে। তবে রেলওয়ে, নৌ এবং এয়ার অঞ্চলের চাকরিজীবিদের জন্য এই বয়সসীমা কিছুটা শিতীলতা করে ৩০ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে মুক্তদল। স্কাউটিং-এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশু, কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক, নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক গুণাবলী উন্নয়নের মাধ্যমে তাদেরকে পরিবার, সমাজ দেশ তথা বিশ্বের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। উৎসাহী বয়স্করা বিভিন্ন ট্রেনিং নিয়ে ইউনিট লিডার এবং অন্যান্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকমন্ডলী বাংলাদেশ স্কাউটসের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট রয়েছেন।

স্কাউট কার্যক্রমে কতকগুলি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়: হাতেকলমে কাজ শেখা;  ছোট-দল পদ্ধতিতে কাজ করা; ব্যাজ পদ্ধতির মাধ্যমে কাজের স্বীকৃতি প্রদান; মুক্তাঙ্গনে কাজ সম্পদান, তিন আঙ্গুলে সালাম ও ডান হাত করমর্দন, স্কাউট পোশাক, স্কার্ফ ও ব্যাজ পরিধান এবং সর্বদা স্কাউট আইন ও প্রতিজ্ঞা মেনে চলা। স্কাউটদেরকে আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েলের নির্দেশিত নিয়ম অনুসারে অনুশীলন, প্রতিজ্ঞাপাঠ ও দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনে সদস্য হতে হয়। স্কাউটদের মটো বা মুলমন্ত্র হচ্ছে: কাব- যথাসাধ্য চেষ্ট করা; স্কাউট- সদা প্রস্ত্তত; এবং রোভার- সেবাদান। স্কাউট কার্যক্রমে রয়েছে: সাপ্তাহিক ক্লাশ, ক্যাম্প ও হাইকিং, কমডেকা এবং বড় সমাবেশ যথা ক্যাম্পুরি (কাবদের), জাম্বুরি (স্কাউটদের) ও মুট (রোভারদের) আয়োজন করা হয়ে থাকে জাতীয়, আঞ্চলিক, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে (এগুলি আন্তর্জাতিকভাবে) বিশ্ব স্কাউট সংস্থাও করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বিভিন্ন গ্রুপ ও জেলা পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপন, টিকাদান, স্যানিটেশন ও পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানি-সাশ্রয়ী চুলা, এবং বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্কাউটদের সেবাদান কর্মসূচি বাংলাদেশের মানুষ সর্বদাই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

বাংলাদেশ স্কাউটস  বাংলাদেশের জাতীয় স্কাউটিং সংস্থা। ১৯৭২ সালের ৮-৯ এপ্রিল সারাদেশের স্কাউট নেতৃবৃন্দ ঢাকায় এক সভায় মিলিত হয়ে গঠন করেন বাংলাদেশ স্কাউট সমিতি। ঐ বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ১১১ নং অধ্যাদেশ বলে (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭২, সোমবার) উক্ত সমিতি সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। বিশ্ব স্কাউট সংস্থা (WOSM) ১৯৭৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশ স্কাউট সমিতিকে ১০৫ তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে ১৯৭৮ সালের ১৮ জুন পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল সভায় সমিতির নাম বদলে রাখা হয় বাংলাদেশ স্কাউটস। বাংলাদেশ স্কাউটস কার্যক্রম শুরু করেছিলো মাত্র ৫৬,৩২৫ জন সদস্য নিয়ে। ১৯৭৮ সালে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে সকল স্তরের জন্য ট্রেনিং কোর্সসমূহ পরিচালনার মাধ্যমে ১৯৮৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫ লাখে উন্নীত হয়। এরপর বাংলাদেশ স্কাউটস ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে গ্রহণ করে স্ট্রাটেজিক প্ল্যান- ২০১৩। এ প্ল্যানে স্কাউটদের শুধু সংখ্যাবৃদ্ধিই নয়, গুণগত মান অর্জনেরও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়। ৬টি অগ্রাধিকার ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভলেন্টিয়ার লিডার ও স্কাউটারবৃন্দ সমন্বিতভাবে ২০১৩ সালের মধ্যে ১৫ লক্ষ স্কাউট তৈরির চেষ্টা করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালের মধ্যে স্কাউটের সংখ্যা ১২,৮৫,৬০৭ এ পৌঁছেছে যা বাংলাদেশকে বিশ্ব স্কাউট সংস্থায় ৫ম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিষদ হচ্ছে জাতীয় স্কাউট কাউন্সিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও চিফ স্কাউট এ কাউন্সিলের প্রধান। স্কাউট জাতীয় কাউন্সিলের সভা প্রতিবছর সদর দফতরে আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে প্রতি তৃতীয় বছরের সভায় প্রধান জাতীয় কমিশনার ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

প্রধান জাতীয় কমিশনার হচ্ছেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান নির্বাহী রয়েছেন ১৫ জন জাতীয় কমিশনার এবং ৩০ জন জাতীয় উপ-কমিশনার। দেশব্যাপি স্কাউট আন্দোলনের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত প্রায় ৫০ জন স্কাউট এক্সিকিউটিভ রয়েছেন। বাংলাদেশ স্কাউটসের যাবতীয় কার্যক্রম, যথা: নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, মনিটরিং, মূল্যায়ন, যোগযোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইত্যাদি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় সদর দফতর, স্কাউট ভবন থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে। অবশ্য দেশব্যাপি সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্কাউসকে ১২টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটে ৮টি, শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এবং রোভার, রেলওয়ে, নৌ এবং এয়ার  এই বিশেষ অঞ্চল ৪টির দফতর ঢাকায় অবস্থিত। স্কাউটদের এ সকল কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ট্রেনিং এর জন্য বিভিন্ন ব্যাজ প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়া হয়। স্কাউটের তিনটি শাখার জন্য সর্বোচ্চ ব্যাজ হচ্ছে: শাপলা কাব, প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট এবং প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট। অ্যাডাল্ট লিডারদের স্কাউটিং এ অবদান রাখার জন্য তাঁদেরকেও বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হচ্ছে রৌপ্য ব্যাঘ্র এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হচ্ছে রৌপ্য ইলিশ। বিশ্ব স্কাউট সংস্থাও বিভিন্ন দেশের অসাধারণ স্কাউটারদের দিয়ে থাকে ব্রোঞ্জ উলফ ব্যাজ। তবে এ ব্যাজ খুব কম সংখ্যক স্কাউটই পেয়ে থাকেন। ১৯৩৫ সনের ২ আগস্ট লর্ড ব্যাডেন-পাওয়েলকে সর্বপ্রথম এই ব্যাজ প্রদান করা হয়েছিল।

যোগদান করেই একজন স্কাউট হয়ে ওঠা যায় না। এর জন্য থাকতে হবে একাত্মতা। তাহলেই খুঁজে পাওয়া যাবে এর আনন্দ। কিছুদিন এর শিক্ষার পর শপথ পাঠের মাধ্যমে একজন ছেলে বা মেয়ে হয়ে ওঠে স্কাউট সদস্য, পরতে পারে স্কাউট পোশাক, লাগাতে পারে সদস্য ব্যাজ এবং গলায় নিজ দলের স্কার্ফ। এরপর সে পার করে প্রতিটি স্তর এবং খুঁজে পায় নানান বিষয়।

স্কাউটিং এ রয়েছে অনেক দিক। কিছু দিক যেমনঃ ক্যাম্পিং, হাইকিং, ট্র্যাকিং, ফার্স্ট এইড, দড়ির কাজ, পাইওনিয়ারিং, রান্না, অনুমান, খেলা এবং আরও কত কি। মজার মজার এসব বিষয় শিখে ফেলা যায় নিজের অজান্তেই। এমনকি কিছু বিষয়ে হয়ে ওঠা যায় পারদর্শী। তখন সে অনুযায়ী পোশাকে লাগানো যায় নিত্য-নুতুন ব্যাজ। এই অর্জনকে ব্যাজ নয় স্কাউট পোশাকের অলংকার বলেছেন বি.পি। পাত্র ছাড়া রান্না কিংবা দড়ি দিয়ে কিছু তৈরি করতে পারার মজা আর কোথাও নেই। এমনকি কোন কম্পাস ছাড়াই দিক নির্ণয় অথবা অনুমান করে বলে দিতে পারা যায় কোন কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ কিংবা উচ্চতা। তাঁবুতে থাকার অভিজ্ঞতা আর হেঁটে হেঁটে প্রকৃতির সাথে চলা – এক নুতুন জীবন এর স্বাদ এনে দেয় স্কাউটিং। যান্ত্রিক জীবনের আড়ালে হারিয়ে যায় সকল ইচ্ছা, চলে যায় নতুন এর স্বাদ। স্কাউটিং ফিরিয়ে আনে সেই ইচ্ছাগুলো। আর সকল কাজে এনে দেয় উৎসাহ।