ভালোবেসে প্রেম

Now Reading
ভালোবেসে প্রেম

নিঝুম প্রহরের স্বভাব অনেকটা সিক্ত মনের মত। দুটই ক্ষনিকের। কেউ একা থাকতে পারে না। নিঝুমকে যখন ঝুমিয়ে দিয়ে এমন এক সময় আসে। এমন কাল। এমন ক্ষণ। তখন ভালোবাসার মানুষী প্রেম না করে কি থাকতে পারে? বল? কিন্তু তিক্ত হলেও অসীমতাময় বাস্তবতা এই যে,
শুধু প্রেম যারা বুঝে ফেলে তাদের কপালে আর প্রেম জোটে না।
আমি বলব কি, ভালোবাসতে হয়। ভালোবাসলে ভালোলাগা শুরু হয়। ভালোলেগে ভালোবাসা হয়ে যায়।
আর ভালোবাসাই এক পর্যায় প্রেম করতে বাধ্য করে।
প্রেম ছাড়া ভালোবাসা যে অমরত্ব লাভ করতে পারে না।

যেমন একটি ছোট্ট শিশির বিন্দু সারাজীবন প্রেমি হয়ে থাকল। সে তার প্রেমে দুর্বাকে পাগল করে দেয়। তাদের ছোট্ট সময়ের ভাব অসীমে চলে যায়। তাদের সারা অঙ্গ প্রেমে কাতর হয়ে থাকে। তারা তাদের মন দুজনকে বিলিয়ে দেয়।

আমাদের দেহে দুটি স্থানে প্রেম বা ভালোবাসা হয়ে থাকে। দুটোই একসাথে থাকতে পারে না। আমি তাদের শত্রু বলি না। তারা সহযোগী। কারন, একটি ছাড়া অপরটি অস্থায়ী।

তাই শিশির-দুর্বা শুধু প্রেম করতে জানে। তাদের প্রেমকে রক্ষাকারী বিনয়ী ভালোবাসা নেই। তাদের চোখে আর মনে প্রেম জায়গা করে নিয়েছে। তারা ভালোবাসার স্থান রাখতে পারেনি। ফলে কারোর পায়ে ঝাপ্টা তাদের প্রেমকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। তাদের জীবনপাতা থেকে সব প্রেম মুছে যায়। ফলে তারা কেউ থাকতে পারে না। একপর্যায় তাদের রিক্ত মনে হারিয়ে যায় বাস্তবতা থেকে। কল্পনাই এখন ভরসা। তাদের কি কোনো ভূল ছিল? তারা ভালোবাসাকে ভালোবাসেনি। যদি বাসত, তাহলে শিশির বিন্দু দূর্বার শিকড় সিক্ত করে তার মনে চলে যেত। আর মনে ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু থাকতে পারে না।

তাই,
প্রেম চোখে থাকুক আর মনে থাকুক ভালোবাসা।

আবার ভালোবাসায় মনটাও ভারি অদ্ভুত হয়ে ওঠে। হঠাৎ ভালোবেসেই ভালোবাসতে চায় না। ঠিক তখনই সজীব মনে প্রেম পোকা কুড়তে থাকে আর চোখদুটো হয়ে ওঠে প্রেমময়। ভালোবেসেই প্রেম করতে ইচ্ছে হয়। সব স্বপ্ন নিয়ে মন ডানামেলা পরীর মত উড়তে থাকে। কিন্তু স্বপ্নগুলোও হয় আবার স্বপ্নকেই নিয়ে। কি জানি, হয়ত স্বপ্নগুলো একদিন সত্যি হবে!

খেলবে আলো
স্বপ্ন বল
সব পাতারই শেষে
শব্দ কেমন
সপ্ন দেখে
সত্যি হবে
ভোরের আলো
শিশির ভেজা বিনে।

আবার আমি
থমকে চলা
সাঝের বেলা
ঠান্ডা লাগে
সপ্নচূড়া গল্পজোটে
ঊষার বেলা
দরমরিয়ে
ঘাসে গায়ে বিছে।

সপ্ন আমার
একলা ডাকে
চুপটি বলে
দেখব তারে
ভাগ্য রেখা
সাঁতরে চলে
লাম্বা কথার ভিড়ে।

যাই হোক প্রেমিক এবং অপ্রেমিক দুটো আলাদা অর্থ হলেও উৎস একই। তা হল মানুষ। । এখনে মানুষ বলে চোখকে বুঝাই। কারন মানুষ চোখকেই সবথেকে বেশি বিশ্বাস করে। ফলে মানুষের স্বভাব চোখকে ঘিরেই তৈরী হয়। যার চোখ যত সিক্ত তার মন ততটাই পিয়াসী। তাই বাঙালির রসসিক্ত মন বার বার প্রেমে পড়ে। আর প্রেমের প্রধান বৈশিষ্ট হল যখন-তখন ঘটান যায়। প্রেমে পড়া সহজ কিন্তু সফলতা খুব কঠিন। প্রেমে সফল হওয়ার শুধুমাত্র একটি মন্ত্র,

নিজেকে বিলিয়ে দাও।

এই মন্ত্রে সিদ্ধ হয়ে মানুষ ভালোবাসতে শেখে।
আর ভালোবাসা শুধুমাত্র হয় মনে। না ভাবতে চাইলেও ভাবতে থাকার নাম ভালোবাসা। যত দূরেই থাকুক না কেন আবার ফিরে আসার নাম ভালোবাসা। ভালোবাসা হঠাৎ করেই বাসা যায় না। ভালোবাসা হয়ে যায়, ঘটে যায় না বোঝার আগে। তাই শুধু প্রেম বা ভালোবাসা হয় না। প্রেমের পরেই ভালোবাসা আসে। তারপর সারাজীবন একসাথে থাকা। ভালোবাসা। যা একটি পবিত্র সম্পর্ক গড়ে তোলে। কোনো পোষ্যকে চিনতে বা কাছে নিতে প্রেম করতে হয় না। তাকে শুধু একটু ভালোবাসতে হয়। একসময় হয়ত পোষ্য ও আপনার প্রেমে পড়তে পারে। খুজে পেতে পারে অভুতপূর্ব আনন্দ, সাথে অসীম ভালোবাসা।

এভাবেই ভালোবাসা হয়ে ওঠে সবচেয়ে মর্যাদাবান শব্দ। আর প্রেম এই মর্যাদার মৃত্যুঞ্জয়ী মুকুট।

sunset_love.jpgআবার প্রেম-পাগলা মনভাব আমাদের জীবনকে প্রিয় করে তোলে। অন্যদিকে প্রেমের পোকা ভালোবাসা অর্থকে আঁকড়ে ধরে ভালোলাগারকে প্রেমে করে বসে। ফলে ভালোবাসা তার সর্বস্বকে প্রেমের কাছে বিলিয়ে দিয়ে মনে স্থান করে নেয়। এটা ভালোবাসার ধর্ম। এতে ভালোবাসাই হয়ে ওঠে প্রেমের ফল। তাই ভালোবাসা প্রেম না করে থাকতে পারে না আর প্রেম ভালোবেসেই প্রেমময় হয়ে ওঠে।

অন্যদিক দিয়ে বলতে গেলে প্রেম অশালীন, ভালোবাসা শালীন। কিন্তু দুই প্রেমির কাছে প্রেমের শালীনতা কোনো একসময় ভালোবাসা থেকে উর্ধে উঠে যায়। তখন মন ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে তৃপ্তার শিখড়ে পৌছায়। আর ঠিক তখনই ভালোবাসার সত্যিকারের মর্মকে আপন করে নেওয়া যায়। পরক্ষণেই প্রেম হয়ে ওঠে স্বার্থপর। কারন, ভালোবাসা তৃপ্ততার সাগরে অতলে ডুবে প্রেমকে সার্থক করে তোলে। যা প্রেমকে নিঃস্ব করে দেয়। আর প্রেম একা থাকতে পারে না। ফলে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে সে নিজের কথা ভাবতে শুরু করে। এই ভাবনাই একসময় প্রেমকে জয়ী করে তোলে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায় । প্রেমের এই বিলুপ্তির পথে ভালোবাসা আবার হাল ধরে। প্রেমকে আবার নতুন করে ভালোবাসতে শিখায়। ভালোবাসার এই মনভাব তার মর্যাদাকে অমর করে রাখে। এই ক্রিয়ার মাঝে ভালোবাসাই আবার ভালোবাসতে শেখে। তাই ভালোবাসা পিয়াসী ভালোবাসাকেই ভালোবাসতে শুরু করে। যা আবার তাদের প্রেম করতে বাধ্য করে। এইভাবেই চলে সারা জীবন। এই প্রেম-ভালোবাসা একসময় মিলিত হয়ে অধিকারবোধের জন্ম দেয়। তাই অধিকারবোধ, প্রেম-ভালোবাসার সূর্য সন্তান।