নারী ও নায়িকা

Now Reading
নারী ও নায়িকা

১.

-আপনার নতুন ছবিটা দেখলাম।

– তা কেমন লাগলো?

-ভালই। কিন্তু ঐ যে আইটেম সং…আসলেই কি তার খুব বেশি দরকার ছিল?

– ভাই, এটা বানিজ্যিক ছবি। এতে নাচ থাকবে গান থাকবে, থাকবে মারদাংগা একশন। তার সাথে এই যুগে আইটেম সং না হলে কি চলে! আরে ভাই, মানুষ পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা দেখতে আসে। তারা চায় নির্মল বিনোদন। তাই সিনেমার মাঝে দু একটা আইটেম গান থাকলে দর্শকের ও ভাল লাগে, প্রডিউসার হল মালিকদের ও দুটো টাকা আয় হয়।

২.

-শুনলাম এবার নাকি ভিন্ন রকম ছবি বানিয়েছেন?

-এবারের ছবিটা আসলেই অন্যরকম। যাকে বলে জীবনঘনিষ্ঠ ছবি। জীবনটাকে খুব শৈল্পিকভাবে পর্দায় তুলে এনেছি। সিনেমা দেখলে আপনার মনেই হবে না আপনি সিনেমা দেখছেন। দেখলে মনে হবে এ যেন আপনারই জীবনের গল্প।

– তাতো বুঝলাম। কিন্তু এর মাঝেওতো দেখি কয়েকটা অশালীন দৃশ্য আছে। ওই যে নায়ক নায়িকার…ওই দৃশ্যটা…

-অশালীন বলছেন কেন? এতো জীবনেরই ছবি। কেন, বাস্তব জীবনে এমন কিছু হয়না? এর মাঝে আপনি অশ্লীলতা খুজে পেলেন কোথায়? অশীলতা কারে বলে আপনি বুঝেন, এর সংগা জানেন? ভাই, শ্লীল-অশ্লীল আমাকে শিখাতে আসবেন না। আমার খুব ভাল করেই জানা আছে কোনটা শ্লীল আর কোনটা অশ্লীল।

শরীরে পোশাক না থাকা মানেই অশ্লীল না। আবার কাপড় পড়েও আপনি নিদারুন অশ্লীল হতে পারেন। উপস্থাপনাটাই আসল।

World sinema  নিয়ে আপনার কোন ধারনা আছে? বিশ্বের অনেক ক্লাসিক সিনেমাতেই দেখবেন, দু চারটা ন্যুড সিন থাকে। কই সেগুলো নিয়ে শুনেছেন কোন সমালোচক তাকে অশ্লীল বলেছেন? আসলে আপনাদের মত এ রকম মানসিকতার লোকদের কারনেই দেশের শিল্প সংস্কৃতি এগুতে পারছেনা। যারা শিল্প সংস্কৃতির বুঝেনা কিছুই, খালি শ্লীল-অশ্লীল নিয়ে লাফালাফি করে।

৩.
– এবারেতো মিউজিক ভিডিও বানিয়েছেন শুনলাম।

-হ্যা। গানটা ভাল, সাথে গানের ভেতরের গল্পটাও। তাই অনেক যত্ন নিয়ে বানিয়েছি। খুবই রোমান্টিক একটা গান। এই গানের শ্যুটিং করতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ৫ দিন ধরে রাংগামাটি, বান্দারবান, সিলেটে শ্যুটিং করেছি। কি নেই গানে? আছে মেঘ, বৃষ্টি, পাহাড়, চা বাগান…

-শুনলাম, গানের একটা দৃশ্য নিয়ে নাকি খুব সমালোচনা হচ্ছে। যাতে নায়িকা পানিতে ভিজে…

-আরে বাদ দেনতো, সমালোচকদের কথা। এদেরতো আর অন্য কোন কাজ নেই, আমাদের সমালোচনা করেই এদের পেটে ভাত জোটে। রোমান্টিক গান…গানের ফিলিং অনুযায়ী দৃশটা ফুটিয়ে তুলতে হবে না? একটা গানে আর সময় কতটুকু? ৪-৫ মিনিট। তার মধ্যেই সব আবেগ তুলে আনতে হয়। অমন দৃশ্য না হলে রোমান্টিক গানের পুরো আমেজটা আসবে না। বুঝতে পেরেছেন? নাকি বুঝেন নি?

-জ্বি, জ্বী। খুব ভালই বুঝেছি। যতই বলুন শিল্পের জন্য, নারী আসলে বাজারের পন্য। বানিজ্যিক ছবি, আর্ট ফিল্ম কিংবা গান…বাজার অর্থনীতিতে নারীর একই স্থান। তাকে জনগনের মনোরঞ্জনের জন্য খোলামেলা হতেই হয়।

আচ্ছা, এমন ছবি কি আপনারা বানাতে পারেন না যাতে নায়িকার কোন বৃষ্টিভেজা দৃশ্য নেই, নেই আবেগঘন/অন্তরংগ কোন চরিত্র? যাতে নারী কেবল পুরুষের চোখে  শয্যাসংগী প্রেমিকাই নয়, বরং আপাদ মস্তক একজন মানুষ। যার আবেগ আছে, অনুভুতি আছে, দু চোখে স্বপ্ন আছে, আছে সুন্দর পৃথিবী গড়ার অভিলাষ। এমন ছবি, যাতে নায়িকা মানুষের সামনে নাচবেনা, গাইবেনা, যে ছবিতে তথাকথিত প্রেম নেই, আছে নারীর স্নিগ্ধ, প্রশান্ত রুপ। যেখানে নারী রুপের ছটায় মুগ্ধ করেনা, মহীয়ান হয়ে উঠে তার কর্মে।

ওই যে বললেন, জীবনঘনিষ্ঠ ছবি। এটাওতো জীবনেরই একটা রুপ। তাহলে এরকম কোন জীবন ঘনিষ্ঠ ছবি হতে বাধা কোথায়?

-বাহ! মনে হচ্ছিল ফিলোসফির কোন ক্লাসে বসে আছি। তা এমন ছবির প্রডিউসারই বা পাব কোথায় আর হলে গিয়ে দেখবেই বা কে? এ সব সস্তা আবেগ নিয়ে ইমোশনাল হওয়া যায়, ছবি বানানো যায় না। ছবি বানাতে হলে দর্শক, বাস্তবতা অনেক কিছুই বুঝতে হয়। যাক গে, আমার কাজ আমাকে করতে দিন। যে জগত আপনার না, সেটা নিয়ে খুব বেশি মাথা না ঘামানোই ভাল।

এই কে আছিস, ভাইকে একটা ঠান্ডা খাওয়া!