প্রতারিতের প্রতারণা

Now Reading
প্রতারিতের প্রতারণা

মোনার ভার্জিনিটি কিংবা অতীতের কোনো ব্যাপার নিয়ে আমার কখনো কোনো মাথা ব্যথা ছিল না। আমি কেবল চেয়েছিলাম ও আমার কাছে আসার পর অন্তত আমাকে নিয়েই থাকুক।

মোনার সাথে আমার প্রথম পরিচয়টা হয়েছিল আমার ক্লাসমেট তপনের গার্লফ্রেন্ড হিসাবে। ওদের মাঝে খুব গভীর সম্পর্কই ছিল একটা সময়। একাধিকবার সেটা একই বিছানা পর্যন্তও গড়িয়েছে। আমি সবই জানতাম। ওদের মাঝে কখনো ঝগড়া হলে সেটা আমাকেই মিটিয়ে দিতে হতো। তপন কখনো রাগ করলে মোনা আমাকে ফোন দিয়ে জ্বালাতো ওর রাগ ভাঙিয়ে দেওয়ার জন্য। এভাবে মোনার সাথে আমার একটা ভালো বুঝা পড়াও তৈরি হয়েছিল। অনেকটা ভালো বন্ধুর মত সম্পর্ক। তবে আমরা একে অপরকে শ্রদ্ধার চোখেই দেখতাম। আমি তপনকে বন্ধু বলে সম্বোবন করিনি কারণ ও পরবর্তীতে যা করেছে তারপর তাকে আর বন্ধু বলতে ইচ্ছা হয় না। ও একটা সময় মোনার সাথে প্রতারণা করে অন্য একটা মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। মোনা অনেক অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছিল। প্রায়শই আমাকে ফোন দিয়ে কাঁদতো। আমি মোনাকে বলেছিলাম তপনের জন্য আর কষ্ট না পেয়ে তোমাকে সত্যিকারভাবেই ভালোবাসবে এমন কাউকে তোমার সঙ্গী বানিয়ে নাও। কিন্তু ও অন্য কোনোদিকে আর মনযোগ দিতে পারছিল না। এর এক মাসের মাথাতে তপন ওর নতুন প্রেমিকার কাছে প্রতারিত হয়ে আবার মোনার কাছে ফিরে আসতে চেয়েছিল কিন্তু মোনা এক্সেপ্ট করেনি আর ওর মত প্রতারককে। একটা সময় মোনা নতুন আরেকটা সম্পর্কে জড়িয়ে যায় কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেখান থেকেও প্রতারিত হয়। মোনার সেই সম্পর্কটাও বিছানা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এবার মোনা আমাকে বলছিল যে সে ছেলেদের উপর থেকে পুরোপুরি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। আমার নিজেরও আসলে বলার কিছু ছিল না। সত্যিকারভাবে ভালোবেসেও এভাবে যখন দুইজনের কাছে প্রতারিত হয় তখন আসলে আমি ছেলেদের পক্ষ নিয়ে আর কিছু বলতে পারি না। এসবের পর থেকে মোনা কেবল আমার সাথেই মাঝে মাঝে কথা বলতো। কিছুদিনের মাঝে ও আমাকে ওর জীবন সঙ্গী বানানোর প্রস্তাবও দেয়। আমি না করতে পারিনি। আমিতো জানতাম আমি কেমন। আমার মাঝে যে খারাপ কিংবা প্রতারণা করার কোনো মানসিকতা ছিল না তাতো আমিই ভালো জানতাম। এদিকে মোনা পরপর দুই দুইজন ছেলের কাছে মারাত্মকভাবে প্রতারিত। আমি আর চাইছিলাম না ছেলেদের নিয়ে ওর মাঝে কোনো বাজে ধারণা তৈরি হোক। তাছাড়া ও নিজেও মেয়ে হিসাবে অনেক ভালো ছিল। সব মিলিয়ে আমি ওকে না করতে পারিনি। তবে কেবল কয়েকটা কথা বলেছিলাম, “মোনা আমি তোমার সকল অতীত জানি। তুমি যে ভার্জিন না সেটাও জানি। কিন্তু আমি তোমাকে গ্রহণ করবো ভার্জিন ভেবেই। আমার কেবল অনুরোধ এই ভার্জিনিটা কখনো নষ্ট করো না। তোমার অতীত নিয়ে আমি কখনো তোমায় ছোট করবো না। কেবল আমার কাছে আসার পর এমন কিছু করো না যা আমাকে কষ্ট দিবে, প্রশ্নবিদ্ধ করবে তোমার সততাকে, তোমার সতীত্বকে।”

মোনা আমার কথা মেনে নিয়েছিল কোনো দ্বিধা ছাড়াই। না মানারও কোনো কারণ ছিল না। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়েছিল। কেননা আমি ওকে যথেষ্ট সৎ হিসাবেই দেখেছি।
সম্পর্ক আমাদের ভালোই চলছিল। আমার বাসা ছিল উত্তরাতে, আর মোনার বারিধারায়। ফ্রি থাকলে প্রায়শই দুজনে ঘুরতে বেরুতাম। ভালোই চলছিল সব মিলিয়ে। একদিন আমি সারাদিন ফ্রি ছিলাম। মোনাকে আগেরদিন বলে রেখেছিলাম যে ও ফ্রি থাকলে যেন সারাদিন আমার সাথে থাকে। ওকে নিয়ে ঘুরবো কোথাও অনেক। ও বলেছিল ফ্রি থাকবে এবং ঘুরবে আমার সাথে। হুট করে সেদিন সকালে আমাকে জানালো ওর নাকি বারোটা থেকে একদম বিকাল পর্যন্ত ক্লাস। আগেরদিন নাকি রুটিন দেখতে ভুল হয়েছিল। কী আর করার, ঘোরাঘুরির জন্যেতো আর ক্লাস মিস দেওয়া যায় না। ও নিজে মিস দিতে চাইলেও আমি দিতে দিতাম না। কিন্তু তাতে কী? মনতো খারাপ হয়েছিল ঠিকই। সারাটাদিন বাসাতেই কাটিয়ে দিব বলে মনস্থির করে বসে ছিলাম। দুপুরের দিকে হঠাৎ আমার বেস্ট ফ্রেন্ড অর্ণব ফোন দিয়ে বলে, “দোস্ত, আজতো সারাদিন ফ্রিই আছি আমরা। চল ঢাকার ভেতরেই কোথাও ঘুরে আসি।”

আমি একা একা বোর ফিল করছিলাম বলে রাজী হয়ে যাই।” ওর বাইকে করে আমাকে বাসা থেকে পিক করে নিয়ে যায় ও। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মিরপুরের দিকে কোথাও ঘুরবো। মিরপুরে পৌঁছে প্রথমে বললো যে চল কিছু খেয়ে নিই। খাওয়ার জন্য একটা ফাস্টফুডে ঢুকি। ঢুকার কিছক্ষণ পরেই মূলত আমি প্রথম শকটা খাই। দেখলাম যে মোনা একটা ছেলের হাত ধরে সেই ফাস্টফুডেই ঢুকলো। গিয়ে বসেছিল অন্য পাশের এক কোণায়। আমাদের খেয়াল করেনি। আমার ভেতরটা পাথরের মত হয়ে গিয়েছিল। আমি কিছু ভাবতে পারছিলাম না। এক পলকে কেবল সেদিকে তাকিয়ে ছিলাম। আর অর্ণবও বিষয়টা দেখতে পেয়ে শকড হয়েছিল। আমরা যা খেতে শুরু করেছিলাম তা সেখানেই সমাপ্ত হয়ে যায়। আমার পক্ষে আর কিছু ভেতরে ঢুকানো সম্ভব ছিল না। কী কারণে যেন অর্ণবও আর কিছু মুখে নেয়নি। হতে পারে পরিস্থিতির বিবেচনায়। ও বারবার বলছিল আমাদের উঠে চলে যাওয়া উচিৎ। কিন্তু কেন যেন আমার মুখ থেকে কোনো কথা বেরুচ্ছিল না। আমি কেবলই এক পলক চেয়ে ছিলাম মোনার দিকে। আমার বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হচ্ছিল না। বারবার প্রার্থনা করছিলাম যেন আমার এ দেখা ভুল হয়। এভাবে আধঘন্টা কাটানোর পর হঠাৎ দেখলাম মোনা আর সেই ছেলেটি উঠলো এবং বেরুলো। আমিও একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে পিছে পিছেই বের হলাম। মোনা সেই ছেলেটির হাত এমনভাবে ধরে হাটছিল যে দেখতে পাচ্ছিলাম সেটি মোনার বিশেষ কোনো জায়গায় গিয়ে বারবার লাগছিল। এরপর তারা একটা রিকশায় উঠলো। মোনা ছেলেটির বামপাশে বসলো যেভাবে আমিও ওকে সবসময় আমার বামপাশে বসাতাম। রিকশার প্যাডেলে চাপ পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মোনা রিকশাচালকে বললো হুড উঠিয়ে দিতে। এরপর রিকশা চলতে শুরু করলো। আমি দেখতে পেলাম ছেলেটির একটি হাত মোনাকে পেছন দিক দিয়ে পেচিয়ে ধরে সেটা এমন জায়গায় গিয়ে স্থির হলো যেখানে আসলে হওয়ার কথা নয়।

হঠাৎ পাশ থেকে শোনলাম অর্ণব কাউকে ফোন দিয়ে আমরা যেখানে ছিলাম সেখানে আসতে বলছে। এরপর আবার ফাস্টফুডটাতে ঢুকলাম। মিনিট বিশেক বসার পর অর্ণবের এক বন্ধু আসলো, আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল নাম আফসান। অর্ণব তিনটা সফট ড্রিংক অর্ডার করলো। আমি খেতে চাইলাম না। কিন্তু অর্ণব চোখ পাকিয়ে কিছু একটা ইশারা করায় অল্প একটু খাওয়ার চেষ্টা করলাম। আমারটা অর্ধেকের বেশি খালি থাকতেই ওরা শেষ করে ফেললো। এরপর অর্ণব বললো চল উঠি। বাইরে বের হয়ে অর্ণব ওর ফ্রেন্ডকে বললো বাইকটা নিয়ে একদিনের জন্য তার কাছে রাখতে। আমি কিছুই বুঝছিলাম না আবার জিজ্ঞেসও করতে ইচ্ছা করছিল না। অর্ণব তাকে আরো কিছু বলার পর অর্ণবের বন্ধুটি বাইক নিয়ে চলে গেলো। এরপর অর্ণব একটি সিএনজি ডেকে একদম উত্তরা পর্যন্ত ঠিক করলো। সিএনজিতে উঠার পর আমাকে বললো, ” তর এই মানসিক অবস্থায় তোকে বাইকের পেছনে বসিয়ে নিয়ে যাওয়ার সাহস হচ্ছিল না। তাই সিএনজি নিলাম।”

আমি অর্ণবের এমন ভাবনায় অনেকটা অবাক হলেও কিছু বলিনি। কী বলবো? আমি যে একরকম অনুভূতি শূণ্য হয়ে পড়েছিলাম তখন। আসার পথে কোনো কথা হয়নি আমাদের। যে অর্ণব একটা মুহূর্ত চুপ থাকতো না সেই অর্ণব সিএনজিতে বসে সেদিন একটা কথাও আর বলেনি আমার সাথে। এর মাঝেই ও মোনাকে একবার ফোন দিয়েছিল। লাউডস্পিকারেই বলেছিল কথাগুলো। কথোপকথনটা ছিল অনেকটা এরকম-

“হ্যালো মোনা, আমি অর্ণব বলছি।”
“জ্বি বলেন ভাইয়া।”
“তুমি আর কখনো প্রলুকে ফোন দিও না। এমনকি তার সামনেও এসো না।”
“হঠাৎ এ কথা বলছেন কেন? কী হলো? আচ্ছা যাই হোক, আমার এখনি একটা ক্লাস শুরু হবে, আমি ক্লাস শেষে ফোন দিব আপনাকে।”
“এখন আবার কোন ক্লাস? একটু আগে না মিরপুরে একটা ফাস্টফুডে বসে ভুজনের একটা ক্লাস করলে, তারপর সেখান থেকে বের হয়ে রিকশায় হুড তুলে না আরেকটা ক্লাস করলে ভ্রমনানন্দের? এখন কোন ক্লাস আবার শুরু হচ্ছে এটা? শারীরিক শিক্ষা ক্লাস?”

অর্ণব এটুকু বলতেই মোনা কেটে দিয়েছিল। এবারও কেমন যেন এক অদ্ভুত কারণে আমার মাঝে কোনো অনুভূতি হচ্ছিল না। অর্ণবও আর কিছু বলছিল না আমাকে। সিএনজি উত্তরায় প্রবেশ করার পর অর্ণব হঠাৎ ড্রাইভারকে বললো দিয়া বাড়ি নিয়ে যেতে। আমি এবারও অবাক হলেও আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। দিয়া বাড়ি যাওয়ার পর অর্ণব আমাকে একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বসালো। কিছুক্ষণ পর ও আমাকে বলতে শুরু করলো, “একজন প্রতারকের জন্য নিজেকে কখনো কষ্ট দিস না। একজন বেইমান কৃতঘ্নের জন্য নিজেকে কখনো কষ্ট দিস না। যে মানুষটা তোকে কষ্ট দিতে কষ্ট পেলোনা তার জন্য নিজেকে কখনো কষ্ট দিস না। আমি জানি তোর ভেতরটা পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে, অসহ্য রকমের কষ্ট হচ্ছে। তবে এ কষ্টটুকু ছাড়া তুই নিজে নিজেকে আলাদা কোনো কষ্ট দিস না, নিজের কোনো ক্ষতি করিস না। তপন মোনার সাথে প্রতারণা করার পর যে কথাগুলো তুই মোনাকে বুঝিয়েছিলি সেসব তুই নিজেকে বুঝা।”

অর্ণবের কথা চলার মাঝেই খেয়াল করলাম আকাশটা কালো অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে। এখনো সন্ধ্যা হতে আরো ঘন্টাখানেক বাকি, তারমানে বৃষ্টি হবে।
অর্ণব আবার আমাকে বলতে শুরু করলো, “এই যে দেখছিস পরিষ্কার আকাশটা হঠাৎ কালো হয়ে গেলো, এটাকে তুই তোর নিজের সাথে তুলনা কর। মনে কর আকাশটা গভীর কোনো কষ্টে হঠাৎ কালো হয়ে গেছে যেমনটা তর আনন্দঘন মনটা হঠাৎ করে মোনার প্রতারণায় দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে কালো হয়ে গেছে। আকাশটা কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি ঝরিয়ে তার সেই গভীর কষ্টটাকে ঝেড়ে ফেলে আবার পরিষ্কার হয়ে যাবে। ঠিক তেমনিভাবে তুইও বৃষ্টির সাথে কেঁদে কেঁদে তর দুঃখটাকে ঝেড়ে ফেলে নিজের ভেতরটা আবার পরিষ্কার করে ফেলবি। প্রয়োজনে মাঝে মাঝে চিৎকার করবি জোরে জোরে যেমনটা আকাশ মাঝে মাঝে করে বজ্রপাত ঘটিয়ে।”

অর্ণবের কথা শেষ হতে না হতেই বৃষ্টির ফোটা পড়তে শুরু করলো। এবার অর্ণব আমায় উচ্চস্বরে বলতে শুরু করলো, “প্রস্তুতি নে প্রলু, কাঁদার প্রস্তুতি নে! অনেক জোরে জোরে কাঁদার প্রস্তুতি নে। দেখিস, তর ভেতরটা হালকা হয়ে যাবে, অনেক হালকা হয়ে যাবে।”

বৃষ্টি আসতে শুরু করায় আশপাশের লোকজন চলে গিয়েছিল। পুরো এলাকাটা তখন খালিই বলা চলে। দূরে দেখতে পাচ্ছিলাম কয়েকটা ছেলে উল্লাসে বৃষ্টিতে ভিজতে শুরু করেছে। আমি চোখটা বন্ধ করলাম। কল্পনা করলাম আজকের দেখা দৃশ্যগুলো। কাঁদার চেষ্টা করলাম। চলে আসলো কান্না। বৃষ্টির তীব্রতার সাথে সাথে আমার কান্নার তীব্রতাও বেড়ে চললো। এক পর্যায়ে অনেক জোরে জোরে চিৎকার করেও কাঁদলাম। অনেক কাঁদলাম, অনেক!

এরপর সেদিন কাকভেজা হয়ে যখন বাসায় ফিরি তখন সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত হয়ে গিয়েছিল। অর্ণবও আমার সাথে এসেছিল সেদিন আমাদের বাসায়। যে অর্ণবকে অনেক জোরাজুরি করেও বাসায় রাতে রাখা যেত না সে অর্ণব সেদিন নিজে থেকেই থেকেছিল রাতে। আমার ভেতরটা সত্যিই অনেক হালকা লেগেছিল সেদিন। অনেক কান্নার পর মনে হয়ছিল অনেক বড় একটা বোঝা নেমে গেছে দেহ থেকে। রাতে তাড়াতাড়িই ঘুমিয়েছি। সকালে যখন উঠি তখন অনেক তরতাজা মনে হচ্ছিল। ক্লাস ছিল, অর্ণব তার সাথে করেই আমাকে ক্লাসে নিয়ে গিয়েছে। পুরো একটা দিনের মাঝেই আমাকে অর্ণব সেই আগের মত বানিয়ে ফেলেছিল।

অর্ণবের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এখনো মনে হলে ভয়ে চুপসে উঠি যে সেদিন যদি অর্ণব না থাকতো তবে কী হতো আমার? আসলে বন্ধুদের চেয়ে আপন কেউ হয় না। আবার সবার ভাগ্যে এমন বন্ধুও জোটে না।

ও হ্যাঁ, মোনার কী হয়েছিল এরপর জানতে ইচ্ছা করছে? আসলে আমি ওর আর কোনো খবরই রাখিনি। ও নিজেও আমাকে কখনো ফোন দেয়নি, হয়তো অর্ণব ওকে অনেক কিছু বলে দিয়েছে পরে আরো। ফোন দেওয়ার সাহস করে উঠতে পারেনি হয়তো। ওর ব্যাপারে কখনো আমার কিছু জানতেও ইচ্ছা হয়নি। একদিন অনেক দূর থেকে ওকে চোখে পড়েছিল, আমি সাথে সাথেই দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়েছিলাম। মাঝে মাঝে ভালো মানুষের মত বলতে ইচ্ছা করে, “ও যেখানেই থাকুক, যেভাবেই থাকুক, ভালো থাকুক।” কিন্তু ইচ্ছা করলেই যে সব হয় না। আমি পারি না ওভাবে বলতে। আবার ওর জন্য কোনো খারাপ প্রার্থনাও করি না। তবে আমি জানি, ও ওর কৃতকর্মের প্রাপ্য শাস্তি কখনো পেয়েছে এটা শুনলে আমার অনেক আনন্দ হবে। অনেক!!! এবং আমি এও জানি, এই আনন্দটা একদিন আমি পাবোই। কারণ, Law of Nature বলে যে একটা ব্যাপার আছে!

ফেসবুকে লেখক: Rihanoor Protik