3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

পৃথিবীর প্রথম মার্ডার কেস!

Now Reading
পৃথিবীর প্রথম মার্ডার কেস!

মানুষ সব সময় জানতে চায় অনেক পূর্বে তাদের পূর্ব পুরুষ রা কেমন ছিল, কি খেত, কিভাবে থাকত। অতীত কালে মানুষের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হত। সেই সংরক্ষিত মৃত দেহকে বলা হয় মমি। তবে অনেক সময় প্রাকৃতিক ভাবেও কোন কোন মৃত দেহ সংরক্ষিত হয় হাজার হাজার বছর। এগুলোকে ও বলা হয় মমি। মমি নিয়ে মানুষ এর আগ্রহের শেষ নেই।

মমি সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত মিশরের পিরামিড। কিন্তু পৃথিবীর প্রাচীন তম প্রাকৃতিক মমি টি কিন্তু পাওয়া গিয়েছে অস্ট্রিয়া ও ইতালির সীমান্তে অবস্থিত আল্পস পর্বত মালার বরফের মধ্যে।আর যখন জানা যায় মমিটিকে খুন করা হয়েছিল তখন থেকেই শুরু হয় পৃথিবীর প্রথম মার্ডার কেস!
১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আল্পস পর্বতমালায় এক পর্যটক দম্পতির সর্ব প্রথম চোখে পরে এই মমি টি। তবে প্রথমে এই মমিটিকে মনে করা হয়েছিল সাধারণ এক পর্যটকের লাশ। এজন্য এটিকে বরফের মধ্য থেকে বের করার সময় সাবধানতা অবলম্বন না করায় হারিয়ে যায় অনেক ঐতিহাসিক সূত্র। যা নিয়ে গবেষক দের আফসোসের সীমা নেই।

57ea8e751b00007f08ef28b0.jpeg

গবেষণার পর জানা যায় এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন তম মমি। এখন থেকে ৫৩০০ বছর আগে সে বেচে ছিল। সবচেয়ে পুরানো অর্থাৎ ৫৩০০ বছর আগের রক্ত কোষ পাওয়া গিয়েছে এই মমির শরীরে। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৪৫ বছর বয়স। ওজন ছিল প্রায় ৫০ কেজি এবং উচ্চতা ছিল প্রায় ৫ফুট ৩ ইঞ্চি। বর্তমান ইউরোপিয়ান দের মতই ছিল তার মুখমণ্ডল।
বিজ্ঞানী রা এর নাম দিয়েছে হোমো টাইরলিয়ান। কিন্তু আল্পস পর্বতে পাওয়া গিয়েছে বলে সবাই একে আদর করে ডাকে ইটজি বা Otzi.

কিভাবে খুন হয়েছিল ইটজি?

 

ইটজি র কিভাবে মৃত্যু হয়েছিল তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। গবেষক দের মতে , তাকে খুন করা হয়েছিল। সে মারা যায় প্রতিপক্ষের এলাকায়। তার পাশে থাকা তীরের মাথা এবং তার গায়ে লেগে থাকা রক্তে অন্য মানুষ এর রক্ত পাওয়া গিয়েছে। ইটজি ছাড়াও আরও চারজন মানুষের রক্ত ছিল সেখানে।
তার ক্ষত দেখে বোঝা যায় সে হাতা হাতি লড়াইয়েও জড়িয়ে গিয়েছিল। তবে তার খুনি খুব সহজে তাকে খুন করতে পারে নি। সে নিজে দুজন ব্যক্তির গায়ে তীর ঢুকিয়েছিল এবং বের করেছিল।তার ছুড়িতে পাওয়া গিয়েছিল অন্য ব্যক্তিদের রক্ত। পরে তার শরীরে প্রতিপক্ষের  তীর লাগে এবং এভাবেই তার মৃত্যু হয়।
হয়ত খুনিটি তার বন্ধু বেশে শত্রু ছিল। অথবা প্রতিপক্ষের এলাকায় ঢুকে পরাই তার ভাগ্যে কাল হয়ে দেখা দেয়।
তার পাকস্থলী পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে মৃত্যুর ঘণ্টা দুয়েক আগে ইটজি তার শেষ খাবার খেয়েছিল। মৃত্যুর সময় ইটজি অসুস্থ ছিল। তার নখ পরীক্ষা করে জানা যায় মৃত্যুর চার মাস আগে থেকে সে কঠিন অসুখে ভুগছিল।

পৃথিবীর প্রাচীন তম ট্যাটু 

তার শরীর পাওয়া গিয়েছে ৬১ টা ট্যাটু। এটাই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরানো ট্যাটু। এই ট্যাটু গুলো কিন্তু সুই দিয়ে করা হয় নি। চামড়া কেটে তারপর কয়লা দিয়ে পোড়ান হয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয়  হচ্ছে, ট্যাটু গুলো এমন জায়গায় আকা যেসকল স্থানে মানুষের ব্যথা বেশি হয়, অর্থাৎ হাড়ের জয়েন্ট গুলোর উপরে। এই উল্কিগুলো আকুপাংচার পয়েন্ট চিহ্নিত করছে। বোঝা যাচ্ছে সে সময় ইটজিকে বিভিন্ন প্রকার চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি নতুন আবিষ্কার। অতি প্রাচীনকাল থেকেই আকুপাংচার চিকিৎসা চালু ছিল তা বিজ্ঞানীরা জানত। কিন্তু তা যে আরও ২০০০ বছরের পুরনো তা জানতে পারল এই মমিটি আবিষ্কারের পর।

তার পোশাকের টুকর গুলোতে বাদামী কালো কিছু চুল পাওয়া যায়। যা সাড়ে ৩ ইঞ্চির মত লম্বা। যা দেখে ধারনা করা হয় সেসময় চুল কাটার প্রচলন ছিল।

তার মৃত দেহের সাথে পাওয়া গিয়েছে পশমি তূন। যা সারা বিশ্বে নিউথিলিক যুগের একমাত্র পশমি তুন। একই ধরনের তীর এখনও প্রচলিত আছে। এছাড়াও ইটজির সাথে ছিল খুবই সাজান একটি ব্যাগ। যাতে ছিল আগুন জ্বালানোর যন্ত্র, খাবার, এবং বিভিন্ন শক্তিশালী লতা-পাতার সমন্বয়ে গঠিত একটি ফার্স্ট এইড কিট! তার এই সাজানো ব্যাগ বিজ্ঞানীদের খুবই আশ্চর্য করেছে। কারণ তার এই সাজানো ব্যাগ দেখে আপনি তাকে কোন অশিক্ষিত কৃষকের সাথে তুলনা করতে পারবেন না , বরং তাকে আপনি একজন প্রশিক্ষিত যোদ্ধা বা পর্বতারোহীর সাথে তুলনা করতে পারবেন। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগের লোক গুলো আমাদের ধারনার থেকেও বেশি উন্নত ছিল।

উদ্ধারের সময় তার পরনের পোশাকটি প্রায় ছিঁড়ে গিয়েছিল। তবে যতটুকু উদ্ধার করা গিয়েছে তাতে বোঝা যায় তার পরনের পোশাকটি ছিল খুব মজবুত। যা দিয়ে আল্পস পর্বতের ঠাণ্ডা থেকে খুব সহজেই নিজেদেরকে রক্ষা করত তারা। তার আলখাল্লা টি ছিল হাঁটু পর্যন্ত লম্বা। তৈরি করা হয়েছিল হরিণ ও ছাগলের পশম ও চামড়া থেকে। জামাটিতে চামড়ার তিনটি পরত ছিল। তার জুতাটিও ছিল চামড়ার তৈরি। গরম রাখার জন্য তার ভিতরে দেওয়া ছিল ঘাস।আর ছিল একটি চামড়ার তৈরি টুপি।

72519.adapt.885.1.jpg

ইটজি কেমন ছিল?(এক মডেলের ছবি) 

মিশরের মমির মত, ইটজিকে নিয়েও তৈরি হয়েছে কিছু রহস্যময় ঘটনা। অনেকেই মনে করেন অন্য মমির মত এই মমিটি ও অভিশপ্ত ।প্রায় পাঁচটি মৃত্যুর সাথে জড়িয়ে আছে মমির অভিশাপ। ইটজি কে প্রথম স্পর্শকারীদের একজন হচ্ছেন ফরেনসিক মেডিক রাইনার হেন, যিনি ইটজি কে নিয়ে একটি লেকচার দিয়ে যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার উদ্ধার কাজের ছবি তোলা এক সাংবাদিক ক্যান্সারে মারা যান। এমন কি যিনি প্রথম ইটজি কে দেখেছিলেন তিনিও সে আল্পস পর্বতের খারাপ আবহাওয়ায় পড়ে মারা যান। একজন গাইড যে মমিটি প্লেন এ উঠিয়েছিল সে মারা যায় পাহারের বরফ ধসে।

ঘটনা গুলো কতটুকু ইটজির সাথে জড়িত, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও , রহস্যময় ইটজি এখন সবচেয়ে প্রাচীন যুগের প্রতিনিধি হিসেবে বিজ্ঞানীদের অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়ে যাচ্ছে।

 

 

মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রা

Now Reading
মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রা

রাণী সপ্তম ক্লিওপেট্রা ছিলেন মিশরের সর্বশেষ রাণী এবং ফারাওদের শেষ সদস্য। তিনি ছিলেন রূপেগুনে অনন্যা । তাঁর রূপের আলোচনা শুধু যে মিশরেই সীমাবদ্ধ ছিলো তা কিন্তু না।  তাঁর সৌন্দর্যের আলোচনা ছিলপুরো আফ্রিকা আর ইউরোপ জুড়ে। ক্লিওপেট্রা’র পুরো নাম “সপ্তম ক্লিওপেট্রা ফিলোপাটর”। মিশরীয় হলেও  তিনি ছিলেন গ্রীক বংশভূত প্রাচীন মিশরের টলেমি বংশের সদস্য। গ্রেট আলেক্সান্ড্রিয়া’র মৃত্যুর পরে তারেক সেনাপতি রাজ্যের দায়ীত্বভারগ্রহণ করেন এবং টলেমি বংশ স্থাপন করেন। তিনি খ্রীষ্টপূর্বাব্দ ৬৯-৭০ সালে মিশরের আলেক্সান্ড্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।তার মাতার নাম “পঞ্চম ক্লিওপেট্রা” এবং তার পিতা ছিলেন “দ্বাদশ টলেমি অলেটেস”। খ্রীষ্টপূর্বাব্দ ৫১ সালে তার পিতা দ্বাদশ টলেমি অলেটেস’র স্বাভাবিক মৃত্যুর পরে মাত্র ১৮ বছর বয়সী সুন্দরী ও সুশিক্ষিত ক্লিওপেট্রা  এবং তার ১১বছর বয়সী ভাই  “১৩তম টলেমি” রাজ্য পরিচালোনার দায়ীত্ব পান। তার রাজ্য চলাকালীন সময়ে মিসরেপ্রাচীন মিশরীয় ভাষার পাশাপাশি  গ্রীক ভাষারও প্রচলন লক্ষ করা যায়। তিনি নিজেও বেশ কয়েকটি ভাষায় কতাহ বলতে পারতেন। পরে তিনি রোমের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করে তার রাজ্যের প্রভআব বিস্তার করেন। এবং তখনকার রোম সেনাপতি “জুলিয়াস সীজার” এর সাথে মিলে  তার ভাইকে হটিয়ে তার একার রাজত্ব কায়েম করেন। এর মাধ্যমে রোম এবং মিসর মিলে এক বিশাল শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই দুই সম্রাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে জুলিয়াস সীজার বেশ কয়েকবারই মিসরে যাতায়াত করেন এবং জুলিয়াস সীজার এবং ক্লিওপেট্রা’র মধ্যে একটা প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়। কিছুকাল অতিবাহিত হওয়ার পরে তা আরো ঘনিষ্ট হতে থাকে । কিন্তু তাদের এই সম্পর্কের কথা যখন পুরো রোম এবং মিশরে ছড়িয়ে পরে তখন রোমান সিনেট সদস্যদের কাছে এটা মোটেও ভালো মনে হচ্ছিল না। সিনেট সদস্যরা তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সফল হন নি। একসময় জুলিয়াস সীজার আনুষ্ঠানিক ভাবে মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রা কে বিয়ে করার ঘোষণা দেন।আর এতে পুরো ইউরোপ এবং আফ্রিকা জুড়ে আলোড়ন ছড়িয়ে পরে। জুলিয়াস সীজার তার কথামত মিসরের আলেক্সান্ড্রিয়ায় রাণী ক্লিওপেট্রা’র রাজমহলে রাণী ক্লিওপেট্রাকে বিয়ে করেন।এতে রোমান সিনেট সদস্যরা ব্যাপক সমালোচনায় লিপ্ত হন। রাণী ল্কিওপেটড়া যখন অন্তঃসত্ত্বা তখন সম্রাটজুলিয়াস সীজার আবার রোমে ফিরে আসেন। এবং তার শাসন কার্যক্রম যথাযথ পরিচালনা করতে থাকেন। কিছুদিন পরেই  জুলিয়াস সীজার আর রাণী ক্লিওপেট্রা’র ঘরে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। জুলিয়াস সীজারের নাম অনুসারেতার সন্তানের নাম রাখা হয় ”সীজারিওন”। পুত্রসন্তানের সংবাদে খুশিতে আত্মহারা হরেন পরেন  জুলিয়াস সীজার। এভাবেই কেটে যায় বেশ কয়েকটি বছর। সীজারিওন এখন ৮ বছরের বালক।ভবিষ্যৎ মিশরের সম্রাট।  জুলিয়াস সীজার তার স্ত্রী রাণী ক্লিওপেট্রা এবং তাদের একমাত্র পুত্র সীজারিওনকে  রোমে আসার আমন্ত্রণ জানান। রাণী ক্লিওপেট্রাও তার নিমন্ত্রনকে স্বাদরে গ্রহণ করেন। এবং তার প্রমোদতরী নিয়ে রোমের দিকে যাত্রা শুরু করেন।  সে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে রাণী ক্লিওপেট্রা এবং রাজপুত্র সীজারিওনকে বরণ করা হয়। বলা হয় এমন জমকালো আয়োজন আগে কখনো রোমানরা দেখেনি। আর এটাই সিনেট সদস্য আর আবাকি রাণীদের চোখের কাল হয়ে যায়। জুলিয়াস সীজার এখন শুধুই তার প্রিয়তমা স্ত্রী আর পুত্রকে নিয়ে ব্যস্ত। আর তার পিঠপিছে চলছে  জুলিয়াস সীজার কে হত্যার পরিকল্পনা। জুলিয়াস সীজারকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তারই ভাতিজা এবং সিনেট সদস্যরা। জুলিয়াস সীজারের খুব কাছের লোক ছিলেন সেনাপতি মার্ক এন্টোনি। যিনি সবসময়ই  জুলিয়াস সীজারের সাথেই থাকতেন এবং সম্রাটের অনুপস্থিতিতে রাজ্য পরিচালনা করতেন। কিছুদিন পরেই খবর আসে সিনেট সদস্যরা সম্রাট জুলিয়াস সীজারকে বিশেষভাবে সম্মানী দিতে চান এবং তাকে সিনেটে আসার আমন্ত্রণ জানান।জুলিয়াস সীজার এতে বেশ খুশী হন এবং তার প্রিয়তমা স্ত্রী রাণী ক্লিওপেট্রা কে বলতে থাকেন যে, কাল সিনেট সদস্যরা আমাকে বিশেষ সমান প্রদান করবেন। এদিকে সিনেট সদস্যরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী যখন জুলিয়াস সীজার সিনেটে উপস্থিত হন তখনই  কোন একজন মার্ক এন্টোনিকে সরিয়ে নেন। আর সিনেট হলের ভেতরেই সিনেট সদস্যরা মিলে নির্মম ভাবে  হত্যা করে জুলিয়াস সীজারকে। এবং তারা তাদের আনন্দ উৎসব পালন করেন। ঐ রাতেই মার্ক এন্টোনির বিশেষ সহযোগীতায় রাণী ক্লিওপেট্রা আর তার সন্তান সীজারিওন রোম ত্যাগ করে তাদের জন্মভূমি মিশরে চলে যান।   এবং জুলিয়াস সীজারের ভালোবাসার অবসান হয়। বিদায়কালে মার্ক এন্টোনি রাণী ক্লিওপেট্রার প্রেমে পরে যান।

জুলিয়াস সীজারের ভাতিজার মৃত্যুর পরে মার্ক এন্টোনি সেনাপতির দায়িত্ব পান। দায়ীত্ব পাওয়ার সাথে সাথেই মার্ক এন্টোনি আবার রাণী ক্লিওপেট্রা কে রোমে আসার আমন্ত্রণ জানান এবং রাণী ক্লিওপেট্রা তার নিমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন। রোমান দূতকে আরো বলেন যে তিনি আর কখনোই রোমের মাটিতে পা রাখবেন না। তিনিও মনে মনে মার্ক এন্টোনিকে পছন্দ করতেন। পরে রাণী ক্লিওপেট্রা তার কথামত প্রমোদতরী নিয়ে রোমে যান ঠিকই কিন্তু তিনি তার প্রমোদতরী থেকে নামেন নি। ভূমধ্যসাগরে তার নৌকাতেই তিনি অবস্থান করেছেন এবং মার্ক এন্টোনিকে ডেকে পাঠিয়েছেন।এবং ভালোবাসার টানে মার্ক এন্টোনি সব ভুলে গিয়ে রাণী ক্লিওপেট্রার প্রমোদতরীতে যান রানীর সাথে দেখা করতে।নাচগান, ফুল-ফল আর নানান রকমের খাবারের মাধ্যমে রাণী ক্লিওপেট্রা তার নৌকায় মার্ক এন্টোনি কে স্বাগত জানান। “অবশেষে আপনি রোমে আসলেন” এমন কথার জবাবে রাণী ক্লিওপেট্রা মার্ক এন্টোনিকে আবার মনে করিয়ে দেন যে তিনি বলেছিলেন তিনি আর রোমের মাটীতে পা রাখবেন না। এবং নানা রকমের আলাপচারীতার মাধ্যমে তাদের মাঝে সম্পর্ক আরো গভীর হয়। মার্ক এন্টোনিও জুলিয়াস সীজারের মতন  মিশরে বেশকিছুদিন অবস্থান করেন। এবং তার মিশরে যাতায়াত বেড়ে যায়।এতে আবার সে সিনেট সদস্যরা ভ্রুকুন্ঠিত করে। এবং সিনেত দুটি দলে বভক্ত হয়। একদল মার্ক এন্টোনির পক্ষে আরেকদল বিপক্ষে। কিন্তু এসব  নিয়ে মোটেও মাথা ঘামান নি মার্ক এন্টোনি। তিনি এখন শুধু তার প্রিয়তমা রাণী ক্লিওপেট্রা কে নিয়েই ব্যস্ত।এদিকে মার্ক এন্টোনি যখন রোমে অবস্থান করেন তখন তাকে সরাসরি কেউ কিছু না বললেও তার পিঠপিছে কমবেশি সবাই আলোচনা করত। একসময় মার্ক এন্টোনি বেশকিছু সময়ই মিশরে অবস্থান করেছিলেন। এসময় সিনেটে তার বিপক্ষের একজন একটি হুইল প্রকাশ করেন যাতে লেখা ছিলো ” আমার মৃত্যুর পরে আমাকে মিশরের আলেক্সান্ড্রিয়ায় কবর দিও –মার্ক এন্টোনি” এমন খবর প্রকাশ পাওয়ায় আম্ররক এন্টোনির পক্ষের সিনেট সদস্যরাও তার বিপক্ষে অবস্থান করেন এবং মিশরের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করে যুদ্ধ ঘোষণা করে। দু পক্ষেরই এই যুদ্ধে সম্মতী ছিলো এবং পানিপথে রোম আর মিশরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধে মিশেরর হয়ে নিজ রাজ্যে রোমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন মার্ক এন্টোনি। এবং এই যুদ্ধে তাদের বেশিরভাগ রণতরী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মার্ক এন্টোনিও আহত হন। এতে করে ভীষণ ভাবে ভেঙ্গে পরেন মার্ক এন্টোনি এবং রাণী ক্লিওপেট্রা। তার কিছুদিন পরেই আবার রোমানরা স্থলপথে মিশর আক্রমণ করে। তখন পুরো ইউরোপে রোমানদের দাপট থাকায় তুলনামূলকভাবে মিশর কম শক্তিশালী ছিলো। সেই স্থলপথের আক্রমণেই মিশর রোমানদের কাছে তাদের পরাজয় স্বীকার করে। কিন্তু রাণী ক্লিওপেট্রা আর মার্ক এন্টোনি এখনো পরাজয় মেনে নেন নি। যদিও তারা পরাজয় নিশ্চিত জানত। তারা তাদের রাজমহলের সব সদস্যদের মুক্ত করে দেন এবং রাণী ক্লিওপেট্রার পুত্র সীজারিওনকে এক বিশ্বস্ত দাসীর সাথে দূরে কোথাও পাঠিয়ে দেন। কিন্তু শেষ রেহাই হয়নাই তার পুত্রের। রোমানদের কাছে প্রাণ হারায় মাত্র ১১ বছর বয়াসী সীজারিওন। যদিও তার মা রাণী ক্লিওপেট্রা আদৌ জানতে পারেন নি যে তার পুত্র আর জীবিত নেই।(বিশেজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী) হারের ক্ষোভে রাণী ক্লিওপেট্রার মহলেই আত্নহত্যা করেন মার্ক এন্টোনি।এবং তার ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে আর পরাজয়ের দুঃখে রাণী ক্লিওপেট্রা এবং তার দুই ঘনিষ্ঠ দাসী/সহযোগী মিশরীয় গোখরা সাপের দংশনে ১২ই আগস্ট ৩০ খৃষ্টপূর্বাব্দ একই মহলে পৃথক স্থানে আত্মহত্যা করেন কিংবদন্তী রূপসী নারী মহারাণী “ক্লিওপেট্রা”।আর এরই মাধ্যমে শেষ হয় ফারাওদের বংশ। কিন্তু তাদের সমাধি আজ পর্যন্ত কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনঃ নান্দনিক সৌন্দর্যের মসজিদ

Now Reading
বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনঃ নান্দনিক সৌন্দর্যের মসজিদ

বাংলাদেশের যে গৌরবময় অতীত রয়েছে তার প্রমান হচ্ছে আমাদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলো দ্বারা বুঝা যায় আমাদের দেশে কোন শাসকরা কোন সময়ে শাসন করেছেন, তাদের শিল্প কলার প্রতি ভালোবাসা কতটুকু ছিল, তাদের সৃষ্টি কর্ম কেমন ছিল তা বুঝা যায়। এর আগের দুটি পর্বে বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর বিভিন্ন নগর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে আপনাদের মাঝে তুলে ধরেছিলাম। এ পর্বে আমাদের দেশে যেসব মুসলিম শাসক ছিলেন তাদের সময়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ঐতিহাসিক মসজিদ গুলোর কথা আপনাদের কাছে তুলে ধরবো। বাংলাদেশ বা এই ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের ব্যাপক ভাবে আগমন ঘটে ১২০৬ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির লখনৌ দখলের পর থেকে। এর পর পারস্য থেকে বিভিন্ন মুসলিম শাসকগণ উপমহাদেশে আসা শুরু করেন। তখন থেকে উপমহাদেশে শুরু হয় ইসলামের ব্যাপক প্রসার। মুসলমানদের ইবাদাতের জন্য তৈরি করতে হয় অনেক মসজিদ। তাহলে শুরু করা যাক আমাদের দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশে গড়ে উঠা কিছু বিখ্যাত মসজিদ এর কথা।Shat-Gombuj-Masjid.jpg

ষাট গম্বুজ মসজিদঃ
ইউনেস্কো কর্তৃক বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলোর মাঝে সর্বপ্রথম বিশ্ব ঐতিহ্যের খেতাব প্রাপ্ত নিদর্শন হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ। ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশের দক্ষিন- পশ্চিমে অবস্থিত এই মসজিদটিকে ইউনেস্কো “World Heritage Sites” হিসেবে মর্যাদা দান করেন। ষাট গম্বুজ মসজিদটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। মসজিদটির গায়ে কোন রূপ শিলালিপি না থাকায় এটি কোন সময়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং কে নির্মাণ করেছেন সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি কিন্তু এর স্থাপত্য শৈলী দেখে বুঝা যায় যে এটি ১৫ শত খ্রিস্টাব্দের শুরুতে খান জাহান আলীর নির্মাণ করা স্থাপত্য। মসজিদটির নাম ষাট গম্বুজ মসজিদ হলেও এইখানে গম্বুজ এর সংখ্যা ৬০ টির বেশি তা আমরা কমবেশি সবাই জানি। এইখানে টি মিনারের গম্বুজ নিয়ে প্রায় ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে। ঐতিহাসিকগণ মনে করেন মসজিদের সামনের দিকে সাতটি সারিবদ্ধ গম্বুজ থাকার কারণে এর নাম সাত গম্বুজ মসজিদ এবং তা থেকে ষাট গম্বুজ মসজিদ নাম করন করা হয়েছে। মসজিদের ভিতরের দেয়ালে বিভিন্ন নান্দনিক টেরাকোটা নিদর্শনও রয়েছে যা মসজিদের ভিতরের সৌন্দর্যকে বর্ধিত করেছে।Choto-Sona-Mosjid-Top20170416132700.jpg

ছোট সোনা মসজিদঃ
“সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন” হিসেবে অ্যাখ্যায়িত বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদ হল ছোট সোনা মসজিদ। সুলতান আলাউদ্দিন শাহ এর শাসনামলে মনসুর ওয়ালী মুহাম্মদ বিন আলী নামে এক ব্যক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। এই মসজিদটির বয়স প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় এই মসজিদটি অবস্থিত। এই মসজিদের গঠন প্রকৃতি দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন এটি তৎকালীন সময়ে জেনানা মহল হিসেবে ব্যবহৃত হতো কিন্তু বেশির ভাগ প্রত্নতাত্ত্বিক গণ মনে করেন এটি সুলতানদের নিরাপদে নামাজ আদায়ের জন্য ব্যবহার করা হতো। এক সময় এই মসজিদের উপর সোনালী রঙ্গের আস্তরণ ছিল যা সূর্য ও চাঁদের আলোতে ঝলমল করতো।এই মসজিদের প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে দুটি আধুনিক কবর রয়েছে। কবর দুটির একজন বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের বীরশ্রেষ্ট ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর এবং অন্যটি মেজর নাজমুল হক টুলুর । তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে নবাবগঞ্জ শহরের নিকট পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হোন।Bagha-Mosque2.jpg

বাঘা মসজিদঃ
বাংলাদেশের ৫০টাকা নোটে স্থান প্রাপ্ত রাজশাহীতে অবস্থিত মসজিদটি হচ্ছে বাঘা মসজিদ। ১৫২৩ সালে সুলতান নুসরত শাহ এটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির ভিতরে আমগাছ,শাপলা ফুল সহ বিভিন্ন ফার্সি ভাষার কারুকাজ খোদাই করা আছে। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের সময় এই মসজিদের সামনে ৩ দিন ব্যাপী একটি “ বাঘার মেলা” বসে। মেলাটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো।kusumba.jpg

কুসুম্বা মসজিদঃ
বর্তমানের পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত প্রায় সাড়ে চারশত বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ। এটিও সুলতানি আমলের একটি পুরাকীর্তি। শূর বংশের শাসক গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহের আমলে সুলাইমান নামের ধর্মান্তরিত মুসলমান ব্যক্তি এই মসজিদটি ১৫৫৮-১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেন। প্রায় ৪৬০ বছরের এই মসজিদটিতে কিছুটা বাংলা স্থাপত্যের ছাপ রয়েছে।Star-Mosque.png

তারা মসজিদঃ
মুঘল স্থাপত্য শৈলীর আদলে গড়ে উঠা তারা মসজিদটি পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত রোডে অবস্থিত। ১৮ শতকের শেষের দিকে মির্জা গোলাম পীর বা মির্জা আহমদ জান নামে এক ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেন।মসজিদের গম্বুজে নীল রঙের তারা খচিত আছে। ১৯২৬ সালে এর সংস্কার কাজ করার সময় মসজিদটিতে জাপান থেকে নিয়ে আসা রঙিন মোজাইক ব্যবহার করা হয়েছে।17201209579_0c4fecd949_b.jpg

সাত গম্বুজ মসজিদঃ
সাত গম্বুজ মসজিদটি ঢাকার মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদ এলাকায় অবস্থিত। এই মসজিদটি মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ ১৬৮০ সালে নির্মাণ করেন। মসজিদটিতে চারটি মিনার ও তিনটি গম্বুজ রয়েছে এ কারণে মসজিদটির নাম সাত গম্বুজ মসজিদ নাম করণ করা হয়েছে।Atiya-Mosque-tangail-3.jpg

আতিয়া জামে মসজিদঃ
বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদের মধ্যে অন্যতম আতিয়া মসজিদ। ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এর শাসনামলে তার নিযুক্ত শাসন কর্তা সাঈদ খান পন্নী “বাবা আদম কাশ্মীরের” কবর এর সাথে আতিয়া মসজিদটি নির্মাণ করেন। বাবা আদম কাশ্মীর এই এলাকায় প্রথম ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আসেন তারই স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। টাঙাইল জেলায় অবস্থিত এই মসজিদটি বর্তমানে বাংলাদেশের ১০ টাকার ব্যাংক নোটে মুদ্রিত রয়েছে। এই মসজিদটিতে মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশে ১৫ শতকের দিকে গড়ে উঠা আরও অনেক ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে। প্রাক মুঘল সময়ে ঢাকায় নির্মিত বিনত বিবির মসজিদ, মুসা খান মসজিদ , চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর চামচিকা মসজিদ, রংপুরের লালদীঘি শাহী মসজিদ, নরসিংদী জেলার আশরাফপুর মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদ এর নির্মাণ শৈলী দেখে বুঝা যায় বাংলাদেশে যেসব মসজিদ রয়েছে সেসব মসজিদ নির্মাণ কালের শাসক গণ শিল্প কলার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর শেষ পর্বে বাংলাদেশে অবস্থিত মন্দির গুলোকে এর পর আপনাদের কাছে তুলে ধরব যার মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই জানতে পারব বাংলাদেশীরা যুগ যুগ ধরে শিল্প কলাকে ধারণ করে আসছে।