প্রেম কাহিনী – পর্ব ১ম

Now Reading
প্রেম কাহিনী – পর্ব ১ম

 

এটা কোনো গল্প না। এটা বাস্তব একটা ঘটনা।এটা আমার খুব খুব কাছের একটা ভাই এর  সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা ।ঘটনাটা বলার আগে বলে রাখা ভালো আমি এখানে কারো নাম উল্ল্যেখ করবো না।

যাই হোক মুল ঘটনাটা বলি.. আমি যখন ঢাকা থেকে ফিরে এলাম তখন চিন্তা ভাবনা চলছিল আমি কোথাই ভর্তি হব? অনেক চিন্তা ভাবনার পর অবশেষে ভর্তি হয়েই গেলাম কোনো এক কলেজে।তারপর প্রশ্ন হলো আমি থকাবো কোথাই?নিশ্চই থাকার জন্য কোনো ম্যাস চাই।অবশেষে আমার প্রাণের ভাইরুপকএর কথা মনে পড়লো।তখন ওর সাথে ওর ম্যাস এই উঠে পরলাম। রীতিমতো প্রায় জোর করেই উঠে পড়ার মতো | সব কিছুই যেন খুব তাড়াতাড়িই হয়ে যাচ্ছিলো । আমি যেটা চাচ্ছিলাম সাথে সাথেই যেন পেয়ে যাচ্ছিলাম।এরকমই ঘটছিল ঠিক আমার সাথে |

 তার আগে বলে রাখি রুপক কেমন স্বভাবের ছিলরুপক এমনি একটা ছেলে ছিল ,যে কাওকে কিছু বলতে চাইতোনা তার কোনো কোথায় ।এমনকি প্রথম প্রথম আমাকেও বলতোনা। যদি কখনো কষ্টও পেত,তখন সেটা ও নিজের ভিতরেই রেখে দিতো।কিন্তু শত কষ্ট থাকা সত্তেও সে সবার সাথে হাশি খুশি থাকতো।কাওকে কিছু বুঝতে দিতো না।এটা ছিল ওর প্রধান সমস্যা। আরে আমিতো  তোর ভাই  আমাকে আন্তত সব কিছু বল।কিন্তু বলতো না।পরে আস্তে আস্তে অবশ্য বলত, কিন্তু সব কথা না। আমরা ছিলাম এক রুমে ৩জন।আমি,রুপক আর এক ছোট ভাই নামশুভ্র।রুমটা খুব একটা বড় ছিলোনা তারপরেও শুভ্র অনেক ভালো ছিল যার কারণে আমাদের এক রুমে থাকতে তেমন কোনো অসুবিধাও হতো না |

যাই হোক রূপক একটা মেয়েকে খুব ভালোবাসতো | সেটা অবশ্য অনেক পরে জানতে পারি । যার নাম ছিল জুনি।জুনি খুব ভালো মেয়ে ছিলো | কিন্তু তার ছিলো অনেক রাগ।শত রাগ থাকলেও সে তার রুপক কে কিন্তু ভিশন ভালোবাসতো।একটু কথা না বললে কেউ থাকতে পারতনা।এভাবে চলতে থাকে তাদের প্রেম । হঠাৎ তাদের মাথাই একদিন চিন্তা আসলো যে তাদের দেখা করা উচিত।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ছেলে আর মেয়ে এক শহরে থাকতো না।মেয়ে থাকতো ঢাকা,আর আমরা থাকতাম খুলনা।দেখা করার জন্য অনেক টাকা দরকার।যাই হোক ভালোবাসার জন্যেই হইতো অনেক কষ্টে টাকা গুলো জোগাড় করা হলো।আমি আর আমার ভাই কিছু কেনাকাটা করলাম জুনির জন্য।তারপর টিকিট কাটা হলো,কিন্তু আমার একটা সমস্যার কারনে প্রিয় ভাই এর সাথে যেতে পারলাম না।ওদিকে জুনিও অনেক কিছুই কিনে রেখেছিল রুপক এর জন্যে।রুপক ঢাকা থেকে ফিরে এলো খুশি মনে।গিফট পেয়ে তো রুপক ভিষন খুশি।ওদিকে জুনিও ওনেক খুশি হয়েছে নাকি রুপক এর মুখেই শুনা। এভাবেই তাদের দিন চলতে লাগলো | এদিকে তাদের প্রেম দিন দিন যেন বাড়তেই আছে।মাঝে মাঝে তো তারা ভিষন রাগা রাগি করে।আবার ঠিক হয়েও যাই।আমিও মাঝে মাঝে একটু আকটু পিন মারতাম।আবার ওদের ঝগড়া ,যেনো খুব ভালই লাগতো।আমি সবসমই রুপক কে নাড়তাম ।ওরে না নাড়লে  আমার কিছুই ভালো লাগতো না । এখনো লাগেনা । যখনি রুপক জুনির সাথে কথা বলতো তখনি আমি চিল্লাইয়ে গান গাইতাম।যদিও আমি তেমন গাইতে পারিনা তবুও গাইতাম,ওই যে বললাম ওর নাড়াই  ছিল আমার কাজ। এভাবেই ওদের প্রেম চলতে লাগলো। আর এদিকে আমার শয়তানিও বাড়তে লাগলো।

এর অনেক দিন পর আমি ছুটিতে বাড়িতে গেলাম।যখন ফিরে এলাম তখন রুপক আগের মতই হাশি খুশি ছিলো । বিকেলে ২জন বাইরে বের হলাম একটা কাজের উদ্দেশ্য ।তখন হঠাৎ আমাকে আমার বউ ফোন দিল।যদিও বিয়ে করিনি তবুও সে আমার একমাত্র বউ ।তার নাম ছিল বৃষ্টি। ফোন ধরেই রাগা রাগি করলাম একটু।রাগা রাগির অবশ্য একটা কারণ ছিল |কথা শেষ করে ফোন রাখতেই দেখি রুপক আমাকে একটু বকলো ,তারপর আবার আমাকে বোঝালো যে ,আমি যেনো আর রাগা রাগি না করি।আমার মনে চিন্তা হতে লাগলো আজ রুপক এত এসব কেনো বলছে।ওরে ভালোভাবে জিজ্ঞাসা করতেই ও আমাকে যেটা শুনালো আমি মোটেও ওটা শুনার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না | রুপক আর আমার কথা গুলো ছিলো এরকম….

 “ভাই জুনির সাথে আমার আর কথা হবে নারে। সব শেষ হয়ে গেলো ভাই। আমি কি করবো এখন?”

 “কি হইছে খুলে বল আমকে | টেনশন হচ্ছে কিন্তু আমার।

ভাই কাল রাতে ওর সাথে কথা বলার পর ওর  রাতে আর ম্যাসেজ গুলো ডিলেট করতে খেয়াল ছিলো না।ওর ভাই সব দেখে ফেলেছে।ওরে খুব মেরেছে ভাই।ফোন কেড়ে নিয়েছে।কি করবো আমি এখন? ওর সাথে আর কথা হবে নারে আমার।আমি আর থাকতে পারছিনা। কি করবো আমি এখন?সব শেষ আমার “|

তুই শান্ত হো ভাই।ও তরে আজ রাতে যেভাবেই হোক ফোন দিবে।আজ না হলে কাল ফোন দিবেই।আমার মন বলছে দিবে।তুই তো জানছ আমি যা  ভাবি তা কিছু হলেও ঠিক হই।

 হঠাৎ আমি খেয়াল করলাম নিজের অজান্তেই আমার চোখের এক কোণে কিছু পানি জমা হয়ে গেছে।ও কিছু বোঝার আগেই ওটা মুছে ফেলার চেষ্টা করলাম।২জন রুম এ চলে এলাম।মন খারাপ ২জনেরি।তবুও যেনো আমি একটু হাসানোর চেষ্টা করলাম রুপক কে।কিন্তু ওর সমস্যা হচ্ছে ওর কষ্ট শুনে যখনি আমি ওরে হাসানোর চেষ্টা করি ,ওরে হাসাই,ও ভাবে আমি আসলেই মজা করছি।ও বুঝতেই চাইনা যে আমি ওরে হাসানোর চেষ্টা করছি। যাতে ওর একটু ভালো লাগে | যাই হোক তারপর আস্তে আস্তে রূপক আর জুনির বেপারটা প্রায় ঠিক হয়ে গেলো | জুনির বান্ধবির ফোনে ফোন দিয়ে কল কনফারেন্স করে কথা বলত।এখন লুকিয়ে আবার আগের মতই কথা বলে।আগের মতো বললে ভুল হবে তবে কম।কিন্তু প্রাই প্রতিদিন।এভাবেই আবার চলতে থাকলো তাদের প্রেম। রুপক কে যেনো আমি এখন একটু বেশি জালাতন করি।ওরে কখনো চুপ থাকতে দেই না।নিজেও থাকিনা।

একদিন সন্ধাই ২জন হাটছিলাম আর চপ খাচ্ছিলাম ।হঠাৎ  করেই রূপক   বলে উঠলো..

 “আমাদের আর রিলেশন নেই রে.. “

মানে?রিলেশন নেই মানে কি হইছে বল এক্ষুনি?:

আগে রুমে চল তারপর বলছি।

না তুই এক্ষুনি বলবি,বল কি হইছে নাহলে কিন্তু রাগ লাগছে আমার রুপক,বল কিন্তু।

  “ভাই আজ জুনির ফুপ্পির সাথে কথা হলো আমার, ওরা আমার সাথে জুনির বিয়ে দিতে চাইনা। আমাকে বিয়ে দিবে যদি আমি ওর পুর ফ্যামিলিকে চালাতে পারি।তুই বল আমি এখন পড়াশোনা করছি তাইনা ? তো কিভাবে বিয়ে করবো আমি এখন।আর কিভাবে চালাবো আমি ওদের সংসার ।তাও বিয়ে নাকি খুব তাড়া তাড়িই করতে হবে ।

২য় পর্ব খুব শীঘ্রই আসছে…………………………………..