এরিয়া ৫১ঃ যার পুরোটাই রহস্য

Now Reading
এরিয়া ৫১ঃ যার পুরোটাই রহস্য

এরিয়া ৫১ , বলা হয়ে থাকে যে বিশ্বের অন্যতম গোপন জায়গা গুলোর  মাঝে এটি একটি। লোকমুখে নানা মিথ প্রচলিত আছে এরিয়া ৫১ কে নিয়ে। কেউ বলে এখানে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে ভুপাতিত হওয়া সব এলিয়েন স্পেসক্রাফট গুলো রাখা আছে এবং বিজ্ঞানীরা সেগুলো নিয়ে গবেষনা  করেন। কেউ বলে এখানে খোদ এলিয়েন নিয়েই গবেষণা করা হয়। এরিয়া ৫১ এর  লোকেশন নিয়েও  নানান  ধরনের  কথা শোনা যায়।  আমেরিকার নেভাডায় অবস্থিত ইউ এস এয়ারফোর্সের হাইলি ক্লাসিফাইড এয়ার বেজ যার নাম এডওয়ার্ড এয়ার ফোর্স বেইজ এর নামই মুলত এরিয়া ৫১। Central Intelligence Agenc(CIA) এর মতে ICAO (International Civil Aviation Organization) এর  দ্বারা এই এয়ার বেইজ এর ICAO কোড হলো KXTA এবং সার্বজনীন নাম  হলো Homey Airport.  ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সি আই এ  এর ডকুমেন্ট এ  প্রথম এরিয়া ৫১ নাম  ব্যবহার করা হয়। এর আগ পর্যন্ত Homey Airport নামেই ডাকা হতো। আন-অফিসিয়ালি এই এয়ার বেইজ কে Dreamland,  Paradise Ranch , Water town নামেও ডাকা  হয়। 

 

এরিয়া ৫১ এ আসলে কি করা হয়? এখানে আমেরিকার নেক্সট জেনারেশন এয়ারক্রাফট গুলো নিয়ে গবেষণা করা হয় এবং ব্ল্যাক প্রজেক্ট  নিয়ে কাজ করা হয়। ব্ল্যাক প্রজেক্ট হলো একটি মিলিটারি  টার্ম যা যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য এর সরকারের  ও জনগণের অগোচরে নানা ধরনের ধরনের উচ্চক্ষমতা  সম্পন্ন এমুনিশন ও  স্পেসক্রাফট  নিয়ে কাজ করা  হয় এবং প্রোটোটাইপ পজিশনে গেলে সরকারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয় এবং যতদিন না জনগনকে জানানোর দরকার না পরে ততদিন গোপন রাখা হয়। উদাহারন স্বরুপ  – F-117 Night Hawk এবং B-2 Spirit এর নাম উল্লেখযোগ্য।

F-117 NightHawk

B-2 Spirit

 

২০০৫ সালে সি আই এ  প্রথম  এরিয়া ৫১ এর কথা স্বীকার করে। এর আগ  পর্যন্ত আমেরিকা বরাবরই এরিয়া ৫১ এর কথা আস্বীকার করেছে। যদিও তথ্যমতে এরিয়া ৫১ কে  কখনো গোপন বেইজ হিসেবে আমেরিকা কখনোই প্রকাশ করেনি। তারপরও যে পরিমান গোপনীয়তার সাথে এখানে কাজ করা হয় সেটা সত্যি এখানের কার্যক্রম  সম্পর্কে সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

এরিয়া ৫২ নামেও যে কিছু আছে সেটা জানেন কি? এরিয়া ৫২ হলো এরিয়া ৫১ এর সাবসিডিয়ারি একটি টেস্ট রেঞ্জ যা Tonopah Test Range নামে পরিচিত । এটি  এরিয়া ৫১  থেকে ১১২ কিমি উত্তরে অবস্থিত। এখানে মুলত এয়ারক্রাফট গুলোর পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরিয়া ৫১ এর চেয়ে এরিয়া ৫২ বেশি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।  ধারনা করা হচ্ছে এরিয়া ৫১ মুলত একটি কাভার  বেইজ যেখানে এরিয়া ৫২ হলো আসল  স্থান যেখানে এলিয়েনস  নিয়ে গবেষণা করা  হয়।

 

Area 52 : Tonopah Test Range

 

এবার এরিয়া ৫১ এর কিছু অজানা বিষয় নিয়ে কথা বলি। এরিয়া ৫১ এই তৈরি হয়েছে প্রথম মনুষ্যবিহীন এয়ারক্রাফট যার নাম Q-12 যা D21 এর একটি প্রটোটাইপ ছিল। এটি ডিসেম্বর ,১৯৬৩ তে  প্রথম আকাশে উড়ে। D-21 এয়ারক্রাফট এ A-21 নামে একটি স্পাই জেট ছিল যা শব্দের চেয়ে তিনগুন বেশি দ্রুত উড়তে  পারতো।এই  D-21 এয়ারক্রাফট ব্যবহার  করা হত ১৯৬০ পরবর্তী চায়না কমুনিস্ট দের গতিবিধি পর্যবেক্ষন করার জন্য।

Lockheed D-21

এরিয়া ৫১ মুলত Groom  Lake এর পাশে  অবস্থিত যা একসময় সিলভার মাইনিং প্রজেক্ট  ছিল । ১৮৬০  সালের দিকে এই অঞ্চলের নাম ছিল  Groom Mining District. ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই Groom  Lake কে এয়ার বেইজ হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং ১৯৫৫ সালে সি আই এ  এই  স্থানের দখন নেয় এবং গড়ে তোলে  আই রহস্যময় এরিয়া ৫১।

এরিয়া ৫১ নিয়ে মানুষের নানা ধরনের চিন্তা  থাকলেও এর  অভ্যন্তরে  কি  হচ্ছে সেটা তুলে  ধরেছে Bob Lazar , একজন ফটোগ্রাফার। তার তোলা দুইটি  ছবি   –