আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি এবং কিভাবে কাজ করে?

Now Reading
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি এবং কিভাবে কাজ করে?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে সংক্ষেপে এ.আই. বলা হয়ে থাকে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর বাংলা করলে হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এটি কম্পিউটার সায়েন্স এর একটি শাখা। কোন মেশিনের নিজের চিন্তা করার ক্ষমতা, শেখার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ইত্যাদি কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পন্ন হলে তাকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলা হয়।

এ.আই. আবিষ্কার করার মূল লক্ষ্যই ছিল এমন একটা প্রযুক্তির উদ্ভাবন করা যা মানুষের মত চিন্তা করতে পারবে, মানুষের মতই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

এ.আই. এর ব্যবহার এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। ভয়েস রিকগনাইজেশন, ফেস ডিটেকশন, স্ট্র্যাটেজিক গেম, পাইলটবিহীন ড্রোন, চালকবিহীন গাড়ি ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ.আই. এর ব্যবহার হচ্ছে।

এ.আই. কিভাবে কাজ করে?

মানুষ এবং কম্পিউটার এর মধ্যকার মূল পার্থক্য হচ্ছে মানুষ একসাথে মাত্র একটা কাজই করতে পারে। কিন্তু কম্পিউটার একাধিক কাজ চালিয়ে যেতে পারে।  কোন সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বপ্রথমে কম্পিউটার বিভিন্ন সেন্সর এর মাধ্যমে বা মানুষ দ্বারা প্রবেশকৃত তথ্য সংগ্রহ করে। কম্পিউটার তার প্রাপ্ত তথ্যগুলোকে তার ভেতরে থাকা  ডেটার সাথে মিলিয়ে দেখে। এরপর সে সম্ভাব্য কিছু প্রক্রিয়া বেছে নেয় তার সমস্যা সমাধানের জন্য। এ.আই. তার বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে যে প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে সমস্যাটি সবচেয়ে সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যাবে সেই প্রক্রিয়াটিই বেছে নেয়। কম্পিউটার প্রোগ্রামগুলো শুধুমাত্র যে কাজের জন্য তৈরী সেই কাজ করতে কম্পিউটার প্রোগ্রাম গুলো পারদর্শী। কিন্তু এ.আই. তার বিশ্লেষণী ক্ষমতা ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করে থাকে।

বর্তমানের কিছু উন্নত রোবটের সীমিত পরিসরে শেখার ক্ষমতা আছে। তারা বিভিন্ন মুভমেন্ট দেখে দেখে শিখতে পারে। যেমন হাত পা নাড়ানো, হাঁটাচলা করা। এছাড়া নতুন কিছু শেখার পর রোবটটি সেই তথ্য তার স্মৃতিতে রেখে দেয় যেটা সে পরবর্তীতে আবার প্রয়োজনীয় মূহুর্তে ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া কিছু রোবট আছে যারা মানুষকে হুবহু নকলও করতে পারে। কিছু কিছু রোবট আবার মানুষের মত অন্য মানুষের সাথে কথাবার্তাও স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারে। এ.আই. তখনই মানুষের সাথে ইন্টেরাক্ট করতে পারবে যখন সে মানুষের বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী কাজ করতে পারবে।

মানুষের ব্রেইন সেলে কোটি কোটি নিউরন থাকে। এবং মানুষের ব্রেইন বিচিত্রভাবে কাজ করে থাকে। তাই বিজ্ঞানীদের পক্ষে এ.আই. কে মানুষের ব্রেইন অনুযায়ী কাজ করানো খুবই জটিল একটা কাজ। তাই বিজ্ঞানীরা এ.আই. কে আরো উন্নত করার জন্য কিভাবে মানুষের ব্রেইন চিন্তা করে সেই বিষয়ে গবেষণা করছেন। এবং তারা তাদের এই গবেষণাপ্রাপ্ত ফলাফলগুলো রোবটদের উপর পরীক্ষা করে দেখছেন। মানুষের ব্রেইনের মত করে এ.আই. তৈরি করার কারণে মানুষ আরও সহজে এ.আই. এর সাথে সমন্বয় সাধন করছে।

মানুষের ব্রেইন এর মত কম্পিউটার ব্রেইন ডিজাইন করা সম্ভব নয়। তবে কৃত্রিমভাবে কম্পিউটারকে মানুষের ব্রেইন এর মত আচরণ করানোর চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এরও আগে থেকে নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। নিউরাল নেটওয়ার্কে তিনটা অংশ থাকে। একটি ইনপুট, অপরটি হিডেন এবং আরেকটি হচ্ছে আউটপুট। এই অংশগুলিকে লেয়ার বলা হইয়ে থাকে। ইনপুটে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত প্রবেশ করানো হয় এবং নিউরাল নেটওয়ার্ক সেই তথ্য উপাত্তের ধরণ চিনতে চেষ্টা করে। হিডেন ইউনিট সেই তথ্যগুলো তার পূর্বের জানা তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখে এবং আউটপুট ইউনিটে তার কাজের ফলাফল প্রকাশ করে। ডিপ লার্নিং নিউরাল নেটওয়ার্ক আরো জটিলভাবে কাজ করে থাকে। এর হিডেন সেকশনে আরো সাবসেকশন থাকে যেমন ভয়েস রিকগনাইজেশন, ফেস ডিটেকশন ইত্যাদি। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডেভেলপমেন্ট এর কাজে পাইথন নাম প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর ব্যবহার সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া প্রোলোগ, লিস্প, জাভা, সি শার্প ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে মানুষের উপকারের কাজে বর্তমানে ব্যবহার করা হলেও এর খারাপ দিকও আছে। যদিও সেটি তেমন বড় হয়ে দেখা দেয়নি। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে বিভিন্ন আইনের আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একে নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ই মানুষের ধ্বংসের কারণ হবে। এর কারণ হচ্ছে মানুষের পরিবর্তন খুব ধীরে ধীরে হয়। কিন্তু এআই খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে মানুষ এর সাথে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হবে এবং কালের বিবর্তনে হারিয়েও যেতে পারে। নিক বোস্ট্রোম তার ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ নামক বইয়ে বলেন, যদি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে কোন লক্ষ্য(ধরা যাক কোন জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেয়া) নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী যদি কাজ করতে থাকে তাহলে তারা নিজেদের যেনো কোনভাবেই বন্ধ করা না যায় সেই ব্যবস্থাও করে ফেলতে পারে। এবং সেটা যদি ঘটে যায় তাহলে কোনভাবেই এটাকে থামানো সম্ভব নাও হতে পারে। এজন্য ওপেনএআই নামে একটি সংস্থা খোলা হয়েছে যেটি নিরাপদ এআই গবেষণা নিশ্চিত করে যাচ্ছে।

অ্যামাজন, গুগল, ফেসবুক, মাইক্রসফট এর মত বড় বড় কোম্পানিগুলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে আরো উন্নত করার জন্য একসাথে কাজ করা শুরু করেছে।

এ.আই.  নিয়ে অনেক মুভি বানানো হয়েছে। যেমনঃ দ্যা ম্যাট্রিক্স ট্রিলজি, ওয়েস্টওয়ার্ল্ড, ব্লেড রানার, টার্মিনেটর, এ.আই.ঃ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইত্যাদি।

আশা করি এ.আই. ভবিষ্যতে আরো উন্নত হবে এবং মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

আর্টিকেলটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে তা কমেন্ট সেকশনে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।