প্রতিশোধ -পর্বঃ ৪

Now Reading
প্রতিশোধ -পর্বঃ ৪

 

বাসায় যাওয়ার পর সবাই হেমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরলেন।এত দিন কোথায় ছিলো,কি ঘটেছে সব জিজ্ঞেস করছে।হেমা বাসায় সব কিছু খোলে বলল। হেমার বাবা তামিমের নামে থানায় কমপ্লেন করলো।
হেমাকে কিডন্যাপ করার অপরাধে তামিমকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলো।
হেমার বাবা মা হেমার কথা বিশ্বাস করলেও সমাজের মানুষগুলা হেমার কথা বিশ্বাস করেনি। সবাই হেমার পিছনে খারাপ কথা বলে।
সমাজের শিক্ষিত এক শ্রেণীর মানুষ হেমা যে পবিত্র তার প্রমাণ দেওয়ার জন্য মেডিকেল টেস্ট করাতে বলল।
হেমার বাবা আর ভাই বাহিরে বের হলেই নানা কথা শুনে।সবাই তাদের উদ্দেশ্য করে নানা কথা বলে।লোকের এত বাজে কথা শুনতে শুনতে তারা বিরক্ত হয়ে গেলো।তাই তারা হেমার মেডিকেল টেস্ট করানোর কথা চিন্তা করল ।
কিন্তু হেমা রাজি হলো না।হেমা ভালো করেই জানে মেডিকেল টেস্ট করানো মানেই তার সম্মানের বলি দান।আর মেডিকেল টেস্ট এর রিপোর্ট সমাজের কয়েকজন ছাড়া অন্যান্যরা বিশ্বাস করবেনা।

অনেকদিন পর হেমা কলেজে গেলো।কলেজের সবাই কেমন একটা আচরণ করছে।
যে আকাশ বলেছিলো হেমাকে সে ভালোবাসে সে আজ হেমার দিকে কেমন করে তাকাচ্ছে। হেমা আকাশের কাছে গেলো।আকাশ চুপ করে আছে।হেমা আকাশের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
হেমার মনে হচ্ছে আর সবার মত আকাশের চোখ কিছু জানতে চাচ্ছে।
হেমা আকাশের সাথে কথা না বলেই চলে গেলো।
এমন করে আর চলা যাচ্ছে না।
বাসার সবাই কেমন জানি অদ্ভুদ একটা আচরণ করছে। চলার পথে হেমাকে সাপোর্ট করার মত এখন আর কেউ নেই।
হেমা কয়েকবার আত্নহত্যা করার চেষ্টা করলো।কিন্তু পারল না।আত্মহত্যা করার মত এতটা সাহস হেমার নেই।
জীবনের কাছে,সমাজের কাছে হেমা হেরে যেতে চায়না।তাই নতুন করে জীবন শুরু করার কথা চিন্তা করল।
হেমা ভাবল কলেজ থেকে ট্রান্সফার হয়ে অন্য কলেজে চলে যাবে।যেখানে কেউ হেমাকে চিনবেনা।হেমাকে নিয়ে বাজে কথা বলবে না।
বাসায় এ কথা জানানোর পর বাসার সবাই রাজি হয়।কারণ হেমা এখানে থাকলে সবাই কথা শুনাবে। আর এ অবস্থায় হেমাকে বিয়ে দেওয়া যাবে না।সব কিছু ভেবে হেমার বাবা রাজি হয়ে গেলো।
ঢাকার বাইরে হেমার এক ফুফু থাকে।হেমা সেই ফুফুর কাছে চলে যাবে এবং সেখানকার কলেজ থেকে অনার্সটা শেষ করবে বাসা থেকে এমনটা ঠিক হলো।
হেমার ভাই কলেজ ট্রান্সফার এর সব ব্যবস্থা করে দিলো।হেমাকে ফুফুর বাসায় দিয়ে আসলেন।

হেমা আস্তে আস্তে নিজেকে নতুন কলেজে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।এখন আর আগের মত হাসেনা।আগের মত আর এতটা চঞ্চল নেই।কলেজের কারো সাথে মেশে না।
বন্ধুত্ব করতেও এখন হেমা ভয় পায়।এমন করেই কাটছে। দুই ঈদ ছাড়া বাড়িতেও যায় না।বাড়িতে যাওয়ার পর কয়েকটা বিয়ের প্রোপোজাল আসে।আবার তা ফিরেও যায়।অন্যের কথা শুনে কেউ আর ২য় বার আসে না।

ফুফুর বাসা থেকেই হেমা ২য় বর্ষের ফাইনাল দিলো

হেমার ফুফু কিভাবে জানি হেমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা জেনে যায়।
ফুুফুঃ আমার কাছে এসব বলিসনি কেন?
হেমাঃ ফুফু আপনি যা ভাবসেন তা না।আমার সাথে এমন কিছু ঘটেনি।
ফুফুঃ সবাইকি তাহলে মিথ্যে বলছে?আমি তোকে আর বাসায় রাখতে পারব না।তুই তোর ব্যবস্থা করে নে।
হেমাঃ ফুফু আমার এখন ও ২ বছর বাকি অনার্স শেষ করতে। এখন আমি কোথায় যাব?
ফুফুঃ তুই এখানে থাকলে আমার মেয়ে বিয়ে দিতে পারব না।
এ কথা বলে ফুফু চলে গেলো।
হেমা বাসায় ফোন করে সবটা জানানোর পর হেমার বাবা হেমাকে বাসায় চলে যাওয়ার কথা বলে।
হেমা রাজি হয় না।
হেমার বাসা থেকে বলে অন্য জায়গায় থাকলে তারা পড়ার খরচ চালাতে পারবে না।
হেমা ফুফুকে অনেক বলে ফুফুর বাসায় কিছুদিন থাকার অনুমতি পায়।
এখন হেমার একটাই কাজ।একটা জব খোঁজা।
কয়েকদিন খোঁজ করার পর একটা পার্টটাইম জব পেল।তাও যে কোন সময় চলে যেতে পারে।
এক ক্লাসমেট এর সাহায্যে লেডিস হোস্টেল এ থাকার মত একটা ব্যবস্থা ও করল।রুমটাতে হেমা ছাড়া ৩ জন মেয়ে আছে।
ফুফুর বাসা থেকে সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে চলে আসার সময় ফুফু হেমাকে জিজ্ঞেস করল কোথায় থাকবে?
হেমাঃ চলে যাওয়ার কথা বলার সময় একবার ও ভাবেননি কোথায় থাকব। এখন জেনে কি করবেন?
এ কথা বলে হেমা বের হয়ে গেল।

হোস্টেলে এসে সব কিছু আবার নতুন করে গুছিয়ে নিচ্ছে।

নতুন জবে জয়েন করেছে।তাছাড়া হোস্টেলের কাছে ২ টা বাচ্চাকে পড়ায়।জবটা যে কোন সময় চলে যাবে।তাই নতুন জবের ও খোঁজ রাখছে।
বাড়িতে ফিরে না যাওয়ায় বাসা থেকে হেমাকে কোন খরচ দেয়না।বাসা থেকে কেউ খোঁজও নেয়না।হেমা ফোন করলেও সবাই খারাপ ব্যবহার করে।
হেমা এখন কলেজের কারো সাথে তেমন কথা না বললেও রুমমেটদের সাথে টুকটাক কথা বলে।
হেমার রুমমেটরা প্রায়ই জানতে চায় হেমা এমন চুপচাপ থাকে কেন?
হেমা তখন এড়িয়ে যায়।

হেমার থার্ড ইয়ার ফাইনালের আগে জবটা চলে যায়।
সামনে পরীক্ষা এমন সময় জব চলে যাওয়ায় হেমা সবকিছু অন্ধকার দেখে।এখন জব খোঁজবে কি করে?

 

চলবে….