আমার ভালবাসার রাজকন্যা : পর্ব – ০৩

Now Reading
আমার ভালবাসার রাজকন্যা : পর্ব – ০৩

( ২য় পর্বের পর থেকে……)

আমি শুনে তো থ। আরে মেয়ে তো দেখি অভিমান করেছে আমার উপর। নিজের লাজুক ভাবটাকে এবার এক পাশে রেখে বললাম, “আসলে মিলি, তোমাকে আমার খুবই ভাল লাগে। কিন্তু নার্ভাস লাগে তোমার সাথে কথা বলতে। আচ্ছা, আমরা কি একসাথে কিছু সময় নিজেদের মত কাটাতে পারি? যদি তুমি কিছু মনে না করো?”

ভাবলাম, মেয়ে  হয়ত রেগে গিয়ে এবার ধাওয়া দিবে।  কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল, “কেমন ভাল লাগে তোমার? এতই ভাল লাগে যে আপনি আমার সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দেন। হিহি। আচ্ছা তুমি আমাকে এত লজ্জা পাও কেন? আমি তো জানি ছেলেরা লজ্জা পায় না!”  বলেই আবার একচোট হাসি মিষ্টি মেয়েটার মুখে।

আমিও কিছু না বলে, হেসে ফেললাম। এই পরিস্থিতিতে কিছু বলার চেয়ে হাসিকেই বেশি নিরাপদ বলে মনে হল আমার কাছে।

এরপর দেখি অন্যরা আমাদের খুঁজতে চলে এসেছে। তাই তাড়াতাড়ি হাঁটা শুরু করলাম ওদের দিকে। ছেলেরা কেউ একটু হিংসা ভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছে, কেউ বা আবার মুচকি হাসছে। আকাশ আমার কাছে এসে কানে কানে বলল, “কিরে দোস্ত, মিলির সাথে কি তোমার লাইন হল নাকি কিছু? দুইজন দেখি একটু পর পর কোথায় হারিয়ে যাও। কাহিনী কি?” আমি শুধু মুচকি হেসে আকাশকে বললাম, “তোকে পরে সব বলব।”

এরপর আশেপাশে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম সবাই। মেয়েরা কেউ কেনাকাটা করল। এরপর আমরা হোটেলে ফিরে যার যার ব্যাগ নিয়ে, বাস স্ট্যান্ডে চলে আসলাম।

বিকাল ৪.৩০ এ আমাদের ঢাকায় ফেরত যাওয়ার বাস………………………।

এখন কেবল বিকাল ৪টা বাজে। এই আধা ঘণ্টা যে যার মত গল্প করে, ছবি তুলে, আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিলাম।

এর ভিতর বাস চলে আসায় সবাই বাসে উঠে পরলাম। আমি তো জানতাম মিলি আমার পাশেই বসবে সকালে আসার মত। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে সে সেঁজুতির পাশে গিয়ে বসল। আমিও কিছুটা অভিমান করে ওকে আর কিছু বললাম না। আমিও গিয়ে আকাশের পাশে বসতেই, আকাশ চেপে ধরল আমাকে, “বল দোস্ত, আজকে তোমার প্রেম কেমন হল?”

আমি বললাম , “আরে, প্রেম কেন হবে? আমরা তো শুধু বন্ধু। নিজেরা একটু ঘুরাঘুরি করেছি নিজেদের মত করে।”

আকাশ খানিকটা গম্ভীর হয়ে বলল, “দেখ বিজয়, তুই আর আমি কিন্তু ছোটবেলার বন্ধু। একসাথে দুইজন বড় হয়েছি। স্কুল, কলেজ সব একসাথে ছিল, এখন একই ভার্সিটিতেও পড়ছি। তুই যেমন আমাকে বুঝিস, আমিও তোকে বুঝি। আমার কাছে কিছু লুকিয়ে রাখিস না। সত্যি করে বল, তুই মিলিকে পছন্দ করিস কিনা!“

আমি কি বলব তাই ভেবে পাচ্ছি না। আকাশ বলেই চলল, “দেখ তুই মিলিকে পছন্দ করিস, সেটা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু মিলির কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে মিলিকে কিছু বলতে পারছিস না, তাই তো?”

আমি মাথা নেড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম। এরপর বললাম, “আসলে মিলি তো আমাকে ভাল বন্ধু মনে করে। এখন আমি যদি ওকে প্রপোজ করি, তাহলে ও যদি সেটা স্বাভাবিক ভাবে না নেয়? যদি রাগ করে আর কখনো আমার সাথে কথা না বলে? তাহলে ওকে তো আমি সারাজীবনের জন্য হারাব। তখন ওকে ছাড়া থাকব কি করে?”

আকাশ আমাকে খোঁচা মেরে বলল, “আরে বোকা, আগে মিলিকে বলে তো দেখ। রাজিও তো হতে পারে। আমার মনে হয় ও তোর প্রতি কিছুটা হলেও দুর্বল। নাহলে, সবাইকে পাত্তা না দিয়ে শুধু তোর সাথেই কথা বলে কেন? তুই বলে দেখ। পরে দেরি করলে, তখন অন্য কেউ প্রপোজ করলে, আর ও রাজী হয়ে গেলে, তুমি বসে বসে কপাল চাপড়াবে।”

কথাটা শুনেই চুপ হয়ে গেলাম। মনের ভিতর যুদ্ধ হচ্ছে। একবার মন বলছে যে বলেই দেই মিলিকে যে আমি ওকে ভালোবাসি। আবার ভাবলাম কি দরকার, যদি সরাসরি মুখের উপর আমাকে মানা করে দেয়। যদি আর কখনো কথা না বলে। এমন দোটানাতে থাকতে থাকতে খেয়াল করি নাই যে আমরা ফরিদপুর ছেড়ে কখন ঢাকার কাছাকাছি চলে এসেছি। আকাশের ডাকে হুঁশ হল। গাবতলী এসেই সবাই বাস থেকে নেমে গেলাম। এরপর এখান থেকে যে যার মত যার যার বাসার পথ ধরব।

এরই ভিতর শুরু হল হাল্কা বৃষ্টি। রাস্তাঘাট বলতে গেলে ফাঁকাই। সবাই যে যার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির পথ ধরলাম। মিলিকে কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না। ভাবলাম মিলি না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি।

এরই মধ্যে অন্যরা চলে গেছে। সেঁজুতিও রিকশা নিয়ে চলে গেল। কিন্তু মিলি রিকশা, সিএনজি কিছুই পাচ্ছে না। যদিও ওর বাসা কাছেই, কল্যাণপুরে। আকাশ আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলল, “যা, মিলিকে এগিয়ে দিয়ে আয়। আর আমি বাসায় চলে গেলাম। পরে রাতে ফোনে কথা হবে।” বলে ও চলে গেল।

আমি মিলির পাশে গিয়ে চুপ করে দাঁড়ালাম কিছুক্ষণ। কারো কোন কথা নাই। এর ভিতর একটা রিকশা পেয়ে যাওয়ায় মিলি উঠার সময় আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু আমাকে চুপ থাকতে দেখে সে রিকশাতে উঠে পড়ল। রিকশাওয়ালা যেই রিকশা চালাতে যাবে, এমন সময় কি মনে হল, আমি রিকশার হুড টেনে ধরলাম। রিকশা থেমে গেল।

মিলি তাড়াতাড়ি নেমে জিজ্ঞাসা করল, “বিজয়, কি হয়েছে? কিছু বলবে নাকি?”

কিন্তু কি বলব, ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমি আর থাকতে না পেরে নিজের সব সাহস এক করে বললাম, “মিলি, আমি তোমাকে কখন যে ভালোবেসে ফেলেছি, বলতে পারব না। প্লিজ, আমাকে ছেড়ে যেও না। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না।” এটুকু বলেই চুপ করে থাকলাম, ভাবলাম, এখনি হয়ত কষে একটা থাপ্পড় এসে পড়বে আমার গালে। নাহলে একগাদা কটু কথা বলা শুরু হবে। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকেও মিলি কিছুই বলল না । শুধু আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল।

এরপর বলল, “বিজয়, তাড়াতাড়ি বাসায় যাও। বৃষ্টি হচ্ছে।”  এইটুকু বলেই সে রিকশাতে উঠে চলে গেল।

আমি হতাশ হয়ে, রাস্তার পাশে বসে পড়লাম। আশেপাশের মানুষ কেউ অবাক হয়ে আমার কাণ্ডকারখানা দেখছিল। কারও কাছে মজার মনে হচ্ছিল ব্যাপারটা। যাই হোক আমি আর দেখেও না দেখার ভান করে বাড়ির পথ ধরলাম।

বাসায় এসে না খেয়েই নিজের রুমে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। মা ভাবল, অনেক ঘুরাঘুরি করছি, তাই হয়ত ক্লান্ত অনেক। তাই আর জোরাজুরি করলেন না। শুধু বললেন, “ফ্রিজে খাবার থাকল। ক্ষুধা লাগলে, খাবার গরম করে খেতে।” বলেই ঘুমাতে চলে গেলেন। বাবাও খেয়ে ঘুমিয়ে গেছেন আগেই। আমার আর কিছুই ভাল লাগছিল না। জীবনে প্রথমবার ভালোবাসার মানুষটিকে প্রপোজ করলাম। তাও আবার কিনা প্রত্যাখ্যাতও হলাম।

 

চলবে…………………………

এই সিরিজের আগের পর্বগুলোর লিংক নীচে দেয়া হলঃ

১। আমার ভালোবাসার রাজকন্যা ঃ পর্ব -০১

২। আমার ভালোবাসার রাজকন্যা ঃ পর্ব -০২