ভয়ঙ্কর সুন্দর গ্রাম ! শুধু গল্প নয় বাস্তবতাও বটে !

Now Reading
ভয়ঙ্কর সুন্দর গ্রাম ! শুধু গল্প নয় বাস্তবতাও বটে !

পাহাড়ের পাদদেশে আজব এক গ্রাম ! চারিদিকে শুধু গাঢ় সবুজের ঘন বন ! অসম্ভব সুন্দর আবার বলা যায় ভয়ঙ্কর সুন্দর গ্রাম ! এত সুন্দর গ্রাম ছবিতেও দেখা যায়না অথচ গা ছমছমে শুনশান পরিবেশ! মনে হয় এ গ্রামে কোন মানুষ নেই, আবার কদাচিৎ দু চারজনকে চোখেও পড়ে যায় ! কিন্তু দিনের আলো থাকতেই যে যার ঘরে ফিরে আসে এবং ভুল করেও কেউ দরজা খুলে বাইরে বের হয়না। কেমন যেন আতঙ্কে বসবাস করে এখানকার মানুষজন। কিন্তু কেন !?

তাদের সেই অজানা আতঙ্ক ভেদ করে আদিখ্যেতার সম্পর্ক গড়ে তোলা অসম্ভব। তবুও নিজেদের প্রয়োজনেই আগ বাড়িয়ে সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা নতুন আসা এক দম্পতির।

এত সুন্দর গ্রাম তবু কেন জানি থাকতে মন সায় দিচ্ছে না ! ছোট্ট গ্রামটিতে সন্ধ্যার পরে ভয়ঙ্কর‌ নীরবতা নেমে আসে। কখনও থেকে থেকে শেয়ালের ডাক আর বন্য কুকুরের কখনও ডাকাডাকি আবার কখনও একদমই নীরবতাকে ভেদ করে কুকুরের অস্বাভাবিক কান্না চলে সারারাত !

আরেকটি বিষয় খুব অদ্ভূত আর অস্বাভাবিক ! এখানে মাঝে মাঝে দূর জঙ্গল থেকে অচেনা কিছুর ডাক শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু খেয়াল করতে গেলেই থেমে যায় ডাকটি ! আবার কেমন যেন অস্বাভাবিক অনুভূতি হয় ! সত্যিই অস্বাভাবিক এই যায়গাটা।

তবে খুব একটা গুরুত্ব না দেয়ার চেষ্টা করে নতুন আসা ভিনদেশী দম্পতি। এ গ্রামের মানুষগুলোও তাদের প্রতি তেমন আগ্রহী নয় আলাপচারিতায়। সব যেন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। সন্ধ্যাটা জানালার পাশে বসে উপভোগ করছিল এ্যানা আর স্বামী ফেরার অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ খেয়াল করল সবাই যে যার ঘরে ঢুকে দরজা, জানালা বন্ধ করে দিলো আর সবার যেন একটি তাড়া ছিল এবং আতঙ্কিত। কিন্তু কেন?

এ্যানার স্বামীও ফিরল। কিছুটা যেন নিশ্চিন্ত হল এ্যানা। স্বামী রকি ফিরে এসে আরেকটি অদ্ভূত কথা বলল ! বাড়ি ফিরতে যেদিন ভরা সন্ধ্যা হয়ে যায় রকির, সেদিন জঙ্গলের পাশ থেকে যে রাস্তা ধরেই আসতে হয়, ঐ পথ দিয়ে হাঁটার সময় মনে হয় কিছু একটা পেছনে ফিরতে বাধ্য করে আর পেছনে ফিরলেই একটা অদ্ভূত মায়ার সৃষ্টি হয় জঙ্গলের প্রতি ! যেন জঙ্গলটি কাছে ডাকছে !

একদিন নিকটবর্তী প্রতিবেশীর কাছ থেকে অদ্ভূতুড়ে রহস্যের জাল ভেদ করার চেষ্টা করে ওরা ! কুশল বিনিময় শেষে জানতে চাইলে অপ্রস্তুত হয়ে গেলেও পরে তাঁরা কিছু রহস্যে ঘেরা ঘটনার বর্ণনা দেয় যা শুনে হতবাক হয়ে যায় ওরা ! ঘটনাগুলো এমন যে,

” সন্ধ্যার পরে যারাই একাকী বের হয় তাদের অধিকাংশই আর জীবিত ফেরেনা। অদ্ভূত অঙ্গভঙ্গি এবং রক্তশূণ্য মৃতদেহ পাওয়া যায় বনের ভেতরে অথবা পাহাড়ের চূড়ায় ! আবার কাউকে আর খুঁজেই পাওয়া যায়না কোনদিন। অনেকে অন্ধকারে দূর জঙ্গলে এক প্রকারের অশরীরী পশুর মতন কিছু দেখতে পেয়েছে কিন্তু দিনের বেলায় হাজার চষেও এমন কিছু দেখা যায়নি। এগুলো কি এবং কোথায় থাকে কেউ জানেনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে ওরাও দলবদ্ধ থাকে। এমনকি পোষা প্রাণীও যদি বাইরে বের হয় তবে পরদিন মৃত পাওয়া যায়। আর প্রায়ই অদ্ভূত অচেনা কোন প্রাণীর ডাক শোনা যায়। ডাকটি খেয়াল করে শুনলে কেমন যেন ঝিম ধরে যায় ! আর নিজের অজান্তেই অনেকে ভুল করে বাইরে বের হলে সে আর ফেরেনা ! আবার কখনও হঠাৎ করে থেমেও যায় ডাকটি !

বনবিভাগকে জানানো হয়েছিলো। তারপর তারা একটি টিম এবং সাহসী কিছু গ্রামবাসী সারাদিন, রাত এক করে খুঁজেছে কিন্তু কোন পশু, প্রাণী বা অদ্ভূত কোন কিছুরই অস্তিত্ব পায়নি। তারপর সবাই বেশ নিশ্চিন্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও আমোদফূর্তিতে দিন যাপন করতে লাগলো। সব ভয় যেন মিলিয়ে গেছে ! কিন্তু হঠাৎ একদিন আবার রহস্যজনকভাবে একের পর এক হারিয়ে যেতে লাগলো মানুষ, গৃহপালিত পশু ! অনেকের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও কারো কারো কোন অস্তিত্বই আর খুঁজে পাওয়া গেলনা। তখন সবাই নিশ্চিত হল যে কোন রাক্ষস অথবা অশরীরী কিছুই হবে। ওরা রাতের অন্ধকারে শিকারে বের হয় !

এসব ঘটনার পরে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে কিন্তু নিতান্ত নিরুপায় যারা বা পৈতৃক সম্পত্তির টান যারা উপেক্ষা করতে পারেনি তারাই থেকে গেছে এ গ্রামে। কিন্তু কেউ জীবনের ভয়ে সন্ধ্যার পরে একা বের হয়না।

আজকাল দলবদ্ধভাবেও তেমন কেউ বের হয়না। সবাই বিকেলেই কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। হাজার কান্না বা শব্দেও বের হয়না। ভয় কাটানোর জন্য সন্ধ্যা রাতেই ঘুমিয়ে পড়ে আবার কেউ কেউ ধর্ম কর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকে আবার কেউ কেউ বিনোদনের ব্যবস্থা করে নিজের ঘরে। যেন ঐ ঝিম ধরা আওয়াজ বা ডাক শুনতে কেউ না পায় !”

একদিন সকালে প্রতিবেশীর থেকে বিদায় নিয়ে নতুন আসা দম্পতি চলে যায় ভূতুরে গ্রাম ছেড়ে! তবে যাবার আগে আরেকটি ঘটনা বলে যায় আর সাবধান করে দিয়ে যায় প্রতিবেশীদেরকে !

ঘটনাটি হল, আগের রাতে ভয়ঙ্কর সেই ঝিম ধরা ডাক শুনে তাদের পোষা কুকুরটি জানালা দিয়ে বাইরে চলে যায় ! কুকুরটির খোঁজে এ্যানাও দরজা খুলে বাইরে এক পাঁ রাখতেই স্বামী তাকে ফেরায় ! সেই মুহূর্তে তারা দুজনেই তাদের বাড়ির আশে পাশে কোন কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে। তারপর ভেতরে এসে দরজা বন্ধ করে দেয় ! সারারাত পার হয় ভয়, সংশয় নিয়ে আর পোষা কুকুরটির অপেক্ষায় বসে থেকে। কিন্তু খুব সকালে তারা কুকুরটির খোঁজে বের হলে কুকুরটির শুধু অর্ধেক অংশ খুঁজে পায় পেছনের দিকটায় ! আর এই ঘটনার পরেই তাঁরা গ্রাম ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় !

চলে যায় তাঁরা ভূতুড়ে গ্রাম ছেড়ে ! এভাবে আরো অনেক পরিবারই চেলে যেতে থাকে গ্রাম ছেড়ে ! এ রহস্যের কোনদিন উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি বরং দিনে দিনে গ্রামটি আরো ভয়ঙ্কর সুন্দর এবং নীরব হতে থাকে ! হয়ত একদিন পুরো গ্রামটি সম্পূর্ণ গ্রাস হয়ে যায় ভয়ঙ্কর সুন্দর এবং নীরবতার কাছে।

 

এটি একটি গল্প তবে এমন রহস্যময় স্থান পৃথিবীর বিভিন্ন যায়গা দখল করে আছে যেখানে মানুষের দখল অসম্ভব !