5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

সরকার কী এর সমাধান দেবে………

Now Reading
সরকার কী এর সমাধান দেবে………

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ কোটা সংস্কারে দাবিতে আন্দোলন শুরূ করেছে। আজ বেশ কয়দিন ধরে তারা এ আন্দোলন করে আসছে ছাত্ররা, কিন্তু তারা কোন ফল না পাওয়ায় তাদের আন্দোলনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। তারা ৫ দফা দাবি জানিয়ে রাজ পথে নেমেছে।যত দিন এর সমাধান না হবে তারা রাজপথ ছারবে না। এরাতো সেই দেশের  সন্তান যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল। সেই দেশের সন্তানেরা কোটা সংস্কারের দাবিতে জীবন দিতে দিধাবোধ করবে না। আসলে আমরা বাঙ্গালী খুব জেদী।

বাংলাদেশের মত আরো কিছু দেশ আছে যারা রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছে। তবে আমাদের বাংলাদেশ সবার চাইতে আলাদা ভাবে স্বাধীনতা পেয়েছে।৩০ লক্ষ প্রাণ আর ৯ মাস বিশ্রামহীন সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলার দামাল ছেলেরা এনে দিয়েছিল স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে  অংশগ্রহন কারী  মুক্তিযোদ্বাদের সম্নানার্থে তাদের কিছু সুযোগ সুবিধা দেয় সরকার। তার মধ্যে অন্যতম সরকারি চাকরিতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্বাদের সন্তান, মুক্তিযোদ্বাদের ছেলের সন্তান, মুক্তিযোদ্বাদের মেয়ের সন্তানদের। যাদের বিশেষ কোটার মাধ্যমে ছাড় দিয়ে চাকরি দেওয়া হয়। এছাড়া এতিমদের বিশেষ কোটা, নারীদের কোটা, প্রতিবন্ধি কোটা ইত্যাদির মাধ্যমে ছার দিয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়। যার ফলে মেধা ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে বৈষম্য দেখা যায়। ৫৬% কোটার ফলে কোটা ধারীরাই চাকরি পাচ্ছে। আর মেধাবীরা ‍ভালো পরীক্ষা দিয়েও চাকরি থেকে বনচিত হচ্ছে।যার ফলে বাংলাদেশের বেকার সমস্য বেড়েই চলে্ছে। একজন  ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে যদি চাকরি করতে না পারে, তাকে যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোতে চাকরির জন্য হাত পাততে হয় তাহলে কি দরকার ছিল এত কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনা করা।পড়াশোনায় প্রতিযোগিতা করতে হয়, আর কোন প্রতিযোগিতা ছাড়াই সরকারি চাকরি পাচ্ছে কোটা ধারীরা। যার ফলে ছাত্ররা বলছে কোটা সংস্কার করে ১০% এর নিচে নামিয়ে আনতে হবে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হোক। আমরাও সরকারি চাকরিতে সুযোগ চাই। তারা বলছে আমরা স্বাধীনতা বিরোধী নই বলে কোটা সংস্কার চায়।

বাংলাদেশের মুক্তি যোদ্বা্ কোটা ধারীরা বলছে অন্য কথা। তারা বলছে যারা কোটা সংস্কার চায় তারা মুক্তিযোদ্বা বিরোধী অর্থাৎ তারা নাকি রাজাকার। যতি তাই হবে বাংলাদেশের ৯৩% লোক চায় কোটা সংস্কার হোক। তাহলে এই ৯৩% লোকের সবাই কি রাজাকার? তারা আরো বলছে যদি কোটা সংস্কার হয় তাহলে ৫৬% কোটা থেকে ৭০% করতে হবে। তাহলে মুক্তিযোদ্বাদের যথাযত মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে করা হবে।

এখন সময়ের ব্যাপার কাদের কথা সঠিক বলে গণ্য করে সরকার।

একটি কন্সার্ট জয় এবং শিরোনামহীন !!

Now Reading
একটি কন্সার্ট জয় এবং শিরোনামহীন !!

দিনটা ছিল ৭ই মার্চ ২০১৭। ৩য় বারের মত এই দিনে ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে ইয়াং বাংলা নামক একটি সংগঠন দেশের নামকরা আটটি ব্যান্ড নিয়ে একটা বড় কনসার্ট এর আয়োজন করেছিল। কনসার্ট টির নাম ছিল জয় বাংলা কন্সার্ট। আমি ২০১৫ সালের কনসার্ট টা টিভিতেও ভালমতো দেখতে পারিনি। ঢাকা শহর থেকে দূরে থাকায় ঢাকার কোন কন্সার্টই আমার দেখা হয়ে ওঠে না। তবুও বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীত এর প্রতি টান থাকায় টিভি তে আর ইউটিউবে অনেক কন্সার্টই আমি দেখতাম। ২০১৭ তে আমার ঢাকায় আসার কথা। তাই সেই ২০১৫ এর ৭ই মার্চই আমি ঠিক করে ফেলেছিলাম যে এই কন্সার্ট আমি মিস করবো না। আমি আর আমার খালাতো ভাই মিলে একসাথে কন্সার্টে যাওয়ার পণ করেছিলাম। আর আমার আসল টার্গেট ছিল শিরোনামহীন। ছোট থেকেই এই ব্যান্ড, ব্যান্ডের সাথে জড়িত মানুষগুলো আর গানগুলোর প্রতি আলাদা ভালোবাসা আর টান টান ছিল।

২০১৭ সালে ঢাকাতে ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হলাম। মার্চ মাস চলেও আসলো। আমরা পুরোপুরি ভাবেই রেডি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আমার ভাই যার সাথে কন্সার্টে যাওয়ার কথা ছিল ওর হয়ে গেল মারাত্মক একটা বাইক এক্সিডেন্ট। এক্সিডেন্টের কারণে ওর হাত পা সহ আরও অনেক জায়গা তে সাদা ব্যান্ডেজ পড়লো। আমাদের কন্সার্টে যাওয়া প্রায় অনিশ্চিত। কিন্তু এতদিন ধরে যার জয় অপেক্ষা তা এভাবে কাছাকাছি এসেও হাতছাড়া হয়ে যাবে ? না রেজিস্ট্রেশন করে ফেললাম। আমার ভাই  আমাকে একা যাওয়ার কথা বললো। কিন্তু আমি তো ওকে নিয়েই যাবো। কিন্তু ওর এই অবস্থায় ভিড়ের মধ্যে যেয়ে দাঁড়ানোও তো অসম্ভব। আশা ছাড়লাম না আমরা। কন্সার্টের দিন পর্যন্ত আশা রাখলাম একটা ব্যবস্থা ঠিক হবে।

কন্সার্টের আগের দিন রাতে একটা ভি আই পি পাস এর ব্যবস্থা হল ভাই এর জন্য। আমরা কিছুটা স্বস্তি পেলাম। কন্সার্টের দিন আমার ছিল ল্যাব এক্সাম। আবার এক বাধা আসলো সামনে। এক্সাম এর টাইম টা আবার বিকাল সাঁরে চারটায়। কি আর করা প্রথম কয়েকটা মিস দেওয়ায় লাগবে। তখন মন কে সান্ত্বনা দিলাম শিরোনামহীন পেলেই আমি খুশি। আমি ল্যাবের ১ ঘণ্টার এক্সাম ১৫ মিনিটে শেষ করে বের হয়ে দৌড় দিছি। উত্তরা থেকে আর্মি স্টেডিয়াম যেতে হবে। রাস্তায় অনেকটা জ্যাম পড়বে। ভাই কে নিয়ে অনেক সাবধানে একটা ফাকা বাস পেলাম। বাসে উঠে বসলাম। কোন সি এন জি পেলাম না। জ্যামের কারণে কেওই ওদিকে যেতে চায় না। নিরুপায় হয়ে বসে আছি বাসে উঠে আর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আছি। ৫ টা ৩০ মিনিটে শুরু করে আমরা পৌঁছলাম রাত ৯ টায়। সাথে হাত পা ভাঙ্গা মানুষ না থাকলে অনেক আগেই  নেমে হেটে আসতাম। স্টেডিয়ামের সামনে এসে স্বস্তি পেলাম যে একটু পর শিরোনামহীন উঠবে। কিন্তু রাস্তার পাশে লাইনের দৈর্ঘ্য দেখে আমার শিরোনামহীন কে দেখার স্বপ্ন শেষ। কারণ এই লাইনে আমি দাড়াতে পারলেও আমার ভাই এর দ্বারা দাঁড়ানো সম্ভব না। দুজনই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রায় কাঁদো কাঁদো অবস্থা। আমি বললাম এসেছি যখন ভিতরে যেয়ে দেখে তারপর বাসায় যাবো। চাপা চাপির লাইনের ভিতর ভাই কে সামনে নিয়ে দুই হাত দিয়ে দুই দিক থেকে ধরে সামনের দিকে গেলাম। এভাবে একটু একটু করে সামনে যাচ্ছি। ওদিকে তুহিন ভাই স্টেজে উঠে কথা বলা শুরু করে দিয়েছেন। আমার সামনে এমন লম্বা লাইন। আশা ছেড়ে দিয়েও মন কে শক্ত করে আছি। আমরা গেইটের প্রায় কাছে আর প্রথম গান শুরু। “জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো” গান হতে হতেই আমরা গেইটের ভিতরে চলে গেছি। ভি আই পি টিকিট থাকলে তাকে ১ নম্বর গেইট দিয়ে যেতে হবে। আর তার জন্য কোন লাইন নাই। আর ভিতরে বেশি চাপা চাপিও নাই। ভাই কে ১ নম্বর দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে আমার ১৫ নম্বর গেইটে চলে গেলাম। তখন  প্রথম গান শেষ করে পরের গান শুরু করেছেন তুহিন ভাই। “মোরা একটু ফুল কে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি”। সামনে একটু লম্বা লাইন গেইট দিয়ে টিকিট চেক করে ভিতরে ঢুকানো হচ্ছে। আমি জানি এই গানটা শেষ হলেই শিরোনামহীন তাদের মৌলিক গান করবে। আর আমি যদি এতদূর এসেও মিস করি ? টিকিট চেক শেষ করলাম ভিতরে আরও কয়েক ধরণের চেক। সব চেক শেষে ২য় গানটাও শেষ হল। আমি স্টেডিয়ামের ভিতর ঢুকতেই বুলেট কিংবা কবিতা গানের মিউজিক শুরু। ১৫ নম্বর গেট থেকে সোজা সামনের দিকে দৌড় দিলাম। গানের মিউজিক এর সাথে সাথে আমিও গুলির বেগে ছুটছি। আমাকে যে কাছে যেয়ে ওদের সাথে গলা মেলাতে হবে। কাছাকাছি আসলাম আর তারপর যতদূর পারলাম ঠেলে ঠেলে সামনে গেলাম। আর তারপর তাদের কাছ থেকে দেখতে পেলাম প্রথম বারের মত। আমার সামনে আমার থেকে আরও লম্বা মানুষজন থাকায় আমি ভালমতো দেখতে পাচ্ছিলাম না। তবুও লাফিয়ে লাফিয়ে দেখার চেষ্টা। “নিয়ন আলোর রাজপথে” একসাথে গলা মেলালাম। পাশে কে আছে কাওকে চিনিনা। তবুও সবাই একই সূরে গান আর একি তালে নাচ। তারপর একে একে বন্ধ জানালা আর আবার হাসিমুখ গেয়ে শেষ হল শিরোনামহীন পর্ব। আমি টিভিতে দেখেছিলাম তুহিন ভাই তুমি চেয়ে আছো তাই আমি পথে হেটে যায় এই লাইনের সময় দর্শক দের দিকে মাইক্রোফোন দিয়ে দেন। এবারো দিলেন আর সবার সাথে আমিও গলা মেলালাম।

একটা স্বপ্ন পূরণ হল। সাথে একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। আমি হার মানিনি। আমরা যাদের দেখার প্রত্যাশা নিয়ে গেছিলাম তাদের দেখেই ফিরেছি।

“ বাংলাদেশের ” বিদায়ে রঙ হারালো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি!!

Now Reading
“ বাংলাদেশের ” বিদায়ে রঙ হারালো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি!!

লাল সবুজের পতাকা ইংল্যান্ডের আকাশে আর মাঠে বাংলার ছেলেরা বীরদর্পে লড়েছে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ১লা জুনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে চ্যাম্পিয়ন ট্রফির যাত্রা তা শেষ হয় ভারতের সাথে সেমিফাইনাল ম্যাচে হেরে  কাঙ্খিত ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ দিয়ে।

এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বা খেলা দুটোই ছিল সমালোচকদের জন্য বিশেষ কিছু।কেননা ক্রিকেটে বাঘা বাঘা সব দলের ভীড়ে কয়জনই ভেবেছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো আসরে সেমিফাইনাল খেলবে।বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠার পর থেকে দেশ বিদেশের ক্রিকেট বোদ্ধারা প্রশংসাই করে গেলেন।এদের মধ্যে খোদ ছিলেন  ভারতের রবি শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের রমিজ রাজা।গত সপ্তাহের  “টক অব দ্যা উইক” বলেন অর “টক অব দ্যা ডে বা টপিক” যাই বলেন না কেন সবখানে ছিল বাংলাদেশের সেমিফাইনাল যাত্রা।

দেশের হয়ে ক্রিকেটারদের এমন পারফরম্যান্সে দর্শক সমর্থকদের মনে প্রত্যাশার পারদ যেন কয়েকগুণ উঁচু হয়ে গিয়েছিল।এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক প্রথমবারের মতো কোন মর্যাদার আসরে ফাইনাল খেলার অমিত সম্ভাবনার হাতছানি যে দিচ্ছিল বাংলাদেশকে সাথে ছিল র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভালো খেলার সুবাদে বাছাই পর্বের ম্যাচ না খেলে সরাসারি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ সব মিলিয়ে একটা বর্ণিল সপ্তাহ কাটিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে যখন সেমিফাইনালে উঠে তখন একটা নতুন সম্ভাবনা সামনে চলে এসেছিল কেননা সেমিফাইনালিস্ট চার দলের দুটিই কোন সময় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির কাপ জিততে পারে নি।তাই নতুন একটা দল যারা কিনা শিরোপা উঁচিয়ে ধরবে এমন সুযোগ তৈরি হয়েছিল।সবচেয়ে বড় কথা সেমিফাইনালে ছিল পুরোটাই এশিয়ার আধিপত্য কেননা স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশ,ভারত ও পাকিস্তান জায়গা করে নিয়েছিল। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অসাধারণ কামব্যাক হিসেবে ধরলেও আনপ্রেডিক্টবল পাকিস্তান তাদের তকমাটা আরো জোরদার করল।নিজেদের জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়া আর অপ্রত্যাশিত ম্যাচে জয়ে দর্শককে অবাক করা যেন তাদের অভ্যাস।স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে দর্শক বানিয়ে পাকিস্তান ফাইনালে তাদের সামনে আবারো শিরোপা জয়ের সুযোগ তা ও আবার ৯২ বিশ্বকাপের পর কোন ওয়ানডে টুর্নামেন্টে।

বাংলাদেশ আর পাকিস্তান যদি ফাইনাল হতো তবে নিশ্চিত আমরা একদল নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতাম যেটা কিনা বাংলাদেশও হতে পারতো।বাংলাদেশী সমর্থকরা ভবিষৎের জন্য আবারো আশায় বুক বেঁধে আছে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে পারে, তবে সেই দিন বেশি দূরে নয় যেদিন আমরা বিশ্বমঞ্চে উঁচিয়ে ধরব শিরোপা।ইতিমধ্যে ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ নতুন পরাশক্তি হিসেবে জানান দিয়েছে যার কারণে ভারত-পাকিস্তানের মতো উত্তেজনা পূর্ণ দ্বৈরথ যে ম্লান হতে চলছে এমনটাই ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতামত।

সেমিফাইনাল ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের জন্য রোমাঞ্চকার ম্যাচ কেননা কোন আসরের সেমিফাইনাল ম্যাচ যেখানটায় জিতলে থাকে ফাইনাল খেলার সুযোগ আর ফাইনাল মানে শিরোপা নয়তো রানার্স আপ। এই চাপ নিয়ে খেলতে নেমে আমরা হয়তো চাপকে উপেক্ষা করতে পারি নি।পাকিস্তান উল্টাপাল্টা ক্রিকেট খেললেও ইংল্যান্ডের সাথে তাদের ম্যাচ ছিল বেশ গুছানো যেখানটায় প্রতি পদে ছিল সাবধানতা।

এবার আসি বাংলাদেশ ভারত দ্বৈরথ উত্তেজনা ।২০০৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশ যেন ভারতের জন্য গলার কাঁটা হয়ে আছে। এই দুই দলের ম্যাচ যেন হাইভোল্টেজ ম্যাচের মর্যাদা পায় তার সাথে ভক্ত সমর্থকের বাড়তি উত্তেজনা তো আছে। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ; আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ; আর বাংলাদেশ –পাকিস্তান ম্যাচ এই তিন ম্যাচের মাঝে আপনি ক্রিকেট মাঠের উত্তেজনার বাইরে আরো বাড়তি কিছু আঁছ করতে পারবেন। এই দেশের সমর্থকরা ক্রিকেট মাঠের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে সরগরম করে তোলে গ্যালারি।সামাজিক যোগাযোগ সাইট আর মাধ্যমগুলোতে ট্রল আর মীম করে খেলোয়াড়দের নাস্তানুবাদ বা উৎসাহ দেয়ার নানা ফিরিস্তি দেখা যায়।এই ক্ষ্যাপাটে সমর্থকদের সাথে সাবেক ক্রিকেটাররা যোগ দিলে তা বাড়তি মাত্রা পায়।এই তিন দেশে ক্রিকেট এমন বাড়তি সমাদর পায় যা কিনা কোন কোন অংশে রাজনৈতিক ইস্যুকে ম্লান করে  দেয়। এইসব কারণে আর্ন্তজাতিক আসরে বাংলাদেশ,ভারত আর পাকিস্তানের অংশগ্রহণ মানে বিশ্বগণমাধ্যমগুলো সরব হয়ে উঠার একটা সুযোগই বলা যায়। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত,পাকিস্তান আর বাংলাদেশের প্রবাসীদের কারণে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে খোদ ইংল্যান্ডের সমর্থকরা।

সেমিফাইনাল ম্যাচে ভারতীয় সমর্থকদের টিকেট নিয়ে আধিপত্য বাংলাদেশী সমর্থকদের খেলা দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা যেন তৈরি হয়েছিল।

একটা দলে সিনিয়র খেলোয়াড়ের কতটা ভূমিকা তা যেন তামিম,মাশরাফি,সাকিব,মুশফিক,মাহমুদল্লাহ দেখিয়ে দিয়েছে। আমাদের উচিত বাংলাদেশের এই সফলতাকে এপ্রিশিয়েট করা যাতে তারা ভবিষ্যৎে আরো ভাল খেলার উৎসাহ পায়।বাংলাদেশ ভারতের সেমিফাইনাল ম্যাচে বলতে গেলে বাংলাদেশ কেবল অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল।বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতে উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তামিমের ধীরস্থির ব্যাটিং ভালো একটা ভীত গড়ে দিয়েছে।মির্ডল অর্ডারে মুশফিকের ব্যাটিং দৃঢ়তা আবারো প্রমাণ করল বাংলাদেশের জন্য কেন তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান।সাকিব আর মাহমুদল্লাহ আগের ম্যাচের মতো উজ্জ্বল না হলেও তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন এমন কিছু আশা করাটা নিছক এক দর্শক হিসেবে বোকামি ছাড়া কিছু না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে কতটা চাপ নিয়ে ব্যাটিং বা বোলিং করতে হয় কেবল তারাই জানে।বাংলাদেশের ইনিংসের শেষের দিকে ক্যাপ্টেন মাশরাফি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বার্থেও নিজের স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিং করে ছোট খাট একটা ক্যামিও ইনিংস প্রমাণ করে তিনি ক্রিকেটের প্রতি কতটা অর্ন্তপ্রাণ।

বাংলাদেশের বোলিংয়ের ক্ষেত্রে একমাত্র মাশরাফি ছাড়া সবাই নিষ্প্রভ ছিল তা মোটের উপর অভিজ্ঞতার কমতি।কালকের ম্যাচে নিছক একটা বড় ম্যাচ এমন ম্যাচে কিভাবে চাপ সামলিয়ে বল করে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে ব্যাকফুটে ফেলতে হয় তেমন অভিজ্ঞতা আমাদের ঝুলিতে কম আছে।তাসকিন মোস্তাফিজকে দোষারোপ করার কোন মানে হয় না।এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেললাম সামনের বার ফাইনাল খেলব।আমরা তো দক্ষিণ আফ্রিকার মতো চোকার না যারা কিনা এখনো সেমিফাইনালের ভুত তাড়াতে পারে নি। গতকাল ভারত ম্যাচ জেতার কারণ তাদের অভিজ্ঞতা কেননা এমন বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিছক কম না।

বাংলাদেশের ভক্তকূলের হৃদয় আশাহত হলেও ১৮ই জুন ফাইনালে ঐতিহ্যবাহী এক দ্বৈরথ হবে।ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে ক্রিকেট ছাড়াও জাতিস্বত্তা আর রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকবে না তা কি হয় ? গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবার চিরপ্রতিদ্বন্ধী পাকিস্তানের সামনে।এই ম্যাচটা যেন পাকিস্তানের জন্য বেশ অস্বস্তির কেননা তারা এখনো যে ভারতকে আর্ন্তজাতিক কোন টুর্নামেন্টে হারাতে পারে নি।এবার যদি এই গ্যাঁড়াকল ভাঙ্গতে পারে পাকিস্তানের ঝিমিয়ে পড়া ক্রিকেট চমক জাগানিয়া কিছু করবে যা কিনা পারে নি ওয়াকার ইউনুস, ওয়াসিম আকরাম,ইমরান খান ,ইনজামামের মতো গ্রেট ক্রিকেটাররা। এমন কিছু কি করবে সরফরাজ বাহিনি ? সরফরাজ কি আবার ধোঁকা দেবে পাকিস্তানের সমর্থকদের ? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ১৮ই জুনের ফাইনালের জন্য।

বর্তমানে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে কারো সন্দেহ হওয়ার কথা নয় কেননা ভারত বরাবরই একটা ঈর্ষণীয় ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে তাদের দল গড়ে।এটাই তাদের মূল শক্তির জায়গা। ডিপেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন তকমা নিয়ে ভারত যদিও চাপে থাকবে শিরোপা পুনরুদ্ধারের ব্যাপার থেকে যায়। পাকিস্তানের সেই অর্থে নির্ভার থাকা চলে। কৌশলী পাকিস্তান মোহাম্মদ আমেরকে বসিয়ে রেখে ফাইনালের জন্য বরাদ্দ রেখেছে এটা যেমন সন্দেহাতীত তেমনি ভারতের ফিনিশার মাহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাট কিন্তু এখনো জ্বলে উঠে নি।ভারতের প্রতিটা জয়ে এই মারকুটে ফিনিশারের ছোঁয়া না লাগলে যেন তা পূর্ণতা পাই না।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে বৃষ্টির হানা না হলে ক্রিকেট সমর্থকরা শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপে রোহিত শর্মা,বিরাট কোহলি,যুবরাজ সিং আর মাহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিংয়ের সাথে  মোহাম্মদ আমের,হাসান আলী,জুনায়েদের বোলিং তোপ দেখবে। সব মিলিয়ে একটা রোমাঞ্চকর ফাইনাল হতে যাচ্ছে ১৮ই জুন।।

বাংলাদেশের এবারের সফলতার জন্য নিরন্তর ভালবাসা আর শুভকামনা থাকবে।

“ ভারত নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা ” সেমিফাইনালে টাইগারের প্রতিপক্ষ কারা….??

Now Reading
“ ভারত নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা ” সেমিফাইনালে টাইগারের প্রতিপক্ষ কারা….??

স্বপ্ন এবার সত্যি হলো!

বাংলাদেশ সেমিফাইনালে…..

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা হচ্ছে ?

D/L Method এ ইংল্যান্ডের হাতে অজি বধ বাংলাদেশের স্ব্প্ন পূরণের পালা……..

বার্মিংহামের আকাশে বৃষ্টির আভাস যখন ছিল তখন বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মনে নানা স্বপ্নের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। এবার প্রথম বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছে তবে ফাইনাল কেন নয় ? ইংল্যান্ড জিতলেই যে বাংলাদেশ স্বপ্নপূরণ করবে। এখন যদি ম্যাচ ডার্ক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে যায় এমন শংকা কি উড়িয়ে দেয়া যায়। আজকের ম্যাচে এমনটাই এসেছে পরিস্থিতি ম্যাচের প্রায়ই শেষের দিকে… এই নিয়ম যে বড়ই নিষ্ঠুর ক্রিকেটের জন্য।

তবে সব জল্পনা কল্পনার মেঘ উড়িয়ে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ শুরু হল।টসে জিতে ইংল্যান্ড ফিল্ডিংয়ে যায়।অজি ওপেনারদের দ্রুত রান তোলা ক্রমশ বিপদের কারণ হয়ে আসছিল? মারকুটে ব্যাটসম্যান ফিঞ্চ তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৬তম ফিফটি। অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের সাথে বেশ ভাল এগুচ্ছিল কিন্তু ফিঞ্চ পরে মির্ডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের উপযুক্ত সঙ্গ না পাওয়ায় কোন বড় জুটি হল না। অজি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে স্মিথের ৫৬ আর ট্র্যাভিস হেডের ৭১রানের উপর ভর করে টার্গেট দাঁড়ায় ২৭৮ রানের। ইংল্যান্ডের পক্ষে মার্ক উডের গতি আর আদিল রশিদের ঘূর্ণি বলে দুজনের ঝুলিতে মোট জমা পড়ে আট উইকেট।

২৭৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মোটেও শুরুটা ভাল হয়নি ইংল্যান্ডের কোন  রান না করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় এ্যালেক্স হেলস (০)।জেসন রয় আর জো রুট দুজনে হ্যাজেলউডের বলে বোকা বনেন উইকেট দিয়ে আসে। জো রুট নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি।খেলার এই মুহুর্তে উত্তেজনার পারদ চরমে ক্রিজে আসে ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগান আর এই সময়ের বিধ্বংসী অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। মাঠ আর মাঠের বাইরে দুই জায়গায় আলোচনায় থাকতে পছন্দ করে এই ব্রিটিশ ক্রিকেটার। দুজনের ধীরস্থীর ব্যাটিং নৈপুণ্যে দিয়ে ম্যাচের রঙ পাল্টাতে থাকে। নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে মরগান রান আউট হয়ে ফিরে যায় ৮৭ রানে। এই সময় ক্রিজে আসে উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান জস বাটলার আপাতত দৌড়ের বাটন তাদের দুজনের  হাতে ছিল।এই ম্যাচের বোলিংয়ে কোন নৈপুণ্যের ছাপ রাখতে না পারলেও বেন স্টোকসের ব্যাট যেন তার হয়ে কথা বলছিল। ৪১ ওভারের ২য় বলে এ্যডাম জাম্পাকে ডীপ কাভারে চার হাঁকিয়ে নিজের শতক পূরণ করেন।

 

আজকের ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে এ্যাশেজের একটা চাপা উত্তাপ থাকবে এটা স্বাভাবিক। এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্ধী দেশের ক্রিকেট মানে সবসময় বাড়তি কিছু তা আমরা ক্রিকেট ভক্তরা সবসময় আঁচ করতে পারি। আট জাতির এই মর্যাদার আসরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খেলতে যাওয়ার পেছনে শুরু থেকে কম নাটকীয়তা ছিল না। ওয়েস্টইন্ডিজকে টপকে র‌্যাংকিংয়ে আটে স্থান করার সুবাদে এখানে সরাসরি খেলার সুযোগ পাই। তখন এই নিয়ে নিন্দুকেরা কম জল ঘোলা করে নি। সুপ্রসন্ন ভাগ্য আর ক্রিকেট পাগল এক জাতির ভালবাসায় বাংলাদেশ দল এখন সমুন্নত অবস্থানে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ত্রিদেশীয় সিরিজেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে পুরো টিম।অনেকটা ওয়ার্মআপ সিরিজ হলেও বেশ ভালোই লড়েছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে একটা আভাস যেন দিয়ে রেখেছিল। বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচের ড্র হওয়ার পর থেকে একটা তোপে ছিল কেননা তারা যে গ্রুপ অফ ডেথে পড়েছিল । যেখানে এশিয়ার তিন প্রতিপক্ষ অন্য গ্রুপে হলেও বাংলাদেশের গ্রুপ সঙ্গী ছিল কিউইরা,বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া এবং স্বাগতিক ইংল্যান্ড। বিদেশের মাটিতে প্রতিপক্ষও বিদেশী স্বাভাবিক একটা শংকা ছিল। সব জল্পনা কল্পনা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের সাথে বুক চিতিয়ে লড়াইটা যেন একটা আগমনী বার্তা ছিল। পরের ম্যাচে অজিদের সাথে বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচ পন্ড হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি হলে প্রথমবারের মত কোন বিশ্ব আসরে সেমিফাইনাল খেলা হতে একধাপ পিছে বাংলাদেশ এমনটাই পরিস্থিতি দাঁড়ায়। এই রেসে টিকে থাকতে হলে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে হবে এমন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে গতকালকের ম্যাচে বাংলাদেশ যেন একটা ঐতিহাসিক ম্যাচ খেলে ফেলল। আপনাদের এই ম্যাচের ফলাফল নিশ্চয়ই জানা আছে না থাকার কথা নয়। এদেশের ক্রিকেটকে আরো একবার জাগিয়ে দিয়েছে। কঠিন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশীরা কিভাবে চাপকে জয় করে ম্যাচ বের করে এনেছে তা যেন দেখার মত ছিল।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আর মাহমুদল্লাহ রিয়াদ নিজেদের জাত চিনিয়েছে আরো একবার। এই জয়ের ফলাফল নিয়ে নিন্দুকেরাও প্রশংসা করতে কার্পণ্য করে নি। কার্ডিফ বরাবরের মতো বাংলাদেশের জন্য পোয়াবারো একটা মাঠ এখানে জয়টা যেন বাংলাদেশের জন্য নতুন একটা ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সিড়ি। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারানো আর কালকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ধরাশায়ী করা দুটোই যেন রুপকথাকে হার মানায়। এবার তো গেল বাংলাদেশের টুর্নামেন্টের গ্রুপের হিসাব নিকাশ যার অনেকটা নিশ্চিত আজকের ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের উপর। দর্শকরা আজ অজিদের বধ হোক ব্রিটিশের হাতে এমনটাই বাংলাদেশের ভক্তদের বাসনা।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকে দর্শকদের মনে একটা গোপণ হিসাব নিকাশ ছিল বাংলাদেশ যদি আটজাতি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলে তবে কে হবে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ? এরকম একটা প্রশ্নের বিচারে ধরে নিলে বাংলাদেশের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা,ভারত নয়তো পাকিস্তান বা শ্রীলংকা দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। এখন যদি দক্ষিণ আফ্রিকা চোক করবে এটা ধরে নিই তবে থাকবে শ্রীলংকা ভারত নয়তো পাকিস্তান !

এখন যা পরিস্থিতি তাতে শ্রীলংকা পাকিস্তানের ম্যাচ হতে ছিটকে যাবে যেকোন এক দল তাতে নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে ভারত নয়তো দক্ষিণ আফ্রিকা !!

বি গ্রুপে ভারতের একক আধিপত্য ধরে নিয়ে হিসাব নিকাশ গড়ালেও শ্রীলংকার কাছে ম্যাচ হেরে অনেকটা ব্যাকফুটে চলে যায় ভারত। আনকোরা শ্রীলংকা পুরো পাশার ছকটা যেন পাল্টে দিয়েছে যাতে করে মূলত টুর্নামেন্টটাই উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। প্রতিটা ম্যাচের ফলাফলই নয় পরের ম্যাচে কি হচ্ছে তার জন্য মুখিয়ে থাকতে হচ্ছে দর্শককে। এই টুর্নামেন্টে “এ” গ্রুপের ম্যাচে আরো একটা প্রতিপক্ষ দল ছিল তা হল ইংল্যান্ডের অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির বাগড়া দেয়াটা।

সম্প্রতি এশিয়ার উদীয়মান পরাশক্তি হিসেবে আর্ন্তজাতিক টুর্নামেন্টে ভারতের সাথে বাংলাদেশের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তের মাঝে একটা দ্বৈরথ যেন সৃষ্টি করেছে। এটা বর্তমান সময়ে উপভোগ্য বটে ।এই দ্বৈরথ মূলত ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হতে ছিটকে দেয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে।

Once More……..

BE AWARE  Team India & South Africa

TIGERS Are Roaring…..

 

আর হবে একটি বানানও ভুল! ফুটপ্রিন্টারদের জন্য মেগা ট্রিক

Now Reading
আর হবে একটি বানানও ভুল! ফুটপ্রিন্টারদের জন্য মেগা ট্রিক

ফুট প্রিন্টের কথা যখন প্রথম জানতে পারি, তখন আসলেই অনেক খুশি হয়েছিলাম। সাতশ শব্দের একটা বাংলা আর্টিকেল লিখলে ফুট প্রিন্ট সত্তর টাকা করে আয় করার সুযোগ দিচ্ছে প্রথমে। এটা আমার মত মানুষের জন্য অনেক ভালো একটা ব্যাপার। কেননা, লেখার মান কেমন সেটা অবশ্য বিতর্কের ব্যাপার কিন্তু ভালো টাইপিং স্পীড আর বানান সম্পর্কে টুকটাক সচেতনতা আছে। অর্থাৎ, ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নিলে বেশ ভালো আয় করা যাবে।

প্রথমদিকে এটাই আমার ধারণা ছিল। কিন্তু প্রথম একটা আর্টিকেল লেখার পরে ভুল ভাঙতে দেরী হলো না। কারণ, বানান এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। আর বাংলা বানান এতটা কঠিন আমাদের সবারই প্রায় তিনটির বেশী করে বানান ভুল হচ্ছেই। তখন থেকেই একটা সল্যুশন বের করার চেষ্টা করছিলাম। এবং খুব সম্ভবত ভালো একটা উপায় পেয়েও গেছি। যেটা আমার বানান শুদ্ধ হতে সহায়তা করবে।

অতএব, দেরী না করে আসুন আলোচনা করি।

বানান শুদ্ধ করার জন্য আমরা অনেকেই গুগলে শব্দটি সার্চ দিয়ে বানান ঠিক আছে কিনা সেটা মিলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। প্রথমদিকে যখন আমি নিজে এটা করতাম, অনেক বেশী কনফিউজড হয়ে যেতাম। কারণ নামকরা নিউজ পোর্টাল গুলো একেকটা একেক ধরনের বানান লিখেছে। তবে এক্ষেত্রে আমি বরাবরই প্রথম আলোর বানান ফলো করার চেষ্টা করি। কিন্তু এতেও ঠিক পোষাচ্ছিল না। তাহলে কী করা যায়?

হুম, সমাধান আমাদের হাতের কাছে। আমরা লেখার জন্য প্রায় প্রত্যেকেই তো অভ্র ব্যবহার করে থাকি, ঠিক না? আপনি জানেন কি, এই অভ্র সফটওয়্যারটিরই কিন্তু নিজস্ব বানান শুদ্ধিকরণ সুবিধা আছে।

 

কিভাবে আপনি এই অপশনটি পাবেন?
১। প্রথম আপনার ডেস্কটপে উপরের দিকে অথবা হিডেন আইকন গুলোর মধ্যে অভ্র আইকনটিতে রাইট বাটন ক্লিক করুন। তাহলেই নিচের ছবির মত spell checker অপশনটি পাবেন। এছাড়াও আপনি ctrll+F7 কমান্ড চেপেও এই অপশনটি আনতে পারেন।

Screenshot_1.pngScreenshot_3.png

২। এরপরে যখন স্পেল চেকারটি ওপেন হবে, তখন আপনি এমএস ওয়ার্ডে আপনার যে লেখাটি লিখেছেন, সেটা কপি করে টেক্সট বক্সে পেস্ট করুন। এবং এবার শুধু F7 চাপুন। তাহলেই আপনার লেখায় প্রথম যে ভুলটি হয়েছে, সেটা অভ্র ফাইন্ড আউট করবে এবং আপনাকে সঠিক বানানটি দেখিয়ে পরিবর্তন করতে বলবে।

৩। এক্ষেত্রে দুইটা সমস্যা হবে। কিছু অজানা ইংরেজি শব্দ অভ্র ভুল হিসেবে দেখাতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি ইগনোর অন্স ক্লিক করে বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন। আর ভুল বানানটি দেখিয়ে দিলে, চেঞ্জ অন্স অথবা চেঞ্জ অল ক্লিক করবেন। বুঝতেই তো পারছেন, চেঞ্জ অন্স ক্লিক করলে শুধু ওই শব্দটিই পরিবর্তন হবে। আর চেঞ্জ অল ক্লিক করলে পুরো লেখায় যতবার ঐ শব্দ এসেছে সব গুলো চেঞ্জ হয়ে যাবে।

৪। এভাবে একদম শেষ পর্যন্ত আপনি বানান শুদ্ধ আছে কিনা যাচাই করতে পারবেন।

 

অসুবিধা:

হ্যাঁ, এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন অভ্র এর এই বানান শুদ্ধিকরণ সুবিধাটি শতভাগ পারফেক্ট নয়। এটা টাইপ মিস্টেক এবং প্রায় নব্বই ভাগ ভুল বানান গুলো বের করতে পারে। কিন্তু আপনার তো দরকার পুরো ১০০ ভাগ সঠিক বানান। সেক্ষেত্রে আপনার সহজ কিন্তু কনফিউজিং বানান গুলো সম্পর্কে কিছুটা ধারনা রাখতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, ‘কোনো’ শব্দটির কথা বলা যায়। আপনি কোনো কিছু সম্পর্কে যদি লিখতে যান, তাহলে কিন্তু কোনো এবং কোন দুইটিই সঠিক। কোন লিখতাম আমরা অনেক আগে। আর সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা একাডেমী যে বানানের বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে, তার মধ্যে এই কোনোও একটি। অর্থাৎ, দুইটিই সঠিক।

তাহলে আমাদের লেখার কমন কিছু কনফিউজিং বানান নিয়ে চলুন ছোট্ট করে একবার আলোচনা করে নেই। যেগুলোর দুটো বানানই সঠিক যার ফলে অভ্র ফাইন্ড আউট করতে পারে না।

কী নাকি কি?

অবশ্যই দুটিই সঠিক। তবে এটা নির্ভর করে আপনি আসলে কী বোঝাতে চাচ্ছেন? ধরুন, আপনি কাউকে প্রশ্ন করছেন, আজকে ক্লাসে কী কী পড়াবে? এক্ষেত্রে কিন্তু আপনাকে ‘কী’ লিখতে হবে। অর্থাৎ, আপনি এমন কিছু জিগ্যেস করছেন, যেটার উত্তর এক কথায় না হয়ে কিছুটা ব্যাখ্যা থাকবে, সেটার ক্ষেত্রে লিখতে হবে কী। তাহলে ‘কি’ লিখবেন কোথায়? আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করি, আপনি কি আমার লেখাটি পড়ছেন? তাহলে আপনার উত্তর হবে, হ্যাঁ। হুম, এখানেই আপনি কি লিখবেন। অর্থাৎ যে প্রশ্নের উত্তর এক কথায় হ্যাঁ এবং না তে দেয়া যায়, সেই প্রশ্ন করতে হলে আপনাকে কি লিখতে হবে।

করো নাকি কোরো?

এখানে একটা ভাবের ব্যাপার আছে। ধরুন আপনি কাউকে প্রশ্ন বলছেন, সাইদ, তুমি এই কাজটা করো। অর্থাৎ কথাটি খুব সাধারণ ভাবে সাইদকে করতে বলছেন। আবার, মনে করুন সাইদ কাজটি করতে চাচ্ছে না, তখন ওকে বলতে হবে, সাইদ… তুমি কাজটি কোরো প্লিজ? বুঝতে পারছেন? পরেরটায় আলাদা একটা আবেদন রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি কোরো ব্যবহার করতে পারেন।

হল নাকি হলো?

এক্ষেত্রে একটা কমন সমাধান আছে। যেটা প্রায় সব ব্যাকরণ বইতেই আপনি পাবেন। সেটা হলো, যে ক্রিয়াপদের শেষে ও কার না দিলে ব্যাপারটি বোঝা যায়। সেটায় আপনি অযথা ও কার দিতে যাবেন না। যেমন এখানে, হল মানে কিন্তু হলরুমও বোঝাতে পারে। অর্থাৎ আপনার এখানে হলো ব্যবহার করতে হবে।

যাইহোক, একদমই কমন কিছু ভুল নিয়ে শেষের দিকে আলোচনা করলাম। যেগুলো আপনাদের কাজে আসতে পারে। আর প্রথমদিকের অভ্র ট্রিকটা যে কাজে আসবে, সেটা তো গ্যারান্টি দিয়ে বলাই যায়!

ভাল থাকুন সবাই।

 

আবার দেখা হবে। পর্ব-১

Now Reading
আবার দেখা হবে। পর্ব-১

চারদিকে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। আমি দাঁড়িয়ে আছি রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানের সামনে। বড় খালার বাসায় যাচ্ছিলাম , হঠাত আচমকা বৃষ্টি নামার কারণে অনেকটা ভিজে গেছি। আমার বাসা মিরপুর আর বড় খালার বাসা বনানী। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভিতর দিয়ে যাওয়ার কথা আমার। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি মিরপুর১৪ তে, একটি চায়ের দোকানের সামনে। বড় খালার বাসায় একটা জরুরী কাজে যাচ্ছিলাম; পারিবারিক কাজ। কিন্তু এখন মনে আসছে না ঠিক। গত কয়েকদিন ধরে আমি নিজেই বুঝতে পারছি যে আমার মাথায় কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে। সবকিছু কেমন যেন ভুলে যাই , আবার কিছু সময় পর মনে পড়ে। চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছি , এমন সময় একটা মেয়ে তাড়াহুড়া করে ছাতা বন্ধ করতে করতে আমার সামনে এসে দাঁড়াল।
এইযে একটু সড়ে দাঁড়ান।
আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সড়ে বাইরের দিকে দাঁড়ালাম।
আমি মেয়েটার ঝাড়ি খেয়ে লজ্জায় চুপ করে আছি। মেয়েটার বয়স কত হবে? ১৮ বা ১৯ বড়জোর। আর আমার বয়স ২৬। কেউ দেখেনি বলে এই পুচকি মেয়ের ঝাড়িতে প্রেস্টিজে লাগলো না। মেয়েটার চুল বৃষ্টির পানিতে ভিজে আরো কালো দেখাচ্ছে। চুলগুলো কেমন যেন আকর্ষণ করছে আমাকে। আমি চা খাওয়া শেষ করে বাইরের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টি দেখছি আর কখন বৃষ্টি থামবে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছি। মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি সুরে বলল- আচ্ছা, এখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কিভাবে যাবো বলতে পারেন?
আমি অবাক। কিছুক্ষণ আগে যে মেয়ে আমাকে ঝাড়ি দিল, সে এখন আমাকে মিষ্টি সুরে কিছু জিজ্ঞেস করছে। মেয়েটা কে প্রথমে খুব রাগী মনে হচ্ছিলো কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এই মেয়ের মত মায়াবী মেয়ে আর একটিও নেই।
ঢাকা মেডিকেল এখান থেকে অনেক দূরে।
অনেক জরুরী। আমাকে যেতেই হবে।
আচ্ছা, আমি আপনাকে বলে দিচ্ছি কিভাবে যেতে হবে। আশা করি যেতে পারবেন।
এখন বৃষ্টি থেমে গেছে অনেকটা।
আসলে আমি ঢাকায় নতুন আর ঢাকার রাস্তায় পথ চলতেও কেমন যেন ভয় লাগে, অনেক গাড়ি। আপনার যদি সময় থাকে আর কিছু মনে না করেন তাহলে আমাকে প্লিজ একটু পৌঁছে দিন।
আপনি আমাকে চিনেন? অপরিচিত লোকের সাথে যেতে ভয় লাগবে না?
আমি আপনাকে না চিনলেও আরও ২০মিনিট আগে আপনাকে দেখেছি একজন বৃদ্ধকে রাস্তা পার করিয়ে দিচ্ছেন। মন বলছে আপনি অতটা খারাপ মানুষ নন।
বৃষ্টি নামার আগে দেখলাম একজন বৃদ্ধ লোক রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সেখানে ওভারব্রিজ না থাকায় ও রাস্তায় প্রচুর গাড়ি থাকার কারণে লোকটি রাস্তা পার হতে পারছেন না। তাই আমি সাহায্য করেছিলাম। তবে এই মেয়ে দেখলো কিভাবে সেটা বুঝতে পারলাম না।
চুপ করে আছেন যে, আমাকে পৌঁছে দিতে পারবেন?
আমি রাজি হয়ে বললাম চলুন।
থ্যাংকস। আচ্ছা, আপনার চুলগুলো এতো বড় বড় কেনো?
আমি রীতিমত আকাশ থেকে পড়লাম। আরে এই মেয়েকে চিনি না, জানি না। বিপদে পড়েছে বলে সাহায্য করছি। আমি এমনিতেই মেয়েদের থেকে দূরে দূরে থাকি। কিন্তু এই মেয়ে আমার চুল নিয়ে কথা বলে ফেলল। কি সাংঘাতিক।
এমনি। শখ করে চুল বড় রেখেছি।
ছেলেদের এত বড় চুল আমি কখনো দেখিনি। মেয়েদের চুল থাকবে বড়। ঠিক আমার চুলের মত। আচ্ছা বলুন তো আমার চুলগুলো কেমন? সুন্দর লাগছে দেখতে?
আমি মনেমনে ভাবলাম এই মেয়ে বাচাল নাকি। নাহ, মনে হয় মাথায় ডিস্টার্ব। বললাম, আপনার চুলগুলো অনেক কালো আর সুন্দর।
আপনি তখন বলছিলেন আপনি ঢাকায় নতুন এসেছেন। তাহলে আপনার বাসা কোথায়?
ময়মনসিংহ। তবে এটা ভেবে ভুল করবেন না যে আমি গ্রামে থাকি। ময়মনসিংহ সদরেই আমাদের বাসা।
আসলেই। এই মেয়ের কথাবার্তা শুনেই বুঝা যায় শহরে থাকে। তা ঢাকা মেডিকেল কেন যাচ্ছেন?
রক্ত দিতে।
আপনার আত্মীয় কেউ অসুস্থ?
না। আত্মীয় না, ফেসবুকে একটা গ্রুপে দেখলাম একজনের হার্টে অপারেশন হবে আজ রাতের মধ্যে ২ ব্যাগ রক্ত লাগবে। ও নেগেটিভ রক্ত। সহজে নাকি পাওয়া যায় না। আর রোগীর পরিবার থেকে এক ব্যাগ ম্যানেজ করেছে, বাকি এক ব্যাগ আমি দিবো। ব্লাড ব্যাংকে খুঁজেও পায়নি। সময়ও কম ছিল। তাই আমি রাজি হলাম। জানেন রোগীর স্বামী আমাকে ফোন দিয়েই কেদে দিয়েছে।
আচ্ছা। আমরা চলে এসেছি বাকি কথা পড়ে শোনা যাবে। চলুন রোগীর কাছে যাই।
ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে মেয়েটি সম্ভবত রোগীর স্বামীকে ফোন দিল। ভদ্রলোক এসেই আমাদের সালাম দিলেন। তিনি মনে হয় কল্পনাও করতে পারেননি রক্ত দিতে এই মেয়ে এত দূরে চলে আসবে , তাও একা। ভদ্রলোক আমাদের ব্লাড ব্যাংকের সামনে বসিয়ে রেখে খাবার আনতে গেলো।
আচ্ছা, আমি তাহলে যাই। আপনি থাকেন।
চলে যাবেন ? আমার জন্য আরেকটু কষ্ট করুন। আরেকটু সময় থাকুন। রক্ত দেয়া হয়ে গেলে আমাকে প্লিজ বাসস্ট্যান্ডে দিয়ে আসবেন।
অকে। আচ্ছা, আপনার নাম তো জানা হয়নি।
আমার নাম মিতু। আপনার?
আমি পাভেল। আপনি যে একা ঢাকা চলে আসলেন বাসার কেউ চিন্তা করবে না ?
না। বাসায় বলেছি বান্ধবীর বাসায় যাব।
আপনি মিথ্যা বলেন?
ভালো কাজের জন্য এমন ছোট মিথ্যা বলা যায়।
ভদ্রলোক মিতু আর আমার জন্য ৪টা ডাব, পাউরুটি, ১ লিটার জুস, ২ প্যাকেট তেহারী, পানি নিয়ে এসেছেন।

 

চলবে ……………………………………………………………………