1
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
ফ্রেশ!
REGISTER

নবাব শাকিব খান

Now Reading
নবাব শাকিব খান

nobab.jpg

ঈদের আনন্দ দিগুণ করতে যেই কাজটা সবচেয়ে বেশী করা হয়, তা হল এক কোথাও ঘুরতে যাওয়া অথবা দুই হলে বসে ছবি দেখা, সেটা যদি বাংলা ছবি হয়, তাহলেতো কথাই নেই। এবারের ঈদে মুক্তি প্রাপ্ত তিনটি ছবির মধ্যে যেই ছবিটা মুক্তির অনেক আগে থেকেই আমার মন কেরে নিয়েছিল, তা হল সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ছবি “নবাব”। গত বছর ঈদে মুক্তি পায় শাকিব খানের আরেকটি যৌথ প্রযোজনার ছবি শিকারি। সেই বছরের মধ্যে শিকারি ছিল ব্যবসাসফল। শিকারি ছবি দেখেই মনে হয়েছিল যে নবাব ছবিটাও সেরকম হিট কিছুই হবে। তাই নবাব ছবিটা হলে বসে দেখার লোভ আমি সামলাতে পারলাম না। যেই ভাবা সেই কাজ।

ঈদের পরদিন বিকালেই সিনেমা হলে চলে গেলাম (সংগত কারণেই সিনেমা হলের নাম বলতে চাইনা)। উদ্দেশ্য নবাব ছবিটি দেখবো। কিন্তু হলে পৌঁছেই হতাশ হতে হল। হলের সামনে বিরাট লাইন। কোন মতেই টিকিট কেটে হলে যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা টিকিট কাটতে কাটতে হাউজফুল হয়ে যাবে নিশ্চিত। কি আর করা, ব্ল্যাকার এর খোঁজ করতে লাগলাম এবং টিকিট পেয়েও গেলাম। (আশা করি ব্ল্যাকার এর কাছ থেকে টিকিট নেয়াটা সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)।

অজস্র ভালো ছবির নির্মাতা জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত নবাব। ছবিটি দেশের ১২৪টি হলে মুক্তি পেয়েছে। যৌথ প্রযোজনার এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের আব্দুল আজিজ এবং কলকাতার জয়দেব মুখার্জী। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান,শুভশ্রী,অমিত হাসান,রজতাভ দত্ত,সব্যসাচী চক্রবর্তী,খরাজ মুখার্জিসহ অনেকে।

ছবির কাহিনীটা আপাতত নাই বললাম, কারণ ছবি যেহেতু এখনো হলে চলতেছে, আতি সবাইকে ছবিটি হলে দেখার আমন্ত্রণ জানাবো।

শাকিব খান অভিনীত যৌথ প্রযোজনার ছবি নবাবও দক্ষিন ভারতের অ্যাকশন থ্রিলারের ফর্মুলায় সস্তা ভারতীয় বাংলা ছবি। ছবিটি মুক্তির আগেই অবশ্য এর কাহিনী নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা হয়েছে যে কাহিনী অন্যান্য কিছু ছবি থেকে কপি করা হয়েছে। যেখানে বলিউড কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ছবি হলিউড কিংবা কোরিয়ান মুভি কপি করে বানায় এবং আমরা সেগুলো দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ি। হলিউডের অনেক ছবিও অন্যান্য বিভিন্ন দেশের ছবির অবলম্বনে নির্মিত হয়।

সেখানে আমাদের দেশের ছবি যদি নির্মাণের দিক থেকে ভালো হয় তবে কেন দেখবো না হলে গিয়ে? হোক সেটা দুই চারটা ছবি থেকে কপি করা কিন্তু পরিপূর্ণ বিনোদন তো পাচ্ছি আমরা। আবার যৌথ প্রযোজনা নিয়েও অনেকে অনেক কথা বলতেছেন। বলা হচ্ছে যে যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। এখন যারা এই যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়ে কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলব,আপনারা নিজেরা কেন মান সম্পন্ন ছবি বানাচ্ছেন না দেশে? আপনারা যদি এরকম মনসম্পন্ন ভালো ছবি বানান, তাহলে নিশ্চয় দর্শক আপনাদের ছবি দেখবে। দেশের দর্শক আর যৌথ প্রযোজনার ছবি দেখবে না তাহলে। পরিপূর্ণ দেশীয় ছবিই দেখবে। তবে মনে রাখবেন, এখন বিশ্বায়নের যুগ। মানুষ ঘরে বসেই পুরো দুনিয়া ঘুরে আসতে পারে, তাই বিনোদনের মাধ্যম চলচ্চিত্রকেও কোন বাঁধনে বেঁধে রাখবেন না। আর প্রতিযোগিতা থাকবেই, আপনারাও দেখিয়ে দিন, আপনারাও কোন অংশে কম না।

যাই হোক,আমরা আবার নবাবে ফিরে আসি। অভিনয়ের দিক থেকে সবার পারফর্মেন্স ছিল অসাধারণ। কি কেন্দ্রীয় চরিত্র,কি পার্শ্ব চরিত্র সবার অভিনয় শৈলী চোখে পড়ার মত। তবে সবচেয়ে বেশী নজর কেড়েছে আমাদের সুপারস্টার নায়ক শাকিব খানের রাজীব চৌধুরী ওরফে নবাব নামের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি। শাকিব খানকে দেখতে বেশ সুদর্শন লেগেছে। স্লিম, হিট এন্ড ফিট; একেবারেই বলিউডের নায়কদের মতো। ছবিতে তার অভিনয় দেখেই বোঝা যায় যে চরিত্রটির জন্য বেশ পরিশ্রম করেছেন তিনি, যা ছিল বেশ সাবলীল এবং উপভোগ্য। তার সংলাপ ডেলিভারি,নাচ,অ্যাকশন সব মিলিয়ে যেন একটি যথাযথ প্যাকেজ। যদিও নবাব নামটি ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র কয়েকবার তাই শুধু নায়িকার মুখে । পুরো ছবিতে শাকিব খানের নাম ছিল রাজিব চৌধুরী সাহেব । তবু ছবির নাম নবাব দিল কোন যুক্তিতে সেইটাও মাথার উপর দিয়ে গেল ।

ক্রাইম রিপোর্টারের চরিত্রে শুভশ্রীও ভালো করেছেন। তবে তার চরিত্রের ব্যাপ্তি আরেকটু হলে ভালো হত। মুখ্যমন্ত্রীর চরিত্রে অপরাজিতা এবং সব সময় কমেডি চরিত্রে অভিনয় করা খরাজের ভিলেনের চরিত্রটি ছিল আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অনেক বেশী ভালো।

ছবিতে মোট তিনটি গান রয়েছে এবং তিনটি গানেই তিন ধরনের স্বাদ পাওয়া যায়। ‘যাবো নিয়ে’ গানটিতে পাওয়া যাবে সফট মেলোডি,‘ষোলআনা’ গানে রয়েছে মশলাদার বিট আবার ‘ও ডিজে’ গানে পাওয়া যাবে পরিপূর্ণ বাংলা আইটেম গানের আমেজ। গানের সাথে সাথে ভালো ছিল ছবির আবহ সংগীতও।

ছবির শিল্প নির্দেশনা,ঝকঝকে ক্যামেরার কাজ,পোশাক পরিচ্ছদ,মেকআপ সব কিছু মিলিয়ে যথাযথ মনে হয়েছে। ছবির প্রতি পদে পদে যে টুইস্ট সেটাও অনেক উপভোগ্য, কেউ কেউ বলতে পারেন এ আর নতুন কি? কোথাও কোথাও কাহিনীর প্যাঁচে একটু আধটু বিরক্তি ধরলেও সব মিলিয়ে নবাব একটি পয়সা উসুল ছবি।

তবে, আর সব যৌথ প্রযোজনার ছবির মত এই ছবিতেও বাংলাদেশকে খুঁজতে গেলে আপনাকে কষ্ট করতে হবে। এটা বাংলাদেশী না কলকাতার ছবি তা আপনার চোখেই ধরা পরে যাবে।

আসলে ভুল ধরতে গেলে সবকিছুতেই হাজারটা ভুল ধরা যাবে। তাই ভুলের ভুলের দিকে না তাকিয়ে অন্তত বিনোদনের জন্যে হলেও সবাইকে আমি নবাব ছবিটি হলে গিয়ে দেখার আহবান জানাব। জয় হোক বাংলা ছবির। বাংলা ছবি হোক সুস্থ বিনোদনের অন্যতম হাতিয়ার। তবে একক প্রযোজনা হোক আর যৌথ প্রযোজনা হোক, আমরা যেন আমাদের দেশকে সহজে খুঁজে পেতে পারি এরকম ছবি নির্মাণ করার দাবি থাকল।

আসলে কি হচ্ছে বিএফডিসি’তে…! (একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট)

Now Reading
আসলে কি হচ্ছে বিএফডিসি’তে…! (একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট)

বর্তমানে চলচিত্র পাড়ায় বেশ অস্বস্থি বিরাজ করছে বলা যায় সদ্য সমাপ্ত চলচিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পর থেকে দুটি পক্ষ পরস্পর মুখোমুখি অবস্থানে । এই দুই পক্ষের একটায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন চলচিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি খল অভিনেতা মিশা সওদাগর এবং অন্য আরেকটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নায়ক শাকিব খান। চলচিত্র সংশ্লিষ্টতা থেকে কখনো কখনো ব্যাক্তি পর্যায়েও আক্রমণ করা হচ্ছে, এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দুষছে চলচিত্র কলুষিত করা কিংবা কার কত অবদান তা পরিমাপ করা নিয়ে। মূল ঘটনা প্রকাশ্য হয় যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবি নিয়ে । মিশা সওদাগর এর নেতৃত্বাধীন পক্ষে আছে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নেতা খোরশেদ আলম খসরু, পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, নায়ক ফারুক,রুবেল, রিয়াজ,সাইমন,ডিপজল, জায়েদ খানসহ একটি বিরাট অংশ- যারা চাইছে সমতার ভিত্তিতেই যৌথ প্রযোজনার ছবি । আর শাকিব খানের নেতৃত্বাধিন পক্ষে আছে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার মোহাম্মদ আজিজ, পরিচালক কাজী হায়াৎ, চলচিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ, নায়ক শুভ, নায়িকা নুসরাত ফারিয়া,মাহিয়া মাহি সহ অনেকেই যারা চান যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণ যেন বন্ধ না হয়। এই দুই পক্ষের চাওয়া দেখলেই যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারেন, বলবেন তাহলে সমস্যা কোথায়? দুই পক্ষের চাওয়াইতো প্রায় এক…!

এই কৌতূহল থেকে বেশ কিছুদিন অনুসন্ধান করে এবং ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে জানার চেষ্টা করেছি মূল সমস্যাটা কোথায়…! বিগত বেশ কিছুদিন যাবতই এমন অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছিল চলচিত্র পাড়ায় যদিও চলচিত্র সংশ্লিষ্ট ছাড়া মিডিয়া কিংবা অন্যকেউ তেমন কিছু বিস্তারিত জানত না। কিছুদিন আগেই যখন অপু বিশ্বাস এর সাথে শাকিব খান এর বিয়ে এবং তাদের বাচ্চার খবরটা চাউর হয় ঠিক তখনি শাকিব ইঙ্গিত করেন তার প্রতি একটি অশুভ চক্র ও শক্তি কাজ করছে। শাকিব এও অভিযোগ করেন যে তার ক্ষতি করতে পারে এই চক্রটি। এর পর থেকেই মূলত দ্বন্ধ প্রকাশ্য রূপ নিতে থাকে। চলচিত্র পরিচালক ও প্রযোজক সমিতিকে কটাক্ষ করার অজুহাতে শাকিবকে নিষিদ্ধ করে বাধ্য করা হয় সমিতির কাছে ক্ষমা চাইতে । চলচিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শাকিব এর সমর্থন দেয়া ওমর সানি-অমিত হাসান প্যানেল হেরে যায় এবং ফল ঘোষণার রাতেই নব নির্বাচিত মিশা সয়দাগর-জায়েদ খান প্যানেলের লোকজন কর্তৃক শাকিব এর উপর শারীরিক হামলা হয় । শাকিব এই ঘটনার জন্য সরাসরি তাদেরকে ইঙ্গিত করে মামলা দায়ের করেন, শাকিব খান এর উপর হামলা চলচিত্র সংশ্লিষ্টরা ভালভাবে নেয়নি। এদিকে নব নির্বাচিত শিল্পী সমিতির নেতারা যাতে শপথ নিতে না পারে তার জন্য আদালতে রিট করা হয় ওমর সানি-অমিত হাসান প্যানেল থেকে, এ বিষয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ কপি আসার আগেই তড়িঘড়ি করে শপথ নিয়ে নেয় নব নির্বাচিত শিল্পী সমিতির নেতারা । অনেকেই হয়ত ভাবছেন যৌথ ছবির প্রসঙ্গে এসব বিষয় আসছে কেন? কেননা প্রতিটি ঘটনা একটা আরেকটার সাথে সংশ্লিষ্ট।

বাংলা চলচিত্র যথেষ্ট সমৃদ্ধ, কালজয়ী অনেক অভিনেতাই সৃষ্টি হয়েছে এই বাংলা চলচিত্রের হাত ধরে ঠিক তেমনি অনেক কালজয়ী চলচিত্রও নির্মিত হয়েছে। কিন্তু মাঝখানের একটা সময়ে চলচিত্রে অশ্লীলতা প্রবেশ করে ব্যাপক আকারে, আবির্ভাব ঘটে পলি,মুনমুন, ময়ূরীদের মত অশ্লীল ছবির ক্ষণজন্মা নায়িকাদের । এদের দিয়ে অনেক জুনিয়র ও সুযোগ সন্ধানী পরিচালক নির্মাণ করতে থাকেন একের পর এক অশ্লীল ছবি আর দেশের আনাচে কানাচে প্রায় সকল প্রেক্ষাগৃহে চলতে থাকে এসব ছবি । বলা যায় মানুষের ছবি দেখার রুচিই এক প্রকার বদলেই গিয়েছিল। এই রেশ থাকাকালীন নায়ক মান্না এর সাথে সাথে চলচিত্রে আবির্ভূত হন নবাগত নায়ক শাকিব খান এর। তাদের নিয়ে তৈরি হতে থাকে মোটামুটি সুস্থ ধারার ছবি, তখন দর্শকদের মাঝে পুনরায় ফিরে আসে সুস্থ ছবি দেখার প্রবণতা। সামাজিক ও অ্যাকশন নির্ভর ছবিতে অভিনয় করে দীর্ঘ ১যুগে শাকিব একাই চলচিত্রে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয় এবং তৈরি করে নেয় তার একক অবস্থান। প্রায় প্রত্যেক প্রযোজক তাদের ছবিতে শাকিবকে কাস্ট করতে হন্যে হয়ে পড়ে, অধিকন্তু বাধ্য হয়ে অশ্লীল ছবি নির্মাণ পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যায় এবং সেইসব পরিচালকরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে চলচিত্র জগতে। এরই মাঝে ফাঁকে ফোঁকরে নিজ অর্থায়নে অনন্ত জলিল চেষ্টা করেছেন কিছু ছবি নির্মাণের কিন্তু তাও ব্যাবসাসফল হয়নি উল্টো নিজেকে নায়ক রুপে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ছবিতে প্রাধান্য থাকায় দর্শকদের সমালোচনায় পড়েন তিনি। এরই মধ্যে দেশী ছবি নির্মাণের পাশাপাশি শুরু হয় আরেক নতুন ট্রেন্ড, আর তা হল যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচিত্র। মূলত ঢাকার ঢালিউড ও কলকাতার টালিউড এর যৌথ নির্মাণ বলা হলেও ছবিতে একক আধিপত্য থাকত টালিউড এর, বেশিরভাগ ভাগ ছবির শিল্পী কলাকুশলী থাকত সেখানকার এবং ছবির দৃশ্যায়ন হত ওপার বাংলায়। পর্যায় ক্রমে সেই প্রাধান্যতা কমে আসে, বাংলাদেশের অনেক শিল্পী কলাকুশলীরা সম্পৃক্ত হয় এসব ছবিতে এবং তাদের প্রোডাকশন ও কাজ করতে আসে ঢাকায় । যৌথ প্রযোজনার ছবিতে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত অফার পেতে থাকে নায়ক রাজ রাজ্জাক, শাকিব খান, মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়া, অমিত হাসান, জয়া আহসান সহ অনেকেই। এদিকে হল মালিকরাও যৌথ প্রযোজনার ছবি প্রদর্শনে অধিকতুর আগ্রহি হয়ে পড়ে। কেননা এই ছবির বাজেট বেশী হওয়ায় নির্মাণ শৈলী, ডিজিটাল ইফেক্ট ও সাউণ্ড, ভিএফ এক্স, কস্টিউম, হাই ক্লাস ইকুপমেনট এর ব্যাবহার ইতাদি এতটাই নিখুঁত যে ছবিগুলো দর্শকদের সহজেই কাছে টেনে নিয়েছে। অন্যদিকে দেশের কম বাজেটে নির্মিত ছবিগুলো এক প্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে এবং ব্যাবসায়িক ফ্লপ হতে থাকে। এমতাবস্থায় চলচিত্র সংশ্লিষ্ট যারা আছে তাদের ভিতর একটা ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে থাকে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবির বিরুদ্ধে যা পর্যায়ক্রমে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যন্ত গড়ায়।

যাই হউক বর্তমান প্রসঙ্গে আসি, মূলত এই ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা যৌথ প্রযোজনার নির্মিত দুটি ছবির বিরুদ্ধেই চলচিত্র সংশ্লিষ্ট একাংশের অবস্থান, তারা ইতিমধ্যেই মিছিল, সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট সহ 1.jpgসরকারের উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে যেন ছবিগুলা মুক্তি না পায়। এরইমধ্যে দুটি ছবির একটি নবাব ছাড়পত্র পেয়ে গেছে, নবাবে প্রিভিউ কমিটি কোনো অনাপত্তি জানায়নি কিন্তু বিপত্তি বাঁধে অন্য ছবি বস২ নিয়ে, এ ছবিতে প্রিভিউ কমিটি আপত্তি জানিয়েছে। কারণ হিসেবে জানা যায় বস২ নির্মাণে যৌথ প্রযোজনার নিয়ম সঠিকভাবে মানা হয়নি, তাই এটি ছাড়পত্র পাচ্ছেনা। দুটি ছবিরই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টি মিডিয়া প্রেস কনফারেন্স করে ঘোষণা দিয়েছে যে যদি দুটি ছবির একটিও যদি প্রচারে ছাড়পত্র না পায় তবে তারা একটিও প্রচার করবেনা। এই ঘোষণার ঠিক পরদিন ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ এর উপর শারীরিক আক্রমণ হয়, জনাব নওশাদ একাধারে প্রদর্শক সমিতির সভাপতি, মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক, প্রযোজক ও পরিবেশক এবং চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড এর সদস্য। এ নিয়ে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠে সিনেমা পাড়া।  ইতিমধ্যে ঢাকার রাজপথে নামে শাকিব খান, আরেফিন শুভ ও জাজ মাল্টিমিডিয়া এর ভক্ত সহ চলচ্চিত্র প্রেমী ও সাংবাদিকবৃন্দ। তাদের শ্লোগান ছিল- দর্শকের পছন্দ, স্বাধীনতা ও চাহিদা পূরণে বাঁধা দেয়া চলবে না ।সিনেমা হল বাঁচলে, চলচ্চিত্র বাঁচবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বস২ ও প্রিভিউ কমিটির ছাড় পায়। অন্যদিকে মিশা সওদাগরের নেতৃত্বাধীন অংশটির ঘোষণা ছিল এই দুটি ছবি বন্ধে প্রয়োজনে তাদের রক্ত বিসর্জন দেবে। বিএফডিসি’তে পরিস্থিতি খুব একটা স্বাভাবিক তা কিন্তু নয়, যেকোন মুহূর্তে অশান্ত হয়ে উঠতে পারে সিনেমা পাড়া। বাংলা চলচিত্রের এ অশনি সংকেত দ্রুত কেটে যাবে এ প্রত্যাশা সবার।

২০১৬ সালের ব্যবসা সফল সিনেমা . . .( পর্ব – ১ )

Now Reading
২০১৬ সালের ব্যবসা সফল সিনেমা . . .( পর্ব – ১ )

লাগ ভেল্কি লাগ ভেল্কি

আয়নাবাজির ভেল্কি লাগ।

সত্যিই যেন আয়নাবাজির ভেল্কির মত আমাদের দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছে। অল্প কয়েক দিনেই দেশের চলচ্চিত্র বিশ্ব দরবারে প্রশংসা কুড়ানো শুরু করেছে। কিন্তু এর পিছনে আসলে কি রয়েছে? কিভাবে ঘটল দেশের চলচ্চিত্রে এমন আমূল পরিবর্তন? কিছুদিন আগেও দেশের চলচ্চিত্র গুলো নিয়ে দেশের মানুষের নাক ছিটকানো অবস্থা ছিল। সিনেমা হল গুলোতে কেউ ছবি দেখতে তো যেতই না এমনকি দেশের মানুষই ছবি নিয়ে অনেক অনেক বাজে মন্তব্য করত।

বাংলাদেশের পুরোনো দিনের ছবিগুলো দেশের সম্পদ হয়ে ছিল এতদিন। রাজ্জাক, আলমগীর, শাবানা, মৌসুমি তারা আমাদের যে সব ঐতিহ্যপূর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে গিয়েছিল সেই ঐতিহ্য আমরা অনেক আগেই হারিয়েছি। দেশের চলচ্চিত্রে স্থান নিয়েছিল নোংরামি, অসভ্যতা, অপসংস্কৃতি। তেমনি ছবিগুলো ছিল খুবই বাজে কোয়ালিটির। আমি বাজে কোয়ালিটি বলতে ছবিতে ব্যবহৃত ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম ইত্যাদি আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় গুলোকে বুঝাচ্ছি। তবে চলচ্চিত্র জগতে অসাধারণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় ২০১৬ সালের কিছু ব্যবসা সফল ছিনেমা গুলোতে। যেগুলো বিভিন্ন পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অসাধারণ গল্প নিয়ে তৈরি ছবি গুলো সব ধরণের গুণাবলির দিক দিয়ে ছিল সয়ংসম্পূর্ণ। স্টোরি টেলিং, ক্যামেরা, সাউন্ড, অভিনয় থেকে শুরু করে গ্রাফিক্স সবই ছিল যেন অসাধারণ। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে দেশের চলচ্চিত্র জগত। ‘আয়নাবাজি’ দেখে কারোর মন ভরে নি, ‘মুসাফির’ দেখে কেউ উপভোগ করে নি, ‘আইসক্রিম’ দেখে কেউ রোমাঞ্চ পায় নি, ‘শিকারি’ দেখে কেউ বলে নি অভিনয় ভালো হয় নি, ‘অজ্ঞাতনামা’ দেখে কারোর মন কাঁদে নি এমন হয়ত কোথাও শোনা যায় নি। ২০১৬ সালকে দেশের চলচ্চিত্র জগতের উন্নতির স্বর্ণযুগ বলা যেতেই পারে। আর কেউ বলুক বা নাই বলুক আমার মতে ২০১৬ সাল দেশের চলচ্চিত্রের মোড় পাল্টে দিয়েছে। সেই সাথে দেশের সিনেমা হল গুলোর ও কদর বেড়েছে। এখন মানুষ সিনেমা হলে স্ব-পরিবারে গিয়ে সিনেমা দেখে আসছে। যা কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে দুঃস্বপ্ন ছিল। ঠিক এমন করেই যখন পাল্টে গিয়েছে দেশের চলচ্চিত্র তখন সেই সব চলচ্চিত্র নিয়ে কথা না বললেই নয়। কথা বলব সেই সব ব্যবসা সফল ও অসাধারণ গল্প নিয়ে গড়া চলচ্চিত্র নিয়ে।

আয়নাবাজিঃ

গল্প ও অভিনয়ের দিক থেকে আমি আয়নাবাজি ছবি টিকে রেখেছি এক নাম্বারে। তবে ছবিটি অনেক প্রশংসা, পুরস্কার কুড়ানোর সাথে সাথে হয়েছে ব্যবসা সফল। অমিতাভ রেজা চৌধুরীর প্রথম ছবি হিসেবে ছবিটি এতটা জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফল হবে তা আশাতীত ছিল। ২০১৬-র ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় ছবিটি আয় করে ২১.৩ মিলিয়ন বাংলাদেশী টাকা। যা পূর্ববর্তী প্রায় সব রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে চঞ্চল চৌধুরী, মাসুমা নাবিলা, পার্থ বড়ুয়া। IDMb তে ৯.৬ রেটিং পেয়ে শিকারির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা আয়নাবাজি। প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে অমিতাভ রেজার এই ছবিতে মোট আয় ১৪০ মিলিয়ন টাকা।

ছবির মূল কাহিনী আয়না নামের একজন মানুষকে নিয়ে। যে কিনা অভিনয় নিয়ে জীবনে অনেক সংগ্রাম করে। কিন্তু অভিনয়ের মাধ্যমে কর্মজীবনে সফল হতে পারে নি। আয়নার মায়ের মৃত্যু, অভিনয়ের অসাধারণ মেধার স্বীকৃতি না পেয়ে পরবর্তীতে সে বাস্তব জীবনে অভিনয়কে প্রয়োগ করতে শুরু করে। আয়না চরিত্রে অভিনয় করেন চঞ্চল চৌধুরী। অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে যে কোন মানুষের রূপ দিতে পারে আয়না। এভাবেই সে সমাজের নানা ধরণের অসংগতিকে আইনের বেড়া জালের বাইরে রাখে। এছাড়াও ছবিটির মূলে ছিল ঢাকা শহরের কিছু রাজনৈতিক অন্ধকার চিত্র। যা অমিতাভ রেজা অসাধারণ ভাবে ছবিটিতে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ক্ষমতাবান মানুষ তাদের টাকার ক্ষমতায় কিভাবে আইনকে কিনে নেয় এবং আইনের চোখে ধুলা দেয় সেটাই এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে।

অজ্ঞাত নামাঃ

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম পরিবেশিত চলচ্চিত্রটির পরিচালক তৌকির আহমেদ। ছবিটি ব্যবসা সফল না হলেও হয়েছে অ্যাওয়ার্ড সফল। ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে মোশারফ করিম, নিপুণ আক্তার, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, শতাব্দী ওয়াদুদ। ছবিটি সারা বাংলাদেশে মুক্তি পায় ২০১৬ সালের ১৯ আগস্ট। ট্রাজিক ধর্মী ছবিটির মূল গল্প বেনামী প্রবাসীর কফিন-বন্দি লাশ নিয়ে। একটি গ্রাম্য পরিবারের কফিনটি আবেগের গল্প এ ছবিটিতে রূপ দেয়া হয়। সাথে রয়েছে ছেলে হারানো বাবার আর্তনাদ। ছবিটি শুরুর প্রথম দিকে অনেকটা কমেডি থাকলেও, ধীরে ধীরে মূল কাহিনী দৃষ্টি গোচর হয়। অসাধারণ গল্প শৈলী নিয়ে তৈকির আহমেদ ছবিটি তৈরির মাধ্যমে ২০১৬ সালে আবারো চলচ্চিত্র জগতে আলোচিত হন। ছবিটির কাহিনী ধারা ও অভিনয় ছিল সত্যি প্রশংসা পাওয়ার মত। ইতালীর কান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনয়ন পাওয়া সহ মোট ১৫ টি চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় এই চলচ্চিত্রটি।

আইসক্রিমঃ

ত্রিকোণ প্রেমের অসাধারণ গল্পের চলচ্চিত্র এটি। ছবিটির পরিচালক দেশের অন্যতম সফল ও নামকরা পরিচালক রেদোয়ান রনি। তরুণ ও নতুন অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে রেদোয়ান রনির ছবিটি ব্যবসা সফল হয়। ছবিটি মূলত তরুণদেরকে আকর্ষণ করে। ফলে সিনেমা হল গুলোর পাশাপাশি রেদোয়ান রনির পুরো টাকা সুদে আসলে উসুল হয়। পুরোপুরি নতুনদের নিয়ে ছবি করে ব্যবসা সফল হওয়া সত্যি অবাক করার মত। ছবিটি গোটা বাংলাদেশে মুক্তি পায় গত বছর ২৯শে এপ্রিল। তরুণ অভিনয় শিল্পী উদয়, রাজ, তুষীর পাশাপাশি ছিল ওমর সানী, দিতি ও এটিএম শামসুজ্জামান।

চলবে . . .

 

ফুটপ্রিন্ট লেখক লগিন