3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

বিশ্বসেরা ৫টি Assault Rifle

Now Reading
বিশ্বসেরা ৫টি Assault Rifle

মূলত শত্রুকে ধংস করার জন্যই রাইফেল ব্যাবহার করা হয়। এসব মূলত যুদ্ধ তে ব্যবহার করা হয়। একটি অটোগান মুহূর্তেই একজনকে ছিন্ন-বিন্ন করে দিতে পারে। পৃথিবীতে এরুপ অনেক অটোগান আছে যা সব দিকে বিবেচনা করে তালিকা করা হয়েছে।

  1. AK-47

যখন আটো/এসল্ট রাইফেলের কথা চিন্তা করা হয়, AK-47 কে অন্য এক দৃষ্টিতে দেখি। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এই রাইফেল। এটি বাংলাদেশ সহ প্রায় ১৫০ টির ও বেশি দেশে এটি ব্যবহার করা হয়। এটি খুব জনপ্রিয় একটি রাইফেল। জনপ্রিয় কারণ এটি সস্তা এবং সারা বিশ্বে অবৈধ অস্ত্রের বাজারে এটি তুমুল ঝড় তুলেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের এই অস্ত্রটি সারা বিশ্বে শীর্ষে। তাছাড়া  বড় ছোট অনেক যুদ্ধগুলোতে এটি অংশ নিয়েছে। ১৯৪৯সালে এটি তৈরি করেছিল রাশিয়ার এই Kalashnicov Concem. এটির ওজন ৩.৪৭ কেজি। এর দৈর্ঘ্য ৮৮০মিমি. যার মধ্যে ব্যরেলের দৈর্ঘ্য ৪১৫মিমি. এর ফায়ারিং রেঞ্জ ৩৫০মি.। এর ম্যাগাজিনে ৩০ রাউন্ড গুলি ধারণ করে। এমনকি ১০০রাউন্ড গুলিও ধারণ করার মত ম্যাগাজিন বক্স আছে।

  1. FN Scar

এই তালিকার দ্বিতীয় হল FN scar, যা বেলজিয়ামের তৈরি। এটি AK-47 এর চেয়ে কিছুটা কম নির্ভরযোগ্য। তবে, এটির কাস্টমাইজবিউটি কোনও রাইফেলের সাথে মেলে না। ২০০৯ সালে তৈরি করা হয়েছিল এই রাইফেল। আমেরিকার সোয়াট সহ আরো সেই কয়েকটি বাহিনী এই রাইফেল ব্যবহার করে। এর ওজন ৩.০৪ কেজি, দৈর্ঘ্য ৭৮৭মিমি, ব্যরেলের দীর্ঘ ২৫৪মিমি। এর গুলি হিসেবে 5.56X45mm ব্যবহার করা হয়। এর ফায়ারিং রেঞ্জ ৩০০মি. এর ম্যাগাজিন বক্সে ২০ রাউন্ড গুলির ধারণ ক্ষমতা আছে।

  1. ACR

এটি আমেরিকার Bushmaster দ্বারা তৈরি। ২০১০ সালে এটি তৈরি করে। এটা দীর্ঘ shootout এর জন্য অত্যন্ত দরকারী। যা নম্বর 3 অবস্থানে এনেছে। এটির ওজন 3.6-4.4 KG. এটিতে গুলি হিসেবে 5.56X45mm ব্যবহার করা হয়। একটি Magazine এ ৩০ রাউন্ড গুলির ধারণ ক্ষমতা আছে। ফায়ারিং রেঞ্জ 500m. এর মোট দৈর্ঘ্য 655.32mm. এবং ব্যরেল 267mm.

  1. AK-74

নির্ভুল নিশানা যা এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে AK-74। তবে এই রাইফেল একটি AK-47 এর তুলনায় কম ক্ষতি করে। এটি তার ওজন অনুসারে তেমন ভালো না। AK-74 এর 300 রাউন্ডগুলির সমান AK-47 এর 180 রাউন্ড। এদিকে শুধু এদিকে পিছিয়ে। বরাবরের মত এটিও রাশিয়ার তৈরি। ১৯৭৪ সালে এটি তৈরি করে। এর ওজন 3.07 কেজি। ফায়ারিং রেঞ্জ 300-400m. এটিরও ৩০ রাউন্ড গুলি ধারণ করে একটি ম্যাগাজিনে। তবে ম্যাগাজিন বক্স দ্বারা ৬০ রাউন্ড পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

5. Hackler & Koch G36

1990 সালে হেকলার ও কোচ দ্বারা এটি জার্মানিতে ডিজাইন করা হয়েছিল। মূলত G3 প্রতিস্থাপন করার জন্য এটি ডিজাইন করা হয়েছে। এটি AK-47 এর চেয়ে কম নির্ভরযোগ্য কিন্তু এটি স্পষ্টতা এবং নিখুঁত নিশানার জন্ তৈরি করেছে। ১৯৯৭ সাল থেকে এটি এখন চলছে। এর ওজন 3.63 কেজি। দৈর্ঘ্য ৯৯৯মি. গুলি হিসেবে ৫.৫৬X৪৫মিমি ব্যবহার করা হয়। এর ম্যাগাজিনে ৩০রাউন্ড গুলি ধারণ করে। চাইলে ম্যাগাজিন দিয়ে ১০০ রাউন্ড পর্যন্ত বাড়ানো যায়।

পৃথিবীর সেরা ৫টি স্নাইপার রাইফেল

Now Reading
পৃথিবীর সেরা ৫টি স্নাইপার রাইফেল

প্রতিনিয়ত পৃথিবীর কোন না কোন দেশে যুদ্ধ চলছে। নানান এবং এ যুদ্ধতেই স্নাইপার রাইফেলগুলো ব্যাবহার করা হয়। দূরের নিশানাকে ভেদ করতে মুলত স্নাইপার ব্যাবহার হয়। মুলত এগুলো অনেক শক্তিশালী হয়। তা বিভিন্ন ভিডিও গেম গুলোতে আমরা প্রমাণ পাই। সব  রাইফেল যে সব দিকে ভালো হবে তা কিন্তু না। এক এক স্নাইপারের এক এক বৈশিষ্ঠ। তবে সব দিকে বিবেচনা করে কিছু স্নাইপারকে শীর্ষে রাখা হয়েছে। যা নিচে বর্ণনা করা হল।

  1. Accuracy International AWM

এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় স্নাইপার রাইফেলের মধ্যে একটি। এটির মোট দৈর্ঘ্য 1200mm  যার মধ্যে বেরেলের দৈর্ঘ্য আছে 660mm. এটির ফায়ারিং রেঞ্জ 1100m. এবং এর একটি Magazine এ ৫ রাউন্ড গুলির ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।  এটির জনপ্রিয়তা অনেক ভিডিও গেম এর মাধ্যমে যেমন Counter Strik, PUBG হয়েছিল। এটি 1997 সালে তৈরি। এটি এখনও ইউ কে সশস্ত্র বাহিনীরা ব্যাবহার করে। এটির ওজন 6.5 কেজি। যা ভারী কিন্তু অত্যন্ত টেকসই এবং শক্তিশালী। এটি বাংলাদেশ সহ আরো অনেক দেশে ব্যাবহার হয়। তাছাড়া এটির আরেকটি ভেরিয়েন্ট আছে যা Lapua Magnum দিয়ে ব্যাবহার হয়। তবে এর ক্ষেত্রে  ওজন, ফায়ারিং রেঞ্জ ভিন্ন।

  1. Barrett M82

আমেরিকা দ্বারা তৈরি এই রাইফেলটি অনেক জনপ্রিয়। এটি মুলত M82 নাম দিয়ে তৈরি করেছে।  ১৯৮৯ সালে এটি তৈরি করা হয়েছে। এটির ওজন ১৩.৫ কেজি। এর মোট দৈর্ঘ্য 120cm যার মধ্যে বেরেলের দৈর্ঘ্য 51cm. এর একটি Magazine এ ১০ রাউন্ড গুলি ধারণ করতে পারে। এটিতে ২ ধরণের গুলি ব্যাবহার করা যাবে যা হচ্ছে 50BMG or .416 Barrett. এর ফায়ারিং রেঞ্জ 1800m. এটি বাংলাদেশের Black Eagle battalion রা এটি ব্যাবহার করেন। তাছাড়া অনেক দেশে এটি জনপ্রিয়।

  1. CheyTac Intervention M200

এই স্নাইপার রাইফেলটি আমেরিকার ChheyTac LLC দ্বারা তৈরি। এর ওজন 14.1 কেজি। এর দৈর্ঘ্য 1300mm যার মধ্যে বেরেলের দৈর্ঘ্য 740mm। এটিতে .408 Cheyenne Tactical or .375 Cheyenne Tactical ব্যাবহার করা যাবে। এটির Magazine এ ৭টি গুলির ধারণ ক্ষমতা রয়েছে এবং এর নতুন Magazine টিতে ৫টি গুলির ধারণ ক্ষমতা। এর ফায়ারিং রেঞ্জ 2500m. এটি তৈরি হয়েছিল ২০০১ সালে। তবে এটি মাত্র কয়েকটি দেশ বাদে তেমন একতি জনপ্রিয়তা পায়নি। এর ফ্রেমটি কার্বন ফাইবারের। এটি মাত্র কয়েকটি দেশে ব্যাবহার হয় যার মধ্যে UK, USA, Poland, Czech Republic, Turkey, Italy.

  1. SVD (Dragunov)

এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি শক্তিশালী স্নাইপার। এটি 1963 সালে তৈরি করা হয়েছিল যা এখনো অনেক জনপ্রিয়। যদিও এটি পুরোপুরি স্নাইপারের ক্যটাগরির না। তবে একে সেমি-অটো স্নাইপার রাইফেল বলা হয়। যার ওজন 4.3 কেজি। এর দৈর্ঘ্য 1225mm যার  বেরেল 620mm. এটিতে সুধু 7.62X54mmR বুলেট ব্যাবহার করা যায়। যার Magazine এ ১০টি বুলেটের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এর ফায়ারিং রেঞ্জ 800m. রাশিয়ার তৈরি এটি অনেক জনপ্রিয় সেমি-অটো স্নাইপার রাইফেল। বাংলাদেশে এটির Chinese Type 85 Copy আছে যা Black Eagle Battalion রা ব্যাবহার করে। তাছাড়া এটি অনেক যুদ্ধতেও ব্যাবহার করা হয়েছে।

  1. Accuracy International AS50

এটি ব্রিটিশ নির্মিত স্নাইপার। স্নাইপার হিসাবে তুলনামূলকভাবে সত্যিই অনেক নাম আছে এর। এই রাইফেলের ওজন 12.2 কেজি। এটি ২০০৭ সালে তৈরি হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য 1369mm এবং বেরেলের দৈর্ঘ্য 692mm. এটি সেমি-অটো স্নাইপার রাইফেলের ক্যটাগরির। এর ফায়ারিং রেঞ্জ 1800mm. এর Magazine এ ৫টি অথবা ১০টি গুলি ধারণ করে।

রাজনীতিতে আসা নিয়ে যা ভাবছেন সাকিব আল হাসান

Now Reading
রাজনীতিতে আসা নিয়ে যা ভাবছেন সাকিব আল হাসান

নিদাহাস ট্রফির আগে সাকিব আল হাসান স্বপরিবারে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দেখা করেছেন। এই টুর্নামেন্ট শেষে সপরিবার বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির দাওয়াত ও রক্ষা করেছিলেন। ঠিক তখন থেকেই অনেকেরি ধারণা হতে থাকে তাহলে কি সাকিব রাজনীতিতে জড়াচ্ছেন?

ভারতের এক সংবাদ সম্মেলনে জবাবটা নিজেই দিয়েছেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল অবসরের পর রাজনীতিতে আসার কোন চিন্তা আছে কিনা। দুই ফর্মেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব জানিয়েছেন- ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না। আমি বর্তমান নিয়েই থাকতে চাই। কিন্তু কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না। এ ব্যাপারে (রাজনীতি) এখনো ভাবিনি, তাই এটা নিয়ে এখন কথা বলাও কঠিন। ক্রিকেট আমার জীবন এবং মনোযোগটা শুধু এখানেই (ক্রিকেট) থাকবে। (প্রধানমন্ত্রীর গণভবনে সপরিবার যাওয়া প্রসঙ্গে সাকিবের ব্যাখ্যা) এটা ছিল সৌজন্যসাক্ষাৎ। তিনি ক্রিকেট খুব পছন্দ করেন এবং খেলোয়াড়দের সব সময় উৎসাহ দেন।’

 

 

এবারের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ২ উইকেট নেয়। তাছাড়া মুম্বাইয়ের বিপক্ষেও ১টি উইকেট নেন তিনি। তার দল হায়দ্রাবাদ দুটিতেই জয় পেয়েছে। তাছাড়া শুরু থেকেই রাজস্থান ও হায়দ্রাবাদের সাকিবকে নিয়ে দর কষাকষি করেন দুই টিম। আইপিএলে তার ব্যাটিং কেরিয়ার তামন একটা ভালো দেখা যায় নি। তবে যাই হোক টিম এবং দর্শকদের প্রিয় হয়েছেন বোলিং এর দিকে। এদিকে হায়দ্রাবাদের রাশিদ খান ও অনেক প্রিয় হয়ে উঠছেন।

স্পিনারদের নিয়ে সাকিবের মন্তব্য, ‘স্পিনারদের সবাই খেলতে অভ্যস্ত নয়, তাই ব্যাটসম্যানদের জন্য এটা সামলানো কঠিন। তারা (লেগ স্পিনার) যেকোনো উইকেটে বল ঘোরাতে পারে, এটা একটা সুবিধা। কিন্তু তাদের যত বেশি খেলবেন ততই অভ্যস্ত হয়ে ওঠা যায়। (রাশিদ খান প্রসঙ্গ) সে অনেক দিন ধরেই দলের জন্য ভালো পারফর্ম করছে। রশিদের মতো বোলারকে দলে পাওয়া সত্যিই বড় ধরনের সুবিধা। তাছাড়া তার সাথে বোলিং এর জুটি অনেক ভালোই হয়েছে।’

একটি এন্ড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমেই পাল্টে ফেলুন আপনার জীবনধারা

Now Reading
একটি এন্ড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমেই পাল্টে ফেলুন আপনার জীবনধারা

প্রতিদিন সকালে উঠে আমরা কিছু করি না করি, আমাদের স্মার্টফোনে অবশ্যই মেসেজ, নোটিফিকেশন, চেক করবই। এমনকি এটি আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। আমরা দিনের অর্ধেক ভাগ সময় শুধু স্মার্টফোনে  ব্যয় করি। কোন কিছু থেকে একটু ছুটি পেলেই মোবাইল নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরি। হয়ত দেখা যায় মোবাইল নিয়ে ব্যাস্ত থাকার কারনে অনেক কিছু হারাই। হয়ত দেখা যায় বন্ধুরা মিলে আড্ডা করতে আসছেন,তার মদ্যে আপনি স্মার্টফোন নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন।

স্মার্টফোনকে যেমন খারাপ দিকে ব্যাবহার করা যায় তেমনি ভালো দিকেও ব্যাবহার করা যায়। ভাবুন তো এমন একটি এন্ড্রয়েড লঞ্চার যা আপনার স্মার্টফনের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দিবে। এমনি একটি এন্ড্রয়েড লঞ্চার আছে যাতে থাকবে শুধু ফোন আইকন, এবং মেসেজ আইকন। চাইলে আপনি আরো এপ্লিকেশন যোগ করতে পারেন এতে। যাতে কোন মেনু অপশন থাকছে না।

এমন অদ্ভুত লঞ্চারটির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুনঃ

[youtube https://www.youtube.com/watch?v=K-mpe2CCed8&w=560&h=315]

নতুন পোশাকে আসছেন সাকিব ও মুস্তাফিজ

Now Reading
নতুন পোশাকে আসছেন সাকিব ও মুস্তাফিজ

আইপিএলের ১১তম আসর বসতে যাচ্ছে আজ। সাকিব এবং মুস্তাফিজকে দেখা যাবে ভিন্ন পোষাকে। যদিও গত ২০১১সাল থেকে ৭বছর ধরে সাকিব কলকাতার হয়ে খেলেছেন। তবে এবার দেখা যাবে হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলতে।০৯ এপ্রিল এবারের আসরের হায়দ্রাবাদের ১ম খেলা। এদিকে মুস্তাফিজের দল ও পাল্টেছে। গতবারের চ্যাম্পিয়ান মুম্বাইয়ের হয়ে খেলবেন মুস্তাফিজ। এবারের আসরের উদ্বোদনী ম্যাচ শুরু হবে মুস্তাফিজের মুম্বাইকে দিয়ে। এছাড়া মুহাম্মদ আশরাফুল ২০০৯ সালের আইপিএল আসরে ১ম্যাচ খেলেছিলেন মুম্বাইয়ের হয়ে।

 

 

জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেরে স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের আইপিএল। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রতিবারের মত বলিঊড নায়ক-নায়িকারা। থাকছেন হ্রিত্তিক, প্রভুদেবা, তামান্না ভাটিয়া, জ্যাকনিল ফারনান্দেজ, বরুন। এছাড়া আরো অনেকে। তাছাড়া টিমের মালিক পক্ষ থেকে থাকছেন শাহারুক খান, প্রিতিজিন্তা, এবং ২ বছর নিষেধাজ্ঞা থেকে উঠে আসা রাজস্থান টিমের মালিক পক্ষের শিল্পা সেটি।

নিচে দেখে নিন এবারের আসরের সময় সুচিঃ

 

এপ্রিল ৭ ৮টা ৩০ মুম্বাই – চেন্নাই
এপ্রিল ৯ ৮টা ৩০ হায়দরাবাদ-রাজস্থান
এপ্রিল ১২ ৮টা ৩০ হায়দরাবাদ- মুম্বাই
এপ্রিল ১৪ ৪টা ৩০ মুম্বাই- দিল্লি
এপ্রিল ১৪ ৮টা ৩০ কলকাতা- হায়দরাবাদ
এপ্রিল ১৭ ৮টা ৩০ মুম্বাই- বেঙ্গালুরু
এপ্রিল ১৯ ৮টা ৩০ পাঞ্জাব- হায়দরাবাদ
এপ্রিল ২২ ৪টা হায়দরাবাদ- চেন্নাই
এপ্রিল ২২ ৮টা ৩০ রাজস্থান – মুম্বাই
এপ্রিল ২৪ ৮টা ৩০ মুম্বাই- হায়দরাবাদ
এপ্রিল ২৬ ৮টা ৩০ হায়দরাবাদ- পাঞ্জাব
এপ্রিল ২৮ ৮টা ৩০ চেন্নাই – মুম্বাই
এপ্রিল ২৯ ৪টা ৩০ রাজস্থান – হায়দরাবাদ
মে ১ ৮টা ৩০ বেঙ্গালুরু – মুম্বাই
মে ৪ ৮টা ৩০ পাঞ্জাব- মুম্বাই
মে ৫ ৮টা ৩০ হায়দরাবাদ- দিল্লি
মে ৬ ৪টা ৩০ মুম্বাই- কলকাতা
মে ৭ ৮টা ৩০ হায়দরাবাদ- বেঙ্গালুরু
মে ৯ ৮টা ৩০ কলকাতা- মুম্বাই
মে ১০ ৮টা ৩০ দিল্লি – হায়দরাবাদ
মে ১৩ ৪টা ৩০ চেন্নাই – হায়দরাবাদ
মে ১৩ ৮টা ৩০ মুম্বাই- রাজস্থান
মে ১৬ ৮টা ৩০ মুম্বাই- পাঞ্জাব
মে ১৭ ৮টা ৩০ বেঙ্গালুরু – হায়দরাবাদ
মে ১৯ ৮টা ৩০ হায়দরাবাদ- কলকাতা
মে ২০ ৪টা ৩০ দিল্লি – মুম্বাই

 

 

মে ২২ ৮টা ৩০ কোয়াটার ফাইনাল ১
মে ২৩ ৮টা ৩০ এলিমিনেশন
মে ২৫ ৮টা ৩০ কোয়াটাএ ফাইলনাল ২
মে ২৭ ৮টা ৩০ ফাইনাল

 

চট্টগ্রাম এর নাম পরিবর্তন নিয়ে ষড়যন্ত্র!

Now Reading
চট্টগ্রাম এর নাম পরিবর্তন নিয়ে ষড়যন্ত্র!

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন এক ষড়যন্ত্র। এবার সরাসরি খড়গ বসাতে চাচ্ছে তার দেহে অর্থাৎ ইংরেজি নামটা পুরোপুরি মুছে দেয়ার উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। ইংরেজিতে চিটাগং বলার একটা রেওয়াজ সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই এমন নয়যে স্বাধীন পরবর্তী এর নামকরণ হয়েছিল। কিন্তু বদলে যাওয়ার পথে এখন সে নিয়ম। সিদ্ধান্ত হতে চলেছে এখন থেকে নাকি চট্টগ্রামকে ইংরেজিতেও ‘চট্টগ্রাম’ লিখতে হবে। তবে এ নাম পরিবর্তনের তালিকায় চট্টগ্রামের সাথে আরো আছে বরিশাল, কুমিল্লা, বগুড়া ও যশোর জেলার নাম তাদেরও ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা হচ্ছে। মূলত বাংলা নামের সঙ্গে মিল করতেই এ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এমনটাই জানান। তিনি বলেন পাঁচটি জেলার নামের ইংরেজি বানানের অসংগতি দূর করতে আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আরো জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।

সরকারের সকল উন্নয়ন এর উদ্দ্যেগ প্রশংসনীয়, কিন্তু এমন একটা বিষয়ের উপর তারা হস্তক্ষেপ করছে যেটার সাথে চট্টগ্রামবাসীর রয়েছে হৃদ্যতায় প্রায় ২৬০বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক। চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হাজার বছরের যা তিলে তিলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর নামেও রয়েছে বেশ বৈচিত্র্য, প্রায় ৪৮টি নামের খোঁজ মেলে চট্টগ্রাম নিয়ে। ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম মোঘল সম্রাজের অংশ হয়, পরবর্তীতে আরাকানদের পরাজিত করে মোঘলরা দখল করে নিয়ে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে মীর কাশিম আলী খান ইসলামাবাদকে(চট্টগ্রাম) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে দেয়। ব্রিটিশ অধিভুক্ত হওয়ার পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চট্টগ্রামকে ইংরেজিতে চিটাগং হিসেবেই নামকরণ করে। সেই হতে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম ইংরেজিতে চিটাগং হিসেবেই লেখা হয়ে আসছে এবং বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়ে আসছে। সারা বিশ্বের কাছে চিটাগং পোর্ট এর আলাদা একটা কদর আছে সেই ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকেই। কেবল প্রসিদ্ধ এই নামের বদৌলতে চিটাগং তথা বাংলাদেশকে চিনে নেয় বিশ্ব। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা না করেই ইংরেজি চিটাগং নামের পরিবর্তনে তোড়জোড় শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিদ্বেষী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামের ইংরেজি বানান Chittagong এর পরিবর্তে বানান Chattagram করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রস্তাব দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলার নামের বানান বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে ইংরেজিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি বা নীতিমালা নেই। কেবল নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, থানা কিংবা প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে নিকার সভার আহ্বান করা হয়। যে নিকার সভার মাধম্যে নামের এই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে সেই কমিটির আহ্বায়ক হচ্ছেন প্রধামন্ত্রী। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে স্বদিচ্ছা আছে কিনা?

এদিকে জেলার নামের বাংলা উচ্চারণের সাথে ইংরেজিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে হতেই হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি বা নীতিমালা না থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রীপরিষদ কেন এত উৎসাহী হয়ে উদ্যেগটি নিচ্ছেন তা বোধগম্য নয়। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে চট্টগ্রামের স্থানীয় জনগণের মাঝে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব কম বেশি সকলে। প্রায় প্রত্যেকেই বিষয়টি নিয়ে বেশ মর্মাহত। সকলেরই অভিন্ন দাবী ইংরেজিতে চিটাগং থাকলে কোন সমস্যা নেই বরং পরিবর্তনে সমস্যা বাড়বে। এখানকার মানুষ ইংরেজিতে চিটাগং বলতেই বেশ গর্বেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। স্থানীয় বিজ্ঞাপনসহ অনেক ক্ষেত্রেই চিটাগং ব্যাবহার করা হয়, এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের নামের সাথেও তা যুক্ত। সবাই আশংকা করছেন যে নাম পরিবর্তনের এই উদ্দ্যেগে না জানি চিটাগং এর ঐতিহ্যও বিলীন হয়ে যায়! শুধু নাম পরিবর্তন হলেই যে দায় মুক্তি ঘটবে তা কিন্তু নয়, এর সাথে অন্যান্য সামগ্রিক বিষয়ে একটি পারিপার্শ্বিক চাপ সৃষ্টি হবে। প্রায় প্রত্যেকেই দ্বিধাহীনতায় ভুগবে ইংরেজি নামের ক্ষেত্রে। এই নাম পরিবর্তন শুধু যে সরকারি দলিলাদিতেই হবে তা কিন্তু নয় পর্যায়ক্রমে প্রাইভেট সেক্টরে এর প্রভাব বিস্তার ঘটবে। বেশিরভাগ মানুষের মত আমারও মত অন্তত নাম পরিবর্তনের পূর্বে একটা জরিপ চালানোর বিশেষ প্রয়োজন ছিল। কারো ইচ্ছা অনিচ্ছায়তো এত বছরের নামের গৌরব ঐতিহ্যকে মুছে দিয়ে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা যাবেনা। প্রসঙ্গতই অনেকের ধারণা- মন্ত্রীপরিষদে চট্টগ্রাম বিদ্বেষীদের প্রভাব বেশি, হয়ত চট্টগ্রামকে বেকায়দায় ফেলতে তাদের এই হীন চক্রান্ত! নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রামকে পিছিয়ে দিতে তাদের তৎপরতা। অন্যথা কোন প্রকার সভা সেমিনারে আলাপ আলোচনা না করে, জনমত উপেক্ষা করে একটা অঞ্চলের দীর্ঘ ঐতিহ্যগত নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়ার অর্থই হচ্ছে সেই অঞ্চলের জনগণকে চরম অপমান করার শামিল। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ দয়া করে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন, চট্টগ্রামের মানুষ ইংরেজিতে চিটাগং বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে আসছে যুগ যুগ ধরেই। প্রয়োজনে জনমত জরিপ চালান তবুও তড়িৎ সিদ্ধান্তে এমন কিছু করবেননা যেটা সত্যিকার অর্থেই জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়! 

আবারো জঙ্গি থাবায় বাংলাদেশ!

Now Reading
আবারো জঙ্গি থাবায় বাংলাদেশ!

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলাকালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জনপ্রিয় অধ্যাপক ও প্রখ্যাত লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল হামলার শিকার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় মুক্তমঞ্চে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের  বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে এর উদ্বোধন করেছিলেন ড. জাফর ইকবাল। গত শনিবার ৩মার্চ সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি রোবট প্রতিযোগিতা উপভোগ করছিলেন এমন সময় বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে পেছন দিক হতে ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪) নামের এক যুবক। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে আটক করে বেধড়ক গণপিটুনি দেয়, অজ্ঞান অবস্থায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ আটকে রেখে পরে তারা পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে আটক হামলাকারী সেই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ ও অধিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

হামলাকারী ফয়জুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক আতিকুর রহমান এর ছেলে, তার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই। ঘটনার পরপরই শেখপাড়ার বাসাটি তালাবদ্ধ করে ফয়জুলের পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার দিন রাতেই হামলাকারী ফয়জুর রহমানের তালাবদ্ধ বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে ল্যাপটপসহ একজনকে আটক করে।

বরাবরই জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ অধ্যাপক জাফর ইকবাল বেশ কিছুদিন ধরেই জঙ্গি হামলার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। গত দুই বছর পূর্বে ২০১৬ সালের জুনে দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো রিপোর্ট অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর সম্ভাব্য হামলা সংক্রান্ত নিরাপত্তাবিষয়ক একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। নিরাপত্তাবিষয়ক সেই বিশেষ প্রতিবেদনের তালিকায় জাফর ইকবালের নাম ছিল দ্বিতীয় নাম্বারে। তখন তাঁকে চলাচলে সতর্কতা পালন করতে সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

২০১৬ সালের অক্টোবরে জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের পরিচয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হত্যার হুমকির পর জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জাফর ইকবাল দম্পতি, এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু ঘটনার কিছু সময় পূর্বে তোলা এক ছবিতে দেখা যায়, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দুজনই তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত আর ঠিক তাদের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ওই হামলাকারী যুবককে। প্রশ্ন উঠেছে সেই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ববোধ নিয়ে, নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের উদাসীনতা যথেষ্ট দৃশ্যমান।

গতকাল বিকেলে হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় জাফর ইকবালকে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রথমে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করানোর পরে ইএনটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এন কে সিনহাকে প্রধান করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তাঁদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে রাত নয়টার দিকে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য ড. ইকবালকে রাতেই এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার সিএমএইচে পাঠানো হয়।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছুরিকাঘাতে আহত লেখক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এখন পূর্বের চেয়ে শঙ্কামুক্ত। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে মিয়ানমারের “ছল-চাতুরি”

Now Reading
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে মিয়ানমারের “ছল-চাতুরি”

দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কার্যত কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা মিয়ানমার সরকারের। প্রথম কিস্তিতে প্রায় ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছিল বাংলাদেশ। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই শেষ করতে বিলম্ব করছে মিয়ানমার, পার হয়েছে ১৪ দিন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া প্রলম্বিত অথবা দীর্ঘায়ীত করতে নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে মিয়ানমার। তবে উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসনের জন্য আরও রোহিঙ্গার তালিকা প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। বস্তুত সেই তালিকা নিয়েও মিয়ানমারের কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা।

গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রত্যাবাসন কাজ শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ এবং তার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সাড়া দিলেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের দুটি পয়েন্টকে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র করা হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তাদের সম্মতির ভিত্তিতে এই দুটি প্রত্যাবাসন রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর একটি টেকনাফের কেরুনতলী পয়েন্ট দিয়ে নৌপথে এবং অন্যটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম পয়েন্টে দিয়ে স্থলপথে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পুশ ব্যাক করা হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দুটি পয়েন্টেই রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় শেড তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তে তৈরি দুটি প্রত্যাবাসন পয়েন্টের বিপরীতে মায়ানমার সীমান্তে মংডুর মার্চিচং এবং তং পাইও লেটওয়ে এলাকায় অনুরূপ দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার।

OG-AV568_201709_FON_20170920110251.jpg

সুত্র বলছে – বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় মাত্র ৮০৩২ রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং মিয়ানমার তা যাচাই-বাছাইয়ের নামে বিলম্বিত করে প্রক্রিয়াটিকে জটিলতার সম্মুখীন করছে, ফলে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে কত সময়ের প্রয়োজন হবে? যাচাই-বাছাইয়ে মিয়ানমারের এই কালক্ষেপণ বাংলাদেশের সচেতন মহলকে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন করছে। সহসাই যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবসান শুরু হচ্ছেনা তা অনুমেয়।
বস্তুত রোহিঙ্গাদের তালিকা নিয়ে মিয়ানমারের তেমন কোনো আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। তারা নানা অজুহাতে বিষয়টিকে প্রলম্বিত করে চলেছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সত্যিই আগ্রহী কি-না তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাদের আগ্রহ যাচাই করতে এবং তারা আন্তরিক কি-না তার প্রমাণ হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেওয়া প্রায় ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হলেও তাতে মিয়ানমার প্রথমদিকে সাড়া না দিয়ে বরং বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে রোহিঙ্গাদের ভয়-ভীতির মাধ্যমে উলটো বাংলাদেশে ঠেলে দিতে চেয়েছে। সংশ্নিষ্ট সূত্রমতে- বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অনেকে গোপনে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, তাদের ঐ স্থান ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তের এই পয়েন্ট ছাড়াও উখিয়া-টেকনাফের অন্যান্য স্থান দিয়ে প্রতিদিন পুশ ইন হচ্ছে রোহিঙ্গারা।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার। তবে এর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে যুক্ত করতে নতুন একটি প্রস্তাবও দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে, যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগেই সম্মতি জানানো হয়েছে। নতুন করে এই প্রস্তাব রাখার মানে হচ্ছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি না করে উল্টো বিভিন্ন অজুহাতে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করতে মিয়ানমার কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়া। বাংলাদেশ আশা করে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কর্তৃক আরো অধিকতর চাপ প্রয়োগ করে মায়ানমারকে বাধ্য করা উচিত এ কার্যক্রম এর দ্রুত নিস্পতি করা। রোহিঙ্গাদের চাপে কক্সবাজার ও টেকনাফের স্থানীয় জনসাধারণের ধৈর্য দিনের পর দিন নাভিশ্বাসে পরিণত হচ্ছে, অপরদিকে রোহিঙ্গারাও সুযোগ খুঁজছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার অন্যতায় এর দীর্ঘ মেয়াদী নেতিবাচক মাশুল গুণতে হবে বাংলাদেশকেই!

স্মৃতির শহর

Now Reading
স্মৃতির শহর

আমার স্ত্রীর নাম আকিফা। সে বাংলাদেশী নয়, এক পাকিস্তানী মেয়ে। ঠিকমত বাংলা ভাষাও জানেনা, আধোকাচা বাংলা বলার চেষ্টা করে কিন্তু উচ্চারণ সঠিক হয়না। আমিও তাকে বাংলা ভাষা শেখানোর জন্য তেমন চেষ্টা করিনি। সর্বদা ইংরেজি কিংবা উর্দুতেই তার সাথে কথা বলি। আমি নিউজিল্যান্ড আসার ৭ বছর পর তার সাথে আমার পরিচয় হয়, আমার দুঃসময় সে আমার পাশে এমন ভাবে ছিলো যেন কোন চুম্বকীয় শক্তির টানে লোহা তার সংগে থাকে। আজকাল তার বায়না বাংলাদেশে আসবে। এ দেশের মানুষ দেখবে। কিন্তু আমার মোটেও দেশে আসার ইচ্ছানেই। যেদিন আমি দেশ ত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি জমাই, সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর কখনো দেশে আসবো না। কিন্তু আকিফা এত বেশী জোর করছিলো যে আমার ১০ বছর আগে নেওয়া প্রতিজ্ঞা ভেংগে দেশে আসার জন্য রাজি হতে হলো।

আকিফা তার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আর জামা কাপড় প্যাক করছে। আজ মেয়েটিকে বড্ড সুখী মানুষ মনে হচ্ছে। তার কারন গত দুবছর ধরে সে যে বায়না ধরেছিলো আজ গিয়ে তা বাস্তব হতে চললো। আমি তাকে নিয়ে আজ রাতে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে যাবো। আমি যে দেশকে ঘৃনা করি এমনটা না, যে দেশে আমার জন্ম, যে দেশের মাটি, পানির কাদায় মাখামাখি আমার ছোটবেলা। যে মায়ের বুলিতে আমি আজ কথাবলি সে দেশকে ঘৃনা করার মত দেশদ্রোহী আমি নই। কিন্তু দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি এক অভিমান রয়েছে বড্ড অভিমান। তাই দেশে ফিরতে চাইনি। তাছাড়া দেশে আমার কেউ নেই, বাবা মা গত হয়েছে অনেক বছর হলো। দুইবোন ছিলো তারা আজ কোথায় আছে তাও জানিনা। আমি যখন দেশ ছেড়ে নিউজিল্যান্ড এ আসি তখন তারা জর্ডান এ থাকতো। কমিউনিকেশন না হবার কারনে তাদের খবর এই মুহুর্তে বলতে পারছিনা। কিন্তু তারা হয়ত এখন বাংলাদেশেই আছে, এটা আমার বিশ্বাস। আমি যখন দেশের ভাবনায় বুদ হয়ে রইলাম, আকিফা আমার কাধে হাত রেখে বললো, “হোয়াট ইউ থিংক”। আমি কিছুক্ষন তাকে দেখে নিলাম, গত বছর ঈদের সময় যে নীলশাড়ি তাকে দিয়েছিলাম তা পড়েছে, লম্বা করে কাজল দিয়েছে চোখে, চুলগুলো বিদেশী স্ট্যাইলে খোপা করেছে, কানে লম্বা ঝুমকা, হাতে একগোছা চুড়ি সব মিলিয়ে আজ আকিফাকে কেন যেন আমার অপ্সরা মনে হলো। যদিও আমি কখনো আকিফাকে সরাসরি প্রশংসা করিনি, তারপরেও আজ কেন জানি তার প্রশংসা করতে ইচ্ছে করছিলো খুব। কিন্তু আমি তা করলাম না, ড্যাবড্যাব করে তার রুপ দর্শন করতে লাগলাম। তার প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে সে আবার বলে উঠলো, “এনি প্রবলেম”। আমি আমার ধ্যান থেকে বের হয়ে আসলাম, আর তাকে বলতে লাগলাম “নাহ কোন সমস্যা না তোমার প্যাকিং শেষ?”

সে মুচকি এক হাসি ঠোটে এনে শুধু হ্যা বললো। তার এই হাসিটা আমাকে বড্ড জ্বালা দেয়, যতবার তার এই মুচকি হাসি দেখি ততবার আমার কোন এক নারীর কথা মনে পড়ে যায়। মাঝে মাঝে মনে হয় আকিফার এই হাসির মধ্যেই সেই নারী লুকিয়ে আছে, যে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও আকিফার হাসি হয়ে আমার সাথে আছে। আকিফা আবার গায়ে হালকা ধাক্কা দিলো, আজকাল আমি বার বার ভাবনার জগতে হারিয়ে যাই। অনেক বছর আগে ফেলে রাখা আমার সে অতিত আমাকে বার বার তাড়া করে বেড়ায়। আকিফার ধাক্কাতে আমি একটু স্বাভাবিক হবার ভান করলাম, আর বলতে লাগলাম, “তুমি একবার সব কিছু দেখে নাও, আমি টেক্সিকে ফোন করে জেনে নেই সে কোথায় আছে।” আকিফা হয়ত আমার এই লুকোচুরির বাহানা বুঝে ফেলেছিলো, খানিকটা হতাশ হয়ে শুধু মাথা নাড়িয়ে আমাকে হ্যা সুচক ইংগিত দিলো। আমি সেখানে না দাঁড়িয়ে চলে আসলাম বাসার নিচে।

ইতিমধ্যে টেক্সি চলে এসেছে। আকিফা সমস্ত ব্যাগ নিয়ে নিচে নেমে আসলো, ট্যাক্সির পেছনে সমস্ত ব্যাগ রেখে আমরা দুজন উঠে বসলাম। ট্যাক্সি নিউজিল্যান্ড এর অলিগলি সড়ক পেড়িয়ে হাইওয়ে দিয়ে এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশ্যে চলে যাচ্ছে। পুরো ট্যাক্সিতে আকিফা আমার সাথে কোন কথা বলেনি, এয়ারপোর্ট এ আসার পরেও কথা বলেনি। যখন আমরা ইমিগ্রেশন পার হয়ে ওয়েটিংরুম এ অপেক্ষা করছি নির্দিষ্ট সময় হবার তখন সে বলতে লাগলো, “মুঝে পাতা নেহি, তুমহারে দিলমে কোনসা দারদ ছুপা হে। লেকিন মুঝে এ জরুর পাতা হে, তুম হার সুভা কইনা কই দারদ লেকে জাগতে হো। মে তুমহারা বিবি হু, মুঝে কিউ নেহি বাতাতে হো, তুমহারে দিলকি বাত? মুঝে কা ইতনা বি হক নেহিহে, মে তুমহারা দারদ ভুলানে কি দাওয়া বানজাও?”

আকিফার কথা শুনে আমি তার দিকে তাকালাম। তার চোখে পানি ছলছল করছে। মেয়েটি আমাকে এত ভালোবাসা দিয়েছিলো যে আমি সাত জনম নিলেও এত ভালোবাসা পেতাম না। কিন্তু আমি তাকে ঠকিয়েছে প্রতিটি কদমে কদমে। আমার ঘরে আকিফা বাস করলেও আমার মনে অন্যকেউ বাস করে যা আমি এক নিখুঁত অভিনেতার মত অভিনয় করে তার থেকে আড়াল করে রেখেছি। এতদিন আকিফার সাথে সংসার করে এটুকু তো বুঝে গিয়েছি, তারমত ভালো পৃথিবীর দ্বিতীয় কোন নারী আমাকে বাসতে পারবে না। আমি আকিফাকে কাছে টেনে নিলাম, সে ছোট বাচ্চাদের মত আমার কাধে মাথা হেলিয়ে দিলো। তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললাম “সব কথা বলবো, আগে দেশে যাবো তারপর।” আকিফা হঠাৎ করেই আদুরী স্বভাবের হয়ে উঠলো, মাথা তুলে আমার গালে আর কপালে চুমু দিতে লাগলো। দুহাতে শক্ত করে আমাকে জরিয়ে ধরলো। এরই মধ্যে মাইকিং এ এলাউন্স হতে লাগলো, নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে যাবার উড়োজাহাজ এ উঠার জন্য। আমি আর আকিফা ওয়েটিংরুম থেকে বের হয়ে উড়োজাহাজ এ উঠে বসলাম।



পুরো একদিনের সফর পেড়িয়ে, আমি আর আকিফা শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এ এসে পৌছেছি। বিমান বন্দরের বাহিরে এসে আমি আকিফাকে জিজ্ঞেস করলাম “কোথায় যাবে এখন” সে মুচকি হাসি দিয়ে বললো, তোমার গ্রামের বাড়ি। আমি মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিলাম। তারপর গাবতলী এসে আমরা খাওয়া দাওয়া করলাম। বাসের টিকেট নিয়ে মাদারীপুর এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। এখনো আমার বাড়ি যেতে ৬ ঘন্টার সফর পাড়ি দিতে হবে। সাড়াটি পথে আকিফা আমার কাধে মাথা রেখে দেশের প্রকৃতি উপভোগ করেছে, আমিও খুব গভীর মনোযোগী হয়ে আমার ফেলে আসা সেই দিনগুলোর স্মৃতির প্রেক্ষাপট ভেবে যাচ্ছি।

মাদারীপুর শহরে নেমে অটো রিক্সা করে মাদ্রা গ্রামের পথে আমি। এই সেই পথ যে পথে ১০ বছর যাবত আমার পায়ের ধুলো পড়েনি। কখনো কেউ এই পথের গলিতে আমার কন্ঠ শুনেনি, কারো সাথে গিলি ডান্ডা কাবাডি খেলাতেও মেতে উঠা হয়নি এতটি বছরে। মনেতে অনেক ভাবনা আমার, আবার সংকোচ ও কম নয়। আমি যে ঘরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি একটা সময় সে ঘর আনন্দে উল্লাসে মেতে থাকতো। মায়ের ভালোবাসা বাবার শাসন আর আমার খুনসুটি আবদারে পরিপুর্ন আমাদের সেই দোতলা বাড়িটি হয়ত আজ সুনসান হয়ে গেছে। শুধু নিরবতা আর আত্মচিৎকার ছাড়া হয়ত কিছুই নেই। বাড়ির প্রতিটি দেয়ালে ঠাসা রয়েছে আমার বাল্যকালের স্মৃতি, ঠাসা রয়েছে প্রথম ঘর ছেড়ে যাবার সময় মায়ের কান্না, বাবার চাতক নয়নে আমার পথ দেখে যাওয়া এই বুঝি খোকা ফিরলো।

রয়েছে আমার প্রথম কান্নার চিৎকার, রয়েছে মায়ের আচলে মাথা লুকিয়ে প্রথম প্রেমে ব্যর্থ হবার কষ্টে দিনরাত কেদে যাবার সেই না ভোলা এক জীবনের গল্প।

হঠাৎ করে অটোরিক্সা থেমে গেলো, ড্রাইভার এর কথার শব্দ কানে আসলো, “ভাইজান হাওলাদার বাড়ি এসে গেছে” আমি কোন প্রতিউত্তর করলাম না। মাথা বের করে বাড়ির দিকে তাকালাম। কাকার বাড়ি আজো আগের মতই আছে, সেই লাল রংয়ের দেয়াল এখনো পরিবর্তন হয়নি, চোখ ঘুড়িয়ে আমাদের ঘরের দিকে তাকালাম, দেয়ালে শ্যাওলা পড়ে গেছে কতকাল যেন এই দেয়াল আর পরিষ্কার হয়নি। আমি আকিফার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলাম, “ঘর আগায়া আব উতার যাও”। আমি আমার স্ত্রীর সাথে হিন্দিতে কথা বলার কারনে অটোর মানুষজন কৌতুহল ভাবে তাকালো, একজন বৃদ্ধ বয়স্ক লোক আমাকে জিজ্ঞেস করে বসলো, “এই বাড়ির তে কে থাকে তোমার” আমি একনজর তাকে দেখলাম, আর বলতে লাগলাম, এটা আমাদের বাড়ি আমার বাবার নাম ফজল হাওলাদার। লোকটি কেন জানি আবেগী হয়ে গেলো, অটো থেকে নেমে আমার সামনে দাঁড়ালো দু হাতে আমার গাল ছুঁয়ে দিলো, তার চোখ পানিতে ভরে উঠেছে। আমি বুঝতে পারছিলাম না কিছু সে চিৎকার করে বাড়ির মানুষ ডাকতে লাগলো, আরে আজিজ আছিস নাকি ঘরে, সুহেল, নাজমা, ইব্রাহিম কই তোরা দেখ কে এসেছে, তাড়াতাড়ি আয়। এসব কথা বলতে বলতে সে তার চোখের পানি ছেড়ে দিলো। নিজেই বির বির করে বলতে লাগলো, নিজ হাতে তোরে কোলে বসাইয়া খাওয়াইছি। তুই ছোট থাকতে আমাদের গ্রামে অনেক বড় মারামারি হয় একজন মারা যায় পুলিশ আমাকে আসামী ভেবে ১৬ বছর জেল হাজতে রাখলো। তোকে দেখার বড্ড সাধ হতো, তোর মা যেত আমাকে দেখতে কিন্তু তোকে নিয়ে আসতে আমিই নিষেধ করতাম। আপন মামার এমন পরিস্থিতি দেখে আমার জন্য যদি তোর মনে ঘৃনা জমে না যায় এই ভয়ে। আর যখন আমি ফিরে আসলাম তখন তুই রাগ করে চলে গেলি, দশটি বছর ধরে তোকে কোথায় না খুজেছি আমি। বলতে বলতে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে উঠলো, আর সমস্ত শক্তি দিয়ে ডাকতে লাগলো, তোরা কি মরছোস নাকি সব, কই গেলি তোরা বের হো।

আমি বোকার মত দাঁড়িয়ে তার আনন্দের পাগলামী দেখছিলাম। এরই মধ্যে সোহেল বের হয়ে আসলো, সোহেল আমার চাচাতো ভাই, আমার থেকে ৫ বছরের ছোট। সোহেলকে আমার চিনতে মোটেও কষ্ট হয়নি। আমাকে দেখে দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরলো, আর বলতে লাগলো, “আরে নজরুল ভাই, কেমন আছো ভাই, এমন রাগ কেউ করে, কোথায় ছিলে এতদিন।” আমাকে কথা বলার সুযোগ কেউ দিচ্ছেনা, লক্ষ করলাম সোহেলের চোখেও বিন্দু জল চকচক করছে। আমার উত্তরের সে অপেক্ষা করলো না, দৌড়ে ভেতরে গেলো। আর চিৎকার করে সমস্ত মানুষদের ডাকতে লাগলো, “কে কোথায় আছেন বের হন দেখেন নজরুল ভাই এসেছে” বাড়ির মানুষ একে একে ঘর থেকে বের হতে লাগলো, আশে পাশের বাড়ির মানুষ ও জরো হয়েছে। আমি আর আকিফা ব্যাগ নিয়ে বাড়ির উঠানে এসে আমার বড় বোন নাজমা কে পেলাম সে ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো কপালে গালে চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিলো বোনের ভালোবাসায়। দুচোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আমাকে শুধু শক্ত করে জরিয়ে ধরলো। তারমুখে কোন শব্দ নেই আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। আমিও তাকে জরিয়ে ধরলাম, কতক্ষন দাঁড়িয়েছিলাম সেই উঠানে বলতে পারবোনা। সবার দিকে চোখ ফিরিয়ে দেখলাম সবাই জলভরা আখি নিয়ে আমাদের দুজনকে দেখে যাচ্ছে। এক নজর আকিফার দিকেও দিলাম, সে বার বার হাতের টিস্যু দিয়ে চোখ মুছে যাচ্ছে। চোখের কাজল লেপ্টে গেছে তার গালে। তাকে হাতের ইশারায় কাছে ডেকে নিলাম সে পাশে এসে দাঁড়ালো, আমি আপাকে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলাম, “আপা ওর নাম আকিফা আমার স্ত্রী” আপা আমাকে ছেড়ে এবার আকিফাকে জড়িয়ে ধরলেন, হাউমাউ করে উঠলেন। আমি আকিফা আর আপাকে এক সাথে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম।

এরই মধ্যে সোহেল আমার দ্বিতীয় বোন হোসনেয়ারাকে ফোন করে বলে দিয়েছে আমি এসেছি। আমাদের বাড়ির দক্ষিন দিকে নদীর পাড়ে স্বামী নিয়ে থাকে। আমার কথা শুনতেই পাগলের মত ক্ষেত দিয়ে ছুটে এসেছে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে আমাকে ঠাস করে গালে চড় বসিয়ে দিলো, আর হাউমাউ করে ওরে আমার কলিজার ভাই রে….. কোথায় ছিলি রে এতগুলো বছর বলে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। পাগলের মত বকতে লাগলো।

নিজের চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলাম না, শত চেষ্টার পরেও হুরহুর করে পানি ঝরে পড়তে লাগলো। সবাই মিলে আমাকে আর আকিফাকে ঘরে নিয়ে গেলো।



আমি আসার কারনে নাজমা আপা সবাইকে নেমন্তন্ন দিয়েছে। এই দাওয়াত এর দুটি কারন তারা আমার আর আকিফার বিয়ে আবার দিবে, একটি মাত্র ভাই আমি, আমার বিয়ে তারা না দেখে মরতে চায়না। আর দ্বিতীয় কারন অনেকদিন পর এই হাওলাদার বাড়িতে সুখ ফিরে এসেছে। আমার আর আকিফার বিয়ের দিন তারিখ সব ঠিক করলো, তাদের আনন্দে আমি কোন রকম বাধা প্রদান করিনি। যেভাবে তারা সুখ খুজে পাচ্ছে সেভাবেই তাদের কে করতে দিচ্ছি ফাকে একবার আকিফাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তার কোন আপত্তি আছে নাকি? সে যে উত্তর দিয়েছিলো এমন উত্তর শুনে কষ্টেসৃষ্টে মানুষও সুখের নদীতে ভেসে যাবে, মজলিশ ভরা মানুষের সামনে সে বললো “আগার তুম মেরি জান মাংলেতি, তো হাছতে হুয়ে দে দেতা, লেকিং তুম তো মুঝে পেয়ার ওর খুশিয়া দে রাহিহো, মেরা ভালা কা ইনকার হো সাকতা হে”। সবাই হিন্দি না জানার কারনে এটার অর্থ সবাইকে বুঝিয়ে দিতে হলো।

আমি সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলাম, আকিফা বাংলাদেশের কিছুই দেখেনি। বিয়ের তো এখনো সপ্তাহ খানেক সময় আছে আমি আকিফাকে নিয়ে দু-তিন দিন বাহিরে ঘুরে আসতে চাই। প্রথমে কেউ রাজী না হলেও পরবর্তীতে সবাই রাজী হলো। আমি আকিফা কে নিয়ে সিলেট মৌলভীবাজার যাবো বলে ঠিক করলাম। কারন আমি আকিফা কে কথা দিয়েছিলাম, আমার জীবনের গল্প আমি দেশে ফিরে জানাবো। আর আমার জীবনের শ্রেষ্ট গল্প রয়েছে সিলেটের অলগলিতে।

আমরা দুদিনের প্রয়োজনীয় জামা কাপড় নিয়ে সিলেটের জন্য বের হয়ে গেলাম। বাসে বসে আমি আকিফাকে বলতে লাগলাম, আজ তোমাকে একটি গল্প শোনাবো মোটেও কোন উপন্যাসের পাতা থেকে নেওয়া গল্প না। আমার জীবনের অবিচ্ছেদ এক অংশ এটা।

আমি ঘর ছেড়ে বের হয়ে যাই ১৫ বছর আগে। তখন আমি কম্পিউটার ডিপ্লোমা শেষ করেছি। ঘরে কিছুটা অভাবের টানাপোড়ন চলছিলো, সংসারের হাল ধরার সময়টাও এসেছে। কি করা যায় তাই ভেবে পাচ্ছিলাম না। অনেক চেষ্টা করেও আমি চাকুরী পাচ্ছিলাম না। আমার এক বন্ধু ছিলো নাম রায়হান, সে কাজ করতো সিলেটে “ওয়েডিং প্লানার হাউজ” নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। এই প্রতিষ্ঠানটির কাজই ছিলো বিয়ের ডেকোরেশন থেকে শুরু করে খাওয়া দাওয়া, ভিডিও প্রোগ্রাম ইত্যাদি করা। সে তার রেফারেন্সে আমাকে সেখানে চাকুরী নিয়ে দিলো। আমি সিলেট মৌলভীবাজার চলে আসলাম। সেখান থেকেই জীবন কেমন যেন বিচিত্র হতে লাগলো। আমার অফিসটি ছিলো মৌলভীবাজার চৌমুহনী তে। প্রথম মাস খুব ভালোভাবেই কেটে গেলো আমার কর্মজীবন।

একদিন সকাল বেলা আমি থ্রিকোয়াটার প্যান্ট, আর স্যান্টু গেঞ্জি গায়ে দিয়ে দাত ব্রাশ করতেছিলাম রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে। ভোর বেলা ছিলো তাই লোকজনের আশা যাওয়া কম, মাঝে মাঝে দু একটা গাড়ি চলছে আকাশে সুর্যের আলোয় সোনার মত চিকচিক করছে। এমন সময় শুনতে পেলাম পেছন থেকে একদল মেয়ের হাসি, আমি ব্রাশ মুখে নিয়েই পেছন ফিরে তাকালাম। চারটি মেয়ে হেটে আসছে মেইন রাস্তার দিকে। তিনজন। মেয়ে পড়েছিলো থ্রিপিস আর একজন বোরকার উপর গোলাপী রংয়ের হিজাব। আমি সেই মেয়েটিকে খুব করে দেখতে লাগলাম, আর ভাবলাম অপ্সরা বুঝি এমনি দেখতে হয়। যখন তারা আমার নিকটে এসে পড়লো, তখন একটি মেয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো, “আহা ভাইজানের বুঝি প্যান্ট কেনার টাকা নেই রে, তাই ছোট প্যান্ট পড়ে আছে” আমিও কথার জবাব দিতে ভুল করিনি, ঠোটে হাসির ভাব নিয়ে বলে ফেললাম, “ভাইয়ের জন্য এতটান বোনদের যদি থাকে তারা একজন বোরখাপরে মাথায় গোলাপী হিজাব বান্ধে এমন একটি মেয়ের সাথে বিয়ে করিয়ে দিলেই তো পারে। শশুর বাবা যৌতুক না দেক একটা প্যান্ট শার্ট তো দিবেই।

আমার কথা শুনে হিজাব পড়া মেয়েটি আড়চোখে আমার দিকে তাকালো। তার চোখের তীক্ষ্মতা এত বেশী ছিলো যে চোখ দিয়েই আমাকে মেরে ফেলেছিলো, তেছড়ি নয়নে ছুড়ি চালিয়ে দিলো আমার মনেতে। আমি যখন মেয়েটির দিকে তাকিয়ে তার রুপ দর্শন করছিলাম তখন সে মেয়েটি বলে উঠলো “সিলেটি মেয়ে কি এতই সস্তা যে চাইলেই পাওয়া যায়” বলে সবাই খিলখিল করে হেসে উঠলো। তারা আর না দাঁড়িয়ে হেটে যেতে লাগলো মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের রাস্তা ধরে।

সেদিন থেকে প্রতিদিন আমি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম, থ্রি কোয়াটার প্যান্ট আর হাতে ব্রাশ নিয়ে। এতদিনের মধ্যে হিজাব পড়া মেয়েটির সাথে আমার কথা হয়নি, যাওয়ার পথে শুধু তাহমিনার সাথে কথা হতো, আর আমার প্রতি কথার উত্তরে আমি শুধু সেই হিজাব পড়া মেয়েকে ইংগিত করতাম। এভাবেই প্রায় দুমাস কেটে গেলো, এরমধ্যে একবারো তার বুলি ফুটেনি শুধু তেছড়ি নয়ন দিয়ে আমাকে দিনের পর দিন আঘাত করে যাচ্ছে। অবশেষে এক সময় তার নাম জানতে পারলাম মেয়েটির নাম মৌমি।

তিন মাসের পরিশ্রমে শুধু নামটাই জানা হয়েছে আমার, তখন তাহমিনার কথা সত্য মনে হয়েছিলো সিলেটী মেয়ে এত তাড়াতাড়ি ধরা দিবেনা। আমিও নাছোড়বান্দা হাল ছাড়বার মানুষনা। পানি কোথায় গিয়ে গড়াবে শেষ না দেখে ছাড়বোনা। একদিন সকালে তারা যখন দল বেধে আসছিলো আমাকে দেখে তাহমিনা কথা বলতে লাগলো, “আর কত পেছনে ঘুরবেন ছোট প্যান্টওয়ালা সাহেব” তাহমিনার কথা শুনে মৌমি বাদে সবাই হেসে উঠলো, সেও হাসছিলো মুচকি মুচকি। আজ যাইহোক মৌমির সাথে আজ কথা বলবোই। আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, “আপনি এমন কেন?। মৌমি আমার দিকে চোখ তুলে তাকালো আর বললো
০- কেন কি করছি?
— এতদিন ধরে আমি যে আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছি আপনি বুঝেন না?
০- কি করে বুঝবো আপনি তো তাহমিনার সাথেই কথা বলেন সব সময়।
— হ্যা বলি কিন্তু ইশারাতো আপনাকে দেই।
০- এত ইশারা আমি বুঝিনা।
— তাহলে কি বুঝেন?
০- আপনি যে থ্রিকোয়াটার প্যান্ট পড়েন। পায়ের উপর যে ঘনো পশম দেখা যায়, এইটা তে বুঝি আপনি একটা বনমানুষ।
মৌমির কথা শুনে সবাই এত জোরেই হেসে উঠলো যে ফাকা রাস্তা গুঞ্জন করে উঠলো। আমিও খানিকটা লজ্জা পেয়ে গেলাম, প্রথম দিন তার সাথে কথা হলো, আর আমাকে বনমানুষ বানিয়ে দিলো। তারা কোন উত্তরের অপেক্ষা না করে হাসতে হাসতে চলে গেলো। আমিও বাসায় গেলাম, আর সিদ্ধান্ত নিলাম কালকে ফুলপ্যান্ট পড়ে দাড়াবো।

রাত যেন কোনভাবেই আমার কাটেনা, সারা রাত তার মিষ্টভাষী কথার সুর কাজল দেওয়া চোখ আর মায়াবী হাসির মানে খুজতেই ভোর হয়ে আসছে। ফুলপ্যান্ট আর গেঞ্জি পরে হাতে ব্রাশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তারা আসছে, সবাই এসে আমার কাছেই দাড়ালো, তাহমিনা বলতে লাগলো, “ছোট বাচ্চাটি আজ বড় হয়ে গেছে” বলে হেসে উঠলো। আমি হাসার ভান করে মৌমির সামনে গেলাম, আজ বনমানুষ এর মত লাগছে কি? সে মাথা নাড়িয়ে না বললো। তার ব্যাগ থেকে একটি প্যাকেট বের করে সামনে এগিয়ে দিলো আমি হাতে নিয়ে তার ভেতর থেকে একটি ফুলপ্যান্ট পেলাম। ব্যাগের উপর লালকালিতে লেখা রয়েছে বনমানুষ হতে দেখতে পারবোনা, তাই আপনার জন্য এনেছি। সেদিন থেকে প্রতিদিন মৌমির সাথে দেখা আর হাজারো না বলা কথা বলা হতো। এখন তারা সবাই আমাকে আর মৌমি কে রেখে দূরে গিয়ে মৌমির আসার অপেক্ষা করে। তখনকার সময় হাতেগোনা মানুষ মোবাইল ব্যবহার করতো। আমাদের কথা বলার সুযোগ কম ছিলো বলে আমরা ভোরবেলায় দেখা করে সারারাত আর দিনের কথা বলে ফেলতাম। আর অপেক্ষা করতাম আরেকটি ভোর হবার।

এভাবেই আমাদের এক বছর প্রেমের দিন কেটে গেলো, আমি বেধে গেলাম এক না ভাংগা মায়ার বাধনে এক অপ্সরার প্রেমে মজনু হয়ে দিনরাত তার ভাবনাই ভাবতে লাগলাম। কিন্তু ভালোবাসাতে যদি কষ্ট না থাকে সে ভালোবাসা নাকি খাটি হয়না। তাই কষ্টের সাগরে আমাদেরকেও ডুব দিতে হলো।

মৌমির ভাই মৌলভীবাজার এর প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। সে যখন জানতে পারলো আমার কথা সেদিনই এক সর্বনাশা দিন হয়ে আসলো আমার জীবনে। সে জানতে পারার পরের দিন আমাকে ধরতে মৌমির পেছনে ভোরবেলাতে এসেছিলেন যা আমার জানা ছিলোনা। মৌমিকে আসতে দেখে আমি হাসিমুখে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, আজ তার চোখে ভয় দেখলাম আমি, সে আমাকে চোখের ভাষায় বলেছিলো চলে যাও এখন কিন্তু তা বুঝতে বড্ড দেরী হয়ে গিয়েছিলো। মৌমির ভাই এসে আমার কলার ধরে বসলেন, কোন কথা না শুনে না বুঝেই আমাকে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করলো। তার সাথে আরো দুটো ছেলে ছিলো, তিনজনে মিলে ইচ্ছেমত কাপড় কাছাড় মত আমাকে কিল ঘুশি আর লাথি দিয়ে ওয়াশ করতে লাগলো মৌমি আমাকে বাচানোর জন্য ছুটে আসলে তার ভাইয়ের হাতে তাকেও উত্তমমধ্যম খেতে হলো। দেয়ালের সাথে বাড়ি খেয়ে আমার মাথা ফেটে গেলো, আমি জ্ঞানহীন ভাবে রাস্তার উপর পড়ে রইলাম। তারা মৌমিকে নিয়ে চলে গেলো। আমি অসহায় যাযাবর এর মত পড়ে রইলাম।



যখন আমার জ্ঞান ফিরে আসে, তখন আমার সামনে আমি আমার অফিসের ডিরেক্টর আজমল সাহেব আর রায়হান কে দেখতে পেলাম। আজমল সাহেব একটি কথাই বললো, জলে বাস করে কুমিরের সাথে যুদ্ধ আমি করতে পারবো না। তুমি তাকে নিয়ে মৌলভীবাজার ছেড়ে চলে যাও। আরো তিনচারদিন মৌমিকে দেখার আশাতে সেখানে থাকলেও আমি তা পারিনি যেদিন মাদারীপুর চলে আসবো সেদিন মৌমির একটি চিঠি তাহমিনার হাত দিয়ে আমার কাছে আসে, তাতে কয়েকটি কথাই লেখা ছিলো।

সব ভালোবাসা পুর্নতা পায়না আমাদের যাত্রা বুঝি এটুকুই ছিলো, আগামী মাসে আমার বিয়ে, তুমি এখান থেকে চলে যাও। আর শোন না তোমাকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু তুমি আমার ভাগ্য রেখাতেই নাই।

চিঠিটা পড়ে আমি কান্নায় ভেংগে পড়লাম। রায়হান আমাকে সামলানোর অনেক চেষ্টা করলো কিন্তু চোখের পানি কিছুতেই বাধ মানেনা।

আমাকে নিয়ে সে গ্রামে ফিরে আসলো, সেদিন থেকে আমি চিড়চিড় মেজাজের হয়ে গেলাম। কেউ আমাকে কিছু বললে সহ্য করতে পারিনা। হুটহাট রাগ হয়ে যাই, কথায় কথায় গালি গালাজ করি। অন্ধকারে মায়ের কোলে শুয়ে কাঁদতে পছন্দ করি এখন। মৌমির বিয়ের দিন আমি আবার সিলেট এসেছিলাম তার বাড়ি একদম নতুনের মত করে সাজানো। অগোছালো চুল আর মুখভর্তি দাড়ি হয়েছে এখন। আমি তার বাসার আবডালে দাঁড়িয়ে রয়েছি, কিন্তু আমাকে তার ভাই দেখেই চিনে ফেলেছিলো, কাছে এসে কলার ধরে ঘুশি তুললো আবার। কিন্তু আমি তার পায়ে পড়ে গেলাম, আর বলতে লাগলাম “ভাই আমি শুধু এখানে দাঁড়িয়ে থাকবো বিয়ে শেষ হলে আমি এখান থেকে চিরদিনের জন্য চলে যাবো আর কখনো আসবোনা। সে আমার কথা মেনে নিলো কিন্তু যাবার সময় আবার শাসিয়ে গেলো। আমি ঠায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এক নাগারে ভেতরের অনুষ্ঠান দেখে যাচ্ছিলাম। তাহমিনা কয়েকবার দেখেছে আমাকে কিন্তু মৌমির ভাইয়ের ভয়ে কথা বলেনি। এক সময় মৌমির বিয়ে শেষ হলো, বরযাত্রীরা বউ নিয়ে চলে যেতে লাগলো, সারাদিনের অপেক্ষা শেষ করে মৌমিকে দেখতে পেলাম। লাল শাড়ী, দেহ ভর্তি বাহারী গহনা তে সাজানো যেন এক পুতুল পরী লাগছে। সে গাড়িতে উঠ বসছে ধীরে ধীরে গাড়ি চলে যেতে লাগলো, মৌমি আমাকে দেখে কয়েকফোটা চোখের পানি ঝড়ালো, এটাই হয়ত সে তার ভালোবাসার শেষ প্রকাশ করেছে।

সবাই চলে যাবার পর মৌমির ভাই আমাকে ভেতরে নিয়ে গেলো, আমার সামনে খাবার দিয়ে বললো “নেহ বিয়ের খাবার খেয়ে এবার বিদায় হো” আমি না করলাম না, আমি হাজার বছর বেচে থাকলেও এমন বিয়ের খাবার আর খেতে পারবো না, এই বিয়ের খাবারে আমার কান্না, আমার রক্ত মিশ্রিত। এই খাবারে মৌমির ভালোবাসা ত্যাগ, কান্না মিশ্রিত এমন খাবার আর খাওয়া হবে না কোনদিন। আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে তাহমিনা, আমি খাচ্ছি আর চোখের পানি ঝড়িয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি ফোটা আমার খাবার প্ল্যাটে পড়েছে আমি সেই অস্রুসহ গিলে গিলে খেয়েছি আমার প্রেয়সী আমার ভালোবাসার ত্যাগের বিয়ের খাবার।



আমার গল্প শেষ করতে করতে আমরা সিলেট মৌলভীবাজার চলে আসলাম। আকিফা আমাকে জরিয়ে ধরে কতক্ষন কেদেছিলো জানা নেই, সিলেট আসতে বিকেল হয়েছে এখনো সন্ধ্যে হতে বেশ সময় বাকি। সিলেট এখন আগের মত নেই, আমি সেই রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছি সব কিছুই অচেনা মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্যে মৌমির বাসাটি আকিফাকে দেখিয়ে আনা। রাস্তার মধ্যে আকিফা জিজ্ঞেস করলো “তুমি ঘর কেন ছেড়েছিলে” আমি দীর্ঘ একটি নিশ্বাস নিয়ে বলতে লাগলাম, ঘর আমি ছাড়িনি আমাকে ঘর ছেড়ে বের হয়ে যাবার জন্য বাধ করা হয়েছে। মৌমির বিয়ের দুইমাস পর আমি, বাবা মা ঢাকায় আসতেছিলাম মায়ের চিকিৎসার জন্য। তখন আমার এ দুইবোন জর্ডান গিয়েছিলো। সেদিন ঝরের দিন ছিলো, বিকেল নাগাত আমরা লঞ্চে উঠি। লঞ্চ মাঝনদে আসতেই শুরু হয় প্রকৃতির তাণ্ডব। নদীর ঢেউ কয়েক গুন বেড়ে যায়। পদ্মার মাঝখানে লঞ্চ ডুবিতে মা বাবা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। আমি কিভাবে যেন বেচে গেলাম, তারপর থেকে আমার আর ঘরে যাবার প্রয়োজন হয়নি। ব্যস্তার শহরে হামাগুড়ি দিতে দিতে নিউজিল্যান্ড গিয়ে পড়লাম।

দেখতে দেখতে আমি মৌমির বাসা খুজে বের করলাম। আমার ভেতরে যেতে একটু সংকোচ হচ্ছিলো, আকিফাকে ভেতরে পাঠালাম প্রথমে, আকিফা কিছুক্ষন পর একটি জগ আর পানি নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। এসে আমাকে পানি দিলো আমি খেতে লাগলাম, তারপিছু একটি মেয়ে আসতেছে আমি ভালো করে দেখতে লাগলাম, নাহ এটা মৌমি না, কিন্তু আমার পরিচিত এমনটা মনে হচ্ছে। সে যত কাছে আসতেছে ততই তার চেহারা মনে পড়তে লাগলো আরে এতো তাহমিনা, তাহমিনা এই বাসায় কি করে মনেতে প্রশ্ন জাগলো।

তাহমিনা কাছে এসে আকিফাকে হিন্দিতে জিজ্ঞেস করলো, “ওর কুছ চাহিয়ে” আকিফা মাথা নেড়ে না উত্তর দিলো। আমি তাহমিনার দিকে তাকিয়ে রইলাম, তাহমিনা আমার দিকে নজর দিতেই যেন চমকে উঠলো, সে কিছু একটা বুঝতে চাচ্ছে কিন্তু বুঝে উঠতে পারছে না। আমি তাহমিনাকে হাসিমুখে বলে উঠলাম, “এখনো কি এই রাস্তায় কেউ থ্রিকোয়াটার প্যান্ট পড়ে দাঁড়িয়ে থাকে?” তার চোখ জ্বল জ্বল করে উঠলো জলে সে তার শাড়ির আচল দিয়ে মুখ চেপে ধরলো, এতগুলো বছর পর আবার আমার সাথে দেখা হবে এটা হয়ত সে কল্পনাতেও ভাবেনি। চোখথেকে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো, মৃদু শব্দে বলতে লাগলো, “ভাই ভেতরে আসুন, মৌমির মেয়ে আছে এখানে” মৌমি নামটা শুনে আর ধরে রাখতে পারলাম না ভেতরে গেলাম।

বাড়ির বারান্দায় হুইল চেয়ারে বসে আছে মৌমির বড় ভাই তাকে চিনতে আমার কষ্ট হয়নি। তাহমিনা আর মৌমির ভাইয়ের বিয়ে ৬ বছর আগে হয়। একটি এক্সিডেন্ট এ মৌমির ভাইয়ের পা অকেজো হয়ে যায় সেই থেকে তার স্থান হুইল চেয়ারটিতেই। তাহমিনা মৌমির মেয়েকে নিয়ে আসছে আমার সামনে, দেখতে একদম মৌমির মতই হয়েছে, সেই চোখ সেই নাক সেই গোলগাল গাল। আমি তাকে কাছে ডাকলাম, নাম কি তোমার “আমার নাম তাসফিয়া” আমার মনে পড়ে গেলো আরেকটি কথা আমি একবার মৌমিকে বলেছিলাম আমাদের মেয়ের নাম তাসফিয়া হবে। মৌমি আমার সেই কথা হয়ত ভুলেনি। হুইল চেয়ার এর চাকা ঘুরিয়ে মৌমির ভাই আমার কাছে আসলো, আমাকে চিনতে পেরে একটি কথাই বললো, “নজরুল ভাই আমাকে মাফ করে দিস” তার চোখে আমি করুণারূপ দেখেছি অসহায়ত্ব দেখেছি। আমি শুধু মাথা নাড়িয়ে গেলাম। আর সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিলাম আমার স্ত্রীর সাথে।

আমি তাহমিনার কাছে জানতে চাইলাম মৌমির কথা, সে জানালো মৌমি তাসফিয়া কে জন্ম দেবার ২ দিন এর মাথায় পরবাসী হয়েছে। মৌমির স্বামী, মৌমি মারা যাবার পর আরেকটি বিয়ে করে তারপর থেকে তাসফিয়া তাহমিনার কাছেই থাকে। তাহমিনার কোন সন্তান হয়নি তাই মৌমির মেয়েকেই তার মেয়ে হিসেবে বেছে নিয়েছে। মৌমি আর এই পৃথিবীতে নেই কথাটি শুনে থমকে গেলাম। কোন কথা বলতে পারলাম না, আকিফার হাত ধরে বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম, রাস্তার উপর আসতেই রংগিন চিত্রছবির মত আমার সামনে ভেসে উঠলো সেই ফেলে আসাদিন। এই মোড়েই দাড়িয়ে কথা বলেছি প্রেয়সীর সাথে, তার হাসির শব্দ শুনতে পারছি বাতাসের সাথে। আমার ফেলে আসা যে প্রেম এই রাস্তাতেই শুরু হয়েছিলো, এই রাস্তাতেই সে প্রেম ক্ষ্যান্ত হয়েছে। এখন শুধু মৌমি আর আমার ভালোবাসা গভীর রাতের নির্জনতায় থাকে। অতি গোপনে আপন পরশে বেচে আছে হৃদয়ের মাঝে আমার মনের ভেতর মৌমির প্রেম।

আমি আর একদিনো সিলেট এ রইলাম না। সেখান থেকে সোজা মাদারীপুর চলে আসলাম। আমার বাড়িতে বিয়ের আয়োজন বেশ জোরেশোরে চলছে। আমার আর আকিফার দ্বিতীয় বিয়ে হতে যাচ্ছে। সবার চোখে মুখে আনন্দ, আমিও যে আনন্দিত নই এমন না। কিন্তু মৌমি আর নেই, ভেবেছিলাম সে সুখের সংসার করছে আমাকে ভুলে, কিন্তু জানা ছিলোনা তার ভালোবাসার ছাপ রেখে যাবে তার মেয়ের রুপে। আর পরবাসী হয়ে সে হারিয়ে গিয়েছে শুধু আমার থেকে নয় পুরো পৃথিবী থেকে। আমার আর আকিফার দ্বিতীয় বিয়ে শেষ হলো। আজ আমার দ্বিতীয় বাসর রাত। বউ সেজে এক পাকিস্তানি মেয়ে আমার অপেক্ষায় বসে আছে, আমি পাশে গিয়ে তার ঘোমটা সরিয়ে জিজ্ঞেস করলাম “ডার লাগরাহা হে” সে মুচকি হেসে উত্তর দিলো “থোড়া থোড়া”। আমি গালভর্তি হাসি দিয়ে তার কপালে একটি চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম।

১৯৭১ এ বাংলাদেশের বিদেশী বন্ধু

Now Reading
১৯৭১ এ বাংলাদেশের বিদেশী বন্ধু

মাতৃভূমি রক্ষার্থে লড়াই করা বিরাট গৌরবের ব্যাপার। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলার আপামর জনতার অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে সেই গৌরব অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ হয়েছিল হাজার হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার। এই গৌরব অর্জনের এক বড় অংশীদার হচ্ছে বিদেশিরা। তাদের একান্ত সহযোগিতায় যুদ্ধ জয় ত্বরান্বিত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বাঙালিদের পাশাপাশি কিছু মানুষ ছিলেন যারা এই দেশের না হয়েও মানবতার টানে এই গৌরবময় জয়ে রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। তাই স্বাধীনতা অর্জনে বিদেশিদের অবদান কোনোদিন ভোলার নয়। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিনই সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে ভারতের অবদানের কথা।

বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রামে শুরু থেকেই বহির্বিশ্বের নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ ছিল। নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যা, নির্যাতন এবং একপেশে যুদ্ধের খবর কেউ পৌঁছে দিয়েছিলেন কলম হাতে, কেউ ক্যামেরা হাতে। বিশ্ববাসীকে জানান দিয়েছিলেন নিজের কবিতায়, কেউবা গান গেয়ে। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশিদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো কজন বন্ধুকে নিয়েই আজকের আলোচনা।

ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী অবদান রাখার জন্য বীরপ্রতীকপ্রাপ্ত ওডারল্যান্ড ছিলেন একজন ডাচ-অস্ট্রেলিয়ান কমান্ডো অফিসার। ঢাকায় বাটা স্যু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষ দিকে প্রথম ঢাকায় আসেন।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই কোম্পানি-ম্যানেজার ওডারল্যান্ড যেন নিজের মধ্যে আবিষ্কার করেন নতুন এক যুদ্ধের মুখোমুখি প্রাক্তন-সৈনিক ওডারল্যান্ডকে। অপারেশন সার্চলাইটের সময় তিনি লুকিয়ে সে রাতের ভয়াবহতার কিছু ছবি তুলে পাঠান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এভাবেই তিনি বাংলাদেশিদের প্রাণের বন্ধু হয়ে ওঠেন। শুধু এ দেশের স্বাধীনতার জন্য আর নিরীহ মানুষকে হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে নিজের মানবিক তাড়নাতেই সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে লড়তে থাকেন পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে।

আগস্ট মাসের দিকে তিনি টঙ্গীতে বাটা কোম্পানির ভিতরে গেরিলা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য-ওষুধ এবং আশ্রয় দিয়েও তিনি সাহায্য করেছিলেন। টঙ্গী ও এর আশপাশ এলাকায় বেশ কয়েকটি সফল গেরিলা হামলার আয়োজকও ছিলেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি মুক্তিযুদ্ধে এ বীরোচিত ভূমিকার জন্য বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।

এডওয়ার্ড কেনেডি

১৯৭১-এ বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার জন্য লড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় রিপাবলিকান পার্টি।  রিপাবলিকানদের সমর্থন ছিল পাকিস্তানের দিকে। এর মধ্যেই বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন সিনেটর এডওয়ার্ড।

বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষ বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছিলেন। তাদেরই একজন মহান ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশিদের অকৃত্রিম বন্ধু আমেরিকার সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি।

অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। পাকিস্তান বাহিনীর পাশবিকতা থেকে বাঁচার জন্য মানুষ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এক কোটি শরণার্থীর দুর্দশা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করে ফিরে এসে কেনেডি সিনেট জুডিশিয়ালি কমিটির কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট করেছিলেন ‘ক্রাইসিস ইন সাউথ এশিয়া’। ইতিহাসে এই রিপোর্টটির গুরুত্ব অনেক। এ রিপোর্টে কেনেডি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার কথা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রশাসনের সামনে।

আমেরিকা ছাড়াও তিনি বিভিন্ন দেশে গিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য সাহায্য চেয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশে আসেন। এখানে তিনি একটি শোভাযাত্রায় অংশ নেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কাজ করে গেছেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের শরণার্থীদের দুঃখ-দুর্দশা বিশ্ববাসীর দৃষ্টিতে এনেছিলেন এডওয়ার্ড কেনেডি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের শরণার্থীদের দুর্দশা নিজের চোখে দেখে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মর্মস্পর্শী একটি প্রতিবেদনও জমা দিয়েছিলেন তিনি।

অ্যান্থনি মাস্কারেনহাস

অ্যান্থনি মাসকারেনহাস জন্মসূত্রে ভারতীয় গোয়ানীজ খ্রিস্টান এবং বসবাস সূত্রে পাকিস্তানি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছুকাল এদেশে সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সেই সময়কার ঘটনাগুলো তুলে ধরার বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

করাচী থেকে প্রকাশিত দ্য মর্নিং নিউজ-এর প্রধান সংবাদদাতা এবং পরবর্তীতে সহ-সম্পাদক পদে কর্মরত ছিলেন ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সনের মে মাস পর্যন্ত। একাত্তর সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে এসে গণহত্যার তথ্যাদি সংগ্রহ করেন। এরপর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে লন্ডনের সানডে টাইম্‌স পত্রিকায় গণহত্যার তথ্যাদি প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি স্বয়ং ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন। পত্রিকাটির ১৯৭১ সনের জুন ১৩ সংখ্যায় এ সকল তথ্যাদি প্রকাশিত হয়। এতে বিশ্ব বিবেক অনেকাংশেই জাগ্রত হয় এবং বিশ্ববাসী বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্বন্ধে জানতে পারে। তিনি উপমহাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলী অন্তরঙ্গ আলোকে প্রত্যক্ষ করে সংবাদিকসুলভ ভঙ্গিতে তা বর্ণনা করেছেন। তার লেখা বই হচ্ছে “দা রেইপ অব বাংলাদেশ” এবং “বাংলাদেশের রক্তের ঋণ”।

তার দ্য রেইপ অব বাংলাদেশ গ্রন্থটি ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়। বইটির সেই প্রাথমিক সংস্করণে শেষের দিকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ফলাফল সম্বন্ধে আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন-

আমরা সবেমাত্র একটি নতুন অন্ধকারের রাজ্যে প্রবেশ করেছি। অন্ধকারময় সুড়ঙ্গপথের শেষ প্রান্তে যেখানে আলোর রাজ্য শুরু, সেখানে পৌঁছতে আমাদের দীর্ঘ সময় লাগবে।

অবশ্য খুব বেশি সময় আমাদের লাগেনি। আমরা আর কয়েকমাস পরেই পেয়ে যাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

সায়মন ড্রিং

কলম আর ক্যামেরা হাতে নিজের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে নিরীহ বাংলাদেশিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সাংবাদিক সায়মন ড্রিং। একাত্তর সালে সাইমন ড্রিংয়ের বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। তিনি তখন নামকরা পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফের একজন সাংবাদিক। অন্যদিকে তখন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তানি সামরিক সরকার ২৫ মার্চ বিশ্বের বড় বড় সংবাদ মাধ্যমগুলোর ৪০ সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছে।

সেই সুযোগে টেলিগ্রাফের সাংবাদিক হিসেবে বাংলাদেশে আসেন সায়মন ড্রিং। পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের চিত্র তিনি তুলে ধরেন বিশ্ববাসীর সামনে। একসময় সাংবাদিকদের জন্য অবস্থা প্রতিকূলে চলে গেলে তিনি দেশত্যাগ না করে লুকিয়ে থাকেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তিনি ২৭ তারিখে পাকিস্তানি বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে আসেন শহরে। ঢাকার বুকে তখন হত্যা, ধ্বংস আর লুটপাটের চিহ্ন। পর্যাপ্ত ছবি আর প্রত্যক্ষ ছবিগুলো নিয়ে তিনি পালিয়ে চলে গেলেন ব্যাংককে।

সেখান থেকে প্রকাশ করলেন ‘ট্যাঙ্কস ক্রাশ রিভল্ট ইন পাকিস্তান’। বিশ্ববাসীর সামনে তিনি তুলে ধরলেন নির্মম বাস্তবতাকে। তার পাঠানো খবরেই নড়েচড়ে বসল পুরো বিশ্ব।

সিডনি শ্যানবার্গ

সিডনি শ্যানবার্গ ছিলেন দি নিউইয়র্ক টাইমস-এর একজন সাংবাদিক। তিনি ১৯৩৪ সালের ১৭ই জানুয়ারি আমেরিকার ক্লিনটন মাসাচুয়েটস -এ জন্মগ্রহন করেন । ১৯৫৯ সালে তিনি দি নিউইয়র্ক টাইমস এ যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ-এর হত্যাকাণ্ড তিনি খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন। সেসময় তিনি ছিলেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। হোটেলের জানালা দিয়ে তিনি দেখেন ইতিহাসের এক ভয়ানক হত্যাকাণ্ড।

তিনি পুরো যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ওপর অসংখ্য খণ্ড খণ্ড প্রতিবেদন পাঠান যার অধিকাংশ ছিল শরণার্থী বিষয়ক। তার প্রতিবেদনে পুরো বিশ্ব জানতে পারে পাক বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ এবং ভারতে অবস্থিত শরণার্থীদের অবস্থা। তার অসংখ্য প্রতিবেদনের একটি নির্বাচিত সংকলন প্রকাশ করেছে ঢাকার সাহিত্য প্রকাশ। সংকলনটির নাম ডেটলাইন বাংলাদেশ-নাইন্টিন সেভেন্টিন ওয়ান। যা অনুবাদ ও সংকলন করেছেন মফিদুল হক।

জে এফ আর জ্যাকব

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের মধ্যে ভারতের লে. জেনারেল (অব.) জে এফ আর জ্যাকব হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্যতম একজন বন্ধু। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অসামান্য অবদানের জন্যে আমাদের বিজয় হয়েছিল তরান্বিত। একাত্তরে তিনি ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফ, তখন তার পদমর্যাদা ছিল মেজর জেনারেল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে রেখেছিলেন অসামান্য অবদান। মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদান ছিল অনস্বীকার্য আর এক্ষেত্রে জেনারেল জ্যাকবের বিশাল ভূমিকা ছিল। সীমান্ত এলাকায় মুক্তিবাহিনীদের জন্য ক্যাম্প স্থাপন, মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পগুলোর পুনর্গঠন, তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, অস্ত্র-রসদ জোগান দেয়াসহ মুক্তিবাহিনীর সাথে যৌথ অভিযানে এসে বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত জয়ে অসামান্য অবদান রাখে ভারতীয় বাহিনী।

 

ইন্দিরা গান্ধী

স্বাধীনতা যুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর অবদান অপরিহার্য। ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম ভারতের রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী, ঐতিহ্যবাহী নেহেরু পরিবারে। বাবা পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু এবং মা কমলা দেবী। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ বছর ভারত শাসন করেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৩৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন।

১৯৬৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি রাজ্যসভার সদস্য হন। লালবাহাদুর শাস্ত্রীর কেবিনেটে তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতের রাজনীতিতে আবির্ভূত হন।

ইন্দিরা গান্ধীকে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ২০১১ সালের ২৫ জুলাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘স্বাধীনতার সম্মাননা’ দেওয়া হয়। ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তার পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধী।

 

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ

রবিশঙ্কর আর জর্জ হ্যারিসন। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের কথা সুরের মূর্ছনায় বিশ্ববাসীকে প্রথম জানান দিয়েছিলেন তারাই। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ থেকেই বিশ্ববাসীকে আবেগী নাড়া দেয়। নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের নৃশংসভাবে হত্যাযজ্ঞ বাস্তবে উপস্থাপন করেন তারা।

একাত্তরে বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের পৈশাচিকতা দেখে ভারতের সেতারসম্রাট বিখ্যাত শিল্পী রবিশঙ্কর ঠিক করলেন, কিছু করতে হবে তাকে। তার বন্ধু বিখ্যাত বিটলস ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনও এতে সায় দেন।

১ আগস্ট ১৯৭১ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে বসল পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরণীয় এক ঐতিহাসিক কনসার্ট। সেখানেই বাংলাদেশের জন্য বাজালেন সেতারসম্রাট রবিশঙ্কর, সরোদসম্রাট ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ, তবলার কিংবদন্তি শিল্পী আল্লারাখা খাঁ।

তারপর একে একে গান গাইলেন বিটলসের জর্জ হ্যারিসন, রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, বিলি প্রিস্টন আর কিংবদন্তি গায়ক বব ডিলান। কিংবদন্তি গিটারিস্ট এরিক ক্ল্যাপটনও গিটার বাজিয়েছিলেন কনসার্টটিতে। সবশেষে জর্জ হ্যারিসন গাইলেন তার সেই বিখ্যাত গান ‘বাংলাদেশ’।

জোসেফ ও’কনেল

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বন্ধু জোসেফ ও’কনেল টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ম গবেষণা বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক ছিলেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগের বশে তিনি ও তার সহধর্মিণী ক্যাথলিন ও’কনেল দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চর্চা করেছেন।

জোসেফ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখেন। বিদেশে যে কয়জন বন্ধু বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ভাষার প্রতি সত্যিকারে দরদ দেখিয়েছিলেন তাদের একজন তিনি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় জনমত তৈরি করেন।

অ্যালেন গিন্সবার্গ

কবি এবং কাব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আলোড়ন তুলেছিল। সেই কবির নাম অ্যালেন গিন্সবার্গ। তিনি একজন মার্কিন কবি। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ওপর তিনি লিখেছিলেন একটি দীর্ঘ কবিতা।

কবিতাটির নাম ছিল- ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। তার কবিতাটি ছুঁয়ে যায় হাজারও মানুষের হৃদয়। নিপীড়িত মানুষের হাহাকার মেশানো, যুদ্ধের বাস্তবচিত্র কবিতার অক্ষরে অক্ষরে জানান দিয়ে যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্য। তার কবিতা শুনে ও পড়ে অশ্রুসজল হয়ে পড়েন হাজারও মানুষ। বাংলাদেশের পক্ষে একাত্ম হয়ে ওঠেন বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অগণিত সাহিত্যপ্রেমিক।

তার কবিতাটির কয়েকটি লাইন এখনো অনেকের মুখে মুখে চলে আসে। ‘মিলিয়নস অব সোলস নাইন্টিন সেভেন্টিওয়ান, হোমলেস অন যশোর রোড আন্ডার গ্রেসান, আ মিলিয়ন আর ডেড, দ্য মিলিয়নস হু ক্যান, ওয়াক টুওয়ার্ড ক্যালকাটা ফ্রম ইস্ট পাকিস্তান’। কবিতার ইস্ট পাকিস্তান বা পূর্ব পাকিস্তানই হলো বর্তমান বাংলাদেশ।

তার এ কবিতার সূত্র ধরেই বিখ্যাত বাঙালি গায়িকা মৌসুমী ভৌমিক কবিতাটির কিছু অংশ বাংলায় অনুবাদ করে তৈরি করেছেন তার ‘যশোর রোড’ গানটি।

পল কনেট দম্পতি

লন্ডনে বাংলাদেশের নিরীহ জনমানুষের ওপর অস্ত্র ব্যবহারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিল পল কনেট দম্পতি। পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরাচ্ছে এ খবরে তারা আর চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন, বাংলাদেশের খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধপথ্য পাঠানোর জন্য তিনি ‘অপারেশন ওমেগা’ নামে একটি সংস্থা করেন।

লন্ডনের ক্যামডেন এলাকায় তারা ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ নামে একটি কার্যালয় খোলেন। পাকিস্তানি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জনমত গঠন করতে ১ আগস্ট লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে বিশাল জনসভার আয়োজন করেন তারা।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে পল নিজেই চলে আসেন। পলের সঙ্গে তার স্ত্রী এলেন কনেটও বাংলাদেশে এসেছিলেন। ট্রাফালগার স্কয়ারে বিশাল জমায়েত শেষে একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ভারতে আসেন। সেখান থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢোকেন বাংলাদেশে। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। পরে পাকিস্তানের সামরিক আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি মুক্তি পান।

 

লেয়ার লেভিন

পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতার কাহিনী বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেবেন— এ মন্ত্রেই ’৭১ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্যামেরা হাতে ঘুরে বেড়িয়েছেন ‘মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’র সঙ্গে। তারা একটি ট্রাকে ঘুরে বেড়াতেন ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আর মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে।

সুযোগ পেলে দেশের ভিতরের মুক্তাঞ্চলেও চলে আসতেন। সেখানে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলাদের দেশাত্মবোধক গান শুনিয়ে, পুতুলনাচ দেখিয়ে উজ্জীবিত করতেন। প্রায় ২০ ঘণ্টার ক্যামেরা ফুটেজ তৈরি করলেন তিনি। তারপর ফিরে গেলেন আমেরিকায়। শুরু করলেন ডকুমেন্টারিটি তৈরির কাজ। কিন্তু টাকার অভাবে শেষ করতে পারলেন না ডকুমেন্টারিটি।

পরে অবশ্য আমাদের দেশের আরেকজন বিখ্যাত পরিচালক তারেক মাসুদ আর তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ লেভিনের কাছ থেকে ফুটেজগুলো নিয়ে তৈরি করেন ‘মুক্তির গান’।