3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নতির ইতিহাস

Now Reading
বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নতির ইতিহাস

বাংলাদেশ বর্তমানে ক্রিকেটে ভালই উন্নতি করেছে। অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বর্তমানে খুব ভাল বল করছে। অন্য দিকে সাকিবের সাথে স্পিনার হিসাবে ভালই করছে মেহেদী মিরাজ।  টেষ্ট ক্রিকেট ভালই খেলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তাই  অনকে খেলায় তার দুর্দান্ত ব্যাটং দেখে মুগ্ধ হতে হয়। যা হোক বাংলাদেশকে জিততে হলে যা করতে হবে বলি, বাজে শর্ট খেলা যাবে না, যার ফলে ক্যাচ আউটের সম্ভনা থাকে। ব্যাট করার সময় পার্টনারকে সাপোর্ট দিতে হবে এবং তাকে সতর্ক করতে হবে যেনো কোন অবস্থাতে দ্রুত রান করার জন্য অপজিট স্ট্যাম্প থেকে আগেই দৌড় না দেয়।

মেহেদী মিরাজ বলিং এর পাশাপাশি ব্যাটও ভালই করে।  খেলায় ভাগ্য ভাল ও হয় আবার খারাপও হয় সবারই  তবে  সবচেয়ে ভাল খেলে মুশিফিকুর রহিম এবং সে জিনিয়িাস একটি প্লেয়ার। মাঝমোঝে সাব্বির কোন একটি শর্টে ভুল করে বসে তবে বড় কথা হল  সে ভাল খেলে। অষ্ট্রেলিয়ার সাথে খেলায় দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বল কোথায় যায় না দেখেই দৌড়াতে শুরু করে কিন্তু বল গিয়ে ব্যাটিং স্ট্যাম্পের অপজিট স্ট্যাম্পে গিয়ে লাগে এবং সে আউট হয়। আউটটা দেখার মত। যা হোক বাংলাদেশ যা ভুল করেছে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাক তাই আমরা চাই। বাংলাদেশ অনেক কিছু ইতোমধ্যে শিখেছে এবং আরো শিখতে হবে। গতবারের খেলায়,   অষ্ট্রেলিয়া যখন ব্যাটিং শুরু করে তখন সৌভাগ্য জনক ভাবে একটি উইকেটও পেয়ে যায়  বাংলাদেশ । গুড জব বাংলাদেশ, মনে হচ্ছে বাংলাদেশ জিতবে।

মেহেদী ১ম বারের মত তখোনো মানে ডে ২ তেও  ভালই বল করছে। আউট হতে হতে হচ্ছে না। হঠাৎ দেখি সবাই খুব উচ্ছসিত, কি ব্যাপার দেখিতো। যা হোক দেখলাম অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দুই হাত দুইদিকে প্লেনের মতো দেখাতে দেখাতে সামনে দৌড়াচ্ছেন তার মানে বাংলাদেশ ২য় উইকেট শিকার করল, অজি ব্যাটস ম্যানদের হতাশ মনে হলো। বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ার রান এসেছে মোট ২৮ এবং ২ টি উইকেট তাদের হারাতে হয়েছে। ডেভিড ওয়ার্নার এবং স্মিথ খেলছেন। স্মিথ নতুন নেমেছে ব্যাটিং করার জন্য। মুশফিক একটি স্ট্যাম্প আউট করার সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তা হয়ে উঠে নাই। ডেভিড ওয়ার্নার ভাল রান করতে পারেন । কাজেই বাংলাদেশের এখন টার্গেট ওয়ার্নারকে আউট করা।

যেটা অনেকটা কঠিন কাজ কারন অজিরা বাংলাদেশে বলিং কৌশল প্রায় বুঝে ফেলেছিল। অষ্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেটের পতন হলেও ভয় আছে, কারন তারা যেকোন সময় দাবার গুটি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।  সেটা ছিল তখনকার সময়ের বর্তমান চিত্র কিন্তু সে চিত্র বাংলাদেশের বোলাররা যেকোন সময় পরিবর্তন করতে পারে। টেষ্ট ক্রিকেটে রানের থেকে উইকেট এর গুরুত্ব অনেক বেশী। সেই দিনকার খেলা কোন দিকে গড়ায় সেটা বুঝা মুশbangladesh-england-pictured-rahman-celebrates-taking-teammates_a2f70eba-49b0-11e7-88f6-6a3facb665a5.jpgকিল তবে ওয়ার্নার যতক্ষন আছে ভয় তত বাড়ছে। অনেকটা ভয়ংকর হয়ে উঠছেন ডেভিড ওয়ার্নার। তার ব্যাক্তিগত রান এখন ৫০।

মোস্তাফিজ মাঝে মাঝে ভাল খেলে । সে বল করছে কিন্তু কি কারনে যেন সেই সময়ে  কাজ হচ্ছিল না। আসলে তারও পারফরম্যান্স ততটা ভাল হচ্ছেল না যদিও পরের খেলায় সে ঘুরে দাড়ায়। বর্তমানে বাংলাদেশের যে কয় জন প্লেয়ার আছেন তার মধ্যে তামিম, সাকিব, সাব্বির এবং মুশফিক এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তুলনামূলক ভাবে ভাল ব্যাট করে। শুধু তাই নয় তাদের এই সাহসীকতার কারনে অনেক সময় ম্যাচ ও জিতে যায়।

যাহোক আমি  আর্টিকেল লিখছি  ৩০ আগষ্ট ২০১৭ ইং সকাল ১০ঃ৩০ মিনিট এর সময়কার কথা।  ডেভিড ওয়ার্নার তখন ৯৯ রান করে ফেলেছে এবং স্মিথ করেছ ২৯ রান।  তার কিছুক্ষণ পরেই দেখি ওয়ার্নারের একটি চার এর মার এবং সাথে সাথে ওয়ার্নার লাফিয়ে উঠে হেলমেট খুলে এবং ব্যাট ঘুরিয়ে জানান দিল তার ১০৩ রান হয়েছে। আর তারা বুঝেছিল তাদের আর  হারানোর চিন্তা ও করতে পারবে না। অবশ্য তখনও বলা যাচ্ছিল না শেষ পর্যন্ত কি হয় এবং সিদ্ধান্ত হবে আসলে সেদিনের বাংলাদেশের বোলিং পারফরম্যান্সের উপর। সবার একটি জিনিস খেয়াল করছেন, সেই দিন  কিন্তু আকাশে আর মেঘ নেই। তার মানে বৃষ্টি হবে না। সেই  সকালে  আমরা দেখলাম আকাশে কটকটা রোদ।  প্রথম দিকে যেভাবে ভাবছিলাম বাংলাদেশ জিতবে কিন্তু এখন মনে হচ্ছে হারতে যাচ্ছে বাংলাদেশ । ওয়ার্নার এবং স্মিথ দুরন্ত গতিতে ব্যাট চালাচ্ছেন।  মেহেদী মিরাজ চেষ্টা করছেন উইকেট নেয়ার কিন্তু সফল হতে পারছেন না। এর কারন হিসাবে আমার মনে হয় তারা আমাদের বোলিং কৌশল ধরে ফেলেছেন, তাই নতুন করে আর কোন ভুল তারা করছেন না। খুব সতর্ক হয়ে খেলছেন। সাকিবের বলে মুশফিক স্ট্যাম্প আউট করার চেষ্টা করছেন। কারন বাংলাদেশের বোলারদের এখন টার্গেট যেভাবে হোক উইকেট নেওয়া।

তাই তাদেরকে ভাল বোলিং করার পাশাপাশি স্ট্যাম্প আউট, ক্যাচ আউট, রান আউট ইত্যাদীতে মনোযোগ দিতে হবে। এই মাত্র ডেভিড ওয়ার্নার আউট হয়েছেন ১১২ রান করে। সাকিব আল হাসানের বলে তিনি এলবিডব্লিউ হন। সেই দিনের খেলায় যদি অষ্ট্রেলিয়ার কয়েকটি উইকেট পড়ে যায় তাহলেই একমাত্র সম্ভব হতো বাংলাদেশের ম্যাচে ঘুরে দাড়ানোর এছাড়া সম্ভব না। যাহোক শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়। দুই অধিনায়ক ট্রফি ভাগাভাগি করে নেন। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিততে পারে নি তবে বাংলাদেশ ভাল খেলে প্রথম বার জিতেছে এবং পরের বার হেরে খেলা ড্র হয়।

হারজিৎ চিরদিন থাকবে, তবুও সামনে এগিয়ে যেতে হবে

Now Reading
হারজিৎ চিরদিন থাকবে, তবুও সামনে এগিয়ে যেতে হবে

চোখের কোণা থেকে পানি টা গড়িয়ে পড়ল। অনেক চেষ্টা করেও আটকাতে পারলাম না। আর আটকাতে চেয়েও বা কি হবে? কিছু পানি ঝরতে দেওয়া ভালো। তাতে যদি ভিতরের ক্ষত টা একটু কমে। যন্ত্রণা টা অনেক বেশি ই। জবাব টা দিতে পারলাম না। সুযোগ থেকেও যেন আজ পারি নাই। ভাগ্য কেমন জানি আমাদের সাথে প্রতিনিয়তই খেলা করে। হ্যাঁ আমরা হেরে গেছি। আমরা খেলাতে হেরে গেছি। তার আগে টসে ও হেরে ছিলাম। দ্যা ওভালের ১৫ জুনের পিচ রিপোর্ট বলছিল ব্যাটিং ফেবার এই ক্রিজে রান তাড়া করে খেললে জেতার সুযোগ টা বেশি। আর হল ও তাই।

 264462.jpg

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর সেমিফাইনাল ম্যাচ। ভারত আর বাংলাদেশ মুখোমুখি। হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচ টা নিয়ে আশা আকাঙ্খা ডানা বেঁধে ছিল প্রায় ২০ কোটি বাংলাদেশি সাপোর্টারদের ভিতরে। আইসিসি এর এত বড় আসরে ভারত নামের এই পরাশক্তি কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এর ফাইনালে ওঠার একটা বড় স্বপ্ন দেখছিল তারা। আসলে স্বপ্ন বললে ভুল হবে। বলা যায় প্রতিশোধ। ভারতীয়দের তোঁতা মুখ ভোঁতা করার প্রতিশোধ।

unnamed.jpg

আমাদের প্রতি ভারতীয়দের রুঢ় ভাব অনেক দিনের। ২০০০ সালে আইসিসি এর সদস্য পদ পাবার পর থেকে ভারতীয় রা বাংলাদেশে এসে খেলেছে মাত্র চারটা সিরিজ। যেটা অন্যান্য আসিসি মেম্বারদের থেকে কম। প্রতিবেশী দেশ হয়েও ভারত বাংলাদেশের উত্থানে অবশ্যই খুশি নয়। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫ এর কোয়াটার ফাইনালের কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশের স্বপ্ন কে দুমড়ে মুচড়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল মার্চ ১৯, ২০১৫ তারিখে মেলবোর্নে। বাংলাদেশ তখন থেকেই বুঝে গেছিল বন্ধু প্রতিম দেশ ভারত অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটের এ উত্থানে ভীত।

264437.jpg

১১ জুন ২০১৭ রবিবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এর ইন্ডিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা এর ম্যাচে ভারতের সাবেক ক্যাপ্টেন সৌরভ গাঙ্গুলি তো ধারাভাষ্য দিতে দিতে বলেই ফেলেছিলেন, “আজ রবিবারের ম্যাচ শেষে ভারতীয় সাপোর্টারদের আবার উড়ে যেতে হবে লন্ডনের দ্যা ওভালে ফাইনাল দেখতে।” যেখানে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৫ জুন ২০১৫ এ এডবাস্টোন এর ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি ছিল বাংলাদেশ। তিনি যেন বাংলাদেশ কে কোন গুরুত্বই দিলেন না। এমন ভাবে ঘোষণা দিলেন যেন ভারতের কাছে বাংলাদেশ কোন টিম ই না।  একজন ক্রিকেটার হয়ে তিনি একটা দেশের ক্রিকেট কে অপমান করে এমন কথা কিভাবে বলেন?

ঠিক একই ম্যাচে যখন ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে সহজ জয় তুলে নিয়েছিল, তখন ভারতীয় ক্রিকেটার ভিরেন্দর শেবাগ তার সামাজিক মাধ্যম টুইটার এর একটা টুইটে লিখেছিলেন “ভারতকে অগ্রিম ফাইনালে ওঠার জন্য শুভেচ্ছা। হ্যাঁ ভারত শক্তিশালী হতে পারে, অবশ্যই তারা এখন ভালো খেলছে, কিন্তু সেমিফাইনালে ওঠা একটি টীমের বিপক্ষে একজন কিংবদন্তী কিভাবে এমন মন্তব্য করেন।

রাঙ্কিং  ৬ এ থাকা একটা টীমের বিপক্ষে রাঙ্কিং  ৩ এ থাকা এমন টা বলতেই পারে হয়তো।। কিন্তু তারা হয়তো ২০১৫ এর বাংলাদেশের বিপক্ষে  সিরিজ হারাটা ভুলে গেছে। তারা হয়তো ভুলে গেছে ২০০৭ সালের ওই ম্যাচ টার কথা। ২০০৩ এর ফাইনালিস্ট ভারত রাঙ্কিং ১০ এ থাকা একটা টীমের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। আর সে টীম টা ছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ ২০১২ এর ১৬ মার্চ এর ম্যাচটার কথা মনে আছে সৌরভ গাঙ্গুলি অথবা ভিরেন্দর শেবাগ এর??? বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাইরে চলে গেছিল সে সময়ের হট ফেবারিট টীম ভারত। হ্যাঁ আমরা হেরেছি। অবশ্যই একটা পরাশক্তির কাছে হেরেছি। কিন্তু তারা যখন হেরেছিল? তখন বাংলাদেশ অবহেলিত টীম গুলোর মধ্যে একটা। আর এখনকার বাংলাদেশ টীম তো ইতিহাসের সেরা বাংলাদেশ একাদশের একটি। তবুও এত অপমান?

245395.jpg

আমরা খেলা এখন ও শিখছি। ১৭ বছর বয়সে আমারা নিশ্চই অভিমন্যু এর  থেকে ভালো জবাব দিয়েছি। বড় টুর্নামেন্ট এর সেমিফাইনালে গেছি। আমরা নিশ্চই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের জন্য বাছাইকৃত ৪ টা টীমের ভিতর দুইটার একটি। অবহেলা টা আমাদের উপর মানায় না। ইংল্যান্ড এর সাথে ৩২৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার সাথে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ১৮৪। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬৫ রান তারা করতে নেমে ৫ উইকেটের বিশাল জয়। কোথায় খারাপ খেলেছি আমরা?? তার পর ও এমন কটূক্তি।

আমাদের দেশের ক্রিকেট নিশ্চয় এখন অনেক ক্রান্তিকর একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সিনিয়র প্লেয়ার রা অবসর নিচ্ছেন। নতুনদের নিয়ে দল সামলে মাশরাফির সেমিফাইনালে যাওয়া অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। নতুন রা অবশ্যই ভালো খেলছে আর আশা করা যায় তারা ভালো করবেও। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অভিজ্ঞতা তাদের সাহায্য করবে নিশ্চই অনেক ভাবে। তারা একসময় দেশের ক্রিকেট কে উজ্জ্বল করবে। আমাদের দেশেই আছে সাকিব আল হাসান। মাশরাফি তামিমের নাম জানেন না এমন ক্রিকেটপ্রেমী হয়তো খুব কম আছেন। নতুন দের মধ্যে মুস্তাফিজ, সাব্বির তাসকিন কে নিয়ে না বললেই নয়। ভালো করছে তারা। অভিজ্ঞতা নিচ্ছে নানান পরিস্থিতির। সময় দিতে হবে। তারা আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হিসেবে যথেষ্ট।

264441.jpg

হয়তো দিন টি আর বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশ তার ক্রিকেট দিয়ে ছড়িয়ে পরবে সারা বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে। স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বাংলাদেশ নামের কম্পন উঠবে। লাল সবুজের পতাকাতে হবে গ্যালারির রঙ রঙ্গিত। সারা বিশ্ব একসাথে বলবে গো টাইগার, গো……।।

এডবাস্টনে ১৫ই জুনের সেমিফাইনালে কার কপালে জুটবে ফাইনালের টিকিটঃ বাংলাদেশ নাকি ভারত?

Now Reading
এডবাস্টনে ১৫ই জুনের সেমিফাইনালে কার কপালে জুটবে ফাইনালের টিকিটঃ বাংলাদেশ নাকি ভারত?

ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে ক্রিকেট মানেই উন্মাদনা। বিশ্বকাপের পর আইসিসি এর দ্বিতীয় বড় টুর্নামেন্ট হল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত এই আসরে এবার যোগ দিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্বের সেরা আটটি দল। ১২ বছর পর প্রথম বারের মত ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে পেছনে ফেলে সপ্তম দল হিসেবে জায়গা করে নেয় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এ। গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে। সামনাসামনি ভারত। কি হবে পরিনতি? কে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে।

263793.jpg

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে গ্রুপ পর্বের খেলা প্রায় শেষ করে নক আউট পর্বের খেলা শুরু ১৪ জুন ২০১৭ থেকে। এর ভিতর নিজেদের স্থানকে সেমিতে করে নিয়েছে ইংল্যান্ড এবং ২ এশিয়ান টিম ভারত এবং বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এবার প্রথমবারের মত আইসিসি আয়োজিত কোন বড় আসরের সেমিফাইনালে। এর আগে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫ এর কোয়াটার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই এশিয়ান টিম। ফলাফল টা বাংলাদেশী ক্রিকেট প্রেমীদের হতাশ করলেও এবার হয়তো আবার আশার মুখ দেখবে টাইগার সমর্থকরা।  সুযোগ টা বড় করে দেখে কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে যেতে?

263808.jpg

১ লা জুন থেকে শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর দুইটা গ্রুপ এ এবং বি  এর আটটি টিমের মধ্যে থেকে নিজেদের সেমিফাইনালে নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ও ভারত যথাক্রমে গ্রুপ এ থেকে দ্বিতীয় সেমিগাইনালিস্ট হিসেবে এবং গ্রুপ বি থেকে ভারত প্রথম সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে নিজেদের নাম লেখায়।

অপর সেমিফাইনালিস্ট এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর আয়োজক ইংল্যান্ড।এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর সেমিফাইনালে দেখা যাবে ৩ এশিয়ান টীম কে। বাকি আছে গ্রুপ বি এর একটি খেলা। শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্থান নিজেদের কে সেমিফাইনালে দেখার জন্য মাঠে নামবে আজ। ঠিক হবে ইংল্যান্ডের সাথে কে খেলবে ১৪ জুন ২০১৭ এর সেমিফাইনালে।

ভারত বাংলাদেশ ক্রিকেট যুদ্ধের শুরুটা বেশ পুরাতন। ১৯৮৮ সালের এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ পর্যন্ত ভারত এবং বাংলাদেশ মোট ৩২ টা টুর্নামেন্টে একসাথে অংশগ্রহন করেছে। এবং এর ভিতর একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজেদের মুখোমুখি হয়েছে ৩৩ বার। তৈরি হয়েছে অনেক রেকর্ড, আছে অনেক ইতিহাস। জেনে নেওয়া যাক ভারত আর বাংলাদেশের এই পর্যন্ত মুখোমুখি হওয়া ক্রিকেটের রেকর্ড গুলোঃ

Champions Trpophy Semi Final.jpg

টেস্ট রেকর্ডঃ

প্রথম মাচঃ

তারিখঃ নভেম্বর ১০-১৩, ২০০০।

ভেনুঃ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম।

ফলাফলঃ ভারত ৯  উইকেটে জয়ী।

 

টেস্ট সিরিজঃ  ৬ টি।

মোট টেস্ট মাচঃ ৯ টি।

ভারত  জয়ীঃ ৮ টি।

ড্রঃ ১ টি।

সর্বোচ্চটীম সংগ্রহঃ ৬৮৭ (ভারত ২০১৭ )

সর্বনিন্ম টীম সংগ্রহঃ ৯১(বাংলাদেশ ২০০০)

সর্বোচ্চজয়ঃ

  • ইনিংস হিসেবেঃ ১ ইনিংস এবং ২৩৯ রান (ভারত ২০১০)
  • রান হিসেবেঃ ২০৮ রান( ভারত ২০১৭)
  • উইকেট হিসেবেঃ ১০ উইকেট ( ভারত ২০১০)

সর্বোচ্চব্যক্তিগত রানঃ ৮২০ শচিন টেন্দুলকার ( ভারত ২০০০-২০১০)

  • সর্বোচ্চঃ ২৪৮*
  • ইনিংসঃ ৯ ।
  • মাচঃ ৭।

ভারতের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ ৫ টি (শচিন টেন্দুলকার, ভারত)

বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ  ২ টি (মুশফিকুর রহিম, বাংলাদেশ)

সর্বাধিক উইকেটঃ

  • বাংলাদেশের হয়েঃ ১৫ টি, সাকিব-আল-হাসান(বেষ্ট ৫/৬২)
  • ভারতের হয়েঃ ৩১ টি, জাহির খান(বেষ্ট ৭/৮৭)

 

একদিনের আন্তর্জাতিক মাচঃ

প্রথম মাচঃ

তারিখঃ ২৭ অক্টোবর ১৯৮৮।

ভেনুঃ চট্টগ্রাম।

ফলাফলঃ ভারত ৯ উইকেটে জয়ী।

 

একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ সিরিজঃ  ৩২ টি।

মোট একদিনের আন্তর্জাতিক মাচঃ ৩৩ টি।

ভারত  জয়ীঃ ২৫ টি।

ড্রঃ ২ টি।

বাংলাদেশ জয়ীঃ ৬ টি।

সর্বোচ্চটীম সংগ্রহঃ ৩৭০ (ভারত ২০১১)

সর্বনিন্ম টীম সংগ্রহঃ ৫৮(বাংলাদেশ ২০১৪)

সর্বোচ্চজয়ঃ

  • রান হিসেবেঃ ২০০ রান( ভারত ২০০৩)
  • উইকেট হিসেবেঃ ৯ উইকেট ( ভারত ১৯৮৮)

সর্বোচ্চব্যক্তিগত রানঃ ৫৯২, গৌতম গাম্ভির( ভারত ২০০৩-২০১২)

  • সর্বোচ্চঃ ১০৭*
  • ইনিংসঃ ১১ ।
  • মাচঃ ১১।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চরানঃ ৫১৭, মুশফিকুর রহিম(বাংলাদেশ ২০০৭-২০১৫)

  • সর্বোচ্চঃ ১১৭
  • ইনিংসঃ ১৭ ।
  • মাচঃ ১৮।

ভারতের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ ৩ টি (বিরাট কোহলি, ভারত)

বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ  ১ টি (অলোক কাপালি, বাংলাদেশ)

সর্বাধিক উইকেটঃ

  • বাংলাদেশের হয়েঃ ২০ টি, মাশরাফি মুর্তজা(বেষ্ট ৪/৩৮)
  • ভারতের হয়েঃ ১৬ টি, এ বি আগারকার(বেষ্ট ৩/১৮)

 

টি টুয়েন্টি ম্যাচঃ

প্রথম মাচঃ

তারিখঃ ৬ ই জুন ২০০৯।

ভেনুঃ নটিংহাম।

ফলাফলঃ ভারত ২৫ রানে জয়ী।

 

টি টুয়েন্টি সিরিজঃ  ৭ টি।

মোট টি টুয়েন্টি ম্যাচঃ ৫ টি।

ভারত  জয়ীঃ ৫ টি।

 

সর্বোচ্চটীম সংগ্রহঃ ১৮০ (ভারত ২০০৯)

সর্বনিন্ম টীম সংগ্রহঃ ১২১(বাংলাদেশ ২০১৬)

সর্বোচ্চজয়ঃ

  • রান হিসেবেঃ ৪৫ রান( ভারত ২০০১৬)
  • উইকেট হিসেবেঃ ৮ উইকেট ( ভারত ২০১৪)

সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানঃ ১৯৪, রোহিত শর্মা( ভারত ২০০৯-২০১৬)

  • সর্বোচ্চঃ ৮৩।
  • ইনিংসঃ ৫ ।
  • মাচঃ ৫।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চরানঃ ১০২, সাব্বির রহমান(বাংলাদেশ ২০১৬-)

  • সর্বোচ্চঃ ৪৪।
  • ইনিংসঃ ৩ ।
  • মাচঃ ৩।

সর্বাধিক উইকেটঃ

  • বাংলাদেশের হয়েঃ ৭ টি, আল-আমিন হোসেন(বেষ্ট ৩/৩৭)
  • ভারতের হয়েঃ ৬ টি, রবিচন্দন অশ্বিন(বেষ্ট ২/১৫)

5.jpg

২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভিন্ন পথ চলা। বিগত ২ বছরে বাংলাদেশ হারিয়েছে ক্রিকেটের নামিদামি সব পরাশক্তি কে। টানা ৫ টি সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে যে কোন ক্রিকেট টীমের উদ্বেগের কারন। বাংলাদেশ হারিয়েছে ভারত পাকিস্থান এবং দক্ষিন আফ্রিকার মত বাঘা টিমকে। নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবারের মত বিদেশের মাটিতে হারিয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ রাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন ৬ এ। ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ জেতার সমীকরণে সেরা ১০ এর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে সেমিফাইনালে ভারত কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে যেতে?

স্বপ্নের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি ভারত: কে যাবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে?

Now Reading
স্বপ্নের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি ভারত: কে যাবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে?

আইসিসি এর সদস্য হবার পর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমবারের মত মুখোমুখি হয় ভারতের। ফলাফল টা ভারতের পক্ষেই। ক্রিকেট জগতে ভারত নামক পরাশক্তির কাছে তখন বাংলাদেশ সবে জন্ম নেওয়া শিশু। হার জিত খেলাতে থাকবেই। আজকের জন্ম নেওয়া শিশু টাও হতে পারে কালকের ভবিষ্যৎ কুস্তি চ্যাম্পিয়ন। না আমরা কুস্তি তে চ্যাম্পিয়ন হতে হয়তোবা ভারতের সাথে লড়াই তে যাচ্ছি না, তবে সময় এখন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। আর বাতাস বলছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখ মুখি ভারত ও বাংলাদেশ। এডবাস্টোনের জুন ১৫, ২০১৭ এর ম্যাচটি বলে দিবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে যাবার সৌভাগ্য জুটবে কার কপালে।  

unnamed.jpg

আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ শক্তির একটি দল। একথা ক্রিকেট দুনিয়া এককথায় স্বীকার করে নিবে। আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপের পর থেকে বাংলাদেশের ধারাবাহিক পারফরমেন্স অন্তত সেটাই বলে। ওয়ার্ল্ডকাপের পর থেকে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথমে পাকিস্থানের সাথে সিরিজ জয়, তারপর ভারতের সাথে এবং সব শেষে দক্ষিন আফ্রিকার সাথে সিরিজ জয় গুলো টাইগার দের উত্থানের একটা জোরালো হুঙ্কার দিচ্ছিল। তারপর একে একে জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্থানের সাথে আরও দুইটি সিরিজ জয় বাংলাদেশ কে পর পর পাঁচটি সিরিজ জয়ের স্বর্গীয় স্বাদ এনে দেয়। এর পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত ৩ টি একদিনের ম্যাচ সিরিজ ড্র করার পর বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে ক্রিকেটের যে কোন কাছেই মাথা বেথার কারন হয়ে গেছে। আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং বাংলাদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রি দেশিয় সিরিজে নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের কাছ থেকে পাওয়া সহজ জয় দুইটা বাংলাদেশকে ওডিআই রাঙ্কিঙ্গে বাংলাদেশ কে প্রথমবারের মত ছয়ে এনে দেওয়ার সাথে সাথে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার এক দারুন আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। আর তার ফলাফল হিসাবে সমস্ত ক্রিকেট প্রেমিদেরকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশ আইসিসি এর প্রথম কোন ইভেন্টে সেমিফাইনালে।

6.jpg

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর সপ্তম দল হিসাবে সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলল ১২ বছর পর। সেমিফাইনালের যাত্রা টা একেবারেই সহজ ছিল না টাইগারদের জন্য। মুখোমুখি হতে হয়েছে ক্রিকেটের নামি দামি সব পরাশক্তির। বাংলাদেশ জবাব ও দিয়েছে খুব শক্ত ভাবেই। বিগত ১২ বছরের কঠোর পরিশ্রমের দরুন বিধাতা হয়তো একটু  দয়াময় ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উপর। ইংল্যান্ডের সাথে প্রথম ম্যাচে হেরে একটু ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচ টাতে সহায় হয় বৃষ্টি। পয়েন্ট ভাগাভাগি। অস্ত্রেলিয়া তাদের প্রথম ম্যাচেও বৃষ্টির কারনে নিউজিল্যান্ডের সাথে নিজেদের পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খুব নিপুন ভাবে নিউজিল্যান্ড কে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির যাত্রা থামাতে সক্ষম হয়। তাকিয়ে থাকতে হয় অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের উপর। কিন্তু ভাগ্য যে প্রসন্ন। অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালের দ্বিতীয় দল হিসাবে বাংলাদেশ নাম লেখায়।

IMG-20170601-WA0025.jpg

অন্য দিকে গ্রুপ বি এর নানা সমীকরণের মধ্য দিয়ে প্রথম সেমিফাইনালিস্ট বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চ্যাম্পিয়ন্স ভারত। এজন্য নিয়ম অনুযায়ী ১৫ তারিখে বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। উদ্দেশ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। লড়াই টা দুইদলের জন্নই হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে। ক্রিকেট উন্মাদনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ভারত পাকিস্থানের ম্যাচ এর উন্মাদনা কমে আসার কারনে বর্তমান দিনে ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ কে ঘিরে জন্ম নিচ্ছে হাজার ও পরিকল্পনা। বিগত ২-৩ বছর ধরে প্রেক্ষাপট অন্তত সেটাই বলছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারত একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে মোট ৩৩ বার। যাহার সারমর্ম অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য সুখকর না হলেও শেষ ৫ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ভারত বাংলাদেশের উভয়ের জয়ের সংখ্যা ২ টি করে। অন্যটির ফলাফল ভাগাভাগি। টাই সম্ভাবনার একটা দিক থেকেই যায় বাংলাদেশের জন্য। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের মত এবার ও কি বাংলাদেশ ভারত কে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় জানিয়ে দিবে? রচিত হবে কি ইতিহাস? দৃষ্টি ১৫ তারিখের ম্যাচে।

Semi-Final-2.jpg

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ফাইনালিস্ট। ভারত ব্যাটিং শক্তিকে একটু ঝালিয়ে নিতে এক পাহাড় সমান টার্গেট দেয় বাংলাদেশ কে। অধিনায়ক মাশরাফির অনুপস্থিতে সাকিব যেন আটকে রাখতেই পারছিলেন না ভারত কে। ব্যাটিং ফিল্ডিং এ অনবাদ্য পারফর্মেন্স এর সাথে ভয়ানক বোলিং। উমেশ যাদবের শুরুতে কথায় যেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ ধসে পড়ে শেষ হই ৮৪ রানেই।

২০১৫ বিশ্বকাপের কথা হয়তো মনে থাকবে বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে সেদিন ও কোটি বাঙ্গালির স্বপ্ন ভেংগেছিল। কলঙ্কিত ম্যাচটি লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল পুর ক্রিকেট বিশ্বকে। কোয়াটার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশ কে। তারপর টি টুয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের ৩ বলে দুই করতে না পারার আক্ষেপ। ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের উল্লাসের আরালে অনেকটা ঢাকা পড়ে যায় ভারত ক্রিকেট টিমের বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশের বিপক্ষের ভরাদুবির কথা। দুইটা ম্যাচের জবাব দেবার সময় এসেছে আজ।  আর সাথে থাকছে ওয়ার্ম আপের ৮৪ রানের লজ্জা।

তামিম, সৌম্য, সাকিব মাহামুদুল্লাহরা কি পারবে ব্যাট হাতে ১৫ তারিখের ম্যাচটাতে জলে উঠতে?

মাশরাফি, মোস্তাফিজের বোলিং জাদুর সাক্ষি কি থাকবে ক্রিকেট দুনিয়া?

প্রতিশোধ নিতে পারবে কি বাংলাদেশ?

২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের: কে হবে প্রতিপক্ষ?

Now Reading
২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের: কে হবে প্রতিপক্ষ?

শুরু টা হয়েছিল ৩১ মার্চ, ১৯৮৬, পূর্ণশক্তিধর কোন ক্রিকেট টিমের বিপক্ষে হাটা শুরু হয় শক্তিতে  ছোট্ট টাইগারদের। মুখোমুখি পাকিস্থান। দিনটি নিয়ে হয়তো কোন টিমের মাথা বেথা না থাকলেও, এখন যেকোন শক্তিশালী টিমের ভয়ের কারন। ২০০০ সালে “আইসিসি” এর সদস্য হবার পর থেকে ১৩ নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের মুখ মুখি হওয়া থেকে ১লা জুন ২০১৭, দ্যা ওভালে আয়োজক ইংল্যান্ড এর মুখোমুখি হয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর যাত্রা শুরু করার পথ টা অনেক সল্প সময়ের হলেও অর্জন ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল।  

2.jpg

“আগে যে কাঙ্গাল বেসামাল বাংলাদেশ ছিল, ও রাতারাতি মালামাল হয়ে গেল”- নোভোজিত সাধু (ভারত)। হা সত্যি তবে জবাব টা মাঠের হিসাব বলছে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর দ্বিতীয় দল হিসাবে ইতিহাসে প্রথম বার বাংলাদেশ আইসিসি এর কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে। যেখানে গ্রুপ পর্বের খেলা তে ২ ম্যাচের একটা তে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে ভারত এখন সেমিফাইনাল এর পথে অনিশ্চিত। যেখানে যেতে হলে সেই দ্যা গ্রেট ওভালে মুখোমুখি হতে হবে এক ম্যাচ জিতে থাকা পরাক্রমশালী দক্ষিন আফ্রিকার। লড়াই টা সহজ হবে না হয়তো ভারতের জন্য।

গ্রুপ “বি” এর হিসাব টা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে ১১ এবং ১২ জুন ২০১৭ এর ম্যাচ দুইটার উপর। প্রথম টাতে মুখোমুখি ভারত আর দক্ষিন আফ্রিকা। ওভালের ওই ম্যাচটা নির্ধারণ করবে কোন দলের ভাগ্যে লেখা হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালের টিকিট।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্থানের মুখোমুখি হয় ভারত। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচটার ফলাফল ভারত ১২৪ রানে জয়ী। অন্য দিকে ওভালে গ্রুপ বি এর প্রথম ম্যাচে দক্ষিন আফ্রিকার মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কা।  হাশিম আম্লার ব্যাটিং নৈপুণ্য এবং ইমরান তাহিরের বোলিং এর উপর ভিত্তি করে সহজে ৯৯ রানের বিসাল জয় তুলে নেই দক্ষিন আফ্রিকা। তারপর থেকেই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায় হিসাব টা। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিন আফ্রিকাকে যেন আমলে নিলোই না পাকিস্থান যাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে আসাটা ছিল অনেকটা অনিশ্চিত। অসাধারন বোলিঙে দক্ষিন আফ্রিকা কে থামতে হয় ২১৯ রানে। তবে বৃষ্টি হামলার কারনে পাকিস্থান ২৭ অভারে ১১৯ রান করে “ডি এল এস” পদ্ধতিতে ১৯ রানের জয় পায়। অন্য দিকে শ্রীলঙ্কার দায়িত্বশীল ব্যাটিং এর উপর ভর করে কোন মতেই টিক তে পারে না চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ খেলতে আসা হট ফেভারিট ভারত। ফলাফল শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে জয়ী। ৪ ম্যাচ, ৪ টিম, জিতল সবাই ১ টা করে!

7621.JPG

অন্য দিকে গ্রুপ এ এর নিজেদের ৩ টা ম্যাচের ৩ টা তেই জয়ী ইংল্যান্ড। প্রথমে বাংলাদেশ, পরে নিউজিল্যান্ড, এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নিজেদের এবং আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ ইভেন্টের প্রথম দল হিসাবে নিজেদের কে তুলে ধরল ইংল্যান্ড। কিন্তু নিউজিল্যান্ড এবং অস্ত্রেলিয়ার দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে বাধে বিপত্তি….. নিজেদের প্রথম ম্যাচে কিউইরা নিশ্চয় চেয়েছিল নিজেদের শক্তির প্রমান দিতে। ২৯১ রানের লক্ষে খেলতে নেমে ৫৩ রানেই ৩ উইকেট হারায় অজিরা। ভাগ্য ভাল কি খারাপ কে জানত? খেলা বৃষ্টি ভাসিয়ে দিল সাথে দুই দল ১ করে পয়েন্ট নিয়ে খুশি থাকল। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইরা সামনাসামনি হল ইংল্যান্ড এর। ফলাফল ইংল্যান্ড ৮৭ রানে জয়ী। কিউইদের সেমি ফাইনালের আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল। বাকি থাকল বাংলাদেশ আর অস্ত্রেলিয়ার লড়াই। অজিদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটা । দরকার জয়ের। কিন্তু বাধা বৃষ্টির। অবশ্য এটি হয়তো হবার ছিল। ওভালের ম্যাচটাতে বল হাতে নাস্তানাবুত করে ফেলে অজি বোলাররা মিস হয়ে যায় তামিমের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। রেকর্ড হয়ত হল না কিন্তু বৃষ্টি উপহার দিল ১ টি পয়েন্ট। অবস্থান ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৪, নিউজিল্যান্ডের ১, অস্ট্রেলিয়ার ২ আর বাংলাদেশের ১। খেলেছে ২ টা করে ম্যাচ ৪ টা দলই। বাকি আছে একটা করে ম্যাচ। জিত চাই সবারই।

জুন ০৯, ২০১৭ মুখোমুখি বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড। তবে হিসাব টা আর ও আগের ২৪ মে ২০১৭, তারিখ টা হয়তো স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের জন্য বাংলাদেশ হারায় নিউজিল্যান্ডকে। নিজেদের সেমিফাইনালে তোলার এবং প্রতিশোধ টা নেবার সুযোগ কিউইদের সামনে। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে নিজেদের শেষ ম্যাচে টসে জিতে হয়তো ভুল করে ফেলেছিলেন কেন উইলিয়ামসন। ব্যাট হাতে নিজেদের প্রমানও করেছিলেন কিউইরা। ২৬৫ রানের এক বিশাল লক্ষ বেঁধে দেওয়া হয় বাংলাদেশের সামনে। বাংলাদেশ যে সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখতে পারে এমন টা কে ভেবেছিল আগে?? কিন্তু ১৬ কোটি বাংলাদেশির সাথে হয়তো পৃথিবীর লাখো সমর্থক দের স্বপ্ন পুরনের নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমেই ধাক্কা টা খায় বাংলাদেশ। ১১ ওভারের ৪ বলেই ব্যাট হাতে ফিরে যেতে হয় ৪ জনকে। দারুন ফর্মে থাকা তামিম ইকবাল দ্বিতীয় বলেই ফিরে যান। তার পর সাব্বির, সৌম্য আর মুশফিকও ধরেন সেই রাস্তা। স্বপ্ন টা ভেঙ্গে যাবার সঙ্কায় চোখে জল আশে নাই কার?

কিন্তু পথ তখনো অনেক বাকি। সাকিব আর মাহামুদুল্লাহ তখন ক্রিজে। আশার গাছ টাতে জল দেওয়া শুরু করলেন। নিজেদের সামলে দায়িত্ব টা তারা ভালই নিয়েছিলেন। করলেন রেকর্ড পার্টনারশিপ বাংলাদেশের জন্য। সাথে তুলে নিলেন নিজেদের শতক। তাইগার ফ্যানরা যেন তখন পাগল। আনন্দে। আনন্দ কেনই বা না! পুর ম্যাচে হাশ্তে থাকা নিউজিল্যান্ড কে ৫ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ সেমিফাইনালের যোগ্য অংশীদার। অবশ্য সামনে অস্ট্রেলিয়ার একটা মেচ ছিল। তাই আনন্দটাকে বুকে চেপে ধরেই চোখ রাখতে হল পরের দিনের ম্যাচটাতে। বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া বা হার কোন একটার কাম্য। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

3.jpg

কিন্তু গ্রুপ এ এর শেষ ম্যাচে অস্ত্রেলিয়াকে যেন পাত্তাই দিল না ইংল্যান্ড।  অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বোলিং দুই ডিপার্টমেন্টে হামলা মরগানদের। শিরোপা প্রত্যাশী ইংল্যান্ড অবশ্যই চেয়েছিলেন বিনা হারেই সেমিতে যেতে। আর হলও তাই। যদিও বৃষ্টি এসে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়তো তার আগেই হয়েছিল। ডি এল এস পদ্ধতিতে ৪০ রানের বেবধানে হার অস্ট্রেলিয়ার। টাইগার সমর্থকরা আনন্দ আর কেন চেপে রাখবে???

বাংলাদেশ সেমিফাইনালে।

স্বপ্নের সেমিফাইনাল।

এখন শুধু প্রতিপক্ষ বাছার পালা।

ভারত?

শ্রীলঙ্কা?

পাকিস্থান?

দক্ষিন আফ্রিকা?

কঠিন সমীকরণ বাংলাদেশ দলের জন্য

Now Reading
কঠিন সমীকরণ বাংলাদেশ দলের জন্য

খুব ভালো দিন যে যাচ্ছে বাংলাদেশ দলের তা কিন্তু বলা যাবে না ।বোলাররা তাদের রিদম খুঁজে পাচ্ছি-লোনা । যার ফলে টানা বোলিং ব্যর্থতায় ফেরে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ । শুধু যে এক ডিপার্টমেন্ট পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ তা বলা যাবে না , সেই সাথে তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা খুব ভোগাচ্ছে বাংলাদেশ দলকে । ক

মূলত সমস্যা শুরু হয় আয়ারল্যান্ড সফর থেকে । আয়ারল্যান্ড এর সাথে প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হয় বৃষ্টির কারণে । তারপর নিউজিল্যান্ড এর সাথে হার । সেখানে দলের বোলিং খুব ভালো হচ্ছিলো । যখনি ট্রাই নেশন শেষ করে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করে বাংলাদেশ , তখনি সমস্যা শুরু হয় । দলের তিন ডিপার্টম্যান এক সাথে জ্বলে উঠতে পারছে না । যার ফলাফল বাংলাদেশ দল ভোগ করছে । প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের সাথে বোলিং ব্যর্থতার কারণে খুব বাজে ভাবে হেরে যায় বাংলাদেশ । ৩০০ রানের বেশি করতে পেরেও শেষের দিকে উদাসীন খেলার কারণে তাদের হারতে হয় । পরের প্রস্তুতি ম্যাচে আরো বেশি বাজে অবস্থা দেখা দেয় বাংলাদেশের । ভারতের সাথে মাত্র ৮৩ রানে আল আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ । বোলিং , ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে হেরে যাচ্ছে বাংলাদেশ ।

এই ব্যর্থতা যদি প্রস্তুতি ম্যাচ পর্যন্ত থাকতো তাহলে খুব বেশি ভালো হতো বাংলাদেশের দলের জন্য । কিন্তু না , তা আর হলো না । কথায় আছে ‘ অভাগা যেদিকে যায় নদী সেদিকে শুকায় ‘ । বাংলাদেশের সাথে ঘটলো তাই । প্রস্তুতি ম্যাচ বাজে ভাবে হেরে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ভালো ভাবে শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ । ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে আবারো ৩০০ রান পার হইলো বোলিং ব্যর্থতা বেশ ভোগাচ্ছে বাংলাদেশ দলকে । যদি সেদিন ভালো লাইনে বাংলাদেশ বল করতে পারতো তাহলে বলা যায় বাংলাদেশ জিতে যেত । আবার শেষের দিকের অভাবে ভালো রান করতে পারেনি বাংলাদেশ । দলের কিছু অফ ফর্ম দলকে ভোগাচ্ছে । লাস্ট ম্যাচ ছিল শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে । খুব কঠিন ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের জন্য । গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার ম্যাচ ছিল । কিন্তু প্রকৃতির কাছে আমরা বেশ অসহায় । অবশ্য বাংলাদেশ দলের ক্ষতি হয়নি , বরং উপকার হয়েছে । খেলা বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় এখনো সেমি ফাইনালের দৌড়ে টিকে আছে বাংলাদেশ দল । বাংলাদেশ দলের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ অপেক্ষা করছে ।

যদি বাংলাদেশ সেমি ফাইনালে খেলতে চায় তাহলে , নিউজিল্যান্ড কে হারাতে হবে ইংল্যান্ড এর । বাংলাদেশ দলের জন্য সুসংবাদ হলো , কিছুক্ষণ আগে ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড এর খেলা শেষ হয়েছে । সেখানে নিউজিল্যান্ড গেড়ে গিয়েছে । বাংলাদেশ জন্য পথ কিছুটা ক্লিয়ার হয়েছে । কিন্তু সামনে অপেক্ষা করেছে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ । বাংলাদেশকে সেমি ফাইনালে যেতে হলে অস্ট্রেলিয়ার হারতে হবে ইংল্যান্ড এর সাথে । মানে ইংল্যান্ড কে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে । আর বাংলাদেশকে জিততে হবে নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষে । তাহলে বাংলাদেশ সরাসরি খেলতে পারবে সেমি ফাইনালে ।

আর যদি ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ পরিত্যক্ত হয় বৃষ্টি কারণে বাংলাদেশ কে পড়তে হবে কঠিন অংকের মধ্যে । এখন অস্ট্রেলিয়া ২ পয়েন্ট । তখন হবে তিন । আর বাংলাদেশ জিতে গেলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে তিন । তখন রান রেট এর হিসেবে করতে হবে । যদি রান রেটের হিসেবে পরে যায় বাংলাদেশ , তাহলে নিউজিল্যান্ড কে হারাতে হবে বিশাল ব্যবধানে । তা হলে রান রেটে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ ।

এর আগের ম্যাচ এ বাংলাদেশ বৃষ্টির আইনে সমান ১ পয়েন্ট ভাগ ভাগি করে নেয় অস্ট্রেলিয়ার সাথে । টপ ফেভারিট অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য খারাপ বলতে হয় । এর আগের ম্যাচ নিউজিল্যান্ড এর সাথে পয়েন্ট ভাগ ভাগি করে নিতে হয়েছে তাদের ।

আর বাংলাদেশ ধারাবাহিক ভাবে ব্যর্থ হয়ে কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে । বাংলাদেশের জন্য হিসেবটা সহজ হয়ে যেত যদি বাংলাদেশ ইংল্যান্ড এর সাথে ম্যাচটি জিততে পারতো । আবার বাংলাদেশের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যেত যদি অস্ট্রেলিয়ার বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট দুই দলের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে না হতো ।

খেলা শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন – আমরা নিজেরাও চেয়েছিলাম যেন খেলায় বৃষ্টি হয়ে । বৃষ্টির কথা চিন্তা করে আমরা আগে ব্যাট নিয়েছিলাম । বৃষ্টি শুরু হওয়ার কথা ছিল ৬ থেকে ৭ টা এর মধ্যে । আমরা সেদিক টা খেয়াল রেখে বল করছিলাম ।

আগের ম্যাচে খেলা হয়েছে মাত্র ১৬ ওভার । তার মধ্যে ১৫ ওভার পেস বল করা হয়েছে । আর মধ্যে মিরাজ কে নিয়ে আসা হয়েছে ১ ওভার । পেস বল করতে একটু সময় লাগে । যার ফায়দা বাংলাদেশ তুলতে পারলে পয়েন্ট ভাগ ভাগি হয়ে যাবে । ১৬ তম ওভারে খেলা বিরতির সময় শুরু হয় বৃষ্টি । পরবর্তীতে মাঠে পানি জমে থাকায় আর খেলা মাঠে গড়ায়নি ।

বাংলাদেশের সেমি ফাইনালে যেতে হলে এখন আমাদের তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ পর্যন্ত । আশা রাখি বাংলাদেশ ভালো খেলে নিউজিল্যান্ড এর সাথে জয়ী হবে । আর সেমি ফাইনালে যাওয়ার পথটাকে সহজ করে তুলবে । আর যদি হেরে যায় তাহলে নিশ্চিত ভাবে প্রথম দল হিসেবে বাদ পরে যাবে ।