অবশেষে বাংলাদেশে পর্যটকদের জন্য চালু হল কায়াকিং (Kayaking)

Now Reading
অবশেষে বাংলাদেশে পর্যটকদের জন্য চালু হল কায়াকিং (Kayaking)

এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের খবর যে অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও বেশ কিছুদিন আগে চালু হয়েছে কায়াকিং (kayaking). যা কিনা বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আরও বিকশিত করবে।

চলুন তার আগে জেনে আসি কায়াকিং( kayaking) সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনা। যাতে আপনি কায়াকিং (kayaking) সম্পর্কে কিছুটা হলেও বুঝতে পারবেন ।

কায়াক (kayak) শব্দটি অনেকের কাছে নতুন হতে পারে। কারণ কায়াক (kayak) আমাদের দেশের প্রচলিত কোন শব্দ না। কিন্তু ইদানীং বাংলাদেশে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর কল্যাণে কায়াকিং শব্দটি বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।

কায়াক (kayak) আসলে কি?

কায়াক মূলত লগি বা বৈঠার সাহায্যে চালানো যায় এমন এক ধরনের ফাইবার গ্লাসের তৈরি দ্রুতগতির ছোট নৌকা। এটি নদী, সমুদ্র বা সমুদ্র উপকূলে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় চালানো হয়।

একজন দ্বারা চালিত কায়াকগুলো লম্বায় ১০-১৫ ফুটের মত হতে পারে। আর বড় কায়াকগুলো ২৫-২৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। বড় কায়াকগুলোতে ২-৩ জন বসতে পারে। কায়াকগুলো তাদের আকৃতি এবং নকশার কারণে বেশ দ্রুতগতির হয়ে থাকে।

কায়াকের ইতিহাস:

কায়াকের ইতিহাস খুঁজলে জানা যায় যে, কানাডার আলেস্কোতে প্রথম কায়াকের ব্যবহার শুরু হয়। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ –পশ্চিম উপকূলে বসবাসরত এস্কিমোরা সিল মাছ শিকারের জন্য, হালকা কাঠের তক্তা এবং সিলের চামড়া দিয়ে তৈরি এক প্রকারের নৌকা ব্যবহার করত। এই নৌকাগুলোতে বলা হত (Ice kayak).

১৯৮৪ সালে প্রথম আধুনিক কায়াকের ব্যবহার শুরু হয়।

বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে কায়াকের প্রচলন:

সম্প্রতি কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাব নামের একটি সংগঠন বাণিজ্যিকভাবে কর্ণফুলী নদীতে এই কায়াকিং এর প্রচলন শুরু করেছে। কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাবটি এই নৌকার ব্যবহার আমাদের কাছে পরিচিত করে তুলছে।

কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাবটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এই বছরের ২৪ এ ফেব্রুয়ারি ।

বাংলাদেশের তাদের কায়াকগুলো মূলত ফাইবার, পাট এবং পাতলা কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ক্লাবটিতে অবশ্য এখন ৮টি কায়াক নৌকা আছে। তবে ক্লাবের উদ্যোক্তারা জানালেন, যেহেতু পর্যটকদের কাছ থেকে তারা ভাল সাড়া পাচ্ছেন, তাই খুব শীঘ্রই আরও বেশ কিছু কায়াকের ব্যবস্থা করবেন।

সাধারণত এক একটি কায়াকে ২ জন করে বসতে পারবেন। তবে চাইলে আপনি একাও একটি কায়াক নিয়ে কর্ণফুলী নদীর বুকে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।

তবে সবচেয়ে আসল কথা হল আপনাকে কায়াকিং করার জন্য আগে থেকে বুকিং দিতে হবে।

আমাদের দেশে কায়াকিং খুব বেশিদিন আগে চালু না হলেও, এরই ভিতর অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ক্লাবটির নাকি ২টি কায়াক রেস প্রতিযোগিতাও হয়ে গেছে।

প্রতি ঘণ্টা ৩০০ টাকা এবং আধা ঘণ্টা ১৫০ টাকা করে যে কেউ এখানে কায়াকিং করতে পারে। প্রতিদিনই কায়াকিং করা যায়। খোলা থাকে সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

নৌকাটি চালানো কিন্তু বেশ সহজ। প্রথম দিকে চালাতে একটু সমস্যা হবে অনভিজ্ঞতার জন্য। কিন্তু কিছুদূর যেতেই আপনি বুঝে ফেলবেন যে কিভাবে কায়াকটি চালাতে হয়। বেশ হালকা নৌকাটি। যখন নৌকা চালানো শিখে ফেলবেন , এরপর আস্তে আস্তে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাটি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। আশেপাশের সবুজ পাহাড়, কর্ণফুলীর পানি, পাখির কলকাকলি আপনার মনটাকে অনেক সতেজ করে দিবে।

সব সময় তো লঞ্চ বা জাহাজে করে নদী, সমুদ্রে অনেক ঘুরে বেড়িয়েছেন। অথবা গ্রামবাংলার নৌকাগুলোতে পুকুর, খাল, বিলে চষে বেড়িয়েছেন। কিন্তু এভাবে কর্ণফুলী নদীতে কায়াকের মত ছোট নৌকা নিয়ে বৈঠা হাতে কোন বিরক্তিকর শব্দ ছাড়াই আপনি ঘুরে বেড়াবেন, আর প্রকৃতিকে উপভোগ করতে থাকবেন। তখন উপলব্ধি করবেন যে আপনার বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা আরও বহুগুণে বেড়ে গেছে।

তবে এই উদ্যোগটি যারা নিয়েছেন, সেই কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাবের উদ্যোক্তারা অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার। কারণ এমন ব্যতিক্রমী কিছু আমাদের মত পর্যটকদের উপহার দেয়ার জন্য। এতে কাপ্তাইয়ের পর্যটক সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনই বাইরের দেশগুলোতেও বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের পরিচিতি বেড়ে যাবে।

 কিভাবে আসবেন?

১। আপনি কায়াকিং করতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে চট্টগ্রামের কাপ্তাইয়ে আসতে হবে। ঢাকা থেকে কাপ্তাই আসার জন্য বেশ কিছু ভাল বাস সার্ভিস রয়েছে।

এরপর কাপ্তাই এসে সেখান থেকে জুম রেস্তোরা নামে একটি রেস্তোরা আছে। সেখান থেকে হেঁটে কিছুটা সামনে গেলেই পেয়ে যাবেন কায়াকিং এর জেটির সিঁড়ি।  সিঁড়ি বেয়ে নেমে পড়ুন। দেখবেন আপনার জন্য অপেক্ষা করছে সেই কায়াক (kayak) নৌকা।

২। এছাড়া রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ এসে সেখান থেকে CNG নিয়ে আপনি কাপ্তাই বনশ্রী পর্যটন কমপ্লেক্সে আসলেই জুম রেস্তোরা পেয়ে যাবেন।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা:

১। কায়াকিং করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পড়তে হবে। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া আপনাকে বোটে উঠতে দেয়া হবে না। অনেক পর্যটক আছেন যারা তর্কাতর্কি করেন যে লাইফ জ্যাকেট পড়তে চান না। কিন্তু এটা বুঝেন না যে আপনার নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবেই লাইফ জ্যাকেট পড়া উচিত।

২। সাতার না জানলেও আপনি কায়াকিং করতে পারবেন কারণ তারা আপনাকে লাইফ জ্যাকেট দিবে। আর প্রতিটি কায়াক নজরে রাখা হয়, তাই ভয় পাবার কোন কারণ নেই।

৩। আর নিরাপত্তার খাতিরে বেশ কিছু বিধি নিষেধ আছে, সেগুলো মেনে চলা উচিত। যেমন একটা নির্দিষ্ট এলাকার ভিতর থাকতে হবে।

৪। এরপর যখন তখন যেকোনো যায়গায় কায়াক থামানো যাবে না। অনেকে নাকি যেকোনো স্থানে কায়াক থামিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এসব দিকে একটু সতর্ক থাকা উচিত আমাদের।

৫। আর অবশ্যই আগে থেকে বুকিং দিয়ে আসবেন। নাহলে পরে ভগ্নহৃদয় নিয়ে ফেরত যেতে হতে পারে।

 

তাহলে আর দেরি কেন। সময় সুযোগ পেলে, হাতে কিছুটা সময় নিয়ে ঘুরে আসুন কাপ্তাই থেকে। আর কায়াক (kayak) নামক ছোট নৌকাটি নিয়ে কর্ণফুলী নদীতে প্রকৃতিকে উপভোগের পাশাপাশি দুরন্তপনায় মেতে উঠুন।

 

রেফারেন্স লিঙ্ক:

১। https://bn.wikipedia.org/wiki/

২। http://www.banglatribune.com

৩। http://www.kalerkantho.com/feature/a2z/2017/05/22/500030

বাংলাদেশের সেরা ১০টি পর্যটন কেন্দ্র

Now Reading
বাংলাদেশের সেরা ১০টি পর্যটন কেন্দ্র

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। বিধাতা যেন খুব নিপুন ভাবেই তৈরি করেছেন এর প্রত্যেকটি উপকরন। যৌবনা নারীরমত আকর্ষিত করে রাখে সবসময়।  রূপসুধা যেন অফুরান্ত, সারা দিন মুগ্ধ হয়ে পান করলেও একটু যেন কমবার নয়। ভুবন ভোলানো সৌন্দর্যে ভরে রাখে সারাক্ষন। স্বপ্নের মত বিভর করে রাখা এই সৌন্দর্যের ১০ টি সেরা আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে জানা  যাক।  

Cox's Bazar.jpg

১। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতঃ

দক্ষিনে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে নিজের শরীর মেলে আগলে থাকা সৌন্দর্যের পটভূমি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত বাংলার দক্ষিণ দিকের মেয়ে  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম কেন্দ্র বিন্দু কক্সবাজার এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। সমুদ্র, সামদ্রিক মাছ আর সমদ্রের অজস্র রত্নভারের সম্ভার নিয়ে কক্সবাজার আপনার মনকে জয় করবেই।

Kuakata.jpg

২। কুয়াকাটাঃ

কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। পর্যটকদের কাছে সাগর কন্যা নামে পরিচিত ১৮ কিলোমিটারের কুয়াকাতা সমুদ্র সৈকত  বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। কুয়াকাটার বিশেষত্ব হচ্ছে এখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুইটাই দেখা যায়। আরও আছে মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধ মন্দির। যেখানে রয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু বৌদ্ধ মূর্তি।আরও আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মৎস্য বিপণন কেন্দ্র আলিপুর বন্দর।

Saint_Martin_Island.jpg

৩। সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপঃ

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিনে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ- পূর্ব অংশে সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ অবস্থিত। এটি কক্সবাজার সমুদ্র উপকুল থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার উপকুল থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত বাংলাদেশের সীমানা হিসাবে দাড়িয়ে আছে।  বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ বাংলাদেশের মুল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। দ্বীপে অনেক নারিকেল গাছ পাওয়া যায় বলে এটা কে নারিকেল জিঞ্জিরা বলা হয়।

Nilgiri Resort.jpg

৪। নীলগিরি পর্যটনকেন্দ্রঃ

বাংলাদেশের বান্দরবন জেলায় অবস্থিত পাহাড়ে ঢাকা নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র। এটি সব সময় মেঘে ঢাকা থাকে। পর্যটকরা এখান থেকে খুব সহজেই মেঘ ছুঁতে পারবেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ মিটার উচুতে অবস্থিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র একাবিংশ শতাব্দীতে এসে আবিষ্কৃত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রতে বেশ কিছু রিসোর্ট ও আছে।

Sundarban.jpg

৫। সুন্দরবনঃ

বাংলাদেশের একেবারে দক্ষিণে অবস্থিত লবনাক্ত পানিতে বেড়ে ওঠা বন সুন্দরবন। জোয়ার ভাঁটার মধ্যে বেচে থাকার জন্য গাছ গুলো এক বিশেষ শ্বাসমূল তৈরি করে। বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত এ বনেই একমাত্র রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা পাওয়া যায়। এছাড়াও এখানকার হরিণ, লবনাক্ত পানির বিরাট আকারের কুমির সাধারনত বিখ্যাত।

Vashoman Bazar.jpg

৬। দক্ষিনের ভাসমান বাজারঃ

শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ভাসমান বাজার বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা শহর ঝালকাঠী থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভিমরুলি গ্রামের কৃত্তিপাশা খালের উপর অবস্থিত৷ প্রায় সারা বছরই চন্মলে থাকা এ হাট আসে পাশের গ্রামের মানুশের জীবিকার অন্যতম ক্ষেত্র। পেয়ারা ও আমড়ার মৌসুমে প্রায় তিন মাস এ হাট জমজমাট থাকে আরও বেশি৷ সপ্তাহের প্রতিদিনই বসে ভাসমান এ হাট ।

sajek valley.jpg

৭। সাজেক ভ্যালিঃ

বাংলাদেশের তাঙ্গামাটি জেলার সাজেক উনিয়ন এর আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। রাঙ্গামাটি জেলার ছাদ নামে পরিচিত সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উচুতে অবস্থিত। আসে পাশের গ্রাম গুলতে বসবাস করা লুসাই, ত্রিপুরা এবং পাংখয়া উপজাতিদের বসবাস সাজেক ভ্যালি কে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। কমলা লেবুর সাথে সাথে কফির চাষ ও সাজেক ভ্যালি তে হয়ে থাকে।

Sixty-Dome-Masjid.jpg

৮। ষাট গম্বুজ মসজিদঃ

খান জাহান আলী নির্মিত বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমের জেলা সহর বাগেরহাট শহরের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপত্তের নিদর্শন ষাট গম্বুজ মসজিদ। মসজিদের গায়ে কোন রূপ শিলালিপি না থাকলেও এটার গঠন আর নির্মাণ কৌশলী দেখে এটি সহজেই ধারনা করা যায় যে এটি খান সাহেবের তৈরি একটি অনন্য স্থাপনার অন্যতম। ধারনা করা হয় এ মসজিদ টি ১৮ শ শতকের দিকে তৈরি করা হয়। ষাট গম্বুজ নাম হলেও এটাতে ৭৭ টি গম্বুজ আছে। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের সম্মানে ভূষিত করে।

Dhakeshwari Mandir.jpg

৯। ঢাকেশ্বরী মন্দিরঃ

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিদর্শনের অন্যতম হল ঢাকেশ্বরী মন্দির। কথিত আছে রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের জঙ্গলে একটা দুর্গা প্রতিমা পান আর ওখানেই ঢাকেশ্বরী মন্দির নির্মাণ করেন। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম থেকেই আজকের ঢাকা নামের উৎপত্তি। আবার অনেকের মতে এটার নাম করন করা হয়েছে “ঢাকার ঈশ্বরী” অর্থাৎ ঢাকার রক্ষাকর্ত্রী দেবী হতে। বহু বছরের পুরাতন এই মদিরটি বাংলাদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

Shonargaon.jpg

১০। সোনারগাঁওঃ

মুসলমান শক্তির উদ্ভবের পর থেকে ১৬১০ সালের আগ পর্যন্ত ঢাকা শহরের নাম করনের আগে সোনারগাঁও ছিল বঙ্গ অঞ্চলের শাসন কাজ চালানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ধারনা করা হয় প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে পড়ে সোনারগাঁও নামের উৎপত্তি। শাসন কাজ পরিচালনার জন্য মুসলমান শাসকরা এখানে অনেক স্থাপনা নির্মাণ করেন। এগুলার মধ্যে খাসনগর দীঘি, দুলালপুরের নীলকুঠি, গোয়ালদি শাহী মসজিদ, আমিনপুর মঠ, দামোদরদি মঠ, পানাম নগরের আবাসিক ভবন, বড় সরদার বাড়ি প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 

প্রাচীন স্থাপনা আর সাহিত্যকর্মে ভরপুর বাংলাদেশের এখানে ওখানে ছড়িয়ে আছে নানা পর্যটন কেন্দ্র। যার রূপ আর রস পর্যটকদের কাছে টেনে নিয়ে যায় বারবার। ভ্রমন পিপাসু লোকদের অনেকেই হয়তো এগুলার কদর করেন না। কদর করেন না নিজ সৌন্দর্যের। শেষ অংশে এটাই মনে পড়ে-

“বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে

বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে

দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,

দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া

একটি ধানের শিষের উপরে

একটি শিশিরবিন্দু।”

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।।