3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

হারজিৎ চিরদিন থাকবে, তবুও সামনে এগিয়ে যেতে হবে

Now Reading
হারজিৎ চিরদিন থাকবে, তবুও সামনে এগিয়ে যেতে হবে

চোখের কোণা থেকে পানি টা গড়িয়ে পড়ল। অনেক চেষ্টা করেও আটকাতে পারলাম না। আর আটকাতে চেয়েও বা কি হবে? কিছু পানি ঝরতে দেওয়া ভালো। তাতে যদি ভিতরের ক্ষত টা একটু কমে। যন্ত্রণা টা অনেক বেশি ই। জবাব টা দিতে পারলাম না। সুযোগ থেকেও যেন আজ পারি নাই। ভাগ্য কেমন জানি আমাদের সাথে প্রতিনিয়তই খেলা করে। হ্যাঁ আমরা হেরে গেছি। আমরা খেলাতে হেরে গেছি। তার আগে টসে ও হেরে ছিলাম। দ্যা ওভালের ১৫ জুনের পিচ রিপোর্ট বলছিল ব্যাটিং ফেবার এই ক্রিজে রান তাড়া করে খেললে জেতার সুযোগ টা বেশি। আর হল ও তাই।

 264462.jpg

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর সেমিফাইনাল ম্যাচ। ভারত আর বাংলাদেশ মুখোমুখি। হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচ টা নিয়ে আশা আকাঙ্খা ডানা বেঁধে ছিল প্রায় ২০ কোটি বাংলাদেশি সাপোর্টারদের ভিতরে। আইসিসি এর এত বড় আসরে ভারত নামের এই পরাশক্তি কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এর ফাইনালে ওঠার একটা বড় স্বপ্ন দেখছিল তারা। আসলে স্বপ্ন বললে ভুল হবে। বলা যায় প্রতিশোধ। ভারতীয়দের তোঁতা মুখ ভোঁতা করার প্রতিশোধ।

unnamed.jpg

আমাদের প্রতি ভারতীয়দের রুঢ় ভাব অনেক দিনের। ২০০০ সালে আইসিসি এর সদস্য পদ পাবার পর থেকে ভারতীয় রা বাংলাদেশে এসে খেলেছে মাত্র চারটা সিরিজ। যেটা অন্যান্য আসিসি মেম্বারদের থেকে কম। প্রতিবেশী দেশ হয়েও ভারত বাংলাদেশের উত্থানে অবশ্যই খুশি নয়। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫ এর কোয়াটার ফাইনালের কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশের স্বপ্ন কে দুমড়ে মুচড়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল মার্চ ১৯, ২০১৫ তারিখে মেলবোর্নে। বাংলাদেশ তখন থেকেই বুঝে গেছিল বন্ধু প্রতিম দেশ ভারত অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটের এ উত্থানে ভীত।

264437.jpg

১১ জুন ২০১৭ রবিবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এর ইন্ডিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা এর ম্যাচে ভারতের সাবেক ক্যাপ্টেন সৌরভ গাঙ্গুলি তো ধারাভাষ্য দিতে দিতে বলেই ফেলেছিলেন, “আজ রবিবারের ম্যাচ শেষে ভারতীয় সাপোর্টারদের আবার উড়ে যেতে হবে লন্ডনের দ্যা ওভালে ফাইনাল দেখতে।” যেখানে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৫ জুন ২০১৫ এ এডবাস্টোন এর ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি ছিল বাংলাদেশ। তিনি যেন বাংলাদেশ কে কোন গুরুত্বই দিলেন না। এমন ভাবে ঘোষণা দিলেন যেন ভারতের কাছে বাংলাদেশ কোন টিম ই না।  একজন ক্রিকেটার হয়ে তিনি একটা দেশের ক্রিকেট কে অপমান করে এমন কথা কিভাবে বলেন?

ঠিক একই ম্যাচে যখন ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে সহজ জয় তুলে নিয়েছিল, তখন ভারতীয় ক্রিকেটার ভিরেন্দর শেবাগ তার সামাজিক মাধ্যম টুইটার এর একটা টুইটে লিখেছিলেন “ভারতকে অগ্রিম ফাইনালে ওঠার জন্য শুভেচ্ছা। হ্যাঁ ভারত শক্তিশালী হতে পারে, অবশ্যই তারা এখন ভালো খেলছে, কিন্তু সেমিফাইনালে ওঠা একটি টীমের বিপক্ষে একজন কিংবদন্তী কিভাবে এমন মন্তব্য করেন।

রাঙ্কিং  ৬ এ থাকা একটা টীমের বিপক্ষে রাঙ্কিং  ৩ এ থাকা এমন টা বলতেই পারে হয়তো।। কিন্তু তারা হয়তো ২০১৫ এর বাংলাদেশের বিপক্ষে  সিরিজ হারাটা ভুলে গেছে। তারা হয়তো ভুলে গেছে ২০০৭ সালের ওই ম্যাচ টার কথা। ২০০৩ এর ফাইনালিস্ট ভারত রাঙ্কিং ১০ এ থাকা একটা টীমের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। আর সে টীম টা ছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ ২০১২ এর ১৬ মার্চ এর ম্যাচটার কথা মনে আছে সৌরভ গাঙ্গুলি অথবা ভিরেন্দর শেবাগ এর??? বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাইরে চলে গেছিল সে সময়ের হট ফেবারিট টীম ভারত। হ্যাঁ আমরা হেরেছি। অবশ্যই একটা পরাশক্তির কাছে হেরেছি। কিন্তু তারা যখন হেরেছিল? তখন বাংলাদেশ অবহেলিত টীম গুলোর মধ্যে একটা। আর এখনকার বাংলাদেশ টীম তো ইতিহাসের সেরা বাংলাদেশ একাদশের একটি। তবুও এত অপমান?

245395.jpg

আমরা খেলা এখন ও শিখছি। ১৭ বছর বয়সে আমারা নিশ্চই অভিমন্যু এর  থেকে ভালো জবাব দিয়েছি। বড় টুর্নামেন্ট এর সেমিফাইনালে গেছি। আমরা নিশ্চই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের জন্য বাছাইকৃত ৪ টা টীমের ভিতর দুইটার একটি। অবহেলা টা আমাদের উপর মানায় না। ইংল্যান্ড এর সাথে ৩২৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার সাথে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ১৮৪। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬৫ রান তারা করতে নেমে ৫ উইকেটের বিশাল জয়। কোথায় খারাপ খেলেছি আমরা?? তার পর ও এমন কটূক্তি।

আমাদের দেশের ক্রিকেট নিশ্চয় এখন অনেক ক্রান্তিকর একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সিনিয়র প্লেয়ার রা অবসর নিচ্ছেন। নতুনদের নিয়ে দল সামলে মাশরাফির সেমিফাইনালে যাওয়া অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। নতুন রা অবশ্যই ভালো খেলছে আর আশা করা যায় তারা ভালো করবেও। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অভিজ্ঞতা তাদের সাহায্য করবে নিশ্চই অনেক ভাবে। তারা একসময় দেশের ক্রিকেট কে উজ্জ্বল করবে। আমাদের দেশেই আছে সাকিব আল হাসান। মাশরাফি তামিমের নাম জানেন না এমন ক্রিকেটপ্রেমী হয়তো খুব কম আছেন। নতুন দের মধ্যে মুস্তাফিজ, সাব্বির তাসকিন কে নিয়ে না বললেই নয়। ভালো করছে তারা। অভিজ্ঞতা নিচ্ছে নানান পরিস্থিতির। সময় দিতে হবে। তারা আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হিসেবে যথেষ্ট।

264441.jpg

হয়তো দিন টি আর বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশ তার ক্রিকেট দিয়ে ছড়িয়ে পরবে সারা বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে। স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বাংলাদেশ নামের কম্পন উঠবে। লাল সবুজের পতাকাতে হবে গ্যালারির রঙ রঙ্গিত। সারা বিশ্ব একসাথে বলবে গো টাইগার, গো……।।

দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা,শুধিতে হইবে ঋণ!

Now Reading
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা,শুধিতে হইবে ঋণ!

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু হয়েছিলো এইবারের বাংলাদেশের যাএা। দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয় বাংলাদেশের বনাম অস্ত্রেলিয়ার খেলা । বি’ গ্রুপ থেকে সেমিতে উঠার জন্য নিউজিল্যান্ড এর সাথের ম্যাচটি হয়ে উঠে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ। সেই তৃতীয় ম্যাচটি তে এক বিস্ময়কর পারফরমেন্সের সাথে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় বাংলার টাইগারা।
আর ইংল্যান্ডের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হেরে যাওয়া মাধ্যমে বাংলাদেশ উঠে যায় আইসিসি সেমিফাইনালে।
এই বারের আসরের সেমিফাইনালে ওঠাকে বড় অর্জন বলেই মনে করছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি; “এই গ্রুপে আমরা এশিয়ার বাহিরের দেশগুলোর সাথে খেলেছি,তাই এইবার সেমিতে খেলতে পারাটা অনেক বড় অর্জন ও বটে, তা একটি ম্যাচ জিতেই হোক”।
আর বাংলাদেশের এই সেমিফাইনালে ওঠা নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন ই বুকে বাধছে টাইগারদের ভক্তরা। এইদিকে ভক্তদের উদ্দেশ্য করে মাশরাফি বলে : “আমাদের এখনই চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দিবেন না,বাংলাদেশ দলে অহেতুক কোন চাপ তৈরি না হলেই ভালো হবে। ছেলেরা চাপ মুক্তভাবে খেলতে পারলেই খুশি হবো, আশা করছি ভালো কিছু হবে।”
অন্যদিকে ১২ বছর আগের কার্ডিফের স্মৃতি স্মরণ করে সাবেক টাইগার আফতাব আহমেদ বলেন ; আমরা কেউ না হয় এই ১২ বছর টিকে থাকতে পারি নি, কিন্তু মাশরাফি টিকে আছে।

এদিকে দক্ষিন আফ্রিকার সাথে বড় ব্যবধানের জয়ের সাথে সাথে ভারত উঠে যায় সেমিতে। খেলার নিয়ম অনুসারে ই আগামী সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামছে ভারত। ভারত বনাম বাংলাদেশের বল মাঠে গড়ানোর আগেই ক্রিকেট বিশ্বের আবহাওয়া বেশ গরম ই থাকে। এদিকে খেলার আগেই শুরু হয়ে যায় দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তদের কথার মারপ্যাঁচ। বরাবরের মত এইবার ও ভারত ম্যাচ এর আগেই জল ঘোলা করতে শুরু করে দিয়েছে।
ভারতে সাবেক শেবাগ ইতিমধ্য ই বাংলাদেশ দলকে তুচ্ছ করে এক কূটউক্তি করেছে ; দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে জয়ের জন্য ভারতের ক্রিকেট দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং এরই সাথে সাথে বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচের জন্য আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে দেন ভারত ক্রিকেট দলকে।
শেবাগ এর টুইটের বার্তায় এই প্রকাশ পায়, সেমি ফাইনালে বাংলাদেশকে কোন প্রকার যোগ্য দল হিসেবে দেখছেন না ভারত এবং শেবাগ এ ও নিশ্চিত ফাইনালে ভারত ই যাবে।
অন্যদিকে, ভারত এর সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, ” বাংলাদেশের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ আছে, তারা স্পিন ভালো খেলে এবং বোলারা ও ভালো করছে।
তবে আমি নিশ্চিত নই দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলা ভারতকে তারা রুখতে পারবে কি না।”

শেবাগ আর সৌরভ গাঙ্গুলি কে বলতে চাই, আপনারা মাঠে না পারলে কি হবে, গলায় জোর আছে বলে কি? ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের কথা হইতো আপনারা ভুলেই গেছেন। রোহিত শর্মার আউট কি মনে আছে? মনে আছে মাঠে যে ছিলো আপনাদের চামচা আলিম দার। আপনাদের অবস্থা দেখে আমাদের বাঙালিদের এইখানের একটা কথা মনে পড়লো : “চোরের মায়ের বড় গলা।”

বেশি না আপনাদের ১০ বছর আগের ই কথাটা একটু মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে যখন এই বাংলাদেশের কাছে গো হারা হেরেছিলেন। আরো মনে করিয়ে দিতে চাই, আপনারাই বলেন ২০০৭ সালের ভারত ক্রিকেট এ যে দল ছিলো তা ভারত এর জন্য ” ড্রিম টিম”। বর্তমানের অবসর প্রাপ্ত শেবাগ এবং সৌরভ গাঙ্গুলি ছিলো তখনকার দলে। আপনাদের “ড্রিম টিম ” নিয়ে ই যদি হেরে যান, আর বাদ ই দিলাম নয় এখন কার কথা।

২০১০ সালের কথাটাও আশা করি মনে আছে। আপনাদের তো আবার স্মৃতি শক্তি প্রখর, যার প্রশংসা না করে পারলাম না।
যেই মাশরাফির দুর্দান্ত বোলিং এ ইন্ডিয়ার উইকেট উড়ে গিয়েছিলো, যেই তামিম, সাকিব, মুশফিক এর ব্যাট থেকে এসেছিলো হাফ সেঞ্চুরি। তাদের মতো সিনিয়র সদস্য রা তো আছেই দলে।
তার সাথে ক্ষুদে খেলোয়াড় মাহমুদউল্লাহ কম যায় না। মাহমুদউল্লাহ ঠান্ডা মাথায় ক্লাসিক ব্যাটিং কি আপনাদের ভাবাবে না?
মুস্তাফিজ এর কাটার কি কোহেলির উড়াবে না?
ও তাসকিন এর বোলিং এর কথা ভারত এর মনে আছে তো, রুবেল এর গতি কি ভারত কে রুখবে না? ও নিউজিল্যান্ড এর সাথে মোসাদ্দেক হোসেনের বোলিং এর যাদু নিশ্চয় ভারত দেখেছে।

আপনাদের সেই ‘ ড্রিম টিম ‘ নিয়ে ১০ বছর আগের বাংলাদেশের সাথে পারলেন না। আর তো ১০ বছর পরের এই পরিপক্ব মাশরাফি বাহীনির সাথে।
তবুও ভারতকে সম্মান করে, টাইগার বাহিনীর অধিনায়ক বলেছে ; “সেমিফাইনালে যারা আসছে তারা অবশ্যই যোগ্য দল হিসেবে আসছে,যেই আসুক তাদের বিপক্ষে আমাদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে,
প্রসেস ঠিক রেখে খেলতে হবে।”

বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে ভারত এগিয়ে থাকলেও, এইবারের আইসিসি খেলায় টাইগার্স রা ভালো ফর্মে আছে। সাম্প্রতি তারা আইসিসি র‍্যাংকিং এ থাকা ১ নম্বর( অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিন আফ্রিকাকে) ২ নম্বর কে টপকে সেমিফাইনালে ওঠে গিয়েছে।
শক্তির দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ম্যাচ এ দূরসময়ের নেতৃত্ব কিন্তু মাশরাফি থেকে ভালো পারবে না ভারত। এদিকে কৌশলে নিঃসন্দহে বাংলাদেশ ভারতের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে। কারণ বাংলাদেশের কোচ (হাথুরুসিং), ভারতের কোচ থেকে কৌশল এগিয়ে তা সবার জানা।

কিন্তু কিছু দিন আগের প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগার্স রা বেশ একটা ভালো করতে পারে নি। এইটা ও সত্যি যে প্রস্তুতি ম্যাচের টাইগার্স আর এখন কার সেমিফাইনালের টাইগার্স রা এক পজিশনে নেই। এখনকার টাইগার্স রা হলো ইতিহাস ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ার দল।

ওহে বিরাট কোহলি, সৌরভ,শেবাগ একে একে হয়েছে অনেক পাওনা , এইবার সুদে আসলে সব শোধিতে হইবে দেনা। ক্রিকেট এ একটা কথা আছে ; হঠাৎ খারাপ দিন আসে। ভারত এর জন্য তা সামনের ম্যাচে ই।

আপনার মনে ও যত সব প্রশ্ন আছে সবই, উওর মিলবে শুধু কড়া নজর রাখতে হবে, আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালের ২য় পর্বের বাংলাদেশ বনাম ভারত এর ম্যাচে।

স্বপ্নের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি ভারত: কে যাবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে?

Now Reading
স্বপ্নের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি ভারত: কে যাবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে?

আইসিসি এর সদস্য হবার পর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমবারের মত মুখোমুখি হয় ভারতের। ফলাফল টা ভারতের পক্ষেই। ক্রিকেট জগতে ভারত নামক পরাশক্তির কাছে তখন বাংলাদেশ সবে জন্ম নেওয়া শিশু। হার জিত খেলাতে থাকবেই। আজকের জন্ম নেওয়া শিশু টাও হতে পারে কালকের ভবিষ্যৎ কুস্তি চ্যাম্পিয়ন। না আমরা কুস্তি তে চ্যাম্পিয়ন হতে হয়তোবা ভারতের সাথে লড়াই তে যাচ্ছি না, তবে সময় এখন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। আর বাতাস বলছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখ মুখি ভারত ও বাংলাদেশ। এডবাস্টোনের জুন ১৫, ২০১৭ এর ম্যাচটি বলে দিবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে যাবার সৌভাগ্য জুটবে কার কপালে।  

unnamed.jpg

আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ শক্তির একটি দল। একথা ক্রিকেট দুনিয়া এককথায় স্বীকার করে নিবে। আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপের পর থেকে বাংলাদেশের ধারাবাহিক পারফরমেন্স অন্তত সেটাই বলে। ওয়ার্ল্ডকাপের পর থেকে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথমে পাকিস্থানের সাথে সিরিজ জয়, তারপর ভারতের সাথে এবং সব শেষে দক্ষিন আফ্রিকার সাথে সিরিজ জয় গুলো টাইগার দের উত্থানের একটা জোরালো হুঙ্কার দিচ্ছিল। তারপর একে একে জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্থানের সাথে আরও দুইটি সিরিজ জয় বাংলাদেশ কে পর পর পাঁচটি সিরিজ জয়ের স্বর্গীয় স্বাদ এনে দেয়। এর পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত ৩ টি একদিনের ম্যাচ সিরিজ ড্র করার পর বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে ক্রিকেটের যে কোন কাছেই মাথা বেথার কারন হয়ে গেছে। আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং বাংলাদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রি দেশিয় সিরিজে নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের কাছ থেকে পাওয়া সহজ জয় দুইটা বাংলাদেশকে ওডিআই রাঙ্কিঙ্গে বাংলাদেশ কে প্রথমবারের মত ছয়ে এনে দেওয়ার সাথে সাথে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার এক দারুন আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। আর তার ফলাফল হিসাবে সমস্ত ক্রিকেট প্রেমিদেরকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশ আইসিসি এর প্রথম কোন ইভেন্টে সেমিফাইনালে।

6.jpg

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর সপ্তম দল হিসাবে সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলল ১২ বছর পর। সেমিফাইনালের যাত্রা টা একেবারেই সহজ ছিল না টাইগারদের জন্য। মুখোমুখি হতে হয়েছে ক্রিকেটের নামি দামি সব পরাশক্তির। বাংলাদেশ জবাব ও দিয়েছে খুব শক্ত ভাবেই। বিগত ১২ বছরের কঠোর পরিশ্রমের দরুন বিধাতা হয়তো একটু  দয়াময় ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উপর। ইংল্যান্ডের সাথে প্রথম ম্যাচে হেরে একটু ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচ টাতে সহায় হয় বৃষ্টি। পয়েন্ট ভাগাভাগি। অস্ত্রেলিয়া তাদের প্রথম ম্যাচেও বৃষ্টির কারনে নিউজিল্যান্ডের সাথে নিজেদের পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খুব নিপুন ভাবে নিউজিল্যান্ড কে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির যাত্রা থামাতে সক্ষম হয়। তাকিয়ে থাকতে হয় অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের উপর। কিন্তু ভাগ্য যে প্রসন্ন। অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালের দ্বিতীয় দল হিসাবে বাংলাদেশ নাম লেখায়।

IMG-20170601-WA0025.jpg

অন্য দিকে গ্রুপ বি এর নানা সমীকরণের মধ্য দিয়ে প্রথম সেমিফাইনালিস্ট বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চ্যাম্পিয়ন্স ভারত। এজন্য নিয়ম অনুযায়ী ১৫ তারিখে বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। উদ্দেশ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। লড়াই টা দুইদলের জন্নই হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে। ক্রিকেট উন্মাদনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ভারত পাকিস্থানের ম্যাচ এর উন্মাদনা কমে আসার কারনে বর্তমান দিনে ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ কে ঘিরে জন্ম নিচ্ছে হাজার ও পরিকল্পনা। বিগত ২-৩ বছর ধরে প্রেক্ষাপট অন্তত সেটাই বলছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারত একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে মোট ৩৩ বার। যাহার সারমর্ম অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য সুখকর না হলেও শেষ ৫ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ভারত বাংলাদেশের উভয়ের জয়ের সংখ্যা ২ টি করে। অন্যটির ফলাফল ভাগাভাগি। টাই সম্ভাবনার একটা দিক থেকেই যায় বাংলাদেশের জন্য। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের মত এবার ও কি বাংলাদেশ ভারত কে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় জানিয়ে দিবে? রচিত হবে কি ইতিহাস? দৃষ্টি ১৫ তারিখের ম্যাচে।

Semi-Final-2.jpg

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ফাইনালিস্ট। ভারত ব্যাটিং শক্তিকে একটু ঝালিয়ে নিতে এক পাহাড় সমান টার্গেট দেয় বাংলাদেশ কে। অধিনায়ক মাশরাফির অনুপস্থিতে সাকিব যেন আটকে রাখতেই পারছিলেন না ভারত কে। ব্যাটিং ফিল্ডিং এ অনবাদ্য পারফর্মেন্স এর সাথে ভয়ানক বোলিং। উমেশ যাদবের শুরুতে কথায় যেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ ধসে পড়ে শেষ হই ৮৪ রানেই।

২০১৫ বিশ্বকাপের কথা হয়তো মনে থাকবে বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে সেদিন ও কোটি বাঙ্গালির স্বপ্ন ভেংগেছিল। কলঙ্কিত ম্যাচটি লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল পুর ক্রিকেট বিশ্বকে। কোয়াটার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশ কে। তারপর টি টুয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের ৩ বলে দুই করতে না পারার আক্ষেপ। ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের উল্লাসের আরালে অনেকটা ঢাকা পড়ে যায় ভারত ক্রিকেট টিমের বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশের বিপক্ষের ভরাদুবির কথা। দুইটা ম্যাচের জবাব দেবার সময় এসেছে আজ।  আর সাথে থাকছে ওয়ার্ম আপের ৮৪ রানের লজ্জা।

তামিম, সৌম্য, সাকিব মাহামুদুল্লাহরা কি পারবে ব্যাট হাতে ১৫ তারিখের ম্যাচটাতে জলে উঠতে?

মাশরাফি, মোস্তাফিজের বোলিং জাদুর সাক্ষি কি থাকবে ক্রিকেট দুনিয়া?

প্রতিশোধ নিতে পারবে কি বাংলাদেশ?

Page Sidebar