অশ্লীলতার শীর্ষে যে ইউটিউবার

Now Reading
অশ্লীলতার শীর্ষে যে ইউটিউবার

প্রথমে বমি করবেন, এরপর শরীর খারাপ হবে, এরপর চোখ আর কান দিয়ে রক্ত পড়বে, এরপর শ্বাস নিতে কষ্ট হবে, এরপর প্রচন্ড ঘৃনায় স্ট্রোক করে বসবেন। ঠিক এমনই ভিডিও তৈরী করছে বাংলাদেশের কজন তথাকথিত “ইউটিউবার”। নিজেদের এরা এভাবেই পরিচয় দেয়। এদের ভিডিও দেখলে আপনার যেকোন ধরনের রিঅ্যাকশন হতে পারে। মারাত্মক অশ্লীল কথা এবং ভিডিও দিয়ে এরা ইউটিউবের একটি নির্দিষ্ট শ্রেনীর জন্য ভিডিও তৈরী করে আর পাবলিকলি আপলোড করে সবার জন্যই। সেই নির্দিষ্ট শ্রেনীর দর্শকরাই হলো আবার গুগল সার্চে “বাংলা চটি” এই সার্চ শব্দটাকে বাংলাদেশ থেকে খোজা প্রথম ৫ টি সার্চ স্ট্রিং এর খেতাব দিয়ে রেখেছে বছরের পর বছর। এধরনের দুজন ইউটিউবারকে আমি খুজে পেয়েছি।  এ ব্যাপারে আমার নতুন তৈরী  নীচের ভিডিওটি দেখুন এরপর এই আর্টিকেলের পরের অংশটি পড়ুন।

বিটলা বয়েজ – নামের এই ইউটিউব চ্যানেলl বেশ কদিন ধরেই বাংলাদেশের অনলাইন তথা ইউটিউব হোম পেজকে দূষিত করে রেখেছে। মনে রাখবেন, কোমলমতির শিশুরাও কিন্তু ইউটিউব দেখে আর তার এসব নোংরা ভিডিও সে এতদিন সবাইকে দেখিয়ে বেড়িয়েছে। লিয়াকত হাসান জীবন নামের একটি ছেলে এই ভিডিওগুলো সব তৈরী করে আর চ্যানেলটি চালায়।

বাংলাদেশে বসে ইউটিউবের হোমপেজ বা ফিড দেখলে দুনিয়ার আজেবাজে সব ভিডিওতে সয়লাব থাকে। মনে হয় ইউটিউবে না, কোন পর্ন সাইটে আছি। আর ইউটিউবে বাংলাদেশ লিখে সার্চ দিলে এসব ভিডিও বেশি প্রাধান্য পায়। আর বাংলাদেশের মান সম্মান লাঠে উঠে।

এগুলো হলো অবক্ষয়ের লক্ষন। আমি চাইলে এসব অবক্ষয়ের সাথে বাংলাদেশের নানা ধরনের অপরাধের কানেকশন দেখাতে পারি। ধর্ষন হতে শুরু করে ইভ-টিজিং, পর্নগ্রাফি, হিডেন ভিডিও, চুরি করে কারো একান্ত ব্যাক্তিগত ভিডিও করা, অশালীন কথাবার্তা এবং আরো কত কি। এসব চ্যানেলে যারা সাবসক্রাইব করে এবং নিয়মিত দেখে এরাও কিন্তু সেই অবক্ষয়ের সাথেই আছে। হয়তো এদের কাছ থেকেই অনেক অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। যারা দেখছে এসব ভিডিও এবং যারা বানাচ্ছে – তাদের সবাইকে একই কাতারেই ফেলতে হবে। কারন এরা কিন্তু সমমনা। পার্থক্য এখানে – একজন বানাচ্ছে, আরেকজন সেই জিনিষ দেখছে। অনেকটা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষন ঘটনাগুলোর মত। একজন ধর্ষন করছে তো আরেকজন দেখছে।

তাই আপনাদেরকে অনুরোধ করছি, এগুলো বন্ধ করার জন্য, এধরনের চ্যানেল দেখার সাথে সাথে এগুলো ইউটিউবে রিপোর্ট করবেন। এবং সেই সাথে এটাও মনে রাখবেন, হয়তো আপনার ঘরের কেউ, বা আপনার সন্তান, ছোট ভাই বা বোনও এসব ভিডিও দেখছে। এসব মানসিক বিকারগ্রস্তদের কাছ থেকে সাবধান।