ছিলেন বস্তির ছেলে, হয়েছেন জীবন্ত কিংবদন্তী !!!

Now Reading
ছিলেন বস্তির ছেলে, হয়েছেন জীবন্ত কিংবদন্তী !!!

“ Some people want it to happen, some wish it would happen, others make it happen.

I can accept failure, everyone fails at something. But I can’t accept not trying.

You have to expect things of yourself before you can do them. ”

উক্তিগুলো বিশ্বের প্রথম বিলিয়নিয়ার খেলোয়াড়, বাস্কেটবলের জীবন্ত কিংবদন্তী মাইকেল জর্ডান এর। Michael Jefffrey Jordan ( M J ) ১৯৬৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক এ জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি আমেরিকার অবসরপ্রাপ্ত বাস্কেটবল খেলোয়াড়, বিজনেসম্যান ও Charlotte Hornets এর মালিক। বাস্কেটবল ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়।

“ The game is my wife. It demands loyalty and responsibility and it gives me back fulfillment and peace.

I realize that I’m black, but I like to be viewed as a person and this is everybody’s wish.”

আমেরিকার বর্ণবৈষম্যকে পিছনে ফেলে তিনি হয়েছেন একজন কিংবদন্তী খেলোয়াড়। ১৯৭৪ সালের কিছু কথা বলি। যা তার জীবনকে বদলাতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল। তিনি তখন ১৩ বছরের কিশোর। আমেরিকায় বর্ণবৈষম্য তখনও পুরোপুরি গোচেনি। তাই সে সময় আমেরিকায় কালো বর্ণের মানুষদের জন্য চাকরি ছিল এক দুষ্কর বস্তু। সাথে তারা ছিল চার ভাইবোন। তাই তার বাবাকে ছয় জনের সংসার চালাতে রিতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছিল।

প্রত্যেক কিংবদন্তী মানুষের জীবনে কিছু না কিছু অসাধারণ ঘটনা ঘটে যার জন্য তারা কিংবদন্তী হয়ে ওঠেন। ১৩ বছরের কিশোর মাইকেল এর জীবনেও এমনই  কিছু ঘটেছিল।

একদিন মাইকেল এর বাবা তাকে একটি পুরোনো টি-শার্ট হাতে দিয়ে বলে এটি কত দাম  হতে পারে? মাইকেল  বলেছিল এক ডলার। তার বাবা তাকে সেটি দুই ডলারে বিক্রি করার জন্য বলে। সে অনেক চিন্তা করতে ছিল। পুরোনো টি-শার্ট কিভাবে সে দুই ডলারে বিক্রি করবে। কিশোর মাইকেল পুরোনো ও ময়লা টি-শার্টটিকে ধুয়ে পরিষ্কার করল। এরপর রোদে শুকিয়ে পুরোনো কাপড়ের স্তুপের নিচে রেখে সমান করল টি-শার্টটি। তারপর দীর্ঘ ছয় ঘন্টা চেষ্টার পর সে পাতাল রেলের এক যাত্রীর কাছে টি-শার্টটি দুই ডলারে বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিল। তার বাবা তার ছেলের কাজে খুশি হয়েছিল।

পরের দিন ঠিক একই রকম একটি ময়লা টি-শার্ট মাইকেলকে দিয়ে বলে তা ২০ ডলারে বিক্রি করতে। এই ২০ ডলার তার পরিবারের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। মাইকেল তার বাবার কথায় হেসেছিল। কারণ এত পুরোনো জামা ২০ ডলারে কোনভাবেই বিক্রি সম্ভব না। তবুও সে চেষ্টা করে দেখলো। প্রথমে তা সুন্দর করে ধুয়ে পরিষ্কার করল। সে আগের দিনের দুই ডলার দিয়ে কিছু রঙ ও তুলি কিনল। সে তার এক বন্ধুর কাছে গেল যে কিনা ভালো ছবি আঁকাতে পারতো। তার বন্ধু ঐ টি-শার্টটির উপর একটা মিকিমাউসের ছবি একে দিল। তারপর মাইকেল জামাটি বিক্রি করার জন্য অনেক জায়গায় গেল। প্রায় সারাদিন চেষ্টার পর শহরের ধনী শিশুদের কিন্ডারগার্ডেন এর এক শিশুর অনেক পছন্দ হয়ে গেল এবং সেটা কিনার জন্য বায়না ধরল। শিশুটির ভদ্রলোক বাবা জামাটি ২০ ডলারে শুধু কিনলেনই না তাকে আরো পাঁচ ডলার বখশিশও দিল। আর এই ২৫ ডলার ছিল তার পরিবারের সারা সপ্তাহের উপার্যন যা সে একদিনেই আয় করেছিল।

ছেলের উদ্দীপনা দেখে মাইকেলের বাবা অনেক আনন্দিত। পরেরদিন একই ভাবে আরেকটি পুরোনো জামা মাইকেলকে দিয়ে তা ২০০ ডলারে বিক্রি করার জন্য বলে। এবারে মাইকেল খুব চিন্তা করে আর ভাবতে থাকে কিভাবে সে এই কাজটি করতে পারে। সে সময় আমেরিকায় ‘ চার্লস এঞ্জেলস ’ চলচ্চিত্রটি ছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ছবিটির নায়িকা ফারাহ ফওলার নিউইয়র্কে আসেন চলচ্চিত্রটির প্রোমোশনের কাজে। প্রেস কনফারেন্স শেষে যখন তিনি গ্রীণরুমে যান তখন দেখেন এক ছোট কিশোর দাঁড়িয়ে আছে। সে তার টি-শার্টে অটোগ্রাফ চায়। এমন ফুটফুটে ছোট ছেলেটির আবদার তিনি ফেলতে পারেন নি। পরের দিন মাইকেল ব্রুকলিনের নিলাম ঘরে যান মিস ফারাহ ফাওলারের নিজের হাতে অটোগ্রাফ দেয়া জামাটি নিলামে বিক্রি করার জন্য। নিলামে টি-শার্টটি মাইকেল ১২৫০ ডলারে বিক্রি করতে সক্ষম হন।

মাইকেল যখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিল, পড়াশুনায় একদম ই ভালো লাগছিলনা তখন সে তার বস্তির পাশের টিলার উপরে প্রতিদিন বসে থাকত আর সূর্যাস্ত দেখত। ঠিক তেমন সময় মাইকেলের বাবা তাকে পাশে ডেকে নিয়ে বললেন,” মাইকেল তুমি টি-শার্ট বিক্রি থেকে কি শিক্ষা পেলে?” মাইকেল তখন অনেক চিন্তা ভাবনা করে গম্ভীর ভাবে উত্তর দিয়েছিল, “ Where there’s a will, there’s a way.”

মাইকেলের জীবনে  ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা পরবর্তীতে মাইকেলকে বড়  হতে প্রেরণা যোগায়। মাইকেল জর্ডান National Basketball Association ( NBA ) এর ১৫ টি সিজন খেলেন Chicago Bulls এবং Washington Wizards এর হয়ে। NBA এর ওয়েবসাইটে তার বায়োগ্রাফিতে বলা হয়েছে “ Michael Jordan is the greatest basketball player off all time.” তার বাৎসরিক আয় ৪০ মিলিয়নেরও বেশি। তিনি তার এক উক্তিতে বলেন,

“ There is no ‘i’ in team but there is in win.

If you accept the expectations of others, especially negative ones, then you never will change the outcome.

I never looked at consequences of missing a big shot… when you think about the consequences you always think of a negative result.”

মাইকেলের বাবা তাকে বলেছিলেন, তারা বস্তিতে অভাবের সংসারে জন্ম নিয়েছেন মানে এই না যে সারা জীবন সেখানেই থাকবেন। নিজের চেষ্টায় ও পরিশ্রমে তারাও সফল হতে পারেন। জীবনে হতাশ না হয়ে জীবনকে অন্যভাবে দেখতে শিখতে হয়। পরবর্তীতে মাইকেলকে আর কখনও পিছনে তাকাতে হয় নি।

তথ্য – wikipedia

ছবি – গুগল