রানমেশিনঃ বিরাট কোহেলি

Now Reading
রানমেশিনঃ বিরাট কোহেলি

বিরাট কোহেলি নামটা শুনলেই মাথায় রানমেশিন কথাটা মাথায় চলে আসে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান এই বিরাট কোহেলি । ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে।এরপর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয় নি ।একের পর এক অসধারণ ইনিংস খেলেছেন ।অনেক সেঞ্চুরিও উপর দিয়েছেন ভারত ক্রিকেট টিম কে ।শুধু তাই নয় টিমকে অনেক হারের দ্বারপ্রান্ত থেকে  উদ্বার করেছেন এই বিরাট কোহেলি ।

১৭৯ টি ওডিআই খেলে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই ।রান করেছেন ৭,৭৭৫ ।২৭ টি সেঞ্চুরি ইতিমধ্যে তার দখলে ওডিআইতে ।একের পর এক পারফেক্ট শটের সমাহার ,ক্লাসিকাল শটের ফুলজুরি দেখা যায় এই রান মেশিন এর ব্যাট এ ।তার খেলার গিয়ার শিফটিং এতটাই সুন্দর যে ,যে কোনো পরিস্থিতিতে তিনি খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম । বর্তমানে ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে ধোনি’র পরিবর্তে তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ।তার এই অসধারন ব্যাটিং মেধাই তাকে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান করে তুলেছেন ।তার ওডিআই তে ব্যাটিং গড় ৫৩.১২ ।বিশ্বের এমন কোনো বোলার নেই যে কিনা কোহেলির কাছে তুলোধুনা হন নি।তাকে যতই দেখি ততই অবাক হয়ে যান ক্রিকেট বোদ্ধারা ।কি অসাধারন ব্যাটিং মেধা ।২০১৪ সালে মার্টিন ক্রো টেস্ট ক্রিকেটের তরুণ চার ফ্যাবারিট  এর মাঝে তাকেও অন্তর্ভূক্ত করেন ।২০১২ সালে আইসিসি থেকে বর্ষ সেরা পুরুস্কার লাভ করেন । এই রানমেশিন ২০১৬ সালে উইজডেন থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারের লাভ করেন । ক্রিকেট এর বোধ হয় কোনো অর্জন বাকি রাখেন নি এই রানমেশিন । কোথায় গিয়ে থামবেন এই বিরাট কোহেলি । রান চেজিং এ এই কোহেলি যেন একটা দানব এ পরিণত হয় ।কখনো ডাউন দা উইকেটে এসে আবার কখনো উইকেটে থেকে শটের ফুলজুরি ছড়ান । তিনি সাধারণত এগ্রেসিভ ক্রিকেট খেলতে বেশি পছন্দ করেন ।তিনি বেশ কয়েকবার আইসিসি ওডিআই রেঙ্কিং এ ১ নাম্বার এ উঠেছেন ।গড়েছেন রানের পাহাড় ।তাইতো তাকে ক্রিকেট বোদ্ধারা রান মেশিনে হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ।

বিরাট কোহেলি শুধু ওডিআই তে নয় ,টেস্ট ক্রিকেটে ও বেশ পারফেকশনের সাথে ব্যাটিং করে থাকেন ।২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে টেস্ট এ অভিষেক ঘটে এই রানমেশিনের ।এরপর তিনি নিজের জাত চেনান সবাইকে ।৫৪ টি ম্যাচ খেলেছেন এই ফরম্যাট এর ক্রিকেটে । সেঞ্চুরি করেছেন ১৬ টি ।৫১.৭৫ গড়ে করেছেন ৪,৪৫১ রান ।তিনি ২০১৪ সালে ধোনির অবসরের পর টেস্ট দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন ।এবং অধিনায়ক হিসেবেও বেশ সফলতা লাভ করেছেন ।তিন ফরম্যাট একইরকম পারফর্ম করা একজন ক্রিকেটারের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ।কিন্তু বিরাট কোহেলি এর নিয়ম এর বাইরে নিজেকে স্থাপন করেছেন ।ওডিআই স্পেশালিস্ট হিসেবে আখ্যা পাওয়া এই ক্রিকেটারের টি-২০ তে অর্জনটাও কিন্তু কম নয় ।শুধু ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়েই নয় এই রান মেশিন রানের ফুলজুরি ছুটিয়েছেন আইপিএলেও।একের পর এক বাউন্ডারি মেরে বোলারদের ঘাম ঝরিয়ে ছেড়েছেন ।তার কিছু অসাধারণ ইনিংস রয়েছে , যেমন ২০১২ সালে শ্রীলংকা বিপক্ষে করা ১৩৩ রান তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১২ সালে টেস্টে এ করা ১১৬ রান । ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ তে অভিষেক ঘটে । ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটেও বেশ আগ্রাসী এই রানমেশিন ।সর্বমোট ৪৩ টা সেঞ্চুরি করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ।কোহেলি ২০১৬ সালে ইএসপিএন এ জনপ্রিয় এথলেটদের মধ্য অষ্টম স্থান এ জায়গা করে নেন ।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বমোট ১৩,৯১৫ রান করেছেন ।তিনি রান চেজিং এ বেশ পরিপক্ক ।ভারতকে অনেকবার হারের দ্বারপ্রান্ত দেখে ফিরিয়ে এনেছেন ।বেশ কয়েকবার ওডিআই তে ১ নাম্বার স্থান দখল করেছেন এই ওডিআই স্পেশালিস্ট ।কোথায় গিয়ে থামবে বিরাট কোহেলির এই রানের চাকা ।সেই ২০০৯ সালে শুরু হয়েছে এরপর শুধু গতি বেড়েই চলেছে ।দিনে দিনে আরো ও দানব এবং ভয়াবহ হয়ে উঠেছেন এই বিশ্বসেরা ব্যাটসমান ।

২০০৮ সালে কোহলিকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালোর 30,000 ডলারের চুক্তিতে কিনে নেয় ।প্রথম সিজনে তিনি তেমন একটা ভালো ব্যাটিং করতে পারেন নি , ১২ টি ইনিংসে ১৫.৫ গড়ে 165 রান এবং স্ট্রাইক রেট ছিলেন ১০৬ আর কাছাকাছি ।
দ্বিতীয় সিজনে তিনি বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন এবং ২২.৩৬ গড়ে মোট ২৪৬ রান করেছিলেন । তিনি 112 রানে অপরাজিত ছিলেন ফাইনালে । ২০১০ সালের মৌসুমে কোহলি ২৭.৯০ গড়ে ৩০৭ রান করেন এবং তার স্ট্রাইক রেট ছিলো ১৪৪.৯১। এই মৌসুমে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন।২০১২ সালের আইপিএলে ও তিনি মোটামুটি সফল ছিলেন, তার ৩৬৪ রানের জন্য
তিনি ২8 রান করেন। মাঝপথে কিছুটা সময় ঝিমিয়ে পড়েছিলেন এই তারকা , কিন্তু ফিরেছেন আরো ও পরিপক্ক হয়ে ।অনেক ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করেন বিরাট কোহেলি যখন তার ক্যারিয়ার শেষ করবেন হয়তো তখন তার নামের শেষে ৭০++ সেঞ্চুরি যুক্ত হবে । এমন ধারণা করাটাই স্বাভাবিক । কারণ এটা যে কোহেলি । একজন ব্যাটসম্যান এর রানক্ষুধা যে কি রকম হতে পারে তা এই কোহেলিকে দেখলেই উপলব্ধি করা যায় । ক্রিজে যখন আসে তখন বেশ ঠান্ডা মাথায় শুরু এর পর ধীরে ধীরে খেলার গিয়ার শিফটিং করে খেলাকে তার নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসেন । তার ইউনিক কিছু ক্ল্যাসিকাল শট ক্রিকেট ভক্তদের মুগ্ধ করে দেয় ।টি -২০ তে তার হাফ সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৬ টি ,এবং এই ফরম্যাট এ তার ব্যাটিং গড় ৫৩.৭৫ ।সাবেক ভারতীয় ওদিনটোক সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছেন ,”আমি ভারতের অনেক  ব্যাটসম্যান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভালো করতে দেখেছি যেমন টেন্ডুলকার  কিন্তু আমি মনে করি বিরাট কোহেলি তাদের মধ্য সেরা ।”অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিরাট বেশ ছন্দময়তার সাথে রান করেছেন ।শুধু অস্ট্রেলিয়া নয় ইংল্যান্ড সাউথ আফ্রিকা  এর মাটিতেও বিরাট কোহেলি তার ব্যাটিং জাদু দেখিয়েছেন ,হয়েছেন বিশ্ব সেরা ।