5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

কাপ্তাই লেকের উপর 50 এমডব্লিউ ভাসমান সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

Now Reading
কাপ্তাই লেকের উপর 50 এমডব্লিউ ভাসমান সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারী সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের কাপ্তাই লেকের উপর একটি পাইলট ভিত্তিতে 50 এমডব্লিউ ভাসমান সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা কাপ্তাই লেকের একটি 50 মেগাওয়াট ভাসমান সৌর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এশিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) থেকে তহবিল অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছে।

“আমরা শুনেছি দাতা সংস্থার নির্বাহী বোর্ড [এডিবি] এই বিষয়ে একটি অর্থায়ন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে, এডিবি থেকে সরকারী চিঠি পাওয়ার পর সরকার এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা অধ্যয়নের জন্য অগ্রসর হবে”। মো। আলাউদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক (পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি) বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে।

তারা বলেন, যদি কাপ্তাই লেক সৌর প্রকল্প সফল হয় তবে একই প্রকল্পগুলি জনসাধারণ ও বেসরকারি খাতে প্রয়োগ করা হবে।

তিস্তা পানি ব্যারেজ এলাকার খালের মধ্যে 30 মেগাওয়াট ভাসমান সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা বিবেচনা করে সরকার উল্লেখ করেছে।

আনুষ্ঠানিক সূত্রে জানা গেছে, জাপান, চীন, ভারত, জার্মানি, ফ্রান্স, চীন এবং ভাসমান সৌর প্রকল্পের অন্যান্য দেশে সাম্প্রতিক সাফল্য পাওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় (এমপিইএমআর) মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যুৎ বিভাগকে প্ররোচিত করেছে। সবুজ প্রকল্প।

২006 সালে জাপান চিবায় একটি ফরাসি সংস্থা কর্তৃক একটি ভাসমান সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাপান প্রথম দেশ ছিল, যখন চীন এখন আনহুই প্রদেশের হুয়ানান শহরে 40 মেগাওয়াট ক্ষমতার সর্বাধিক ভাসমান সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

এ পর্যন্ত কর্মকর্তারা বলেন, 1২ টি দেশে ভাসমান সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং ভূমি ঘাটতির কারণে ধারণাটি জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে, ভারত ও চীন ভাসমান সৌর উদ্ভিদ স্থাপনের জন্য আক্রমনাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে।

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ভাসমান সৌর প্রকল্পগুলি ইনস্টল করা বাংলাদেশের জন্য একটি উপযুক্ত ধারণা হতে পারে কারণ এটি সৌর পরিকল্পনার বাস্তবায়নের জন্য জমি ঘাটতি সমস্যার মুখোমুখি।

বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রস্তাবিত কাপ্তাই লেক ভাসমান সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

কাপ্তাই হ্রদটি কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পানি সরবরাহের জন্য বাঁধের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল, এবং এখন বিশাল জলাধারটি কেবল ছোট আকারের মৎস্যচাষের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

আলাউদ্দিন বলেন, তিস্তা ব্যারেজের সেচ খাল আরেকটি ভাসমান সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আরেকটি নিখুঁত জায়গা।
তবে প্রকল্পটির মালিকানাধীন ও পরিচালনাকারী ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (ডব্লিউডিবি) পর্যন্ত তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ তার লাইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সাথে ধারণাটি অনুসরণ করবে।

তিনি বলেন, “তারা যদি একমত হয়, বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বেসরকারি খাত উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন প্রকল্পের জন্য এগিয়ে যাবে।”

তিস্তা ব্যারেজ লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার দুয়ানি গ্রামে তিস্তা নদীর তীরে অবস্থিত। এতে 1২,750 কিউসেক পানি নির্গমন ক্ষমতা রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২0২1 সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদক (আইপিপি) সৌর উদ্ভিদের অনুমতি দেওয়ার পদক্ষেপটি ২0২1 সালের মধ্যে 24,000 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠেছে।

অ প্রচলিত উত্স থেকে বিদ্যুত উত্পাদন একটি বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এটি ২0২0 সালের মধ্যে (10,000 মেগাওয়াট) মোট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের 10% দ্বারা বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রাখে।

বাংলাদেশে মোট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো ২50 মেগাওয়াট অতিক্রম করেনি।

বাংলাদেশের সেরা ১০টি পর্যটন কেন্দ্র

Now Reading
বাংলাদেশের সেরা ১০টি পর্যটন কেন্দ্র

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। বিধাতা যেন খুব নিপুন ভাবেই তৈরি করেছেন এর প্রত্যেকটি উপকরন। যৌবনা নারীরমত আকর্ষিত করে রাখে সবসময়।  রূপসুধা যেন অফুরান্ত, সারা দিন মুগ্ধ হয়ে পান করলেও একটু যেন কমবার নয়। ভুবন ভোলানো সৌন্দর্যে ভরে রাখে সারাক্ষন। স্বপ্নের মত বিভর করে রাখা এই সৌন্দর্যের ১০ টি সেরা আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে জানা  যাক।  

Cox's Bazar.jpg

১। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতঃ

দক্ষিনে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে নিজের শরীর মেলে আগলে থাকা সৌন্দর্যের পটভূমি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত বাংলার দক্ষিণ দিকের মেয়ে  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম কেন্দ্র বিন্দু কক্সবাজার এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। সমুদ্র, সামদ্রিক মাছ আর সমদ্রের অজস্র রত্নভারের সম্ভার নিয়ে কক্সবাজার আপনার মনকে জয় করবেই।

Kuakata.jpg

২। কুয়াকাটাঃ

কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। পর্যটকদের কাছে সাগর কন্যা নামে পরিচিত ১৮ কিলোমিটারের কুয়াকাতা সমুদ্র সৈকত  বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। কুয়াকাটার বিশেষত্ব হচ্ছে এখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুইটাই দেখা যায়। আরও আছে মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধ মন্দির। যেখানে রয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু বৌদ্ধ মূর্তি।আরও আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মৎস্য বিপণন কেন্দ্র আলিপুর বন্দর।

Saint_Martin_Island.jpg

৩। সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপঃ

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিনে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ- পূর্ব অংশে সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ অবস্থিত। এটি কক্সবাজার সমুদ্র উপকুল থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার উপকুল থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত বাংলাদেশের সীমানা হিসাবে দাড়িয়ে আছে।  বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ বাংলাদেশের মুল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। দ্বীপে অনেক নারিকেল গাছ পাওয়া যায় বলে এটা কে নারিকেল জিঞ্জিরা বলা হয়।

Nilgiri Resort.jpg

৪। নীলগিরি পর্যটনকেন্দ্রঃ

বাংলাদেশের বান্দরবন জেলায় অবস্থিত পাহাড়ে ঢাকা নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র। এটি সব সময় মেঘে ঢাকা থাকে। পর্যটকরা এখান থেকে খুব সহজেই মেঘ ছুঁতে পারবেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ মিটার উচুতে অবস্থিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র একাবিংশ শতাব্দীতে এসে আবিষ্কৃত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রতে বেশ কিছু রিসোর্ট ও আছে।

Sundarban.jpg

৫। সুন্দরবনঃ

বাংলাদেশের একেবারে দক্ষিণে অবস্থিত লবনাক্ত পানিতে বেড়ে ওঠা বন সুন্দরবন। জোয়ার ভাঁটার মধ্যে বেচে থাকার জন্য গাছ গুলো এক বিশেষ শ্বাসমূল তৈরি করে। বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত এ বনেই একমাত্র রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা পাওয়া যায়। এছাড়াও এখানকার হরিণ, লবনাক্ত পানির বিরাট আকারের কুমির সাধারনত বিখ্যাত।

Vashoman Bazar.jpg

৬। দক্ষিনের ভাসমান বাজারঃ

শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ভাসমান বাজার বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা শহর ঝালকাঠী থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভিমরুলি গ্রামের কৃত্তিপাশা খালের উপর অবস্থিত৷ প্রায় সারা বছরই চন্মলে থাকা এ হাট আসে পাশের গ্রামের মানুশের জীবিকার অন্যতম ক্ষেত্র। পেয়ারা ও আমড়ার মৌসুমে প্রায় তিন মাস এ হাট জমজমাট থাকে আরও বেশি৷ সপ্তাহের প্রতিদিনই বসে ভাসমান এ হাট ।

sajek valley.jpg

৭। সাজেক ভ্যালিঃ

বাংলাদেশের তাঙ্গামাটি জেলার সাজেক উনিয়ন এর আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। রাঙ্গামাটি জেলার ছাদ নামে পরিচিত সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উচুতে অবস্থিত। আসে পাশের গ্রাম গুলতে বসবাস করা লুসাই, ত্রিপুরা এবং পাংখয়া উপজাতিদের বসবাস সাজেক ভ্যালি কে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। কমলা লেবুর সাথে সাথে কফির চাষ ও সাজেক ভ্যালি তে হয়ে থাকে।

Sixty-Dome-Masjid.jpg

৮। ষাট গম্বুজ মসজিদঃ

খান জাহান আলী নির্মিত বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমের জেলা সহর বাগেরহাট শহরের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপত্তের নিদর্শন ষাট গম্বুজ মসজিদ। মসজিদের গায়ে কোন রূপ শিলালিপি না থাকলেও এটার গঠন আর নির্মাণ কৌশলী দেখে এটি সহজেই ধারনা করা যায় যে এটি খান সাহেবের তৈরি একটি অনন্য স্থাপনার অন্যতম। ধারনা করা হয় এ মসজিদ টি ১৮ শ শতকের দিকে তৈরি করা হয়। ষাট গম্বুজ নাম হলেও এটাতে ৭৭ টি গম্বুজ আছে। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের সম্মানে ভূষিত করে।

Dhakeshwari Mandir.jpg

৯। ঢাকেশ্বরী মন্দিরঃ

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিদর্শনের অন্যতম হল ঢাকেশ্বরী মন্দির। কথিত আছে রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের জঙ্গলে একটা দুর্গা প্রতিমা পান আর ওখানেই ঢাকেশ্বরী মন্দির নির্মাণ করেন। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম থেকেই আজকের ঢাকা নামের উৎপত্তি। আবার অনেকের মতে এটার নাম করন করা হয়েছে “ঢাকার ঈশ্বরী” অর্থাৎ ঢাকার রক্ষাকর্ত্রী দেবী হতে। বহু বছরের পুরাতন এই মদিরটি বাংলাদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

Shonargaon.jpg

১০। সোনারগাঁওঃ

মুসলমান শক্তির উদ্ভবের পর থেকে ১৬১০ সালের আগ পর্যন্ত ঢাকা শহরের নাম করনের আগে সোনারগাঁও ছিল বঙ্গ অঞ্চলের শাসন কাজ চালানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ধারনা করা হয় প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে পড়ে সোনারগাঁও নামের উৎপত্তি। শাসন কাজ পরিচালনার জন্য মুসলমান শাসকরা এখানে অনেক স্থাপনা নির্মাণ করেন। এগুলার মধ্যে খাসনগর দীঘি, দুলালপুরের নীলকুঠি, গোয়ালদি শাহী মসজিদ, আমিনপুর মঠ, দামোদরদি মঠ, পানাম নগরের আবাসিক ভবন, বড় সরদার বাড়ি প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 

প্রাচীন স্থাপনা আর সাহিত্যকর্মে ভরপুর বাংলাদেশের এখানে ওখানে ছড়িয়ে আছে নানা পর্যটন কেন্দ্র। যার রূপ আর রস পর্যটকদের কাছে টেনে নিয়ে যায় বারবার। ভ্রমন পিপাসু লোকদের অনেকেই হয়তো এগুলার কদর করেন না। কদর করেন না নিজ সৌন্দর্যের। শেষ অংশে এটাই মনে পড়ে-

“বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে

বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে

দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,

দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া

একটি ধানের শিষের উপরে

একটি শিশিরবিন্দু।”

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।।

মসজিদ নাকি প্রাসাদ?

Now Reading
মসজিদ নাকি প্রাসাদ?

সুন্দর্যে ঘেরা আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলার অনেক কবি সাহিত্যিক এই সুন্দর্য নিয়ে অনেক গল্প, কবিতা লিখেছে। কিছু কিছু যায়গা এতটাই সুন্দর যে, এর সুন্দর্য বর্ণনা করার ভাষা সকলের থাকে না।

দূর থেকে দেখলে যায়গাটা যেনো স্বর্গের কোন প্রাসাদ বা কোন রাজা বা জমিদার এর সদ্য তৈরি করা কোণ অট্টালিকা এর মতন দেখায়। যায়গাটা সবাইকে মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ঠ। তাইতো আমি এর নাম দিয়েছি “জান্নাত এর দরজা”। এইটা দেখতে একটা প্রাসাদ, তবে মানুষের না “আল্লাহ” এর।

হ্যাঁ, বলছিলাম ঢাকার কেরানীগঞ্জের সাউথ টাউন জামে মসজিদ এর কথা। অপরূপ সুন্দর্যে ঘেরা আর চোখ ধাধানো ডিজাইন এর মিশ্রনে যেনো অপার্থিব সুন্দর চোখে পরে। একটা মসজিদ এত সুন্দর করে ডিজাইন এর হতে পারে আপনি না দেখলে বিশ্বাস করবেন না কখনো।

মনে হবে যেনো Disney World এ চলে এসেছেন। মসজিদ টা এরকম ই দেখতে। দূর থেকে দেখেই মনে হয় নিজের সুন্দর জানান দিচ্ছে। তবে যায়গাটার আশে পাশে ইট ভাটা। তাই ধুলা ইকটু বেশী। আপনি যাওয়ার সময় কিভাবে ইট তৈরি হয় বা ইট ভাটার কর্মজীবি শ্রমীকদের সামাজিক অবস্থাও দেখে নিতে পারবেন। তবে আমার মতে  তাদের সাথে বেশী কথা না বলাই ভালো। কারন তারা এইসব ততটা পছন্দ করে না। এমনকি আপনাকে ভালো মন্দ দুই এক কথা শুনিয়ে ও দিতে পারে।

তবে হ্যাঁ কোন খাবার দোকান কিন্তু নেই সেখানে।দুইটা চায়ের দোকান আছে জেল গেট এর অপর পাশে, তবে ততটা স্বাস্থ্যকর না।

আরেকটা কথা। আপনারা চাইলে কেরানীগঞ্জ সেন্ট্রাল জেলখানা ও পরিদর্শন করতে পারবেন। তবে জেলখানা পরিদর্শন করতে হলে আপনাকে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ৩ টা এর মধ্যে জেলখানায় যেতে হবে। আর মসজিদ দেখার উপযুক্ত সময় বিকাল আর সন্ধায়। তাই, দুপরে জেলখানা ঘুরে বিকালে মসজিদ দেখাটা অনেকটাই এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতন হবে। তাছাড়া সন্ধায়, মসজিদ এর চারিপাশে যখন লাইট গুলো জ্বলে উঠে তখন দেখলে অনেকটা মুভিতে দেখানো ভৌতিক বাড়িগুলোর মতন দেখায়। সব মিলিয়ে অসম্ভব সুন্দর একটা যায়গা ঢাকার মধ্যে।

যেভাবে যাবেনঃ

ঢাকার যে কোন যায়গা থেকে গুলিস্তান চলে আসবেন। সেখান থেকে লেগুনা বা সিএনজি করে যাত্রাবাড়ী। যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনা তে পোস্তগোলা ব্রিজ এ। আপনি চাইলে গুলিস্তান থেকে সরাসরি সিএনজি তে করে পোস্তগোলা ব্রিজে চলে আসতে পারেন। পোস্তগোলা ব্রিজ পাড় হওয়ার জন্য সিএনজি আছে। সিএনজি তে পোস্তগোলা ব্রিজের ওপার চলে আসার পর সেখান থেকে লেগুনা আছে। লেগুনায় কেরানীগঞ্জ সেন্ট্রাল জেল গেট এ নেমে যাবেন। তারপর সেখান থেকে ৪/৫ মিনিট হাটলেই পেয়ে যাবেন সাউথ টাউন জামে মসজিদ টি। জেল গেট থেকে যে কাওকে জিজ্ঞা্সা করলেই দেখিয়ে দিবে মসজিদ টি।

যে কোন এক বিকেলে সময় করে ঘুরে আসতে পারেন সকলে মিলে। মসজিদ টা সম্পর্কে এখনো তত মানুষ জানে না। যদি প্রাইভেট গাড়ি থাকে, তাহলে সব থেকে ভালো হবে সকলে মিলে ঘুরে আসার জন্য। আর অবশ্যই মসজিদে নামাজ পড়ে নিবেন এক ওয়াক্ত।

Page Sidebar