ছেলেবেলা

Now Reading
ছেলেবেলা

আজ ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৭,

আমি মুসফিক, এই লেখালেখি করি আর কি, কিন্তু ফটোগ্রাফির ইচ্ছা ও মনের মধ্যে আছে। আজকে কেন জানি কি মনে করে বের হলাম, রাস্তার ধারে ঝলমলে রোদ এসে গায়ে আছড়ে পড়ছে। সারাটা পথ ফাকা। একটি ছেলে আমার দিকেই এগিয়ে আসছে তার সাইকেল নিয়ে। ভাল ভাবে চালাতেও জানে না, যেমন পারে তেমন ভাবেই আসছে কিন্তু আসতে চাইছে দ্রুত। এসে থামল আমার সামনে। সে বলে; ভাই আপনের হাতে এইডা ক্যামেরা না? ওই যে ছবি উঠায়। অবাক দৃষ্টি তে ওর দিকে চেয়ে, একটু হেসে বললাম হ্যা। শুনলাম তোমার নাম কি? উত্তরে সে বলে, আমার একটা ছবি উঠায় দিলে আমি নাম বলবো। আমি ওকে সামনে দাড় করালাম আর ওই পিচ্চি ছেলেটা ওই ভাবে দাড়ালো। ছবি দেখালাম সে অনেক খুশি মনে বলল, ভাই আমার নাম সোহাগ। এই বলেই চলে গেল।

এতক্ষন আমি এই ছবির পেছনের কাহিনী বলছিলাম। আসলেই অনেক সুন্দর ছিলো আমার আপনার, আমাদের ছেলেবেলা। সারাদিন খেলা করতে করতেই বেলা বয়ে সন্ধ্যা নেমে আসত। ঠিক-ই পেতাম না। তখন জীবন টা এখনকার মত এতোটা জটিল ছিল না। ছিল সাদা-মাটা কাগজে বানানো এক ঘুড়ি, যার মাঝে আম্মুর কাছ থেকে নেওয়া কাঠিম সুতোর সুতা বেধে আকাশে চেলে দিয়ে দৌড়ে বেড়াতাম সারা মাঠ। মানুষ আসলে ঠিক-ই বলে, সময় আর স্রোত কারোর জন্যে অপেক্ষা করে না। আর আমাদের ছোটবেলার ভাবনা গুলো-ও ছিলো অন্যরকম। ছোটবেলায় ভাবতাম বড় হলে আম্মু আব্বু কে দেখিয়ে দিবো আর বড় হয়ে ভাবি, নাহ! সেই আগের দিন গুলো-ই ভাল ছিল অনেক। আর আফসোস ও করি যে যদি আবার আর একবার সেই ছেলেবেলায় ফিরে যেতে পারতাম!

এখন তো কিছু করার নেই বড় হয়ে গেছি, বুঝতে শিখেছি আর জীবনের এই আঁকাবাঁকা পথ ধরেই চলতে হবে কারন সৃষ্টিকর্তা আমাদের কে তো বাচার জন্যে সৃষ্টি করেননি, করেছেন লড়াই করার জন্যে। জীবন যুদ্ধে লড়াই করে যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে সেই হবে বিজয়ী।

আমাদের আশেপাশে এমন হাজারো সোহাগ আছে যাদেরকে আমরা কোন পাত্তা-ই দেইনা। কখনো কি তাদের মুখে আমরা হাসি ফুটিয়ে দেখেছি, লুটেছি সে শান্তি যে শান্তি অন্যকে খুশি করার মধ্যে মেলে? আমরা কি এমনো সোহাগ দের কাছে ভালো মানুষ হতে পেরেছি? আমরা শুধু নিজেদের নিয়েই ভাবি। জীবনে কি করলাম আর কি করবো এই ভাবতে ভাবতেই দুশ্চিন্তায় ভুগি আর সেই দুশ্চিন্তা মেটাতে এদিক সেদিক ছুটি। কিন্তু একবার অন্তত এমন পরিস্থিতিতে পড়লে এমন কোন সোহাগের মুখে হাসি ফুটিয়ে দেখেন, দুশ্চিন্তা থাকবে না, শান্তি অনুভব করবেন আপনি যেমনটা আমি আজ করেছি।

বাঁচুন, বাঁচতে দিন। আর সেইটা অবশ্য-ই ভাল ভাবে হতে হবে।