ভুতের গল্প – পোড়ামুখো

Now Reading
ভুতের গল্প – পোড়ামুখো

গ্রামের নাম চরমিরকামারি। বিদ্যুৎ চলে এলেও ঘন গাছগাছালি এখনো গ্রামটিকে অজপাড়া গাঁয়ের পরিচয় দিয়ে রেখেছে। আজকে যে কাহিনীটা বলবো সেটা এ গ্রামেরই ঘটনা। ঘটনাটা ঘটে আমার এক চাচাতো ভাইয়ের সাথে। তার মুখে যা শুনেছি সেটাই গুছিয়ে লিখা আপনাদের জন্য।

রাত তখন একটা বাজে। আব্বা আম্মার কথা না শুনে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি। ঘণ্টায় ঘণ্টায় আব্বার ফোন কতদূর আসলাম, কিন্তু বিরক্ত হলেও মনে কেমন একটা শান্তি পাচ্ছিলাম। আব্বার শত বলা সত্ত্বেও এলাকার বাসস্ট্যান্ডে না নেমে আমি আলহাজ মোড়ে নেমে পরি। তখন ঘড়িতে বাজে ১ টা ৪৫ মিনিট।

“কিবা ঢাকা থেকে আইলা নাকি”, জোরে এক হাক শুনে চমকে পিছু চাইলাম। মোড়ের এক চা দোকানদার ডাক দিয়েছে। একটা দোকানি খোলা। বন্ধের প্রস্তুতি চলছে।”তো যাইবা কই হুনি”, দোকানদার বলে।”চাচা, ওয়াপদা গেট যাব। কলোনির মধ্যে বাসা”। “তো এখানে নামছো কেন?। কোনও গাড়ি থামবো না। বাসস্ট্যান্ডে নামা ভালা ছিল”। কথার উত্তরে শুকনো একটা হাঁসি দিলাম। ” হাঁটা দাও। বেশি না ৩০ মিনিটের রাস্তা।”, দোকানদার চাচা বলল।

দোকান বন্ধ করে দোকানদার হাঁটা ধরলো তার বাসার দিকে। পাশেই ডাল গবেষণা কলোনির মধ্যে তার বাসা( দোকানদারের সাথে কথাবার্তা এখানে উল্লেখ করে আপনাদের বিরক্ত না করাই ভালো)। একবার ভাবলাম সাথে যাবো কিনা ওই লোকের সাথে তারপর আবার কি মনে হলো, ঘুরে বাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম। ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঠাণ্ডা হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

“ওই কে যাই?”, সামনের অন্ধকার দোকানের মধ্যে থেকে এক লোক বের হয়ে এল। ” ধুস শালা, আজকে কি হইছে। লোকজন একটার পর একটা আসতেছে”। আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে বুকে ফু দিলাম। নাইটগার্ড। বেশ কয়েকটা দোকান আর সাথে ওয়ালটনের শো-রুম আছে মোড়ে উপর, সেটা পাহারা দিচ্ছে এক বুড়া চাচা। আমার গেটআপ দেখে চোর না বুঝে ছেড়ে দিলো। সাথে আবার কিছু দূর এগিয়ে দিয়ে গেল। হাঁটছি তো হাঁটছি। সময় যেন আর যাই না। ভেলুপারা আর বরইচারা এর মাঝামাঝি একটা অনেক পুরানো একটা সাঁকো। কাহিনীর শুরু এখান থেকেই।

সাঁকোর উপর উঠবো এমন সময় দমকা হাওয়া বয়ে গেলে। সাঁকোর চার পাশটা খোলা। আখের চাষ করা হয়েছে। সাঁকোতে যেই পা দিয়েছি অমনি মট করে কি যেন ভাঙলো। চমকে উঠে নিচে তাকালাম কই কিছু তো নেই। খিক খিক করে হাসি শুনলাম। আঁখের পাতা গুলো তুমুল বেগে দুলতে শুরু করলো। মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করা শুরু করলাম। এর মধ্যে কোন ফাঁকে রাস্তার মধ্যে চলে এসেছি টের পেলাম প্রচণ্ড হর্নের শব্দে। জানটা বোধহয় আজকে যাবে। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে গাড়িটা আমার মধ্যে দিয়ে চলে গেল। হাসি যেন থামে না কাদের যেন। কে কে বলে উঠলাম। সাঁকো পার করেছি এমন সময় দেখি একটা কঙ্কাল হেটে আমার সামনে এলো। মাথার খুলিটা হাতে ধরা। একবারে মুখের সামনে এসে খুলিটা উঁচু করে আমার মুখের কাছে ধরলো। গরম শ্বাস আমার মুখের উপর পরছিলো। অন্ধকার তারপরও কঙ্কালটাকে আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলাম। গায়ে কোন মাংস নেই। কিন্তু চোখ দুটো ঠিকই আছে। ভয় কাহাকে বলে আর কত প্রকার মনে মনে পড়ছিলাম। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে কঙ্কালটা পাশের আঁখের জমিতে নেমে গেল।

হঠাৎ যেমন শুরু হয়েছিল তেমনি হঠাৎ করে থেমে গেল সব। জোরে হাঁটা ধরলাম। পণ করলাম আর কোন দিকে তাকাবো না। ভয় দুর করার জন্য গান গাওয়া শুরু করলাম। বাড়ি সেখান থেকে আরও ১০-১২ মিনিটের দূরে। তার মাঝে একটা নিরিবিলি রাস্তা। আগের রাস্তার মতো এটা অত ফাঁকা ছিল না। এই জায়গাটা সব থেকে ভয়ংকর ছিল। রাস্তার ধার ধরে টানা ঝাউ গাছ শাকরেগাড়ি মোড় পর্যন্ত, তারমাঝে ছোট একটা সাঁকো। সাঁকোর কাছাকাছি এসে দেখি, সেটার উপরে একটা লোক বসে। এতরাতে এখানে কাউকে দেখে আমার গলা শুকিয়ে এল।” ভাই কাউকে পাইলাম অবশেষে”, লোকটা বলে উঠলো। ” ভাইজান ম্যাচ আছে, একটা সিগারেট খাব”। একে তো অমাবস্যা রাত তার উপর জায়গাটা অনেক অন্ধকার। লোকটার মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম না। দৌড় দেবার সাহস হচ্ছিলো না, পায়ে বল পাচ্ছিলাম না। মনে শক্তি সঞ্চার করে এগিয়ে গেলাম। সিগারেট যদিও খাই না, তবু লাইটার পকেটে থাকে আমার কখন কি কাজে লেগে যাই।

লাইটার জ্বালিয়ে যেই মুখের কাছে ধরেছি তারপর যা দেখলাম সেটা বুঝি না দেখলেই ভালো করতাম। বীভৎস একটা মুখ আমার সামনে। পোড়া চামড়া বের হয়ে ঝিকঝিকে সাদা দাঁত দেখা যাচ্ছে। চোখের একটার পাতা নাই আর আরেকটা চোখ তো পুরাটাই নাই। চুল পুড়ে চকচকে খুলি বের হয়ে এসেছে। লাইটারের আলোয় অর্ধ পোড়া চোখের তারা মিটমিট করে জ্বলছে। “ভাইজান ভয় পেলেন নাকি”। পোড়া হাতের ছোঁয়া আমার চমক ভাঙলো। ঠিক সেই সময় আগের খিক খিক হাসিটা আবার শুনতে পেলাম। লোকটার দিকে তাকাতেই দেখলাম এই সেই একই হাসি। দাঁত বের করে লোকটা হাসছে। হাত সরিয়ে নিতে চাইলাম। কিন্তু গায়ের সব শক্তি যেন কেউ শুষে নিয়েছে। টানতে টানতে আমাকে রাস্তা থেকে নামিয়ে নিয়ে যেতে লাগলো পাশের জমিতে। খোলা মাঠের মত কিন্তু আম গাছের সারি আছে চারদিকে। মট করে শব্দ হলো। চিনচিন করে উঠলো বুকের ভেতর।” কি করলেন? কি করলেন?”, লোকটা বলে উঠলো। লোকটার ধরা হাতটার দিকে আমি তাকালাম। ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে হাতটা উল্টা দিকে বেকে গেছে। ভয় ও ব্যথায় জোরে চীৎকার করে উঠলাম। বুঝলাম যে কোন মুহূর্তে জ্ঞান হারাবো। চোখ বন্ধ হবার আগ মুহূর্তে শুনতে পেলাম,” এত নড়াচড়া করলে তো এমন হবেই। একটু গল্প করতে চাইলাম আর মামা আপনি”।

পরদিন সন্ধ্যার দিকে আমার জ্ঞান ফিরে। পরের কাহিনীটুকু হলো, আব্বা আমাকে ফোন দিয়ে না পেয়ে, চাচা আর আমাদের মিলের লোকজন নিয়ে খুঁজতে বের হন। আমার চীৎকার শুনতে পেয়ে ওই জায়গাতেও আসেন কিন্তু ওখানে ছিলাম না আমি। আমাকে নাকি বাসার দরজার সামনে পাওয়া যায়। আমার জামা চিরে নাকি আমার ভাঙ্গা হাতটা বাঁধাছিলো। হাতের যে জায়গাটা লোকটা ধরেছিল ওই জায়গাটা কালো ফোস্কা ভরা ছিল।

সাধারণের মাঝে লুকিয়ে থাকা অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব

Now Reading
সাধারণের মাঝে লুকিয়ে থাকা অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব

পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের জীবনেই সমস্যা আছে। ঝামেলাবিহীন মানুষ খুজে পাওয়া প্রায় অসম্ভবই বলা চলে । তবে জীবনের সমস্যাগুলোকে জয় করে ,চূড়ান্ত কঠিন সময়কে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া মানুষগুলোই আমাদের হিরো।এই ধরণের বহু সফল মানুষেরা আমাদের মাঝেই লুকিয়ে থাকে ।কিছু মানুষ সারাজীবন কিছু পাওয়ার আশায় কাটিয়ে দেয় কিন্তু কেও কেও পৃথিবী থেকে শুধু নেবার নয় ,পৃথিবীকে কিছু দেবার ও চেষ্টা করে ।দেবার চেষ্টা করা মানুষগুলো নিজেকে বিলিয়ে দেয় মানবতার সেবায় ।তারা পরিচিতির লোভে মানুষকে সাহায্য করে না বরং আত্মতৃপ্তির জন্যেই কাজ করে যায় ।চিত্তের আনন্দই থাকে তাদের উদ্দেশ্য ।আর কোন এক মহামানব বলেছেন চিত্তের আনন্দের থেকে বড় শান্তি আর কিছুতেই নেই।

এমনই একজন মানুষকে নিয়ে আমার আজকের লেখা যে তার পুরো জীবনই কাটিয়ে দিচ্ছেন আর্তমানবতার সেবায়।
সাকির ইব্রাহিম মাটি যিনি গুলিস্তানের পথশিশুদের কাছে মাটি ভাই নামেই পরিচিত । সবসময় ঠোটের কোণে একটুকরো হাসি ঝুলিয়ে রাখা মানুষটা ১৭ বছর বয়সেই নাম লিখিয়েছিলেন সেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে ।
১৯৯০ সালের ১৬ ই জুন বাগেরহাট সদরে নানাবাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ।তবে তার বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই।পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ।

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ।কখনই তাকে ক্লাসের চতুর্থ স্থানে যেতে হয় নি , প্রথম থেকে তৃতীয় স্থানই তার বরাদ্দ ছিলো।সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত রায়েরবাগ এর ফুলকুড়ি স্কুলে পড়ে তিনি ভর্তি হন দনিয়ার বর্ণমালা স্কুল এন্ড কলেজে।দশম শ্রেণী পর্যন্ত তার রোল ছিলো ২/৩ ।মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে প্লাস মার্ক পেয়ে ভর্তি হন দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজে।তার ভাষ্যমতে তিনি পুরো কলেজ জীবনই টেনেটুনে পাশ করে গিয়েছেন ।কিন্তু টেনেটুনে কেও উচ্চমাধ্যমিকে সব বিষয়ে প্লাস মার্ক পায় না এটা যে কেউ বুঝবে।সব বিষয়ে প্লাস পাওয়া ছেলেটার স্বপ্ন ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে পড়ার।চারুকলার সব দিকই ছিলো তার অত্যন্ত প্রিয়,ছোট থেকে আঁকতে পছন্দ করতেন ,সামাজিক কাজ করতে ভালোবাসতেন।কিন্তু পরিবারের চাপে তিনি বাংলার শ্রেষ্ঠতম মেধাবীদের অন্যতম কেন্দ্রস্থল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) এ পরীক্ষা দেন এবং চান্স পান ।যদিও ঢামেক এ পড়ার কোন ইচ্ছাই তার ছিলো না কিন্তু ছোটবেলা থেকেই পরিবারের বাধ্যগত হওয়ায় নিজের সব ইচ্ছে গুলোকে মাটিচাপা দিতে হয় তার । ঢামেক এ তিনি একে একে এনাটমি ফিজিওলজী, বায়োকেমিস্ট্রি, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনী ,ফরেনসিক মেডিসিন ,মাইক্রোবায়োলজি, কমিউনিটি মেডিসিন, প্যাথোলজি সহ সব কোর্স অত্যন্ত সাফল্যের সাথে শেষ করে এমবিবিএস হয়ে ঢামেক থেকে বের হন । ততদিনে তার পরিবার নির্ভরশীলতা কেটে গিয়েছে , অবশ্য উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরই তিনি স্বনির্ভরশীল । ডক্টর হওয়া যেহেতু তার স্বপ্ন ছিলো না তাই তিনি আর মেডিকেল প্র‍্যাকটিস করেন নি।
তার পারিবারিক জীবন মোটেই সুখকর ছিলো না এবং সম্ভবত এখনও নেই।ছোটবেলা থেকেই তাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হয়েছে। একজন স্বাভাবিক মানুষের ছোটবেলা থেকে পরিবার থেকে যে মানসিক চাহিদা থাকে তিনি তার ছিটেফোটাও পাননি। পাননি কোন বিষয়ে উতসাহ ।এই সমস্যাগুলো তিনি কাওকে জানতেও দেননি এবং এখনও তিনি তা নিজের মাঝেই আগলে রাখেন ।

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবার একটা জেদ তার মধ্যে চেপে গিয়েছিলো যার কারণে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকে আজ পর্যন্ত পরিবার থেকে তিনি কোন আর্থিক সহযোগিতা নেন নি।ঢামেক এ পড়ুয়া অবস্থায় তিনি টিউশনি করে নিজের চাহিদাগুলো পূরণ করতেন ।থাকতেন ঢামেক এর ফজলে রাব্বি হলে যদিও তার বাসা থেকে ঢামেক এর দূরত্ব ছিলো মাত্র আধ ঘন্টার।শুধু টিউশনিই না ,নিজের খরচ যোগাতে তিনি কাজ করেছেন ট্রাভেল গাইড হিসেবেও।সেই দিন গুলি যে তার খুব ভালো কাটেনি সেটা বোঝাই যায়৷

সামাজিক কার্যক্রম বা সেচ্ছাসেবক হিসেবে তার হাতেখড়ি ঘটে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার পরই।  নিজের কিছু বন্ধুদের নিয়ে এলাকাতে “বাউণ্ডুলে” নামক একটি সংগঠন তৈরি করেন৷ সেখান থেকে নিয়মিত পেপার লাগানো ,মেডিকেল ক্যাম্পেইন করা ,রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা ,সচেতনতামূলক লিফলেট বিলি করা ,রোজায় গরীবদের ইফতার করানো ইত্যাদির মতো বিভিন্ন কাজ করতেন ।উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে ঢামেক এ ভর্তি হবার পর তিনি তার কাজকে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে চাইলেন দেশব্যাপী কাজ করতে।ঢামেক এ পড়াবস্থায় যোগ দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ক্লাবে এবং সন্ধানীতে ।যুক্ত ছিলেন চিলড্রেন কম্যুনিকেশন বাংলাদেশ নামক সংগঠনেও।বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক এনিমেশন কার্টুন ফেস্টিভ্যাল এর হেড অব প্রোগ্রাম ছিলেন তিনি।ঢামেক পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেই একটা সংগঠন গড়ে তোলেন যার নাম ছিলো “গড়ব বাংলাদেশ” ।গড়ব বাংলাদেশ থেকে তিনি এবং তার সহকর্মীরা মিলে পথ শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা ,মেয়েদের শারীরিক সমস্যা নিয়ে কাজ ,প্রত্যন্ত এবং দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ এবং মেডিকেল ক্যাম্পেইন ,শীতের সময় গরীবদের শীতবস্ত্র বিতরণ এর মতো নানান ধরণের কাজ করেন৷ গড়ব বাংলাদেশে এক বছর কাজ করার পর তার সহপ্রতিষ্ঠাতার সাথে মতপার্থক্যের কারণে তিনি গড়ব বাংলাদেশে ছেড়ে দেন ।গড়ব বাংলাদেশের পথশিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ টাই এবার তার মূখ্য উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে।কাজ শুরু করেন গুলিস্তান নাট্যমঞ্চের পার্কের ভাসমান বাচ্চাদের নিয়ে । যেই সময় টায় তিনি গুলিস্তান পার্কে কাজ শুরু করেন সেই সময়ে তার পাশে কেও ছিলো না । না ছিলো তার পরিবার ,না ছিলো হাতে হাত রেখে কাজ করার মতো বন্ধু।তবুও তিনি তার কাজ বন্ধ করেন নি ,ঝড় কিংবা তুফান ,প্রচণ্ড রোদ বা হাড় কাপানো শীত কোন কিছুই তার বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি।তিনি প্রতিনিয়ত গুলিস্তান পার্কে গিয়ে বাচ্চাদের পড়াতেন ,তাদের খোজখবর নিতেন।প্রতিটা বাচ্চাকে নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি।পরবর্তী সময়ে গড়ব বাংলাদেশের ই এক সদস্য মার্জিয়া প্রভাকে নিয়ে তিনি আবারও নিজের একটি সংগঠন তৈরি করেন যার নাম “আলোকিত আগামী” । তারা দুজনে নিজ হাতে গড়ে তোলেন আলোকিত আগামীকে এবং সকল রকম বাধাকে তুচ্ছ করে সামনে এগিয়ে যান। সেই গুলিস্তান পার্কের বাচ্চাদের জন্যে তৈরি করেন “পথের স্কুল” নামক শিক্ষাক্ষেত্র আলোকিত আগামীর একটা প্রজেক্ট হিসেবে।এছাড়াও আরো অনেক প্রজেক্ট এখনও আলোকিত আগামীর চলমান রয়েছে ।উদাহরণস্বরূপ একটুস খানি কুইজ,ডোনেট এ প্যাড ফর হাইজিন বাংলাদেশ ,প্রজেক্ট কিশোর(নির্মাণাধীন), পথশিশুদের রিহ্যাবিলিটেশন । প্রজেক্টের বাহিরেও বিভিন্ন প্রোগ্রাম আলোকিত আগামীকে সাথে নিয়ে তিনি বাস্তবায়ন করেন।এর মধ্যে উউল্লেখ্যযোগ্য বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ,ফসলের বীজ দান ,বীজ গোলা তৈরি,বিভিন্ন জায়গায় মেডিকেল ক্যাম্পেইন ,শীতবস্ত্র বিতরণ, গরীব এলাকার মাটির স্কুলকে পাকা করে দেওয়া ,গরীব মহিলাদের সাবলম্বী হতে সাহায্য করা ইত্যাদি ।

জীবনের প্রথমদিক থেকেই সাধারণ সুবিধাবঞ্চিত, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষটা একটা পর্যায়ে বেছে নিয়েছিলেন আত্নহননের পথ।কিন্তু যার দিকে তাকিয়ে এতগুলো মানুষের স্বপ্ন তাকে বোধহয় সৃষ্টিকর্তা নিজের কাছে ডাকতে চাননি।

আজও পথের স্কুলেত শ খানেক বাচ্চা মাটি ভাই বলতে পাগল ।তিনি কখনই পরিচিতি চাননি ,কাজের বদলে কোন লাভের আশা করেন নি,শুধু নিরলস ভাবে এইসব মানুষদের জন্যে কাজ করেই যাচ্ছেন ।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সয়াপ্রোটিন প্রজেক্ট লিমিটেডের হিউম্যান রিসোর্স এক্সিকিউটিভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন।নিজের শত ব্যস্ততায় ও ঠিকই সময় বের করে নেন তার দিকে তাকিয়ে থাকা মানুষ গুলোর জন্যে।

তাকে যখন প্রশ্ন করা হয় আপনার লক্ষ্য কি তখন তার উত্তর আসে বেচে থাকা।অনেকটা হচকচিত হয়েই জিজ্ঞাসা করা মানে?তিনি বলেন এই বাচ্চাদের হাসিমুখই আমার বেচে থাকার খোরাক ,আমার সম্পদ ও সম্বল ।

একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমার খুবই আফসোস আমরা এই মানুষদের যোগ্য সম্মান দিতে পারিনা ।তবুও এরা হাসিমুখেই কাজ করে যাবে আজীবন । হৃদয়েত অন্ততঃস্থল থেকে সম্মান জানাই এসব মানুষদের ।

তথ্যসুত্রঃ ডক্টর সাকির ইব্রাহিম

সাক্ষাৎকার গ্রহণঃ মাহমুদুল হাসান

ক্রিকেটার নাসিরের গোপন ভিডিও ফাঁস প্রসংগে

Now Reading
ক্রিকেটার নাসিরের গোপন ভিডিও ফাঁস প্রসংগে

ক্রিকেটার নাসির প্রসংগ

খেয়াল করে দেখলাম, একটা গ্রুপ আছে, যারা বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নামানোর জন্য কোন না কোন ফন্দি করতে থাকে সবসময়। বিশেষ করে নারী ঘটিত কেলেঙ্কারী সাজিয়ে ধান্ধা করা অথবা একটু জনপ্রিয় হওয়া বা লাইম লাইটে আসা।

ফেসবুকে দেখলাম বাংলাদেশের জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে এখন আবারো সেই খেলা চলছে। অতীতে এক খুনী মামলার আসামী যাকে সবাই “শুভা” বলে চিনে, তিনি এখন লাইভে এসে নানা ধরনের কথিত “রেকর্ড”, “গোপন” ভিডিও ফাস করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। আমি চিন্তা করি তাদের আসলে উদ্দেশ্যটা কি? তাও আবার খুনের মামলায় জেল খাটা আসামী।

হ্যা, মানুষ একটি ফেইম পাবার জন্য সবকিছু করে কিন্তু তাই বলে নিজেদের এভাবে বিক্রি করে দিতে হবে? তাও আবার জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে এসব? এসবের মানে তো পুরো বাংলাদেশকে অপমান করা। এরা তো আসলে দেশদ্রোহী।

শুনা কথায় কান দিতে নেই। চিলে কান নিয়ে গেছে বলে আমরা সবাই দৌড়ের উপরে থাকি কিন্তু আসল ঘটনা কখনও জানার চেষ্টা করি না। দয়া করে শোনা কথায় মুখরোচক সব ফেসবুক পোস্ট-লাইভ ভিডিওতে কান দিবেন না। দেশের সম্মানটা বজায় রাখুন।

ক্রিকেটার নাসিরের জন্য আসলেই খারাপ লাগছে কারন কোথাকার কে একটা খুনী মামলার আসামী একটা লাইভে আসল আর দুনিয়ার আজেবাজে কথা বলল অমনি পুরো দেশের অনলাইন সিটিজেন তার উপর ভিত্তি করে নাসিরের ক্যারেক্টার মার্ডার করতে লাগল।

আর সেই খুনী মামলার আসামী – শুভা বা সুবহা বা খাবা কে বলছি – ফেইম সিকার আজকাল সবাই, তবে বুঝে শুনে জায়গা মত ফেইম খুজো। যেকোন কারনে বাংলাদেশকে কেউ অপমান করলে আমরা কখনও চুপ করে থাকি না। কবর থেকে খুজে বের করে এনে সত্যটাকে হাজির করি।

আর সকল অনলাইনে ২ নাম্বার উপায়ে ফেইম খোজার বান্দাদের বলছি, প্লিজ ভাই ও বোনেরা, ফেইম পাবার অনেক উপায় আছে – নিজেকে বিক্রি করে দিয়ে সেই ফেইমের কোন দাম নাই। কেজির দরে কেনা যায় সেই ফেইম আর ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া যায়।

Don’t worry Nasir, we are with you in this and we will make sure nobody can leech on you for Fame.

Cheers.

প্রসংগ চট্টগ্রামের ডাক্তার বনাম সাংবাদিক

Now Reading
প্রসংগ চট্টগ্রামের ডাক্তার বনাম সাংবাদিক

ডাক্তার যখন কসাই, সাংবাদিক যখন সাংঘাতিক…… আম জনতা কি?

আমের দামও কম না!

এবার থাম!

কোন কিছুই জাস্টিফায়েড না। মারামারি কর, কাঁদা ছোড়াছুড়ি কর – সব রোগীকে আরও রোগী বানাও – ব্যাপার না। সবাই একেবারে দেশ উদ্ধার করে ফেলছে।

যখন ডাক্তারদের ধর্মঘট চলছে একজন বা হাজার রোগী তার চিকিতসা অধিকার হারাচ্ছে। রাষ্ট্র তোমাদের ডাক্তারের লাইসেন্স দিয়েছে রোগীদের চিকিতসা করার জন্য, রাজনীতি না।

সাংবাদিকতার লাইসেন্স আছে কিনা জানিনা কারন আজকাল ঘরে ঘরে অনলাইন পত্রিকা চলে। কিন্তু, তাদেরও অধিকার নাই, অন্য হাজারো রোগীর চিকিতসা অধিকার হরন করার।

দোষ যে করেছে তাকে ধর, তাকে জেলে ঢোকাও। আইনের পথে যাও, আইন না থাকলে আইন বানাও সংসদে।

তু তু মে মে করে কিছু আসবে না। কে কি করে উলটে ফেলবে? কেউ ধোয়া তুলসী পাতা না – সুযোগ পেলে সবাই ব্যবসা করে নেয়। শুধু এক একজনের ধরন এক এক রকম।

যত খেলাই খেলো, সাধারন মানুষ এবং যত হাজারো রোগী সাফার করছে, ওদের ক্ষতিপূরন কে দিবে? সাংবাদিক নাকি ধর্মঘটে থাকা ডাক্তার? এটার জবাব দাও আগে।

একজন রোগী ভুল চিকিতসায় মারা গেছে, এরকম আগেও হাজারবার হয়েছে, কোনদিন দেখলাম না সাংবাদিকদের এগিয়ে এসে আন্দোলন করতে উলটো হাসপাতালের পক্ষে গেছে তাদের স্টেটমেন্ট। বুঝলাম এবার শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে এবং চেপে ধরার চেষ্টা চলছে কিন্তু তার মানে এই না যে আরো হাজারো রোগিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিবে পরিস্থিতি খারাপ করে দিয়ে।

আর ডাক্তার যখন কসাই হয়ে যায় তখন রোগীর জীবনের মূল্য কমে যায়। যদি কসাই না হয়ে থাকেন তাহলে এসব সস্তা রাজনীতি ছেড়ে হাসপাতালে ফিরে যান আর রোগীদের সেবা করেন। রাষ্ট্র আপনাদের লাইসেন্স দিয়েছে রোগী বাঁচানোর জন্য, রাজনীতির জন্য না।

এন্ড অফ স্টোরি।

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা….

Now Reading
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা….

প্রবাদে বলা আছে “কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে”

সময়ের সাথে সাথে এই প্রবাদের গ্রহণযোগ্যতাও কমে এসেছে।

আমাদের বাপ দাদাদের আমলে তারা একনিষ্ঠ পড়াশোনা করলে ভালো রেজাল্ট প্রতিদিনকার দিবা রাত্রির মতোই সত্য এবং পরিষ্কারভাবে নসিবে নাযিল হতো। এখন একজন ছাত্রের ভালো রেজাল্টের উপর কেবল তার পরিশ্রম নয়। আরো অনেক কিছুর প্রভাব থাকে।

বিগত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা পরবর্তী সময়ে বেশকিছু ভিডিও ও স্থিরচিত্র ভাইরাল হয়েছে। কোনোটাতে দেখা যায় চলন্ত লোকাল বাসে বসেই পরীক্ষক পাবলিক বোর্ড পরীক্ষার খাতা কাটছেন। কোনোটাতে দেখা যায় পরীক্ষকের ভূমিকায় অপেক্ষাকৃত ছোটক্লাসের কিশোর কিশোরীরা/ছাত্রেরা। আবার অনেক সময় এমনও দেখা গিয়েছে, পরীক্ষক খাতায় কোনো ধরনের ভুল সনাক্ত না করেই চোখ বন্ধ করে খাতার মান নির্ধারণ করেছেন নিজের ইচ্ছেমত।

পরবর্তী শিক্ষাজীবনের অনেকটাই যে বোর্ড পরীক্ষাগুলোর উপর নির্ভর করে সেই পরীক্ষার খাতাগুলোর সঠিক মূল্যায়ন কি আদৌ হয়?

যে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয় তার উত্তর মূল্যায়ন করার ট্রেনিং/ নিয়ম কি সকল পরীক্ষক-নিরীক্ষকদের প্রদান করা হয়েছে?

উত্তরপত্র মূল্যায়নের আগে প্রশ্নপত্রের কথা বলতে হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস বানিজ্যের ব্যাপারে সকলেই এখন কমবেশি অবগত। গত ৫ বছর ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস যেন একটি মহা উত্সবে পরিনত হয়েছে। এমন কোনো পাবলিক পরীক্ষা নেই যেখানে অনিয়ম হয়নি কিংবা প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। এই অনৈতিক কাজ গুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের কতটা ভাবায় তার জ্বলন্ত উদাহরণ ২০১৫ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস পরিবর্তী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। শিক্ষাব্যবস্থা কতটা নড়বড়ে না হলে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামতে পারে তার বিচারের দায়িত্ব পাঠকের উপরেই ন্যস্ত করলাম। আমার তো মনেহয় পৃথিবীতে এমন দ্বিতীয় একটি দেশ কেউ দেখাতে পারবেন না যে দেশের শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হয় নিজেদের পরীক্ষার প্রশ্ন জালিয়াতি রোধ করার দাবি নিয়ে। এটি আমাদের মত জাতির জন্য লজ্জা বৈ কি?

শুধু তা-ই নয়, যে প্রশ্ন বৈধ-অবৈধ উভয়ভাবেই পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায় তার কোয়ালিটি/মান নিয়ে প্রতিবছরই পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনা যায়। পরীক্ষার্থীদের বেকায়দায় ফেলতে আনকমন নয়, বরং কোয়ালিটিহীন প্রশ্নপত্রই যথেষ্ট, যে প্রশ্নের আগামাথা বুঝে উঠার আগেই সময় পক্ষী যেনো ফুরুৎ করে বেরিয়ে যায়।

সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হওয়া উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সারাদেশে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবার কথা থাকলেও তা না করে অনেক বোর্ডে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিলো। আবার এমনও হয়েছে যে, বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে বাংলা ২য় পত্রের প্রশ্ন। অনেক পরীক্ষায় নতুন প্রশ্নপত্র না দিয়ে দেওয়া হয়েছে ২-৩ বছর আগের পরীক্ষার প্রশ্ন। এমন অবস্থায় একজন শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কোন পর্যায়ে যেতে পারে তা সহজে অনুমেয়।

যে প্রশ্ন এবং উত্তরপত্রের সাথেই এত এত প্রশ্ন জুড়ে আছে তার ফলাফল প্রশ্নাতীত থাকার কথাই অচিন্ত্যনীয়। এখন GPA-5 ই ভালো রেজাল্টের সিলমোহর এবং এটা আবার কিনতেও পাওয়া যায়! সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে শহরের বিভিন্ন নামীদামী কলেজের অধ্যক্ষ্যরা লাখ টাকার বিনিময়ে GPA-5 বিক্রির কথা অপকটে স্বীকার করেছেন। কয়েক মাস আগে একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কিভাবে লাখ টাকার বিনিময়ে GPA-5 পাইয়ে দিচ্ছে কিছু স্কুলের শিক্ষরেরা।

মোটকথা পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং মেধা এসব থাকলেও একজন ভালো শিক্ষার্থী এই দূর্নীতি ও অবহেলাপূর্ণ এডুকেশন সিস্টেমের গ্যাড়াকলে পড়ে তার সঠিক মূল্যায়ন পায়না। অপরদিকে কেউ একজন “ফেল করি মাখো তেল” সিস্টেমে চাইলেই একটি GPA-5 বগলদাবা করতে পারে।

এমন মেধার অবমূল্যায়ন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীকেই পড়াশোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করছে। শিক্ষাজীবনের প্রতি বিষিয়ে উঠছে মন এবং জমে উঠছে ক্ষোভ। সর্বশেষ SSC পরীক্ষার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছেলের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিলো, যেখানে ছেলেটিকে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কর্তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে দেখা যায়। কারণ সে সবার থেকে ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরেও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলো, যা সে কোনো অবস্থাতেই মানতে পারছিলো না। তার ওই ভিডিওতে ফুটে উঠা ক্ষোভ-ই প্রমান করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে কতটা ত্রুটিপূর্ণ। আর এই ক্রুটিপূর্ণ সিস্টেমের মাশুল হিসেবে কত মেধাবী শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে তার সঠিক সংখ্যা জানা নেই।

গত সপ্তাহে একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সিরাজগঞ্জের ৬০ বছর বয়স্ক জিল হোসেনের কাহিনী তুলে ধরা হয়। যে জিল হোসেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালীন সব পরীক্ষায় পাশ করলেও তাকে রেজাল্টে ফেইল দেখানো হয়। ফেইল মেনে নিয়ে অসহায় জিল হোসেন আবারও পরীক্ষায় বসে, কিন্তু প্রথম পরীক্ষার দিন-ই কোন কারণ ছাড়া জিল হোসেনকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। আর পরীক্ষায় বসতে পারেনি জিল হোসেন। সারাজীবন অশিক্ষিত সার্টিফিকেট বিহীন একজন মানুষ হিসেবে সমাজের কাছে তিরস্কার আর অবহেলা পেয়ে আসতে হয়েছে জিল হোসেনকে।

আজ জিল হোসেন বৃদ্ধ, কিন্তু নামের পাশে ‘গ্রাজুয়েট’ লাগাতে আজও জিল হোসেন ছুটে যান হাইকোর্টের বারান্দায়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে টানা ৩৬ বছর ধরে মামলা চালিয়ে আসছেন জিল হোসেন। রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মামলা করায় রাষ্ট্র লজ্জিত না হলেও জিল হোসেনেরা ঠিকই লজ্জিত। কারণ স্বাধীন রাষ্ট্রে এমন ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জিল হোসেনেরা কখনোই দেখতে চায় না।

যে শিক্ষার উদ্দেশ্য জীবন আলোকিত করা, আমাদেরই ভুল এবং দূর্নীতির জন্যই ফুলের মতো শিক্ষার্থীদের জীবনে তা হয়ে উঠে নরকসম কালো অধ্যায়। একজন জিল হোসেন-ই তার প্রকৃত উদাহরণ।

শিক্ষা ব্যবস্থা-ই যখন মহাব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত, তখন কস্ট করলে “কেষ্ট” মেলার গ্যারান্টি এই প্রজন্মকে দিবে কে?

রোমান্টিক রম্য উইথ বউ

Now Reading
রোমান্টিক রম্য উইথ বউ

বউয়ের সাথে ব্রেকফাস্ট করলাম মাত্র। সকাল বাজে দশটা, অফ ডে থাকায় আজ দেরিতে উঠেছি ঘুম থেকে। ব্রেকফাস্ট শেষে ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে পত্রিকাটা হাতে নিয়েছি মাত্র আর তখনই বউ বলছে, ‘এই শোনো। এই…, আমার দিকে তাকাও না।’

আমি কিছুটা রাগত ভাব নিয়ে বললাম, ‘আমি বয়রা না বাবা, কান আমার খোলাই আছে। কী বলতে চাও বলে ফেলো।’

‘এমন করো কেন? আচ্ছা, শোনো না, আমি ইদানীং চোখে একটু ঝাপসা দেখছি, বিশেষ করে সমস্যাটা হয় কিছু পড়ার সময়। অনেক কিছুই ভালোভাবে বুঝতে না পারায় পড়তে পারি না। একটা চোখের ডাক্তার দেখানো উচিৎ, চশমা নিতে হবে বোধহয়।’

‘এদিকে আসো, আমার সাথে এদিকে আসো।’ এটা বলতে বলতে আমি বউকে জানালার কাছে নিয়ে গেলাম।

‘এখানে নিয়ে আসলে কেন? কী হয়েছে?’

‘ঐ যে দেখতে পাচ্ছো ওটা কী বলতো?’

‘কেন, সূর্য।’

‘হারামজাদি হাজার মাইল দূরের সূর্যরে দেখে চিনতে পারস আর চোখের সামনে লেখা দেখে চিনতে পারস না?’

‘কী!!! তুমি আমারে হারামজাদি ডাকলা!!! তোমার সাথে কথা বলা বন্ধ!’

‘বাহ! এতো দেখছি মেঘ না চাইতেই জল। এমনিতেই কথা বলতে বলতে অসহ্য, তারমধ্যে নিজেই কথা বলা বাদ দিয়ে দিলে, ভালোই হলো। এবার আরামসে দিনাতিপাত করতে পারবো। খালি খাবো, দাবো আর ঘুমাবো।’

‘তোমার খাওয়াও বন্ধ।’

‘সমস্যা নাই, হোটেল থেকে খেয়ে নিব।’ এই বলে আমি বউকে পাত্তা না দিয়ে আবার পত্রিকা পড়ায় মনোনিবেশ করলাম। বউকে দেখলাম বেডরুমের দিকে চলে গেলো।

এভাবে ঝগড়া দিয়েই আমাদের বেশিরভাগ দিন অতিবাহিত হয়। সবসময় আমি ইচ্ছা করেই ঝগড়া বাধাই। এর পেছনে কারণও আছে। প্রতিটা ঝগড়ার সমাপ্তিই অনেক কিউট আর রোমান্টিকভাবে হয়। এটাই ভালো লাগে আমার। কেমন কিউট আর রোমান্টিক সমাপ্তি হয় তা ঝগড়ার পরের অংশ বললেই বুঝতে পারবেন।

যথারীতি আমি পত্রিকা পড়া শেষ করে টিভি দেখতে লাগলাম। বেলা গড়িয়ে দুপুর হয়ে এলো। এবার উঠে গোসল সেরে বেডরুমে গিয়ে শোলাম। একটু পর দেখলাম বউ রান্নাঘর থেকে আসলো। এসে ফ্যানের নিচে একটু জিরিয়ে বাথরুমে গোসল করতে ঢুকার আগে দেখি আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছে, ‘খাবার ভুলে বেশি রান্না করা হয়ে গেছে। কেউ না খেলে পড়ে থাকতে থাকতে নষ্ট হয়ে যাবে। খাবার নষ্ট করতে না চাইলে খেয়ে ফেলাই ভালো হবে। অবশ্য কেউ যদি অনেক দয়াবান হয় তাহলে বাইরে থেকে কোনো ফকির-মিসকিনকে ঢেকে এনে খাইয়ে দিতে পারবে। যাকগে, সেটা যার যার পারসোনাল ব্যাপার।’

এটা শুনে আমি মনে মনে হাসতে হাসতে বললাম, ‘দেখি কতক্ষণ কথা না বলে থাকতে পারো!’

কিছুক্ষণ পর বউ গোসল সেরে চুল-টুল আচড়িয়ে খাওয়া-দাওয়া না করেই বিছানার অন্য পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লো। আমি অবশ্য জানতাম আমাকে রেখে ও কখনো খাবে না, যেমনটা আমিও ওকে রেখে কখনো খাই না। তো কী আর করার, আমিও চুপচাপ শুয়ে থাকলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি ও বলছে, ‘আমি মার কাছে চলে যাবো আজ বিকালে। কারো আর কোনো কিছুতে অসহ্য হতে হবে না।’

আমি সাথে সাথে প্রতিউত্তর দিয়ে বললাম, ‘ভ্যান নিয়ে এসে দিবো নাকি শুধু রিকসা হলেই চলবে?’

বউ কিছুটা কান্না ও অভিমান জড়িত কণ্ঠে বললো, ‘নিজের ব্যবস্থা আমি নিজেই করে নিব, কাউকে আগ বাড়িয়ে আর সাহায্য করতে হবে না।’

আমি বউকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললাম, ‘যাক বাবা, বাঁচা গেলো। এ বিকেলটা তবে নিরবচ্ছিন্ন ঘুম দিয়ে কাটানো যাবে। আর উঠে দেখবো আপদ বিদেয়। খালি শান্তি আর শান্তি।’

পাশ থেকে বউয়ের গভীর তবে দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ পেলাম। মনে হচ্ছে এবার মারাত্মক রেগে গিয়েছে। আল্লাহই জানে আজ কপালে কী আছে! আসলেই বাপের বাড়ি চলে যায় কিনা কে জানে! তবে আমি তখনো কিছু বললাম না। চুপ করে শুয়েই থাকলাম। ওভাবেই ঘন্টাখানেক পার হয়ে গেলো। হঠাৎ মনে হলো বউ আমার ক্ষিদে সহ্য করতে পারে না। সাথে সাথে আমি আর ঠিক থাকতে পারলাম না। এবার বউকে যে করেই হোক রাগ ভাঙিয়ে খাওয়াতে হবে। আমি পাশ ফিরে ওকে জড়িয়ে ধরতে গেলাম। ওমা! এ যে দেখি পুরাই হাই ভোল্টেজের বিদ্যুৎ! এমন শক দিয়েছে পুরো খাট সহ কেঁপে উঠেছে। বুঝলাম এ রাগ ভাঙাতে আমার বহুত পরিশ্রম করতে হবে। অবশ্য আমার শর্টকাট টেকনিক জানা আছে। কিন্তু সেটা সবসময় প্রয়োগ করি না। বউয়ের রাগ ভাঙাতে যত পরিশ্রম, তত মজা! কিন্তু এখন মজার দিকে তাকালে চলবে না। বউ আমার ক্ষুধায় কষ্ট করবে আর আমি মজা নিব তা হবে না। শর্টকাট টেকনিকই প্রয়োগ করতে হবে। আমি ওকে কয়েকবার টেনে তুলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু লাভ হলো না, পঞ্চান্ন কেজির দেহকে পঞ্চান্ন হাজার কেজি বলে মনে হলো! এরপর বললাম, ‘দেখো, আমার প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে। পেট একদম জ্বলে যাচ্ছে। আর এক মুহূর্তও থাকতে পারছি না। প্লিজ ওঠো লক্ষ্মী বউ আমার।’

‘থাকতে বলেছে কে? খাবার সব রেডি করে টেবিলে রাখাই আছে, যেয়ে খেয়ে নেন। আর ক্ষুদা লাগলে যে অসহ্য হারামজাদি বউও লক্ষ্মী বউ হয়ে যায় আজ প্রথম শুনলাম।’

‘ও বউ, তুমি রাগ করছো কেন? ওইটাতো তোমাকে ক্ষেপানোর জন্য বলছি। এবার একটু রাগটা ভাঙো না। আর তুমিতো জানই তোমাকে রেখে আমি এক লোকমাও খাবো না। প্লিজ বাবা, এবার ঊঠোনা। আর পারছি না থাকতে। বিশ্বাস করো খুব কষ্ট হচ্ছে।’

এটা বলে ভাবছি যে বউ আর শুয়ে থাকবে না, এবার উঠে আমার সাথে খাবে। কিন্তু এরপর দেখি ও বলতে শুরু করলো, ‘ক্ষুদার কারণে আপনার আবার কবে থেকে কষ্ট হতে শুরু করলো? অফিসে মাঝে মাঝেতো সারাদিন না খেয়ে থেকে অভ্যাস করছেনই। আজতো হঠাৎ কষ্ট হওয়ার কথা না। এটা কি ক্ষুদার কষ্ট নাকি অন্য কিছু?’

‘ক্ষুদার কষ্ট, তোমার ক্ষুদার কষ্ট।’

এই বলে আমি বউকে আবার তোলার জন্য টান দিলাম। বউ সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমিও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। এরপর কানে কানে বললাম, ‘দাও, সব ক্ষুদা বাড়িয়ে দাও। আজ তোমাকেও খাবো।’

এটা শুনে বউ আদর মিশ্রিত সুরেলা কণ্ঠে বললো, ‘খেও। এখন আগে চলো ভাত খেয়ে আসি।’

ফেসবুকে লেখক: Rihanoor Protik

 

পারফিউমঃ একজন খুনির গল্প

Now Reading
পারফিউমঃ একজন খুনির গল্প

কখনও কখনও সিনেমা আমাদেরকে আবেগতাড়িত করে। কখনও বা ভাবিয়ে তোলে নিজেদের সমাজ কিংবা পর্দার রহস্যময় চরিত্রগুলো সম্পর্কে।

তেমনই এক সিনেমার নাম “Perfume: The Story of a Murderer” টম টাইকার পরিচালিত প্রখর ইন্দ্রিয় অনুভূতির গল্প নিয়ে বানানো এই মুভিটির মূলভিত্তি ১৯৮৫ সালে পাবলিশ হওয়া প্যাট্রিক সাসকিন্ড এর বিখ্যাত জার্মান উপন্যাস Das Parfum; যা এ পর্যন্ত ৪৯ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

সিরিয়াল কিলারদের গল্প কিংবা সিনেমা সবসময়ই আলাদা একটা উত্তেজনা সৃষ্টি করে পাঠক অথবা দর্শকদের মাঝে। কিন্তু পারফিউম মুভিটি একটু অন্যরকম সিরিয়াল কিলারের গল্প।

1st.jpg

সিনেমার উপর এক নজরঃ

জন ব্যাপিস্ট গ্র্যানুইলি নামের এক অতিমানবীয় ঘ্রাণশক্তি সম্পন্ন যুবককে নিয়েই পুরোটা সিনেমা আবর্তিত হয়। প্রেক্ষাপট হিসেবে প্যাট্রিক সাসকিন্ড এর মূল উপন্যাস অনুসারে, ১৭৩৮ এর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জন্ম নেয় এক বিরল ক্ষমতাসম্পন্ন শিশু। তখনকার প্যারিস আর এখনকার প্যারিসের মধ্যে ছিল আকাশ-পাতাল তফাৎ। নোংরা-আবর্জনায় ভরপুর ছিল পারফিউম এর এই নগরী!

শিশুটি এই দুর্গন্ধময় নগরীতে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে বেড়ে ওঠে তার সেই শক্তি। সেরা এবং সুন্দর সব ঘ্রাণ তার নাকে ধরা পড়ে যেত সহজেই। বহু দূর থেকেও সে খুঁজে বের করে ফেলতো ঘ্রাণের উৎস। ঘটনাক্রমে গ্র্যানুইলি, শহরে মাল ডেলিভারির সুযোগ পেল। তাও আবার পারফিউমেরই এক দোকানে! সিনেমার শুরুটা মূলত এখান থেকেই।

3rdjpg.jpg

ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ এবং অমানুষও করে তোলে। পারফিউম এর এই গল্পটি তার অনন্য এক উদাহরণ।

সব ঘ্রাণকে আলাদা আলাদা করে অনুভব করার ক্ষমতাসম্পন্ন গ্র্যানুইলি শহরে এসে সুন্দরী এক তরুণীর হাতে থাকা তাজা ফলের ঘ্রাণের পিছু নেয়। বিধাবাম! তার অতিমানবীয় ইন্দ্রিয়শক্তি মস্তিষ্কে আরো উৎকৃষ্ট কিছুর খবর জানিয়ে দেয়! গ্র্যানুইলি করে ফেলে তার প্রথম ভুল!

আর ভুল থেকেই শুরু হয় তার অসীম সেই শক্তির প্রতি অনুভব আর ভয়ংকর এক আকর্ষণ!

 

ব্যবচ্ছেদ ও সমালোচনাঃ

সিনেমার গল্প বলার ভঙ্গি অসাধারণ। দর্শকদের আঠার মত লাগিয়ে রাখার জন্য চেষ্টার ত্রুটি করেননি পরিচালক। তাই উপন্যাসের সাথে হুবহু মিল না থাকলেও সিনেমাটি দর্শকদের কাছে উপভোগ্য হয়েছে। ১৫টি এওয়ার্ড ঝুলিতে পুরে নেয়া মুভিটি পেয়েছে এ পর্যন্ত ১৮টি নমিনেশন।

মূল চরিত্রে অভিনয় করা Ben Whishaw তার অসামান্য অভিনয় দক্ষতা দিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য করেছেন পুরো মুভিতে। স্বাভাবিক! কারণ এ তো “এক নায়কেরই গল্প!” এছাড়াও ৮ টি বিভিন্ন এওয়ার্ড ও ১৫ টি নমিনেশন পাওয়া এই ইংলিশ অভিনেতা জেমস বন্ড সিরিজের “Q” চরিত্রেও এসেছিলেন দর্শকদের সামনে।

 

সমালোচকদের চোখে “পারফিউম”-

IMDB তে ক্রাইম, ড্রামা, ফ্যান্টাসি Genre এ থাকা এই সিনেমা  201,276 মানুষের রেটিং পেয়েছে; যার গড় ৭.৫।

ওদিকে Rotten Tomatoes এ ৫৮% ভোট পেয়েছে। যার মধ্যে ৫৩ জন ক্রিটিক সমালোচনা করেছেন মুভিটির। ওদিকে দর্শকদের ৭২% ভোট বলে অন্যকথা! ক্রিটিকদের কঠোর সমালোচনার পরেও দর্শকদের ভালোভাবেই যেন টানতে পেরেছে এই অতিমানবীয় সিরিয়াল কিলার!

 

 

১৩টি খুন এবং শ্রেষ্ঠ সুগন্ধিঃ

পাঠকদের আকৃষ্ট করতে সিনেমার একটু ভিতরে যাওয়া যাক। গ্র্যানুইলি প্রথম শিক্ষা লাভ করে বালদিনি নামে এক পারফিউম প্রস্তুতকারক এর কাছে। প্রতিদন্দ্বীদের সেরা পারফিউম এর রহস্য উদঘাটন করতে হিমশিম খাওয়া বালদিনির কাছে যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে গ্র্যানুইলি!

ধীরে ধীরে বালদিনির সব জটিল সমস্যার সমাধান দেয়ার মাধ্যমে প্রিয় হয়ে ওঠে সে। সেই সাথে শিখে নেয় পারফিউম তৈরির প্রাথমিক সব বিষয় এবং কোনো বস্তু থেকে ঘ্রাণ আলাদা করার পদ্ধতি।

নানারকম ছোটখাট টুইস্ট এর মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া সিনেমার একপর্যায়ে ক্ষমতা কিংবা প্রতিভার অতিরিক্ত প্রভাবে গ্র্যানুইলির ভেতর এক নিষিদ্ধ নেশা চেপে বসে।

2nd.jpg

শহরে আসা প্রথম ভুলের মাধ্যমে সে খুঁজে পায় নারীদেহের ঘ্রাণ। তার নাকে ধরা পড়া শ্রেষ্ঠ ঘ্রাণ! সে চেষ্টা চালায় সেসব ঘ্রাণ সংগ্রহে। একে একে সফল হতে থাকা গ্র্যানুইলির কাজে প্রচুর বাঁধা বিপত্তি আসে।

তারপরেও অতিমানবীয় ক্ষমতা আর নিষিদ্ধের প্রতি প্রবল আকর্ষণ তাকে অন্ধ এবং মনুষ্যত্বহীন বানিয়ে দেয়। ঈশ্বর প্রদত্ত শক্তি থাকা সত্ত্বেও গ্র্যানুইলি তা ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারেনা। ধীরে ধীরে সে পরিণত হয় একজন সিরিয়াল কিলারে।

4.jpg

পাপ বাপকেও ছাড়েনা। গ্র্যানুইলিও এক পর্যায়ে ধরা পড়ে যায়। কিন্তু তার আগেই সে তার জীবনের লক্ষ্য; যার জন্য সে সব বিসর্জন দিলো, সেটা সে পূরণ করে নেয়। নিজেকে পরিণত করে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুগন্ধী প্রস্তুতকারক। তৈরি করে দুনিয়ার সেরা সুগন্ধী। যাতে মিশে আছে ১৩ টি নারীদেহের নির্যাস!

 

শেষকথাঃ

Perfume: The Story of a Murderer একটি অন্য ধাঁচের সিনেমা। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, ক্রাইম থ্রিলার কিংবা ফ্যান্টাসি মুভি, যাই বলি না কেন; যেকোনো সিনেমাই আমাদেরকে বিনোদিত করার পাশাপাশি সুক্ষ্ম কোনো মেসেজ দেয়।

সেই মেসেজটা কি? সেটা একেকজনের কাছে একেক রকম হতেই পারে। আমার কাছে অবশ্যই “পারফিউম” একজন খুনির গল্প। সেইসাথে এটা এক অতিমানবীয় ক্ষমতার অভিশাপের গল্প। ক্ষমতা সবসময় আশীর্বাদ হয়ে আসেনা অথবা আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারিনা।

যে ক্ষমতা আমাদের প্রেম-ভালোবাসা,কামনা-বাসনা,আশা-আকাঙ্খা কিংবা মনুষ্যত্বকে বিলীন করে দেয়, সে ক্ষমতা কখনই আমাদের কাম্য নয়!

সবশেষে কথা না বাড়িয়ে ছোট করে বলতে হয় একটা কথাই, ভালো সিনেমা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।

আর “Perfume: The Story of a Murderer” এর শেষ দৃশ্যে আপনার জন্য রাখা হয়েছে চমৎকার এক টুইস্ট! এখনো না দেখে থাকলে দেখে নিতে পারেন ইউটিউব ঘেঁটে। আশাকরি উপভোগ্য হবে আপনার সময়টা।

 

সতর্কতাঃ

R-rated (Restricted) হওয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা পরিবারের সাথে সিনেমাটি দেখার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ থাকলো।

 

ছবিসূত্রঃ IMDB,Google

SARAHAH vs ASKfm: অঘোষিত এক যুদ্ধ

Now Reading
SARAHAH vs ASKfm: অঘোষিত এক যুদ্ধ

পেছনের গল্পঃ

বছরখানেক আগে সৌদি আরবের কোনো এক ওয়েব ডেভেলপার অনুভব করলো, কর্পোরেট দুনিয়ায় যোগাযোগ কিংবা ফিডব্যাক জানানোর জন্য ভালো একটা মাধ্যম দরকার। তার বিশ্বাস; ছদ্মবেশ বা বেনামেই সর্বোচ্চ সততার প্রকাশ ঘটতে পারে। অফিসের বসের সামনে দাঁড়িয়ে কর্মচারী যা বলতে পারে না, তা সে আড়ালে থেকে সহজেই বলতে পারবে।

এই বিশ্বাসকে পুঁজি করে সে দাঁড় করিয়ে ফেলে Sarahah নামে দারুন এক ওয়েবসাইট! Sarahah একটি আরবি শব্দ; যার অর্থ -“সততা/অকপটতা”।

sarahah এর চিত্র ফলাফল

প্রথমত এটি ছিলো একটি এ্যারাবিক ওয়েবসাইট। এ্যারাবিয়ান দেশগুলোতে মোটামুটি জনপ্রিয়তার পর, ডেভেলপার জাইন আল-আবিদিন তাওফিক সিদ্ধান্ত নেন এর ইংলিশ ভার্সন বের করার। তারই সূত্র ধরে গতমাসে অ্যাপল এর অ্যাপ স্টোরে মুক্তি পায় “Sarahah” অ্যাপটি।

টিনএজারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অ্যাপটি খুব অল্প সময়েই সেরা ডাউনলোড এর তালিকায় চলে আসে। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এন্ড্রয়েড ইউজারদের জন্য প্লে স্টোরেও এটি মুক্তি পায়। বর্তমানে ১মিলিয়ন ডাউনলোড থাকলেও এর রেটিং খুবই কম। প্রথম দিকে ৩.৩ থাকলেও গতকাল রাতে ৩.১ থেকে আরো নিচে নেমে বর্তমানে এটি ৩.০ রেটিং নিয়ে অবস্থান করছে গুগল প্লে স্টোরে। যার মধ্যে ৫ স্টার ৪,৮০০ এবং ১ স্টার ৪,৩৫০!! অপরদিকে অ্যাপল এর অ্যাপ স্টোরে ২.১ নিয়েও এটা ছিল টপ ডাউনলোডেড অ্যাপ! বুঝতেই পারছেন নতুন ট্রেন্ড নিয়ে প্রচুর অভিযোগ আছে আমজনতার।

IMG_20170730_000930.png

বর্তমানে Sarahah জ্বরে ভুগছে সমগ্র ফেসবুকবাসী। ভাইরাল হয়ে যাওয়া এই প্লার্টফর্মের আইডিয়া যদিও নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমরা বরাবরই স্রোতে গা ভাসাতে পছন্দ করি। নতুন কোনো ট্রেন্ড, ইস্যু খুঁজে না পেলে আমাদের কী-বোর্ডে যেন ধুলো পড়ে যায়!

এই ধরনের পরিচয় গোপন রেখে প্রশ্ন কিংবা প্রতিক্রিয়া জানানোর প্লার্টফর্ম আছে আরো অনেক। যেমন: Yik Yak, Secret’s out, After School, ASKfm ইত্যাদি।

এরমধ্যে Ask.fm সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় একটি নাম। ২০১০ সালে লঞ্চ হওয়া এই অ্যাপটি ৫০ মিলিয়ন ডাউনলোড এবং ৪.১ রেটিং নিয়ে প্লে স্টোরে অবস্থান করছে।

Old Is Gold:

সময়টা বেশি দিন আগের না। আস্ক এফএম এর ট্রেন্ড চলেছে বহুদিন। তখনকার সময়ে সেখানে একাউন্ট না থাকা মানে যেন ইজ্জত ফালুদা হয়ে যাওয়া। আর সেলেব্রিটিদের কাছে এ যেন এক পরম আরাধ্য প্লার্টফর্ম! তাদের প্রতি ভক্তদের সিদ্ধ-নিষিদ্ধ সব আবেদন-আকুলতা কিংবা প্রশ্ন সবই প্রকাশ হতো এখানে খুব দারুনভাবে!

হঠাৎ করে কি যেন হলো আমাদের! ২০১২ তে নতুন এক গ্রামের খোঁজ পেয়ে আস্ক এফএম ছেড়ে সবাই চলে গেল সেই ইন্সট্রাগ্রামে! ইউজারদের অবহেলায় ভাইরাল হওয়া এই প্লার্টফর্মটি লিংক আকারে পড়ে রইলো যার যার প্রোফাইলে।

কিন্তু হুট করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে উদয় হওয়া Sarahah এর জন্য ASKfm যেন পুনর্জীবন লাভ করছে! এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে অঘোষিত এক যুদ্ধ!

“#say_no_to_sararah #ask_fm_trend_back” হ্যাশট্যাগও দেখা যাচ্ছে কিছু প্রোফাইলে। মূলত কিছু প্রবীন ইউজাররাই আস্ক এফএম এর ট্রেন্ডকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন। কিন্তু কেন তারা “Say no to sarahah” বলছেন? চলুন দেখে আসি এক নজরে।

ASKfm VS Sarahah

১। দুটি অ্যাপ এর মধ্যে প্রথম এবং প্রধান পার্থক্য হচ্ছে এর ভিত্তি। আস্ক এফএম তাদের সিস্টেমে একইসাথে প্রশ্ন এবং উত্তর দেয়ার মত সুবিধা রেখেছে। এছাড়াও পরিচয় গোপন কিংবা প্রকাশ করেও আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন।

IMG_20170730_152219.png

ওদিকে Sarahah তাদের সিস্টেম বানিয়েছে “ফিডব্যাক বেইজ” করে। প্রশ্ন করেন আর প্রতিক্রিয়া জানান, অ্যাপ এর মাধ্যমে সেটার উত্তর আপনি দিতে পারবেন না। অন্য কোনো মিডিয়ায় প্রশ্ন শেয়ার করে উত্তর জানাতে হবে।

২। ASKfm এর ইউজার ইন্টারফেস ছিল বেশ দারুন। থিম পরিবর্তন করা সহ বেশ কাস্টমাইজড এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি ছিল এর অ্যাপ এবং ওয়েবপেজ।

অপরদিকে Sarahah খুব লাইট হলেও এর UI মোটেও তেমন আকর্ষণীয় কিংবা কাস্টমাইজড না।

IMG_20170730_152239.png

এসব মেজর দিকগুলো এছাড়াও প্রোফাইলে তেমন কিছু যোগ করার সুবিধা না দেয়ায় Sarahah অনেকের কাছেই ১ স্টার এর জন্য যোগ্য হয়ে উঠেছে।

তবে সবকিছুর পরেও ডেভেলপার জাইন আল-আবিদিন তাওফিক এর ছোট পরিসরের আইডিয়াটি সাধুবাদ জানানোর মত। তিনি “সততা”কে স্লোগান হিসেবে নিয়েছেন যা অনেকেই পছন্দ করছেন। বিবিসি রিপোর্ট অনুযায়ী ইতোমধ্যেই মিশরে ২.৫ মিলিয়ন ,তিউনিসিয়ায় ১.৭ মিলিয়ন এবং সৌদিআরবে ১.২ মিলিয়ন অ্যাপ ইউজার আছেন।

সর্বসাকুল্যে ১০ মিলিয়ন ধরলেও সংখ্যাটা একেবারে কম না। অল্প সময়েই Sarahah অনেককে টানতে পেরেছে। স্ন্যাপচ্যাট, টুইটারসহ সবখানেই এর সংযুক্তি খুব বেশি হারে বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে ভাইরাল হতে কোনো বেগ পেতে হচ্ছেনা Sarahah কে!

তবে অনেক অনেক সমস্যায় জর্জরিত অ্যাপটির একটি মজার দিক খেয়াল করলাম। অ্যাপটি যখন কোনো সার্ভিস দিতে অপারগ হয় তখন স্ক্রিনে দারুন একটি মেসেজ আসে!

Screenshot_2017-07-30-01-33-33-743_com.sarahah.android.png

Sorry

Our servers are overloaded by honest people!

We’re working hard to improve your experience.

 Try Again”

 

দারুন বললাম কারন, নিজেকে সৎ ভাবতে কার না ভালো লাগে!

সবমিলিয়ে দেখা যাচ্ছে ৭ বছরে ১৬০ মিলিয়ন ইউজার বানানো বুড়ো ASKfm এর সাথে তারুণ্যে ভরপুর Sarahah এর মোটামুটি একটা জম্পেশ লড়াই হবে। এই লড়াই সমানে সমান করতে হলে নির্মাতা জাইন আল-আবিদিন তাওফিককে আরো শ্রম দিতে হবে তার সৃষ্টির পেছনে। ধারণা করা হচ্ছে,  সময়ের সাথে সাথে নতুন ফিচার যুক্ত হলে অচিরেই এটি ফেসবুক, মেসেঞ্জার এবং স্ন্যাপচ্যাট এর আশেপাশে চলে আসবে। ততদিন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষায় থাকলাম নতুন কোনো ইস্যুর…!

তথ্যসূত্রঃ , ,

শাকিব খানের সুপারস্টার বন্দনা- মিথ?

Now Reading
শাকিব খানের সুপারস্টার বন্দনা- মিথ?

আপনাকে যদি একজন শাকিব খানের ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে দুই মিনিট ভাবতে বলা হয়, তাহলে আপনার মনে শাকিবের কী কী ব্যাপার সবার আগে আসবে? আসুন আমার মনের ভাবনার সাথে আপনার ভাবনা মিলিয়ে নেই-

১। ঠোঁটে লিপস্টিক

২। ক্লিন শেভড চকোলেট বয় লুক

৩। হাসি পাওয়ার মত কিছু নাচের স্টেপ

৪। শিকারি তে অন্য এক শাকিব

৫। অপু বিশ্বাসের সাথে প্রতারণা

 

দুই মিনিটে আমার মোটামুটি উপরের এই কয়টা বিষয়ই মাথায় আসলো। ওহ, আরেকটা ব্যাপার এসেছিল। সেটা হলো, নিজেই নিজেকে সুপারস্টার বলা। সেটা নিয়েই মূলত আজকের এই লেখা।

বাংলাদেশের সিনেমা জগত নিয়ে যদি কথা বলতে হয়, তাহলে রাজ্জাক আলমগীরদের যুগ পার হয়ে গেছে অনেক আগে। কিন্তু আমরা যারা তরুণ, তারা তাঁদের কিছু কিছু ছবি দেখেছি। এবং ভালও বলেছি। তখন হয়তো ধুম ধাম অ্যাকশন ছিল না, কিন্তু সিনেমার গুলোর গল্প ছিল, দারুণ অভিনয় শৈলী ছিল। এরপরে এল সালমান শাহ। যাকে এক কথায় বাংলাদেশের সিনেমা জগতের সুপার স্টার বলে দেয়া যায়। যেমন ফ্যাশন সচেতন ছিলেন, তেমনি ছিলেন দারুণ অভিনেতা। সেই সালমান শাহ ক্যামেরার সামনে নিজেকে কতবার সুপারস্টার বলেছে, সেই হিসেব আমার আসলে জানা নেই। তবে ধারণা করতে পারি, একবারও বলেননি।

সেখানে আমাদের বর্তমান সময়ের সব থেকে আলোচিত নায়ক শাকিব খান? প্রতি দশটি বাক্যে নিয়ম করে, নয়বার নিজেকে সুপারস্টার বলে দাবী করেন। মনে আছে বছর তিনেক আগে যখন শাকিবকে নিয়ে অনেক বেশী সমালোচনা হচ্ছিলো, তখন সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন। এবার থেকে তিনি আর অতিরিক্ত ছবি করবেন না। বেছে বেছে ভাল মানের কাজ গুলো করবেন। আর সেই সংখ্যাটা হবে, বছরে মাত্র দশটি ছবি।

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছে, ‘মাত্র’ দশটি।

শাকিব যেবার প্রথম মেরিল প্রথম আলোর সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতা পুরষ্কার পেল, তখন আমার বাবা হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানো ছেলেটাকে অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে পুরষ্কার দিলে কিন্তু খারাপ হতো না।

আচ্ছা এই যে শাকিব খান কথায় কথায় নিজেকে সুপারস্টার হিসেবে দাবী করেন, ঠোঁটে অযথাই লাল রঙ লাগান, অদ্ভুত সব নাচের স্টেপ তোলেন ক্যামেরার সামনে- এর পেছনে কী পুরো দায়টা শাকিবের একার? নাকি একজন শাকিব তৈরি করার পেছনে যারা যারা থাকেন, প্রত্যেকের দায় রয়েছে?

এটার উত্তর পেতে হলে শাকিবের যৌথ প্রযোজনার ছবি গুলো দেখতে হবে। শিকারি আর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা নবাব। ঠোঁটে লাল রঙ মেখেই শাকিব অনেক ব্যবসায় সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন কিন্তু আমার কাছে মনে হয় শিকারি শাকিবের ক্যারিয়ার সেরা ছবি।

একদম চকলেট ক্লিন শেভ করা ছেলেটির শিকারিতে লুক দেখেছিলেন? একদম সত্যিকারের একজন সুপারস্টার লাগছিল ওকে। সত্যি করে একটা কথা বলেন তো, যে মানুষটাকে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে এত বেশী ট্রল করি, রিকশাওয়ালার নায়ক বলি, সেই মানুষটার কি চেহারা আসলেই খারাপ?

 

একদম ড্যাশিং সুপারস্টার হওয়ার মত যোগ্যতা কি ওর নেই? আছে। যদি নাই থাকত, তাহলে শিকারিতে দুই বাংলা কাঁপানো জিৎ আর দেব এর চাইতেও এগ্রেসিভ লুকিং লাগত না।

আসলে কী বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতিটাই তো এখন এমন হয়ে গেছে। মাত্র কয়েক হাজার মানুষ চিনলে সেই নিজেকে সুপার স্টার ভাবতে শুরু করে। শাকিব যদি বাংলাদেশের সেরা নায়ক না হয়, তাহয় কাকে আপনি সেরা হিসেবে বেছে নিবেন?

-আরেফিন শুভ?

হুম, শুভর ফিটনেস নায়ক হিসেবে পারফেক্ট। কিন্তু অভিনয় আর ন্যাকামো যে এক না সেটা শুভর বুঝতে বুঝতে আরও কিছুটা সময় লেগে যাবে। তবে হ্যাঁ, এটা সত্যি শুভই হতে চলেছে বাংলাদেশের শাকিবের পরে সত্যিকারের সুপারস্টার।

সে যাকগে, যেজন্য শাকিবের সুপারস্টার বন্দনা নিয়ে লিখতে বসলাম সেটা বলে শেষ করি। একজন পরিচালকের কাজ হচ্ছে, তার আর্টিস্টের ড্রেস আপ থেকে শুরু করে মেক আপ পর্যন্ত দেখভাল করা। আপনার নিশ্চয়ই জানেন, একজন অভিনেতা কেবল টাকার বিনিময়ে শিডিউল বিক্রি করেন। আর বাকিটা সাজানো গোছানো যা কিছু দরকার, সেটা পরিচালক করে থাকেন।

অর্থাৎ, আমাদের বাংলাদেশের একক প্রযোজনার ছবি গুলোতে এ যাবত কাল আমরা যে শাকিব কে দেখে এসেছি, সেই শাকিবের পেছনে শাকিব কিন্তু একা দায়ী নয়। এর পেছনে সিনেমা সংশ্লিষ্ট সবাই দায়ী। তবে হ্যাঁ, শাকিবের দোষ ধরতে গেলে বলতে হবে, ওর নিজেরও বোঝা উচিত, ওকে কোনটায় ভাল লাগবে।

আর আসলেই শাকিব খান সুপারস্টার কিনা, সেটা নিয়ে কথা বলার আগে দুটো ব্যাপার সবার আগে চলে আসে। বাংলাদেশের শাকিবকে যদি আপনি তুলনা করেন, তাহলে ওকে সুপারস্টার মেনে নিতে আপনার কিছু ইগোতে লাগারই কথা। কিন্তু দুই দেশের শাকিবকে যদি আপনি তুলনা করেন তাহলে কিন্তু ওকে আর সুপারস্টার মানতে আপনার খারাপ লাগবে না। কেননা সুপারস্টারদের লুক এমনই হয়। যেটা নবাব অথবা শিকারিতে ছিল।

আর নিজেকে নিজেই সুপারস্টার বলার ব্যাপারটা যদি মাথায় আনতে চান, তাহলে আরও একবার মনে করিয়ে দেই, সুপারস্টাররা কিছুটা পাগল কিসিমের হয়। সেটা অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে হলিউডের টম ক্রুজ, অথবা আমাদের দেশের টম ক্রুজ- বেফাঁস মন্তব্যের সুপারস্টার কিন্তু সবাই! আর সেখানে আমাদের শাকিব খানের দোষ তাহলে কোথায়?

মানুন অথবা নাই মানুন, শাকিব খান… সাকিব আল হাসানের মতই একজন সুপারস্টার।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি

Now Reading
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগে অবস্থিত অন্যতম একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের ৩৩ তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এটি ২০১১সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অবস্থান : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মূল ক্যাম্পাস বরিশাল বিভাগের কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরে কর্ণকাঠিতে অবস্থিত।

250px-Academic_Buildings_of_the_University_of_Barisal.jpg
ইতিহাস : ১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশ স্বাধীনতার আগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা তৈরি হয়। ১৯৭৩ সালে একটি শহর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষনা করেন, বরিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন যা আকাঙ্ক্ষিত ছিল তার। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বরিশাল সার্কিট হাউস মধ্যে একটি সমাবেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। তিন দশক পরে বরিশাল মানুষের শক্তিশালী চাহিদা থেকে নভেম্বর ২৯, ২০০৮ ECNEC (Executive Committee of National Economic Council) এই প্রস্তাব পাশ করে, তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার দ্বারা। ২২ নভেম্বর, ২০১১, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণ শুরু করেন। বরিশাল জিলা স্কুল অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ২৫ জানুয়ারী, ২০১২ সালে বেলা পৌনে ১১টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। মুল ক্যাম্পাস ২০১৩ সালে কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরে সদর উপজেলার কর্ণকাঠিতে নির্ধারিত হয়। কীর্তনখোলা নদীর তীরে কর্ণকাঠি এলাকায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস যেখানে সকল বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

450px-Barisal_University_Campus,_Bangladesh.jpg
ধরন : সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত : ২০১১
আচার্য : রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্য : প্রফেসর ডঃ এস এম ইমামুল হক
অবস্থান : বরিশাল, বাংলাদেশ
শিক্ষাঙ্গন : উপশহর, ৫০ একর
সংক্ষিপ্ত নাম : ববি / BU
অধিভুক্তি : বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট : www.barisaluniv.edu.bd
অনুষদ ও বিভাগ সমূহ : ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের জন্য ক্লাস শুরু হয় ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারী; ছয়টি বিষয় নিয়েঃ ১. ব্যবস্থাপনা ২. বিপনন ৩. ইংরেজি ৪. অর্থনীতি ৫. সমাজবিজ্ঞান ৬. গণিত
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬টি অনুষদের অধীনে ২০টি বিভাগ রয়েছে।

১. জীববিজ্ঞান ও কৃষি অনুষদ :
=> সয়েল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৮০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> বোটানি এন্ড ক্রপ সায়েন্স বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৮০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> কোস্টাল স্টাডিজ এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আসন সংখ্যাঃ ২০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি সম্মান)
২. বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ : => গণিত বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৮০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৫০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> রসায়ন বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৮০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৮০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> জিওলজি এন্ড মাইনিং বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৬০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)।
৩. কলা এবং মানবিক অনুষদ : => বাংলা বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এ. সম্মান)
=> ইংরেজি বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এ. সম্মান)
=> দর্শন বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ২০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এ সম্মান)
৪. সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ : => অর্থনীতি বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এস.এস সম্মান),
=> লোক প্রশাসন বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এস.এস সম্মান)
=> রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এস.এস সম্মান)
=> সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এস.এস সম্মান)
৫. ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ : => ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭৫ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.বি.এ. সম্মান)
=> মার্কেটিং বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭৫ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.বি.এ. সম্মান)
=> ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭৫ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.বি.এ. সম্মান)
=> একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭৫ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.বি.এ. সম্মান)
আইন অনুষদ : => আইন বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ এল.এল.বি. সম্মান)

250px-Barisal_University_Campus_at_night.jpg
শহরের পাশে কীর্তনখোলা নদীর তীরে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস অবস্থিত। বর্তমানে ক্যাম্পাসটির আয়তন ৫০ একর। ভবিষ্যতে এ আয়তন আরো বর্ধিত হবে। এখানে সকল বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম চলে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি দপদপিয়া ব্রীজ নামের দুটি দীর্ঘ ধনুকের মত বাঁকা ব্রীজের অভ্যন্তরে অবস্থিত। দুটি ব্রীজেরই প্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মিশেছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।250px-Barisal_University_Double-decker_bus.jpg

এই ক্যাম্পাসটিতে দুইটি ছাত্র হল, একটি ছাত্রী হল ( নতুন একটি নির্মাণাধীন) , একটি ক্যাফেটেরিয়া ভবন, একটি লাইব্রেরি ভবন, দুইটি ডরমিটরি, দুইটি একাডেমিক ভবন এবং দুইটি প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। এছাড়াও ভিসির বাসভবনসহ রয়েছে কয়েকটি লেক।
‌ছাত্র হল সম্পাদনা : ১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
২. শেরে বাংলা হল

250px-Bangobondhu_Hall,_Barisal_University.jpg
‌ছাত্রী হল সম্পাদনা : ১. শেখ হাসিনা হল [নতুন একটি নির্মাণাধীন ভবনের নাম দেওয়া হয়নি] 250px-Barisal_University_Sheikh_Hasina_Hall.jpg
পরিবহন সম্পাদনা : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে ২টি মাইক্রোবাস এবং একটি এয়ার কন্ডিশন্ড বাস।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রয়েছে ৪টি দোতলা বাসসহ রয়েছে মোট ১১টি বাস।250px-Barisal_University_Students_Buses.jpg
রাজনৈতিক সম্পাদনা : ১. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
২. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
স্বেচ্ছাসেবী সম্পাদনা : ১. ৭১ এর চেতনা ২.বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা ৩. বাঁধন ৪. হিউম্যান শেড ৫. বরিশাল ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব
বিজ্ঞান সম্পাদনা : ১. বরিশাল ইউনিভার্সিটি ২. ন্যাচারাল স্টাডি ক্লাব ৩. স্পার্কল সায়েন্স ক্লাব ৪. বরিশাল ইউনিভার্সিটি আইটি ক্লাব ৫. জেমস হাটন সায়েন্স ক্লাব

IMG_20170603_143734.jpg
সাংস্কৃতিক সম্পাদনা : ১. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মুভি ক্লাব ২. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় টুরিস্ট ক্লাব ৩. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি