অতিথি কাহন

Now Reading
অতিথি কাহন

 গতকাল একজন গেস্ট এসেছিলেন খুবই ভাললাগল।মন ভরে গল্প করলাম,চা নাস্তা খেলাম একসাথে।বিকেলটা খুব উপভোগ করেছি।বাড়িতে মেহমান আসলে সময়টা দারুন ভাল যায়।আমার কারও বাসায় বেড়াতে যাওয়ার চাইতে আমার বাসায় আসলে দ্বিগুন খুশি হই।

কিন্তু একটা জিনিস অস্বস্তিকর লাগে হয়ত অনেকের মতবিরোধ থাকতে পারে,সেটা হল হুট করে না জানিয়ে কারও বাসায় চলে আসা।ঘরে অনেক সময় অনেক রকম সমস্যা থাকে যেমন ওইদিন হয়ত সিটিংরোমের সব সোফার কাভার ধুয়ে দিলেন কি খারাপই না লাগে গেস্টকে বসাতে।তারপর হয়ত ঘরে চাপাতা একদম শেষ খেয়াল হয়নি আনতে তখন চিন্তা লাগে এক কাপ চাও দিতে পারলামনা।অনেকে বলবেন গেস্টত শুধু খেতে আসেননা।ঠিকই বলেছেন,কিন্তু হোস্টের মন খারাপ হয়  “কিছু খাওয়াতে পারলামনা”।কেউত আর কারও বাসায় শুধু খেতে আসেনা।খেতে আসেনা ঠিক আছে কিন্তু কেউ আসলে একটু বসে চা নাস্তা করতে করতে গল্প করতে অনেক মজাই লাগে।

একটা সিম্পল কাজ,কোথাও যাওয়ার আগে আমরা কি পারিনা একটু ফোন করে জানিয়ে যেতে।এতে গেস্ট এবং হোস্ট দুজনেরই ভাল লাগবে।

সিলেটেত সবার ঘরেই দু চারজন প্রবাসী আছেন।প্রতি বছরই এরা আসেন এবং সব আত্নীয়স্বজনকে দেখে যান।এই উদ্যেগটা খুবই ভাল।এরা বেড়াতে আসলে খুব আনন্দ হয়।পুরানো অনেক স্মৃতি কত কি ভাললাগার সময় নিয়ে কথা বলে নষ্টালজিক ফিল হয়।

এরা বিদেশে ঠিকই ইনফরম করে একজন আরেকজনের বাসায় বেড়াতে যায় কিন্তু দেশে আসলে দেশী নিয়মে চলেন।

পাঠকরা ভাববেন এই মেহমানদারী নিয়ে এই সাতকাহন কেন!কারন আজকে সব কাজ শেষে ঠিক পা বাড়িয়েছি গোসলের জন্য ঠিক সেই মুহূর্তে কলিং বেলের ডিংডং আওয়াজ।গ্রামের চারজন আত্মীয় এসেছেন এবং একজন বয়োবৃদ্ধ যিনি খুব অসুস্হ।উনারা সবাই ক্ষুদার্ত দীর্ঘ ভ্রমনের কারনে।আমি একটা মাত্র কারী রান্না করেছি।সবার পোষাবে না।ফ্রিজ থেকে বের করে রান্না করতে হবে সেইটা অনেক সময়ের ব্যাপার।আমারও ক্ষিদেয় পেট চু চু করছে।বয়স্ক উনি মাছ ছাড়া খাবেন না।কি যে বিব্রতকর পরিস্থিতি।প্রিয় পাঠক আপনারাও নিশ্চয়ই একবার হলেও এই পরিস্থিতিতে পড়েছেন।

বেশ সাজগোজ করে রেডি হয়ে গেলেন কারো বাসায় আর গিয়ে দেখলেন বিশাল এক চাইনিজ তালা ঝুলানো।কেমন লাগে তখন?

অনেকের মনে হবে গেস্ট আসলে আমি বিরক্ত মোটেই না।আমার এই নিঃসঙ্গতার মাঝে অনেকখানি ভাললাগার অনুভূতি হচ্ছে মেহমানদারি।শুধু পনের মিনিট আগে হলেও একটা কল করলে কি ভাল হয়না?