3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

Magic বা জাদুবিদ্যা

Now Reading
Magic বা জাদুবিদ্যা

Magic/জাদুর সাথে ‍আমরা সকলে পরিচিত । তবে আমরা সকলে শুধু ্এটুকুই জানি,জাদু মানে অতিপ্রাকৃতিক কিছু হওয়া বা করা । নৃতত্ত্ববিদগণ বলেন, সূক্ষভাবে দেখলে দেখা যাবে যাকে আমরা প্রাগৈতিহাসিক ধর্ম বলি তার অধিকাংশই আসলে জাদুবিদ্যা। ধর্মের ‍ উৎসবিষয়ক মতবাদ হিসাবে জাদুবিদ্যাকে আলোচনায় নিয়ে আসেন নৃবিজ্ঞানী J.G Frazer । তার মতে জাদুবিদ্যার উদ্ভব ধর্মেরও আগে। প্রাচীন যুগে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই জাদুবিদ্যার প্রচলন ছিল। তবে জাদুবিদ্যা  চর্চায় ধর্মীয় কোনো ভাবধারা কাজ করছে কি না বা জাদুবিদ্যা ক্রমবিবর্তিত হয়ে ধর্মীয় আচরণে পরিণত হয়েছে কি না তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় নি।

Magic/জাদুবিদ্যার পরিচয় :

জাদুবিদ্যা বলতে ভেলকি,ভোজাবাজি,মায়াবিদ্যা,কুহক বা মোহিনী বিদ্যাকে বোঝায় (সূত্র: বাংলা একাডিমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান)। ইংরেজী Magic শব্দটির উৎপত্তি গ্রীক শব্দ  Magia বা Magos থেকে। Collins Dictionary তে বলা হয়েছে, Magic is the power to use supernatural forces to make impossible things happen, such as making people disappear or controlling events in nature. অর্থাৎ, জাদু হলো এমন অতিপ্রাকৃত শক্তি বা ক্ষমতা ,যা দ্বারা অসম্ভব কিছু করা যায়,যেমন মানুষকে অদৃশ্য করা অথবা প্রাকৃতিক ঘটনা (বিষয়) নিয়ন্ত্রণ করা।

জাদুবিদ্যার মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’ভাবধারা বিদ্যমান ।হিরোডোটাস,প্লেটো প্রমুখ জাদুকে ক্রিয়াশীল হিসেবে ইতিবাচক বিবেচনা করেছেন।অ্যারিস্টটল এর নেতিবাচক ব্যবহার দেখিয়েছেন।ইংরেজী শব্দ magic নেতিবচিক অর্থের উত্তরাধিকারী।

জাদুবিদ্যা হলো অতীন্দিয়কে বশ করার বিদ্যা এবং সেই সঙ্গে অতীন্দিয় উপায়ে প্রকৃতিকে বশ করার শাস্ত্র।

Frazer বলেন,”Magic is a Spurious system of natural law as well as an abortive art” (J.G Frazer, The Golden Bough) বা ম্যাজিক প্রাকৃতিক নিয়মের নকল বা কৃত্রিম ব্যবস্থা , যা মানবীয় ব্যবহারে ভ্রান্ত পথনির্দেশিকােএটা একটা ভ্রান্ত বিজ্ঞান তথা নিষ্ফল কৌশল।

  1. Ahmed বলেন, “Magic was man’s first effort to estublish contact with the unknown, the hidden spiritual forces which he demage fell to exist” (The Black Art)

Magic বা জাদুবিদ্যার প্রকারভেদ :

জাদুর ব্যবহার প্রক্রিয়া,উপাদান ও প্রকৃতি বিবেচনায় J.G Frazer জাদুবিদ্যার মোট ছয়টি শ্রেণীর কথা উল্লেখ করেছেন।যেমন :

১. অনুকরণ জাদু : অদৃশ্য সূত্রের উপর নির্ভর যে মন্ত্র ও কলাকৌশল প্রয়োগ করা হয় তাকে অনুকরণ জাদু বা Sympatheitic Magic বলে। এর অপর নাম সদৃশ্য বিধান জাদু । Fraze একে Law of similarity বা সদৃশ্যের সূত্র বলেছেন।যেমন মোম বা মাটি দিয়ে শত্রুর আকৃতি বানিয়ে তাতে আঘাত করার মাধ্যমে শত্রুকে ক্ষতিগ্রস্থ করা।

২. সংক্রমণ জাদু : সংক্রমণ সূত্রের আশ্রয়ে যে জাদু-মন্ত্র ও কলাকৌশল সৃষ্টি হয় তার নাম সংক্রমণ জাদুবিদ্যা বা Contogious Magic ।যেমন শত্রুর দেহ বা ব্যবহৃত জিনিস প্রতিকৃতির মধ্যে ঢুকিয়ে তাতে নাসা রকম যন্ত্রণা দেয়া । Franzer একে Law of Contogious বা সংক্রমণ সূত্র বলেছেন ।

উক্ত দুই প্রকারের জাদুর ব্যবহার হলিউড,বলিউডের বহু সিনেমায় দেখতে পাওয়া যায় ।

৩. তাত্ত্বিক জাদু : যে জাদুবিদ্যা প্রাকৃতিক নিয়মের অনুসারী এবং তার মতোই আবশ্যম্ভী যার ফল, তাকে তাত্ত্বিক জাদু বা Theoritical Magic বলে।

৪. ব্যবহারিক জাদু : জাদুকে যদি মানুষের উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে একটি কার্যকরী নীতিমালা হিসাবে গণ্য করা হয়, তবে তাকে ব্যবহারিক জাদু বা Practical Magic বলা যায় ।

৫. ইতিবাচক জাদু : ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজের ইঙ্গিতবাহী জাদুকে ইতিবাচক জাদু বা Positive Magic বলে।

যদি এই প্রকার জাদুর উদাহরণ চাওয়া হয়, আমি বলব মনে করুন কোনো লোকের স্ত্রীর সাথে তার কেন যেন বোঝাপরা ভাল না, সংসারে কলহ বিবাদ লেগেই থাকে। এক্ষেত্রে ঐ লোক জাদুর মাধ্যমে ‍সাংসারিক কলহ দূর করাই এই প্রকারের জাদুর উদাহরণ ।

৬. নেতিবাচক জাদু : অমঙ্গলকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মানুষের অকল্যাণের জন্য ব্যবহৃত জাদুকে নেতিবাচক জাদু বা Negative Magic বলে ।

কিছু কিছু বিজ্ঞানী ও গবেষক জাদুর ‍আরো কিছু প্রকার উল্লেখ করেছেন। যেমন R. Firth জাদুবিদ্যার উদ্দেশ্য, প্রয়োগ ক্ষেত্র ও সামাজিক তাৎপর্য বিবেচনা করে একে তিন শ্রেণীতে বিন্যস্ত করেছেন –

১. গঠনমূলক জাদু : যে জাদু নতুন কিছু সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করে মানুষের কল্যাণ করে তাকে গঠনমূলক জাদু বা Constructive Magic বলে।

২. প্রতিরোধক জাদু ; প্রাকৃতিক ক্ষতি বা ক্ষতিকর জাদুর প্রভাব থেকে বেঁচে থাকার জন্য যে জাদু প্রয়োগ করা হয় তাকে প্রতিরোধক জাদু বা Protective Magic বলা হয়।

৩.ধ্বংসাত্মক জাদু : যে জাদু সম্পূর্ণরুপে ক্ষতি বা ধ্বংস সাধনের জন্য প্রয়োগ করা হয় তাকে ধ্বংসাত্মক জাদু বা Destructive Magic বলা হয় ।

কেন যেন এই লিখাটি লিখতে লিখতে হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা Harry Potter এর এক একটি চরিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

⇒জাদুবিদ্যার উদ্দেশ্য :

প্রাগৗতিহাসিক যুগের নিরক্ষর লোকেরা নানা কারণে বিভিন্ন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জাদু করত। যেমন :

১. শিকার করতে গেলে যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয় এবং শিকারে সফল হয়।

২. মাছ ধরার ক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য।

৩.যুদ্ধে বিজয় অর্জন করার জন্য।

৪. প্রেমে সফল হওয়ার জন্য।

৫. প্রাকৃতিক দূর্যোগ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য।

৬.ক্ষতিকর প্রেতাত্মা হতে বাঁচার জন্য ।

৭. শক্তি অর্জন ।

৮. অজানাকে জানা।

৯. গঠনমূলক উদ্দেশ্যে , যেমন জমির উর্ভরতার জন্য।

১০. প্রতিরোধক উদ্দেশ্যে, যেমন সম্পদ রক্ষা করার জন্য ।

১১. ধ্বংসাত্মক উদ্দেশ্যে।

১২. ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা মোকাবেলার জন্য ।

১৩. প্রাকৃতিক প্রয়োজনে, যেমন অনাবৃষ্টির সময় বৃষ্টির জন্য ।

১৪. ফসল রক্ষা করার জন্য ।

১৫. রোগ প্রতিরোধ করার জন্য ।

১৬. শত্রু দমনের উদ্দেশ্যে।

১৭. অনুষ্ঠানের সফলতার জন্য ।magic_wallpaper_by_170v3r.png

সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (শেষ পর্ব)

Now Reading
সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (শেষ পর্ব)

প্রথম পর্বের পর থেকে…

সীমার চিৎকার শুনে সবাই কেবিনে ছুটে গেল, দেখলো সীমার নাক দিয়ে আবার অস্বাভাবিকভাবে রক্ত ছুটছে। রক্ত বন্ধ করার কোনো উপায় না দেখে ইমারজেন্সী রক্তের জন্য অর্ডার দেয়া হলো ব্লাড ব্যাংকে।

এদিকে জহির সুস্থ হয়ে ওঠে একদিনেই। আর এনামুল এইসব খবর শুনেই চলে যায় তান্ত্রিকের কাছে। তান্ত্রিক তো অবাক, কি হলো? এমন তো হবার কথা না। সাথে সাথে রুমে গেল, বাইরে এলো শুকনো মুখ নিয়ে। তান্ত্রিক বলে, জনাব, একটা বিশাল ভুল করে ফেলেছি! আমি “বাইন-মারা”র ফল দিয়ে ফেলেছি, যাতে কেউ রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যায়। এই কথা শুনে এনামুলের মাথা নষ্ট হয়ে গেল, সে উন্মাদের মত তান্ত্রিককে মারা শুরু করে দিল। মারতে লাগলো আর বলতে লাগলো, তুই জানিস আমি সীমাকে কতটা ভালোবাসি? নিজের জীবনের চাইতে বেশি ভালোবাসি, ছোট থেকে ভালোবাসি, আমি তো চেয়েছিলাম ওকে নিজের করে পেতে। আর তুই কিনা ওকে মেরে ফেলার জাদু করলি? হাউমাউ করে কাদঁতে লাগলো এনামুল। কিছুক্ষণ পর তান্ত্রিকের জোরাজুরিতে শান্ত হয়ে বললো, এখন যদি আমার সীমাকে সুস্থ না করে তুলিস, তাহলে তোকে মেরেই ফেলবো। তান্ত্রিক বলে, ঠিক আছে, আমি কালকের ভেতরেই কিছু একটা করার চেষ্টা করবো।

এনামুল এমন কথা শুনে বলে, কাল কিরে? আজই এখনই! তোকে ভরসা নেই, আমি প্রতিটা সেকেন্ড তোর সাথে থাকবো, আমি জানি তুই এখন পালিয়ে যাওয়ার ফন্দি করছিস কিন্তু কি ভেবেছিস আমি কিছুই বুঝিনা? কি করবি এখন বল?

রুবেল তান্ত্রিক ভয় মেশানো কন্ঠে বলে, এখন আমার গুরুর কাছে যেতে হবে। – তোর গুরু কোথায় থাকে?

চট্ট্রগ্রাম এর এক পাহাড়ি এলাকায়।

– ঠিক আছে, এখনই যাবো, ব্যাগ গোছা।

সবকিছু গুছিয়ে প্রথমে একটা বেসরকারি ফ্লাইটের অফিসে খোঁজ নিল সন্ধ্যাঁয় কোনো ফ্লাইট আছে কিনা! সৌভাগ্যবশত একটা ফ্লাইট পেয়েও যায়।

এদিকে সীমার অবস্থা কাহিল, শরীরে একদিক দিয়ে রক্ত প্রবেশ করে আর অন্যদিক থেকে বের হতে থাকে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। বিভিন্ন চ্যানেল আর সংবাদপত্রের সাংবাদিক এসে নিউজ কভার করার চেষ্টা করে যদিও পারেনা।

তান্ত্রিক আর এনামুল সন্ধ্যাঁর ফ্লাইটে রাতেই চট্ট্রগ্রাম পৌছে যায়। কুয়াশার জন্য ফ্লাইট দেরী করে। এরপর একটা গাড়ি ভাড়া করে দূর্গম সেই পাহাড়ি এলাকায় যায় ওরা।

রাত তখন প্রায় ১২টা। ওখানে পৌছানোর পর তান্ত্রিক তার গুরুর বাড়িতে প্রবেশ করে কিন্তু এনামুল আর গাড়ির ড্রাইভারকে একটু দূরে মেইন রোডের কাছে দাঁড় করিয়ে রেখে। তান্ত্রিক যেন পালিয়ে না যেতে পারে, তাই ওর কাছ থেকে ওর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ যা কিছু ছিল সব নিয়ে রেখে দেয়। যদিও সে ঘন্টাখানেকের ভেতর ফিরে আসে। হাতে একটা পানির বোতল নিয়ে শুধু। আর কিছুই না। হাপাতে হাপাতে বললো, ভাই, এইটা পানি না, পানির মত দেখালেও অন্য কিছু। শরীর থেকে সব রক্ত বের হয়ে যাবার আগেই সীমাকে এই পানি পান করাতে হবে?

কি? শুনতে খুব আশ্চর্য লাগছে তাইতো? মনে হচ্ছে কাল্পনিক কোনো গল্প পড়ছেন? নাহ, আসলে এটাই বাস্তব ঘটনা। আলিফ লাইলা টাইপের হলেও ঠিক এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি বা আমিও কিছু বানিয়ে লিখছি না। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে সবকিছু বেরিয়ে আসে, কিন্তু সীমা আর সীমার পরিবারের কথা চিন্তা করে সেই সময়ের পুলিশের এসপি মিডিয়া বা পত্র-পত্রিকাকে এসবের কাছে ঘেষতে দেয়নি।

এরপর?

বাকিটুকু আসলেই কষ্টদায়ক; তান্ত্রিক আর এনামুল ফিরে আসতে আসতেই সীমা মারা যায়। তান্ত্রিক গুরুর সেই পানি নিয়ে ওরা যখন পরদিন বিকেলের ফ্লাইটে রাজশাহীতে পৌছায়, সীমার লাশ তখন গোরস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দিয়েছে।

সীমার মৃত্যুর খবর শুনে এনামুল নিশ্চুপ হয়ে যায়। সে আসলে সীমাকে আপন করে পাবার জন্য শয়তানের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছিল। আর তারই ফল সে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছিল।

বিমান থেকে নামার পর সেই তান্ত্রিক উধাও হয়ে যায় আর এনামুল ফিরে আসে বাড়িতে। নাহ! নিজের বাড়ি নয়, সীমার বাড়িতে।

হঠাৎ উদ্ভ্রান্তের মত ঢুকে কাদঁতে থাকে আর চিল্লাপাল্লা করে বলতে থাকে নিজের কৃতকর্মের কথা। সীমার স্বামী জহির আর সীমার বাবা এসে এনামুলকে ইচ্ছা মত মারতে আরম্ভ করে কিন্তু বাড়ির অন্যান্য লোকজন তাদেরকে শান্ত করে। এনামুল অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে মেঝেতে।

শেষ কথাঃ

পরদিন বিকেলে এনামুলকেও সাদা কাফন পড়িয়ে কবর দেয়া হয়। তবে সেখানে পুলিশের সংখ্যাই বেশি ছিল। এনামুল আসলে রাতে অজ্ঞান হয়ে যায়নি। পোষ্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা যায় সে বেশ আগেই বিষ খেয়েছিল, মনে হয় সীমার মৃত্যুর খবর শোনার পরেই কোনো এক সময়। আর সেই বিষ সে আগেই কিনে রেখেছিল সীমার অসুস্থ হয়ে যাবার কথা শুনে।

উপরোক্ত ঘটনা সীমার স্বামী জহিরের কাছ থেকে শোনা। জহির আজও বিয়ে করেনি তারপর থেকে। করবেওনা কোনোদিন। সে সীমার ভালোবাসা আর বিয়ের পরের ঐ কয়েকদিনের স্বৃতি আকঁড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চায়। মাঝে তিনটা জীবন বিপন্ন হয়ে গেল, এক কালোজাদুর প্রভাবে তিনটা পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, দুইটা জীবন নিঃশেষ হয়ে কবরে শুয়ে আছে। মাঝখানে সেই জাদুকর লাপাত্তা। কেউ কোনোদিন তার খবর জানেনি। এনামুলের সেই বন্ধু জহিরকে ভেতরের এমন খবর বলেছিল, সাথে ক্ষমা চাইতে এসেছিল। জহির ক্ষমা করে দিয়েছে। কিন্তু তদন্তের কাজে সেই বন্ধুকে পুলিশ নিজেদের জিম্মায় রেখেছিল কিছুদিন।

আমার এই লেখাটাই হয়তো কালোজাদু নিয়ে শেষ ঘটনা, আপনাদের অনুরোধ করবো কালোজাদু বা ব্ল্যাক-ম্যাজিক থেকে দূরে থাকতে। আর যেসকল মুসলমান ব্ল্যাক-ম্যাজিক নিয়ে সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা খোজেঁন, তাদেরকে বলছি কোরআন শরীফ ঘেঁটে দেখার জন্য। উত্তর পেয়ে যাবেন।

সীমা আজ প্রায় ৭ বছর হলো মারা গিয়েছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।

সীমা ভালো থাকুক আল্লাহর কাছে।

সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (পর্ব-১)

Now Reading
সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (পর্ব-১)

ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালোজাদু সংক্রান্ত কিছু বাস্তব ঘটনার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে আপনারা দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের নানা প্রকার কালোজাদুর ঘটনা জেনেছিলেন। বরাবরের মত পাঠক-পাঠিকাদের তুমুল সাড়া আমাকে আবারও বাধ্য করেছে আজকের এই ঘটনা লিখতে।

আচ্ছা, ফল দিয়েও যে জাদু করা যায় তা আগের পর্বেই জেনেছিলেন, আজ বলবো আরেক ঘটনা।

প্রথম যখন এই ঘটনা শুনি, যেমন অবাক হয়েছিলাম তেমনি চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় অশ্রুও ঝরেছিল। তাহলে বুঝতেই পারছেন এটা কতটা ভয়ংকর সাথে কষ্টদায়ক? গল্পের আকারে লিখছিঃ

এটা ঠিক প্রেমের ঘটনা না হলেও প্রেম জাতীয় ঘটনা আরকি! জহির আর সীমার কথা বলছি। একই সাথে রুয়েটে পড়াশুনা করতো। দুইজনই দুজনাকে মনে মনে প্রচন্ড ভালোবাসলেও কেউ কাউকে বলতোনা। যাইহোক, একটা সময় তাদের মাঝে উপস্থিত হয় একজন তৃতীয় ব্যক্তি। তৃতীয় ব্যক্তিটা আর কেউ না, সীমার খালাতো ভাই এনামুল। এনামুল বিদেশ ফেরত যুবক, সীমাকে নিয়ে তার বহুদিনের স্বপ্ন কিন্তু সীমার মনে স্বপ্ন জহিরকে নিয়ে।

এনামুল এসেই সীমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলো। কিন্তু সীমা রাজি হলো না। ওদিকে সীমা জহিরকে এই কথা বলার পরই জহির বুঝতে পারলো যে সীমা ওকে চায়। জহির তখন বাংলালিংকের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ঢুকেছে মাত্র। জহির তাই সীমার মনের চাওয়া বুঝতে পেরে আর দেরী করলো না। ওদের বাসায় বিয়ের প্রপোজাল নিয়ে গেল। ব্যস, ভালো-ভদ্র পাত্র দেখে সীমার বাবা-মা রাজি হয়ে গেল। কোনো এক রোজার ঈদের কয়দিন পর ওদের বিয়ে হয়ে যায়।

এদিকে এনামুল তো রাগে অস্থির। খালা-খালু এমন করলো? সীমাকে আমার সাথে বিয়ে দিলো না?- এমন মনোভাবে সে দিনে দিনে হিংস্র হয়ে উঠলো। এনামুল সীমাকে এসিড মারার চিন্তাও করেছিল যা পরবর্তীতে তার এক বন্ধুর কাছ থেকে জানা যায়।

সীমার সুখের সংসারে আগুন লাগানোর হাজার চেষ্টা করেও যখন সে ব্যর্থ, তার মাথায় হঠাৎ ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালোজাদু করার চিন্তা এলো। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও সত্যিকার কালোজাদুকর কিংবা তান্ত্রিক খুঁজে পাচ্ছিলো না। এক বন্ধু বললো, তার মামা টুকটাক সাধনা করে ওসবের। গোপনে সেই মামার সাথে এনামুল দেখা করে সমস্ত ঘটনা খুলে বললো, সেই মামার নাম রুবেল। রুবেল তান্ত্রিক জিজ্ঞেস করলো, কোন ধরণের ক্ষতি করতে চাও?

এনামুল বললো, যেভাবেই হোক ওদের সংসার যেন আর না টিকে এমন কিছু করতে। রুবেল তান্ত্রিক এর ডিম্যান্ড অনেক। দশ হাজার টাকা চেয়ে বসলো, এনামুল অর্ধেক দিয়ে বললো, আগে কাজ চাই, পরে বাকি অর্ধেক দেয়া হবে। তান্ত্রিক ওকে পরদিন দেখা করতে বললো আর জানিয়ে দিলো যে সে পরদিন কিছু ফল আনবে।

আগের দিনের কথামত এনামুল পরদিন সেই ফল আনতে গেল। দেখলো রুবেল তান্ত্রিক কমলালেবু, আপেল, ডালিম ফল- এইসব এনেছে। এনামুল এমনটা দেখে রাগ হয়ে জিজ্ঞেস করে, এইসব কি? ফল দিয়ে কি হবে? যত্তসব ফাজিল লোকজন। দেন টাকা ফেরত দেন, জানি আপনিও নামে তান্ত্রিক, কাজ হবেনা।

তান্ত্রিক তখন মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলে, এত সহজে বিশ্বাস হারালে কি চলবে জনাব? বিদেশেই তো সারাজীবন কাটিয়ে এলেন তাই বলে দেশী মানুষের প্রতি কি বিশ্বাস হারাবেন এভাবে?- এই বলে পকেটে হাত দিয়ে নেয়া টাকা ফেরত দিয়ে বললো, এই নেন আপনার টাকা, সাথে ফলও নেন। যদি আমার জাদুতে কাজ হয়, তাহলে পুরো টাকা নিয়ে চলে আসবেন আর না হলে আসবেন না।

এনামুল তখন নরম কন্ঠে জানালো, তা নাহয় বুঝলাম কিন্তু ফল দিয়ে হবেটা কি শুনি? আর কি আছে এই ফলের ভেতর?

– এইতো জনাব, এতক্ষণে লাইনে এলেন তাহলে। এই কথাগুলো আগে বললেই ভালো শোনাতো। আসলে কথা হচ্ছে এই ফলের ভেতরে ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে কিছু তরল পদার্থ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্লিসারিনের সাথে কিছু গোপন রস যা বলা যাবেনা। এই গোপন রস অনেক দূর থেকে আনতে হয়। এটা কোনো এক পশুর কিছু একটা হবে! যাইহোক, এত জেনে তো আর আপনার লাভ নেই, আপনি ফলগুলো ঐ মেয়ের বাসায় পাঠানোর ব্যবস্থা করুন, খাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় খবর পাবেন কি ঝড় বয়ে যাচ্ছে দুজনার ভেতরে। সংসারে অশান্তির ঝড়!

সবকিছু শুনে এনামুল একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাসার দিকে পা বাড়ালো। বাড়ি বসে ও চিন্তা করতে লাগলো কিভাবে ফলগুলো সীমার বাসায় পাঠানো যায়?

কি করবে? নিজেই যাবে নাকি অন্য কাউকে পাঠাবে? এমন চিন্তা করতে করতে সিদ্ধান্ত নিল ও নিজেই যাবে। হাজার হলেও খালাতো ভাই তো। সমস্যা নেই!

যেমন ভাবা তেমন কাজ। এক শুক্রবার বিকেলে এনামুল সীমার বাসায় গিয়ে উপস্থিত। সাথে সেই ফল আর দোকান থেকে কেনা মিষ্টির প্যাকেট। সীমা মনে মনে খুশীই হয়েছিল যে খালাতো ভাই বেড়াতে এসেছে, কারণ ওর মনে তো আর কুটিলতা নেই!

ভাইকে অনেক আদর যত্ন করে খাওয়ালো নিজের হাতে রান্না করে। অমন মধুর রান্না খেয়ে এনামুল মনে মনে বললো, আর কয়টা দিন যাক, এই এমন রান্না প্রতিদিন ও নিজেই আমাকে রান্না করে খাওয়াবে! এমন ভেবে মনে মনে ও একটা ক্রুর হাসি হাসলো- ভিলেনের পাঠে এনামুল মন্দ যায়না কিন্তু!

সপ্তাহ খানেকের মাথায় এনামুল জানতে পারলো, সীমা আর জহির দুইজনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি! এর মধ্যে সীমার অবস্থা করুণ, ডাক্তার বলেছে নাক দিয়ে নাকি প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে এবং প্রায়ই ব্লিডিং হচ্ছে তাই রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরেও ডাক্তার হিসাব মেলাতে পারছেনা যে কিভাবে কি হচ্ছে? শারীরিক তো কোনো সমস্যাই চোখে পড়ছে না ওদের, তাছাড়া সীমার নাকেও কোনো ফাটল নেই, চেকআপেও কিছুই ধরা পড়েনি। ঠিক এমন সময় কেবিন থেকে সীমার চিৎকার…………

 

চলবে

প্রতিবিম্বঃ পর্ব ৪

Now Reading
প্রতিবিম্বঃ পর্ব ৪

“শতাব্দীর রাতের ছুটে যাওয়া আমি থামাতে পারিনা,

তুমুল বেগে ঘুরতে থাকা বিশ্বগতি আমি থামাতে পারিনা,

পেরেছি দিনের শেষে রাতে রাতের পর দিন ঘনিয়ে এলে তোমায় নিয়ে ভাবতে,

অল্পতেই কত আপন করেছি তোমায়, যদি পারতাম তা তোমায় জানাতে…”

কবিতায় মুখ গুজে গত কয়দিনের ঘটনা গুলো ভুলে থাকতে চাইছে জাবির। নাহিদের চলে যাওয়া, জান্নাতের সাথে অসময়ে লনে দেখা হওয়া আর লগবুকে ওর নাম না থাকা – এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত জাবির। মাথা আর কাজ করে না ওর। নাম্বারটা দেখে চেনা মনে হল, কিন্তু কার সেটা মনে পড়েছে না। হটাৎ খেয়াল হলো যে সেদিন সকালে যে নাম্বার থেকে কল আসার কারনে জাবিরের ঘুম ভেঙ্গেছে এটা সেই নাম্বার। কল ধরলো,

– হ্যালো কে বলছেন?

– জাবির…

– জ্বী আপনি কে?

– আমাকে তুমি চিনবে না এখন। কারন আমি তোমার কেউ না। তবে দ্রতই চিনবে।

– কে বলছেন আপনি?

– আমি প্রতিবিম্ব।

– কিসের প্রতিবিম্ব? কার প্রতিবিম্ব?

ফোনটা কেটে গেল। জাবির হ্যালো হ্যালো করলো ২-৩ বার। অপাশ থেকে ফোনটা কেটে দিয়েছে। জাবির আবার কল দিল। নাম্বারটি অব্যাবহৃত বলে কাস্টমার কেয়ার এর সুকন্ঠী নারী জানালো।

জাবির ঘামছে অঝরে। কাপতে কাপতে হাত থেকে ফোন পড়ে গেল। কে ফোন দিল? কার প্রতিবিম্ব? কন্ঠটা চেনা জানা লাগছে। ঠিক মিলাতে পারছে না। কে হতে পারে? ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেল।

ঘুমের মাঝে স্বপ্নে নাহিদকে দেখলো। দূর থেকে নাহিদ ডাকছে জাবিরকে। নাহিদের গলায় সেই দড়িটা ঝুলছে আর বা পাশে দ্গদগে পোড়া দাগ। কিছু বলতে চাচ্ছে জাবিরকে। কিন্তু গলার ফাস লেগে থাকার কারনে মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। ফ্যাসফেসে একটা শব্দ বেরুচ্ছে নাহিদের মুখ থেকে। জাবির নাহিদের মুখের কাছে কান নিয়ে গেল, আর শুনতে চেস্টা করলো কি বলতে চায় ।

“বাচতে চাইলে দূরে কোথাও চলে যা। ও তোকে………”

লাফিয়ে জেগে উঠলো জাবির। ১৬ তে ফ্রিজিং মোড অন থাকার পরেও চরম ঘামাচ্ছে সে। কি বলতে চায় নাহিদ? কোথায় পালিয়ে যাব? কেন পালাবো? নাহিদের মৃত্যু, জান্নাতের প্রেজেন্স এর ব্যাপারে ভুতুড়ে কার্যকলাপ, আজকের ফোনকল আর এই স্বপ্ন – সব এক সুত্রে গাথা?

হটাৎ নিহানের কথা মাথায় আসলো। নিহান সম্পর্কে জাবিরের কাজিন হয়। আমেরিকা থাকে। ব্ল্যাক ম্যাজিক আর স্পিরিচুয়াল ব্যাপার নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। নিহানের বাবা – মা মারা যাবার পর কেউই নিহানের সাথে যোগাযোগ করেনি। এছাড়া কালো জাদু নিয়ে তার কাজ কারবার বলে সবাই এড়িয়ে চলে। তবে জাবিরের এখন নিহানকেই দরকার।

 

স্কাইপ ওপেন করে নিহান কে কল দিল। সাথে সাথেই কল রিসিভ করলো নিহান। হাই – হ্যালো পর্ব শেষ হতেই নিহান জাবিরকে অবাক করে দিয়ে প্রশ্ন করলো,

– ইদানিং তোর কোন ফ্রেন্ড মারা গেছে? সুইসাইডাল কেইস?

– তুমি কিভাবে জানো?

– আগে বল।

– হ্যা। নাহিদ ৩-৪ দিন আগে মারা গেছে।

-তোর সাথে কি অদ্ভুত কিছু হচ্ছে?

একটু নড়ে চড়ে বসলো জাবির, কিভাবে নিহান সব জানে?

– কেমন অদ্ভুত?

– ফোনে বেনামি কল, বাজে স্বপ্ন?

– তুমি কিভাবে এগুলো জানো?

– আমাকে শুরু থেকে সব খুলে বল।

জাবির সব খুলে বলল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব, কিছুই বাদ দেয়নি। সব শুনে নিহান বললো,

– আমি দেশে আসছি। তোর ওখানে উঠবো। মামা মামী কিছু মনে করবে নাতো?

– কোন সমস্যা নেই। তুমি আসো। আমি সব ব্যাবস্থা করছি।

– আচ্ছা, আমি প্লেনের টিকেট কনফার্ম করে জানাচ্ছি। আর আমি যতদিন না আসছি, অচেনা কল ধরবি না, রাতে একা বের হবি না, আর কোন বাজে স্বপ্ন দেখলে               আমাকে সাথে সাথে জানাবি।

– আচ্ছা। মনে থাকবে।

একটু আশ্বস্ত হতে পারলো নিহান এর কথায়। সেই পারবে এর একটা বিহিত করতে।

সকালে বাবা-মা কে নিহান এর আসার কথা জানিয়ে দিল। উনারা চেয়েছিলেন আপত্তি করতে কিন্তু প্রিয় বন্ধুর চলে যাওয়া সামলে উঠতে না পারা ছেলে যদি নিহানের দেশে ফিরে আসাতে একটু স্বাভাবিক হতে পারে, সেই আশায় আর মানা করার কারন খুজে পেলেন না উনারা।

৩ দিন পর নিহানকে এয়ারপোর্ট থেকে পিক করলো জাবির। নিহানের গেট আপ দেখলে কেউ বলবে না এই ছেলে ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে খেলা করে। দুজনে বুক মিলালো।  গাড়িতে বসতেই নিহান বলল,

– ইন্দিরা রোড চল।

– কেন? ওখানে কি?

– শুরুটা ওখানেই।

– কিসের শুরু?

– চল যেতে যেতে বলবো।

জাবির আর কথা বাড়াল না। চুপচাপ ড্রাইভ করতে থাকলো।  যেতে যেতে নিহান বললো –“আচ্ছা জাবির তোর মনে পড়ে আমরা সব কাজিনরা একসাথে ইন্দিরা রোডে থাকতাম? দাদা বাড়ি কিনেছিলেন পাকিস্তান আমলের এক ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছ থেকে। দাদা নামকরা উকিল ছিলেন, রোজ আমরা উনার রিডিং রুমের বারান্দায় খেলতাম। মনে আছে? ”

জাবির মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল। হিসেব মিলাতে পারছেনা সেই বাড়ির সাথে এসবের মিলবন্ধন?

নিহান আবার বলতে শুরু করলো –“ আমাদের পাশের বাসায় একটা পরিবার ছিল। সেখানে একটা মেয়ে ছিল। আমরা একসাথে খেলতাম, ও খেলতে চাইলে অকে মেরে তারিয়ে দিত জাকিয়া, মনে আছে তোর? ”

জাকিয়া হোল জাবিরের ফুফাতো বোন। সবার বড়। এখন ডেনমার্কে থাকে ফ্যামিলি সহ। মাথা নেড়ে সম্মতি জানলো যে এটাও মনে আছে জাবিরের।

আবার বললো নিহান -“আমাদের ফ্যামিলি আমেরিকা চলে আসার আগের দিন বিকেলেও মেয়েটা খেলতে এসেছিল। জাকিয়ার নিষেধ সত্বেও বারবার খেলায় ব্যাঘাত করছিল। তুই এরপর ওকে ধাক্কা দিয়েছিলি, মাটিতে পরে ওর মাথা ফেটে ব্লিডিং হয়ে পরদিন মারা যায়। মনে করতে পারিস?”

জাবিরের শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল।

 

 

বিঃদ্রঃ পরবর্তী পর্ব কবে প্রকাশ পারে তা নির্ধারিত না। কমেন্ট সেকশন এ আপনাদের ভালবাসা প্রগাড়তাই লেখককে উদ্বুদ্ধ করবে লিখতে। লেখকের কাজ আপনাদের আনন্দ দেয়া, আর আপনাদের কাজ লেখককে লিখতে উৎসাহিত করা।

কৃষ্ণ-কারু

Now Reading
কৃষ্ণ-কারু

পয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর আগের ঘটনা। তখন ঢাকা শহরের রূপটা একটু আলাদা ছিল,বর্তমানের মতো  না। গাছপালা অনেক ছিল।আর তখনকার বাড়িগুলোও একটু বড়সড় জায়গাজুড়ে  করা হতো  আর দশটা Horror Story এর মতো এই ঘটনা না।  এরকম একটা ঘটনাই বলছি। বাড়িটা বেশ বড় আশেপাশে অনেক গাছ, ঘনবসতিও ছিল  না। খোলামেলা পরিবেশ। যার সম্পর্কে লিখছি তার নাম ভেনাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রীবাবা-মায়ের আদরের মেয়ে।

ভেনাসের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ে দূরের কারো সাথে ঠিক হয়নি। যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে সে ভেনাসের চাচাতো ভাই। সবাই যথেষ্ট আনন্দিত ছিল। কারণ  দুজনই যোগ্য এবং পরিচিত।

ভেনাসের হবু বরের নাম সাজ্জাদ। সে পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। ভেনাস এবং সাজ্জাদের পরিবার একটি নির্ধারিত দিনে তাদের engagement এর অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন ।

গণ্ডগোল-টা বাধার আগে স্বাভাবিক ভাবেই চলছিলো সবকিছু। বাড়ির কাজের মেয়ের কিছু অস্বাভাবিক নজরদারি ভেনাস এর মনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেমন, ভেনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে;

 

“কাজের মেয়েঃ আপা কই যান?

          ভেনাসঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কাজের মেয়েঃ কখন আইবেন?”

 

 আবার, টেলিফোনে কোন কল আসলে ;

 

“কাজের মেয়েঃ আপা, কে ফোন করছে?

          ভেনাসঃ আমার বন্ধু।

কাজের মেয়েঃ মাইয়া না পোলা?”

 

engagement এর পর আনুমানিক দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ভেনাস তাদের কাজের মেয়ের এইসব নজরদারি পর্যবেক্ষণ করে এবং সন্দেহ করতে থাকে, বিনুকে ( কাজের মেয়েকে ) কেউ পরিচালিত করছে। এর কদিনের মাথায় ভেনাস বিনুকে বলে,”বিনু, তুই কিন্তু ধরা পরে গেছিস।“ বিনু বলে,”কি হইছে আপা?কি করছি?” ভেনাস বলে,” আমার খবর নিয়ে কাকে দিস?”ঠিকঠাক জবাব দে, নাহলে বাবাকে বলে তোকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেব।

এবার বিনুর মুখ ফ্যাঁকাসে হয়ে যায়। কিছুক্ষন চুপ থেকে হড়বড় করে বলতে থাকে সব।

           “ সাজ্জাদ ভাই কইছে, আপনে কখন বাড়ি থাইক্যা বাইর হন, কখন বাড়িতে আসেন, কে ফোন করে আপনার কাছে, এগুলি হ্যারে জানাইতে। এগুলি করলে হ্যায় আমারে দুইশো ট্যাকা দিব। আপা, আপনে খালুরে এগুলি কইয়েন না। আমি আর এগুলি করমু না।“  

  ঐ দিন ভেনাস কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে নি। তার কি করা উচিৎ! বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গেছে, কি করে ভেঙ্গে দেবে এই বিয়ে? আবার, এতো সন্দেহ প্রবন ছেলের সাথে জীবন কাটানো তার সম্ভব না । মনে মনে অপমান বোধ হচ্ছিলো। রাতে না ঘুমিয়ে শুধু পরিকল্পনা করেছে কিভাবে সব ম্যানেজ করা যায়।

 

সকালে উঠে প্রথমে ভেনাস বিনুকে দুশো টাকা দেয়। বিনু যদিও লজ্জায় নিতে চায়নি। তবু তখন দুশো টাকার মূল্য অনেক থাকাতে খুব বেশি সাধতে হয়নি।

 

এরপর ভেনাস তার বাবা-মা  কে সব জানায়। বাবা-মা রেগে গেলেও বিয়ে ভাঙার পক্ষপাতি তারা ছিল না। মেয়ের জোরাজোরিতে তারা সিদ্ধান্ত-টিতে সম্মতি জানায় এবং সেইদিন বিকালে সাজ্জাদের পরিবারকে ডেকে সব জানানো হয়। সেই সাথে ভেনাসের বিয়ের প্রতি অসম্মতির কথাও যুক্তি দিয়ে বোঝানো হয়।

 

সাজ্জাদের মা-বাবা ছেলের দোষটা বুঝলেও ভেনাসের সিদ্ধান্তকে তারা মোটেও স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি।

 

যাইহোক, ভেনাস-সাজ্জাদের বিয়েটা বন্ধ হলো। বিয়েটা ভেঙে জাওয়াতে ভেনাসের মনে কোন প্রকার আফসোস ছিলোনা। কিন্তু সাজ্জাদের মনোভাব কেউ জানতো না।

 

একসময় সাজ্জাদের বাবা-মা ছেলের বিয়ে ঠিক করে। বিয়ের দাওয়াত দিতে ভেনাসদের বাড়ি আসে। ভেনাসের পরিবারও অতীতের  যাবতীয় ঘটনা ভুলে গিয়ে সাজ্জাদের বিয়ের দাওয়াত গ্রহন করে।

 

ভেনাস বিয়েতে অংশগ্রহন করতে চায়নি। কিন্তু বাবা-মার জোরে রাজি হয়। যেদিন সাজ্জাদের বিয়ে, সেদিন দু’জনের মুখোমুখি দেখা ও কথা হলো। ভেনাস যথেষ্ট স্বাভাবিক আচরণ করলো সাজ্জাদের সাথে। কিন্তু সাজ্জাদের আচরণে ভেনাস খুব ভাল ভাবেই বুঝতে পারে যে সাজ্জাদের জেদটা বিন্দুমাত্র কমেনি।

 

সেদিন বিয়ের খাবার খেয়ে ভেনাস হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি হয় খুব । ভেনাসের বাবা-মা ভাবে হয়তো একটু অসুস্থ হয়ে পরেছে মেয়ে।

 

কিন্তু ঐদিনের পর থেকে ভেনাস ক্রমাগত অসুস্থ হতেই থাকে। মাঝে মাঝে বলে ,”মা, আমার মনে হয় আমার পেটে  কেউ অনবরত সুঁই দিয়ে খোঁচাচ্ছে”। চিৎকার করে কেঁদে  ওঠে ভেনাস বার বার। ভালো ডাক্তার দেখান হয়। ডাক্তার জানায় ভেনাসের পেটে টিউমার হয়েছে

 

অপারেশন করা হয় । সবাই ধরে নেয় এবার ভেনাস ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু পেটের যন্ত্রণা আগের মতই হতে থাকে। তার সাথে বরং আরও কিছু সমস্যা যুক্ত হতে থাকে। সূর্য ওঠার সময় থেকে ভেনাসের যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। দুপুরের কড়া রোদে ভেনাসের আচরণ দেখে মনে হতো তার শরীর জ্বলে যাচ্ছে, মাথা ব্যাথায় নিজের চুল নিজেই টানাটানি করতো।

 

আবার তাকে ডাক্তার দেখানো হয়। এবার ডাক্তার তার কোন সমস্যাই ধরতে পারলেন না। এভাবে বেশ কয়টি ডাক্তারও পরিবর্তন করা হয়। কেউ কিছু ধরতে পারলো না।

 

দিন দিন ভেনাস শুকিয়ে যেতে থাকলো। ওকে দেখতে বদ্ধ পাগল ছাড়া আর কিছুই মনে হতো না। মানসিক ভাবেও ধীরে ধীরে সে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যেতে থাকে।

 

ভোর হতে না হতেই চিৎকার শুরু হয় ভেনাসের । আবল তাবল বকতে বকতে বলে,”মা, আমার ভিতরের কলকব্জা ওলট পালট করছে কেউ।“ ভেনাসকে দেখে মনে হতো যেন ও ধীরে ধীরে মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছে।

 

কিছু আত্মীয় স্বজন ভেনাসের বাবাকে কোন ফকির-কবিরাজের স্মরণাপন্ন হয়ে কোন একটি ব্যাবস্থা করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু ভেনাসের বাবা আধুনিকমনা মানুষ সে কবিরাজ বা ফকিরের পরামর্শকে ভেলকিবাজি ছাড়া আর কিছুই মনে করেন না।

ভেনাসের শারীরিক ও মানসিক  অবস্থা করুণ থেকে করুণতর হতে থাকে। কোন ডাক্তার সমাধান দিতে না পারায় ভেনাসের বাবা-মা যখন হতাশ, তখন ভেনাসের মা নিজের স্বামীকে অনুরোধ করে চিকিৎসার মোড়টা একটু অন্যদিকে ঘোরাবার জন্য।

 

কিন্তু তিনি কিছুতেই মানতে রাজি ছিলেন না। সত্যি কথা বলতে ভেলকিবাজি বা ধর্ম এবং মন্ত্রের নামে প্রতারণা বহুকাল হতেই প্রচলিত। তাই কারো ওপর বিশ্বাস করাটা সত্যিই জটিল বিষয়।

কোন অভিভাবক যদি ফকির বাবার কাছে গিয়ে বলে,” বাবা, আমার ছেলের লেখাপড়ায় মনোযোগ নাই। ওর মাথা নাকি ভারি ভারি লাগে।“

তখন ফকির বাবাদের উত্তর থাকে,” হবেই তো। আপনাদের ছেলের দুই কাধে দুইটা জিন বসে  থাকে। তাই এই অবস্থা। আপনাদের ঘনিষ্ঠ কেউই এমন আছে যে চায়না আপনাদের ছেলের উন্নতি হোক। তাই জিন-চালান দিয়েছে।“ এইসব বলে তাদের পড়া পানির course complete করতে বলে। সন্তানের ভালোর জন্য চড়া course fee দিয়ে ফকির বাবাদের ফুঁ দেয়া অস্বাস্থ্যকর পানি সন্তানদের পান করান।

 

বাচ্চারা লেখাপড়ায় ফাঁকিবাজির জন্য হাজারো ছল করতে অভ্যস্ত। আর হায়রে ফকির বাবারা, জিনের বসার যায়গার কি এতই অভাব যে চাপাচাপি করে বাচ্চার কাঁধে বসতে যাবে?

 

যাইহোক, শেষমেশ ভেনাসের বাবা তার স্ত্রীর কথায় সম্মতি দেন। একজন আত্মীয়ের পরামর্শে কোনএক বুজুর্গ বেক্তির কাছে তিনি যান। সব সমস্যা খুলে বলেন। সব শুনে তিনি ভেনাসের বাবাকে বলেন, “ আপনি এখন বাড়ি যান, আমি কাল ভোঁরে আপনার বাড়িতে আসব। “ ভেনাসের বাবা বলেন,” আপনিতো আমার বাড়ি চেনেন না, বরং আমি কাল ভোঁরে আপনাকে নিতে আসবো। “ উত্তরে সেই বুজুর্গ (সাধক) বলেন, “তার দরকার নেই, আমি একাই যাবো।“

 

ভেনাসের বাবার কাছে ওনার কথা স্বাভাবিক মনে হয়নি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সত্যি পরের দিন ভোঁরে বয়স্ক সাধকটিকে ভেনাসের বাবা বাড়ির বাগানের সামনে দেখতে পেয়ে ছুটে এগিয়ে যান। ততক্ষনে ভেনাসের বাবার মনের কোন এক কোণ থেকে আশার আলো জেগে ওঠে। কিন্তু বয়স্ক সাধক কিছুই না বলে বাড়ির সামনের পুরো বাগানটা ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকেন। দেখে মনে হচ্ছিলো উনি কিছু খুঁজছেন। বাগানের প্রতিটা কোণের  বড় গাছ -ছোট গাছ খুঁটে খুঁটে দেখছিলেন। হঠাৎ এক গাছের সামনে উনি থমকে দাঁড়ালেন। ভেনাসের বাবা তার পাশে দাড়িয়ে   ছিলেন। সাধক এবার ভেনাসের বাবাকে গাছের গায়ের একটি অঙ্কিত চিত্রকে আঙ্গুল দিয়ে দেখান। গাছটির গায়ে একটি নারী চিত্র আঁকা ছিল। নারী চিত্রটির নাভি বরাবর একটি পেরেক বিঁধে রাখা ছিল।এই চিত্রটি ভেনাসের বাবা এর আগে কখনই দেখেনি। সাধকটি এবার বললেন,” আপনারা অনেক দেরি করে ফেলেছেন।মনে হয়না আমি কিছু করতে পারব।তবু দেখি কতটা করা সম্ভব?”

গাছটি মৃতপ্রায় ছিল। সাধক গাছটি কাটার নির্দেশ দেন। ভেনাসের বাবা তার নির্দেশ অনুযায়ী গাছটি কাটার বন্দোবস্ত করেন। কিন্তু কুড়াল দিয়ে সামান্য কয়েকটি কোপেই গাছটি উপড়ে পড়ে। অবাক ব্যাপার গাছটির বাহিরের অংশ শক্ত হলেও  গোঁড়া থেকে গাছটির ভিতরের অনেকটা অংশ গদগদে পচা। এবার এক কথায়  সাধক  বললেন,” আমি আপনার মেয়েকে বাঁচাতে পারবো না। ও এখন অন্তিম পর্যায়ে আছে। খুব দ্রুতই মারা যাবে। আর এক সপ্তাহ আগেও আমাকে জানালে হয়তো কিছু করা সম্ভব হতো। আপনার মেয়ের ওপর জাদুটোনা করা হয়েছে। শুধু বলতে পারি যে এই কাজ করেছে সে আপনাদের পরিচিত। তার নাম আমি যদিও  আপনাকে বলবো না, কিন্তু  আপনি তার পরিচয় পেয়ে যাবেন। শীঘ্রই সে পাগলের মতো আচরণ করবে। তার অপ্রকৃতস্থ  আচরণ আপনাকে তার পরিচয়ের জানান দেবে। “

শয়তানের সহায়তা নিলে শয়তান সহজেই সাড়া দেয়,কিন্তু সবশেষে একটি অশুভ প্রতিক্রিয়া সাহায্য গ্রহণকারীর ওপরও প্রভাব ফেলে।

সেদিনই ভেনাস মারা যায়। ভেনাস মারা যাবার পর থেকে  তার বাবা অনেক কিছুই  বিশ্বাস করতে শুরু করে যার বা যেসবের পদার্পণ সে আগে  মানতেন না। ভেনাসের বাবা বুঝতে পেরেছিল  কে এই কাজ করেছে। মেয়ের মৃত্যুর প্রায় সপ্তাহ খানেক পর ভেনাসের  বাবার কাছে একটি ফোন কল আসে। ফোন কলটা ছিল তার ভাইয়ের অর্থাৎ ভেনাসের চাচার। ফোন কল করে তিনি বলেন,” সাজ্জাদ পাগলের মতো বাড়ির সবকিছু ছুড়ে ছুড়ে ফেলছে। কোন কথা না বলে হাতের কাছের সবকিছু নষ্ট করছে। সে কোন কথাই বলতে পারছে না।“

সব ভেনাসের বাবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে কার কারনে ভেনাসকে এই অস্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করতে হয়েছেকোন সে অদৃশ্য হাত, কোন অদৃশ্য কারন,কিভাবে মারা গেল ভেনাসএটাই তাহলে সেই black  magic বা কাল জাদু অথবা কৃষ্ণ- কারু।