সম্প্রীতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং আমাদের দায়বদ্ধতা

Now Reading
সম্প্রীতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং আমাদের দায়বদ্ধতা

প্রেক্ষাপট ও সমসাময়িক চিন্তা!!!

দেশে এই মূহর্তে ঠিক কি চলছে তা আমরা সবাই কম বেশি জানি। তবে কেন চলছে তার ধারণা আমরা কমই রাখি। যেমন কয়েকদিন আগে বনানিতে একটি ঘটনা ঘটেছিল। যা নিশ্চয় ন্যাক্কারজনক ও সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনার মধ্য একটি। এখানে ধর্ষকদের বিচার চেয়ে আমরা যতটা সোচ্চার হয়েছি লেগেছি তার প্রতিকার চেয়ে এক ভাগ ও  সোচ্চার হয়নি। ধর্ষন এর ঘটনায় ধর্ষক নিশ্চয় শাস্তি প্রাপ্য। তবে আসলে  কি ধর্ষকের উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে?  বা আদো কি বিচার হচ্ছে ? আমরা এইসব বিষয় নিয়ে সাধারণত ভাবিনা। বা ভাবতেও চাইনা। আমরা মনে করি বিচার চাওয়াতেই আমাদের দায়বদ্ধতা শেষ। এক বছর আগে তনু হত্যার বিচার চেয়ে আমরা ফুসে উঠছিলাম। এক কথায় পুরো দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিলাম। পরে তদন্ত কমিটি ও গঠন হল। আমরা দুই মাস  Justice For Tanu বলে বলে চিল্লাইতে থাকলাম । কিন্তু দুইমাস পর আমাদের কাছ থেকে তনু নামক শব্দটা যেন এক প্রকার হারিয়ে গিয়েছে। আমরা এখন আর খোঁজ ও রাখিনা তনুর মামলার বর্তমান অবস্থা। আমরা খোঁজ রাখিনা আদৌ কি মামলা টা আছে নাকি হারিয়ে গেছে আদালতের নথির তলায়।

এইভাবে প্রতি বছর নতুন নতুন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে । আমরা ও বিচার চেয়ে যাচ্ছি দুই থেকে ৩ মাস। এর পর আমরা ভুলেই যায় যে দুইমাস আগে এইরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। এর পর ঘটনার শিকার পরিবার গুলো তাকিয়ে থাকে ন্যায় বিচারের আশায়। কিন্তু দেশের মানুষের অগোচরে বিত্তশালী বা ক্ষমতাশালী অপরাধীরা পার পেয়ে যায় । কারণ দেশের মানুষ যদিও মামলার শুরু করে দিয়েছিল তবে শেষ দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেনি।  যার কারণে শেষটা হয় তাদেরই (অপরাধীর) ইচ্ছে মত।

এখন দেশের মানুষ বনানীর ঘটনাটির মাঝে গভীর ভাবে ডুবে আছে । যার মেয়াদ হয়ত আর এক মাস। তার পর আমরা ভুলেই যাব এইরকম কিছু একটা আমাদের দেশে ঘটেছিল । তারপর ধর্ষকেরা বাবা বা  মামার জোরে বের হয়ে যাবে।  এরপর তারা  আবার এমন ঘটনার জন্ম দিবে। আবার আমরা ফুসে উঠব  কয়েকদিনের জন্য আবার হারিয়ে যাবে সময়ের গভীরে।

আর যদি এইভাবে আমরা শুধু বিচার চাইতে থাকি আর তারা পার পেতে থাকে তাহলে কিন্তু ধর্ষন সহ অন্যন্য অপরাধের শাস্তি কখনোই হবেনা। আর শাস্তি কিন্ত কোন অপরাধের শেষ করতে পারেনা। হয়ত ১০০ জনে ৫ জনের শাস্তি হবে বাকি ৯৫ জন আবার বের হয়ে অপরাধ করেযাবে এইসব সমস্যা  প্রতিরোধের জন্য আমাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে গর্জে উঠা উচিত । তাহলে এইসব সমস্যা কিছুটা কম্বে বলে আমি মনে করি।

আমাদের ধর্ষণ এর মত হাজারো সমস্যা বা অপরাধ রয়েছে। যা প্রতিনিয়ত আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন কে ব্যাহত করে তুলছে। আমরা মাঝে মাঝে এসব সমস্যা থেকে সামাধানের জন্য আন্দোলন করি রাস্তায় নামি গাড়ি ভাঙ্গি। এইসব সমস্যা সামাধানের জন্য নিজেরা কখনো উদ্যোগি হয়না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে যেন নিজের দায়টুকু থেকে মুক্ত হয়ে যায়। কিন্ত না এইভাবে আসলে দায় থেকে মুক্ত হওয়ান যায়না। একটা সমস্যা বা অপরাধ সরকারের ছেয়ে কিন্ত আমাকে বেশি ক্ষতি করে যাচ্ছে।  এই সমাজের কাছে সরকার যতটা না দায়বদ্ধ তার ছেয়ে বেশি দায়বদ্ধ আপনি নিজে। সুতারাং সরকারের দিকে না তাকিয়ে নিজের মত করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।

এইভাবে এগিয়ে না  আসলে আমাদের এই সমসাময়িক সমস্যার সামাধান হবেনা। আমাদের চাইতে হবে এর প্রতিকার। নিজের মধ্য অপ্রাধ প্রতিরোধের শক্তি গড়ে তোলতে হবে।  আমাদের বুঝা উচিত শুধু বিচার চাইলেই সমস্যার সামাধান  হয়না।  আমাদের বিচার এর সাথে সাথে যাতে ভবিষ্যতে এইরকম ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

আমাদের সমাজে যেসব সমস্যা প্রকট আকারে বিস্তার করে আছে সেগুলা নিয়ে আমাদের বসে থাকা উচিত নয়। আমাদের উচিত এসব সমস্যার মূল ধংস করা।

একটি গাছের যেমন ঢাল ছিড়লে আবার সেই গাছে পুনরায় ঢাল জম্মায়  । তেমনি আমরা সারা বছর আন্দোলন করে যতই সমস্যার ঢাল কাটিনা কেন এর সামাধান হবেনা । আমাদের উচিত এসব সমস্যার মূল খুজে বের করা।

সারা বছর লোক দেখানো আন্দোলন না করে যদি আমরা অপরাধ প্রতিরোধে মাসে একদিন করে ও সময় দিয় তাহলে আর ৫ বছর পর আমাদের প্রেসক্লাবের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়াতে হবেনা । আর এর জন্য প্রয়োজন আমাদের নিজস্ব চেতনাবোধ । আমি যদি নিজে গর্জে উঠি তাহলে আমার কাছে দেখে আরেকজন গর্জে উঠবে এই ভাবেই সবাই একদিন সোচ্চার অপরাধের  বিরুদ্ধে।

একটা জিনিস খেয়াল করছেন কিনা জানিনা আমাই কিন্ত এইখানে অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বলছি অপরাধীর নয়। কারন অপরাধ ই অপরাধীর জম্ম দেই। তাই অপরাধ যদি নির্মুল করতে পারি তবে  অপরাধী আর জন্ম নিবেনা ইনশাল্লাহ।

তাই আসুন সবাই আজ থেকে অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি