ব্রেকআপ

Now Reading
ব্রেকআপ

ফোনটা পিক করতেই ওপাশ থেকে একটি শব্দ ভেসে এলো ব্রেক আপ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাইনটা কেটে গেল।
উফ সিট বলে চোখে মুখে রাজ্যের বিরক্তি প্রকাশ করে সোহাগ একটা সিগারেট বের করে যেই ধরাতে যাবে, তখনই ঘটল আরেক বিপত্তি, দিয়াশলাইটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাগে একরকম গজরাতে গজরাতে হোস্টেলের ডান দিকের বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। চাঁদনী রাত আকাশে তারার মেলা। তারাগুলো মিটিমিটি করে জ্বলছে নাকি হাসছে ঠিক সেই হিসাবটা সোহাগ আজো মেলাতে পারেনি। তাই তো তারাদের সাথে মিল রেখে মুন্নীকে মুন বলে ডাকে। আজো সোহাগ মুন্নীর ভেতরের মুন্নীটাকে আবিষ্কার করতে পারেনি। মুন্নীর সব কিছুই সোহাগের ভালো লাগে; কিন্তু মুন্নীর হঠাৎ কোনো কারণবশত রেগে যাওয়াটাই বড্ড বিরক্তি লাগে। মুন্নীর কথামতো আজকের বিকেলটা তার সাথেই কাটিয়েছে বেশ হাসি খুশিই একটা মুড ছিল; কিন্তু হঠাৎ কী এমন হলো যে, মধ্যরাত্রে ব্রেক আপ বলে তিন বছরের সাজানো প্রেমটাকে শেষ করে দিবে। সোহাগ অনবরত ঘামছে কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না, যেই টিস্যু বের করতে যাবে, ঠিক সে সেসময় আবারো মুন্নীর ফোন। চটজলদি সোহাগ পিক করেই বলে উঠল, জান! তোমার কী হয়েছে? কোনো রকম উত্তর না দিয়ে মুন্নী বলে উঠল, কাল তুমি সকাল ৯টায় টিএসসিতে চলে আসো, শেষ বোঝাপড়া আছে। নেশাটা বড্ড বেড়েই চলছে, কাল কলেজের ফরম ফিলাপের শেষ দিন, টাকাটা এখনো ব্যবস্থা হয়নি, ফরম ফিলাপ না হলে এক ইয়ার লস হয়ে যাবে। টিউশনির বেতনটা যথাসময়ে না পাওয়ায় একটি বিশ্রী অবস্থায় পড়েছে সোহাগ। কারো কাছে হাত পাতার অভ্যাসটা সোহাগের ছোট থেকেই নেই। দুই বেলা না খেয়ে থাকলেও কারো কাছে ধার করবে না। সোহাগের এই ব্যাপারটা মুন্নীর ভীষণ পছন্দ। না, কোনোভাবেই ঘুম আসছে না, সব টেনশন সোহাগকে ঘিরে ধরছে। তবু ঘুমানোর জোর চেষ্টা চালাল সোহাগ।
ক্রিংক্রিং শব্দে সোহাগের ঘুম ভাঙলে ফোনটা পিক করতেই ওপাশ থেকে মুন্নীর তাড়া, এখন কয়টা বাজে? আমি টিএসসিতে দাঁড়িয়ে আছি বলেই লাইনটা কেটে দিলো। দ্রুতগতিতে সোহাগ রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ল।
বেশ রাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুন্নী, সোহাগকে দেখতেই রাগের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে বলতে লাগল দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনো ছেলের সাথে আমার রিলেশন থাকতে পারে না। এই শেষ দেখা তুমি আর কোনো দিন আমার সাথে যোগাযোগ করবে না। তোমার সাথে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই,আজ থেকে ব্রেক আপ। যেতে যেতে শুধু একবার সোহাগের দিকে ফিরে তাকাল। ভ্যানিটিব্যাগটি ফেলে যেতে দেখে সোহাগ চিল্লাতে লাগল তোমার ভ্যানিটিব্যাগটা তো নিয়ে যাও। মুন্নী শুনেও না শোনার ভান করে চলে গেল। সোহাগ ভ্যানিটিব্যাগটি হাতে নিয়ে খুলতে গিয়ে দেখল ভেতরে চার হাজার টাকা। টাকাটা দেখে হঠাৎ সোহাগের ফরম ফিলাপের কথা মনে পড়ে গেল। সেই টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ করে, মলিন মুখে বাসায় ফিরল। ভ্যানিটিব্যাগে মুন্নীর ফোন, ভ্যানিটিব্যাগটি দিয়ে আসা দরকার বলে যেই সোহাগ উঠতে যাবে, ঠিক সেই সময় মুন্নীর ফোন। বেশ নরম গলায় বলল, তুমি কোথায়? আমি বাসায়। আর হ্যাঁ, শোন তোমার ভ্যানিটিব্যাগের টাকাটা খরচ করে ফেলেছি। কয়েক দিন পড়েই দিয়ে দিব প্রমিজ, রাগ করো না লক্ষ্মীটি। ওপাশ থেকে একটি কথাই ভেসে এলো তোমার সাথে কি আমি রাগ করতে পারি। এপাশ থেকে সোহাগকে বেশ খুশি খুশি লাগছে, মুখে বেশ একটা চওড়া হাসির রেখা দেখা গেল।