কিভাবে অলসতা অদূর করবো ?

Now Reading
কিভাবে অলসতা অদূর করবো ?

যত দিন যাচ্ছে আমরা ততো অলস হয়ে পড়ছি না ভালো লাগে পড়তে না ভালো লাগে খেলতে না অন্য কিছু করতে । সারাদিন কাটে এই অনলাইন আর ফেসবুকে । অলসতা থেকে বের হতে চাচ্ছি কিন্তু
পারছিনা । আসুন এই সমস্যার সমাধান বের করি
অলসতা আসলে কি ?
প্রাচীন কাল থেকেই অলসতা চলে আসছে
ইতিহাসে দেখা যাই আগের যুগে মানুষ ৮০% ঘুমিয়ে শুয়ে বসে কাটাতেন কারন তারা শক্তি সঞ্চয় করে রাখতেন । কারন তাদের পরবর্তী খাবারের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না । আর ২০% পরিশ্রম করতেন
যদিও আমাদের খাবারের অনিশ্চয়তা নেই তবুও এই অভ্ভাস আমাদের এখনো রয়ে গেছে

অলসতা আসলে কথা থেকে আসে বা কিভাবে কাজ করে
আমাদের মস্তিষ্কের ডোপামিন নামক এক হরমোন ক্ষরিত হয় যেটা আমাদের যেকোনো ইচ্ছা শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
একটা জিনিস লক্ষ করুন ফেসবুক বা গেম খেলতে কিন্তু আমরা অলসতা করি না, কিন্তু পড়ালেখা করতে অলসতা করি কারণ আমরা সেখান থেকে প্রতি নিয়ত কিছু আনন্দ পাচ্ছি যা আমাদের ডোপামিন হরমোনকে বাড়িয়ে দেয় তাই সেখানে অলসতা আসে না।
আবার আমরা পরীক্ষার আগে সবাই হুড়োহুড়ি করে পড়তে বসি, কারণ তখন আমাদের মস্তিষ্কে হরমোন ক্ষরণ বেড়ে যায় অর্থাৎ পড়লে পাস্ করবো আর না পড়লে ফেল করবো।
পৃথিবীতে আজ যারা সাফল্য অর্জন করেসেন তারা কেউ অলস ছিলেন না, তারা সবাই পরিশ্রমী ছিলেন। তাই আপনি জীবনে উন্নতি চাইলে আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে । কথায় আছে ”পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি স্বরূপ” । তবে এটার একটু ভুল আছে আর যদি এটা সত্য হতো তবে গাধা হতো বোনের রাজা বা শ্রমিকরা থাকতো সব থেকে সুখে আসলে ”সঠিক পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি স্বরূপ”আবার আমি আপনাদের কিছু

টিপস দেব যেগুলো ফলো করলে আপনি খুব সহজেই অলসতা দূর করতে পারবেন
১।  বিছানা থেকে দূরে থাকুন , আমরা সারাদিন যত কাজ করি তার ৯০% নিয়ন্ত্রণ হয় সাবকনসিয়াস
মাইন্ড দ্বারা অর্থাৎ সেগুলো আমাদের ভেবে ভেবে করতে হয় না সেগুলো অটোমেটিক আমরা করে ফেলি .আপনি যে বিছানায় ঘুমান সেই বিছানায় সারা দিন কাটান তাহলে মস্তিস্ক আপনাকে সিগনাল দিতে থাকে এটা আপনার ঘুমানোর সময় তখন আপনার সাবকনসিয়াস মাইন্ড কনফিউস হতে থাকে আর আপনার সারা দিন কাটে অলসতার মধ্যে দিয়ে তাই ঘুম থেকে উঠার পর আবার ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত বিছানায় কোনো কাজ করবেন না.মেজেতে বা শক্ত কোনো জায়গায়বসে কাজ করুন .মস্তিস্ক সক্রিয় হয়ে উঠবে

২ ।ব্যায়াম প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করুন এতে আপনার মনকে চাঙ্গা করে তুলবে সেই সঙ্গে আপনার অলসতা কে দূর করে পরিশ্রমী করবে ফুড সেক্স এবং ব্যায়াম এই তিনটি আমাদের ডোপামিন হরমোন ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয় .
নিজের কাজ কে পুরুস্কৃত দিন এভাবে বলা চলে আপনার কাজ ক একটিভ করুন
কিভাবে পড়ালেখা একটিভ করবো বা পুরুস্কৃত করবো
ধরুন আপনার মুভি দেখে ভালো লাগে তাহলে আপনি ঠিক করুন এই ২ টা বা ৩ টা চ্যাপ্টার শেষ হলে আপনি মুভি দেখবেন তার পর একটা নাটক তারপর একটা গান একটা সময় আসবে আপনার মস্তিস্ক সেটা অভ্যাসে পরিণত করেসে এবং আপনি নিয়মিত পড়া লেখায় অভস্ত হয়ে গেসেন এবং সেটা আপনাকে ভালো লাগসে
৪। যে কোনো কাজ আনন্দের সাথে করা ,এমন বলা চলে যে কাজে আনন্দ নেই সে কাজ করাই উচিত না । কিন্তু কিছু কাজ আছে না করলেই নই যেমন আমি যদি স্টুডেন্ট হয় আর আমাকে যদি পড়া লেখা ভালো না লাগে তবু নুন্নতম শিক্ষার জন্য আমাকে পড়তেই হবে  এমন বিশেষ কিছু ক্ষেত্র থাকে যেখানে কাজ তাকে ইগনোর করা সম্ভব হয় না, সে ক্ষত্রে অন্ন উপায়ই বের করতে হবে যাতে সেই বরিং কাজটা ইন্টারেষ্টিং লাগতে শুরু করে। যার মধ্যে একটা উপায় আগেই বলে ছি নিজের কাজকে পুরস্কৃত করা, আরেকটা উপায় একই কাজ টি অন্য ভাবে করুন এমন অনেকে আছে যার বই পড়তে ভালো লাগে না কিন্তু শুনতে ভালো লাগে সে সেই বিষয়য়ে অডিও শুনতে পারে ।আবার কারো ভিডিও দেখতে ভালো বসে সে সেই বিষিয়ে টিউটোরিয়াল বা ভিডিও দেখতে পারে হতে পারে সেগুলো পড়ালেখার কোনো বিষয় বা উপন্যাস কিংবা গল্প বা কোনো ইতিহাস জানবেন ।দেখবেন সেই কাজটাই অনেক সহজে এবং তাড়াতাড়ি হৈয়ে গেসে যখন আমরা কাজ করে ইন্টারেস্ট পাই সত্যি অলসতা তখন অনেকটা দূর হয়ে যাই
৫। একই কাজ অনেক সমন ধরে করবেন না কিছু সময় নিয়ে করুন ।একই কাজ বার বার বা অনেক সময় ধরে করলে আমাদের মস্তিস্ক নতুন কোনো তথ্য বা সিগনাল পাই না যা আমাদের কাজ কে বোরিং করে তোলে ।তাই কিছুক্ষন পর পর কাজের ধরণ পরিবর্তন করুন দেখবেন যেকোনো ক্যই অনেক সহজ মনে হবে
একটা প্রবাদ আছে
”Everything is easy when you crazy
Nothing is easy when you lazy”
তাই যেকোনো কাজ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে করুন দেখবেন সব কাজই আপনার সহজ মনে হচ্ছে
আর কাজ সহজ মনে হলেই আপনার অলসতা দূর করতে পারবেন ।আর এগুলো মেনে নিজে কে একবার পরিশ্রমী করে তুলতে পারলে আপনি চাইলেও আর অলসতা করতে পারবেন না
এই ৫ টি ফর্মুলা নিয়মিত মেনে চলুন দেখবেন অলসতা দূর হয়ে গেসে