বাংলাদেশকে নিয়ে আল-জাজিরার চক্রান্ত ?

Now Reading
বাংলাদেশকে নিয়ে আল-জাজিরার চক্রান্ত ?

আল-জাজিরার নাম শোনেনি এমন ব্যক্তি পাওয়া মুশকিল, ছোট বাচ্চারাও হয়তো টিভি চ্যানেল ঘোরাতে ঘোরাতে আল-জাজিরা টিভি চ্যানেলের নাম মুখস্থ করে ফেলেছে। আল-জাজিরাঃ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কাতারের একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, যারা কিনা হঠাৎ বাংলাদেশের পতিতালয় নিয়ে গবেষণায় লেগে পড়েছে!

সারা দুনিয়ায় এত বিষয়বস্তু থাকতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ভেতর এদের এত সমস্যা আর কামড়াকামড়ি ছেড়ে হঠাৎ এরা আমাদের দেশের দৌলতদিয়ার পতিতাপাড়া নিয়ে কেন উঠেপড়ে লাগলো ঠিক বোধগম্য নয় আমার কাছে।

দুইদিন আগে তথা জুলাই এর ২৯ তারিখে আল-জাজিরার ইংরেজি ভেরিফাইড পেইজে হঠাৎ নজর পড়লো Prostitution is usually hidden away, but not here – এই শিরোনামে একটি ভিডিও যেখানে মূলত একটি ট্রেইলার দেখানো হয়েছে সেই পতিতালয় নিয়ে। ভিডিওর একদম শেষে লেখা Watch – Bangladesh’s biggest brothel……

এরপর সেই ভিডিওরই কমেন্ট বক্সে প্রথম কমেন্টে পুরো ভিডিও সহ ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করা হয়। ওয়েবসাইটে ঢুকেই প্রথমে পুরো ভিডিও চোখে পড়লো, এরপর ইংরেজিতে কিছু কথা যা কিনা ভিডিওতে দেখানো সার্বিক অবস্থার সারমর্ম।

মূল আর্টিকেলের প্রথম লাইন বাংলায় অনুবাদ করলে ঠিক এমনটা দাঁড়ায়ঃ

এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহত্তম পতিতালয় এবং সম্ভবত পৃথিবীরও – যা কিনা সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত কেননা এটি বাংলাদেশে বৃহত্তম হলেও বিশ্বের বৃহত্তম কখনো নয়। উদ্দেশ্য প্রণোদিত এইজন্যই বললাম কারণ It’s the biggest brothel in Bangladesh – and possibly the world – এই একটি বাক্যই পারে এই আর্টিকেলকে সার্চ লিষ্টে টপে রাখতে কারণ কেউ যখন Biggest brothel / biggest brothel in / Asia / world লিখে সার্চ করবে, প্রথম পাতাতেই এই ভিডিও চলে আসবে যা কিনা বাংলাদেশের জন্য সত্যিই অপমানজনক সাথে লজ্জাকর। নেট ঘাটাঘাটি করে দেখলাম পাশের দেশের দাদাদের কোলকাতার সোনাগাছিতেই রয়েছে প্রায় ১১০০০ যৌনকর্মী।

ডকুমেন্টারি ভিডিও হলেও আমার কথা হল, বাংলাদেশের ব্যাপারে তুলে ধরার মত আরো অনেক ব্যাপার থাকা স্বত্ত্বেও তারা কেন এই ধরণের ভিডিও তৈরী করলো? তাছাড়া এটাই প্রথম নয়, এর আগেও তারা আমাদের দেশের ব্যাপারে এমন নেতিবাচক কথা লিখে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশকে ছোট করেছে। ভিডিওর নিচে মানুষের কমেন্টগুলো পড়লে ইচ্ছে করে আল-জাজিরার ঐ রিপোর্টারকে কষে কষে মুখে আর পেছনে কয়েকটা লাথি মেরে বলি আর এই দেশে আসবি না, নিজেদের চরকায় তেল দে, নিজেরা তো কফির কাপে মদ গিলিস, এখন আসছিস অন্যের পাছায় কতটুকু ময়লা আছে সেটা দেখার জন্য।

জিসান আসিফ নামক বাংলাদেশী একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সেখানে মন্তব্য করেছেন ঠিক এমনটাঃ

Al-jazeera doesn’t see anything except brothels in Bangladesh. There have a lot of bigger problems in Bangladesh rather than prostitution such as drugs, child labor, political unrest, radical Islamic movements etc. My request to Al-jazeera that, stop portraying Bangladesh as country of harlot. Go to Thailand and see what is happening in there.

সত্যি কথা হলো, একটা মুসলমান দেশ যেখানে কিনা ৯০ শতাংশ মুসলমানের বাস, সেখানে পতিতালয় থাকাটা অবশ্যই একটা অভিশাপের মধ্যেই পরে। ক্ষমতায় একজন নারী থাকলেও দেশে সত্যিকার অর্থেই নারীর কতটুকু ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে সেটা এই ভিডিও বা ডকুমেন্টারি আমাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উচিত এদিকে ভালোভাবে নজর দেয়া, আজ দেশে আক্ষরিক অর্থে নারী শিক্ষা, ক্ষমতায়ন কিংবা নারীর মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকলে এমন অভিশপ্ত স্থান হয়তো দেখা যেতো না, তাছাড়া মানুষের মাঝে ধর্মীয় আচার বোধ কমে যাওয়াতে পাপাচার বেড়ে গিয়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশী- ফলে কিশোর বয়সী ছেলেরাও সেখানে আজকাল নিয়মিত খদ্দের।

কিন্তু এতকিছুর পরেও আল-জাজিরার কেন এত মাথা ব্যথা হলো এই বিষয়কে এত দক্ষতার সাথে তুলে ধরার? আল-জাজিরার তো উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা ইসরাইল-আমেরিকাকে তুলোধুনা করার, কিন্তু সেটা নয়, বরং এই চ্যানেল ঐ ইহুদী নাসারার পরম বন্ধু। এরা নামে আল-জাজিরা কিন্তু কাজে ইহুদী-নাসারা, বেধর্মীর পা-চাটা কুত্তা। কি, আমার কথা খারাপ শোনাচ্ছে? আমি দুঃখিত আসলে, আমার দেশকে এভাবে উপস্থাপন করাটা আমার কাছে অত্যন্ত অপমানজনক। কাতার বর্তমানে যে সংকটে রয়েছে, সেদিকে এদের মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল, তা তো নয়ই দূর দেশের পতিতাপাড়া নিয়ে এদের গবেষণা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই এর জবাব দেয়া হবে ভিডিওর মাধ্যমেই, আমার দেশকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা হবে আর আমরা চুপ করে থাকবো? আমাদের সবার উচিত নিজেদের জায়গা থেকে ইন্টারনেটে এর প্রতিবাদ করা, ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করা। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের ভেতর সেই জোস দেখিনা, তাহলে কি আমরা নিজের দেশকে সেভাবে ভালোবাসছিনা, নাকি?

ভিডিওটি ফেসবুকে প্রায় ২.১ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে, ১২০০০ এর বেশি শেয়ার সাথে ২০০০ কমেন্ট, এটা একটা দেশকে ছোট করে নিজের ভান্ডার সমৃদ্ধ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বা আরব দেশগুলো এইকাজে ওস্তাদ বলা যায়, আর সেই কারণেই মূলত তাদের এই অবস্থা। নিজেদের ভেতর কাটাকাটি,  মারামারি আর আহাজারি নিয়ে ক্লান্ত হয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে নেগেটিভ প্রতিবেদন করেছে মনে হয়।

বিদেশী চক্রান্ত প্রসঙ্গ নিয়ে বলা যায় হয়তো কোনো নীরব শত্রু-দেশ নীরব ঘাতকের মত করে এভাবে বাংলাদেশকে ইমেজ-সংকটের মধ্যে ফেলতে চায়, তৃতীয় শক্তি নিশ্চিত বিরাজমান কিনা সন্দেহ থাকলেও নীরব শত্রুর অবস্থান নিশ্চিত।

সরকার বরাবর অনুরোধ রইলো, পতিতালয় এর নারীদের উদ্ধার করার মাধ্যমে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে পতিতালয় বন্ধ করে দেয়ার অনুরোধ রইলো আর যুবক-যুবতীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ ধর্মীয় নীতি মেনে চলা এবং সামাজিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়া।