পুরানো তিমির [১৫তম এবং শেষ পর্ব]

Now Reading
পুরানো তিমির [১৫তম এবং শেষ পর্ব]

অফিস থেকে সপ্তাহ খানেকের ছুটি নিয়ে বাড়ি এলাম।কাল মেয়ে দেখতে যাব।আশার নাম্বারটা আজ পনের দিন ধরে বন্ধ।তার সাথে কিছুতেই যোগাযোগ করতে পারছি না।

মা বেশ হাসিখুশি আছেন।বাবাও মনে মনে অনেক ফুরফুরা মেজাজে আছেন।শেফার সাজগোজ আর শপিং দেখে বুঝা যাচ্ছে সেও মহানন্দে আছে।ঘরের মধ্যে চিন্তিত ব্যক্তি শুধু আমি।যার মনে কোন আনন্দ এখন পর্যন্ত দোলা দিতে পারলো না।অথচ বিয়ে আমার,সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হওয়ার কথাও আমার।সবাই এতই ব্যস্ত যে আমি যে সারাদিন মনমরা হয়ে বসে থাকি সে দিকে কারও খেয়ালই নেই।শেফাকে জিজ্ঞেস করলাম,”প্রতিদিন এতকিছু কি কিনিস?শাড়ি আর কয়টা কিনবি?গয়নাগাটি কিনতে কিনতে তো আলমিরা জ্যাম করে ফেলেছিস!”

শেফা ছোট বাচ্চাদের মত মুখ বাঁকা করে বলল,”আমার কি চার পাঁচটা ভাই আছে যে বছর বছর কিনতে পারব?ভাই একটা,বিয়েও একটা,তাই যত আনন্দ করার করে নিই।এটাই শেষ সুযোগ।“

বাহ্‌! সবাই খুব আনন্দে আছে,আর আমি বসে আছি বিরস মুখে।

শুক্রবার সকালে আমরা মেয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠলাম।বাড়িঘর ভালো।দেখে বিত্তশালী,মান-মর্যাদা সম্পন্ন মনে হয়।আমাদেরকে বড় একটা ঘরে বসতে দেয়া হল।আমরা বসলাম।খাওয়া দাওয়া করলাম।ঘণ্টা খানেক পরে মেয়েকে আনা হল আনুষ্ঠানিক ভাবে।সবাই দেখে নিল যার যার মত করে।আমি দেখে থ মেরে গেলাম।এমন একটা দৃশ্য দেখার জন্যে আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম না।কল্পনাও করি নি ভুলে।আশা যখন আমাকে মেসেজ করে বলেছিল,আমার জন্যে অপ্রত্যাশিত কিছু একটা অপেক্ষা করছে তখন আমি সেই অপ্রত্যাশিত বিষয়টা কি হতে পারে এ নিয়ে অনেক ভেবেছি।কিন্তু এখন চোখের সামনে যা দেখছি তা একবারও ভেবে দেখি নি।হা করে তাকিয়ে আছি চোখ বড় বড় করে।চেয়ে আছি অবাক দৃষ্টিতে।অনেক চেষ্টা করছি স্বাভাবিক থাকতে, কিন্তু পারছি না।আমার অবস্থা দেখে মুরুব্বীরা কানাঘুষা করছেন।মুখ টিপে হাসছেন।সব চেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন মা।তিনি খুব সন্তুষ্ট।ছেলে বউ দেখতে এসে মেয়ের দিক থেকে চোখ সরাতে পারছে না, হয়ত এটাই সেই আনন্দের উৎস।তাদের ধারনা মেয়েকে আমার খুব পছন্দ হয়ে গেছে।কনে পক্ষের একজন গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠলো, “আমাদের মনে হয় ছেলে আর মেয়েকে একান্তে একটু সময় দেয়া উচিত।ওরা নিজেদের মধ্যে একটু কথা বলে নিক।“

কথা শেষ করার দেরি সবাই উঠে চলে যেতে দেরি নাই।মুহূর্তে সবাই ঘর খালি করে বেরিয়ে গেল।এখন আমি আর মেয়েটা ঘরে একা।কেউ কিছু বলছি না।কি দিয়ে কথা শুরু করবো তাও বুঝতে পারছি না।শেষে আমিই কথা শুরু করলাম, “কেমন আছ মিনা?”

মিনা নিশ্চুপ।সোফায় কুঁজো হয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে।আমি আবার বললাম,”কিছু বলছ না যে মিনা!”

কিছুক্ষণ পর কান্নার শব্দ পেলাম হালকা।মিনা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।আমি বললাম,”কাঁদছ কেন মিনা?আমার কিছু করার ছিল না সেদিন।তখন মাত্র ইন্টারমেডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি।তুমি সেদিন হঠাৎ করে এসে বললে তোমাকে নিয়ে পালিয়ে যেতে।এতটুকু বয়সে একটা মেয়েকে নিয়ে পালাব এমন সাহস হয় নি।তাছাড়া তোমাকে নিয়ে যাব কোথায় তাও ভেবে পাই নি।“

“প্লিজ আমি এসব নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।“ মিনা গর্জে উঠলো, “সেদিনের কথা আজ এত বছর পর আবার টেনে এনে পুনরায় কথা বাড়াতে চাই না।“

আমি চুপ করে গেলাম।জীবনটা যেন এখানে এসে হুট করে থেমে গেছে।স্তব্ধ হয়ে গেছে মহাকাল।পেছনে ফেলে আসা সময় গুলো যেন আজ আবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে অজানা দুঃসাহসে।তখন সবে মাত্র কলেজে উঠলাম।কলেজের পেছনে ছোট একটা বালিকা বিদ্যালয়।মিনা তখন নবম শ্রেণীতে পড়ে।হাঁটার পথে ওকে একদিন দেখে খুব ভালো লাগলো।বন্ধুরা মিলে দুষ্টামি করে কয়দিন পেছন পেছন ঘুরলাম।প্রেম নিবেদন করলাম।মিনাও কি বুঝে রাজি হয়ে গেল।দেখতে দেখতে আবেগ জমে গেল পাথরের মত।এক সময় মনে হল ওকে ছাড়া পৃথিবীতে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।আবেগ কি সেটা হয়ত তখন ভালো করে বুঝতামও না।তবে অজানা আবেগের টানে যে ভালোবাসা মনে বাসা বেঁধেছিল তাতে একবিন্দু খাদ ছিল না।নির্ভেজাল সত্যের মত বিশুদ্ধ ভালোবাসা।

তারপর একদিন…… মিনা তখন দশম শ্রেণীর শেষের দিকে।কিছুদিন পরই এসএসসি পরীক্ষা দিবে।বেশকিছু দিন ধরে সে বলছিল,বাড়ি থেকে বিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা চলছে খুব।ভালো ভালো প্রস্তাব আসছে দেখে তার বাবা মা লোভ সামলাতে পারছে না।একদিন সকাল বেলা এসে মিনা বলল,”চল আমরা পালিয়ে যাই।“

আমার সেদিন সাহস হয় নি।পিতামাতা,সমাজ পরিবার সবকিছুর মুখের উপর আঙুল তুলে মিনাকে নিয়ে নিজের পৃথিবী সাজানো সম্ভব হয় নি।তারপর থেকে মিনা উদাও।আর কোন খোঁজ খবর পাই নি।কিছুদিন পর তার বান্ধবীদের সাথে কথা বলে জানতে পারি,ওর বিয়ে হয়ে গেছে।তারপর থেকে মনে হারানো ভালোবাসার বিশ্রী ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছি।আজ…… এতদিন পর তাকে আবার এভাবে খুঁজে পাব এমনটা কখনো ভাবি নি।

মিনা আমি দুজনেই চুপচাপ বসে আছি।আমি নিরবতা ভাঙ্তে বললাম, “কিছু তো বল।এভাবে চুপ করে বসে আছ কেন?”

“কি বলব?”

“এতদিন পর দেখা হল,কিছুই বলার নেই?”

“দেখা না হলেই মনে হয় ভালো হত।“

“এমন কথা কেন মিনা?”

“কেমন কথা? এখন তো তুমি আমাকে বিয়ে করতে রাজি তাই না? অথচ আজ সকালে ঘুম থেকে উঠার সময়ও তুমি এই বিয়েতে রাজি ছিলে না।“

“তখন তো আমি জানতাম না যে তুমিই আশা।“

“জানাতে আমিও চাই নি।যেদিন আমাকে ফোন করেছিলে সেদিন তোমার কণ্ঠ শুনেই চিনেছিলাম।ভয়ে আর কথা বলি নি,যদি চিনে যাও।“

“চিনে গেলে কি হত?”

“কিছু হত না।করুণা দেখিয়ে আমাকে বিয়ে করতে।এখন যেমন করুণা দেখিয়ে বিয়ে করবে ঠিক তেমন,”

“এভাবে কেন বলছ মিনা?করুণা হবে কেন?”

“নয়ত কি?অন্য কোন মেয়ে হলে বিয়ে করতে?হয়ত মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়ে করতে,কিন্তু এখন যেমন নিজের সদিচ্ছায় আগ্রহ নিয়ে বিয়ে করবে তখন এমনটা করতে? বল! উত্তর দাও!”

আমি নির্বাক মুখে বসে আছি।বলতে বলতে মিনা কেঁদে দিল।কিছুক্ষণ পর কান্না থামিয়ে উঠে চলে গেল ভিতর ঘরে।আমরা সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে চলে আসলাম।ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে জানলাম,মিনার আগের স্বামীর মাথায় কিছুটা সমস্যা ছিল।রাত হলেই কিছুটা পাগলাটে আচরণ করতো।তাছাড়া ভদ্রলোক প্রজননে অক্ষম ছিলেন।বিয়ের এত বছর পরও তাদের কোন সন্তান হয় নি।এই নিয়েও ভদ্রলোক ভীষণ বিষন্নতায় ভুগতেন।

তার কিছুদিন পর মুরুব্বীরা বসে বিয়ের দিন ক্ষণ ঠিক করলেন।সব আয়োজন ধীরে ধীরে প্রস্তুত হচ্ছে।মানুষের এই বিচিত্র জীবন বড় অদ্ভুত রহস্যের ভান্ডার।কখন কিভাবে বদলে যায় কেউ আগে থেকে বলতে পারে না।আমার জীবনও হঠাৎ করে বদলে গেছে।

পুরানো তিমির [১৪তম পর্ব]

Now Reading
পুরানো তিমির [১৪তম পর্ব]

কিছুদিনের মধ্যেই মা সুস্থ হলেন।তবে নতুন একটা সমস্যা নিয়েই তিনি সুস্থ হলেন।বাবার সাথে মা আলাপ করার সময় আমি শুনেছি,উনারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,এবার বাড়ি গিয়ে আশার বাড়িতে পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিক বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবেন তাঁরা।সামাজিক নিয়মে অন্য আট-দশটা বিয়ে যেমন হয়,এটাও ঠিক সেই ভাবেই হবে।প্রথমে প্রস্তাব পাঠান হবে,তারপর দুই পক্ষ একে অপরের খোঁজ খবর নিবে,সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দিনক্ষণ ঠিক করে আমরা একদিন মেয়ে দেখতে যাব।সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন।মেয়ে পছন্দ হলে হয়ত সেদিনই বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যাবে।

 

আমি এই নিয়ে বিশেষ একটা চিন্তিত নই।যা হবার হবে।আমি এক প্রকার মায়ের দিকে তাকিয়ে বিয়েতে রাজিই হয়ে গেছি।মনে মনে নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম,মা বাবা,শেফা সবার কাছেই যখন মেয়েটাকে খুব ভালো লেগেছে,মেয়েটা নিশ্চয় খুব বেশি খারাপ হবে না।যে মা পঁচিশটা বছর কষ্টে লালন করেছন,যে বাবা মাথার উপর ছায়ার মত সন্তান কে আগলে রেখেছেন,তাদের জন্য সন্তান হিসেবে এইটুক বিসর্জন দিতে পারব না___ এমনটা হতে পারে না।মনে হয়ত একটু আক্ষেপ থেকেই যাবে।কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে সব পুরুষই চাই।এটা দোষের কিছু না।আমিও বা তার ব্যতিক্রম হব কেন?

থাক,ইচ্ছাটা না হয় পরিবারের সুখের দিকে তাকিয়ে পূরণ নাই বা হল।মন্দ কি! পৃথিবীতে সব ইচ্ছা পূরণ হতে হবে এমন তো কোন কথা নেই।কিছু ইচ্ছা অপূর্ণ থাকাই ভালো।সবকিছু পেয়ে গেলে মানুষ বাঁচার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।ভাবে,সব তো পেয়েই গেলাম,জীবন পরিপূর্ণ।আর যখন আমাদের তৃপ্তি মিটে যাবে,তখন পৃথিবীর প্রতি আমাদের টান কমে যাবে,মায়া কমে যাবে।

 

পরদিন সকালে মাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে আনলাম।বাসায় নিয়ে এসে মাকে বললাম,”কিছুদিন আমার কাছে থেকে যাও মা।“

তিনি বললেন,”না থাকতে পারব না।অনেক কাজ আছে।“

 

আমি আর জোর করি নি।জানি,জোর করে মাকে রাখা যাবে না।একবার যখন মুখ খুলে বলেছেন থাকবেন না তখন হাজার চেষ্টা করেও রাখা যাবে না।বৃদ্ধ হতে হতে মানুষ শিশুদের মত অবুঝ হয়ে যায়।মনের ভিতর কেমন একটা গোঁ ধরা ভাব থাকে।

বিকেলের ট্রেনে বাবা মা,শেফা সবাইকে উঠিয়ে দিলাম।

গভীর সন্তর্পনে সযত্নে লালন করা এই জীবন যেন ট্রেনের মত অবিরাম ছুটে চলছে।চলতে চলতে একদিন সমাপ্তিতে পৌঁছাবে।সমাপ্তির শেষ বিন্দুকে মানুষ আদর করে ডাকে মৃত্যু।

চলন্ত ট্রেনের দিকে তাকিয়ে থেকে এক মুহূর্তের জন্যে ভাবনায় ডুবে গেলাম।

 

তারপর কয়েক সপ্তাহ বেশ ভালোই কেটেছে।মা সুস্থ আছেন।আমিও নিয়মিত অফিস করছি।মাথাটা কেমন যেন ঝামেলা মুক্ত হালকা মনে হচ্ছে।তারপর একদিন,মেঘলা আকাশ,বাইরে ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছে।দুপুরের দিকে অসময়ের বৃষ্টির মত শেফাও অসময়ে ফোন করে জানালো অফিস থেকে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে বাড়ি যেতে।আমরা মেয়ে দেখতে যাব।মেয়ে দেখার দিন তারিখ ঠিক হবে আজ রাতে।

আমি বেশ চমকে উঠলাম।কখন প্রস্তাব পাঠান হল আর কখন সবকিছু এতদূর এগুলো কিছুই টের পাই নি।এর মধ্যে না কি মেয়ের ভাই আমাকে এসে তিনবার দেখে গেছে।একবার নাকি আমার সাথে অপরিচিত লোক বেশে কথাও বলেছে।কিছুই ধরতে পারলাম না।নিজেকে কেমন বোকা বোকা লাগছে।

 

ঐদিন রাতে আশা আমাকে আবার মেসেজ দিল।আমি মোবাইলটা হাতে নিয়ে মেসেজটা পড়লাম,

“আপনি বলেছেন আপনার পরিবার থেকে সরে আসতে,আমি সরে এসেছি।কিন্তু আপনারা এসব কি শুরু করেছেন?”

আমি ফিরতি একটা মেসেজ পাঠালাম,”আপনি তো জানেন মা আমার কথা শুনবেন না।এখানে আমার কিছু করার নেই।আমাকে যদি আপনার পছন্দ না হয় তাহলে আপনি আপনার পরিবারকে বলতে পারেন।তখন উনারাই বিয়ে থামানোর ব্যবস্থা করবেন।“

কিছুক্ষণ পর আবার মেসেজ আসলো,”দেখুন এটা আমার দ্বিতীয় বিয়ে।এখানে আমার মতামতকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে না।“

এভাবে আমাদের মধ্যে মেসেজ আদান প্রদান চলছে,

“আপনি আমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন না কেন?”

“সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।দয়া করে আমাকে দেখতে আসবেন না প্লিজ।সহ্য করতে পারবেন না।তখন নিজেই বিয়ের জন্য জোর করবেন।“

“নিজেকে খুব রূপবতী মনে করেন আপনি।আপনার ধারনা আপনার চেয়ে সুন্দর মেয়ে পৃথিবীতে আর নেই।সব পুরুষ আপনার জন্যে পাগল হয়ে থাকে।হয়ত আপনি খুব সুন্দরী নারী।তবে এতটা অহংকারও ভালো নয়।“

“অহংকার করছি না।আপনি বিষয়টা বুঝতে পারছেন না।একটা অপ্রত্যাশিত কিছু অপেক্ষা করছে আপনার জন্যে।“

“বেশ তো,দেখি না সেই প্রত্যাশিত বিষয়টা কি।“

“আপনি তাহলে দেখতে আসবেন?কিছুদিন আগে আপনিই আমাকে নিষেধ করেছিলেন,বলেছিলেন আমার প্রতি আপনার কোন ইন্টারেস্ট নেই।“

“দেখুন আমি আপনাকে নিয়ে খুব একটা ভাবি নি।এখনও যে খুব বেশি ভাবছি এমনও না।আমার মায়ের জন্যে ভাবতে বাধ্য হচ্ছি।আপনি জানেন মা আপনাকে খুবই ভালোবাসেন।অনেক পছন্দ করেন।“

“বাহ…ধারুণ! শুধু মার মন রক্ষা করতে গিয়ে একটা মেয়েকে বিয়ে করে তার লাইফটা এভাবে নষ্ট করে দিবেন?”

“আরে আশ্চর্য! লাইফ নষ্ট হবে কেন?”

“হবে না? নিজ থেকে পছন্দ করে বিয়ে করলে একটা মেয়েকে আপনি যতটুকু ভালোবাসতে পারতেন,শুধুমাত্র মায়ের মন বাঁচাতে বিয়ে করলে অতটুকু ভালোবাসতে পারবেন? একটা মেয়ে কত স্বপ্ন নিয়ে স্বমীর ঘরে পা রাখে আপনি জানেন? মেয়ে হলে বুঝতেন।“

 

আমি কোণঠাসা হয়ে গেলাম।এরপর কি উত্তর দিব ভাবতে পারছি না।মেয়েটার কঠিন যুক্তির কাছে আমি পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য।শুধুমাত্র মায়ের মন বাঁচাতে একটা মেয়েকে বিয়ে করলাম,পরে দেখলাম দুজনের মনের মিল নেই।তখন কি আমরা সুখি হতে পারব?আমি না হয় নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিব যে____ মেয়েটাকে বিয়ে করাতে অন্তত আমার মা ভালো আছেন।এই ভেবে হয়ত আমি নিজ মনে তৃপ্ত থাকব।কিন্তু ঐ মেয়েটা? সে তখন নিজেকে কি বলে সান্ত্বনা দিবে?

 

আমি দোটানায় পড়ে গেলাম।উভয় সংকট,কি করব বুঝতে পারছি না।বিয়েটা কি করা উচিৎ হবে? সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।একদিকে মা,অন্যদিকে নিজ দাম্পত্য জীবনের ভবিষ্যৎ।

পুরানো তিমির [১০ম পাঠ]

Now Reading
পুরানো তিমির [১০ম পাঠ]

 

আজিজুর রহমানের বাড়ি থেকে সোজা ক্লিনিকে ফিরে এলাম।মায়ের ঘুম ভেঙ্গেছে।তিনি হেলান দিয়ে বসে আছেন বিছানায়।মাথার কাছে শেফা দাঁড়িয়ে আছে পায়সের বাটি নিয়ে।আমাকে দেখে মা একটু বিরক্ত হলেন।আমি এখনো এখান থেকে যাচ্ছি না কেন,এটাই সেই রাগের কারণ।মা’র সাথে কোন কথা না বলে চলে এলাম বারান্দায়।বাবা বসে আছেন শেফার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে।বাবার সাথে আশাকে নিয়ে কথা বলার সাহস কোনদিন হয় নি।তবু আজ কথা বলার সাহস নিয়ে সামনে গিয়ে বসলাম।বাবা আমার দিকে খেয়ালও করলেন না।এক মনে বারান্দার ফাঁকে আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছেন।ডুবে আছেন একটা চিন্তার ঘোরে।আমি কাছে ঘেঁষে কোমল গলায় ডাক দিলাম।

“বাবা…”

“হু…”

বাবা আমার দিকে তাকালেন।শান্ত,নিমীলিত স্থির চোখ।দেখলে মায়া লাগে।

“নাস্তা করেছ বাবা?”

বাবা মুখ দিয়ে কিছু বললেন না।শুধু না সূচক মাথা নাড়লেন।আমি বললাম,“বেলা অনেক হয়েছে।কিছু খেয়ে নাও বাবা?”

বাবার ভাবের কোন পরিবর্তন হল না।তিনি আগের মতই বসে আছেন।আমি আশার কথাটা বলতে গিয়েও বললাম না।গলায় কেমন যেন আটকে গেল।এমন ভারসাম্যহীন মানসিক অবস্থায় কথাটা তুলতে বিবেকে বাঁধা দিচ্ছে।আমি উঠে দাঁড়ালাম।বারান্দার দরজায় দিয়ে যখন বের হব তখন বাবা খুব ক্ষীণ স্বরে ডাক দিলেন, “আহাদ……”

আমি ফিরে তাকালাম।বাবা আহত কণ্ঠে বললেন,”আশার কোন খোঁজ পেয়েছিস?”

আমি চমকে উঠলাম।আমি যে আশাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি এই কথা কাউকে বলি নি।এমন কি শেফাকেও না।বাবা টের পেলেন কিভাবে সেটা নিয়ে একটু ভাবলাম।পিতামাতাদের কাছে কি স্রষ্টা ঐশ্বরিক কোন ক্ষমতা দিয়ে রাখেন?উনারা কেমন করে জানি সন্তানের মনের অবস্থা বুঝে যান।আমি যখন বাবা হব,তখন আমিও কি সন্তানের মন এমন করে বুঝে যাব?

 

বাবার দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।বাবা দ্বিতীয় বারের মত প্রশ্ন করলেন, “কোন খবর পাস নি?”

“না বাবা।তুমি কিছু জানো?”

“না…” বলতে গিয়ে বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।আমি সোজা বেরিয়ে গেলাম।আসার সময় শেফাকে বলে আসলাম, “বাবাকে কিছু খাইয়ে দিস।“

 

আকাশে মেঘ গুলো আরও বেশি জমাট বদ্ধ হয়েছে।কালো মেঘে ঢেকে গেছে পুরো আকাশ।হয়ত ঝুম বৃষ্টি নামবে।আমি ফুটপাত ধরে হাঁটা ধরলাম।উদ্দেশ্যহীন পথ চলা।যার কোন গন্তব্য নেই।মানুষের মন খারাপের সময় গুলো কেমন অদ্ভুত! মন যখন অশান্ত হয়ে পড়ে,মানুষ তখন উদ্দেশ্যহীন কাজে সান্ত্বনা খুঁজে পায়।

 

হাটতে হাটতে একটা খোলা মাঠ পেলাম।ছোট্ট।তেমন বেশি বড় না।এক কোণায় সারি করে লাগানো কয়েকটা গাছ।সেগুলো ছায়া ছড়াচ্ছে।সেই শীতল ছায়ার পরশে গাছ তলায় কয়েকটা বেঞ্চ দেয়া।আমি একটা তে গিয়ে বসলাম।ঘড়িতে তখন বেলা বারোটার মত বাজে।হাতে কোন কাজ নেই।কি করা যায় ভাবছি।মানুষের কাছে ব্যস্ততা যেমন অসহ্যকর,দম ফেলার সুযোগ থাকে না; তেমনি নিরানন্দ অবসরও অসহ্যকর।একটা বিচ্ছিরি অস্বস্তিতে দিন কাটছে আমার।একবার ভাবলাম ঢাকায় ফিরে যাই।এদিকে যা হবার হবে।আশা মেয়েটাকে যখন খুঁজে পাচ্ছি না,তখন এখানে বসে থেকে কি লাভ?

পরক্ষণেই আবার মন মানে না।মাকে এমন অবস্থায় রেখে যাই কি করে! কিছু একটা বিহিত করতেই হবে।

খুব বড় ভুল করে ফেলেছি।আশার স্বামী থেকে তার সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে আসা উচিত ছিল।আসল নামটা পর্যন্ত জানলাম না।মেয়েটার স্বভাব সম্পর্কে জানলে কিছু একটা অনুমান করতে পারতাম।

 

এসব ভাবতে ভাবতে আমার কি হয়েছে জানি না।চোখ মেলে দেখি সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।চারপাশে আবছা অন্ধকার নেমেছে।মনে করার চেষ্টা করলাম দুপুরে ভাবতে ভাবতে আমি এখানে ঘুমিয়ে পড়েছি।

 

ফুটপাত ধরে পুনরায় ক্লিনিকের দিকে হাঁটা দিলাম।সারাদিন আকাশে মেঘ গুলো গড়াগড়ি খেলে এতক্ষণে বৃষ্টি নামলো।ঝুম বৃষ্টি।আমি বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে হাঁটছি।বৃষ্টির শীতল পরশে কেমন একটা স্বস্তির অনুভূতি আছে।

খেয়াল করলাম,আমার সাথে আরও একজন মানুষ হাঁটছে।পাশাপাশি না।একটু পিছনে।অন্ধকার নেমে এল,তার উপর আবার এমন বৃষ্টি,তাই ভালো করে লোকটার মুখ দেখতে পারছি না।

 

“আজকের এই বৃষ্টি করুণ রোদনের বৃষ্টি…” লোকটা জোর গলায় কথা বলে উঠলো,”এই বৃষ্টিতে মনের অবহেলিত স্মৃতি মনে পড়বে।কান্না পাবে খুব।“

পেছন ফিরে লোকটাকে ভালো করে দেখলাম।আজিজুর রহমান।ভিজে চুপসে আছেন।আমি হাসি মুখে বললাম,”আরে…ভাই কেমন আছেন?বৃষ্টিতে এমন ভিজছেন কেন?অসুখ করবে তো!”

“আপনার অসুখ করবে না?”

“হা হা হা……এদিকে কোথায় যাচ্ছেন?”

“কোথাও না।এমনি হাঁটছি।এমন বৃষ্টি সব সময় হয় না।তাই সুযোগ পেয়ে ভিজে নিচ্ছি।মজা লুটে নেয়ার এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে নেই।“

“ও…আচ্ছা।“

“এখনও ঢাকায় ফিরে যান নি?”

“না,কিছুদিন এখানে থাকব।ভালো লাগছে পরিবেশটা।“

“আপনার কি কাঁদতে ইচ্ছে করছে?ইচ্ছে করলে কেঁদে ফেলুন।“

আমি হকচকিয়ে গেলাম,“কাঁদছে ইচ্ছে করবে কেন?!”

“এমনি…আমার ইচ্ছে করছে,তাই আপনারও ইচ্ছে করছে কি না জানতে চাইলাম।সাধারণ অবস্থায় কাঁদলে মানুষ নানান প্রশ্ন করে।কেন কাঁদছি,কি হয়েছে…হেনতেন।বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে কাঁদলে কারও চোখে পড়বে না।তাই বৃষ্টি হলেই আমার কান্না পায়।“

মনের অজান্তে বিড়বিড় করে আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল,”অদ্ভুত…!!”

“এই পৃথিবীতে সবকিছুই অদ্ভুত ভাই।“

“আপনি অকারণে কাঁদবেন কেন?”

“সবকিছুর কারণ কি আর আমাদের জানা থাকে বলুন!”

 

আমি চুপ মেরে গেলাম।লোকটার সাথে কথায় পেরে উঠা মুশকিল।কথাটা একেবারে মিথ্যাও না।পৃথিবীর সব ঘটনার ব্যাখ্যা কি আমরা দিতে পারি?সবকিছুর কারণ আমাদের জানা থাকে কি? থাকে না।“

 

আমি আজিজুর রহমানের দিকে হা করে তাকিয়ে রইলাম।তিনি লজ্জিত কণ্ঠে বললেন,”দুঃখিত ভাই,আমি ভুল বলেছি।চোখের জল কোনদিন লুকান যায় না।“

আমি দেখে অবাক হলাম।এই ঝুম বৃষ্টিতেও আজিজুর রহমানের চোখ বেয়ে পড়া অশ্রু আলাদা করে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।কান্নার কি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য!কি বেহায়া!

 

হাঁটতে হাঁটতে ক্লিনিকের সামনে চলে আসলাম।আমি বললাম,”ভাই,গেলাম।আমার এক আত্মীয় অসুস্থ।এখানে ভর্তি করেছি।আমি এখানে আজ রাতটা থাকব।“

আজিজ সাহেব কোন কথা বাড়ালেন না।মুচকি হেসে সায় দিলেন।আমি বললাম,”বেঁচে থাকলে হয়ত আবারও দেখা হবে।ভালো থাকবেন।“

“হয়ত আর দেখাই হবে না।“

আমি মুচকি হেসে ক্লিনিকের দিকে হাঁটা দিলাম।গেইট দিয়ে ঢুকতে যাব এমন সময় আজিজুর রহমান পেছন থেকে ডাক দিলেন।আমি ফিরে তাকালাম।তিনি নির্ভীক কণ্ঠে বললেন,”আজ রাতে এই পৃথিবী বদলে যাবে…”

আমি কথাটার অর্থ বুঝার চেষ্টা করছি।আজিজ সাহেব সোজা সামনের দিকে হাঁটা দিলেন।সাহসী সৈনিকের মত উদ্দীপ্ত পদক্ষেপ।

প্রতিশোধ – পর্ব ৩

Now Reading
প্রতিশোধ – পর্ব ৩

হেমা তামিমের কথা কিছুই বুঝতে পারছে না।
হেমাঃভাইয়া আমি বাসায় যাবো
তামিমঃতোমাকে তো এখন বাসায় যেতে দেওয়া যাবে না।
হেমাঃভাইয়া আমি বাসায় না গেলে কি হবে আপনি বুঝতে পারছেন?
তামিমঃআমি জানি কি হবে।তোমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। আর সমাজ এবং পরিবার কিডন্যাপ হওয়া একটা মেয়ে কে খুব ভালো ভাবে গ্রহন করে না।
হেমাঃভাইয়া আমি আপনার ছোট বোনের মত।তন্নি আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলো।আমি জানি না ও কেন আত্মহত্যা করেছে।
প্লিজ আমাকে যেতে দিন।
তামিমঃহুম তুমি আমার ছোট বোন এর ফ্রেন্ড ছিলে।কিন্তু এখন আমার বোন বেঁচে নেই।তাই আমি এখন আর তার কোন ফ্রেন্ডকে চিনি না। এ কথা বলে তামিম হেমার কাছে গেলো।
হেমা তামিম কে কাছে আসতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো।
তামিমঃভয় পেও না।আমি তোমার কোন ক্ষতি করবো না।তবে তোমাকে এখানে কিছু দিন বন্দী থাকতে হবে।
হেমাঃভাইয়া আমি একটা মেয়ে।এখানে আমি আটকে থাকার পর বাসায় ফিরে গেলে সবাই আমার দিকে আঙুল তোলবে।আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।
তামিমঃতোমার জন্য আমার বোন কে আমি হারিয়েছি।তোমাকে তো আমি সুন্দর ভাবে বাঁচতে দিব না।
হেমাঃভাইয়া তন্নি কেন আত্মহত্যা করেছে?
তামিমঃতন্নি আকাশ কে ভালোবাসতো
হেমাঃতাহলে আমি কিভাবে দায়ী?আর আকাশ কে ভালোবাসতো তা তো কখনো বলেনি।
তামিমঃআকাশ তোমাকে ভালোবাসতো
হেমাঃমানে?…..

তামিমঃহুম।তন্নি চায়নি তোমাদের মধ্যে থাকতে।আবার আকাশ কে ছাড়তে ও পারবে না।তাই ও মৃত্যুটা বেছে নিয়েছে।
হেমাঃকিন্তু ভাইয়া আমিতো আকাশকে ভালোবাসি না।আর তন্নি আকাশ কে এবং আকাশ আমাকে ভালোবাসে এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।তাহলে আপনি আমাকে কেন শাস্তি দিচ্ছেন?তন্নি যদি আমাকে বলতো তাহলে আমি আকাশকে বুঝিয়ে বলতাম।আমাকে ভুলে যেনো তন্নিকে মেনে নেয়।

তামিমঃকলেজের অনেকেই তোমার জন্য পাগল।আকাশ ও তোমাকে ভালোবাসে।আমি দেখতে চাই এখান থেকে যাওয়ার পর আকাশ তোমাকে মেনে নেয় কিনা।তোমাকে তো আমি সুন্দরভাবে বাঁচতে দিব না।
সমাজ তোমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে।কলেজের সবাই তোমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে।সবাই তোমার দিকে আঙুল তোলবে। তোমার সাথে কিছু হয়নি তা শুধু তুমি আর আমি জানবো।আর সবাই জানবে তুমি একটা খারাপ মেয়ে।
এ কথাগুলা বলতে বলতে তামিম হেসে দিলো।
হেমা কি করবে বুঝতে পারছে না।কোন কারন ছাড়াই এমন করে ফেঁসে যাবে কখনো ভাবে নি সে।
ওর এখন চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।তন্নি আর আাকাশের উপর খুব রাগ হচ্ছে ওর।

রাত এ তামিম হেমা কে একটা প্যাকেট এনে দিয়ে বললো এটাটে খাবার আছে খেয়ে নাও।
এ বলে হেমার হাতের বাধন খোলে দিলো।
হেমাঃ আমি খাবো না।আমি বাড়ি যাবো।
তামিমঃতোমাকে যেতে দিবো না তা তোমাকে একবার বলা হয়েছে। খেয়ে নাও।
হেমা খাবারের প্যাকেট টা ফেলে দিলো।
তামিমঃআমার সাথে জিদ দেখিও না।আমি তোমার সাথে খারাপ কিছু করতে চাই না।আমাকে রাগালে কিন্তু এর ফল তোমাকেই ভোগ করতে হবে।আমার মাথা গরম হয়ে গেলে কখন কি করে ফেলবো তার ঠিক নেই।

হেমা তামিমের এ কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলো।তাই আর কথা বাড়ালো না।চুপ করে এক কোনে বসে রইলো।
তামিম খেয়ে শুয়ে পরলো।
কখন যে হেমা ও ঘুমিয়ে পরেছে তা হেমা বুঝতে পারে নি।

ঘুম থেকে জেগে দেখে তামিম ঘুমাচ্ছে।
হেমার বাঁধনটা খোলাই ছিলো। হেমা সুযোগ বোঝে পালালো।কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর আবার তামিমের সামনে এসে পরলো।
তামিম হেমাকে ধরে নিয়ে আসলো।
তামিমঃতুমি কি ভেবেছিলে আমার থেকে পালাতে পারবে?তুমি পালানোর চেষ্টা করে অনেক বড় ভুল করেছো।
এ কথা বলে তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো।
চড় খেয়ে হেমা পরে গেলো।
তামিম হেমাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে দিলো। তারপর গাছ এর একটা মোটা ঢাল নিলো।
আর হেমার পায়ের তালুতে কয়েকটা আঘাত করলো।ঢালের আঘাতে পায়ের তালু কেটে রক্ত বের হয়ে গেলো।
তামিমঃ নেক্সট টাইম যাতে আর পালাতে না পারো সে ব্যবস্থা করলাম।
আর আজ থেকে তোমার হাত আর খোলা হবে না।হাত সবসময় বাঁধাই থাকবে।

দুপুরে তামিম খাবার কিনে এনে হেমা কে খাইয়ে দিতে গেলো।
কিন্তু হেমা খেলো না।
তামিম দেখলো হেমার গায়ে জ্বর।
তামিম কিছু বললো না।নিজেই খেয়ে নিলো।

রাতের বেলা হেমার জ্বরটা বেরে গেলো।
কিন্তু তামিমের সে দিকে খেয়াল নেই।তার মনে শুধু বোন এর মৃত্যুর প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছুই কাজ করছে না।
হেমার পা ফোলে গেছে।ব্যাথায় হাটটে পারছে না।
এত কিছুর পর ও তামিমের মনে হেমার জন্য একটু ও মায়া জন্মায় নি।
হেমা ও তামিমকে আর বাড়ি যাওয়ার কথা বলেনি।
হেমা বুঝতে পেরে গেছে যে তন্নির মৃত্যুর পর ওর ভাই একটা অমানুষে পরিনত হয়েছে।
যার মনে কোন মায়া দয়া নেই।যে মানুষের কথা বুঝতে পারে না।আর যা করছে তা কতটা ঠিক তার ও কোন ভাবনা নেই।

 

৫ দিন পর একটা গাড়ি হেমাকে তার বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে আসলো।
হেমার পায়ে ব্যাথা এবং শরীর দূর্বল থাকায় অনেক কষ্টে বাড়ি পৌছালো।.

চলবে….