খুব সহজেই জার্মানী-কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, দরকার নেই কোন যোগ্যতার !

Now Reading
খুব সহজেই জার্মানী-কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, দরকার নেই কোন যোগ্যতার !

আর্টিকেলের টাইটেল পড়ে অবাক হচ্ছেন? তবে যা বলছি তা মোটেও মিথ্যা নয়। এখন এতটাই সোজা হয়ে গেছে জার্মানী-কানাডার মত দেশগুলোতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ। মনের অজান্তে দেশগুলোও ব্যাপারটাকে খুব সহজ করে ফেলেছে। এখন চাইলে যেকেউ এমন করতে পারবে। শুধু কিছু কাজ করতে হবে আপনাকে। সেটি হলো ধর্ম বিদ্বেষী হওয়া নাস্তিকতার মোড়কে।

ইদানীং অনলাইনে বা ফেসবুকে একটু খোজাখুজি করলে দেখবেন শত শত স্বঘোষিত নাস্তিক নিজেদের এই ধরনের বিদেশ যাবার প্রজেক্ট পরিচালনা করছে। অনেকেই সফলও হয়েছেন। আপনি যেই হোন না কেন, পাবলিকলি নিজেকে নাস্তিক বলে ঘোষনা করুন আর নানা ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করুন। যদি আপনি বাংলাদেশে থাকেন, তাহলে ইসলাম বিদ্বেষী হোন, তাহলে সুফল অল্প সময়ে পাবেন। এসবই করে আসছে কিছু ব্যাক্তি এই ফেসবুকে। প্রথমে তারা নাস্তিক ঘোষনা দিয়ে নিজেদের আলোচনায় আনে। এরপর আরেকটু জনপ্রিয় হবার জন্য শুরু করে নানা ধরনের ধর্ম বিদ্বেষী কথাবার্তা, ছবি যা সরাসরি উক্ত ধর্মের মানুষের মনে আঘাত করে।

নাস্তিক যে কেউ হতে পারে, এখানে আপাত দৃষ্টিতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু আমাদের দেশে এই নাস্তিকতা টার্ম টা এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ধর্মের নামের বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে। আর তাদের আল্টিমেট লক্ষ্য কানাডা-জার্মানীর মত দেশের রিফিউজি স্ট্যাটাস পাওয়া যাতে করে সেসব দেশে থাকতে পারে। তারা নাস্তিকতার আড়ালে নানা ধর্ম বিদ্বেষী কথা বলে সাধারন মানুষকে উত্তপ করে তোলে এরপর এগুলোকে দেখায় “বাংলাদেশ তাদের জন্য খারাপ” তাই এসাইলামের জন্য নানা দেশের এম্বেসীতে আবেদন করে।

নাস্তিকতার মানে এদের কাছে অন্য ধর্মকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা এবং চরম ভাবে অপমান করা। সারা দুনিয়াতে নাস্তিক আছে, বাংলাদেশেও আছে। অপরাধ না কোন। কিন্তু তার মানে এই না যে তাদের অন্য ধর্মকে আঘাত করে কথা বলার অধিকার আছে। অবশ্যই না। এগুলোকে হেইট স্পিচ বলে এবং এগুলো আইনের আওয়াতাতেই অনেক বড় অন্যায় বা ক্রিমিনাল অফেন্স। বাংলাদেশে এখন বেশ কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইল বা পেজ আছে যারা প্রতিনিয়ত এই ধর্ম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে নাস্তিকতার নাম দিয়ে। এরা আবার নিজেদের প্রগতিশীল বলেও দাবী করে। যেমন আমিনুলের রাজনৈতিক কার্টুন পেজ, আসিফ মহিউদ্দিন যে সফল ভাবে জার্মানীর রিফিউজি স্ট্যাটাস নিয়ে চলে গেছে, আসাদ নূর নামের নতুন আমদানী, মুফাসসিল ইসলাম এবং আরো অনেকেই। এদের ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইল ঘেটে দেখলে দেখবেন এরা একসময় ধর্মের পক্ষে কথা বলত। এমনকি জোরদার আন্দোলন করত। এমনকি সন্ত্রাসকেও সাপোর্ট করার কথা বলত। পরে হঠাত করেই তাদের রুপের পরিবর্তন হয়। তাদের পোস্টে আসতে থাকে নানা ধর্ম নিয়ে মারাত্মক অপমানজনক পোস্ট। যেমন মুফাসসিল ইসলাম বা আমিনুলের রাজনৈতিক কার্টুন পেজ।

এখানে একটি সিম্পল লজিক আছে। খেয়াল করে দেখুন, প্রথমে তারা ধর্মের পক্ষে কথা বলত। যেমন ধরেন আমিনূলের কার্টুন পেজ বা মুফাসসিল ইসলামের প্রোফাইল। প্রথমে ইসলামের পক্ষের কথা বলে এরা কিছু ফ্যান বা ফলোয়ার যোগাড় করে। মানুষজনও তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে। “নাহ, বান্দা তো ভাল, জুলুমের বিপক্ষে কথা বলছে”। এরপর একটা বড় সড় ফলোয়ার বা ফ্যানবেজ হয়ে গেলে এরপর আসল খেলাটা শুরু হয়। এতদিন ধরে যেসব মানুষজনের প্রশংসা তারা কুড়িয়েছে, ঠিক তাদেরই ধর্মের বিপক্ষে কথা বলে তাদেরই আঘাত করে বসে চরমভাবে। ফলাফল, ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা। আড় ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা মানেই সেই ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইল লাইমলাইটে আসা আর সে থেকেই শুরু হয় তাদের বিদেশ যাবার প্রজেক্ট। তারা এগুলোকে এভিডেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নানা এম্বেসীতে এসাইলাম পাবার জন্য। অনলাইনে ধর্ম নিয়ে কত বড় ব্যবসা যে হয়ে যাচ্ছে কারো চোখে পড়ে না। কারন সাধারন মানুষ সবাই এদের গালি দিতে বা এদের পেজ রিপোর্ট করতেই ব্যস্ত থাকে আর সেটি করতে গিয়ে তাদেরই লাভ করে বসে। কারন ঠিক এটাই তারা চেয়েছিল।

তবে দুঃখজন ব্যাপার হলো, প্রশাসন এই ব্যাপারে খুব বেশী মুভ করছেনা। তবে করলে ভাল হত। এরা আসলে শুধু যে দেশের বদনাম করছে তা না, পুরো অনলাইন কমিউনিটিটাও নষ্ট করছে। আর যখনই এরা এম্বেসীতে গিয়ে এসাইলাম চায়, তখন তো আসলে এরা দেশকে খুব বাজেভাবে রিপ্রজেন্ট করে আর এম্বেসীগুলো তাদের কথা গুরুত্বের সাথে নেয়। তারা তো আর জানেনা এরা কতটা ধুরন্ধর!। তলে তলে এরা আসলে দেশের অনেক বড় ক্ষতি করে দিচ্ছে। তাদের আসলে নাস্তিকতাতেও প্রচুর ভেজাল আছে। ফ্রি স্পিচ অজুহাত দিয়ে তারা নানা ধর্মকে ব্যঙ্গ করে যেটা অনেক বড় ক্রিমিনাল অফেন্স এবং মোটেও বাক স্বাধীনতা না। বরং বাক স্বাধীনতা ব্যাপারটাকে এরা কলুষিত করছে প্রতিনিয়ত।

বাংলাদেশে এখন এরকম অগনিত আছে। আমরা চাই এম্বেসীগুলো এই ব্যাপারে আরও যাচাই বাছাই করুক। তারা যে দেশেই যাক কোন সমস্যা নেই কিন্তু দেশের মান সম্মান ডুবিয়ে, সাধারন মানুষকে ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করে, অপমান করে এত বড় সব অপরাধ করে তারা যদি আসলে বিনা বিচারে থেকে যায়, তাহলে তাদের দেখাদেখিতে এগুলো আরো বাড়বে। প্রশাসনকে অনুরোধ করছি এদিকে একটু নজর দেয়ার জন্য। আজ হোক কাল হোক, এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। তার আগেই কিছু একটা ব্যবস্থা নেয়া হোক।