রহস্য চারিদিকে পর্ব—১

Now Reading
রহস্য চারিদিকে পর্ব—১

[ টাইম ট্র্যাভেলার ]

পৃথিবী বলুন,  আকাশ বলুন, সাগরে বলুন, পাতালে বলুন—অথবা মহাকাশে কিম্বা বিগ ব্যাং এর পর ন্যানো সেকেন্ড থেকেই শুরু হয়েছে রহস্যের জাল বুনুন । আপনি বলবেন বিজ্ঞান তো এক সময় সবই প্রমান করে দিবে । আমিও বলি হয়তো ঠিক কথা । কিন্তু যতক্ষণ না প্রমান হচ্ছে ততক্ষন সেটা একটা গভীর রহস্য । সর্বত্র সবখানে সব সময় চারিদিকে রহস্য ঘিরে আছে । আছে গল্প,  গাঁথা, কাহিনী ।  আছে সত্য মিথ্যার অসংখ্য মিথ । আছে অবিশ্বাস্য ব্যখ্যাহীন অমীমাংসিত ঘটনা । আমি তুমি সে , সকলেই কিছু শুনেছ, দেখেছে, কিম্বা অনুভব করেছে । কেউ বিশ্বাস করেছে , কেউ করেনি । কেউ হেসে উড়িয়ে দিয়েছে, কেউ ভয় পেয়েছে । কেউ গবেষণা করছে, কেউ এড়িয়ে যাচ্ছে । এসবে কম বেশি সন্দেহ সবাই করে তো বটেই , যার সাথে ঘটেছে সেও বিশ্বাস অবিশ্বাসের ব্যাখ্যাহীন জালে আবদ্ধ হয়ে যায় এক সময়  যেমন–  ‘’আমার সাথেই এটা ঘটেছিল ? আসলেই কি এমন কিছু হয়েছে ? এমনও কি হয় ? এটা কেমন করে হতে পারে ? এর কি ব্যাখ্যা ?’’ ইত্যাদি ।

-আমি এই সব কাহিনীর কিছু কিছু আপনাদের  সামনে তূলে ধরবো । এর কিছু নির্ভেজাল ভাবেই সত্য । যার সাথে ঘটেছে , সে ছাড়া অন্য সবাই সত্য মিথ্যার পাল্লার এপাশ ওপাশ দুলতে থাকে । থাকুক । কিন্তু রহস্য সব সময়ই কৌতুহলজনক । আবিস্কারে তাইতো এতো আনন্দ ।

-পাঠক- এই পর্বে আমি টাইম ট্র্যাভেল বা সময়ের পরিভ্রমণ নিয়ে কিছু বলবো । টাইম ট্র্যাভেল এমন একটি বিষয়, যেটা নিয়ে আমরা কখনও না কখনও ভেবেছি । ভেবেছি, এমন যদি হতো- অতীতে গিয়ে নিজের কোন একটি ভুল অন্তত শুধরানো যেতো । পেছনে গিয়ে সেই কাজটি আমি কখনও করতাম না । যেটা করে ভুল করেছি । অথবা ওই কাজটি অবশ্যই আমি করে নিতাম । যেটা করা আমার একান্তই উচিত ছিল ।

images (50).jpg

-বিজ্ঞান বলে, আইনস্টাইনের  ‘থিয়োরি অব জেনারেল রিলেটিভিটি’ এর হিসাবে কেউ যদি লাইট স্পিডের [আলোর গতি] চেয়ে বেশি স্পিডে ট্র্যাভেল করে, তাহলে সে বর্তমান সময়ের পেছনে বা সামনে যেতে পারবে । সে হয়ে যাবে টাইম ট্র্যাভেলার ।  যদিও সেটা সম্ভব হয় নি আজও । আলোর গতিকে অতিক্রম করা তো দূর, মানবজাতি এখনও সেটা ছুঁতেই পারেনি । অতি ন্যানো সেকেন্ডের দুরত্বে আছে ।

why-time-travel-is-impossible_66207_990x742.jpg

-কিন্তু তারপরও কিছু এমন লোক আছেন  যারা দাবী করছেন যে, তারা টাইম ট্র্যাভেল বা সময় ভ্রমন বা সময় যাত্রা করেছেন । আজ আমি এমনি কিছু যাত্রীর ঘটনা বলতে যাচ্ছি, যারা এটা দাবী করেছেন যে তারা টাইম ট্র্যাভেল করেছেন । অথবা এমন ঘটনা যেটা দেখে তাদের সময় যাত্রী বলে ধরা নেয়া যাবে ।

-প্রথম ঘটনাটি ১৯৫৪ সনে Taured  নামক এক ব্যাক্তির । টোকিও এয়ারপোর্টে তার পাসপোর্ট স্ট্যাম্প লাগানোর জন্য নেয়া হলে, দেখা গেলো যে লোকটি টরেড নাম এর একটি দেশের অধিবাসী । কর্মকর্তারা এটা শুনার পর,  লোকটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য কাস্টডিতে নিয়ে  যাওয়া হোল, ও কোন দেশের ও সে দেশটি কোথায় তা জানার জন্য । তখন লোকটি বলল, এটা ফ্রান্স ও স্পেন এর মাঝের একটি দেশ । নাম টরেড । কর্মকর্তারা তার সামনে একটি ম্যাপ দিয়ে বললেন,   ‘’কোথায় তোমার দেশ দেখাও ?’’ ও তখন ম্যাপে টরেড নামের কোন দেশ খুঁজে না পেয়ে পেরেশান হয়ে গেলো । লোকটি এনডোরা দেশটি দেখিয়ে বলল, ‘’এখানেই আমার দেশ টরেড ।‘’ এবং সে এনডোরা নাম কখনওই  শুনেনি । সে বলল তার দেশটি হাজার বছর ধরে এখানেই আছে ।  এখানে এনডোরা নয় টরেড দেশ হবে ।   আর ও প্রায় পাঁচ বছর ধরে জাপানে ব্যাবসার কাজে আসা যাওয়া করছে ।

-লোকটির পাসপোর্টে সব এন্ট্রি চেক করে দেখা গেলো সেগুলো একেবারে সঠিক । ওর কাছে ওই Taured  দেশের দেয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল যা কিনা ওর দাবীকে আরও মজবুত করে দেয় । এবং ওর কাছে অনেক ইউরোপিয়ান কারেন্সি ও এমন একটি ব্যাংকের চেক বই ছিল যেটার নাম আগে কখনও শোনা যায় নি । ওকে একটি হোটেলে দুজন গার্ডের নজরবন্দীতে রাখা হোল । যেন সে কোথাও যেতে না পারে । পরদিন পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ওই কামরাটিতে গেলে তাকে পাওয়া গেলো না । বিস্ময়য়ের বিষয় সে কামরাটিতে আর কোন দরজা ছিল না । একটি মাত্র জানালা । পনর তলার উপর জানালা থেকে লাফ দেয়াও  সম্ভব নয় । তাহলে সে কিভাবে গেলো । আজ পর্যন্ত জানা গেলো না ব্যাক্তিটি কোথা থেকে এলো, কোথায়ই বা গেলো ।

mqdefault.jpg

-দ্বিতীয় ঘটনাটি । এই কাহিনী Andrew Carlssin  এর ২৮ জানুয়ারি ২০০৩ সাল । নিউইয়র্ক পুলিশ ওকে গ্রেফতার করলো । ওর উপর অভিযোগ ছিল, ও বেআইনি ভাবে শেয়ার মার্কেট থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে । Andru Carlssin আট শত ডলার নিয়ে শেয়ার ব্যাবসা শুরু করেছিলো ।  এবং ঝুঁকি পূর্ণ দাঁও খেলে দুসপ্তাহে ৩৫ লাখ ডলার কামাই করে নেয় । আর এ কারনে ও কর্মকর্তাদের নজরে এসে যায় । খুব ভাল ঝানু ব্যাবসায়ী ও এতো কম সময়ে এতো বেশি মুনাফা করতে পারবে না । আর কর্মকর্তারা এটা কিছুতেই মানতে রাজি নয় যে ঘটনাটা কাকতালীয় । এজন্য পুলিশে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্ময়কর কথা জানা যায় ।  Andru Carlssin দাবী করে সে ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে । ও ২২৫৬ শতাব্দী থেকে এসেছে । ও বলল ও ইতিহাসে পড়েছে এই সময় শেয়ার বাজারে  খুব ওলট পালট হয়েছিলো । তাই সে এ সুযোগটা নিতে এসেছে । এবং বই ও নেট থেকে ও জানতে পারে এ বছর কোন শেয়ারটি ভালো করবে, ও সে সব শেয়ার গুলোই কিনেছিল । ও পুলিশকে বলল,  তাকে ছেড়ে দেয়ার বদলে ওসামা বিন লাদেন কোথায় আছে ও এইডস এর রোগমুক্তির চিকিৎসা ও বলে দেবে ।  পুলিশ ওকে পাগল ভাবল । পরে ওকে জামিন দেয়া হলে ও যেন গায়েব হয়ে গেলো চিরিদিনের মত । ওকে  আর কেউ দেখিনি আজও । কোথায় হারিয়ে গেলো ?

images (45).jpg

– তৃতীয় যে কাহিনী, এটা Hakan Nordkvist  এর । ৩০ আগস্ট ২০০৬ এ ৩৬ বছরে পা দেওয়া Hakan Nordkvist,   তিনি কাজে কিচেনে আসেন । এসে দেখেন সিঙ্কের পাইপ খারাপ হবার কারনে মেঝেতে পানি জমেছে । তিনি এটা ঠিক করার জন্য পাইপের নিচু ক্যাবিনেটের ভেতর ঢুকে যান হাঁটুতে ভর দিয়ে । পথটা খুব লম্বা মনে হচ্ছিলো তার । পুরোটা পথ দেখতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত চলে যান । ওখান থেকে বের হয়ে তিনি এক অন্য জগত দেখতে পান । একেবারেই আলাদা । ভবিষ্যতের পৃথিবী । উনার ভাষ্য মতে উনি ২০৪২ শতাব্দীতে   পৌঁছে গেয়েছিলেন । শুধু তাই নয় তিনি ভবিষ্যতের Hakan Nordkvist এর   সাথেও মিলিত হয়েছেন । ভবিষ্যতের তিনি নিজেই । উনি এটাও দাবী করেন যে, যে কথা শুধু Hakan Nordkvist জানত সেটা সে ও জানে । তিনি তার কথাকে সত্য প্রমান করতে তারই মত দেখতে এক ব্যক্তির সাথে একটি ভিডিও বানিয়েছেন । ভিডিওতে দুজনের হাতের ট্যাটোও একই হাতে একইরকম । সত্যিই তিনি সময় পরিভ্রমণ করেছেন ।

 

অসংখ্য কাহিনীর মধ্যে, আরও কিছু টুকরো ঘটনা – সেটা ছিল ১৯৯৫ সন । MIKE TAISON  VS   MCNEELY এর বক্সিং ম্যাচ হচ্ছিলো । তখন একটি ভিডিওতে দেখা গেলো, দর্শক সারিতে বসে কেউ একজন দর্শক স্মার্ট  ফোন  দিয়ে খেলাটি রেকর্ড করছিল । হয়রানির বিষয় এটা যে, সেই সময় স্মার্ট ফোনের আবিস্কারই হয়নি । এমন কি ক্যামেরা ফোনের আবিষ্কারও ২০০০ সনে হয়েছিলো । লোকটি কে ছিল ? কোথা থেকে এলো ?

images (49).jpg

-Carlie Chaplin er ফিল্ম এর একটি সিনে এমন জিনিস দেখা গেলো যা সবাইকে হয়রান পেরেশান করে দিলো । ওই সিনে একটি মহিলা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন,   যাচ্ছে দেখা যায় । এটা কিভাবে সম্ভব ? মোবাইল ফোন ?  তখন তো ফোনই আবিস্কার হয়নি । ফোন আবিস্কার হয়েছে-১৯৭০ সনে । তখনকার  ফোন এক ফিট লম্বা হতো । ও কোথায় পেল মুঠো সমান মুঠো ফোন । ও কি টাইম ট্র্যাভেলার ছিল ?

 

-১৯৭৬ সনে The Capescott  Story নামে একটি বই লিখেছেন, Lester R Peterson নামে এক ব্যক্তি । এ বইটিতে সে সময়ের ইতিহাস ছবির মাধ্যমে তূলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে । কিন্তু একটি ছবি সবাইকে অবাক আর পেরেশান করে দিলো । ১৯১৭ সনের সেই ছবিতে সবাই সেই সময়ের হিসাবে সঠিক কাপড় পরেছিল । শুধু একটি লোক সবার থেকে আলাদা কাপড় পরেছে ।  ওর পোশাক, চুলের স্টাইল,  স্মার্টনেস সবই আধুনিক এই যুগের মত । ও পেল কোথায় এসব ? ওর পাশে বসা লোকগুলোও ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, যেন ওর এখানে থাকার কথা ছিল না । ও কি অদুর ভবিষ্যতের কেউ ?

0_77d3de_71a896fc_orig.jpg

– সন 2008 Chinese Archaeologists একটি বিশাল কফিন খুলেন । Shangsi দেশে একটি চারশত বছরের পুরনো  SI Qing নামে বিশাল কবরে কফিনটি  পাওয়া গেছে । কফিনের ভেতর তারা অবাক হয়ে দেখেন যে সেখানে একটি খুব ছোট ঘড়ি পাওয়া গেছে । আংটির সমান । সে ঘড়িতে সময়  ১০:০৬ এ স্থির হয়ে আছে । এবং ঘড়িটির পেছনে SWISS  শব্দটি ছাপ দেয়া ছিল । এটা একটি সুইস ঘড়ি । অবাক কাণ্ড এটা যে , তখন সুইজারল্যান্ড নামে কোন দেশই ছিল না । বর্তমানের দেশ সুইজারল্যান্ডের তৈরি এই ঘড়িটি সুদূর অতীতে কি করে গেলো ? দূর  অতীতে ওই ঘড়িটা কে নিয়ে গেলো ?

700_d87214296eee017607d10fcdbd156f10.jpg

চলবে………………