পর্দা নামলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির, সেরা একাদশে তামিম ইকবাল !!!

Now Reading
পর্দা নামলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির, সেরা একাদশে তামিম ইকবাল !!!

হাজারো জল্পনা কল্পনার অবসানের পর পর্দা নামলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। টান টান উত্তেজনার ফাইনাল ম্যাচে দুই চির প্রতিদ্বন্দী ভারত বনাম পাকিস্তানের ম্যাচে ভারত কে প্রায় ঝড়ের মত উড়িয়ে দিয়ে প্রথম বারের মত আই সি সির এই ইভেন্ট এ চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে র‍্যাঙ্কিং এ ৮ নাম্বারে থাকা পাকিস্তান ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মত দলকে টপকে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

এদিকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রতিটি ম্যাচ ছিল ব্যাপক নাটকীয়তা পূর্ণ। বৃষ্টিতে কিছু ম্যাচ পন্ড হলেও ফলাফল হওয়া সবকটি ম্যাচ ছিল অসাধারণ চ্যালেঞ্জিং পূর্ণ। আর যার ফলেই কিনা টুর্নামেন্টকে বলা হয় চ্যাম্পিয়ন্স দের টুর্নামেন্ট। আর সেই চ্যাম্পিয়ন্স দের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান।

তবে পুরো টুর্নামেন্টে যেন এশিয়াদের দখলে ছিল বেশি। চার সেমিফাইনালিস্টের তিনটিই ছিল এশিয়ার মধ্যে। র‍্যাঙ্কিং এর প্রথম সারির দলগুলোকে ঠিক যেন কোন রকম পাত্তা না দিয়েই শেষ সারির দল গুলো টুর্নামেন্টে রীতিমত রাজত্ব করে গেল। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে পোড়া কপাল নিয়ে এবার টুর্নামেন্টে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্যায়ে তিনটি খেলার দুইটি বৃষ্টিতে পন্ড ও শেষটিতে ইংল্যান্ড এর কাছে লজ্জাজনক হারে মনে হয় যেন সত্যি তারা পোড়া কপাল নিয়ে এসেছিল ইংল্যান্ড এ আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে। ফেবারিটের তকমা মাখা ইংল্যান্ড প্রথমে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম পাকিস্তান, ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার ম্যাচে অদ্ভুত নাটকীয়তা যেন সব সমীকরণ উলট পালট করে দেয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের পর অসাধারণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এরপর ঐতিহাসিক ম্যাচে নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষে অসম্ভাব্য জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। এরই মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মত দল এত বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে। ফেবারিটের তকমা মাখা ইংল্যান্ড সহ সেমিফাইনালে যায় ভারত ও পাকিস্তান এবং প্রথম বারের মত আই সি সির কোন ইভেন্টে সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ অর্জন করে বাংলাদেশ। এতেই বুঝা যায় টুর্নামেন্টে এশিয়ার দলগুলোই রাজত্ব করে গেছে।

টান টান উত্তেজনা ও সমালোচনার প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত ও বাংলাদেশ। হাজারো প্রাপ্তির টুর্নামেন্টে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও ঠিক মত কাজে লাগাতে পারে নি বাংলাদেশ। ভারতের কাছে ব্যাপক ভাবে ধরাশায়ী হয়। নয় উইকেট এ ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। তবে এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল এর মিলেছে অসাধারণ কিছু প্রাপ্তি। তামিম ইকবালের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং, সাকিব – মাহমুদুল্লাহর বিশ্ব প্রশংসনীয় ইনিংস ও প্রথম বারের মত সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ এ সবই যেন বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টে সেরা প্রাপ্তি। অপরদিকে যে ইংল্যান্ড কিনা টুর্নামেন্ট সেরা সেই ইংল্যান্ডকেই নাটকীয় ভাবে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ভারতের সাথে ফাইনালের যাত্রী হয় পাকিস্তান।

দুই চির প্রতিদন্ধী ভারত বনাম পাকিস্তানের ফাইনাল ম্যাচ। অন্যরকম আমেজ তো থাকবেই। এমনিতেই চির প্রতিদন্ধী তার উপর তাদের ফাইনাল ম্যাচ। ফর্মে তুঙ্গে থাকা কোহলির দল ও সরফরাজের হারিয়ে ফিরে পাওয়া দল ( খেলোয়াড়দের ফর্ম কে বোঝানো হয়েছে )। তাই বলে কি ভারত – পাকিস্তানের খেলায় ক্রিকেট যুদ্ধ হবে না তা কিভাবে হয়। টসে জিতে ব্যাটিং এ পাঠায় পাকিস্তানকে ভারতের অধিনায়ক কোহলি। এই সিদ্ধান্তই যেন সেদিনের সবথেকে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। পাকিস্তানের তরুণ খেলোয়াড় ফখর জামানের ঝড়ো ব্যাটিং এ লন্ড ভন্ড হয় ভারতের সেরা বোলিং। ফখর জামানের সেঞ্চুরির উপর ভর করে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৩৩৮ রান। ৩৩৯ রানের পাহাড় তুল্য টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ভারত। আমিরের বোলিং তোপে উইকেটে টিকতে পারেনি ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। রোহিত, কোহলি ও ধাওয়ান ৩৩ রানে মাঠ ছাড়লে পরাজয়ের ঘন্টা বাজতে শুরু করে। ধোনি, যুবরাজের মত অভিজ্ঞ সিনিয়র রাও যখন ব্যর্থ তখন পান্ডিয়া হাল ধরার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয় নি ভারতের। আমির, হাসান আলি, শাদাব খানের বোলিং ঝড়ে উড়ে যায় ভারতে ব্যাটিং দূর্গ। যে ভারতে ব্যাটিং কে কিনা বিশ্বের এক নাম্বার ব্যাটিং লাইন আপ বলা হয় সেই ব্যাটিং ৩৩৯ রান তাড়া করতে নেমে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৫৮ রানে। ৫০ ওভার তো দূরে থাক মাত্র ৩০ ওভার ৩ বলেই ইতি টানে ভারত।

প্রথম বারের মত আই সি সির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। কোন রকম লড়াই ছাড়াই আত্মসমর্পন করে ভারত। ফখর জামানের অসাধারণ সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচ সেরা ঘোষণা করা হয় ফখর জামানকে। অন্যদিকে চমৎকার বোলিং নৈপূণ্যে টুর্নামেন্ট সেরা হয় পাকিস্তানের আরেক তরুণ ক্রিকেটার হাসান আলি।

সেই সাথে আই সি সি প্রকাশ করেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বিশ্ব সেরা একাদশ। যেখানে স্থান করে নেয় বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। তবে তার অবস্থান তিনে। সেরা একাদশে আরো যারা রয়েছেনঃ শিখর ধাওয়ান (ভারত), ফখর জামান (পাকিস্তান), তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), বিরাট কোহলি (ভারত), জো রুট (ইংল্যান্ড), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান), আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড), জুনায়েদ খান (পাকিস্তান), ভুবনেশ্বর কুমার (ভারত), হাসান আলি (পাকিস্তান), দ্বাদশ স্থানে কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)। ৪ ম্যাচে ২৯৩ রান করে দেশের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে সেরা একাদশে জায়গা করে নেয় তামিম।

তবে স্টার স্পোর্টসের প্রকাশিত সেরা একাদশে স্থান পায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বিডিক্রিক টাইমে প্রকাশিত নিউজে এমনটাই জানা যায়। কিন্তু আই সি সি প্রকাশিত সেরা একাদশ সত্যিই কি সেরা একাদশ হয়েছে? প্রশ্ন থাকল আপনাদের কাছে। আপনি আপনার নির্বাচিত সেরা একাদশ জানাতে ভুলবেন না।

 আমার তৈরি সেরা একাদশঃ শিখর ধাওয়ান, তামিম ইকবাল, জো রুট, কেন উইলিয়ামসন, বেন স্টোকস, সরফরাজ আহমেদ, আদিল রশিদ, ভুবনেশ্বর কুমার, হাসান আলি, জুনায়েদ খান, দ্বাদশ স্থানে ইয়ন মর্গান।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেরা একাদশে জায়গা পেলেন তামিম ইকবাল

Now Reading
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেরা একাদশে জায়গা পেলেন তামিম ইকবাল

tamim-iqbal-ap-m.jpg
১৭ দিন ব্যাপী আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল ম্যাচে গত রবিবার ভারত-পাকিস্তানের লড়াইয়ে ভারতকে ১৮০ রানের লজ্জ্বাজনক ব্যবধানে হারিয়ে এবারের আসরের শিরোপা ঘরে তুলল এশিয়া মহাদেশের অন্যতম ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তান। আর এরই মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা ঘরে তুলতে সক্ষম হলো পাকিস্তান ক্রিকেট টিম।সেই সাথে আন্ডার নাইন্টিন ওয়ার্ল্ড কাপের পর আবারো কোনো আইসিসির ইভেন্টে সরফরাজের নেতৃত্বে কোনো শিরোপা জয়ের সৌভাগ্য হলো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের।

হেড টু হেড লড়াইয়ে ভারত-পাকিস্তান এখন পর্যন্ত সেই ১৯৯৮ সাল থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে লড়েছে মোট পাঁচ বার। এ ম্যাচের আগে দু দলেরই জয়ের সংখ্যা সমান ছিল (২-২)। তবে ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তান জিতে যাওয়ায় জয়ের পাল্লাটা নিজেদের দিকেই ভারি করে তুলল পাকিস্তান ক্রিকেট দল (৩-২)।

গত রবিবার অর্থাৎ ১৮ তারিখ  ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে শেষ হয় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসর। আর আসর শেষের একদিন পরই অর্থাৎ আজ সোমবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির এবারের আসরের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করে সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল)।

গত ১৮ জুন ভারত-পাকিস্তানের ফাইনাল ম্যাচে ভারতকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে পাকিস্তান পরাজিত করায় এবারের আইসিসির সেরা একাদশের অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তাই সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বেই থাকছে এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসরের সেরা একাদশ।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসরের সেরা একাদশের চারজনই থাকছে ফাইনালিস্ট পাকিস্তান টিমের থেকে।এরা হলেন ফখর জামান, সরফরাজ আহমেদ, জুনায়েদ খান, হাসান আলী। তাছাড়া একাদশে রানার আপ ভারতীয় দল থেকে থাকছেন তিনজন ক্রিকেটার (শিখর ধাওয়ান, ভিরাট কোহলি, ভুবেনেশ্বর কুমার)। এছাড়া স্বাগতিক ইংল্যান্ডের থেকেও রয়েছেন তিনজন খেলোয়াড় (জো রুট, বেন স্টোকস, আদিল রশিদ)। তবে টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করায় দলে একমাত্র বাঙ্গালি ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশি বামহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। একটি সেঞ্চুরি ও দুটি অর্ধশতক নিয়ে চার ম্যাচে তামিমের এ টুর্নামেন্টে সংগ্রহ ছিল ২৯৩ রান! যা এ টুর্নামেন্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান !

এবারের আসরের সেরা একাদশে দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

এবারের আসরে আট দলের অন্তর্ভুক্তি থাকলেও পাকিস্তান, ভারত, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ এ চারটি দল ছাড়া  শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার কোনো খেলোয়াড়ই সুযোগ পাননি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসরের সেরা একাদশে।

সেরা একাদশ অনুযায়ী দলে ওপেনিংয়ে থাকছেন টুর্নামেন্টে ৩৩৮ রান সংগ্রহায়ক ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও অন্যদিকে ২৫২ রান সংগ্রহায়ক পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ফখর জামান। বাংলাদেশ দলে নিয়মিত ওপেনিং এ খেলতে নামলেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেরা একাদশে ওপেনিং ব্যাটসম্যানের তালিকায় জায়গা হয়নি ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালের। তবে বেশি নিচেও নামতে হয়নি এ ওপেনার ব্যাটসম্যানকে। আইসিসির একাদশ মতে তিন নম্বর পজিশানে থাকছেন এই ক্রিকেটার। রানার আপ ভারতের অধিনায়ক ভিরাটের জায়গা মেলেছে তামিমের ঠিক পরেই। তাই চারে থেকেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে ভারতের অধিনায়ক ভিরাট কোহলিকে। অন্যদিকে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট রয়েছেন পাঁচে। ইংলিশ অন্যতম অলরাউন্ডার বেন স্টোকস রয়েছেন ছয় নম্বরে। তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেরা একাদশের অধিনায়ক সরফরাজ খানের ঘাড়ে এসে চেপেছে আরো একটি দায়িত্বও অধিনায়কত্বের পাশাপাশি উইকেটের পেছনের দায়িত্বটিও পেয়েছেন পাকিস্তানি এ ক্রিকেটার।

এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসরের একাদশের বোলিং আক্রমণে রয়েছে তিনজন পেসার। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হাসান আলী ১৩ উইকেট নিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্টের পাশাপাশি সেরা একাদশেও জায়গা করে নিয়েছেন। তার সঙ্গে আরো রয়েছেন সতীর্থ জুনায়েদ খান এবং ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার। তবে এবারের একাদশে স্পিনার থাকছেন কেবল মাত্র একজন।পুরো টুর্নামেন্টে সাতটি উইকেট নিয়ে একাদশে জায়গা মেলেছে ইংল্যান্ডের স্পিনার আদিল রশিদের।

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসরের মূল একাদশ নির্বাচন করেছেন এবার ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আর্থার, ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি, পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রমিজ রাজা, উইজডেন অ্যালম্যানাকের সম্পাদক লরেন্স বুথ, এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস এর ক্রিকেট প্রতিনিধি জুলিয়ান গায়ার ও আইসিসির ব্যবস্থাপক জিওফ অ্যালারডিস।

বাংলাদেশিদের জন্য এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ভাগ্যটা যেন একটু বেশিই ভালো ছিল। দীর্ঘ এগারো বছর পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে আসা সাকিব-তামিমরা আইসিসির এ টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো কিউইদের পরাজিত করে সেরা চার দলের একটি দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলবার গৌরব অর্জন করে। তাছাড়া দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্লেয়ার তামিম ইকবাল স্থান পায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসরের সেরা একাদশের তালিকায়! এর চেয়ে সুখকর আর কি হতে পারে টাইগারদের জন্য। যেখানে হাশিম আমলা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ইয়ন মরগানের মতো ক্রিকেটাররা সুযোগ পায়নি সে একাদশে।

আইসিসির সেরা একাদশঃ

১। শিখর ধাওয়ান (ভারত)- ৩৩৮ রান

২। ফখর জামান (পাকিস্তান)- ২৫২ রান

৩। তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)- ২৯৩ রান

৪। ভিরাট কোহলি (ভারত)- ২৫৮ রান

৫। জো রুট (ইংল্যান্ড)- ২৫৮ রান

৬। বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড)- ১৮৪ রান ও ৩ উইকেট

৭। সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান) (উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক)- ৭৬ রান এবং ৯ টি ডিসমিসাল

৮। আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড)- ৭ উইকেট

৯। জুনায়েদ খান (পাকিস্তান)- ৮ উইকেট

১০। ভুবনেশ্বর কুমার (ভারত)- ৭ উইকেট

১১।হাসান আলি (পাকিস্তান) – ১৩ উইকেট

 

দ্বাদশ খেলোয়াড়ঃ কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড) এ টুর্নামেন্টে তার রান সংখ্যা ২৪৪ রান।

 

 

হারজিৎ চিরদিন থাকবে, তবুও সামনে এগিয়ে যেতে হবে

Now Reading
হারজিৎ চিরদিন থাকবে, তবুও সামনে এগিয়ে যেতে হবে

চোখের কোণা থেকে পানি টা গড়িয়ে পড়ল। অনেক চেষ্টা করেও আটকাতে পারলাম না। আর আটকাতে চেয়েও বা কি হবে? কিছু পানি ঝরতে দেওয়া ভালো। তাতে যদি ভিতরের ক্ষত টা একটু কমে। যন্ত্রণা টা অনেক বেশি ই। জবাব টা দিতে পারলাম না। সুযোগ থেকেও যেন আজ পারি নাই। ভাগ্য কেমন জানি আমাদের সাথে প্রতিনিয়তই খেলা করে। হ্যাঁ আমরা হেরে গেছি। আমরা খেলাতে হেরে গেছি। তার আগে টসে ও হেরে ছিলাম। দ্যা ওভালের ১৫ জুনের পিচ রিপোর্ট বলছিল ব্যাটিং ফেবার এই ক্রিজে রান তাড়া করে খেললে জেতার সুযোগ টা বেশি। আর হল ও তাই।

 264462.jpg

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর সেমিফাইনাল ম্যাচ। ভারত আর বাংলাদেশ মুখোমুখি। হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচ টা নিয়ে আশা আকাঙ্খা ডানা বেঁধে ছিল প্রায় ২০ কোটি বাংলাদেশি সাপোর্টারদের ভিতরে। আইসিসি এর এত বড় আসরে ভারত নামের এই পরাশক্তি কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এর ফাইনালে ওঠার একটা বড় স্বপ্ন দেখছিল তারা। আসলে স্বপ্ন বললে ভুল হবে। বলা যায় প্রতিশোধ। ভারতীয়দের তোঁতা মুখ ভোঁতা করার প্রতিশোধ।

unnamed.jpg

আমাদের প্রতি ভারতীয়দের রুঢ় ভাব অনেক দিনের। ২০০০ সালে আইসিসি এর সদস্য পদ পাবার পর থেকে ভারতীয় রা বাংলাদেশে এসে খেলেছে মাত্র চারটা সিরিজ। যেটা অন্যান্য আসিসি মেম্বারদের থেকে কম। প্রতিবেশী দেশ হয়েও ভারত বাংলাদেশের উত্থানে অবশ্যই খুশি নয়। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫ এর কোয়াটার ফাইনালের কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশের স্বপ্ন কে দুমড়ে মুচড়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল মার্চ ১৯, ২০১৫ তারিখে মেলবোর্নে। বাংলাদেশ তখন থেকেই বুঝে গেছিল বন্ধু প্রতিম দেশ ভারত অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটের এ উত্থানে ভীত।

264437.jpg

১১ জুন ২০১৭ রবিবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এর ইন্ডিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা এর ম্যাচে ভারতের সাবেক ক্যাপ্টেন সৌরভ গাঙ্গুলি তো ধারাভাষ্য দিতে দিতে বলেই ফেলেছিলেন, “আজ রবিবারের ম্যাচ শেষে ভারতীয় সাপোর্টারদের আবার উড়ে যেতে হবে লন্ডনের দ্যা ওভালে ফাইনাল দেখতে।” যেখানে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৫ জুন ২০১৫ এ এডবাস্টোন এর ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি ছিল বাংলাদেশ। তিনি যেন বাংলাদেশ কে কোন গুরুত্বই দিলেন না। এমন ভাবে ঘোষণা দিলেন যেন ভারতের কাছে বাংলাদেশ কোন টিম ই না।  একজন ক্রিকেটার হয়ে তিনি একটা দেশের ক্রিকেট কে অপমান করে এমন কথা কিভাবে বলেন?

ঠিক একই ম্যাচে যখন ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে সহজ জয় তুলে নিয়েছিল, তখন ভারতীয় ক্রিকেটার ভিরেন্দর শেবাগ তার সামাজিক মাধ্যম টুইটার এর একটা টুইটে লিখেছিলেন “ভারতকে অগ্রিম ফাইনালে ওঠার জন্য শুভেচ্ছা। হ্যাঁ ভারত শক্তিশালী হতে পারে, অবশ্যই তারা এখন ভালো খেলছে, কিন্তু সেমিফাইনালে ওঠা একটি টীমের বিপক্ষে একজন কিংবদন্তী কিভাবে এমন মন্তব্য করেন।

রাঙ্কিং  ৬ এ থাকা একটা টীমের বিপক্ষে রাঙ্কিং  ৩ এ থাকা এমন টা বলতেই পারে হয়তো।। কিন্তু তারা হয়তো ২০১৫ এর বাংলাদেশের বিপক্ষে  সিরিজ হারাটা ভুলে গেছে। তারা হয়তো ভুলে গেছে ২০০৭ সালের ওই ম্যাচ টার কথা। ২০০৩ এর ফাইনালিস্ট ভারত রাঙ্কিং ১০ এ থাকা একটা টীমের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। আর সে টীম টা ছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ ২০১২ এর ১৬ মার্চ এর ম্যাচটার কথা মনে আছে সৌরভ গাঙ্গুলি অথবা ভিরেন্দর শেবাগ এর??? বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাইরে চলে গেছিল সে সময়ের হট ফেবারিট টীম ভারত। হ্যাঁ আমরা হেরেছি। অবশ্যই একটা পরাশক্তির কাছে হেরেছি। কিন্তু তারা যখন হেরেছিল? তখন বাংলাদেশ অবহেলিত টীম গুলোর মধ্যে একটা। আর এখনকার বাংলাদেশ টীম তো ইতিহাসের সেরা বাংলাদেশ একাদশের একটি। তবুও এত অপমান?

245395.jpg

আমরা খেলা এখন ও শিখছি। ১৭ বছর বয়সে আমারা নিশ্চই অভিমন্যু এর  থেকে ভালো জবাব দিয়েছি। বড় টুর্নামেন্ট এর সেমিফাইনালে গেছি। আমরা নিশ্চই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের জন্য বাছাইকৃত ৪ টা টীমের ভিতর দুইটার একটি। অবহেলা টা আমাদের উপর মানায় না। ইংল্যান্ড এর সাথে ৩২৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার সাথে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ১৮৪। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬৫ রান তারা করতে নেমে ৫ উইকেটের বিশাল জয়। কোথায় খারাপ খেলেছি আমরা?? তার পর ও এমন কটূক্তি।

আমাদের দেশের ক্রিকেট নিশ্চয় এখন অনেক ক্রান্তিকর একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সিনিয়র প্লেয়ার রা অবসর নিচ্ছেন। নতুনদের নিয়ে দল সামলে মাশরাফির সেমিফাইনালে যাওয়া অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। নতুন রা অবশ্যই ভালো খেলছে আর আশা করা যায় তারা ভালো করবেও। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অভিজ্ঞতা তাদের সাহায্য করবে নিশ্চই অনেক ভাবে। তারা একসময় দেশের ক্রিকেট কে উজ্জ্বল করবে। আমাদের দেশেই আছে সাকিব আল হাসান। মাশরাফি তামিমের নাম জানেন না এমন ক্রিকেটপ্রেমী হয়তো খুব কম আছেন। নতুন দের মধ্যে মুস্তাফিজ, সাব্বির তাসকিন কে নিয়ে না বললেই নয়। ভালো করছে তারা। অভিজ্ঞতা নিচ্ছে নানান পরিস্থিতির। সময় দিতে হবে। তারা আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হিসেবে যথেষ্ট।

264441.jpg

হয়তো দিন টি আর বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশ তার ক্রিকেট দিয়ে ছড়িয়ে পরবে সারা বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে। স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বাংলাদেশ নামের কম্পন উঠবে। লাল সবুজের পতাকাতে হবে গ্যালারির রঙ রঙ্গিত। সারা বিশ্ব একসাথে বলবে গো টাইগার, গো……।।

এডবাস্টনে ১৫ই জুনের সেমিফাইনালে কার কপালে জুটবে ফাইনালের টিকিটঃ বাংলাদেশ নাকি ভারত?

Now Reading
এডবাস্টনে ১৫ই জুনের সেমিফাইনালে কার কপালে জুটবে ফাইনালের টিকিটঃ বাংলাদেশ নাকি ভারত?

ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে ক্রিকেট মানেই উন্মাদনা। বিশ্বকাপের পর আইসিসি এর দ্বিতীয় বড় টুর্নামেন্ট হল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত এই আসরে এবার যোগ দিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্বের সেরা আটটি দল। ১২ বছর পর প্রথম বারের মত ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে পেছনে ফেলে সপ্তম দল হিসেবে জায়গা করে নেয় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এ। গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে। সামনাসামনি ভারত। কি হবে পরিনতি? কে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে।

263793.jpg

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে গ্রুপ পর্বের খেলা প্রায় শেষ করে নক আউট পর্বের খেলা শুরু ১৪ জুন ২০১৭ থেকে। এর ভিতর নিজেদের স্থানকে সেমিতে করে নিয়েছে ইংল্যান্ড এবং ২ এশিয়ান টিম ভারত এবং বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এবার প্রথমবারের মত আইসিসি আয়োজিত কোন বড় আসরের সেমিফাইনালে। এর আগে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫ এর কোয়াটার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই এশিয়ান টিম। ফলাফল টা বাংলাদেশী ক্রিকেট প্রেমীদের হতাশ করলেও এবার হয়তো আবার আশার মুখ দেখবে টাইগার সমর্থকরা।  সুযোগ টা বড় করে দেখে কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে যেতে?

263808.jpg

১ লা জুন থেকে শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর দুইটা গ্রুপ এ এবং বি  এর আটটি টিমের মধ্যে থেকে নিজেদের সেমিফাইনালে নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ও ভারত যথাক্রমে গ্রুপ এ থেকে দ্বিতীয় সেমিগাইনালিস্ট হিসেবে এবং গ্রুপ বি থেকে ভারত প্রথম সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে নিজেদের নাম লেখায়।

অপর সেমিফাইনালিস্ট এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর আয়োজক ইংল্যান্ড।এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর সেমিফাইনালে দেখা যাবে ৩ এশিয়ান টীম কে। বাকি আছে গ্রুপ বি এর একটি খেলা। শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্থান নিজেদের কে সেমিফাইনালে দেখার জন্য মাঠে নামবে আজ। ঠিক হবে ইংল্যান্ডের সাথে কে খেলবে ১৪ জুন ২০১৭ এর সেমিফাইনালে।

ভারত বাংলাদেশ ক্রিকেট যুদ্ধের শুরুটা বেশ পুরাতন। ১৯৮৮ সালের এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ পর্যন্ত ভারত এবং বাংলাদেশ মোট ৩২ টা টুর্নামেন্টে একসাথে অংশগ্রহন করেছে। এবং এর ভিতর একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজেদের মুখোমুখি হয়েছে ৩৩ বার। তৈরি হয়েছে অনেক রেকর্ড, আছে অনেক ইতিহাস। জেনে নেওয়া যাক ভারত আর বাংলাদেশের এই পর্যন্ত মুখোমুখি হওয়া ক্রিকেটের রেকর্ড গুলোঃ

Champions Trpophy Semi Final.jpg

টেস্ট রেকর্ডঃ

প্রথম মাচঃ

তারিখঃ নভেম্বর ১০-১৩, ২০০০।

ভেনুঃ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম।

ফলাফলঃ ভারত ৯  উইকেটে জয়ী।

 

টেস্ট সিরিজঃ  ৬ টি।

মোট টেস্ট মাচঃ ৯ টি।

ভারত  জয়ীঃ ৮ টি।

ড্রঃ ১ টি।

সর্বোচ্চটীম সংগ্রহঃ ৬৮৭ (ভারত ২০১৭ )

সর্বনিন্ম টীম সংগ্রহঃ ৯১(বাংলাদেশ ২০০০)

সর্বোচ্চজয়ঃ

  • ইনিংস হিসেবেঃ ১ ইনিংস এবং ২৩৯ রান (ভারত ২০১০)
  • রান হিসেবেঃ ২০৮ রান( ভারত ২০১৭)
  • উইকেট হিসেবেঃ ১০ উইকেট ( ভারত ২০১০)

সর্বোচ্চব্যক্তিগত রানঃ ৮২০ শচিন টেন্দুলকার ( ভারত ২০০০-২০১০)

  • সর্বোচ্চঃ ২৪৮*
  • ইনিংসঃ ৯ ।
  • মাচঃ ৭।

ভারতের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ ৫ টি (শচিন টেন্দুলকার, ভারত)

বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ  ২ টি (মুশফিকুর রহিম, বাংলাদেশ)

সর্বাধিক উইকেটঃ

  • বাংলাদেশের হয়েঃ ১৫ টি, সাকিব-আল-হাসান(বেষ্ট ৫/৬২)
  • ভারতের হয়েঃ ৩১ টি, জাহির খান(বেষ্ট ৭/৮৭)

 

একদিনের আন্তর্জাতিক মাচঃ

প্রথম মাচঃ

তারিখঃ ২৭ অক্টোবর ১৯৮৮।

ভেনুঃ চট্টগ্রাম।

ফলাফলঃ ভারত ৯ উইকেটে জয়ী।

 

একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ সিরিজঃ  ৩২ টি।

মোট একদিনের আন্তর্জাতিক মাচঃ ৩৩ টি।

ভারত  জয়ীঃ ২৫ টি।

ড্রঃ ২ টি।

বাংলাদেশ জয়ীঃ ৬ টি।

সর্বোচ্চটীম সংগ্রহঃ ৩৭০ (ভারত ২০১১)

সর্বনিন্ম টীম সংগ্রহঃ ৫৮(বাংলাদেশ ২০১৪)

সর্বোচ্চজয়ঃ

  • রান হিসেবেঃ ২০০ রান( ভারত ২০০৩)
  • উইকেট হিসেবেঃ ৯ উইকেট ( ভারত ১৯৮৮)

সর্বোচ্চব্যক্তিগত রানঃ ৫৯২, গৌতম গাম্ভির( ভারত ২০০৩-২০১২)

  • সর্বোচ্চঃ ১০৭*
  • ইনিংসঃ ১১ ।
  • মাচঃ ১১।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চরানঃ ৫১৭, মুশফিকুর রহিম(বাংলাদেশ ২০০৭-২০১৫)

  • সর্বোচ্চঃ ১১৭
  • ইনিংসঃ ১৭ ।
  • মাচঃ ১৮।

ভারতের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ ৩ টি (বিরাট কোহলি, ভারত)

বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ  ১ টি (অলোক কাপালি, বাংলাদেশ)

সর্বাধিক উইকেটঃ

  • বাংলাদেশের হয়েঃ ২০ টি, মাশরাফি মুর্তজা(বেষ্ট ৪/৩৮)
  • ভারতের হয়েঃ ১৬ টি, এ বি আগারকার(বেষ্ট ৩/১৮)

 

টি টুয়েন্টি ম্যাচঃ

প্রথম মাচঃ

তারিখঃ ৬ ই জুন ২০০৯।

ভেনুঃ নটিংহাম।

ফলাফলঃ ভারত ২৫ রানে জয়ী।

 

টি টুয়েন্টি সিরিজঃ  ৭ টি।

মোট টি টুয়েন্টি ম্যাচঃ ৫ টি।

ভারত  জয়ীঃ ৫ টি।

 

সর্বোচ্চটীম সংগ্রহঃ ১৮০ (ভারত ২০০৯)

সর্বনিন্ম টীম সংগ্রহঃ ১২১(বাংলাদেশ ২০১৬)

সর্বোচ্চজয়ঃ

  • রান হিসেবেঃ ৪৫ রান( ভারত ২০০১৬)
  • উইকেট হিসেবেঃ ৮ উইকেট ( ভারত ২০১৪)

সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানঃ ১৯৪, রোহিত শর্মা( ভারত ২০০৯-২০১৬)

  • সর্বোচ্চঃ ৮৩।
  • ইনিংসঃ ৫ ।
  • মাচঃ ৫।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চরানঃ ১০২, সাব্বির রহমান(বাংলাদেশ ২০১৬-)

  • সর্বোচ্চঃ ৪৪।
  • ইনিংসঃ ৩ ।
  • মাচঃ ৩।

সর্বাধিক উইকেটঃ

  • বাংলাদেশের হয়েঃ ৭ টি, আল-আমিন হোসেন(বেষ্ট ৩/৩৭)
  • ভারতের হয়েঃ ৬ টি, রবিচন্দন অশ্বিন(বেষ্ট ২/১৫)

5.jpg

২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভিন্ন পথ চলা। বিগত ২ বছরে বাংলাদেশ হারিয়েছে ক্রিকেটের নামিদামি সব পরাশক্তি কে। টানা ৫ টি সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে যে কোন ক্রিকেট টীমের উদ্বেগের কারন। বাংলাদেশ হারিয়েছে ভারত পাকিস্থান এবং দক্ষিন আফ্রিকার মত বাঘা টিমকে। নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবারের মত বিদেশের মাটিতে হারিয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ রাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন ৬ এ। ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ জেতার সমীকরণে সেরা ১০ এর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে সেমিফাইনালে ভারত কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে যেতে?

সাকিব রিয়াদের কানামাছি!

Now Reading
সাকিব রিয়াদের কানামাছি!

“ক্রিকেট বিশ্ব শুনলো আবারো বাংলার বাঘের হুংকার”
ইন্ডিয়ানদের সাথে যখন বাংলার টাইগারদের খেলায় একটু বেহাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো, তখন প্রশ্নের ঝড় শুধু বাংলার এগারো টাইগারের বুকে বাঁধে নি ব্যাথার মৌচাক, বেধে ছিলো বাংলার ক্রিকেটের ভক্তদের বুকে। ইন্ডিয়ানদের কথা বলে কি হবে, ওরা বরাবর একটু বেশি ই জল ঘোলা করতে ভালোবাসে।
সেই ব্যাথার ই জ্বালা থেকে বাংলার টাইগার দের কাছ থেকে এক জাগ্রত হুঙ্কার শুনলো অস্টেলিয়ান রা। হয় তো সেই দিন ই অনেক এ বুঝতে পেরেছিলেন বাংলার বাঘ ক্ষেপেছে।
জয় পাওয়ার তৃপ্ত বাসনার কারনে ই বাংলার বাঘের কাছ থেকে এই বার রেহাই পেলো না নিউজিল্যান্ড । খেলা শুরু হওয়ার আগেই কার্ডিফে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলেও, ক্রিকেটের আবহাওয়া ছিলো বেশ গরম।

আরো বেশি গরম হয়ে গেলো, যখন কিউই এর অধিনায়ক টস এ জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যদি ও বাংলাদেশের টাইগারদের অধিনায়ক মারশাফি জানিয়েছিলেন তিনি টস এ জিতলে অবশ্যই বোলিং নিতেন।

কে ই বা জানে, কেন ই বা, কিউই অধিনায়ক ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হয় তো হতে পারে উইকেট তার কাছে শুকনো মনে হয়েছিলো।
তাই তিনি আগে বাগে ইঁদুর দৌড় দিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু, বাংলার বাঘদের কাছ থেকে অতো সহজে রেহাই পাওয়া যাবে না। তা নিউজিল্যান্ড এর প্রথম উইকেট গোল্লায় যাওয়ার পর ই বুঝতে পারে।
মারশাফির সেই অসাধারণ নেতৃত্ব। বাংলার নেতা তো তাই আগে থেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। তাই তো সময়ের প্রয়োজনে ইমরুল ও মেহেদী কে একাদশ এর বাহিরে রেখেছিল। বাংলার কোপ মারার জন্য দলে নিয়ে এসেছিলো তাসকিন ও তরুন মোসাদ্দেক কে।
বাংলার বোলিং আর কিউই দের ব্যাটিং। প্রথম থেকেই ঠিক কসেই ধরে বসেছিলো বাংলাদেশী বোলারা।
বাংলাদেশী বোলারা মনে হয় কিউই দের একেবারে পাই টু পাই হিসাব করে। রান দিচ্ছিলো। শুধু কি রানে হিসাব করলে হয়, তাইতো এই বার শুরু হলো উইকেট এর হিসাব। তাসকিন এর দুই আংগুলের বাকা বলে কেড়ে নেয় কিউই দের প্রানঘাতি দুইটি মূল্যবান উইকেট। তখন ই মনে হচ্ছিলো মারশাফির ভাবা ভুল নয়। তারপর তার পুরোপুরি প্রমাণ করে দেয়, তরুন বোলার মোসাদ্দেক। এদিকে রুবেলের গতির কাছে কিউই দের হাল হয়ে উঠলো বেগতি। তাই রুবেলের গতি কাছে হার মানলো গাপটিল।রিভিউ নিলো কিন্তু কোন কাজই হলো না। তাসকিনের মতো এবার রুবেলেও দ্বিতীয় ওভারে উইকেট মিললো।
ফাইন লেগ থেকে রান চুরি করতে গিয়ে এবার সুবিধা করতে পারলো না কিউই এর অধিনায়ক। হয়ে গেলো রান আউট। মারশাফির এইবার এনলো তার অন্যতম হাতিয়ার মোসাদ্দেকে। তার অসাধারণ বোলিং এ কিউই রা পেলো একজোড়া ধাক্কা। ফলে ‘এজ’ বল উড়িয়ে দিল ব্যাকওয়াডর্র পয়েন্টে, আর ঠিক সময় ঠান্ডা মাথায় ক্যাচ নিলো তামিম। নামলেন
অ্যান্ডারসন, আরেকটি ভুল। সামনে পা বারিয়ে খেলতে বোল ঢুকে গেলো ভিতরে, প্যাড এ লাগলো, এলবিডাব্লিউ হয়ে চলেই যাচ্ছিলো। কিউই রা নিলো রিভিউ, কিন্তু কোন লাভ হলো না।
আবারো মোসাদ্দেক এর বোলিং আর মুশফিকুর এর গ্লাভস এর যাদু এক হয়ে করলো এক অন্যরকম মীরাকেল। ফলে হয়ে গেলো নিশাম এর পতন আর সেই সাথে সাথে ই গোল্লায় গেলো কিউই দের আর একটি উইকেট। এবার বুঝি বাকি ছিলো মুস্তাফিজের স্লোয়ার এর ঝলক দেখানোর। তাহলে শুভ কাজে দেরি কেন? বোলিং করলো মুস্তাফিজ, বোল সোজা দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে একেবারে মামা বাড়ি যা বোল্ড। এর ই মাঝে বাংলা বোলার দের হাতে নাস্তানা ভূত হয়ে ২৬৫ রানে ই আটকে গিয়ে নিউজিল্যান্ড এর খেলার পরি সমাপ্তি ঘটে।

বাংলার বোলিং এর বোল কড়া যাদু সবাই দেখলেন।
এইবার পালা, বাংলার ব্যাটসম্যানদের ব্যাট এর যাদু দেখনোর।

নামলো তামিম বেশ বড় আশায় বুক বাধছিলো বাংলাদেশ। অবশ্যই বাধার ই কথা।কারণ, বিগত, দুই ম্যাচের স্কোরকার্ড বলছিলো তাই। কিন্তু তামিমের ভুল লাইনে খেলার জন্য দিতে হলো কড়া দাম। ডাক মারলো তামিম। মনে হলো এইটা তামিমের ডাক ছিলো না, ১৬ কোটি মানুষ এর কলিজা টা শূন্য হয়ে গেলো। যাই হোক মাঠে সাব্বির, কিন্তু হলো না, সাউদির গুড লেনথের বলে শিকার হলো সাব্বির। এলো সৌম্য সরকার, পা পিছনে দিয়ে খেলতে গেলো কিন্তু সাউদির গুডলেংথি ডেলিভারি সেই সুযোগ দিলো না, বোল গিয়ে লাগলো
আর তাতেই সৌম্য কাবু। বাস কি? ১২ রানে ৩ উইকেট এর পতন। ততক্ষনে অনেকেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণী বলার কাজে লেগে গেলো। এই বার নামো মুশফিকুর। মুশফিকুর এর ব্যাট থেকে দুর্দান্ত এক চার। ও এতোক্ষনে একটু শান্তি লাগতে শুরু করলো, কিন্তু, কপালে সুখ সইলো না। মিলনের বোলিং এর সুইং, হয়ে গেলো মুশফিকুর এর উইকেট এর চুইং।

৩৩ রানে যখন বাংলাদেশের ৪ উইকেট এর পতন, তখন বেশিরভাগ লোক ই বলছিলো এবার বুঝি আর শেষ রক্ষা হলো না। ততক্ষণে বাংলাদেশ হারবে ভেবে খেলা দেখা ছেড়ে দিয়েছিলো আপনার মতো অনেক ই। আর তখন বাংলাদেশকে কমেন্ট্রি থেকে তো বাংলাওয়াশ দিচ্ছিলো ই। আর এই সুন্দর সুযোগ কোন ভাবেই মিস করতেছিলো না, ধারাভাষ্যকার সৌরভ গাংগুলি।
হয়তো এর ই উপযুক্ত জবাবের জন্য আবার আসলো এশিয়া কাপের সেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আরে এসেই দিলো বাংলার বাঘের হুংকার, নিশাম এর বোল কে দিলো উড়িয়ে দিলো স্কয়ার লেগ এ, কেল্লাফতে “ছয়”। এই ইনিংস এ বাংলাদেশের প্রথম ছয়। তার পরের বলেই মারলো চার’। আশা এখনো ফুরাই নাই, ইতিহাস অনেক বাকি। এই রকম এক বাতা নিয়ে ই বুঝি বাংলার এই বাঘ মাঠে নেমেছিলো।

২৩ তম ওভারে বাংলাদেশ করলো ১০০ রানের গন্ডি পার। সাকিব আর রিয়াদের ৫০ এর জুটি ও পার করে ফেলেছে দুই বাংলার বাঘ।
৩১ তম ওভারে দুই ক্রিকেট পাগল করে ফেললো শত রানের জুটি। এর ই মধ্য করলো সাকিবের ক্যারিয়ারের ৩৫ তম ফিফটি, সাধারণ ভাবে ফিফটি হলে ব্যাটসম্যানরা ব্যাট প্রদর্শন করে থাকে। কিন্তু, সাকিব তা করলো না, বরং, গ্লাভস চেয়ে পাঠালেন। তখন ই বুঝা হয়ে গিয়াছিলো বাংলার পাগলা এই বার কিউই দের দিবে বাংলার বাশ। তার সাথে সাথে মাহমুদউল্লাহ ও ক্যারিয়ারের ১৮ নম্বর ফিফটি করে ফেললো।

ওরে বাবা কিউই দের আর কতো দৌড় দিবি এইবার ছাড় দে। না বুজি এই বার আর রক্ষা পেলো না, কিউই রা, তাই করে ফেলো আরেক টি রেকড, সাকিব রিয়াদের ১৫০ এর জুটি হয়ে গেলো।
এই বার সাকিব রিয়াদ দুই জন ই বেশ ঝুকি নিয়ে খেলছিলো। আর সাকিব মাঝে মাঝে মুচকি হেসে দিচ্ছিলো। কিউই দের কাঁটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা পড়তাছিলো।
২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম-মুশফিক করেছিলো ১৭৮ রানের জুটি রেকড। কিন্তু, সাকিব-রিয়াদ এইবার সেই রেকড ছাড়িয়ে গেলো ২০০। বাংলাদেশের জুটি রেকড এ এইটা এখন সবচেয়ে বড় রেকর্ড।
২০০ রানে জুটি আবারো কার্ডিফকে দেখিয়ে দিলো বাংলার গর্রজন।

২০৪ বলে সাকিব-রিয়াদের ২০০ রানের জুটির পর, সাকিবের শতক রান করার পালা। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে শেষ শতক করেছিলেন এই অলরাউন্ডার। এই আবার করলো আজকের ম্যাচ এ। তারপর কি সাকিব ১১৫ বোল এ ১০৪ করে ঘরে ফিরে। তখন পুরো কাডিফ হাতে তালি দিয়ে স্বাগতম জানাচ্ছিলেন এই অলরাউন্ডার কে।

নামলেন মোসাদ্দেক, সেও নেনে কিউই দের নাস্তানাবুদ বানালো। কোন দাম ই পেলো না তার কাছেও নিউজিল্যান্ড এর বোলার রা। তখন মাহমুদউল্লাহ সুযোগ এ ছিলেন তার শতক পুরণ করার। তাই তো চার মেরে তার তৃতীয় শতক পুরন করে ফেললো। তারপর মহান আল্লাহ নামে সিজদায় পরে গেলেন। তারপর তার ব্যাট এর মিডেল এ খালি জায়গায় ইশারা করে বোধ হয় কাওকে দেখিয়ে বলে দিয়েছিলো, এই জায়গায় টায় তোমার নাম লিখে দিবা। খুব বেশি স্টাইলিশ ছিলো না, ছিলো কলিজার সাদা সিধা টান। তার এই ইশারা আসলে কাকে অনুসরন করে করা হয়েছিলো? তা নিয়ে সকলের মাঝেই ছিলো ব্যাপক কৌতূহল। অবশেষে মাহমুদউল্লাহ সেই রহস্য অবসান ঘটালেন”বাবা এই ব্যাট দিয়ে খেলো, তুমি ভালো খেলবে” কথাটি মাহমুদউল্লাহ ৫বছরের ছেলেটি বলছিলো। তখন এই ইশারায় বুজানো হয়েছিলো বাবা এই জায়গায় তোমার নামটা ই লেখবো। ভালো খেলোয়াড় এর সাথে সাথে মাহমুদউল্লাহ যে একজন ভালোবাসাময়ী বাবা তা ও প্রমান হয়ে গেলো।

এর ই মধ্য দিয়ে জিতে গেলো বাংলাদেশ এর বাংলার টাইগার, আর আবারো কাডিফ শুনলো বাঘের হুংকার কেমন হয়? মারশাফির ডাক যেমন হয়।

সাকিব – রিয়াদের জুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লেখা লিখির শেষ নাই। আসলেই জয় টা ছিলো এমন ই না শেষ হওয়ার মতো।
সেলুট মারশাফি আবারো তোমার বাঘের মতো সুচারু সব কৌশলের জন্য। জানি না ফাইনালে তে যাবো কিনা কিন্তু, জানি বাংলাদেশের বাংলার বাঘ দের ভালোবেসে যাবো।

এগিয়ে যাও বাংলার বাঘ…..

বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণ !!!

Now Reading
বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণ !!!

স্বপ্নের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমি ফাইনাল নিশ্চিত হল বাংলাদেশের। গতকালের ঐতিহাসিক জয়ের পর আজ ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়ে সেফি ফাইনাল নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

গতকাল কার্ডিফে ঐতিহাসিক ম্যাচটিতে জয় পায় বাংলাদেশ। সেই সাথে বাংলাদেশের টিম ওয়ার্ক ছিল দুর্দান্ত। বোলিং এ নিউজিল্যান্ডকে ২৬৫ রানে আটকানো ও সাকিব-মাহমুদুল্লাহর জোড়া সেঞ্চুরি বাংলাদেশকে গতকাল কার্ডিফের মাঠে ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়। তারপর আজকের ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের দিকে চোখ ছিল বাংলাদেশ দল সহ ১৬ কোটি ক্রিকেট প্রেমীর।

ইংল্যান্ডের সাথে শুরুটা বেশ ভালোভাবেই করেছিল অজি খেলোয়াড়রা। কিন্তু শেষটা ভাল হয় নি তাদের। ইংল্যান্ড বোলারদের বোলিং তোপে অজি খেলোয়াড়রা খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারে নি। মার্ক উড ও আদিল রশিদ এর দুর্দান্ত বোলিং অজিদের ২৭৭ রানেই থামিয়ে দেয়। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে হোঁচট খায় ইংল্যান্ড দল। ৩৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে প্রায় দিশেহারা অবস্থা তৈরি হয় ইংল্যান্ড এর। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ- সাকিব এর মত ইংল্যান্ড দলপতি ইয়ন মর্গান ও স্টোকস যে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে তা সত্যি অসাধারণ। মর্গান সেঞ্চুরির দ্বারে গিয়ে ব্যার্থ হয়ে সাজ ঘরে ফিরলেও ব্যার্থ হয়নি স্টোকস। স্টোকস এর অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস ইংল্যান্ড কে সহজ জয় এনে দেয়। কিন্তু ম্যাচে বাধা হয় বৃষ্টি। ইংল্যান্ড ব্যাটিং এ আসলে দুই দুই বার বৃষ্টির কবলে পড়ে তারা। প্রথম বার বৃষ্টি থামার পর আবার খেলার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু ৪০ ওভারের মাথায় পুনরায় বৃষ্টি শুরু হলে ম্যাচ রেফারি বৃষ্টি আইনে ইংল্যান্ডকে জয়ী ঘোষণা করে। ম্যাচ জয়ের নায়ক হয় বেন স্টোকস।

এর আগে টসে জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় মর্গান। জবাবে শুরুটা ভালোই করে অস্ট্রেলিয়া। মার্ক উড অজি খেলোয়াড়দের শিবিরে প্রথম আঘাত হানে। ওয়ার্নারকে সাজ ঘরে ফেরায় মার্ক উড।  এরপর ফিঞ্চ ও ক্যাপ্টেন স্মিথ মিলে রানের খাতা সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে অর্ধ শতক তুলে নেয় ফিঞ্চ। কিন্তু তার অর্ধ শতক বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি। দলীয় ১৩৬ রানের সময় ফিঞ্চকে ৬৮ রানে আউট করে স্টোকস। মাঠ ছাড়ার আগে ৮টি চার মারে ফিঞ্চ। এরপর আসা যাওয়ার মিছিলে ছিল অজি খেলোয়াড়গণ। হেডের অপরাজিত  ৭১ রানের ইনিংস অজিদের ২৭৭ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। মার্ক উড ও আদিল রশিদ দু’জনেই অনেক ভালো বোলিং করে। তাদের সাশ্রয়ী বোলিং ও দুর্দান্ত বোলিং তোপে বড় রানের সংগ্রহ আনতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ২৭৭ রানেই গুটিয়ে যায় অজি খেলোয়াড়দের ইনিংস।

জবাবে ইংল্যান্ড ব্যাটিং এ নামলে অজিরা ইংলিশ শিবিরে আঘাত হানে বেশ তুখোড় ভাবে। ৩৫ রানেই সাজ ঘরে ফেরে রয়, হেলস ও রুট। এমতাবস্থায় ইংলিশ শিবিরে হাল ধরেন ক্যাপ্টেন মর্গান ও বেন স্টোকস। তাদের ১৫৯ রানের পার্টনারশিপ ইংল্যান্ডকে জয়ের প্রান্তে পৌঁছে দেয়। কিন্তু ইংল্যান্ড ৫ ওভারে  তিন উইকেট হারালে ম্যাচ বৃষ্টির কবলে পড়ে। যদিও আবহাওয়া বার্তা থেকে আগেই অনেকটা সন্দেহ করা হচ্ছিল যে আজকের ম্যাচে বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু বৃষ্টি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি। ইংল্যান্ড আবার মাঠে নামে। এ সময় যেন অন্য রূপে মাঠে আসে তারা। রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে মর্গান ও স্টোকস অসাধারণ ইনিংস খেলতে থাকে। তারা দুজনেই নিজেদের রানের খাতায় অর্ধশতক তুলে নেয়। অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন স্মিথ কে মাঝে মাঝে ক্যাপ খুলে মাথায় হাত দিতে দেখা যায়। বেচারার ভাগ্য যেন এই টুর্নামেন্টে সহায় হল না।  পরপর দুই ম্যাচ বৃষ্টিতে পন্ড হওয়ার পর আজকের ম্যাচে হার। এ যেন সত্যিই ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। মর্গান শতক পূরণের দ্বার গোড়ায় পৌছালেও তাকে সফল হতে দেয় নি জাম্পা। ৮৭ রানে রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়ে মর্গান। সাজ ঘরে যাওয়ার আগে ৮ চার ও ৫ ছয়ে অসাধারণ ইনিংস উপহার দেয় মরগান। সাথে ইংল্যান্ডকে জয়ে প্রান্তে পৌঁছে দেয়।

মর্গান ব্যর্থ হলেও ব্যর্থ হয় নি বেন স্টোকস। এক প্রান্ত আগলে রেখে চমৎকার শতক তুলে নেয় স্টোকস। তার সাথে খুব ভালো সঙ্গ দেয় উইকেট  রক্ষক জর্জ বাটলার। কিন্তু আবারও বাধা হয়ে আসে বৃষ্টি। ৪০ ওভার ২ বল খেলা শেষ হলে বৃষ্টি আবার খেলায় বিগ্ন ঘটায়। কিন্তু এর আগে স্টোকস ১৩ চার ও ২ ছয়ে ইংল্যান্ড এর জয় রচনা করে ফেলে।

ম্যাচ রেফারি ডি এল মেথডে ইংল্যান্ডকে ৪০ রানে বিজয়ী ঘোষণা করে। ইংল্যান্ড এর সেমি ফাইনাল আরো আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। আর আজকের ম্যাচের পর ইংল্যান্ডের সাথে সেমি ফাইনালের যাত্রী হল বাংলাদেশ।

‘ বি ‘ গ্রুপে এখনো নির্ধারিত হয় নি দুই সেমিফাইনালিস্ট। পাকিস্তান ও শ্রীলংকা তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে যে ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে এখনো সেমি ফাইনালের টিকেট পায় নি কোন দল। ‘বি’ গ্রুপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের সাথে সেমি ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। তাই কোন দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে তা দেখার জন্য আগামীকাল ভারত বনাম দক্ষিণ  আফ্রিকার ম্যাচ ও পরের দিন পাকিস্তান বনাম শ্রীলংকার ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকবে সবাই।

এদিকে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় আনন্দের জোয়ার বইছে বাংলাদেশ শিবিরে ও দেশের ১৬ কোটি মানুষের মনে। বাংলাদেশের টাইগাররা সেমি ফাইনালে আমাদেরকে অসাধারণ একটি ম্যাচ উপহার দিবে সেই প্রত্যাশাতেই শেষ করছি। টাইগারদের প্রতি রইল অনেক অনেক শুভ কামনা।

অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ ও বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ . . .

Now Reading
অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ ও বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ . . .

গতকাল মাঠে গড়ায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটির ফলাফল হয় পরিত্যক্ত। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় দুই দল। এতে করে দুই ম্যাচ খেলে কোন ম্যাচের ফলাফল না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট দুই আর দুই ম্যাচ এর একটিতে হেরে বাংলাদেশের পয়েন্ট এক।

ইংল্যান্ড এর সাথে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেট এ হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সাথে দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বোলিং তোপে মাঠে টিকতে পারেনি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। শুধু মাত্র তামিমের ৯৫ রানের অসাধারণ ইনিংস বাংলাদেশকে ১৮২ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। দলের বাকি ১০ জন মিলে করেন মাত্র ৮৭ রান।

অপরদিকে ১৮৩ রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের জয়ের শঙ্কা দেখা দেয়। আকাশে মেঘ করার অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়গণ অনেকটা চিন্তিত হয়ে পড়েন। আর কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ অন্যদিকে ব্যাটসম্যানদের হিমশিম খাওয়াতে থাকেন। ১৬ ওভার পর ৮৩ রানে ১ উইকেট হারিয়ে পানি বিরতিতে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। আর অস্ট্রেলিয়া দলের কপাল পোড়ে। পরবর্তীতে ম্যাচ আম্পায়ার ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় দুই দল।  এতে করে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে ১৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়া যে রান করেছিল, ২০ ওভারে যদি আর রান নাও করত কিংবা আরো ২/৩ টি উইকেট হারাতো তাহলেও অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে জয়ী করে দেয়া হত। কিন্তু তারা হেরে যায় বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফির বুদ্ধির কাছে। আসলে মাশরাফি আগে থেকেই জানত যে ইংল্যান্ডে ৬ টা বা ৭ টা নাগাদ বৃষ্টি হতে পারে। আর তাই নিশ্চিত পরাজয় জেনেও মাশরাফি বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে থাকে। আর সেই জন্যে যাতে সময় বেশি লাগে এবং ২০ ওভার যেন তাড়াতাড়ি শেষ না হয়ে যায় তাই তিনি দলের পেসার বোলারদেরকে বেশি সময় নিয়ে বোলিং করতে বলেন এবং যাতে তারা দৌড়ে রান করে সেভাবে বোলিং করতে বলেন। মাশরাফি নিজেও এক ওভার বোলিং করতে সময় নেয় প্রায় ৮ মিনিট আর দলের অন্য পেসার রুবেল এক ওভার বোলিং করতে সময় নেয় ৬ মিনিট করে। ১৬ ওভারের মধ্যে ১৫ ওভারই মাশরাফি পেসারদের দিয়ে বোলিং করান। বোলিং এ যাতে বেশি সময় যায় তাই তিনি মিরাজকে বোলিং এ এনেও আবার সরিয়ে নেন। অতঃপর পানি বিরতিতে গিয়েও মাশরাফির মনে হচ্ছিল তাদেরকে আরো বোলিং করতে হতে পারে। কিন্তু ভাগ্য সাথে থাকায় তাদেরকে আর বোলিং করতে হয় নি। বৃষ্টি তাদের ভাগ্য খুলে দেয়। মাঠে ব্যাটিং করা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদ্বয় মাশরাফির চালাকি ধরতে পেরে রিতিমত রাগারাগি শুরু করে দেয়। যা তাদের আচার ভঙ্গি দেখেই বুঝা যাচ্ছিল। মাশরাফি বোলিং এ বেশি সময় লাগাচ্ছিল বলে ওয়ার্নার ও স্মিথ অনেকটা রেগে যায়। কিন্তু মাশরাফি তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় টুর্নামেন্টে এখনও টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার দুটি ম্যাচের একটিতেও ফলাফল আসে নি। তাই অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়রা এখন কপাল চাপড়াতে ব্যস্ত। কারণ তাদের হাতে যে কেবল একটি ম্যাচ বাকি আছে ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে। এই ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়া জিতলেই কেবল তারা টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল খেলতে পারবে। তবে বাংলাদেশেরও রয়েছে এই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল খেলার হাতছানি।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড জয় লাভ করে। ইংল্যান্ডকে তাদের পরবর্তী দুটি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জিতলে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে পারে। তবে ইংল্যান্ডকে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হবে। অপরদিকে নিউজিল্যান্ডকেও হারাতে হবে ইংলিশদের। আর যদি বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচ এ নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারতে পারে তবে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ থাকবে।

যেহেতু ইংল্যান্ড তাদের নিজস্ব কন্ডিশনে খেলছে তাই তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতেই পারে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া যদি তাদের সাথে জিতে যায় তাহলে নিউজিল্যান্ডকেও ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে জিততে হবে। আর নিজেদের শেষ ম্যাচ এ বাংলাদেশকে অবশ্যই হারাতে হবে নিউজিল্যান্ডকে এবং তা বড় ব্যবধানে। তাহলে বাংলাদেশের অনেক  আকাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ অর্জন করবে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আয়ারল্যান্ড এ বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে ত্রিদেশীয় সিরিজে হারিয়েছিল। তাই বাংলাদেশ শেষ ম্যাচ নিয়ে অনেক আশাবাদী। তারা এখন নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারানোর পরিকল্পনা করছে। চলুন দেখে নেই ঠিক কিভাবে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল খেলার সুযোগ অর্জন করতে পারবে।

ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড এর ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় এবং ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় হতে হবে। তবে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। তাহলে ইংল্যান্ডের হবে ৬ পয়েন্ট, বাংলাদেশের ৩ পয়েন্ট, অস্ট্রেলিয়ার ২ ও নিউজিল্যান্ড এর ১। তাহলে সেমিতে যাবে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড এর ম্যাচে যদি নিউজিল্যান্ড জয়ী হয় তাহলে ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে জিততে হবে। আর বাংলাদেশ যদি নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারে তাহলে ইংল্যান্ডের হবে ২ পয়েন্ট, বাংলাদেশের ৩ পয়েন্ট, অস্ট্রেলিয়ার ৪ ও নিউজিল্যান্ড এর ৩। এক্ষেত্রে সেমিতে যাবে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ যদি রান রেটের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকে তবে সেমিতে যাবে বাংলাদেশ।

বৃষ্টি এখনও বাংলাদেশকে সেমিতে খেলার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কি ঘটবে তা খেলার মাঠেই দেখা যাবে। যদি বাংলাদেশ টিমের ভাগ্য ভালো থাকে, যদি বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারে তবে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতেও পারে। আর এটা এখন পুরোটাই সময়ের ব্যাপার।

ছবি – গুগল

বাংলাদেশের সামনে এবার অস্ট্রেলিয়া

Now Reading
বাংলাদেশের সামনে এবার অস্ট্রেলিয়া

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। যাদেরকে এবার ধরা হচ্ছে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার।
তাদের এমন কিছু খেলোয়ার আছেন যে একজনই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের নিয়ে মটেই চিন্তিত না। কারন বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ যেকোনো দলকেই হারাতে পারে এটা তারা বিশ্বাস করে। তাই অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে খারাপ দল ভাবতে নারাজ। আর স্টিভেন স্মিথ বলেছেন “ইন্ডিয়ার সাথে আমাদের যেমন প্লান থাকে বাংলাদেশের সাথেও একই প্লান নিয়ে আমরা মাঠে নামব”। বাংলাদেশ অধিনায়াক মাশরাফি বলেছেন “তাদের সাথে জেতা কঠিন কিন্তু অসম্ভব না। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব “।
এখন পর্যন্ত ১৯ বারের দেখায় বাংলাদেশ মাত্র ১ বারই জয় পেয়েছে। তাও আবার সেই ২০০৬ সালে। আশরাফুলের কারনে সেই ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছিল ৫ উইকেটে।তাই সেই জয়টি বাংলাদেশ অধিনায়কের অনুপ্রেরণার কারণ হতে পারে। সেই ম্যাচে খেলা বর্তমান দলের একমাত্র সদস্যও তিনি।কার্ডিফের সেই ম্যাচের পর আরও ১৩ বার মুখোমুখি হয়েছে দুদল। টানা ১২ বার হারার পর বাংলাদেশ সর্বশেষ ম্যাচে স্বস্তি পেয়েছিল। গত বিশ্বকাপে সেই ম্যাচটি ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে।এটা নিয়ে মটেই চিন্তিত নয় বাংলাদেশ যে তারা মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে। কারন ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড কাপের পর থেকে বাংলাদেশ অনেক বড় বড় দেশকে হারিয়েছে। বর্তমানে তারা ৬ নং এ উঠে এসেছে।

Bangladesh-vs-Australia-2017-series-match-schedule.jpg

ইংল্যান্ড ম্যাচ এ বাংলাদেশ ৩ জন পেস বোলার নিয়ে খেলেছিল। আজ মনে হয় রুবেলকে বসিয়ে শফিউলকে নিতে পারে। আবার একজন ব্যাটসম্যান কম খেলিয়ে মিরাজকে খেলাতে পারে। এসব নির্ভর করছে টিম কম্বিনেশন এর উপর। তবে আজকের ম্যাচে যে পরিবর্তন আসছে এটা নিশ্চিত। বাংলাদেশের যেহেতু গত ম্যাচে ৩০০ এর উপর রান করেছে তাই আজ একজন ব্যাটসম্যান কম খেলানোর সম্ভাবনা বেশি। অপর দিকে অস্ট্রেলিয়া দলে তেমন একটা পরিবর্তন আসার সম্ভবনা নেই। নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষের একাদশই আজ নামতে পারে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষের ম্যাচে তাদের ব্যাটিং ঠিক মত হয় নি। বৃষ্টি আসার আগ পর্যন্ত তাদের রান ছিল ৫২ /৩ উইকেট। তাই তারা ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা করছে বেশি। তবে বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে সাকিবের দিকে। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ স্থানে উঠেছিল বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে টাইগারদের জন্য যা ছিল বড় অনুপ্রেরণা। সাফল্যের মাঝেও তখন সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছিল সাকিব-আল হাসানের অফ-ফর্ম নিয়ে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বড় মঞ্চ দিয়েই ফর্মে ফিরবেন দলের বড় তারকা। কিউইদের বিপক্ষে সেদিন ২ উইকেট শিকারে ইঙ্গিতও ছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ হয়ে উদ্বোধনী দিনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও চরমভাবে হতাশ করেছেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। ইংলিশদের কাছে বড় হারে শুরুর পর শেষ চারের আশা জিইয়ে রাখতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজ জিততেই হবে, সাকিবের জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় সবাই। সাকিব-তামিমরা জ্বলে উঠলেই যে জেতে বাংলাদেশ, সেটি প্রমাণিত। ইংল্যান্ড ম্যাচে ব্যাটে-বলে হতাশ করেছেন সাকিব। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহীমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দারুণ প্লাটফর্মের ওপর দাঁড়িয়েও আউট হয়েছেন ১০ রান করে। বল হাতে ৮ ওভারে ৬২ রান দিয়ে উইকেটের দেখা পাননি। আর প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩ রান এবং ৬ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ১ উইকেট। দ্বিতীয় প্রস্তুতিতে ভারতের কাছে লজ্জার হারের দিনে ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য, ব্যাটিংয়ে ৮ রানে আউট। এইসব কি একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের পারফর্মেন্স? কেবল তাই নয়, বেশ লম্বা সময় পার হয়ে গেছে ব্যাটে রান নেই, বলও নির্বিশ। তাই সাকিবের উপরও আলাদা নজর থাকবে ভক্তদের। ইংল্যান্ড এর বিপক্ষে বোলিং নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অধিনায়ক মাশরাফি বিশ্বাস করেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বোলাররা নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘বোলাররা সবাই চেষ্টা করেছে। তারা খারাপ বল করেনি, আমি চেষ্টা করেছি। রান আরো বেশি হলে হয়তো রান রেটের চাপ ওরা অনুভব করতো, তখন কিছু হতে পারতো। সেটা হয়নি। এমনকি সাকিব পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও কিছু করতে পারেনি। তবে আশা করি সামনের ম্যাচে আমাদের চেষ্টা সফল হবে।’

অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়ে যায়। যে কারণে তারাও আজ জিততে মরিয়া থাকবে। এই কন্ডিশনটা অজিদের বেশ ভালোভাবে চেনা। প্রথম ম্যাচে তাদের বোলিংটা শুরুতে একটু খারাপ হলেও শেষ দিকে ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররাই টাইগার ব্যাটসম্যানদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে। বাংলাদেশ দল দুই দিন ধরে কড়া অনুশীলনে ব্যস্ত। বিশেষ করে অনুশীলনে বোলাররাই বেশি পরিশ্রম করছেন। ওভালের উইকেট নিয়ে অধিনায়ক মাশরাফিও বেশ হতাশ। তিনি বলেন, ‘শুধু ওভাল নয়, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডে পেসাররা এখন এরকমই অসহায়।

এদিকে ম্যাচের আগে বড় চিন্তা হয়ে এসেছে লন্ডনের হামলা। বাংলাদেশে এমন হামলা হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তার অজুহাতে দলগুলো বাংলাদেশে আসতে চায় না। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছিল। অথচ দুইবার হামলার পরও ইংল্যান্ডে এখন ক্রিকেট খেলা হচ্ছে, সারা বিশ্ব নিশ্চয়ই তা দেখছে। এই ব্যাপারটা বুঝতে পারলে কোনো দলই বাংলাদেশে আসতে আর অনাগ্রহ দেখাবে না বলে মনে করেন মাশরাফি। তাছাড়া এখন সব জায়াগায় নিরাপত্তাও বেশ জোরদার হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি, ‘আইসিসি এখন সব জায়গায় নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই ভালোভাবে নজর রাখছে। স্বাগতিক দলও সেটা নিয়ে ভাবে। তাই এখন কোথায়ও নিরাপত্তা নিয়ে খেলোয়াড়দের খুব একটা ভাবতে হয় না।’ তাই লন্ডনে হামলা নিয়ে চিন্তিত নয় মাশরাফি, ‘আসলে বিষটি নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তিত নই। তা ছাড়া আমরা তো বেশির ভাগ সময়ই হোটেলে থাকি। হোটেলের নিরাপত্তা ভালোই আছে। তা নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথাও না।’
তবে নিরাপত্তার অজুহাতে যারা এর আগে বাংলাদেশে যায়নি তারা এখন বিষয়টি ভালোভাবে বুঝবে বলে মনে করেন মাশরাফি, ‘তারাও এখন বুঝতে পারবে তাদের দেশে এত নিরাপত্তার মধ্যেও হামলা হচ্ছে। আসলে পৃথিবীর সব জায়গায়ই এমন হামলা হচ্ছে। তাই খেলাটাকে এসব থেকে দূরে রাখাই ভালো।’

আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো কিছু করতে হলে বাংলাদেশকে সব দিকে ভালো করতে হবে। ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিংয়ে চমক দেখাতে হবে। আজ হয়তো দলে আট ব্যাটসম্যান নিয়ে মাঠে নামবে না টাইগাররা। তারপরও বড় স্কোর গড়তে না পারলে অস্ট্রেলিয়ার কাছেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে ইংল্যান্ডে বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের কথা ভুলে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন ভাবেই শুরু করতে হবে মাশরাফি। বাংলাদেশের সবাই আশা করছে যে আজ বাংলাদেশই জিতবে। তাহলে তা বাংলাদেশের জন্য হবে এক নতুন মাইলফলক।