সন্তান কি মোবাইল এ বেশি আসক্ত? সাবধান হওন!! মেনে চলুন এই নিয়মগুলো!

Now Reading
সন্তান কি মোবাইল এ বেশি আসক্ত? সাবধান হওন!! মেনে চলুন এই নিয়মগুলো!

আধুনিক যুগের বাচ্চারা ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন, টেবলেট এর সাথে পরিচিত। বর্তমানের শহুরে জীবনে খেলার মাঠের অভাবে এই ডিজিটাল ডিভাইস গুলোই এখন বড় বিনোদন। কোন কোন বাচ্চা এই গেজেট গুলোতে অত্যধিক পরিমাণ আসক্ত হয়ে পড়ছে।অতিরিক্ত আসক্তি সৃষ্টি করছে শারীরিক ,মানসিক নানা সমস্যা।ডাক্তারদের মতে বর্তমানে ৮০% বাচ্চার চোখের সমস্যার প্রধান কারণ স্মার্ট ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার। আবার যেই বাচ্চারা একটু বয়সে বড় তাদের নিয়ে  আরেক ধরনের ভয়। ইন্টারনেটের এই বিশাল দুনিয়ায় কোন খারাপ কিছুতে না আবার জড়িয়ে যায়। বাবা মাদের এ নিয়ে টেনশন এর সীমা নেই। কিন্তু এ যুগে আবার একদম মোবাইল কম্পিউটার ছাড়া রাখাটাও সম্ভব নয়।

তা হলে কি হতে পারে সমাধান?

আসুন নিচের এই নিয়ম গুলো মেনে চলি-

১. আপনার বাচ্চা প্রতিদিন কতক্ষণ মোবাইল চালাবে সে সময়টা নির্ধারণ করে দিন

আপনার সন্তান কতটুকু সময় মোবাইল ব্যবহারের করবে তা নিয়ন্ত্রণ করুন।
শিশু বিশেষজ্ঞ দের মতে বয়স অনুযায়ী শিশুদের ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহারে সময়ের পার্থক্য রয়েছে। যেমন-

– জন্ম থেকে ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত –  কোন প্রকার ডিজিটাল স্ক্রিন দেখতে দেওয়া যাবে না। এমনকি টিভি ও না।
– ২- ৫ বছর বয়স পর্যন্ত –  সারাদিনে ১ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করতে পারবে না। এই এক ঘণ্টার মধ্যে সব পরবে- টিভি, কম্পিউটার, স্মার্ট-ফোন ইত্যাদি।
– ৬ বছরের বড়-   ৬ বছরের পর থেকে বাচ্চাদের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার বাড়ান যেতে পারে। তবে সারাদিনে অবশ্যই ২ ঘণ্টার বেশি না। খেয়াল রাখতে হবে এর ব্যাবহার যেন খাওয়া ঘুম, শারীরিক খেলা ধুলায়  কোন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।

time limit.jpg

 

২. মোবাইল ব্যাবহারে সন্তানকে সরাসরি বাধা দিবেন না, বরং অন্য কোন মজার কাজে ব্যস্ত রাখুন-

বাচ্চাদের কাছ থেকে ফোন জোর করব কেড়ে নিবেন না, অথবা এটা কর, ওটা কর, এভাবে আদেশ দিবেন না। এতে বাচ্চারা আরও বেশি জিদ করতে পারে।
বাচ্চার বয়স অনুযায়ী নতুন নতুন খেলনা, গল্পের বই, আর্ট করা, বেড়াতে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত করে তুলেন। প্রথমে এগুলো করাতে অনেক কষ্ট হবে, কিন্তু একটু ধৈর্য ধরে চেষ্টা করে যান। দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার বাচ্চা এগুলো উপভোগ করা শুরু করেছে।

prohibited.jpg

 

৩.বাচ্চার সামনে নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরুন

আপনি যদি ভাল করে লক্ষ করেন তবে দেখবেন, আপনার সন্তান সারাক্ষণ আপনাকে অনুকরণ করছে। আপনি যা করছেন তা সে করার চেষ্টা করছে, আপনি যে শব্দগুলো বেশি ব্যাবহার করেন তার কথায়ও সেই শব্দগুলো বেশি ব্যাবহার হচ্ছে।
সুতরাং বাবা-মা যদি সারাক্ষণ মোবাইল-ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত থাকে তবে সন্তানকে কখনই মোবাইলের নেশা থেকে দূরে রাখতে পারবেন না।
সুতরাং সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন না। বই পড়া, বাগান করা, বেড়াতে যাওয়া, কোন কিছু বানানো ইত্যাদি কাজ সন্তানকে সাথে নিয়ে করুন।সন্তানের সামনে মোবাইল ব্যবহার এ নিয়ন্ত্রিত হন।

mom-daugther-gardening-940x627.jpg

 

৪. সন্তানকে মোবাইল দিয়ে একা ছেড়ে দিবেন না, তাকে গাইড করুন-

ইন্টারনেট যে তথ্যের এক অসীম ভাণ্ডার এবং এর মাধ্যমে যে কত কিছু করা যায় তা তাকে শেখান।ভালো ভালো শিক্ষামূলক সাইট, সফটওয়্যার ব্যবহার করা শেখান। দুজনে মিলে ব্যাবহার করুন ইন্টারনেট। এতে সন্তানের সাথে একসাথে সময় ও কাটানো হবে।
সন্তান কে আলাদা রুমে একা একা মোবাইল ব্যাবহার করতে দিবেন না।

15997560-6615410-803-0-1503390716-1503390727-650-1-1503390727-650-67d871a563-1505509303.jpg

 

৫. শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম ব্যাবহারে উৎসাহিত করুন
বাচ্চারা কি ধরনের সাইটে যাচ্ছে তা খেয়াল রাখুন। অশ্লীল ভিডিও, মার দাংগা গেমস খেলা থেকে বিরত রাখুন। তাদের কে শিখামূলক ভিডিও দেখতে উৎসাহিত করুন।
কম্পিউটারে Parental ফাংশনালিটি ব্যাবহার করুন।

15997610-11676510-804-0-1503391280-1503391285-0-1505377336-0-1505461493-1505461495-650-1-1505461495-650-ca825bafa3-1505509303.jpg

 

৬.বাসায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যাবহারের নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করুন
সন্তানকে যেখানে সেখানে শুয়ে বসে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যাবহার করতে দিবেন না। বাচ্চাকে বোঝাবেন বেডরুম, খাবারের জায়গায় যেন মোবাইল না চালায়। বাচ্চার বেডরুমে মোবাইল রাখবেন না। একটা নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দিন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যাবহারের জন্য।
আর এই নিয়ম গুলো আপনিও মেনে চলুন।

15997660-11676610-808-0-1503393854-1503393865-0-1505377377-0-1505461535-1505461538-650-1-1505461538-650-3108263fb3-1505509303.jpg

 

৭. বাচ্চাদেরকে শেখান ইন্টারনেটের  ভালো – খারাপ –
১২ বছরের আগে বাচ্চাদের কে সোশিয়াল মিডিয়া ব্যবহার না করতে দেয়াই ভালো। তবে কিশোর বয়েসে ব্যাবহার করতে দেয়া যায়। তবে তাকে সোশিয়াল মিডিয়ার আদব কায়দা, খারাপ- ভালো, বিপদ সম্পর্কে শিক্ষা দিন।
চেষ্টা করুন সোশিয়াল মিডিয়ায় তার কাজ কর্ম মনিটর করতে, তাই বলে প্রতিটা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না।

৮.ইন্টারনেট এর রিস্ক ও বিপদগুলো সম্পর্কে জানান
বাস্তবতা হচ্ছে, একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর সন্তান রা হয়ত নিজে নিজেই ইন্টারনেট এর দুনিয়ায় ঘুরে বেড়াবে। সেজন্য ইন্টারনেট এর বিপদ গুলো সম্পর্কে নিজে সচেতন হওন এবং বাচ্চাদের সচেতন করুন। তাদেরকে ছোট বেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা দিন। প্রতিটা মানুষকে, তার পরিবার, ধর্মকে সম্মান করতে শিখান, সেটা বাস্তব জীবনেই হোক বা ভার্চুয়াল জীবনেই হোক। আর, ধর্মীয় অনুভূতি জাগিয়ে তুলেন।তাকে বোঝান কেও না দেখলেও সৃষ্টিকর্তা তো দেখছে। সেই সাথে কিছু বিষয়ে সাবধান করে দিন-
– যেমন অপরিচিত লিংকে না যাওয়া,
– অপরিচিত কাওকে ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়া।
– অপরিচিত সফটওয়্যার,গেমস ইত্যাদি ডাউন লোড না করা,
– ভার্চুয়াল জীবনের মোহ, চাকচিক্য সম্পর্কে সাবধান করে দিন সন্তানকে।

 

– যেমন অপরিচিত লিংকে না যাওয়া,
– অপরিচিত কাওকে ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়া।
– অপরিচিত সফটওয়্যার,গেমস ইত্যাদি ডাউন লোড না করা,
– ভার্চুয়াল জীবনের মোহ, চাকচিক্য সম্পর্কে সাবধান করে দিন সন্তানকে।

 

উপরের কাজ গুলো কিন্তু অনেক ধৈর্য ও সময়ের কাজ। নিশ্চয় ভাবছেন , সময় কোথায় এত নিয়ম মেনে চলার। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন এই সংসার, কাজ, উপার্জন কিন্তু এই সন্তানের জন্যই। সন্তান যদি একবার আসক্ত হয়ে যায়, বা বিপথে চলে যায়। তখন তাকে মানুষ করতে যে সময় বা পরিশ্রম হবে। এখনি যদি এই নিয়মগুলো মেনে চলেন তবে তার চাইতে অনেক কম কষ্ট হবে। আর ভবিষ্যতে সন্তানকে মানুষ করা হবে আপনার জন্য অনেক সহজ।
সুতরাং সচেতন হওন, ভালো থাকুন।