চিটাগং টু চাট্টগ্রাম

Now Reading
চিটাগং টু চাট্টগ্রাম

হাস্যকর একটা কাজ করে ফেলতে চাইছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। নিকার সভার মাধ্যমে চট্টগ্রামের ইংরেজি ভার্সন অর্থাৎ নামটা পরিবর্তন করতে চলেছে তারা। এখন থেকে নাকি ইংরেজি চিটাগং এর স্থলে ছাট্টাগ্রাম লিখতে বা বলতে হবে। বিষয়টা অনেকটা এমনি। Chittagong এর পরিবর্তে এখন থেকে Chattogram লিখতে হবে। অর্থাৎ Cha=ছা,  tto=ট্টো, gram=গ্রাম… নিজে একবার চেষ্টা করে দেখুননা উচ্চারণটা কেমন? হাস্যকর তাইনা? ভুল শুধরানোর নামে আরেক মস্তবড় ভুলে পড়তে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াসহ অনেক ক্ষেত্রে সবাই সরব হয়েছেন। সবার যুক্তি ইংরেজিতে “China” যদি বাংলায় “চীন” হতে পারে, “India” যদি বাংলায় “ভারত” হতে পারে, “Egypt” যদি বাংলায় “মিশর” হতে পারে, “Turkey” যদি বাংলায় “তুরস্ক” হতে পারে, “Delhi” যদি বাংলায় “দিল্লি” হতে পারে, “Saudi Arabia” যদি বাংলায় “সৌদি আরব”হতে পারে, “Mecca” যদি বাংলায় “মক্কা” হতে পারে, তবে ২৬০বছরের ঐতিহ্য ইংরেজি “Chittagong” নাম থাকতে সমস্যা কোথায়? 

আছে কোন উত্তর? কারো খেয়াল খুশিতেতো আর নিজেদের এই ঐতিহ্য নষ্ট হতে পারেনা। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ হতেই সারা বিশ্ব চিটাগং নামটির সাথে পরিচিত। এই নামেই বিশ্বব্যাপী এই অঞ্চলের একটি পরিচিতি ঘটেছে। এখন যদি খাম খেয়ালীর বসে নামটির পরিবর্তন করা হয় তবে এই পরিচিতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। একটু পেছনে ফিরে গেলেই আদি একটি নামের সাথে সামঞ্জস্য পাওয়া যায়। অনেক নামের ভেতর খোঁজ মেলে চট্টগ্রামের আদি নাম ছিল “চিত তৌ গং”। যার বাংলা অর্থ দাড়ায় যুদ্ব নয় শান্তি। আজ থেকে বহুশত বছর পূর্বে সাগর পথে বহিশত্রুর বারংবার আক্রমনে অতিষ্ট হয়ে তৎকালীন মগ রাজা শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সাগরের নিকটবর্তী পোতাশ্রয়ে এক সুুউচ্চ টাওয়ার নির্মান করে তাতে লিখে দেন “চিত তৌ গং” কথাটি। যা পোতাশ্রয় থেকে অনেক দূরে চলাচল করা জাহাজ থেকে চোখে পরত। পরবর্তীকালে টাওয়ার এর লেখা টার উপর ভিত্তি করেই পোতাশ্রয় টির নাম হয়ে যায় “চিত তৌ গং”। আর এই চিটাগং ই হল “চিত তৌ গং” এর পরিবর্তিত রূপ। যা পরবর্তিতে এই অঞ্চলে বাঙালীদের আগমনে পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে বাংলায় চট্টগাম রূপ ধারন করেছে। সুতরাং পরিবর্তন যদি করতেই হয় তবে বাংলায় চট্টগ্রাম নামটি পরবর্তন করা যুক্তিযুক্ত।

বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বাকী ৪ জেলার ইংরেজি নামের বানানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেইসব নামেও রয়েছে গড়মিল ও অসামঞ্জস্য। সুনির্দিষ্ট কোন বিধান বা নীতিমালা না থাকা সত্ত্বেও কেবল প্রস্তাবনার উপর ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হচ্ছে। গত সোমবার ২এপ্রিল ২০১৮ইং প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় নামের বানান পরিবর্তনের এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

 

স্বমহিমায় চট্টগ্রাম

Now Reading
স্বমহিমায় চট্টগ্রাম

পাহাড়ী কন্যা কর্ণফুলী পাড়ের জেলা ও শহর চট্টগ্রাম। পাহাড়, সমুদ্র আর উপত্যকায় ঘেরা চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে বিখ্যাত। এখানে দেশের প্রধান এবং সর্ববৃহৎ বন্দর ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দেশের প্রধান প্রধান শিল্প কলকারখানা।

চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম, এশিয়ায় ৭ম এবং বিশ্বের ১০ম দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শহর, এটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত

বন্দরনগরী নামে পরিচিত এই শহরের অবস্থান দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম জেলায়,  এর আয়তন ৫,২৮৩ বর্গ কিলোমিটার। চট্টগ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ৮১ লক্ষ,  যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৪৭২ জন মানুষের বসবাস।

বঙ্গোপসাগরের সীমানায় ও কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর চট্টগ্রামের গুরুত্বকে বিশ্ববাসীর সামনে আরো জোরদার ও আকর্ষনীয় করে তুলেছে।

দেশের সর্বমোট রপ্তানী বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ ভাগ সংঘটিত হয় চট্টগ্রামের উপর দিয়ে। অন্যদিকে আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ হার ৮০ ভাগ। রাজস্ব আয়েও চট্টগ্রামের ভুমিকা অপরিসীম। আমাদের মোট রাজস্ব আয়ের শতকরা ৬০ ভাগ আসে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে।

এই চট্টগ্রামের রয়েছে হাজার বছরে গৌরবোজ্জল স্বর্ণালী ইতিহাস বৈচিত্রময়ী এই চট্টগ্রামের নামও বৈচিত্রে ভরা। সুপ্রাচীনকাল থেকে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পরিব্রাজক, ভৌগোলিক এবং পন্ডিতগণের লিখিত বিবরণে, অঙ্কিত মানচিত্রে, এখানকার শাসক গৌড়ের সুলতান ও রাজাদের মুদ্রায় চট্টগ্রামকে বহু নামে খ্যাত করেছিলেন।

এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৪৮টি নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‌‌- সুহ্মদেশ, ক্লীং, রম্যভূমি, চাতগাঁও, চট্টল, চৈত্যগ্রাম, সপ্তগ্রাম, চট্টলা, চক্রশালা, শ্রীচট্টল, চাটিগাঁ, পুস্পপুর, চিতাগঞ্জ, চাটিগ্রাম ইত্যাদি।

সে সব নাম থেকে চট্টগ্রামের নাম উৎপত্তির সম্ভাব্য ও চট্টগ্রামের নামের সঙ্গে ধ্বনিমিলযুক্ত কিছু নামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি হলো।

  • চৈত্যগ্রাম: চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অভিমত এই যে, প্রাচীনকালে এখানে অসংখ্য বৌদ্ধ চৈত্য অবস্থিত ছিল তাই এই স্থানের নাম হয় চৈত্যগ্রাম। চৈত্য অর্থ বৌদ্ধমন্দির কেয়াং বা বিহার। এই চৈত্যের সঙ্গে গ্রাম শব্দ যুক্ত হয় বলে চৈত্যগ্রাম নামের উদ্ভব হয়।
  • চতুঃগ্রাম: ব্রিটিশ আমলের গেজেটিয়ার লেখক ও’মলি সাহেবের মতে, সংস্কৃত চতুঃগ্রাম শব্দ থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। চতুঃ অর্থ চার। চতুঃ শব্দের সঙ্গে গ্রাম শব্দ যুক্ত হয়ে চতুঃগ্রাম হয়।
  • চট্টল: চট্টগ্রামের তান্ত্রিক ও পৌরাণিক নাম ছিল চট্টল। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণগ্রন্থে চট্টল নামের উল্লেখ দেখা যায়।
  • শ্যাৎগাঙ্গ: বার্ণোলী সাহেবের মতে আরবি শ্যাৎগাঙ্গ শব্দ বিবর্তিত হয়ে চট্টগ্রাম নামের উদ্ভব হয়েছে। শ্যাৎ অর্থ বদ্বীপ, গাঙ্গ অর্থ গঙ্গানদী। চট্টগ্রাম গঙ্গানদীর মোহনাস্থিত বদ্বীপ- প্রাচীন আরব বণিক-নাবিকদের এই ধারণা থেকে এর নামকরণ করা হয়েছিল শ্যাৎগাঙ্গ।
  • চাটিগ্রাম: সম্ভবত রাজোয়াং বর্ণিত উপরোক্ত চিৎ-তৌৎ-গৌং নামটি মধ্যযুগে বিবর্তিত ও সংস্কৃতায়িত হয়ে চাটিগ্রাম রূপ প্রাপ্ত হয়। গৌড়ের রাজা গণেশ দনুজমর্দন দেবের ১৩৩৯-১৩৪০ শকাব্দে ও রাজা মহেন্দ্র দেবের ১৩৪০ শকাব্দে চট্টগ্রামে তৈরি মুদ্রায় টাকশালের নাম চাটিগ্রাম উল্লেখ দেখা যায়। বাংলার সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্‌ ও সৈয়দ নাসির উদ্দিন নশরত শাহ্‌র আমলে কবীন্দ্র পরমেশ্বর বিরচিত পরাগলী মহাভারতে এবং বৈষ্ণব সাহিত্য চৈতন্য-ভাগবত প্রভৃতিতে চাটিগ্রাম নামের উল্লেখ রয়েছে।
  • চাটিগাঁ: চট্টগ্রামের মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত জনশ্রুতি থেকে জানা যায় যে, প্রাচীনকালে চট্টগ্রাম ছিল জ্বীনপরী অধ্যুষিত দেশ। পীর বদর শাহ্‌ এখানে আগমন করে অলৌকিক চাটির (মৃৎ-প্রদীপ) আলোর তেজের সাহায্যে জ্বীনপরী বিতাড়িত করার ফলে এই স্থানের নাম হয় চাটিগাঁ।
  • চতকাঁও/চাটগাঁও: চাটিগাঁর ফার্সি রূপ চতকাঁও বা চাটগাঁও। বাংলার সুলতান গিয়াসুদ্দিন আজম শাহ্‌র (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রি.) ও সুলতান জালালুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ্‌র (১৪১৮-১৪৩২ খ্রি.) মুদ্রায় চতকাঁও টাকশালের নাম উৎকীর্ণ দেখা যায়। ১৩৯৭ খ্রিস্টাব্দে লিখিত সুবিখ্যাত সুফি সাধক মুজাফফর শামস বলখির চিঠিতে চাটগাঁও নামের উল্লেখ দেখা যায়।
  • সুদকাওয়ান: আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্গত মরক্কোর অধিবাসী ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে বঙ্গ ও আসাম পরিভ্রমণ করেন। তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে চট্টগ্রামকে সুদকাওয়ান নামে উল্লেখ করেন।
  • চাটিকিয়াং: চীন দেশ থেকে ১৪০৯, ১৪১২, ১৪১৫, ১৪২২ বা ১৪২৩, ১৪২৯ ও ১৪৩২ খ্রিস্টাব্দে মোট সাতবার বাংলার সুলতানদের দরবারে রাজদূত প্রেরিত হয়েছিল। তাদের লিখিত বিবরণে চট্টগ্রামকে চাটিকিয়াং রূপে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
  • শাতজাম: তুর্কি সুলতান সোলায়মানের রেডফ্লিটের ক্যাপ্টেন সিদি আলী চেহেলভি ১৫৫৪ খ্রিস্টাব্দে জাহাজযোগে ভারত মহাসাগরীয় দেশসমূহ পরিভ্রমণ করেন। এবং এ সময় তিনি আরাকান থেকে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূল হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন করেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে চট্টগ্রামের নাম শাতজাম নামে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
  • চার্টিগান: পরিব্রাজক রালফ ফিচ ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম পরিভ্রমণ করেন। তাঁর লিখিত ভ্রমণকাহিনীতে চট্টগ্রামের নাম চার্টিগান রূপে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
  • জেটিগা: ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে ফ্যান্ডেন ব্রুক অঙ্কিত মানচিত্রে চট্টগ্রামের নাম জেটিগা রূপে লিখিত আছে।

পবিত্র এই অঞ্চলের মাটি সুদীর্ঘকাল ধরেই পীর-আউলিয়াদের সাধনপীঠ, এখানে রয়েছে  সকল ধর্মের মিলন ক্ষেত্রের পাশাপাশি কবিধাত্রী, বিপ্লবতীর্থ। রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান যার মধ্যে- পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, ফয়’স লেক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, সি আর বি, জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর, ওয়ার সিমেট্রি, ডিসি হিল,চেরাগী পাহাড়, বাটালি হিল, কোর্ট বিল্ডিং, হযরত শাহ আমানত (র:) এর মাজার, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র:) এর দরগাহ, চন্দ্রনাথ পাহাড় , বাঁশখালী ইকোপার্ক, পারকি সমুদ্র সৈকত, নেভাল, গোল্ডেন বিচ, কর্ণফুলী হারবার, মিলিটারি একাডেমি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সহ আরো কত কি।  

মোট কথা চট্টগ্রামের সৌন্দর্য্য বলে বুজানোর মত নয়। যে কেও বিমোহিত হতে পারে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে, সব খানেই আছে নৈসর্গিক রুপ যা ঢেলে সাঁজাতে প্রকৃতি কিঞ্চিৎ কার্পণ্য করেনি।

চট্টগ্রামের আবাহাওয়া ও খুবি চমৎকার,  এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় আপমাত্রা ৩৩.৮ সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১৪.৫ সেলসিয়াস। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৩,১৯৪ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়।

চট্টগ্রাম এর নাম পরিবর্তন নিয়ে ষড়যন্ত্র!

Now Reading
চট্টগ্রাম এর নাম পরিবর্তন নিয়ে ষড়যন্ত্র!

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন এক ষড়যন্ত্র। এবার সরাসরি খড়গ বসাতে চাচ্ছে তার দেহে অর্থাৎ ইংরেজি নামটা পুরোপুরি মুছে দেয়ার উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। ইংরেজিতে চিটাগং বলার একটা রেওয়াজ সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই এমন নয়যে স্বাধীন পরবর্তী এর নামকরণ হয়েছিল। কিন্তু বদলে যাওয়ার পথে এখন সে নিয়ম। সিদ্ধান্ত হতে চলেছে এখন থেকে নাকি চট্টগ্রামকে ইংরেজিতেও ‘চট্টগ্রাম’ লিখতে হবে। তবে এ নাম পরিবর্তনের তালিকায় চট্টগ্রামের সাথে আরো আছে বরিশাল, কুমিল্লা, বগুড়া ও যশোর জেলার নাম তাদেরও ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা হচ্ছে। মূলত বাংলা নামের সঙ্গে মিল করতেই এ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এমনটাই জানান। তিনি বলেন পাঁচটি জেলার নামের ইংরেজি বানানের অসংগতি দূর করতে আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আরো জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।

সরকারের সকল উন্নয়ন এর উদ্দ্যেগ প্রশংসনীয়, কিন্তু এমন একটা বিষয়ের উপর তারা হস্তক্ষেপ করছে যেটার সাথে চট্টগ্রামবাসীর রয়েছে হৃদ্যতায় প্রায় ২৬০বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক। চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হাজার বছরের যা তিলে তিলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর নামেও রয়েছে বেশ বৈচিত্র্য, প্রায় ৪৮টি নামের খোঁজ মেলে চট্টগ্রাম নিয়ে। ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম মোঘল সম্রাজের অংশ হয়, পরবর্তীতে আরাকানদের পরাজিত করে মোঘলরা দখল করে নিয়ে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে মীর কাশিম আলী খান ইসলামাবাদকে(চট্টগ্রাম) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে দেয়। ব্রিটিশ অধিভুক্ত হওয়ার পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চট্টগ্রামকে ইংরেজিতে চিটাগং হিসেবেই নামকরণ করে। সেই হতে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম ইংরেজিতে চিটাগং হিসেবেই লেখা হয়ে আসছে এবং বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়ে আসছে। সারা বিশ্বের কাছে চিটাগং পোর্ট এর আলাদা একটা কদর আছে সেই ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকেই। কেবল প্রসিদ্ধ এই নামের বদৌলতে চিটাগং তথা বাংলাদেশকে চিনে নেয় বিশ্ব। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা না করেই ইংরেজি চিটাগং নামের পরিবর্তনে তোড়জোড় শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিদ্বেষী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামের ইংরেজি বানান Chittagong এর পরিবর্তে বানান Chattagram করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রস্তাব দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলার নামের বানান বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে ইংরেজিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি বা নীতিমালা নেই। কেবল নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, থানা কিংবা প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে নিকার সভার আহ্বান করা হয়। যে নিকার সভার মাধম্যে নামের এই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে সেই কমিটির আহ্বায়ক হচ্ছেন প্রধামন্ত্রী। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে স্বদিচ্ছা আছে কিনা?

এদিকে জেলার নামের বাংলা উচ্চারণের সাথে ইংরেজিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে হতেই হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি বা নীতিমালা না থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রীপরিষদ কেন এত উৎসাহী হয়ে উদ্যেগটি নিচ্ছেন তা বোধগম্য নয়। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে চট্টগ্রামের স্থানীয় জনগণের মাঝে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব কম বেশি সকলে। প্রায় প্রত্যেকেই বিষয়টি নিয়ে বেশ মর্মাহত। সকলেরই অভিন্ন দাবী ইংরেজিতে চিটাগং থাকলে কোন সমস্যা নেই বরং পরিবর্তনে সমস্যা বাড়বে। এখানকার মানুষ ইংরেজিতে চিটাগং বলতেই বেশ গর্বেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। স্থানীয় বিজ্ঞাপনসহ অনেক ক্ষেত্রেই চিটাগং ব্যাবহার করা হয়, এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের নামের সাথেও তা যুক্ত। সবাই আশংকা করছেন যে নাম পরিবর্তনের এই উদ্দ্যেগে না জানি চিটাগং এর ঐতিহ্যও বিলীন হয়ে যায়! শুধু নাম পরিবর্তন হলেই যে দায় মুক্তি ঘটবে তা কিন্তু নয়, এর সাথে অন্যান্য সামগ্রিক বিষয়ে একটি পারিপার্শ্বিক চাপ সৃষ্টি হবে। প্রায় প্রত্যেকেই দ্বিধাহীনতায় ভুগবে ইংরেজি নামের ক্ষেত্রে। এই নাম পরিবর্তন শুধু যে সরকারি দলিলাদিতেই হবে তা কিন্তু নয় পর্যায়ক্রমে প্রাইভেট সেক্টরে এর প্রভাব বিস্তার ঘটবে। বেশিরভাগ মানুষের মত আমারও মত অন্তত নাম পরিবর্তনের পূর্বে একটা জরিপ চালানোর বিশেষ প্রয়োজন ছিল। কারো ইচ্ছা অনিচ্ছায়তো এত বছরের নামের গৌরব ঐতিহ্যকে মুছে দিয়ে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা যাবেনা। প্রসঙ্গতই অনেকের ধারণা- মন্ত্রীপরিষদে চট্টগ্রাম বিদ্বেষীদের প্রভাব বেশি, হয়ত চট্টগ্রামকে বেকায়দায় ফেলতে তাদের এই হীন চক্রান্ত! নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রামকে পিছিয়ে দিতে তাদের তৎপরতা। অন্যথা কোন প্রকার সভা সেমিনারে আলাপ আলোচনা না করে, জনমত উপেক্ষা করে একটা অঞ্চলের দীর্ঘ ঐতিহ্যগত নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়ার অর্থই হচ্ছে সেই অঞ্চলের জনগণকে চরম অপমান করার শামিল। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ দয়া করে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন, চট্টগ্রামের মানুষ ইংরেজিতে চিটাগং বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে আসছে যুগ যুগ ধরেই। প্রয়োজনে জনমত জরিপ চালান তবুও তড়িৎ সিদ্ধান্তে এমন কিছু করবেননা যেটা সত্যিকার অর্থেই জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়! 

চাটগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী মেজবান

Now Reading
চাটগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী মেজবান

মেজবান বাংলাদেশের বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার বহুমাত্রিক ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব একটি অনুষ্ঠান। আঞ্চলিকভাবে চট্টগ্রামে একে মেজ্জান বলা হয় আর এই বিশেষ জাতীয় খাবারের ম্যানুতে থাকে সাদা ভাতের সাথে গরু অথবা মহিষের মাংস এবং ডাল ও হাড়ের ঝোল। ফারসি শব্দ মেজবান এর সাধারণ অর্থ হল নিমন্ত্রণকর্তা। মেজবানের উৎপত্তির সঠিক সময় নির্ণয় করা না গেলেও ১৫০০ ও ১৬০০ শতাব্দীর প্রাচীন পুঁথি সাহিত্যে ‘মেজোয়ানি’ ও ‘মেজমান’ দুটি শব্দের সন্ধান পাওয়া যায়। এমনও হতে পারে হয়তো ‘মেজমান’ থেকে ‘মেজবানে’ রূপ নিয়েছে।

সাধারণত কারো মৃত্যুর পর কুলখানি, চেহলাম, মৃত্যুবার্ষিকী, শিশুর জন্মের পর আকিকা, ধর্মীয় ব্যক্তির মৃত্যুবা

 

র্ষিকী ইত্যাদি উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ মানুষের আপ্যায়নের জন্য এই মহাভোজের ব্যাবস্থা করা হয়। এসব নির্দিষ্ট উপলক্ষ ছাড়াও কোনো শুভ ঘটনার জন্য মেজবান করার রীতি চট্টগ্রামে আছে।

 

বাংলাদেশের বিশেষ এই অঞ্চল চট্টগ্রামে অথিতি আপ্যায়নে বেশ সুনাম রয়েছে বহু শতক ধরেই। এ অঞ্চলে আপনি কোন লেভেল এর আত্মীয় তা মুখ্য নয় একবার এসে যখন পড়েছেন আপ্যায়িত না হয়ে যেতেই পারেননা ঠিক একই সুত্রে মেজবান আয়োজনের সময় কাছের কিংবা দুরের এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের মন ভরে খাওয়ানটাই আয়োজকদের উদ্দেশ্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এলাকায় মাইকিং করে দাওয়াত দেয়া হয়, এখানে থাকেনা কোন লিমিট যতক্ষণ পর্যন্তনা ডেকচী খালী হয় ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে খাওয়ার এই আয়োজন। এ অঞ্চলে ধনী গরিবের ভেদাভেদ ভুলে মেজ্জানের মাধ্যমে সবাইকে সার্বজনীনভাবে সম্পৃক্ত করার রীতি সুদীর্ঘকাল ধরেই। মেজ্জানে গরুর মাংস ও অন্যান্য উপকরনের সাথে ক্ষেত্র বিশেষে ঘনিষ্ঠজনদের জন্য ছাগল ও মুরগির মাংস এবং  মাছ এরও ব্যাবস্থা করা হয়। তবে মেজবানের মূল আকর্ষণ ও মূল পদ গরুর মাংস যা চট্টগ্রামের ভাষায় মেজ্জাইন্না গোস্ত হিসেবেই পরিচিত। এই মাংস রান্নার ধরন আলাদা, মসলাও ভিন্ন, শুধুই কি তাই…! রান্নার ডেকচি থেকে শুরু করে চুলা পর্যন্ত আলাদা। এই কাজে দক্ষ কেবল চট্টগ্রামের বাবুর্চিরা, আর তাঁরা বংশপরম্পরায় এই ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। মেজবানের রান্নার রয়েছে আলাদা বিশেষত্ব এবং এর রন্ধন প্রক্রিয়ার রয়েছে বিশেষ পদ্ধতি। সাধারণ রান্নার বিপরীতে এই মাংস রান্না অনেকটা তৈলাক্ত, মশলাযুক্ত এবং কালচে রঙের বিশেষ স্বাদের হয়। রান্নার উপকরণে আছে বিশেষ মশলা যার বেশীরভাগই স্থানীয়ভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত, বাবুর্চিরা রান্নায় হাতে বাঁটা মশলাই ব্যাবহার করে। কেননা অন্য কোন মশলা ব্যাবহার করলে মেজবানি রান্নার স্বাদ ঠিক মত হয়না। রান্নার জন্য প্রয়োজন বড় আকারের পাত্র(কড়াই), আর জ্বালানি হিসেবে পূর্বে কাঠের লাকড়ি ব্যাবহার হলেও পাশাপাশি সময়ের পরিক্রমায় তুষের তৈরি কালো লাকড়িও ব্যাববহার হচ্ছে ইদানীং।

এ রকম আয়োজন, চট্টগ্রামের সবকটি এলাকায়। এককালে মাটির পাত্রে এই মেজবানের আয়োজন করা হলেও বর্তমানে গ্রামের খোলা মাঠে অথবা বাড়ির উঠান বা ঘরের ছাদে প্যাণ্ডেল করে বসানো হয় সারি সারি চেয়ার টেবিল। এসব চেয়ার টেবিল সাজানো হয় খাবার পরিবেশনের জন্য। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিরা দলে 

দলে এসে যোগ দেয় এসব মেজবানে। সকলেই খেতে পারে যার যেমন ইচ্ছে তেমন ভাবে। এটা সার্বজনীন তাই কারো জন্য থাকে না বাধা। যতক্ষণ না খাবার তৃপ্তি না মিটবে ততক্ষণ খাওয়া যাবে, টেবিলে ধনী গরিব নির্বিশেষে একসাথে বসেই এই খাবার ভোজন করে।

বর্তমান সময়ে চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী খাবার এখন আর নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই এর প্রসার দেশের সীমানা পেড়িয়ে বহিঃবিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে। 

 

চট্টগ্রামের দেখাদেখি বাংলাদেশের আনাচে কানাচে অন্যান্য জেলাগুলোতেও এখন মেজবানের আয়োজন করা হয় তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চট্টগ্রাম থেকে বাবুর্চি নিয়ে যাওয়া হয় মূল স্বাদটি আস্বাদন করতে। ঢাকায় এখন বিভিন্ন সভা-সমিতি এবং কর্পোরেট ফার্মগুলো তাদের বার্ষিক ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে মেজবান আয়োজন করে থাকে।

চট্টগ্রামের বিশেষ এই ঐতিহ্যবাহী খাবার মেজবান শত বছর ধরেই চাঁটগাবাসী তথা বাংলাদেশীদের রসনাবিলাসে তৃপ্তি জুগিয়ে যাচ্ছে।

 

চট্টগ্রামে বিদেশী ফাইনান্সে প্রামান্যচিত্র – The Chittagong Dreams

Now Reading
চট্টগ্রামে বিদেশী ফাইনান্সে প্রামান্যচিত্র – The Chittagong Dreams

চট্টগ্রামের জন্য এবার আসছে নতুন কিছু! চট্টগ্রামের অন্যতম এবং সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামকে নিয়ে তৈরী করছে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রামান্য চিত্র। প্রামান্যচিত্রটি কয়েকটি পর্বে বিভক্ত থাকবে। এটি নির্মান করছেন চট্টগ্রামেরই নির্মাতা নাহিদ হেলাল যাকে সবাই নাহিদরেইন্স হিসেবেই চিনে। তিনি একাধারে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট এবং ফুটপ্রিন্টেরও প্রতিষ্ঠাতা।

প্রমান্যচিত্রটির প্রথম পর্ব রিলিজ করা হবে এই নভেম্বর মাসে ইউটিউব এবং নানা অনলাইন প্লাটফর্মে সেই সাথে তার একটি আন্তর্জাতিক সংস্করন নেটফ্লিক্সে রিলিজ করা হবে আগামী জানুয়ারী মাসে।

কি আছে এই প্রামান্যচিত্রে?

এই প্রামান্যচিত্রটিতে বাংলাদেশ এবং সেই সাথে চট্টগ্রামকে এক নতুন রুপে উপস্থাপন করা হবে। দেখানো হবে চট্টগ্রামের নানা সমস্যা, সমাধান এবং সম্ভাবনার কথা। এই প্রামান্যচিত্র নির্মানের কাজ শুরু হয়েছিল আরো ৬ মাস আগে। এখন এটি প্রায় শেষের পর্যায়ে।

গতানুগতিক ধারার কোন প্রামান্যচিত্র এটি হচ্ছে না বরং চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নতুন রুপে তুলে ধরার জন্য এই প্রয়াস। অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে এই প্রামান্যচিত্রে। পুরো প্রামান্যচিত্রটির একাংশ স্পন্সর করছে বিখ্যাত সিনেমা ক্যাম্রে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান “Blackmagic Design” এবং পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত মাইক্রোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান “Rode”। সেই সাথে আছে আরো অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

পুরো প্রজেক্টটি পরিচালনা করছে নাহিদরেইন্স পিকচার্স। ২ দিন আগে একটি ট্রেইলরও রিলিজ। নীচে দেখে নিতে পারেন।

থৈ থৈ চট্টগ্রামের করুন অবস্থায় একটি বিশেষ প্রশ্ন

Now Reading
থৈ থৈ চট্টগ্রামের করুন অবস্থায় একটি বিশেষ প্রশ্ন

চট্টগ্রাম এখন একটি নোংরা পানির আস্ত সুইমিং পুল। গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতের ৩/৪ ঘন্টার বৃষ্টিপাতে প্রিয় শহরটি রুপ নিয়েছে ভেনিস নগরীতে, তবে পার্থক্য একটাই – ভেনিসের পানি তাদের গর্ব, আর চট্টগ্রামের আটকে যাওয়া এই পানি চট্টগ্রামের দুঃখ। চীনের দুঃখ হোয়াংহ নদী আর চট্টগ্রামের দুঃখ বৃষ্টি – হোক সেটা হালকা বা ভারী।

সেহরী খাওয়ার পর যখন গা-টা একটু বিছানায় এলিয়ে দিলাম, তখন খবর আসল “স্যার, আপনার অফিস পানির নীচে”। দৌড়ে গেলাম আর দেখলাম আসলেই অবস্থাটা কতটা শোচনীয়। ভোর ৬ টায় সেই পানি এখনও নামেনি। বিশ্বাস না হলে আমার ফেসবুক ভিডিওটি দেখে নিন।

এই মহুর্তে বুধবার রাত ১১ টা, যখন আমি এটি লিখছি এবং সকালের সেই পানি নামার কোন নাম গন্ধ নেই। বিদ্যুৎ নেই টানা ২১ ঘন্টা হয়ে গেল। আর সেই সাথে আবারো শুরু হলো ভারি বর্ষন। গতকালের বর্ষনের পানি কিন্তু এখনও যায়নি। গর্বের সাথে রয়ে গেছে আর চট্টগ্রামকে “সৌন্দর্যমন্ডিত” করছে। আর নতুন বৃষ্টিতে পানি আরো বাড়তে যোগ হচ্ছে। তো এখন আমরা কোথায় যাব?

চট্টগ্রামে নগর পিতা বাছাইয়ের প্রাককালে সবসময় সকল নগর পিতা হতে ইচ্ছুক ব্যাক্তিবর্গ একটা ওয়াদাই করেন, সেটি হলো, চট্টগ্রামের পানি নিস্কাসন ব্যবস্থাকে একেবারে ঠিক করে ফেলা। কিন্তু ওয়াদা ওয়াদাই থেকে যায়, রেজাল্ট আর পাওয়া যায় না। সারাবছর অনেক কিছু বলা হলেও রেজাল্ট সব পানির নীচে চাপা পড়ে যায়। এই রোজার মাসে মানুষের দুর্ভোগ যেন এই কারনে আরো ১০ গুন বেড়ে গেছে। বেড়ে যাওয়াটাই নরমাল ব্যাপার।

এখন কথা হলো, কবে এর থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ধরে নিলাম আমি বিশ্বাস করি সবার ওয়াদাগুলো বা নির্বাচনী ইশতেহার গুলো। কিন্তু কতদিন সেই বিশ্বাসের সাথে বসবাস করব? কিছু একটা তো চোখে দেখা দরকার তাই না? তাই যারা নগর চালান, তাদের উদ্দেশ্যে একখানা বিনীত আবেদন করছি, দয়া করে আমাদের অর্থাৎ চট্টগ্রামবাসীদের কি কোন তারিখ দিতে পারবেন? সেটা যখনই হোক না কেন। পারবেন কি? যেমন ২০১৯ সালের মার্চ মাসের ১২ তারিখ চট্টগ্রামের পানি আটকে যাওয়ার সমস্যা আর থাকবে না। পারবেন এরকম কিছু দিতে? বিশ্বাস করেন, এতটুকু একটা পারফেক্ট তারিখ যদি দেন, তাহলে ততদিন পর্যন্ত এই কষ্ট মেনে নিতে রাজি আছি। কোন সমস্যা নেই। আমরা আছি আপনার সাথে। আমার ভাই, তোমার ভাই, মেয়র ভাই, মেয়র ভাই – এই স্লোগানে গলা ফাটিয়ে ফেলব কথা দিলাম। শুধু একটা সত্যিকারের তারিখ দিন।

জানিনা আজ রাত চট্টগ্রাম বাসীর কেমন যাবে। বেশীরভাগ এলাকায় কোন বিদ্যুৎ নেই। ঘরে পানি। রোযার মাস। বাইরে যেতে পারছে না কেউ। গরম। আবার বৃষ্টি, আরো পানি। কই যাবে হতভাগা চট্টগ্রামবাসী। ডিজিটাল বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। আর বাণিজ্যিক রাজধানীর যদি এই হাল হয়, তবে কি করবে মানুষ? একটি তারিখ দিন। সত্যিকারের তারিখ, যে তারিখে চট্টগ্রামের এই সমস্যা সমাধান হবে। আর কিছু চাই না। আর না দিলে, তাও কিছু করার নাই। সাধারন মানুষের আর কিই বা করার আছে।

PS: পোস্টের কিছু ছবি আমার নিজেরই তোলা, আর কিছু ছবি নেয়া হয়েছে সাজ্জাদ মামুন ভাইয়ের কাছ থেকে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি

Now Reading
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরমধ্যে একটি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কি বিশ্ববিদ্যালয় নাকি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বর্গ তার উত্তর আমি আজও পাইনি। আপনি যখন\ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে রাস্তা দিয়ে হাঁটবেন, তখন মনে হবে কোনো এক গাছের নিচে বসে ঘুমিয়ে\ পড়তে। প্রায় সব রাস্তার দুইপাশে সারি সারি গাছ। ভরদুপুরেও এসব রাস্তায় ছায়া থাকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের তৃতীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়। চলুন জেনে নেয়া যাক চট্টগ্রাম

বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
আচার্যঃ রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্যঃ ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
শিক্ষার্থীঃ ২৭০০০ (প্রায়) ছেলেঃ ১৭০০০(প্রায়) মেয়েঃ ১০০০০(প্রায়)
শিক্ষকঃ ৭০০(প্রায়)

অবস্থানঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী থানায় অবস্থিত।

শুরুর কথাঃ বিংশ শতাব্দীর শুরু দিকে চট্টগ্রামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় চট্টগ্রামের মানুষ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুভব করে। ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় সম্মেলনে মওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামবাদী সভাপতির ভাষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ নির্মাণের কথা উপস্থাপন করেন। পরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দেয়াং পাহাড়ে কিছু জমি কিনেন। ১৯৪২ সালে নূর আহমদ বঙ্গীয় আইন পরিষদে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দাবি পেশ করেন। ষাটের দশকে তৎকালীন পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৬০-১৯৬৫) প্রণয়নকালে চট্টগ্রামে একটি ‘বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ১৯৬২ সালের নির্বাচন প্রচারনায় ফজলুল কাদের চৌধুরী এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাধারণ প্রতিশ্রুতি দেন। এবং পরবর্তীকালে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করা হয়। ১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।

একাডেমিক কার্যক্রমঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৭টি অনুষদে ৫২টি বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ এবং অন্তর্গত বিভাগসমূহ হলো-

  • কলা ও মানববিদ্যা অনুষদঃ
  • আরবি বিভাগ
  • ইংরেজি বিভাগ
  • ইতিহাস বিভাগ
  • ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
  • ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
  • দর্শন বিভাগ
  • নাট্যকলা বিভাগ
  • পালি বিভাগ
  • ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
  • ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ
  • বাংলা বিভাগ
  • ভাষা ও ভাষাতত্ত্ব বিভাগ
  • সঙ্গীত বিভাগ
  • সংস্কৃতি বিভাগ
  • আধুনিক ভাষা ইন্সিটিউট

জীব বিজ্ঞান অনুষদঃ

  • উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ
  • জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ
  • প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ
  • প্রাণীবিদ্যা বিভাগ
  • ফার্মেসী বিভাগ
  • ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ
  • মনোবিজ্ঞান বিভাগ
  • মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ
  • মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ

ব্যাবসায় প্রশাসন অনুষদঃ

  • একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ
  • ফাইন্যান্স বিভাগ
  • ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্স বিভাগ
  • ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ
  • মার্কেটিং বিভাগ
  • ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ
  • সেন্টার ফর বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
  • হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদঃ

  • কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
  • ফলিত পদার্থবিদ্যা, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

আইন অনুষদঃ

  • আইন বিভাগ

বিজ্ঞান অনুষদঃ

  • পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ
  • রসায়ন বিভাগ
  • গণিত বিভাগ
  • পরিসংখ্যান বিভাগ

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদঃ

  • লোক প্রশাসন বিভাগ
  • রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ
  • অর্থনীতি বিভাগ
  • সমাজতত্ত্ব বিভাগ
  • নৃবিজ্ঞান বিভাগ
  • যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
  • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
  • সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট
  • সেন্টার ফর এশিয়ান স্টাডিজ
  • পুলিশ সায়েন্স ও ক্রিমিনোলোজি বিভাগ
  • উন্নয়ন গবেষণা বিভাগ

ইন্সিটিউটসমূহঃ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬টি ইন্সিটিউট রয়েছে। ইন্সিটিউটগুলো হলঃ

  • ইনস্টিটিউট অব এডুকেশান, রিসার্স এ্যন্ড ট্রেনিং
  • আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
  • নস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিশ
  • চারুকলা ইন্সিটিউট
  • সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট
  • ইনস্টিটিউট অব ফরেষ্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস

গবেষণা কেন্দ্রসমূহঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। গবেষণা কেন্দ্রগুলো হলঃ

  • নজরুল গবেষণা কেন্দ্র
  • ইনস্টিটিউট অব এডুকেশান, রিসার্স এ্যন্ড ট্রেনিং
  • ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্চ
  • সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট
  • গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র

লাইব্রেরীঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরী। এবং দেশের অন্যতম সেরা ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। ১৯৬৬ সালে মাত্র তিনশ(৩০০) বই নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এই লাইব্রেরীর বর্তমান সংগ্রহ সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন(৩.৫) লক্ষ। যার মধ্যে রয়েছে বিরল বই, জার্নাল, অডিও-ভিজ্যুয়াল উপাদান, পান্ডুলিপি এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল বই।

আবাসিক হলসমূহঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে সর্বমোট ১২টি আবাসিক হল রয়েছে। যার মধ্যে ৮টি ছাত্র হল ও ৪টি ছাত্রী হল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি হোস্টেল রয়েছে

ছাত্র হলঃ

  • আলাওল হল
  • এ.এফ.রহমান হল
  • শাহজালাল হল
  • সোহরাওয়ার্দী হল
  • শাহ আমানত হল
  • শহীদ আব্দুর রব হল
  • মাস্টারদা সূর্যসেন হল
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল

ছাত্রী হলঃ

  • শামসুন্নাহার হল
  • প্রীতিলতা হল
  • দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল
  • জননেত্রী শেখ হাসিনা হল

ছাত্রাবাসঃ

গোবিন্দ গুণালংকার ছাত্রাবাস

ক্যাফেটেরিয়াঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশকয়েকটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। যারমধ্যে চাকসু ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি ক্যাফেটেরিয়া অন্যতম।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারঃ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য রয়েছে একটি মেডিকেল সেন্টার। শিক্ষক ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও রয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা। এখানে ১১ জন চিকিৎসক ও ৪ টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।রাজনৈতিক চর্চাঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ। যেকোনো শিক্ষার্থী চাইলেই এসব রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যোগ দিয়ে নিজ নিজ রাজনীতির চর্চা করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট উল্লেখযোগ্য।

শাটল ট্রেনঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাতায়াত ব্যাবস্থার কথা মনে করলেই সবার আগে মনে পড়বে শাটল ট্রেনের কথা। ১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য এই শাটল ট্রেন চালু করা হয়। ১০টি বগি বিশিষ্ট দুইটি শাটল ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার(১০০০০) শিক্ষার্থী যাতায়াত করে থাকে। বর্তমানে ট্রেন দুইটি দৈনিক সাত(৭) বার যাতায়াত করে থাকে।জাদুঘরঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনটি(৩) জাদুঘর রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর, প্রাণীবিদ্যা জাদুঘর, সমুদ্র সম্পদ জাদুঘর।

স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্যঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে স্মরণ স্মৃতিস্তম্ভ, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ, স্বাধীনতা স্মৃতি ম্যুরাল ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।কৃতি শিক্ষার্থীঃ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস(পিএইচডি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাছাড়াও একুশে পদক বিজয়ী সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ, চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর প্রমুখ এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন।

আশা করছি এই লেখাটি আপনাদের ভালো লাগবে এবং কিছু তথ্য জানতেও সাহায্য করবে। লেখাটি কেমন লাগলো নিচে মন্তব্য করে আমাকে জানাতে পারেন। আর অবশ্যই সময় পেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে আসতে পারেন। —- ধন্যবাদ।