সিনেমা বন্ধ হলে আরো অনেক কিছুই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন …।

Now Reading
সিনেমা বন্ধ হলে আরো অনেক কিছুই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন …।

সম্প্রতি খবরে এসেছে যে এখন থেকে যৌথ প্রযোজনা তথা দুই বাংলার মিলিত প্রচেষ্টার সিনেমা বন্ধ । এই খবরে তুমুল ঝড় বয়ে যাচ্ছে  টিভি চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়াতে । আমার এর আগের লেখাটিতে আমি এই যৌথ প্রযোজনার ব্যাপারে কিছু বলেছিলাম । আজকে সেটা আর নতুন করে বলবো না । আজকে চলুন এই যৌথ প্রযোজনার সিনেমা বন্ধের পিছনে কারণ অনুসন্ধান করা যাক । একটি টিভি টকশোতে একজন যৌথ প্রযোজনার বিপক্ষে কথা বলছিলেন তখন হঠাৎ তাকে প্রশ্ন করা হলো এই যে আপনারা এত দিন অন্য দেশের সিনেমা এই দেশে চালাতে দেননি এতে কি উদ্ধার হয়েছে কিছুই তো করতে পারেননি । তখন তিনি সিনেমার বাজেট এর প্রসঙ্গ টেনে বললেন ওদের দেশে (ভারতে) একশ কোটি টাকার সিনেমা হয় আমাদের দেশে কি তা হয় ? আমাদের বাজেট বড়জোর টেনেটুনে এক কোটি ।

আসলে এই সময় এসে এই ধরনের কারণ দর্শানো খুবই হাস্যকর । এরপর আসলো সংস্কৃতি প্রসঙ্গ সেখানেও নানান কথাবার্তা হলো । সারমর্ম এটাই যে ওদের (ভারতের) সিনেমা চালালে যদি সমস্যা হয়ই তাহলে ওদের অন্য সব কিছুই বন্ধ করে দেয়া উচিৎ । বিশেষ করে হিন্দি যত চ্যানেল আছে সব এবং ওদের যেসব জামাকাপড় আমাদের দেশে আসে সেসব ও বন্ধ করে দেয়া উচিৎ । এই যুক্তি দেওয়ার পর আর কোন কথা থাকতে পারে কি ? অবশ্যই পারে । তাহলে আসুন সেটা একটু অনুসন্ধান করি । প্রথম কথা হলো যৌথ প্রযোজনা সিনেমাতে একটি নীতিমালা আছে । যেহেতু , নীতিমালা আছে তাই তা মানা উচিৎ । কাপড় আনা নেওয়াতে তো কোন নীতিমালা নেই  বা হিন্দি চ্যানেল চালানোতেও তো কোন নিতিমালা নেই ,থাকার প্রশ্নও উঠে না কারণ ভারতে আমাদের কোন চ্যানেলই চালানো হয় না । তাইলে এত কিছুতে যদি আমাদের সংস্কৃতি নষ্ট না হয় তাইলে সিনেমাতে সমস্যা কি ? তখন আবার সেই নীতিমালা টেনে আনা হয় । সবচেয়ে অবাক করা বিষয় কি জানেন ? যেই টকশোর কথা বললাম সেই টকশোতে যিনি যৌথ প্রযোজনার বিপক্ষে কথা বলছিলেন তিনি অকপটে মেনে নিলেন যে যদি নীতিমালা তুলে নেয়া হয় তাহলে উনাদের কোন সমস্যা নেই। বাহ ! চমৎকার তার মানে উনাদের মূল কাহিনি ওই সংস্কৃতি নয় উনাদের কাহিনি নীতিমালা । এখানে বলে রাখা ভালো হিন্দি উর্দু সিনেমা বন্ধের ব্যাপারটি আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই চলে আসছে ।

মাঝাখানে চালু হয়েছিল তখন অনেকে কাফনের কাপড় পরে আন্দোলন করেছিলো। পরবর্তীতে তোপের মুখে পরে এই নিয়ম আর টেকেনি । সর্বশেষ যৌথ প্রযোজনা ছিল সেটিও বন্ধ করে দেয়া হলো । এখন মানুষ তাহলে কি দেখতে হলে যাবে ? প্রথমত আমাদের অবস্থান এখনো অত ভালো হয়ে যায়নি । একটি কথা বলতেই হচ্ছে যে যৌথ প্রযোজনা আর যাই হক দীর্ঘদিন হলবিমুখ মানুষকে সিনেমা হলে ফিরিয়ে এনেছে । অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকেও বাঁচিয়েছে । তবে এটাও সত্য যৌথ প্রযোজনা যেহেতু দুই বাংলার মিলিত সিনেমা তাই আমাদেরও অনেক অধিকার আছে সেইসব সিনেমাতে কিন্তু তার তোয়াক্কা খুব একটা করেননি ঐ সমস্ত কোলকাতার সস্তা  পরিচালকরা । তারা তাদের মত করে তামিল সিনেমা নকল করে সিনেমা বানিয়ে গেছে  । যেখানে তামিল সংস্কৃতি এসেছে । যাই হোক তারা তাদের কাজ করে গেছে । আমার প্রশ্ন হলো আমদের দেশের পরিচালকেরা কি করলেন ? তাদের কেন যৌথ প্রযোজনাতে কালেভেদ্রে আমাদের দেখতে হয় । সর্বশেষ বোধহয় নিয়তি সিনামাতে আমরা বাংলাদেশী পরিচালক দেখেছি । যেই সিনেমাটি সুপার ফ্লপ হয়েছে । অথচ আমাদের দেশে অনেক মেধাবী পরিচালক রয়েছেন যাদের ভালো মুভিও আমরা দেখেছি । মোস্তফা সারোয়ার ফারুকি , অমিতাভ রেজা , গিয়াস উদ্দিন সেলিম এনাদের সিনেমা আমরা দেখেছি । এনারা প্রত্যেকেই চমৎকার সব সিনেমা আমদের উপহার দিয়েছেন ।

তাহলে এনাদের কেন যৌথ প্রযোজনার সিনামাতে আমরা দেখি না । আমরা সেই কোলকাতার নকল করে সিনেমা বানানো পরিচালকের সিনেমা দেখি । যেই সিনেমাগুলোর বেশীরভাগেরই প্রেক্ষাপট এক । তবে  যৌথ প্রযোজনার ছবিতে যেহেতু বাজেট বেশী তাই লোকেশন ও অনান্য বিষয় বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয় । তাই আমদেরও উচিৎ হবে যৌথ প্রযোজনাকে বর্জন না করে বরং এর ভালো দিকগুলকে তুলে এনে আমদের মত করে সাজানো । হ্যাঁ , এই মুহূর্তে অবশ্যই  আমদের যৌথ প্রযোজনার সিনেমাকে মেনে নেয়া উচিৎ কারণ এতে অন্তত হলগুলো টিকে থাকবে । এখন যদি হল বন্ধ হয়ে যায় তাহলে পরে যতই ভালো সিনেমা হোক না কেন মানুষের দেখতে যাওয়ার মত জায়গাই থাকবে না । তাই , আসুন যৌথ প্রযোজনা বর্জন না করে এর থেকে কিভাবে নিজেদের সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তাই ভাবি । এতেই সবার ভালো ।

সিনেমা নাকি অন্য কোন উদ্দেশ্য …

Now Reading
সিনেমা নাকি অন্য কোন উদ্দেশ্য …

সিনেমা নিয়ে গত কিছুদিন অনেক কিছুই হয়েছে অনেকের স্বার্থ হাসিল হয়েছে অনেকের হয়নি । আসুন এবার এই স্বার্থ আর ঝামেলার ঘটনাটা বলি । কেন এমন হল ? কি ছিল উদ্দেশ্য ? প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে বর্তমান এ বাংলাদেশ এর সিনেমাতে যে দুই পক্ষ তৈরি হয়েছে তাদের নিয়েই অনেক বেশী আলোচনা হচ্ছে । এদের মধ্যে একদল ভারতীয় সিনেমা অর্থাৎ কলকাতার সিনেমার বিপরীতে কথা বলছে আর অপরদল দুই বাংলার মিলিত শুদ্ধ বাংলাতে বললে যৌথ প্রচেষ্টা তথা যৌথ প্রযোজনার সিনেমার পক্ষে কথা বলছে । আসুন দুই পক্ষের বক্তেব্যের ব্যাপারে কিছু বলি । আসলে কে সঠিক ? প্রথম পক্ষের কথা যদি বলি যারা বর্তমান এ নানা আন্দোলন এ ব্যস্ত যারা যৌথ প্রযোজনাকে যৌথ প্রতারনা বলছেন এবং নিয়ম নীতির ব্যাপারে যারা অনেক সচেতন । তারা যৌথ প্রযোজনা চায় কিন্তু সেটা যেন নিয়মের মধ্যে থেকে হয় । আসুন নিয়মটা দেখা যাক । নিয়মে দুই বাংলার শিল্পী সমান সমান থাকার কথা বলা আছে । এটা তাদের আন্দোলন এর মূল উপজীব্য বিষয় । কিন্তু ঈদে সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত দুটি ছবির (নবাব এবং বস ২) একটিতেও এই নিয়ম মানা হয়নি ।  এখান থেকেই প্রথম পক্ষের আন্দোলন শুরু । কিন্তু বিষয়টাকে এভাবে কেন সামনে আনা হল আমি বুঝলাম না । রিভিউ কমিটিতে ছবিটাকে (নাবাব) একবার বলা হল যে এটি নিয়ম মেনে করা হয়নি আবার পরবর্তীতে বলা হল যে নিয়ম মানা হয়েছে । তাহলে দেখা যাচ্ছে ঝামেলার অন্যতম কারন ঐ রিভিউ কমিটি নিজে । যার কারণে একটি দল আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছে অপর দলও কম যায়না তারাও জবাব দিয়েছে সেটাতে আর একটু পরে আসছি তার আগে আন্দোলন এর অন্যতম নেতাদের ব্যাপারে কিছু বলি । প্রথম এ যার নাম আসছে ইনি হলেন জায়েদ খান । ইনি বর্তমান সময়ের ফিল্ম এর আন্দোলন এর ব্যাপারে অন্যতম মুখ্য ভুমিকা রাখছেন । দ্বিতীয় যার নাম আসবে ইনি মিশা সওদাগর যদিও উনি নিজেও একটি যৌথ প্রযোজনার সিনেমা করেছিলেন যেখানে উনি ছাড়া বাংলাদেশ এর আর কেউ ছিল না । তৃৃৃৃতীয় যার নাম আসবে ইনি হলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা নায়ক রিয়ায উনিও উনার জীবনের সেরা সিনেমাটি উপহার দিয়েছিলেন এই যৌথ প্রযোজনার মাধ্যমেই । সেখানে তিনি আর নায়িকা পূর্ণিমা ছাড়া বাংলাদেশ এর আর কেউ ছিল না । এখানে একটা বিষয় লক্ষ করুন যে ঐ সময় কিন্তু এই সিনেমাগুলো নিয়ে কেউ কোন কথা বলেনি ।

আসুন এবার দ্বিতীয় পক্ষের কথা বলি তারা আসলে কি করছে এবং কেন করছে ?উত্তরটা খুব সহজ ব্যাবসা করছে । সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার এ দেখলাম জ্যাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার বলছেন তিনি শুধুমাত্র বাংলাদেশের অংশের শুটিং এর টাকা দিয়ে থাকেন এবং ভারতে ছবি ব্যবসা করলে উনি কোন টাকা নেননা । চমকাচ্ছেন দাড়ান আসল চমকটা উনার পরের বক্তব্যতে যখন উনি বললেন যে এই দেশে পুরো ছবির মাত্র দশ দিন শুটিং হয়েছে   । মূল নায়ক এর কাজ হয়েছে মাত্র ছয়দিন । এখানে আর একটি কথা বলা দরকার তা হল যাদের দিয়ে এই যৌথ প্রযোজনার ছবি করানো হচ্ছে তাদের নিজেদের দেশেই  অর্থাৎ , বর্তমানে কোলকাতাতেই তাদের মার্কেট খুব একটা ভালো যাচ্ছে না । তাহলে আমরা কেন মেনে নিচ্ছি ? কারণ কঠিন হলেও সত্য আর তা হল আমাদের দেশে কোন ভালো কাজ হচ্ছে না । এর মানে এই না যে হবে না আয়নাবাজি এর মত ভালো সিনেমাও কিন্তু হয়েছে । দর্শক হলেও গিয়েছে মানে আমাদের দর্শক আছে ।দুঃখটা এখানে যে এই মানুষগুলো এখন কোন ভালো সিনেমা পাচ্ছেনা । তাদের যৌথ প্রযোজনার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে কিন্তু এর মাধ্যমেও যে খুব ভালো কিছু হচ্ছে তা না কারণ ভাষা এক হলেও সংস্কৃতি এক নয় । আশঙ্কাটা সেখানেই বেশী কোথাও না তাদের সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে চলে আসে । যদি দুই দেশের সংস্কৃতিকে কেউ সমানভাবে দেখাতে পারে তাহলে ভালো । তবে তা হবে কি করে ? বেশীরভাগ যৌথ প্রযোজনার সিনেমাতেই তো পরিচালক কোলকাতারই থাকে ।এটাও আমাদের জন্য অসম্মানের । ছোট একটা উদাহরণ দিতেই হচ্ছে সেটা হল শাকিব খান । উনাকে নিয়ে যারা আজ থেকে কয়েক বছর আগেও যারা মজা করত তারাই আজকে উনার প্রশংসা করছে । শিকারি সিনেমাটিতে যেভাবে তাকে তুলে ধরা হয়েছে এত দিন কেন বাংলাদেশের পরিচালকরা তাকে এভাবে তুলে ধরল না ? অস্বীকার করার কোন উপায়  নেই এসব দিক থেকে তারা অবশ্যই আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে কিন্তু আমাদেরও এসব জায়গাতে ভালো করতে হবে । আমরা একটা জিনিস ভুলে যাই সেটা হল পশ্চিমবঙ্গ কোন দেশ নয় কিন্তু আমরা একটি দেশ আমরা একটি জাতি । সেটার সম্মান আমাদেরই দিতে হবে ।  সব ভুলে আবার এক হয়ে ভালো কাজ করুন । এই দেশের মানুষকে আর বঞ্চিত করবেন না । আমরা ভালো কাজ চাই । আমরা আমদের সিনেমা নিয়ে যেন গর্ব করতে পারি । দয়াকরে সেই সুস্থ বিনোদন আবার চলচ্চিত্রে ফিরিয়ে আনুন । আমরা দর্শক সবসময়ই আপনাদের পাশে ছিলাম আছি আর থাকব ।

 

 

 

সিনেমা রিভিউ :বাপজানের বায়স্কোপ

Now Reading
সিনেমা রিভিউ :বাপজানের বায়স্কোপ

চলচ্চিত্র বা সিনেমা দেখতে আমরা কেই না পসন্দ করি। কেউ অ্যাকশন ,কেউ কমেডি ,কেউ ড্রামা আবার কেউ রহস্য গল্প দেখতে খুব পসন্দ করে। তাইতো দুনিয়া জুড়ে হলিউড বলিউডের এত জয় জয়কার। তবে যখন কথাটা বাংলা চলচ্চিত্রের দিকে আসে তখনন কোনো জানি আমাদের নাকসিঁটকানোর একটা প্রকলন দেখা যায়। অনেকে এমনটাও ভাবে যে বাংলা চলচিত্রের কোনো মৌলিক গল্প নেই। নকল আর ওভার এক্টিং এ ভরপুর। এজন্যই হয়তো আমাদের চলচ্চিত্র হলে দর্শক টানতে ব্যার্থ।তবে বিগত বছর গুলোতে বেশ কিছু ভালো সিনেমা বের হতে দেখা গেসে। আজ আপনাদের এমনি একটি বাংলা সিনেমার কথা বলবো। যার গল্প মৌলিক ,কোনো ওভার এক্টিং নেই।যাতে আবেগ,প্রতিবাদ এবং ঐতিহ্যের একটি দারুন নিদর্শন সৃষ্টি করা হয়েছে।

সিনেমাটির নাম “বাপজানের বায়স্কোপ”।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যমুনা পরের একটি চর থেকে। চরটির জমিদার তার ভাগিনার নাম অনুসারে চরের নামকরণ করেন চরভাগিনা। গল্পের মূল চরিত্র হাসেন মোল্লা এবং জীবন সরকার। হাসেন মোল্লা একজন প্রান্তিক চাষী। সে আর দশটি চাষীর মতো চাষাবাদ করে জীবন যাপন করতো। হাসেন মোল্লা একদিন তার জমিতে ক্যাশ করার সময় তার মৃত বাবা কে কল্পনায় দেখতে পায়। তার বাবা হাসেন মোল্লাকে তার ফেলে যাওয়া বায়োস্কোপটি পুনরায় চালু করতে বলে। বাবার কথা মতে হাসেন মোল্লা সিদ্ধান্ত নেয় সে আবার বায়াস্কোপ খেলা দেখাবে। সপ্তাহে ২ দিন বিএসকোপ খেলা দেখাবে আর ৪ দিন চাষাবাদ। হাসেন মোল্লা ভাবে সে বায়োস্কোপে নতুনত্ব আনবে। এর জন্য গ্রামের তরুণ ইসমাইল কে বলে তার জন্য কিছু ছবি এঁকে দিতে। যার বিনিময়ে তাকে পেটভরে মিষ্টি খাওয়াবে। এরপর সেই নতুন গল্প আর চিত্র নিয়ে তৈরী হয় বায়স্কোপ। ভালোই চলছিল সব কিছু ,এমন সময় একদিন জীবন সরকারের বউ বায়স্কোপ খেলা দেখতে চায়। বৌয়ের আবদার রাখতে জীবন সরকার ,হাসেন মোল্লাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপরই ঘটে মূল ঘটনা। জীবন সরকার বুঝতে পারে বায়স্কোপের ঘটনাটি একটি প্রতিবাদী গল্প যা তার মামার অন্যায় কে প্রতিনিধিত্ব করে। এর জন্য জীবন সরকার সিদ্ধান্ত নেন চরে এরপর আর কোনো বায়স্কোপ চলবে না। তবে হাসেন মোল্লা চায় বায়স্কোপ খেলা চালিয়ে যেতে। এরপর চরের সালিসে জীবন সরকার সিদ্ধান্ত নেন যদি হাসেন মোল্লা বায়স্কোপ খেলা বন্ধ না করে গ্রামে তিনি লবন বিক্রি হতে দিবেন না। এরপর চরে ভীষণ পরিমানে লবণের চাহিদা দেখা দেয়। সকলে হাসেন মোল্লাকে ব্যাস্কোপ খেলা বন্ধ করার অনুরোধ করে। তবে হাসেন মোল্লা তা না শুনে তার প্রতিবাদ চালিয়ে যায়। এদিকে চরবাসীর দুঃখ দেখে জীবন সরকারের বউ তার দেহরক্ষীর সাথে হাত মিলিয়ে চরবাসীর কাছে  লবন সরবারহ করে। চর বাসীর লবন সমস্যা না  থাকায় হাসেন মোল্লার প্রতিবাদ আরো বেগ পায়। এদিকে জীবন সরকার বায়স্কোপ বন্ধ করার বিভিন্ন পায়তারা করতে  থাকে। অবশেষে জীবন  সরকার তার দেহরক্ষী দিয়ে ইসমাইল কে খুন করে। ইসমাইলের মৃত্যুর  পর চরবাসী  আরো প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। চরবাসী সিদ্ধান্ত নেয় তারা জীবন  সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।এরপর একদিন জীবন সরকার তার দোল নিয়ে বায়স্কোপ এবং হাসেন মোল্লাকে চিরতরে শেষ করার জন্য আক্রমণ করে। তবে গ্রামবাসীর প্রতিবাদে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ দিকে জীবন সরকারের দেহরক্ষী তার ভুল বুঝতে পারে এবং সেও জীবন সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।

সিনেমাটির গল্পে যে অন্যায় এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা এক কোথায় ছিল অসাধারণ। মৌলিক গল্প আর অভিনয়ের শক্তি সিনেমাটিকে নিয়ে গিয়েছে অনন্য এক উচ্চতায়।আমার কাছে বাংলাদেশের সের চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম।হয়তো এর জন্যই ২০১৬ সালের সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত সিনেমা “বাপজানের বায়স্কোপ”।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম( জীবন সরকার ) এবং শতাব্দী ওয়াদুদ(হাসেন মোল্লা)। এছাড়াও সানজিদা তন্ময় ,মাসুদ মহিউদ্দিন সহ প্রমুখ অভিনেতা এই সিনেমাটিতে কাজ করেছেন।   সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান “কারুকাজ ফিল্মস “। একধারে পরিচালক ,প্রযোজক এবং লিখেছেন রিয়াজুল রিজু। শব্দ সংযোজন করেছেন সেতু চৌধুরী।এবং সিনেমার গান গুলো লিখেছেন অয়ন চৌধুরী এবং আমিরুল ইসলাম।
 
সিনেমাটিকে ঘিরে একটি তুচ্ছ গত না আছে। আর তা হলো বাপজানের বায়োস্কোপ চলচ্চিত্রে টিভি অভিনেতা মাহমুদুল ইসলাম মিঠুর অভিনয় করার কথা থাকলেও হঠাৎ তাকে বাদ দিয়ে শহীদুজ্জামান সেলিমকে নেয়া হয়। মিঠু জানান, ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ চলচ্চিত্রটি ছিলো আমার অভিনয় জীবনের স্বপ্নের একটি চরিত্র। তুচ্ছ এক ঘটনার জেরধরে রিজু আমাকে বাদ দিয়ে আমার চরিত্রে অন্যকে দিয়ে অভিনয় করান।’ পরবর্তীতে রিয়াজুল রিজু তাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকী দেন বলেও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন মিঠু। তবে নিজের অভিনয় শক্তি দিয়ে  শহীদুজ্জামান সেলিম প্রমান করেছেন জীবন সরকার চরিত্রের জন্য তিনিই ছিলেন উত্তম।
 
বাংলা সিনেমা নিয়ে সমালোচনা করাটা আমাদের যেন একটা স্বভাব। আমি বলবো আগে বাংলা সিনেমা দেখুন তারপর তার সমালোচনা করুন। যেখানে বাহিরের দেশের সিনেমা এ দেশে ব্যবসা সফলতা পায় সেই দেশের সেরা চলচ্চিত্র হলে দর্শক আনতে বার্থ ভাবতেই লজ্জা লাগে। আমরা বাঙালি সুশীলতার আড়ালে ভুলে যাই দেশি পণ্যকে।ভুলে যাবেন না এক সময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের জয়গান বিশ্ব জুড়ে ছিল। তাই অনুরোধ করবো বাংলা চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে গিয়ে সিনেমা দেখুন। তবেই আয়নাবাজি ,জালালের গল্প ,বাপজানের বায়স্কোপের মতো সিনেমা বানাতে নির্মাতারা আগ্রহী হবেন। এদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে এবং হয়তো বর্তমান সময়টা একটি বিপ্লবকালীন সময়।
 
ধন্যবাদ।