আবার কখনও কি এমন JOLSHA(জলসা)’র আসর বসবে???

Now Reading
আবার কখনও কি এমন JOLSHA(জলসা)’র আসর বসবে???

একটা প্রচলিত সংলাপ-
“জীবন টা BTV হয়া গেছে,দেখার মত কেউ নাই”
আশলেই BTV(বাংলাদেশ টেলিভিশন) এখন আর কেউ দেখেনা।এত এত চ্যানেলের ভিড়ে ঠিকমত কোন চ্যানেলইতো দেখা হয়না সেখানে বিটিভি তো অনেক দুরের ব্যাপার।এখন একমাত্র “ইত্যাদি” ছাড়া মনেহয়না বিটিভিতে দেখার মত কোন অনুষ্ঠান হয়।অথচ একটা সময় এই বিটিভিতে এমন কিছু অনুষ্টান,নাটক প্রচার করা হত যেগুলা সেইসময়তো বটেই এই বর্তমান এবং ভবিষ্যতেউ মানুষের মনের একটা অংশ জুড়ে থাকবে।
আশল কথায় আসি,অনেকেই মনে করতে পারেন আমি বিটিভি নিয়ে প্যাচাল পারতেছি কেন।
অবস্যই একটা কারণ আছে।আচ্ছা এখন তো মিউজিক্যাল প্রোগ্রামগুলোর মাঝে “Coke Studio” টা অনেক জনপ্রিয়।আমরাও এই Coke Studio’র সিজনের জন্য অপেক্ষা করে থাকি।এইটার থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই বলাযায় আমাদের দেশেও দুটি চ্যানেলে এর অনুরুপ মিউজিক্যাল প্রোগ্রাম করা শুরু করেছে।সেগুল কতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে সেটা নিয়ে একেক জনের একেক রকম মতামত আছে।তবে এই প্রোগ্রাম গুলোর মূল যেই ব্যপার সেটা হচ্ছে,পুরানো গান গুলোকেই নতুনভাবে রিকম্পোজ করে আবার উপস্থাপন করা।সেক্ষেত্রে মূল শিল্পির পরিবর্তে কখনও কখনও নতুন শিল্পিদেরকে দিয়েও সেটা গাওয়ানো হয় আবার কখনও কখনও মূল শিল্পিদেরকেই রাখা হয়।অবশ্যই অতি সুন্দর একটা আয়োজন মানতেই হবে।প্রথমে পাকিস্তান এবং পরবর্তিতে ভারতে Coke Studio প্রচার করা শুরু হয়।তারপর গত এক-দুই বছরে এগুলার আদলে আমাদের দেশেও দুটা প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।কিন্তু আমি বলি আশলেই কি কোনকিছুর অনুরুপ করে আমাদেরও সেটা তৈরি করার কোন দরকার ছিল বা আছে কি?????

১৯৯৫ সালে বিটিভিতে একটি প্রোগ্রাম প্রচার করা হয়েছিল।প্রোগ্রামটির নাম ছিল “JOLSHA(জলসা)”।নকিব খানের কন্ঠে রবীন্দ্র সংঙ্গীত “ভালবেশে সখি” দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু করা হয়েছিল।কোন নকিব খান চিনতে পেরেছেন নিশ্চই???”রেনেসা” ব্যান্ডের নকিব খান।ব্যান্ডের একজন শিল্পির গলায় রবীন্দ্র সংঙ্গীত অবাক হওয়ার মত।আরেকটু অবাক হবেন কারণ এর পরেই মাইলস এর “প্রথম প্রেমের মত” গানটি পরিবেশন করেন নজরুল কণ্যা “সাদিয়া আফরিন মল্লিক” ম্যাম।হ্যা পুরো অনুষ্ঠানটাই ছিল এমন।অনুষ্ঠানের অতিথি বৃন্দদের নাম গুল জেনেনিলে ব্যপারটাতে আরেকটু খোলাশা হওয়া যাবে-
একদিকে কলিম শরাফী,খান আতাউর রহমান(খান আতা),প্রফেসর আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার,মুস্তাফা মনোয়ার,নীলুফার ইয়াসমিন,রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা,সুবীর নন্দী,শাকিলা জাফর,সাদিয়া আফরিন মল্লিক ম্যামদের মত গুণি শিল্পিরা এবং ব্যাক্তিত্য আর অপরদিকে সেইসময় দেশের কিছু বখেযাওয়া ছেলেপেলের দল যারা কিনা অপসংস্কৃতির বাহক(বাবা-চাচা মুরুব্বিদের মতে) সেই রেনেসা,মাইলস,সোলস,ফিডব্যাক।ব্যাপারটা সম্পূর্ণই তেল আর জলের মত।
এই অনুষ্ঠানটির কনসেপ্ট টা ছিল বাংলাদেশের ক্ল্যাসিক-ফোক মিউজিক আর রক মিউজিকের মাঝেকার ভাল এবং খারাপ দিকগুলো নিয়ে মুখমুখি আলাপচারিতা।সবচেয়ে ভাল লেগেছে যেই ব্যপারটি তা হল ক্ল্যাসিক্যাল-ফোক শিল্পিরা গেয়েছিলেন ব্যান্ডের গানগুল আর ব্যান্ড গুলো গেয়েছিল ক্ল্যাসিক্যাল-ফোক গান।তারপর শ্রদ্ধেয় ম্যান্টর রা দিয়েছিলেন তাদের মতামত।একজন আরেকজনের সমালোচনা গুলো এত সুন্দরভাবে গ্রহণ করেছিল আর সেগুলো নিয়ে গঠন মূলক আলোচনা করেছিল যেইটা আশলেই অবাক করার মত।অনুষ্ঠানে পার্থ দার কণ্ঠে গাওয়া সচীন দেব বর্মনের “ডাকাতিয়া বাশি” গানটি অনেকদিন পর্যন্ত পার্থ দার গান  হিসেবেই জানতাম।এইরকম প্রত্যেকের কণ্ঠের প্রতিটা গানই নিজস্ব বলে মনে হয়েছে।বোঝাই যায়নি কোনটা রক মিউজিক বা ব্যান্ডের গান আর কোনটা ক্ল্যাসিক্যাল বা ফোক।

ভাবা যায় ২২ বছর আগে আমাদের বাংলাদেশে এইরকম কনসেপ্টের একটা প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছিল।তাও আবার তেল আর জলকে একসাথে একই পাত্রে নিয়ে।আর এখন কিনা আমাদের কনসেপ্টের অভাবে আরেক জনের কনসেপ্ট ধার করে এনে সেই আদলে অনুষ্ঠান তৈরি করে প্রচার করা লাগে।এর চাইতে বড় আফসোস আর কি আছে ।

যেই সময় এই অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হয়েছিল ঐ সময় আমি কেবল মাত্র দুনিয়ায় পদার্পণ করেছিলাম তাই সরাসরি দেখার তো সুযোগ হয়নি।এক শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ইউটিউব লিংক দিয়ে বলেছিল প্রোগ্রামটা দেখার জন্য।প্রোগ্রাম টি দেখলাম আর মুগ্ধতা নিয়ে ছিলাম কিছুক্ষন।আর আফসোস করছিলাম আমরা মনেহয় আর এইরকম কনসেপ্টের কোন প্রোগ্রাম সারাসরি আর কখনও দেখতে পারবো না ।