Magic বা জাদুবিদ্যা

Now Reading
Magic বা জাদুবিদ্যা

Magic/জাদুর সাথে ‍আমরা সকলে পরিচিত । তবে আমরা সকলে শুধু ্এটুকুই জানি,জাদু মানে অতিপ্রাকৃতিক কিছু হওয়া বা করা । নৃতত্ত্ববিদগণ বলেন, সূক্ষভাবে দেখলে দেখা যাবে যাকে আমরা প্রাগৈতিহাসিক ধর্ম বলি তার অধিকাংশই আসলে জাদুবিদ্যা। ধর্মের ‍ উৎসবিষয়ক মতবাদ হিসাবে জাদুবিদ্যাকে আলোচনায় নিয়ে আসেন নৃবিজ্ঞানী J.G Frazer । তার মতে জাদুবিদ্যার উদ্ভব ধর্মেরও আগে। প্রাচীন যুগে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই জাদুবিদ্যার প্রচলন ছিল। তবে জাদুবিদ্যা  চর্চায় ধর্মীয় কোনো ভাবধারা কাজ করছে কি না বা জাদুবিদ্যা ক্রমবিবর্তিত হয়ে ধর্মীয় আচরণে পরিণত হয়েছে কি না তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় নি।

Magic/জাদুবিদ্যার পরিচয় :

জাদুবিদ্যা বলতে ভেলকি,ভোজাবাজি,মায়াবিদ্যা,কুহক বা মোহিনী বিদ্যাকে বোঝায় (সূত্র: বাংলা একাডিমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান)। ইংরেজী Magic শব্দটির উৎপত্তি গ্রীক শব্দ  Magia বা Magos থেকে। Collins Dictionary তে বলা হয়েছে, Magic is the power to use supernatural forces to make impossible things happen, such as making people disappear or controlling events in nature. অর্থাৎ, জাদু হলো এমন অতিপ্রাকৃত শক্তি বা ক্ষমতা ,যা দ্বারা অসম্ভব কিছু করা যায়,যেমন মানুষকে অদৃশ্য করা অথবা প্রাকৃতিক ঘটনা (বিষয়) নিয়ন্ত্রণ করা।

জাদুবিদ্যার মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’ভাবধারা বিদ্যমান ।হিরোডোটাস,প্লেটো প্রমুখ জাদুকে ক্রিয়াশীল হিসেবে ইতিবাচক বিবেচনা করেছেন।অ্যারিস্টটল এর নেতিবাচক ব্যবহার দেখিয়েছেন।ইংরেজী শব্দ magic নেতিবচিক অর্থের উত্তরাধিকারী।

জাদুবিদ্যা হলো অতীন্দিয়কে বশ করার বিদ্যা এবং সেই সঙ্গে অতীন্দিয় উপায়ে প্রকৃতিকে বশ করার শাস্ত্র।

Frazer বলেন,”Magic is a Spurious system of natural law as well as an abortive art” (J.G Frazer, The Golden Bough) বা ম্যাজিক প্রাকৃতিক নিয়মের নকল বা কৃত্রিম ব্যবস্থা , যা মানবীয় ব্যবহারে ভ্রান্ত পথনির্দেশিকােএটা একটা ভ্রান্ত বিজ্ঞান তথা নিষ্ফল কৌশল।

  1. Ahmed বলেন, “Magic was man’s first effort to estublish contact with the unknown, the hidden spiritual forces which he demage fell to exist” (The Black Art)

Magic বা জাদুবিদ্যার প্রকারভেদ :

জাদুর ব্যবহার প্রক্রিয়া,উপাদান ও প্রকৃতি বিবেচনায় J.G Frazer জাদুবিদ্যার মোট ছয়টি শ্রেণীর কথা উল্লেখ করেছেন।যেমন :

১. অনুকরণ জাদু : অদৃশ্য সূত্রের উপর নির্ভর যে মন্ত্র ও কলাকৌশল প্রয়োগ করা হয় তাকে অনুকরণ জাদু বা Sympatheitic Magic বলে। এর অপর নাম সদৃশ্য বিধান জাদু । Fraze একে Law of similarity বা সদৃশ্যের সূত্র বলেছেন।যেমন মোম বা মাটি দিয়ে শত্রুর আকৃতি বানিয়ে তাতে আঘাত করার মাধ্যমে শত্রুকে ক্ষতিগ্রস্থ করা।

২. সংক্রমণ জাদু : সংক্রমণ সূত্রের আশ্রয়ে যে জাদু-মন্ত্র ও কলাকৌশল সৃষ্টি হয় তার নাম সংক্রমণ জাদুবিদ্যা বা Contogious Magic ।যেমন শত্রুর দেহ বা ব্যবহৃত জিনিস প্রতিকৃতির মধ্যে ঢুকিয়ে তাতে নাসা রকম যন্ত্রণা দেয়া । Franzer একে Law of Contogious বা সংক্রমণ সূত্র বলেছেন ।

উক্ত দুই প্রকারের জাদুর ব্যবহার হলিউড,বলিউডের বহু সিনেমায় দেখতে পাওয়া যায় ।

৩. তাত্ত্বিক জাদু : যে জাদুবিদ্যা প্রাকৃতিক নিয়মের অনুসারী এবং তার মতোই আবশ্যম্ভী যার ফল, তাকে তাত্ত্বিক জাদু বা Theoritical Magic বলে।

৪. ব্যবহারিক জাদু : জাদুকে যদি মানুষের উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে একটি কার্যকরী নীতিমালা হিসাবে গণ্য করা হয়, তবে তাকে ব্যবহারিক জাদু বা Practical Magic বলা যায় ।

৫. ইতিবাচক জাদু : ইতিবাচক ও কল্যাণকর কাজের ইঙ্গিতবাহী জাদুকে ইতিবাচক জাদু বা Positive Magic বলে।

যদি এই প্রকার জাদুর উদাহরণ চাওয়া হয়, আমি বলব মনে করুন কোনো লোকের স্ত্রীর সাথে তার কেন যেন বোঝাপরা ভাল না, সংসারে কলহ বিবাদ লেগেই থাকে। এক্ষেত্রে ঐ লোক জাদুর মাধ্যমে ‍সাংসারিক কলহ দূর করাই এই প্রকারের জাদুর উদাহরণ ।

৬. নেতিবাচক জাদু : অমঙ্গলকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মানুষের অকল্যাণের জন্য ব্যবহৃত জাদুকে নেতিবাচক জাদু বা Negative Magic বলে ।

কিছু কিছু বিজ্ঞানী ও গবেষক জাদুর ‍আরো কিছু প্রকার উল্লেখ করেছেন। যেমন R. Firth জাদুবিদ্যার উদ্দেশ্য, প্রয়োগ ক্ষেত্র ও সামাজিক তাৎপর্য বিবেচনা করে একে তিন শ্রেণীতে বিন্যস্ত করেছেন –

১. গঠনমূলক জাদু : যে জাদু নতুন কিছু সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করে মানুষের কল্যাণ করে তাকে গঠনমূলক জাদু বা Constructive Magic বলে।

২. প্রতিরোধক জাদু ; প্রাকৃতিক ক্ষতি বা ক্ষতিকর জাদুর প্রভাব থেকে বেঁচে থাকার জন্য যে জাদু প্রয়োগ করা হয় তাকে প্রতিরোধক জাদু বা Protective Magic বলা হয়।

৩.ধ্বংসাত্মক জাদু : যে জাদু সম্পূর্ণরুপে ক্ষতি বা ধ্বংস সাধনের জন্য প্রয়োগ করা হয় তাকে ধ্বংসাত্মক জাদু বা Destructive Magic বলা হয় ।

কেন যেন এই লিখাটি লিখতে লিখতে হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা Harry Potter এর এক একটি চরিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

⇒জাদুবিদ্যার উদ্দেশ্য :

প্রাগৗতিহাসিক যুগের নিরক্ষর লোকেরা নানা কারণে বিভিন্ন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জাদু করত। যেমন :

১. শিকার করতে গেলে যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয় এবং শিকারে সফল হয়।

২. মাছ ধরার ক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য।

৩.যুদ্ধে বিজয় অর্জন করার জন্য।

৪. প্রেমে সফল হওয়ার জন্য।

৫. প্রাকৃতিক দূর্যোগ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য।

৬.ক্ষতিকর প্রেতাত্মা হতে বাঁচার জন্য ।

৭. শক্তি অর্জন ।

৮. অজানাকে জানা।

৯. গঠনমূলক উদ্দেশ্যে , যেমন জমির উর্ভরতার জন্য।

১০. প্রতিরোধক উদ্দেশ্যে, যেমন সম্পদ রক্ষা করার জন্য ।

১১. ধ্বংসাত্মক উদ্দেশ্যে।

১২. ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা মোকাবেলার জন্য ।

১৩. প্রাকৃতিক প্রয়োজনে, যেমন অনাবৃষ্টির সময় বৃষ্টির জন্য ।

১৪. ফসল রক্ষা করার জন্য ।

১৫. রোগ প্রতিরোধ করার জন্য ।

১৬. শত্রু দমনের উদ্দেশ্যে।

১৭. অনুষ্ঠানের সফলতার জন্য ।magic_wallpaper_by_170v3r.png