মার্টিল্স প্লানটেশন একটি ভূতুড়ে বাড়ি

Now Reading
মার্টিল্স প্লানটেশন একটি ভূতুড়ে বাড়ি

আমরা সব ঘটনার কারণ এবং যুক্তি খুঁজি। কখনও উপযুক্ত কারণ ও যুক্তি খুঁজেও পাই আবার কখনও কিছু ঘটনার কোন কারণ বা যুক্তি আদৌ খুঁজে পাইনা। কিন্তু ব্যাখ্যাতীত ঘটনাগুলো নিজের গতিতে ঘটে যাচ্ছে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও…! আর আমরা এসব ঘটনার নীরব দর্শক হয়েই দেখি আর ভেবে ভেবে ক্লান্ত হয়ে যাই যে আসলে কি হতে পারে এর কারণ ! এমনই একটি ভূতুড়ে বাড়ি এবং ঘটনার কথা বলছি !

এটি আমেরিকার লুসিয়ানা রাজ্যের বাটনরাগ নামক স্থানে একটি প্লান্টেশন আছে। যার নাম মার্টিল্স প্লানটেশন। দুশ বছর ধরে এই দশ একর যায়গাটি মানুষের বসবাসের একটি বাড়ি হলেও বর্তমানে এটি একটি টুরিস্ট আকর্ষণ হয়ে গেছে। কারণ হল তার ভূতুড়ে কাজকর্মের জন্য। প্রতিদিন নাকি রাত তিনটায় এ বাড়িতে একসাথে পনেরটি ভূত বা আত্মা নেমে আসে খেলার জন্য। যার মধ্যে চারটি আত্মা আসে একটি দুঃখজনক ইতিহাস থেকে।

১৮৫৭ সালে উড্রাফ পরিবার এবং তাঁর তরুণ কৃতদাস ক্লয়ে বসবাসের জন্য এখানে আসে। সারা নামে এক মহিলা তাঁর উত্তরাধিকার সুত্রে এ যায়গাটি পান। পরে তিনি তাঁর স্বামী এবং সন্তানসহ এখানে বসবাস করতে থাকেন। তাঁর স্বামী ক্লার্ক সিদ্ধান্ত নেয় সে তাঁর নিজ শহর থেকে একজন কৃতদাস আনবেন। তাঁর সেই কৃতদাসের নাম ছিলো ক্লয়ে। একদিন ক্লার্ক তাঁর কৃতদাস ক্লয়ের কান কেটে দেয় সম্ভবত চুরির দায়ে। যদিও এটা অত্যাচার ছিলো। কান কেটে দেয়ার পর থেকে কৃতদাস ক্লয়ে একটি সবুজ রংয়ের টারবাইন টুপি পরে নিজের কাটা কান ঢেকে রাখতো।

ক্লয়ে তার নিজের মালিকের বিশ্বাস পুনরায় অর্জন করতে একটি প্লান করল। সে তার মালিক ক্লার্কের ছোট মেয়ের জন্মদিনে একটি বড় কেক তৈরী করল। সেই কেক এ ক্লয়ে ভুলবসত ওলেন্ডার নামক একটি পাতা ব্যবহার করেছিলো। যেটি ছিলো বিষাক্ত পাতা। বিষাক্ত পাতাটি এই প্লানটেশনেই জন্মাত।

কিন্তু ক্লয়ে তা প্রথমে জানত না। ক্লয়ের তৈরী কেক খেয়ে ক্লার্কের স্ত্রী সারা এবং তাঁর দুই সন্তান বিষক্রীয়ায় মারা যায়।

ক্লয়ে পরে জানতে পারে যে এটি তার নিজের ভুলেই হয়েছে। ফলে সে অপরাধ বোধে ভুগতে থাকে। সে ভেবেছিলো অন্য কৃতদাসদের কাছে এই কথাটি স্বীকার করলে তারা হয়ত তাকে আশ্রয় দেবে। কিন্তু তারা জানার পরে কৃতদাস ক্লয়েকে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলিয়ে দেয়। তারপর মৃতদেহটি মিসিসিপি নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার শেষ এখানেই না !

ইতিহাস মতে আমেরিকার দক্ষিনে একটি পুরনো সংস্কার ছিলো। যদি কোন পরিবারের সদস্য মারা যায় তবে ঐ বাড়ির সমস্ত আয়না ঢেকে দেয়া হত তা না হলে নাকি মৃত ব্যক্তির আত্মা মুক্তি পায়না। সে আটকে যায় ঐ আয়নায়। ঘটনার দিন বাড়ির সমস্ত আয়না ঢেকে দেয়া হলেও ভুলবসত একটি আয়না ঢাকা হয়নি। ফলে যা হবার তাই হল !

তারপর থেকে ঐ বাড়ির আয়নায় আত্মাদের দেখা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন হাতের ছাঁপ এবং চিত্র দেখা যায়। আর নাকি দেখা যায় সবুজ টুকি পরা সেই কৃতদাস। এছাড়াও বিভিন্ন ভূতুড়ে কর্মকান্ড ঐ আয়নায় ধরা পড়ে। যার সত্যতা যাচাই করতে বা অভিজ্ঞতা লাভ করতে পর্যটকরা এখানে আসে।

সুত্র : News Bangla, a trusted news partner.