ঈদের কেনাকাটা দেশে গলাকাটা দাম , কলকাতার দিকে ঝুঁকছে ক্রেতারা !

Now Reading
ঈদের কেনাকাটা দেশে গলাকাটা দাম , কলকাতার দিকে ঝুঁকছে ক্রেতারা !

প্রতি বৎসরেই বাংলাদেশ থেকে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক মানুষ  কলকাতায় যায় ঈদের কেনাকাটা করতে । 

চলতি মাসে শুধু বেনাপোল দিয়ে গেছে ১ লক্ষ ৭ হাজার মানুষ !!
বিষয়টায় মোটেই অবাক হইনি কিংবা এখানে দেশপ্রেমও টানছি না। কারণ-

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শিল্প প্রধান একটি দেশ অথচ এদেশেই পোশাকের দাম বেশি। মার্কেটে যাবেন বিদেশি পন্যে সয়লাভ এমনকি সেন্তু গেঞ্জি কিনতে গেলেও হয় চায়না নাহলে ইন্দিয়ানটা কেনা লাগছে, কারণ মান ভালো, দাম একই অনেক ক্ষেত্রে কম।১২০০-১৫০০ টাকায় জিন্স কিনতে গেলে ভালো মানের দেশি জিন্স এই টাকায় পাবেন না কিন্তু চায়না জিন্স পাবেন দেশি থেকে ভালো ।বাংলাদেশি ফ্যাশন হাউজ গুলাতে ভালো মানের শার্ট ১৫০০-৩০০০ টাকা, সেখানে চায়না কিংবা ইন্দিয়া শার্ট পাবেন ৮০০-১৫০০ টাকার মধ্যে ।আমাদের ব্যবসায়ীরা কম দামে বিদেশি ব্রান্ডের পোশাক বানিয়ে দিতে পারে, কিন্তু কম দামে এদেশে একটি ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারে না।আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে ” মক্কার মানুষ হজ পায়না” ঠিক তেমনই কম মুল্যে বিদেশিদের পোশাক তৈরি করে  দিলেও আমাদের জন্য তৈরি করতে পারে না।

অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষজন বেশিরভাগই ভারতের দিকে ঝুঁকছে, কারণ তাদের নিজ জেলা থেকে ঢাকা আসতে যে সময় লাগে তার চেয়ে কম সময় লাগে কলকাতা যেতে। এজন্য সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মার্কেটে চলছে মন্দাভাব। অপরদিকে পাওয়া ভিসা সহজ হওয়াতে মানুষ সহজেই এখন ভারতে পাড়ি দিতে পারছে।

ঈদের কেনাকাটার জন্য অবস্থাপন্ন মানুষ কলকাতামুখী হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কায় আছেন বলে জানান সীমান্তবর্তী জেলা গুলোর কাপড়   ব্যবসায়ীরা। জানা যায় , গত দু-তিন বছর ধরে যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলার সচ্ছল মানুষ ঈদের কেনাকাটার জন্য কলকাতায় যাচ্ছেন। এতে করে যশোরের ছিট কাপড়, গার্মেন্ট এবং জুতা ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। তারা ঈদকে সামনে রেখে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছেন না। এবার অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসানে পড়তে হবে।

যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল  শহরের বড় বড় মার্কেট গুলো চলছে ক্রেতা সংকট।

একজন কলকাতা থেকে ঈদের কেনাকাটা করে ফিরছিলেন ।  দেশে না কিনে কেন ভারতে ঈদ শপিং করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দু-তিন বছর থেকে কলকাতায় ঈদের কেনাকাটা করছি। আমাদের জেলা থেকে ঢাকার যা দূরত্ব, কলকতার দূরত্ব তার থেকে কম। যাতায়াত খরচও কম। তাছাড়া যশোরের বাজারে গলাকাটা দাম। যে জিন্সের প্যান্ট এখানে ৩ হাজার টাকা, কলকাতায় সেটি ৭০০ টাকায় পাওয়া যায়। যশোরে অ্যাপেক্স বাবাটার যে জুতা ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা, কলকাতায় একই মানের জুতা দেড় হাজার রুপি। এ কারণে যশোরে কেনাকাটা করা ছেড়েই দিয়েছি।

সেই দিন আর বেশি দূরে না কলকাতা টু ঢাকায় দ্রুত গতির ট্রেন চালু হবে মতিঝিল থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক যাওয়ার আগেই কলকাতা নিউ মার্কেটে চলে যেতে পারবে মানুষ।এভাবেই আমরা ইন্দিয়া নির্ভর হয়ে পড়বো। কোন কারণ ছাড়াই। অদৃশ্যভাবে বাধ্য করা হবে/ হচ্ছে ।

এভাবে চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, আমাদের দেশের বস্ত্রসহ সকল প্রকার পোশাক বিক্রির প্রধান সময় হচ্ছে ঈদ । এই ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায় সব শ্রেনি পেশার মানুষ কেনাকাটা করে থাকে। এখন যদি এভাবে মানুষ বিদেশমুখি হতে থাকে তাহলে আমাদের দেশের গার্মেন্টস শিল্প হুমকির মুখে পড়বে।  বন্ধ হয়ে যেতে পারে ক্ষুদ্র ও মাঝারী গার্মেন্টসগুলো, এতে বেকার হয়ে পড়বে বহু মানুষ। সেই সাথে দেশের অর্থনীতি চাকা কিছুটা হলেও গতি কমে যাবে। সরাসরি ভারতে গিয়ে কেনাকাটা করার পাশাপাশি এখন অনলাইনেও ভারতীয় পন্য অর্ডার করে এদেশে আনা যাচ্ছে। কিছু কুচক্রী মহল আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করেই এই কাজ করে যাচ্ছে, অনলাইনে ভিবিন্ন ড্রেস দেখিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সমস্ত পোশাক বিক্রি করছে। যা বেআইনি । তারা পন্যটি এদেশে আনছেও বেআইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। পন্যের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।  বর্তমানে দেশের বাজারে বিদ্যুৎ ভ্যাটসহ সরকারের নানারকম করের ফাঁদে পরে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে পন্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, এরফলে ক্রেতারা বিদেশমুখী হচ্ছে।

সীমান্তে বিদেশী পন্য নিয়ে প্রবেশ করলে অনেক বেশি শুল্ক গুনতে হয়, তাই মানুষ সরাসরি সীমান্ত দিয়ে না এনে চোরাপথে দেশে আনছে  এসমস্ত পন্য। ২০,০০০ টাকার পন্য আনলে স্থলবন্দর গুলোতে ৫০০০ টাকা শুল্ক গুনতে হচ্ছে সেই সাথে হয়রানী করা হয়।

এতো গেলো মধ্যবিত্তদের কথা, সমাজের উচ্চবিত্তরা কেউই এদেশে ঈদের কেনাকাটা করে না, তারা সব সময়ই কেনাকাটা করেন ভারত, থাইল্যান্ড কিংবা সিঙ্গাপুরে। ভিসা পাওয়া এবং যাতায়াত ভাড়া খুব বেশি না হওয়ায় তারা ছুটছে এই সমস্ত দেশে।

সমাজের মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তরা বিদেশে পাড়ি দিলেও সমাজের নিন্মবিত্ত কিংবা গরীব মানুষের ভরসা ফুটপাত যা বরাবরের মতোই জমজমাট, আত্মীয় স্বজনদের  কেনাকাটা জন্য  এখন ফুটপাতে উপচে পড়া ভিড়। সমাজের অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষেরও ভরসা ফুটপাত, ঈদকে কেন্দ্র করে বাহারি পন্য নিয়ে বসছে হকাররা। সবাই সবার সাধ্যমত দাম দিয়ে কেনাকাটা করছে। বর্তমানে ফুটপাতেও অনেক ভালো মানের পন্য পাওয়া যাচ্ছে, সেই সাথে পাওয়া যাচ্ছে নানা ব্র্যান্ডের পন্যও !

আশাকরি সরকার  নিজ দেশের গার্মেন্টস শিল্পের প্রতি দৃষ্টি দিবে, সেইসাথে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে, ভালো মানের পোশাকের ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে দেশের মানুষের জন্য, যাতে করে দেশের টাকা দেশেই থাকে।

সবার ঈদ কাটুক আনন্দে,