প্রিয় ল্যাপটপটি আজীবন ভালো রাখতে চান? মেনে চলুন এই সাধারন নিয়মগুলো।।

Now Reading
প্রিয় ল্যাপটপটি আজীবন ভালো রাখতে চান? মেনে চলুন এই সাধারন নিয়মগুলো।।

বর্তমানে বেশির ভাগ কাজ আমরা স্মার্ট ফোনে করে থাকলেও , অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো করতে কিন্তু ল্যাপটপ ব্যাবহার করতেই হয়। আর ভালো একটি ল্যাপটপ এর দাম অনেক বেশি। সুতরাং ল্যাপটপ ব্যবহারের কিছু সচেতনতা আপনাকে জানতেই হবে যদি আপনি চান আপনার কম্পিউটারটি ভালো থাকুক অনেকদিন পর্যন্ত। আর এই নিয়মগুলো কিন্তু খুবই সহজ-

১. পোষা প্রাণীকে আপনার ল্যাপটপ থেকে দূরে রাখুন
পোষা বিড়ালরা কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিভাইসের উষ্ণতার কারণে আকৃষ্ট হয়। আপনারও হয়তো বিষয়টা মজাই লাগে । কিন্তু এটা কিন্তু আপনার ল্যাপটপ এর জন্য খুবই ক্ষতিকর।কারণ বিড়ালের পশম ল্যাপটপের ফ্যান নষ্ট করে দিতে পারে। এছাড়া, কখনই ল্যাপটপ এর পাশে বসে খাবেন না। কারণ একফোঁটা খাবার ও যদি কি বোর্ড এ পরে তাহলেও আসতে পারে পিপড়া বা তেলাপোকা, যা ল্যাপটপ এর জন্য খুবই ক্ষতিকর!

cat-sleeps-on-laptop.jpg

২. চালু ল্যাপটপ নড়াচড়া করতে হবে খুব সাবধানে
কাজ করা অবস্থায় ল্যাপটপ খুব সাবধানে নড়াচড়া করাতে হবে। কারণ চলন্ত অবস্থায় ল্যাপটপ এ কিছু যন্ত্রপাতি চলতে থাকে। খুব বেশি নড়া চড়া করালে ওগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমন কি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডাটা হারিয়ে যেতে পারে।

move laptop.jpg

৩. সঠিক ভাবে কেবল বা তার  ভাজ করতে হবে
আমরা মনে করি কেবল যেহেতু শুধু মাত্র তার ও রাবার দিয়ে তৈরি, সেহেতু এর কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই।এটা সত্য যে তার কে ভাজ করা যায়, গোল করে রাখা যায় অথবা যে কোন কিছুর সাথে পেঁচানো যায়।কিন্তু যেহেতু ল্যাপটপ এক জায়গা থেক আরেক জায়গায় সহজে বহন করার জন্য তাই এর তার গুলো হয় খুব সরু এবং চিকন।
এজন্য এই কেবল গুলোকে খুব শক্ত করে বাধবেন না বা পেঁচাবেন না।চার্জে দেয়া অবস্থায় জোরে টান দিবেন না। এতে প্লাগ দুর্বল হয়ে যায় এবং চার্জ হতে সমস্যা করে।

cables.jpg

 

৪.সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টাই ল্যাপটপ চার্জ দিয়ে রাখবেন না –
বর্তমানে ল্যাপটপ এ যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তাতে ল্যাপটপ ওভার চার্জ হয় না। কিন্তু, আপনি যদি সবসময় চার্জর কানেক্ট করে রাখেন তাহলে যেই মাইক্রোকন্ট্রোলারটি ব্যাটারি কে ওভার চার্জ হওয়া থেকে রক্ষা করে তা ধীরে ধীরে ডেমেজ হয়ে যাবে। এর ফলে ব্যাটারি গরম হয়ে যাবে এবং ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।

full charge.jpg

৫.ধীরে ধীরে ল্যাপটপ খুলুন এবং বন্ধ করুন
ল্যাপটপ বেশিদিন ভালো রাখতে চাইলে সবসময় ল্যাপটপ টি ধীরে ধীরে খুলুন এবং বন্ধ করুন। কখনই ডিসপ্লে অংশটি ধরে ল্যাপটপ তোলার চেষ্টা করবেন না। কারণ এটা কম্পিউটার এর সবচেয়ে দুর্বল জায়গা। সবসময় ল্যাপটপ তোলার সময় এর মাঝখানের অংশ ধরে তুলবেন।

৬. একটি ল্যাপটপ কুলিং প্যাড কিনে ফেলুন
ল্যাপটপ এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন আমরা যেকোনো জায়গায় তা ব্যাবহার করতে পারি। আমরা অধিকাংশ সময় আমাদের কোলে বা বিছানায় রেখে ল্যাপটপ ব্যবহার করি।
কিন্তু এটা উচিৎ না। কারণ এতে করে ল্যাপটপ এর ভেন্টিলেশন ব্লক হয়ে যেতে পারে। ফলে ল্যাপটপ এর ব্যাটারি গরম হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় একটা কুলিং প্যাড কিনে ফে্লুন।

৭. যেকোনো চুম্বকীয় পদার্থ থেকে ল্যাপটপ কে দূরে রাখুন-
যেকোনো ধরনের হার্ড ড্রাইভে চুম্বক ব্যাবহার করা হয় ডাটা সংরক্ষণ করার জন্য। এজন্য ল্যাপটপ যদি কোন শক্তিশালী চুম্বকের কাছে রাখা হয় তবে হার্ড ড্রাইভের কর্ম ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ডাটা হারিয়ে যেতে পারে। সুতরাং শক্তিশালী চুম্বক থেকে আপনার প্রিয় ল্যাপটপ টিকে দূরে রাখুন।

16289460-pexels-photo-251225-1505931887-650-302d5b4e95-1506938933.jpg

 

৮. চার্জার আন প্লাগ করুন করুন ধীরে ধীরে

অনেক সময় প্রচণ্ড ব্যস্ততার সময় আমরা তাড়াহুড়া করে চার্জর আন প্লাগ করি। এর ফলে কিন্তু প্লাগ এর ক্ষতি হতে পারে এবং ল্যাপটপ এর চার্জিং সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৯. ল্যাপটপ কভার ব্যাবহার করুন
আপনার ল্যাপটপ টি যদি ব্যাগের অন্যান্য জিনিসের সাথে রাখেন, তবে খুব সহজেই ল্যাপটপ এর ভিতরের ছোট ছোট মেশিন গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তাই সবসময় কভার ব্যাবহার করুন। কভার হিসেবে নরম ব্যাগ ব্যাবহার করুন।

১০. ল্যাপটপ এর স্ক্রিন পরিষ্কারে সাবধানী হন
আমরা জানি ল্যাপটপ পরিষ্কার করতে পানি বা কাপড় ব্যাবহার করা যায়  না। মাইক্রো-ফাইবার বা ল্যাপটপ ক্লিনর ব্যাবহার করুন।
স্ক্রিন পরিষ্কারের সময় বেশি চাপ প্রয়োগ করবেন না, কারণ ল্যাপটপ এর স্ক্রিন খুব নরম হয়।

১১. নিয়মিত ল্যাপটপ শাট ডাউন করুন
দিনের যে সময়টা কাজ করেন না সে সময় ল্যাপটপ টি বন্ধ করে রাখুন। সারাক্ষণ চালিয়ে রাখলে হার্ড ড্রাইভ এবং কুলিং ফ্যান ড্যামেজ হতে পারে। আর যদি কিছুক্ষণ পর পর চালানোর প্রয়োজন পরে তবে sleeping mood ব্যবহার করুন।

১২. ল্যাপটপ এর কাছে পানি বা পানিয় জিনিস রাখবেন না
আমরা জানি যে কোন ইলেকট্রনিকস জিনিসের জন্যই পানি ক্ষতিকর। কিন্তু আমরা অনেক সময় ল্যাপটপ এ কাজ করার সময় গরম চা বা কফি খাই। গরম পানিয় ল্যাপটপ এর সংস্পর্শে না এসেও ল্যাপটপ এর ক্ষতি করে। তাই গরম পানিয় ল্যাপটপ থেকে যতটা পারেন দূরে রাখুন।

water laptop.jpg

১৩. স্পেশালিষ্ট এর সাহায্য নিন
সফটওয়্যার কেন্দ্রিক জটিল সমস্যা হলে নিজে নিজে চেষ্টা না করে বরং স্পেশালিষ্ট দেখান। তা না হলে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ ডাটা হারিয়েও যেতে পারে।

১৪. ল্যাপটপ এর  কিছু বিষয়  কখনই হালকা ভাবে নিবেন না

– হার্ড ড্রাইভ যদি খুব ধীরে কাজ করে,

– খুব সাধারণ কাজ যেমন টাইপিং ইত্যাদি কাজ করতে গিয়েও যদি ল্যাপটপ ফ্রিজ হয়ে যায় বা খুব ধীরে কাজ করে।

– প্রায় ই আপনা আপনি রিস্টার্ট  হয়ে যায়।

এগুলো যদি নিয়মিত ঘটে তবে সাবধান হন। তা না হলে কিন্তু নষ্ট হয়ে যেতে পারে আপনার প্রিয় ল্যাপটপটি ।

সুতরাং, মেনে  চলুন এই সাধারণ নিয়মগুলো।  আপনার প্রিয় ল্যাপটপ টির ব্যাপারে একটু সাবধান হলেই, তা ভালো থাকবে অনেকদিন পর্যন্ত।