সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্য

Now Reading
সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্য

বাংলাদেশ খারাপ খেললে খারাপ লাগে।  রাগে দুঃখে মনে হয় অার কখনও বাংলাদেশের খেলাই দেখবো না। শেষমেশ আবার দেশপ্রেম টানের কারণে আবার  অাশায় অাশায় বাংলাদেশের খারাপ খেলার সাক্ষি হয়ে রই। ক্রিকেট খেলা মানে কি শুধু বড় বড় শট খেলার নাম।  সিঙ্গেল, ডট বল বেশি না করে, খারাপ বলগুলোকে বাউন্ডারি করাই তো পেশাধারী ব্যাটসম্যানের গুণ।  অার অামাদের বাঙ্গালী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যেটা দেখা যায়।

আমাদের বাংলাদেশের প্লেয়ারদের মধ্যে একটা জিনিস খুবই ভালভাবে দেখা যায়। সেটা হলো নার্ভাসনেস। যা বাংলাদেশের প্লেয়াররা কখনোই দূর করতে পারে না। আর এর কারণেই আমাদের হারতে হয়। সাথে সাথে ভেঙে পড়ে মন মানসিকতা আর জিতার জন্যে যে প্রবল মনটা দরকার সেটা আর পরবর্তী ম্যাচে পাওয়া যায় না।

আমরা ভালভাবে দেখলে বুঝতে পারবো যে, বাংলাদেশ কখনোই বড় টার্গেটের ম্যাচ জিততে পারে না। তাই বাংলাদেশের শুরু থেকে বড় লক্ষ্যের জন্য রান রেট ৬ এর কাছাকাছি রেখে অাগানো উচিৎ। কিন্তু তা তারা পারে না। যার ফলে আমাদের হারতে হয়। বাংলাদেশ দেশের মাটিতে ভাল করে কিন্তু তাই বলে এটা না যে বাংলাদেশ অনেক বড়।

এখন আসা যাক বাংলাদেশ এবং সাউথ আফ্রিকার সিরিজ প্রসঙ্গে____

নিকট অতীতে সৌম্য, লিটনের মতো এমন অমানবিক তথা খুবই খারাপভাবে সমালোচনা কোনো প্লেয়ারকে সহ্য করতে হয় নি। সৌম্য একদিন স্মিথের মতো খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হবেন। কিন্তু আবারও বলতেছি, দলে আসা নতুন একটা প্লেয়ার নিয়ে সমালোচনা করতে হলে তাকে তার যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। তারা আসলেই একটু বেশি দুর্ভাগা। এজন্য আসলে তাদের ধর্ম দায়ী কিনা আমার আসলেই জানা নেই। প্রসঙ্গ লিটন কুমার দাশ যাকে আমরা ঘরোয়া  লিজেন্ড আবার হিন্দু কোটার প্লেয়ারও বলে থাকি। এই প্লেয়ার সম্পর্কে সবারই কম বেশি নেগেটিভ কথা বার্তা শুনে থাকি। কিন্তু এই প্লেয়ারটাকে আমরা কি ঠিক ভাবে সময় দিছি বলেন। ২ বছরে সে কতগুলো ম্যাচ খেলছে। সে মাত্র ২ বছরে ৬টি টেষ্ট খেলেছে। তাহলে এখন বলা যায় সে কি নিয়মিত খেলতেছে। যেখানে নিয়মিত খেলতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে এই প্লেয়ারটি যতটুকু পারে নিজেরটাই দিয়ে খেলে। আমরা বাঙালীরা তো জাতে মাতাল তালে ঠিক। এটা আর নতুন কি কথা। তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি লিটনকে আরও বেশি বেশি টেষ্ট খেলার সুযোগ করে দেয়া হোক। অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলাম খেলায় আসা যাক_

আমাদের অধিনায়ক আর ম্যানেজম্যান্টের ভুল সিদ্ধান্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় হারের বৃত্তে বন্দি হয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগেও বাংলাদেশ দেশের মাটিতে ছাড়াও বাহিরে বহুবার খেলেছে এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ইডেন-লডর্স , মেলর্বোন-পাল্লেকেল্লে অথবা গাদ্দাফি স্টেডিয়াম সব জায়গাতেই কম-বেশি স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছে টাইগাররা।  ইতিমধ্যে টেষ্টে লজ্জা জনক ভাবে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমটিতে ৩৩৩ রানে হেরেছে এবং  তাও আবার দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ রানের ভেতর বন্দি হয়ে। তার পর দ্বিতীয় ম্যাচে রান ও ইনিংস ব্যবধানে। এগুলা কি মশকারি বলেন।

২০১৭ সালে আমরা ৯ টি টেষ্ট ম্যাচ খেলেছি। এর মধ্যে এশিয়ার বাইরে ৪টি। তারমধ্যে ২টি জয়, বাকি ৭টি ম্যাচ হেরেছি আমরা। আর এই ৯ ম্যাচে আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কোনো সেঞ্চুরিই নেই। এটা নিয়ে আর কি বলবো। অন্যদিকে লোয়ার মিডল অর্ডার এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং পারফরম্যান্স হতাশাজনক ২০১৬ সাল এবং ২০১৭ সাল ধরে।

বোলিংয়ের দিকে চোখ দেন , এই ৯ টেস্টে সাকিব ২ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন। বাকিদের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য না। একা সাকিব কি টেষ্ট খেলে। এই যদি হয়  টেস্ট টিমের পুরো বছরের পারফরম্যান্স, তাহলে আপনাকে মানতেই হবে টেস্ট টিম হিসেবে আপনার টিম মোটামুটি ভালো অবস্থানেও নেই।

প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ইনজুরিতে পড়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে পারেননি টাইগার দলের পরীক্ষিত ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ওয়ানডে সিরিজের পূর্বে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও সাইড বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন তিনি। এমনকি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও দলে ছিলেন না এই ওপেনার। আর শেষ অবদি তাকে আর মাঠে দেখাও গেল না। আর তার অনুপস্থিতে কি আমাদের ওয়ানডেতে হোয়াট ওয়াশ হতে হলো।

আর একটা কথা  মুমিনুল, মাহমুদুল্লাহ, কায়েস, তাসকিন আপনাদের প্রিয় খেলোয়াড়, তাই অতি জঘন্য পারফরম্যান্স করলেও তাঁদের আপনারা দলে চাইবেন। তাদের বিন্দুমাত্র সমালোচনাও করবেন না। কিন্তু দলে নতুনরা খারাপ অথবা একটু খারাপ করলেও তাদের নিয়ে সমালোচনা করবেন, ট্রল বানাবেন, সাম্প্রদায়িক আচরণ করবেন। এটা কেমন আচরণ? আবার এমন কিছু বর্বর আছে, যারা প্লেয়ারদের পরিবার তথা মা-বাপ তুলে গালি দিতেও ছাড়ে না। সবাইকে এটা পরিহার করার জন্যে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

তবে এতো কিছুর পরও বাংলাদেশের প্লেয়ারদের কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য রয়েছে যা দেয়া হলো_

ওয়ানডে তে সবচেয়ে কম ম্যাচে (১৭৮) ৫ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের রেকর্ড গড়ে সাকিব পেছনে ফেলেছেন জ্যাক ক্যালিস-সনাৎ জয়াসুরিয়াদের মতো কিংবদন্তিদের। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট পেয়েছেন অনেক আগেই, প্রোটিয়াদের বিপক্ষে হোম সিরিজে। কিন্তু ৫ হাজার রান করতে অপেক্ষা করতে হলো দুই বছর। 

ওয়ানডে তে দ্রুততম ৫ হাজার রান ও ২০০ উইকেট
ম্যাচ রান উইকেট
সাকিব ১৭৮ ৫০১২ ২২৪
ক্যালিস ২২১ ৭৭০৩ ২০০
জয়াসুরিয়া ২৩৫ ৬৬০১ ২০০
আফ্রিদি ২৩৯ ৫০৭১ ২০১
আবদুল রাজ্জাক ২৫৮ ৫০৪০ ২৬৩

অধিনায়কত্ব ছাড়া রিলাক্সে  খেলে দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিককের অর্জন ১১০ রান মাত্র ১১৬ বলে ।

টেষ্ট সিরিজ+ওয়ানডে তে হোয়াই ওয়াশ পর আশা করছি বাংলাদেশ টি-২০ তে একটি ম্যাচ অন্তত জিতার আশা রাখে যদিও প্রতিটি প্লেয়ারদের মানসিক অবস্থা এখন বেশি ভাল না। লজ্জাজনক ভাবে হারার পর তাদের মন ভেঙে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তবুও আমরা বাঙালীরা বেশি ইমোশনাল আর প্র্যাক্টিক্যালি কম বুঝি। তাই বাংলাদেশের কাছে এতটূকু আশা করাই যায়।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নতির ইতিহাস

Now Reading
বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নতির ইতিহাস

বাংলাদেশ বর্তমানে ক্রিকেটে ভালই উন্নতি করেছে। অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বর্তমানে খুব ভাল বল করছে। অন্য দিকে সাকিবের সাথে স্পিনার হিসাবে ভালই করছে মেহেদী মিরাজ।  টেষ্ট ক্রিকেট ভালই খেলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তাই  অনকে খেলায় তার দুর্দান্ত ব্যাটং দেখে মুগ্ধ হতে হয়। যা হোক বাংলাদেশকে জিততে হলে যা করতে হবে বলি, বাজে শর্ট খেলা যাবে না, যার ফলে ক্যাচ আউটের সম্ভনা থাকে। ব্যাট করার সময় পার্টনারকে সাপোর্ট দিতে হবে এবং তাকে সতর্ক করতে হবে যেনো কোন অবস্থাতে দ্রুত রান করার জন্য অপজিট স্ট্যাম্প থেকে আগেই দৌড় না দেয়।

মেহেদী মিরাজ বলিং এর পাশাপাশি ব্যাটও ভালই করে।  খেলায় ভাগ্য ভাল ও হয় আবার খারাপও হয় সবারই  তবে  সবচেয়ে ভাল খেলে মুশিফিকুর রহিম এবং সে জিনিয়িাস একটি প্লেয়ার। মাঝমোঝে সাব্বির কোন একটি শর্টে ভুল করে বসে তবে বড় কথা হল  সে ভাল খেলে। অষ্ট্রেলিয়ার সাথে খেলায় দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বল কোথায় যায় না দেখেই দৌড়াতে শুরু করে কিন্তু বল গিয়ে ব্যাটিং স্ট্যাম্পের অপজিট স্ট্যাম্পে গিয়ে লাগে এবং সে আউট হয়। আউটটা দেখার মত। যা হোক বাংলাদেশ যা ভুল করেছে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাক তাই আমরা চাই। বাংলাদেশ অনেক কিছু ইতোমধ্যে শিখেছে এবং আরো শিখতে হবে। গতবারের খেলায়,   অষ্ট্রেলিয়া যখন ব্যাটিং শুরু করে তখন সৌভাগ্য জনক ভাবে একটি উইকেটও পেয়ে যায়  বাংলাদেশ । গুড জব বাংলাদেশ, মনে হচ্ছে বাংলাদেশ জিতবে।

মেহেদী ১ম বারের মত তখোনো মানে ডে ২ তেও  ভালই বল করছে। আউট হতে হতে হচ্ছে না। হঠাৎ দেখি সবাই খুব উচ্ছসিত, কি ব্যাপার দেখিতো। যা হোক দেখলাম অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দুই হাত দুইদিকে প্লেনের মতো দেখাতে দেখাতে সামনে দৌড়াচ্ছেন তার মানে বাংলাদেশ ২য় উইকেট শিকার করল, অজি ব্যাটস ম্যানদের হতাশ মনে হলো। বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ার রান এসেছে মোট ২৮ এবং ২ টি উইকেট তাদের হারাতে হয়েছে। ডেভিড ওয়ার্নার এবং স্মিথ খেলছেন। স্মিথ নতুন নেমেছে ব্যাটিং করার জন্য। মুশফিক একটি স্ট্যাম্প আউট করার সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তা হয়ে উঠে নাই। ডেভিড ওয়ার্নার ভাল রান করতে পারেন । কাজেই বাংলাদেশের এখন টার্গেট ওয়ার্নারকে আউট করা।

যেটা অনেকটা কঠিন কাজ কারন অজিরা বাংলাদেশে বলিং কৌশল প্রায় বুঝে ফেলেছিল। অষ্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেটের পতন হলেও ভয় আছে, কারন তারা যেকোন সময় দাবার গুটি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।  সেটা ছিল তখনকার সময়ের বর্তমান চিত্র কিন্তু সে চিত্র বাংলাদেশের বোলাররা যেকোন সময় পরিবর্তন করতে পারে। টেষ্ট ক্রিকেটে রানের থেকে উইকেট এর গুরুত্ব অনেক বেশী। সেই দিনকার খেলা কোন দিকে গড়ায় সেটা বুঝা মুশbangladesh-england-pictured-rahman-celebrates-taking-teammates_a2f70eba-49b0-11e7-88f6-6a3facb665a5.jpgকিল তবে ওয়ার্নার যতক্ষন আছে ভয় তত বাড়ছে। অনেকটা ভয়ংকর হয়ে উঠছেন ডেভিড ওয়ার্নার। তার ব্যাক্তিগত রান এখন ৫০।

মোস্তাফিজ মাঝে মাঝে ভাল খেলে । সে বল করছে কিন্তু কি কারনে যেন সেই সময়ে  কাজ হচ্ছিল না। আসলে তারও পারফরম্যান্স ততটা ভাল হচ্ছেল না যদিও পরের খেলায় সে ঘুরে দাড়ায়। বর্তমানে বাংলাদেশের যে কয় জন প্লেয়ার আছেন তার মধ্যে তামিম, সাকিব, সাব্বির এবং মুশফিক এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তুলনামূলক ভাবে ভাল ব্যাট করে। শুধু তাই নয় তাদের এই সাহসীকতার কারনে অনেক সময় ম্যাচ ও জিতে যায়।

যাহোক আমি  আর্টিকেল লিখছি  ৩০ আগষ্ট ২০১৭ ইং সকাল ১০ঃ৩০ মিনিট এর সময়কার কথা।  ডেভিড ওয়ার্নার তখন ৯৯ রান করে ফেলেছে এবং স্মিথ করেছ ২৯ রান।  তার কিছুক্ষণ পরেই দেখি ওয়ার্নারের একটি চার এর মার এবং সাথে সাথে ওয়ার্নার লাফিয়ে উঠে হেলমেট খুলে এবং ব্যাট ঘুরিয়ে জানান দিল তার ১০৩ রান হয়েছে। আর তারা বুঝেছিল তাদের আর  হারানোর চিন্তা ও করতে পারবে না। অবশ্য তখনও বলা যাচ্ছিল না শেষ পর্যন্ত কি হয় এবং সিদ্ধান্ত হবে আসলে সেদিনের বাংলাদেশের বোলিং পারফরম্যান্সের উপর। সবার একটি জিনিস খেয়াল করছেন, সেই দিন  কিন্তু আকাশে আর মেঘ নেই। তার মানে বৃষ্টি হবে না। সেই  সকালে  আমরা দেখলাম আকাশে কটকটা রোদ।  প্রথম দিকে যেভাবে ভাবছিলাম বাংলাদেশ জিতবে কিন্তু এখন মনে হচ্ছে হারতে যাচ্ছে বাংলাদেশ । ওয়ার্নার এবং স্মিথ দুরন্ত গতিতে ব্যাট চালাচ্ছেন।  মেহেদী মিরাজ চেষ্টা করছেন উইকেট নেয়ার কিন্তু সফল হতে পারছেন না। এর কারন হিসাবে আমার মনে হয় তারা আমাদের বোলিং কৌশল ধরে ফেলেছেন, তাই নতুন করে আর কোন ভুল তারা করছেন না। খুব সতর্ক হয়ে খেলছেন। সাকিবের বলে মুশফিক স্ট্যাম্প আউট করার চেষ্টা করছেন। কারন বাংলাদেশের বোলারদের এখন টার্গেট যেভাবে হোক উইকেট নেওয়া।

তাই তাদেরকে ভাল বোলিং করার পাশাপাশি স্ট্যাম্প আউট, ক্যাচ আউট, রান আউট ইত্যাদীতে মনোযোগ দিতে হবে। এই মাত্র ডেভিড ওয়ার্নার আউট হয়েছেন ১১২ রান করে। সাকিব আল হাসানের বলে তিনি এলবিডব্লিউ হন। সেই দিনের খেলায় যদি অষ্ট্রেলিয়ার কয়েকটি উইকেট পড়ে যায় তাহলেই একমাত্র সম্ভব হতো বাংলাদেশের ম্যাচে ঘুরে দাড়ানোর এছাড়া সম্ভব না। যাহোক শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়। দুই অধিনায়ক ট্রফি ভাগাভাগি করে নেন। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিততে পারে নি তবে বাংলাদেশ ভাল খেলে প্রথম বার জিতেছে এবং পরের বার হেরে খেলা ড্র হয়।

বাংলাদেশের সমর্থকঃ পজেটিভ ও নেগেটিভ

Now Reading
বাংলাদেশের সমর্থকঃ পজেটিভ ও নেগেটিভ

বাংলাদেশে আজকের দিন হিসাব করলে কমপক্ষে ১৮ কোটি মানুষের বাস। প্রতিটা দেশেই কমবেশি বিভিন্ন খেলাধুলা থাকে। অবশ্য প্রতিটা খেলাই যে দর্শকদের মন আকর্ষণ করে তা নয়। একেক শ্রেণীর মানুষ এক এক খেলার প্রতি আকৃষ্ট থাকে। আমাদের দেশে যেসব খেলাধুলার অফিশিয়াল প্রতিষ্ঠান আছে অর্থাৎ যেসব খেলার সাথে আমাদের দেশের মানুষ সম্পৃক্ত, সেগুলো হলো ক্রিকেট,ফুটবল,হকি,কাবাডি,ব্যাডমিন্টন,হ্যান্ডবল,দাবা,গল্ফ ইত্যাদি। আবার এথলেটিক্সও আছে।

তবে এর মধ্যে সব খেলায় আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা ভালো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সবগুলো খেলা আমাদের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় না। এরমধ্যে আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ক্রিকেট। আমাদের দেশে ক্রিকেটের দর্শক ও সমর্থকের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কারণ আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান দেখলেই তা বোঝা যায়। আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট পাগল দেশ, এটা আমরা সবাই জানি। সারা ক্রিকেট বিশ্বই জানে যে বাংলাদেশের মানুষ কতটা ক্রিকেট পাগল। ছোট ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী,যুবক-যুবতী,এমনকি বৃদ্ধারাও এখন ক্রিকেটপ্রেমী। যদি কখনো বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ থাকে, তো সেদিন মানুষের সব কাজ বন্ধ। সবাই এক কাতারে টিভির সামনে।

সে যত বড় কাজই হোক। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলে সেটা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতেই হবে। কারণ আজ তার পছন্দের দলের খেলা। আমাদের দেশের মানুষ এতটাই ক্রিকেটপ্রেমী, যে আমাদের দেশের মানুষ যদি বিকালে অবসর সময় পায় তো ক্রিকেট খেলেই কাটায়। আমরা প্রায় সবাই আমাদের দেশকে প্রতিটা খেলায় সমর্থন করি। সেটা মিরপুরে খেলা হলেই বোঝা যায়। গ্যালারি কানায় কানায় ভরা থাকে সাকিব-তামিমদের খেলা দেখার জন্য। পুরো স্টেডিয়াম হাউজফুল হয়ে যায়। খেলার আগে টিকেটের জন্য পড়ে লম্বা লাইন। টিকেট বিক্রি করতে গিয়ে কতৃপক্ষ প্রায়ই বিভ্রান্ত হয় এটা আমরা প্রায়ই দেখি। কেউ কেউ উত্তরবঙ্গ, কেউ আবার দক্ষিণবঙ্গ থেকে খেলা দেখতে ছুটে যায় ক্রিকেটের টানে। সিলেট,বরিশাল,চট্টগ্রাম থেকেও ছুটে আসে অনেকে। লম্বা লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে মহামূল্যবান সোনার হরিণ এর ন্যায় একটা টিকেটের জন্য। এমন অনেক সময়ই দেখা যায় যে, কেউ কেউ ভোর ৪টা কিংবা ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে যাতে টিকেট ফুরাবার আগেই সংগ্রহ করতে পারে। টিকেট হাতে পেলে মনে হয় সে যেন সোনার হরিণ পেয়েছে। অনেকে টিকেট না পেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কালোবাজার থেকে টিকেট কেনে তার প্রিয় দলের, প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখার জন্য। আর যারা টিকেট শেষ পর্যন্ত পায়না, আক্ষেপে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরে। কেউ আবার ক্ষোভও ঝাড়ে। কতটা ক্রিকেটপ্রেমী আমাদের দেশের সমর্থকরা!

আমাদের দেশের সব সমর্থকের মনোভাবই যে এক, তা মোটেও না। আমার দৃষ্টিতে আমি আমাদের দেশে তিন শ্রেণীর সমর্থক দেখতে পাই। তা হলো বুঝবান সমর্থক, অবুঝ সমর্থক আর হলো প্রেমিক সমর্থক। আগে প্রেমিক সমর্থকের ব্যাপারটা পরিষ্কার করি। প্রেমিক সমর্থক হচ্ছে তারা, যারা খেলাটা খুব একটা বেশী দেখেনা, তেমন বোঝেও না, কাওকে খুব একটা চিনেনা তবে কখনো কারো সমালোচনা করেনা এবং সবাইকে খুব ভালোবাসে। এ ধরনের সমর্থকেরা একা একা খেলা দেখেনা, তবে যখন কেউ খেলা দেখে,তার সাথে বসে খেলাটাকে বেশ উপভোগ করে। এরা খেলা দেখার সময় তেমন কথা বলেনা। অন্যান্য দর্শকেরা যখন সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে, তখন এরা সেই সমালোচনা শুনতে থাকে এবং তা থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করে। এবার আসি বুঝবান সমর্থকদের ব্যাপারে।

মূলত এসব সমর্থকেরা কট্টর সমর্থক হয়ে থাকে। এরা অনেক ছোটবেলা থেকে খেলা দেখে। তবে সবাই যে ছোটবেলা থেকে খেলা দেখে বলেই বুঝবান সমর্থক তা কিন্তু নয়। বুঝবান সমর্থক হতে গেলে একটা খেলার বিভিন্ন সূক্ষ্ম বিষয় গুলোতেও জ্ঞান অর্জন করতে হয়। না বুঝে কোনো ডিসিশনে যারা উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলা শুরু করে, তাদেরকে আর যাই হোক, বুঝবান সমর্থক বলা যায়না। একটা সমর্থককে তখনই বুঝবান বলা হয়, যখন সে তার প্রিয় দলের যেকোনো ডিসিশনকে সম্মান করে।

দলের যেকোনো বিপর্যয়ে ধৈর্য ধারণ করে। দলের বিপর্যয়ে কখনো দল সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলেনা। এরা খেলাটাকে বিশ্লেষণ করতে জানে। তবে আমাদের দেশের মানুষের আবেগ একটু বেশিই। আমাদের দেশে কিছু সমর্থক আছে যারা স্রোতে গা ভাসানোর মতো সমর্থন করে। অর্থাৎ দল ভালো খেললে প্রশংসায় ভাসায়,আর দল একটু খারাপ করলেই সমালোচনা করতে তাদের এক মুহূর্ত সময় লাগেনা। কিছু সমর্থক বলব না, ম্যাক্সিমাম বাংলাদেশী সমর্থকদেরকেই এরকম আচরণ করতে দেখা যায়। এরা দল ভালো করলে,দলের কোনো খেলোয়াড় ভালো করলে তাকে নিয়ে যায় সর্বোচ্চ উচ্চতায়। মনে করেন,সাব্বির বা সৌম্যের মতো উদীয়মান তারকারা একটা সেঞ্চুরি হাঁকালেই তাকে রিকি পন্টিং বা টেন্ডুলকারের কাতারে পাঠাতে খুব একটা বেশি সময় নেয় না। আবার যারাই গতদিন এরকম পারফর্ম করেছিলো, তারাই যদি কোনো পারফর্ম করতে না পারে তাহলে তাদের নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলতে তাদের একটুও বাঁধেনা। তাদেরকে পাড়ার খেলোয়াড় বানিয়ে দেয়। পরের ম্যাচে তাদেরকে একাদশে দেখলেই দল নির্বাচককে গালি দেওয়া শুরু করে। তখন বলে, সোম্যকে বা সাব্বিরকে কেনো দলে নেয়?

তাদের চিন্তাধারা এত কমে যায় যে তখন তারা ওপেনিং ব্যাটসম্যান এর জায়গায় মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে জায়গা দিতে সম্মতি জানায়। একটা কথা বলি, কোনো খেলোয়াড়ই সেচ্ছায় খারাপ খেলে না। খেলাটা অত সহজ না। তারা কঠোর পরিশ্রম করে যোগ্যতা দিয়েই এ পর্যায়ে গেছে। তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়া নির্মম ব্যাপার। তারা দেশের জন্য ১০০% ই দেওয়ার চেষ্টা করে। আপনি ভাবুন তো, আপনি ওর পর্যায়ে কি যেতে পারছেন? পারেননি। তাহলে তো আপনি তার সমালোচনা করার যোগ্যতাই অর্জন করেননি। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, বাইরের দেশের সমর্থকেরা কোনো দলের বিপর্যয়েও তাদের পাশে থাকে। প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচেও তার দলের কোনো খেলোয়াড় কোনো কিছু অর্জন করলে তাকে সাদুবাদ জানায়। কিন্তু আমরা কি করি? বিভিন্ন ধরনের ভুল ধরতে থাকি। টিম সিলেকশন ঠিক ছিল না, এই প্লেয়ারকে কেনো নিয়েছে, এ কিছুই খেলতে পারেনা ইত্যাদি। একটা জিনিস দেখেন, সোয়েব আলিকে নিশ্চয় চিনেন যদি আপনি সত্যিই বাংলাদেশের সমর্থক হয়ে থাকেন। সে তার সব কিছু ত্যাগ করে নিঃস্বার্থে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সমর্থন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ দল জিতুক বা হারুক, সে সবসময় পাশে আছে। দল জিতলে বাঘের মতো গর্জন করে দলকে উজ্জীবিত করে, হারলে তাৎক্ষণিক কেঁদে মনকে শীতল করে “এবার হবে” বলে দলকে উৎসাহ জোগায়। পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাংলাদেশের খেলা থাকুক না কেনো, সোয়েব আলি হাজির। সমর্থক যদি হয়েই থাকেন, তো সোয়েব আলির মতো হোন। আমাদের খেলোয়াড়েরাও কিন্তু তার দেশকে ভালোবাসে,তার জান-প্রাণ উজার করে দেয় দলকে জেতাতে। তাদেরকে ভালোবাসুন। উপভোগ করুন প্রিয় দলের খেলাকে।

বিপিএল এবং আমাদের আক্ষেপ!

Now Reading
বিপিএল এবং আমাদের আক্ষেপ!

04_BPL2+1st+Semi+Final+Dhaka+vs+Sylhet+Gayle+bat+150213.jpg

 

বিপিএল আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াআসর।আইপিএলের আদলে ২০১২ থেকে হয়ে আসছে বিপিএল।শুরু থেকেই একে নিয়ে অনেক বিতর্ক  ছিল।বিপিএল হতে আমাদের কিছু প্রাপ্তি থাকলেও আক্ষেপও আছে অনেক।প্রথমেই বলতে চাই কিছু প্রাপ্তির কথা বিপিএল পরবর্তী বাংলাদেশ এর যে পারফরমেন্সে উন্নতি হয়েছে তাতে বিপিএলের ও যথেষ্ট অবদান রয়েছে।বিপিএল থেকেই আমরা পেয়েছি সাব্বির রহমান,মমিনুল হকের মতো প্লেয়ার।বিপিএলের ফলে আমাদের তরুন খেলোয়াড়েরা বিদেশি প্লেয়ারদের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে পাচ্ছে যার ফলে তারা অনেক কিছু শিখতে পারে যা তারা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাজে লাগাতে পারে।তারপরও যে আসর হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেট ব্র্যান্ডিংয়ের কেন্দ্রবিন্দু, তার গায়ে কাল দাগ কেন? কেন এত আক্ষেপ এবং অপূর্ণতা।দুঃখজনক হলেও সত্য, ‘বিপিএল’ ‘বিতর্ক’ আর ‘অনিয়ম’ প্রায় পাশাপাশি। প্রথম আসর থেকে সেই যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা বন্ধ হয়নি। বিপিএলের প্রাপ্তির মধ্যে রয়েছে অনেক আক্ষেপ।তেমনই কিছু আক্ষেপ হলঃ

১.ভেন্যু স্বল্পতাঃ বিপিএলে শুরু থেকেই খেলা হয়ে আসছে ২ কিংবা ৩টি মাঠে এরচেয়ে বেশি মাঠ কখনই ব্যাবহার করা হয়নি।তাই বিপিএল কে সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি।প্রতিবারই বিপিএল হয় ঢাকা,চট্টগ্রামে।মাঝেমধ্যে এদের সাথে যুক্ত হয়েছে খুলনা বা সিলেট স্টেডিয়াম কিন্তু কখনই বিপিএল হয়নি হোম অ্যান্ড এ অ্যাওয়ে ভিত্তিতে অথচ বিশ্বে অন্য যেসব টুর্নামেন্ট রয়েছে যেমনঃআইপিএল,সিপিএল,বিগ ব্যাশ এরা সবই হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে হয়।এইকারনেই বিপিএল এর প্রথম দিকে অনেক দর্শক হলেও পরে দর্শক সংখ্যা কমে যায় যেকারনে প্রতিবারই বিপিএল এর প্রথম দিকে টিকেটের চওড়া মূল্য থাকলেও পরে দাম অর্ধেক এ নেমে আশে ।কিন্তু খেলা যদি সারা দেশে হত তাহলে এরকম কখনই হত না ।একি মাঠ এ অতিরিক্ত ম্যাচ খেলানোর ফলে বিপিএল এ আমাদের অনেক লো স্কোরিং ম্যাচ প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে।এই বছরও খেলা হবে শুধুমাত্র ৩টা স্টেডিয়ামে।তাই এই বছর ও হয়ত এইরকম কিছু হতে পারে।

২.ব্রডকাস্টিং ইস্যুঃবিপিএল এর প্রথম দুই আসর এ মোটামটি ভাল ভাবেই সম্প্রচার করেছিল চ্যানেল নাইন কিন্তু গত দুই আসর ধরে তাদের সম্প্রচার নিয়ে নানারকম প্রশ্ন উঠেছে কারন তাদের নিম্নমানের ক্যামেরাব্যাবহার,প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ক্যামেরার সংখ্যা না হওয়া।গত আসর এ প্রথম দিকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ছিল যেমনঃজিং বেল থাকবে কিন্তু শুধুমাত্র কয়েক ম্যাচ বাদে সেই বেইল আর দেখা যাইনি।আর সবথেকে বড় যে ইস্যু হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন।তাদের বিজ্ঞাপন দেয়ার মাত্রা এতই বেশি ছিল যে দর্শকরা রীতিমত অতিষ্ঠ ছিলেন।ওভার শেষে তো বটেই তারা তো খেলা চলাকালীন অবস্থায় ও বিজ্ঞাপন দিয়েছিল।যদিও এবার সম্প্রচার সত্ত্ব আছে জি টিভির কাছে তাই আশা করা যায় এবার ভালরকম সম্প্রচার দেখা যাবে।

৩.ফিক্সিং কেলেঙ্কারিঃ বিপিএলের প্রথম আসরে এইরকম কোন বিতর্ক না হলেও দ্বিতীয় আসরেই ধরা পরে ফিক্সিং কেলেঙ্কারি যার ফলে নিষিদ্ধ হতে হয় আমাদের জাতীয় দলের অন্যতম খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আশরাফুল।এছাড়াও নিষিদ্ধ হয় প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস।এর ফলে বিপিএল এক বছর বন্ধ দিয়ে আবার নতুন করে শুরু হয় ২০১৫ সালে।

৪.পেমেন্ট ইস্যুঃগত আসরের পেমেন্ট নিয়ে তেমন একটা বিতর্ক না হলেও এর আগের ৩ আসর নিয়ে ছিল অনেক বিতর্ক।অনেক প্লেয়াররাই তাদের পেমেন্ট ঠিকমত পাননি কেউ পেয়েছেন অর্ধেক,কেউবা একটু বেশি পেয়েছিলেন কেউ পেয়েছিলেন তার চেয়েও কম।এই সমস্যার জন্য বিসিবি ৩য় আসর থেকে প্লেয়ারস ড্রাফ্‌ট শুরু করে।

৫.নিম্নমানের বিদেশি প্লেয়ারের সমারোহঃবিপিএলের প্রথম দুই আসরে মোটামটি ভালমানের বিদেশি প্লেয়ার আসলেও তৃতীয় আসর থেকে এখন পর্যন্ত বিপিএল শুধুমাত্র কয়েকটি দল ব্যতীত প্রায় প্রতিটি দলই পাকিস্তান , শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিম্নমানের প্লেয়ার দিয়েই চলছে।কিন্তু এবারের বিপিএল এ দলগুলো অনেক ভাল খেলোয়াড়দের নিজের দলে নিয়েছে।তাই আশা করা যায় এবার বিপিএলটা হয়ত আগের চেয়ে ভাল হবে।

৬.বিদেশি প্লেয়ার কোটা বিতর্কঃ এবছর বিদেশি প্লেয়ার খেলানোর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করেছে বিসিবি,যেখানে আগে একাদশে খেলতে পারত শুধু ৪ জন বিদেশি প্লেয়ার সেখানে এই বছর খেলতে পারবে ৫ জন।তাই এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক কারন একজন বিদেশি প্লেয়ার যদি বেশি খেলে তবে আমাদের দেশের একজন ক্রিকেটার সুযোগ পাবেনা তার ফলে হয়ত আমাদের দেশের তরুন খেলোয়াড়েরা নিজেদের প্রমানের সুযোগ কম পাবে। তাই বিদেশি প্লেয়ারের সংখ্যাবৃদ্ধিকে কেউ ভাল চোখে দেখছেনা।

বিপিএলের গত আসরগুলো নিয়ে নানারকম বিতর্ক থাকলেও বিপিএল এই বছর অনেক ভাল একটা টুর্নামেন্ট উপহার দিবে বলে আশা করি।হয়ত এইবার আমরা আন্তর্জাতিক মানের একটা টুর্নামেন্ট দেখতে পারব কারন এইবার প্রতিটা দলই অনেক ভাল প্লেয়ার নিয়ে মাঠে নামবে।এইবার হয়ত বিসিবি আমাদের একটা বিতর্কহীন,জমজমাট বিপিএল উপহার দিতে পারবে।

ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করতে আইসিসির নতুন নিয়ম কানুন

Now Reading
ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করতে আইসিসির নতুন নিয়ম কানুন

gn.jpg

খেলাধুলার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় যে খেলা, তা হল ক্রিকেট। ক্রিকেট নিয়ে মানুষের মাঝে উত্তেজনার কখনো কমতি হয়না। পরিবর্তনের পথে ক্রিকেট,এমন কথা যেন অনেক দিন ধরেই শুনে আসছিলেন খেলাটির সাথে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যারা নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন তারা তো নানা ভাবনাও ভেবে রেখেছেন। তবে পরিবর্তনটা সময়ের প্রয়োজনে কিনা সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। সময়ের প্রয়োজনে যুগে যুগে সব ধরনের অবকাঠামোতেই আসে পরিবর্তন। মাঠের খেলা ক্রিকেটও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে পরিবর্তনটা সময়ের প্রয়োজনে কিনা সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। সময়ের প্রয়োজনে যুগে যুগে সব ধরনের অবকাঠামোতেই আসে পরিবর্তন। মাঠের খেলা ক্রিকেটও এর ব্যতিক্রম নয়। এক সময় টেস্ট খেলা হত যার কোনো নির্দিষ্ট সময় বাধা ছিল না। এরপর একসময় তা বেধে দেয়া হয় সময়ের বেড়াজালে। সেই সময় কমতে কমতে এখন পাঁচ দিনে এসে ঠেকেছে। তেমনি ৬০ ওভারের একদিনের ক্রিকেটও এখন অতীত। আর হালের টোয়েন্টি-২০ তো আছেই। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সাথে পারস্পারিক ক্রিকেট আয়োজনেই আছে অনেক নিয়ম-কানুন। ক্রিকেটে আগের নিয়মের সংস্কার ও বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।১ অক্টোবর থেকে ক্রিকেটে বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। নতুন নিয়মে ব্যাটের দৈর্ঘ ও প্রস্থের সীমাবদ্ধতা আসছে। এছাড়া মাঠে বাজে আচরণের কারণে খেলোয়াড়কে লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করার অধিকার পাবেন আম্পায়ার। ডিআরএস সিস্টেমেও পরিবর্তন আসছে।

আসুন জেনে নেই সেই নিয়মগুলোঃ

ICC-Review-Cricket-Bat-Size-Laws-Feature.png

ব্যাটের আকার: অনেক খেলোয়াড়ই তার নিজের পছন্দ মত ব্যাট দিয়ে ব্যাটিং করে থাকেন। যার ফলে তারা একটু বেশী সুবিধা আদায় করে নিতে পারতেন। কিন্তু এখন থেকে আর ব্যাটসম্যানদের ইচ্ছামত ব্যাট ব্যবহার করতে পারবেনা। ব্যাট এবং বলের আকারে সমন্বয় করতে নির্দিষ্ট একটি আকার ঠিক করে দিয়েছে আইসিসি। এখন থেকে কোনও খেলোয়াড়ের ব্যাটের প্রস্থ ১০৮ মি.মি’র বেশি হতে পারবে না। ব্যাট পুরু হবে সর্বোচ্চ ৬৭ মি.মি। কানা পর্যন্ত পরিমাপ ৪০ মি.মি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাটের প্রস্থ ১০৮,পুরু ৬৭ ও কিনারা হবে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিমিটার।

out.jpg

ডিআরএস: স্টেম চালু হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক ছিল, যা চলমান আছে। ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) এ পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে আম্পায়ার্স কলের বিপরীতে রিভিউ ডেকে কোনও দল হেরে গেলে তাদের নির্ধারিত রিভিউটি নষ্ট হবে না। তারা আরেকবার রিভিউ নিতে পারবে। যেহেতু ‘আম্পায়ার্স কল’র ক্ষেত্রে মাঠের সিদ্ধান্ত উল্টো হলেই রিভিউ সঠিক হয়ে যেত, সেক্ষেত্রে রিভিউটি বাতিল হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তাই রিভিউতে সফল হলে তাদের নির্ধারিত রিভিউটি অক্ষত থাকবে। বর্তমান নিয়মানুযায়ী, টেস্টের প্রথম ৮০ ওভারে প্রতিটি দল দুটি করে রিভিউ নিতে পারে। ওডিআইতে ইনিংসে একটি করে। নতুন নিয়মে প্রতি ৮০ ওভারে নতুন দুটি রিভিউ পাওয়ার নিয়মটা বাতিল হয়ে পুরো ইনিংসেই শুধু দুটো রিভিউ থাকবে। এখন থেকে টি-টুয়েন্টিতেও রিভিউ পদ্ধতি চালু হবে। আগে টি-টুয়েন্টিতে এই নিয়ম ছিলনা।

জরিমানাঃ খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত আবেদনের ব্যাপারেও আসছে নিয়ম। এমনটা হলে প্রথমে খেলোয়াড়কে আম্পায়ার সতর্ক করে দিবেন। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করা হলে তাদের পাঁচ রান করে জরিমানা করতে পারবেন আম্পায়ার। প্রতিপক্ষ কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ইচ্ছা করে ধাক্কা খেলে বা কারো দিকে বল ছুড়ে মারলেও পাঁচ রান জরিমানা করা হবে।

red card in cricket.jpg

খেলোয়াড় বহিষ্কার বা লাল কার্ড: আর এক জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের মতো শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের বিষয় সেভাবে নেই ক্রিকেটে। কিন্তু স্লেজিং ও অন্যান্য বাজে আচরণের ঘটনা প্রায়ই ঘটতে দেখা যাচ্ছে ক্রিকেট মাঠে। কেউ সে রকম শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে এতদিন সেই শাস্তিটা দেওয়া হতো খেলার পর। যা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থেকে যেত। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে মাঠেই খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন আম্পায়াররা। খারাপ আচরণ করা কোনো খেলোয়াড়কে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আম্পায়ারদের হাতে। সেই দলের অধিনায়ক যদি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে না নেন,তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই জয়ী ঘোষণা করা হবে প্রতিপক্ষ দলকে। আর দুই দলের অধিনায়কই যদি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন,তাহলে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণার অধিকারও থাকবে আম্পায়ারের।

out2.jpeg

রানআউট: এছাড়া রান নেয়ার সময় ব্যাটসম্যান নিরাপদে ক্রিজ পার হওয়ার পর আবারও যদি তাঁর ব্যাট এবং শরীর- দু’টোই শূন্যে ভেসে ওঠে আর এই সময় তার স্টাম্প ভেঙে দেয়া হয় তাহলে ব্যাটসম্যান আউট হবে না। একবার ক্রিজ পার হলেই ব্যাটসম্যান তখনকার মতো নিরাপদ হয়ে যাবে। সম্প্রতি এমন ঘটনায় বেশ কয়েকজন ব্যাটস্যমান আউট হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তবে এবার সেটা বন্ধ হতে যাচ্ছে।

out1.jpg

মানকড় আউট: বোলার বোলিং করার সময় নন-স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান উইকেট থেকে বেরিয়ে এলে তাঁকে রানআউট করতে হলে বোলারকে আগে ক্রিজে ঢুকতে হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ক্রিজে না ঢুকেই বোলার ওই ব্যাটসম্যানকে রানআউট করতে পারবেন। তাই ব্যাটসম্যানদের আরও বেশী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে ও বোলারদের আরও বেশী কৌশলী হতে হবে।

  • বল ডেড হওয়ার আগে ব্যাটসম্যান হাত দিয়ে বল ধরলে ফিল্ডারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ‘হ্যান্ডল দ্য বল’আউট দেওয়া হতো। এই আউট থাকছে। তবে তার নাম হচ্ছে ভিন্ন। সামনে থেকে এটাকে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’হিসেবে অভিহিত করে আউট দেয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন নিয়ম গুলি চালু হলে ক্রিকেট খেলা আরও বেশী আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতা মূলক হয়ে উঠবে, যা দর্শক সহ সকল মহলের জন্য উপভোগ্য হবে। এখন দেখার বিষয় আসলেই নতুন নিয়ম গুলো ক্রিকেটের আকর্ষণ বাড়াতে কোন ভূমিকা পালন করতে পারে কিনা।

অল এশিয়া ফাইনালের অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেট দুনিয়া

Now Reading
অল এশিয়া ফাইনালের অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেট দুনিয়া

final 1.jpg

আর মাত্র একদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ বছরের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ম্যাচটি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কাল মাঠে নামবে দুই  চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত এবং পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি কিছু, পরতে পরতে রোমান্সে ঠাসা ক্রিকেট বিনোদনের পরিপূর্ণ এক  প্যাকেজ। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বুঁদ হয়ে থাকা। এমন লড়াইয়ের জন্যই অপেক্ষায় থাকে ক্রিকেট বিশ্ব। ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টাবে, পেন্ডুলামের মতো দুলবে ম্যাচের ভাগ্য। প্রতি মুহূর্তে আনন্দময় উৎকণ্ঠায় চলা ব্যাট-বলের এই দ্বৈরথের আবেশ ‘শেষ হইয়াও হয় না শেষ’! কথাগুলো যে চিরসত্য; তা জানা আছে অগণিত ক্রিকেটপ্রেমীদের। যেকোনো খেলায় ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হলেই ভোল্টেজ ‘হাই’ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি উত্তাপ, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপমহাদেশের সমর্থকদের মধ্যে। উপমহাদেশের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের স্নায়ুর ওপর দিয়ে যে আগামীকাল ঝড় বয়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দক্ষিণ এশিয়াতেই থাকছে। সেমিফাইনালের টিকেট পাওয়া চারটি দলের তিনটিই ছিল উপমহাদেশের। আর  এখন  ফাইনালেও নিশ্চিত এশিয়ানরা।

পাকিস্তান দলের ফাইনাল যাত্রাঃ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে।হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ায় টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে। ভারতের কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর থেকে পাকিস্তান দল একটা বিরাট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ভারতের কাছে হার ওদের কাছে এক  বিরাট বড় ধাক্কা ছিল। ওই ম্যাচের পর থেকে প্রাক্তনদের খোঁচা আর  দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হয়েছে শোয়েব মালিক-মহম্মদ হাফিজদের। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল ওদের। এবং তারপর থেকে একমাত্র ঘুরে দাঁড়ানোই ছিল ওদের সামনে বাঁচার রাস্তা। শুধু ঘুরে দাঁড়িয়েছে বললে ভুল হবে, যে দলকে কেউ গুণাতেই ধরেনি, সেই পাকিস্তান দল এখন শিরোপা থেকে মাত্র একটি ম্যাচ দূরে! দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে যায় পাকিস্তান। ৫০ অভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হয়,  ২১৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে। পাকিস্তান ইনিংসের ২৭তম ওভার শেষে বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এ সময় ১১৯/৩ সংগ্রহ নিয়ে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। ফলে আর খেলা না হওয়ায় বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জয় পায় পাকিস্তান।‘বি’ গ্রুপ এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ দশমিক ২ ওভারে ২৩৬ রানেই  গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। জবাবে ৩১ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে ২৩৭ রান তুলে জয়ের স্বাদ পায় পাকিস্তান। এর ফলে সেমি ফাইনালে উঠে যায় পাকিস্তান। সেমি ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের শুরু আর  শেষটা হলো ভিন্ন। পাকিস্তানি বোলারদের তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারই ব্যাট করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৯.৫ ওভারে ২১১ রানে অলআউট  হয় ইয়ন মরগানের দল। জয়ের জন্য ২১২ রানে লক্ষ্যমাত্র নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৮ উইকেট হারিয়ে ১১.৫ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পাকিস্তান। যার পরিপ্রেক্ষিতে জয়ের সাথে সাথে ফাইনালে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

ভারত দলের ফাইনাল যাত্রাঃ এই ম্যাচটিতে ভারতই বেশি চাপে থাকবে। কারণ হট ফেভারিটের তকমা গায়ে মেখে মাঠে নামবে তারা।গ্রুপের প্রথম ম্যাচে এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে।হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ায় টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে।দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ উইকেটে হেরে যায় ভারত। আসরে টিকে থাকার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিল কোহলির দল। ১৫ জুন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে একপেশে ম্যাচে  বাংলাদেশকে নয় উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে ভারত।

ভারত এ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চতুর্থবার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রথমবার ফাইনালে খেলছে। ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়নও।ভারত-পাকিস্তান একবার স্বপ্নের ফাইনাল হয়েছিল। সেটা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়ে, সেবার ভারতের কাছে ৫ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। যদিও জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল টান টান উত্তেজনায় ভরা। এছাড়া আইসিসি বিশ্বকাপ বলুন কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি- কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে দেখা হয়নি দু’দেশের।

কাল লড়াইটাও কি হবে পাকিস্তানি বোলার বনাম ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের? সেই লড়াইয়ে কে হাসবে তা জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া তো আর উপায় নেই।রিকেটের সব রঙ, রূপ, রস, গন্ধ মিলে মিশে একাকার হয়ে যাবে যেন এই একটি ফাইনালকে ঘিরে। যেই ট্রফি ঘরে তুলুক। আরেকটি এশিয়া ভিত্তিক ফাইনাল দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব।

ভারত-পাকিস্তান সেরা ১০ ওয়ানডেঃ

১৮ জানুয়ারি ১৯৮৮

পাকিস্তানকে (৩১৪/৫) তিন উইকেটে হারায় ভারত। ঢাকায় ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের ফাইনালে

* এক বল বাকি থাকতে জয়সূচক বাউন্ডারি হাঁকান ঋষিকেশ কানিতকার

১৮ এপ্রিল ১৯৮৬

ভারতকে (২৪৫/৭) এক উইকেটে হারায় পাকিস্তান (২৪৮/৯)। শারজায় অস্ট্রেলিয়া কাপ ফাইনালে

* শেষ বলে চেতন শর্মাকে ছয় হাঁকান জাভেদ মিয়াঁদাদ

২২ মার্চ ১৯৮৫

ভারত (১২৫) জয়ী ৩৮ রানে। ৮৭ রানে অলআউট পাকিস্তান।

শারজায় চার জাতির সিরিজে

* ইমরান খান মাত্র ১৪ রানে ছয় উইকেট নেন

২৫ অক্টোবর ১৯৯১

পাকিস্তান (২৬২/৬) ভারতকে (১৯০) হারায় ৭২ রানে। শারজায় উইলস ট্রফির ফাইনালে

* আকিব জাভেদ হ্যাটট্রিকসহ সাত উইকেট নেন মাত্র ৩৭ রান দিয়ে

৯ মার্চ ১৯৯৬

ভারত (২৮৭/৮) পাকিস্তানকে (২৪৮/৯) হারায় ৩৯ রানে।

বাঙ্গালোরে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে

* অজয় জাদেজা ২৫ বলে ৪১ রান করেন

১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭

ভারত (১৮২/৬) পাকিস্তানের (১৪৮) বিপক্ষে জয়ী হয় ৩৪ রানে।

টরেন্টোয় সাহারা কাপে

* সৌরভ গাঙ্গুলী ১৬ রানে পাঁচ উইকেট নেন

১৬ এপ্রিল ১৯৯৯

পাকিস্তান (১২৯/২) আট উইকেটে হারায় ভারতকে (১২৫)।

কোকাকোলা কাপে

* ওয়াসিম আকরাম ১১ রানে তিন উইকেট নেন

১ মার্চ ২০০৩

পাকিস্তানের (২৭৩/৭) বিপক্ষে ছয় উইকেটে জয়ী হয় ভারত (২৭৬/৪)

বিশ্বকাপের গ্র“প ম্যাচে

* শচীন টেন্ডুলকার ৯৮ রান করেন

৩০ মার্চ ২০১১

ভারত (২৬০/৯) পাকিস্তানকে (২৩১) হারায় ২৯ রানে।

মোহালিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

* শচীন টেন্ডুলকার ৮৫ রান করেন

১৩ মার্চ ২০০৪

ভারত (৩৪৯/৭) পাঁচ রানে জয়ী হয়

পাকিস্তানের (৩৪৪/৮) বিপক্ষে।

করাচিতে দুদেশের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজে

* ইনজামাম-উল-হক ১২২ রান এবং রাহুল দ্রাবিড় ৯৯ করেন।

দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা,শুধিতে হইবে ঋণ!

Now Reading
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা,শুধিতে হইবে ঋণ!

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু হয়েছিলো এইবারের বাংলাদেশের যাএা। দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয় বাংলাদেশের বনাম অস্ত্রেলিয়ার খেলা । বি’ গ্রুপ থেকে সেমিতে উঠার জন্য নিউজিল্যান্ড এর সাথের ম্যাচটি হয়ে উঠে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ। সেই তৃতীয় ম্যাচটি তে এক বিস্ময়কর পারফরমেন্সের সাথে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় বাংলার টাইগারা।
আর ইংল্যান্ডের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হেরে যাওয়া মাধ্যমে বাংলাদেশ উঠে যায় আইসিসি সেমিফাইনালে।
এই বারের আসরের সেমিফাইনালে ওঠাকে বড় অর্জন বলেই মনে করছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি; “এই গ্রুপে আমরা এশিয়ার বাহিরের দেশগুলোর সাথে খেলেছি,তাই এইবার সেমিতে খেলতে পারাটা অনেক বড় অর্জন ও বটে, তা একটি ম্যাচ জিতেই হোক”।
আর বাংলাদেশের এই সেমিফাইনালে ওঠা নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন ই বুকে বাধছে টাইগারদের ভক্তরা। এইদিকে ভক্তদের উদ্দেশ্য করে মাশরাফি বলে : “আমাদের এখনই চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দিবেন না,বাংলাদেশ দলে অহেতুক কোন চাপ তৈরি না হলেই ভালো হবে। ছেলেরা চাপ মুক্তভাবে খেলতে পারলেই খুশি হবো, আশা করছি ভালো কিছু হবে।”
অন্যদিকে ১২ বছর আগের কার্ডিফের স্মৃতি স্মরণ করে সাবেক টাইগার আফতাব আহমেদ বলেন ; আমরা কেউ না হয় এই ১২ বছর টিকে থাকতে পারি নি, কিন্তু মাশরাফি টিকে আছে।

এদিকে দক্ষিন আফ্রিকার সাথে বড় ব্যবধানের জয়ের সাথে সাথে ভারত উঠে যায় সেমিতে। খেলার নিয়ম অনুসারে ই আগামী সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামছে ভারত। ভারত বনাম বাংলাদেশের বল মাঠে গড়ানোর আগেই ক্রিকেট বিশ্বের আবহাওয়া বেশ গরম ই থাকে। এদিকে খেলার আগেই শুরু হয়ে যায় দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তদের কথার মারপ্যাঁচ। বরাবরের মত এইবার ও ভারত ম্যাচ এর আগেই জল ঘোলা করতে শুরু করে দিয়েছে।
ভারতে সাবেক শেবাগ ইতিমধ্য ই বাংলাদেশ দলকে তুচ্ছ করে এক কূটউক্তি করেছে ; দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে জয়ের জন্য ভারতের ক্রিকেট দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং এরই সাথে সাথে বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচের জন্য আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে দেন ভারত ক্রিকেট দলকে।
শেবাগ এর টুইটের বার্তায় এই প্রকাশ পায়, সেমি ফাইনালে বাংলাদেশকে কোন প্রকার যোগ্য দল হিসেবে দেখছেন না ভারত এবং শেবাগ এ ও নিশ্চিত ফাইনালে ভারত ই যাবে।
অন্যদিকে, ভারত এর সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, ” বাংলাদেশের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ আছে, তারা স্পিন ভালো খেলে এবং বোলারা ও ভালো করছে।
তবে আমি নিশ্চিত নই দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলা ভারতকে তারা রুখতে পারবে কি না।”

শেবাগ আর সৌরভ গাঙ্গুলি কে বলতে চাই, আপনারা মাঠে না পারলে কি হবে, গলায় জোর আছে বলে কি? ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের কথা হইতো আপনারা ভুলেই গেছেন। রোহিত শর্মার আউট কি মনে আছে? মনে আছে মাঠে যে ছিলো আপনাদের চামচা আলিম দার। আপনাদের অবস্থা দেখে আমাদের বাঙালিদের এইখানের একটা কথা মনে পড়লো : “চোরের মায়ের বড় গলা।”

বেশি না আপনাদের ১০ বছর আগের ই কথাটা একটু মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে যখন এই বাংলাদেশের কাছে গো হারা হেরেছিলেন। আরো মনে করিয়ে দিতে চাই, আপনারাই বলেন ২০০৭ সালের ভারত ক্রিকেট এ যে দল ছিলো তা ভারত এর জন্য ” ড্রিম টিম”। বর্তমানের অবসর প্রাপ্ত শেবাগ এবং সৌরভ গাঙ্গুলি ছিলো তখনকার দলে। আপনাদের “ড্রিম টিম ” নিয়ে ই যদি হেরে যান, আর বাদ ই দিলাম নয় এখন কার কথা।

২০১০ সালের কথাটাও আশা করি মনে আছে। আপনাদের তো আবার স্মৃতি শক্তি প্রখর, যার প্রশংসা না করে পারলাম না।
যেই মাশরাফির দুর্দান্ত বোলিং এ ইন্ডিয়ার উইকেট উড়ে গিয়েছিলো, যেই তামিম, সাকিব, মুশফিক এর ব্যাট থেকে এসেছিলো হাফ সেঞ্চুরি। তাদের মতো সিনিয়র সদস্য রা তো আছেই দলে।
তার সাথে ক্ষুদে খেলোয়াড় মাহমুদউল্লাহ কম যায় না। মাহমুদউল্লাহ ঠান্ডা মাথায় ক্লাসিক ব্যাটিং কি আপনাদের ভাবাবে না?
মুস্তাফিজ এর কাটার কি কোহেলির উড়াবে না?
ও তাসকিন এর বোলিং এর কথা ভারত এর মনে আছে তো, রুবেল এর গতি কি ভারত কে রুখবে না? ও নিউজিল্যান্ড এর সাথে মোসাদ্দেক হোসেনের বোলিং এর যাদু নিশ্চয় ভারত দেখেছে।

আপনাদের সেই ‘ ড্রিম টিম ‘ নিয়ে ১০ বছর আগের বাংলাদেশের সাথে পারলেন না। আর তো ১০ বছর পরের এই পরিপক্ব মাশরাফি বাহীনির সাথে।
তবুও ভারতকে সম্মান করে, টাইগার বাহিনীর অধিনায়ক বলেছে ; “সেমিফাইনালে যারা আসছে তারা অবশ্যই যোগ্য দল হিসেবে আসছে,যেই আসুক তাদের বিপক্ষে আমাদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে,
প্রসেস ঠিক রেখে খেলতে হবে।”

বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে ভারত এগিয়ে থাকলেও, এইবারের আইসিসি খেলায় টাইগার্স রা ভালো ফর্মে আছে। সাম্প্রতি তারা আইসিসি র‍্যাংকিং এ থাকা ১ নম্বর( অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিন আফ্রিকাকে) ২ নম্বর কে টপকে সেমিফাইনালে ওঠে গিয়েছে।
শক্তির দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ম্যাচ এ দূরসময়ের নেতৃত্ব কিন্তু মাশরাফি থেকে ভালো পারবে না ভারত। এদিকে কৌশলে নিঃসন্দহে বাংলাদেশ ভারতের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে। কারণ বাংলাদেশের কোচ (হাথুরুসিং), ভারতের কোচ থেকে কৌশল এগিয়ে তা সবার জানা।

কিন্তু কিছু দিন আগের প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগার্স রা বেশ একটা ভালো করতে পারে নি। এইটা ও সত্যি যে প্রস্তুতি ম্যাচের টাইগার্স আর এখন কার সেমিফাইনালের টাইগার্স রা এক পজিশনে নেই। এখনকার টাইগার্স রা হলো ইতিহাস ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ার দল।

ওহে বিরাট কোহলি, সৌরভ,শেবাগ একে একে হয়েছে অনেক পাওনা , এইবার সুদে আসলে সব শোধিতে হইবে দেনা। ক্রিকেট এ একটা কথা আছে ; হঠাৎ খারাপ দিন আসে। ভারত এর জন্য তা সামনের ম্যাচে ই।

আপনার মনে ও যত সব প্রশ্ন আছে সবই, উওর মিলবে শুধু কড়া নজর রাখতে হবে, আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালের ২য় পর্বের বাংলাদেশ বনাম ভারত এর ম্যাচে।

সাকিব রিয়াদের কানামাছি!

Now Reading
সাকিব রিয়াদের কানামাছি!

“ক্রিকেট বিশ্ব শুনলো আবারো বাংলার বাঘের হুংকার”
ইন্ডিয়ানদের সাথে যখন বাংলার টাইগারদের খেলায় একটু বেহাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো, তখন প্রশ্নের ঝড় শুধু বাংলার এগারো টাইগারের বুকে বাঁধে নি ব্যাথার মৌচাক, বেধে ছিলো বাংলার ক্রিকেটের ভক্তদের বুকে। ইন্ডিয়ানদের কথা বলে কি হবে, ওরা বরাবর একটু বেশি ই জল ঘোলা করতে ভালোবাসে।
সেই ব্যাথার ই জ্বালা থেকে বাংলার টাইগার দের কাছ থেকে এক জাগ্রত হুঙ্কার শুনলো অস্টেলিয়ান রা। হয় তো সেই দিন ই অনেক এ বুঝতে পেরেছিলেন বাংলার বাঘ ক্ষেপেছে।
জয় পাওয়ার তৃপ্ত বাসনার কারনে ই বাংলার বাঘের কাছ থেকে এই বার রেহাই পেলো না নিউজিল্যান্ড । খেলা শুরু হওয়ার আগেই কার্ডিফে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলেও, ক্রিকেটের আবহাওয়া ছিলো বেশ গরম।

আরো বেশি গরম হয়ে গেলো, যখন কিউই এর অধিনায়ক টস এ জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যদি ও বাংলাদেশের টাইগারদের অধিনায়ক মারশাফি জানিয়েছিলেন তিনি টস এ জিতলে অবশ্যই বোলিং নিতেন।

কে ই বা জানে, কেন ই বা, কিউই অধিনায়ক ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হয় তো হতে পারে উইকেট তার কাছে শুকনো মনে হয়েছিলো।
তাই তিনি আগে বাগে ইঁদুর দৌড় দিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু, বাংলার বাঘদের কাছ থেকে অতো সহজে রেহাই পাওয়া যাবে না। তা নিউজিল্যান্ড এর প্রথম উইকেট গোল্লায় যাওয়ার পর ই বুঝতে পারে।
মারশাফির সেই অসাধারণ নেতৃত্ব। বাংলার নেতা তো তাই আগে থেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। তাই তো সময়ের প্রয়োজনে ইমরুল ও মেহেদী কে একাদশ এর বাহিরে রেখেছিল। বাংলার কোপ মারার জন্য দলে নিয়ে এসেছিলো তাসকিন ও তরুন মোসাদ্দেক কে।
বাংলার বোলিং আর কিউই দের ব্যাটিং। প্রথম থেকেই ঠিক কসেই ধরে বসেছিলো বাংলাদেশী বোলারা।
বাংলাদেশী বোলারা মনে হয় কিউই দের একেবারে পাই টু পাই হিসাব করে। রান দিচ্ছিলো। শুধু কি রানে হিসাব করলে হয়, তাইতো এই বার শুরু হলো উইকেট এর হিসাব। তাসকিন এর দুই আংগুলের বাকা বলে কেড়ে নেয় কিউই দের প্রানঘাতি দুইটি মূল্যবান উইকেট। তখন ই মনে হচ্ছিলো মারশাফির ভাবা ভুল নয়। তারপর তার পুরোপুরি প্রমাণ করে দেয়, তরুন বোলার মোসাদ্দেক। এদিকে রুবেলের গতির কাছে কিউই দের হাল হয়ে উঠলো বেগতি। তাই রুবেলের গতি কাছে হার মানলো গাপটিল।রিভিউ নিলো কিন্তু কোন কাজই হলো না। তাসকিনের মতো এবার রুবেলেও দ্বিতীয় ওভারে উইকেট মিললো।
ফাইন লেগ থেকে রান চুরি করতে গিয়ে এবার সুবিধা করতে পারলো না কিউই এর অধিনায়ক। হয়ে গেলো রান আউট। মারশাফির এইবার এনলো তার অন্যতম হাতিয়ার মোসাদ্দেকে। তার অসাধারণ বোলিং এ কিউই রা পেলো একজোড়া ধাক্কা। ফলে ‘এজ’ বল উড়িয়ে দিল ব্যাকওয়াডর্র পয়েন্টে, আর ঠিক সময় ঠান্ডা মাথায় ক্যাচ নিলো তামিম। নামলেন
অ্যান্ডারসন, আরেকটি ভুল। সামনে পা বারিয়ে খেলতে বোল ঢুকে গেলো ভিতরে, প্যাড এ লাগলো, এলবিডাব্লিউ হয়ে চলেই যাচ্ছিলো। কিউই রা নিলো রিভিউ, কিন্তু কোন লাভ হলো না।
আবারো মোসাদ্দেক এর বোলিং আর মুশফিকুর এর গ্লাভস এর যাদু এক হয়ে করলো এক অন্যরকম মীরাকেল। ফলে হয়ে গেলো নিশাম এর পতন আর সেই সাথে সাথে ই গোল্লায় গেলো কিউই দের আর একটি উইকেট। এবার বুঝি বাকি ছিলো মুস্তাফিজের স্লোয়ার এর ঝলক দেখানোর। তাহলে শুভ কাজে দেরি কেন? বোলিং করলো মুস্তাফিজ, বোল সোজা দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে একেবারে মামা বাড়ি যা বোল্ড। এর ই মাঝে বাংলা বোলার দের হাতে নাস্তানা ভূত হয়ে ২৬৫ রানে ই আটকে গিয়ে নিউজিল্যান্ড এর খেলার পরি সমাপ্তি ঘটে।

বাংলার বোলিং এর বোল কড়া যাদু সবাই দেখলেন।
এইবার পালা, বাংলার ব্যাটসম্যানদের ব্যাট এর যাদু দেখনোর।

নামলো তামিম বেশ বড় আশায় বুক বাধছিলো বাংলাদেশ। অবশ্যই বাধার ই কথা।কারণ, বিগত, দুই ম্যাচের স্কোরকার্ড বলছিলো তাই। কিন্তু তামিমের ভুল লাইনে খেলার জন্য দিতে হলো কড়া দাম। ডাক মারলো তামিম। মনে হলো এইটা তামিমের ডাক ছিলো না, ১৬ কোটি মানুষ এর কলিজা টা শূন্য হয়ে গেলো। যাই হোক মাঠে সাব্বির, কিন্তু হলো না, সাউদির গুড লেনথের বলে শিকার হলো সাব্বির। এলো সৌম্য সরকার, পা পিছনে দিয়ে খেলতে গেলো কিন্তু সাউদির গুডলেংথি ডেলিভারি সেই সুযোগ দিলো না, বোল গিয়ে লাগলো
আর তাতেই সৌম্য কাবু। বাস কি? ১২ রানে ৩ উইকেট এর পতন। ততক্ষনে অনেকেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণী বলার কাজে লেগে গেলো। এই বার নামো মুশফিকুর। মুশফিকুর এর ব্যাট থেকে দুর্দান্ত এক চার। ও এতোক্ষনে একটু শান্তি লাগতে শুরু করলো, কিন্তু, কপালে সুখ সইলো না। মিলনের বোলিং এর সুইং, হয়ে গেলো মুশফিকুর এর উইকেট এর চুইং।

৩৩ রানে যখন বাংলাদেশের ৪ উইকেট এর পতন, তখন বেশিরভাগ লোক ই বলছিলো এবার বুঝি আর শেষ রক্ষা হলো না। ততক্ষণে বাংলাদেশ হারবে ভেবে খেলা দেখা ছেড়ে দিয়েছিলো আপনার মতো অনেক ই। আর তখন বাংলাদেশকে কমেন্ট্রি থেকে তো বাংলাওয়াশ দিচ্ছিলো ই। আর এই সুন্দর সুযোগ কোন ভাবেই মিস করতেছিলো না, ধারাভাষ্যকার সৌরভ গাংগুলি।
হয়তো এর ই উপযুক্ত জবাবের জন্য আবার আসলো এশিয়া কাপের সেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আরে এসেই দিলো বাংলার বাঘের হুংকার, নিশাম এর বোল কে দিলো উড়িয়ে দিলো স্কয়ার লেগ এ, কেল্লাফতে “ছয়”। এই ইনিংস এ বাংলাদেশের প্রথম ছয়। তার পরের বলেই মারলো চার’। আশা এখনো ফুরাই নাই, ইতিহাস অনেক বাকি। এই রকম এক বাতা নিয়ে ই বুঝি বাংলার এই বাঘ মাঠে নেমেছিলো।

২৩ তম ওভারে বাংলাদেশ করলো ১০০ রানের গন্ডি পার। সাকিব আর রিয়াদের ৫০ এর জুটি ও পার করে ফেলেছে দুই বাংলার বাঘ।
৩১ তম ওভারে দুই ক্রিকেট পাগল করে ফেললো শত রানের জুটি। এর ই মধ্য করলো সাকিবের ক্যারিয়ারের ৩৫ তম ফিফটি, সাধারণ ভাবে ফিফটি হলে ব্যাটসম্যানরা ব্যাট প্রদর্শন করে থাকে। কিন্তু, সাকিব তা করলো না, বরং, গ্লাভস চেয়ে পাঠালেন। তখন ই বুঝা হয়ে গিয়াছিলো বাংলার পাগলা এই বার কিউই দের দিবে বাংলার বাশ। তার সাথে সাথে মাহমুদউল্লাহ ও ক্যারিয়ারের ১৮ নম্বর ফিফটি করে ফেললো।

ওরে বাবা কিউই দের আর কতো দৌড় দিবি এইবার ছাড় দে। না বুজি এই বার আর রক্ষা পেলো না, কিউই রা, তাই করে ফেলো আরেক টি রেকড, সাকিব রিয়াদের ১৫০ এর জুটি হয়ে গেলো।
এই বার সাকিব রিয়াদ দুই জন ই বেশ ঝুকি নিয়ে খেলছিলো। আর সাকিব মাঝে মাঝে মুচকি হেসে দিচ্ছিলো। কিউই দের কাঁটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা পড়তাছিলো।
২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম-মুশফিক করেছিলো ১৭৮ রানের জুটি রেকড। কিন্তু, সাকিব-রিয়াদ এইবার সেই রেকড ছাড়িয়ে গেলো ২০০। বাংলাদেশের জুটি রেকড এ এইটা এখন সবচেয়ে বড় রেকর্ড।
২০০ রানে জুটি আবারো কার্ডিফকে দেখিয়ে দিলো বাংলার গর্রজন।

২০৪ বলে সাকিব-রিয়াদের ২০০ রানের জুটির পর, সাকিবের শতক রান করার পালা। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে শেষ শতক করেছিলেন এই অলরাউন্ডার। এই আবার করলো আজকের ম্যাচ এ। তারপর কি সাকিব ১১৫ বোল এ ১০৪ করে ঘরে ফিরে। তখন পুরো কাডিফ হাতে তালি দিয়ে স্বাগতম জানাচ্ছিলেন এই অলরাউন্ডার কে।

নামলেন মোসাদ্দেক, সেও নেনে কিউই দের নাস্তানাবুদ বানালো। কোন দাম ই পেলো না তার কাছেও নিউজিল্যান্ড এর বোলার রা। তখন মাহমুদউল্লাহ সুযোগ এ ছিলেন তার শতক পুরণ করার। তাই তো চার মেরে তার তৃতীয় শতক পুরন করে ফেললো। তারপর মহান আল্লাহ নামে সিজদায় পরে গেলেন। তারপর তার ব্যাট এর মিডেল এ খালি জায়গায় ইশারা করে বোধ হয় কাওকে দেখিয়ে বলে দিয়েছিলো, এই জায়গায় টায় তোমার নাম লিখে দিবা। খুব বেশি স্টাইলিশ ছিলো না, ছিলো কলিজার সাদা সিধা টান। তার এই ইশারা আসলে কাকে অনুসরন করে করা হয়েছিলো? তা নিয়ে সকলের মাঝেই ছিলো ব্যাপক কৌতূহল। অবশেষে মাহমুদউল্লাহ সেই রহস্য অবসান ঘটালেন”বাবা এই ব্যাট দিয়ে খেলো, তুমি ভালো খেলবে” কথাটি মাহমুদউল্লাহ ৫বছরের ছেলেটি বলছিলো। তখন এই ইশারায় বুজানো হয়েছিলো বাবা এই জায়গায় তোমার নামটা ই লেখবো। ভালো খেলোয়াড় এর সাথে সাথে মাহমুদউল্লাহ যে একজন ভালোবাসাময়ী বাবা তা ও প্রমান হয়ে গেলো।

এর ই মধ্য দিয়ে জিতে গেলো বাংলাদেশ এর বাংলার টাইগার, আর আবারো কাডিফ শুনলো বাঘের হুংকার কেমন হয়? মারশাফির ডাক যেমন হয়।

সাকিব – রিয়াদের জুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লেখা লিখির শেষ নাই। আসলেই জয় টা ছিলো এমন ই না শেষ হওয়ার মতো।
সেলুট মারশাফি আবারো তোমার বাঘের মতো সুচারু সব কৌশলের জন্য। জানি না ফাইনালে তে যাবো কিনা কিন্তু, জানি বাংলাদেশের বাংলার বাঘ দের ভালোবেসে যাবো।

এগিয়ে যাও বাংলার বাঘ…..

অবহেলায় মেয়েদের ক্রিকেট

Now Reading
অবহেলায় মেয়েদের ক্রিকেট

দিন দিন বাংলাদেশ দলের উন্নতি হয়েছে । আগের মতো আর পিছিয়ে নেই আমাদের ক্রিকেট খেলা । সেই ২০০০ সালের দলের সাথে আজকের দলের তুলনা করলে আমরা দেখতে পাবো কতটা পরিবর্তন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট । দেশে বিদেশ বিভিন্ন খেলা খেলে জয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলার ছেলেরা । ঘরের মাঠে তারা হারিয়েছে অনেক বড় বড় দলকে । এমন কি বিদেশের মাটিতেও বিভিন্ন দল কে করেছে বাংলা ওয়াশ । আজ তারা রাঙ্কিং এ .৬ নাম্বারে উঠে এসেছে । চারিদিকে ছেলেদের জয় জয় কার ।

কিন্তু আমরা কি একটা বার আমাদের নারী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে ভেবেছি । তাদের আজ কি অবস্থা ? তারা কেমন খেলছে ? তাদের রাঙ্কিং পজিশন কি ?
আসলে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল যেভাবে মিডিয়া কভারেজ পেয়ে থাকে , সেদিক থেকে বাংলাদেশ নারী দল অনেক পিছিয়ে । তাদের নিয়ে খুব কম ম্যাচ রিভিউ লেখা হয় । আমি যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করি বর্তমানে বাংলাদেশ দেশ নারী দলের ক্যাপ্টেন এর নাম কি ? আমি নিশ্চিত আপনি হয়তো বলতে পারবেন না । আর যদি বলেও থাকেন প্রথমে আপনাকে ভাবতে হবে , তারপর উত্তর দিতে পারবেন । কিন্তু আপনাকে যদি প্রশ্ন করি বাংলাদেশ পুরুষ দলের ১৫ জন খেলোয়াড়ের নাম বলুন , তাহলে আপনি ২০ জনের নাম বলে দিবেন । তাহলে এই দিক থেকে কি আমাদের নারী দল পিছিয়ে নেই ? সর্ব শেষ বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক পরিবর্তন করা হয়েছে । এই খবর অনেকে জানলেও বর্তমানের অধিনায়কের নাম অনেকে জানে না । এইটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার বিষয় । বর্তমানে বাংলাদেশ নারী দলের নেতৃত্বে আছে জাহানারা আলম । সালমা খাতুন কে সরিয়ে বিসিবি নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেন । এই খবর কিছু খুব বেশি প্রচার হয়নি । সেই সাথে বাংলাদেশে খুব কম কথা হয়েছে । আপনি খেয়াল করলে বুঝবেন , কিছু দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট এর টি টুয়েন্টি ভার্সন থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজা অবসর নিলে কি রকম অস্থিরতা শুরু হয় । নিউজ থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকানে এই খবর । এমন কি মানব বন্ধন করতে দেখা গিয়েছে । আবার সেই মানব বন্ধ প্রচার করা হয়েছে টিভি এবং পত্রিকায় ।

আমি বাংলাদেশ পুরুষ দল নিয়ে কোন সমালোচনা করছি না । বাংলাদেশ নারী দলকে কেন প্রচার বিমুখ করে রাখা হয়েছে ? আপনি যখন কোনো দল কে সাপোর্ট করবেন তখন সেই দল খেলতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে । কিন্তু আপনি যখন তাদের পাশে থাকবেন না তারা খুব হতাশ থাকবে । আপনি একটা বার চিন্তা করেন , আমাদের মাশরাফি বাহিনী যখন খারাপ খেলে আমরা যতই গালাগাল করি না কেন , আবার তাদের খেলা হলে তাদের সমর্থন করতে টিভির সামনে বসে যাই । এতে করে তারা অনেক অনুপ্রাণিত হয় ।আবার তারা আগের মতো খেলার চেষ্টা করে । আমরা যদি আমাদের নার ক্রিকেট দলকে সাপোর্ট করতাম পুরুষ দলের মতো তাহলে আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারে তারা এখন যা খেলছে তার থেকে অনেক বেশি ভালো খেলতো । তাহলে কি আমরা নিজেরাই পুরুষ ও নারীর মাঝে ভেদাভেদ তৈরি করছি ?

বাংলাদেশ নারী দল ইচ্ছা করলে আমাদের দেশে বা বাহিরের দেশে গিয়ে ক্রিকেট খেলতে পারে না । কারণে তাদের স্পন্সর খুব কম হয় । কেনই বা হবে । যদি সেই খেলা প্রচার করা না হয় , তাহলে কেউ সহজে স্পন্সর হতে চাইবে না । যার কারণে অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও খেলা আয়োজন করা যায় না ।

লাস্ট যেই বিশ্বকাপ হলো সেটি তে খেলতে পারেনি নারী দল । তারা বাছাই পর্বে ছিটকে পরে গ্রুপ থেকে । তাহলে বোঝা যাচ্ছে নারী দল অনেক পিছিয়ে । বাংলাদেশ পুরুষ দলের জন্য যেই রকম বিদেশী স্টাফ দিয়ে কোচিং করানো হয় , সেই দিক থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল অনেক পিছিয়ে । এতো দিন তাদের জন্য দেশি কোচ ছিল । কিছু দিন যাবত শোনা যাচ্ছিলো তাদের জন্য বিদেশী কোচ এর ব্যবস্থা করে দিবে । আরেকটি কথা হলো আপনি যত বেশি ক্ৰিকেট খেলবেন ততো বেশি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচে ভালো খেলবেন । কিন্তু আপনার খেলার পরিধি যদি হয় ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ পর্যন্ত তাহলে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচে ভালো করার সুযোগ নেই বললে চলে । আমি এই কথা বলছি কারণ ছেলেদের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেট এর যেমন সুব্যবস্থা আছে , মেয়েদের জন্য নেই বলেই চলে । প্রতি বছর তাদের জন্য বলা হয়ে সুব্যবস্থা রাখা হবে কিন্তু ওই সব কথা কাগজে কলমে বন্ধী থাকে ।

যদি ফিটনেস নিয়ে কথা বলি তাহলে আরো খারাপ অবস্থা । মেয়েদের জন্য আলাদা ফিটনেস ঠিক রাখার তেমন ব্যবস্থা নেই বিসিবির । আর যা আছে তা বিশ্ব মানের না ।

আমি চাই বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলা এগিয়ে যাক । কিন্তু আমার শরীরের এক অংশ বেড়ে যাবে আর আরেক অংশ ছোট থাকবে তা কিন্তু বেমানান লাগবে । আমি চাই পুরুষ ক্রিকেট এর সাথে সাথে মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করা হোক , খবর বের করা হোক , তাদের নিয়ে নিয়মিত আর্টিকেল লেখা হোক । আর আমাদের উচিত তাদের খেলা হলে বিশেষ করে দেশের মাটিতে খেলা হলে মাঠে গিয়ে বসে তাদের উৎসাহ দেয়া । একদিনে তারা বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারবে না জানি । কিন্তু একদিন না একদিন ঠিক উজ্জ্বল করবে সেই সাথে মেয়েদের ক্রিকেটে ওয়ার্ল্ড রাঙ্কিং এ এক নাম্বারে থাকবে ।

এক ওভার এ ৭৭ রান। গল্প নয় সত্য

Now Reading
এক ওভার এ ৭৭ রান। গল্প নয় সত্য

যখন কেউ প্রশ্ন করে এক ওভার এ সর্বোচ্চ রান কত ? তখন হয় তো সবাই বলবে ৩৬। আর কোন ব্যাটসম্যান এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে বললে উত্তর আসবে হার্শাল গিবস ,রবি শাস্ত্রী এবং গ্যারি সোবার্স। হয়তো অনেকেই জানেন না এই উত্তর টি সম্পূর্ণ ভুল। উত্তর তা শুনলে হয়তো রীতিমতো করে যাবেন। কারণ ১৯৯০ সালে বুর্ট ভেন্স এর কুখ্যাত এবং আলোচিত একটি ওভার এ হয়েছিল ৭৭ রান। হ্যাঁ ভুল দেখেননি ,৭৭ রান।ব্যাটসম্যান ছিলেন লি-জর্মন এবং রজার ফোর্ড। কি চোখ কপালে তো। চলুন জেনে নেই কি ঘটেছিলো সেই ওভার এ।
ঘটনা টি ঘটে ওয়েলিংটনের শেল ট্রফির শেষ দিনে। যেখানে ওয়েলিংটন মুখোমুখি হয়েছিল ক্যান্টারবুরী সাথে। ম্যাচ টি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ক্রিস্টচার্চ ক্রিকেট গ্রাউন্ড এ। ম্যাচটি ছিল ওয়েলিংটনের মৌসুমের শেষ ম্যাচ। আর শিরোপা ধরে রাখতে ওয়েলিংটনের দরকার ছিল একটি জয়। দিনের শুরুতে ওয়েলিংটন তাদের ইনিংস ঘোষণা করে। তারা জয়ের জন্য ক্যান্টারবুরীকে ২৯১ রানের টার্গেট দিয়ে ছিল। ব্যাট করতে নেমে ক্যান্টারবুরী পরে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে। ওয়েলিংটনের বোলারদের বোলিং তোপে একে একে তারা হারায় তাদের ৮ টি মূল্যবান উইকেট। ক্যান্টারবুরী লক্ষ্য তখন যেভাবেই হোক ম্যাচ তা ড্র করা।
লি-জর্মন ক্যান্টারবুরী উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান তখন স্ট্রাইক এ। ওয়েলিংটনের ক্যাপ্টেন জন মরিসন এবং এরভি স্বীনি একটি বুদ্ধি আঁটল ক্যান্টারবুরীকে আটকাতে। তারা বোলিং এ বুর্ট ভেন্স কে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলো। বুর্ট ভেন্স ছিলেন একজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান এবং তার পূর্বে বোলিং করার কোনো রেকর্ড ও ছিল না। তবে কেন তাকে নিয়ে গেম প্ল্যান সাজালো জন মরিসন ?এমন কি ছিল তার সেই গেম প্লেন এ ?

cricket1-1484378219.jpg

লি-জর্মন নিউজিল্যান্ড এর হয়ে খেলা আন্তর্জাতিক একটি ম্যাচে

আলোচিত সেই ওভার এর আগে ক্যান্টারবুরী রান ছিল ১০৮ রান ৮ উইকেট এর বিনিময়ে। মরিসনের গেম প্ল্যান ছিল তারা ক্যান্টারবুরী কে প্রকার রান গিফট দিবে। অর্থাৎ যে ক্যান্টারবুরী ড্র এর জন্য খেলছে তাদেরকে জয়ের আশা দেখিয়ে রক্ষণাত্মক খেলা থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে উৎসাহিত করবে। যাতে তার তাদের শেষ ২ উইকেট ঝুঁকিতে ফেলে ম্যাচ জয়ের জন্য বড় শট খেলে। ওভার টি যখন শুরু হয় তখন ক্যান্টারবুরী এর ছিল ১৯৬ রান ৮ উইকেট এর বিনিময়ে। লি*জর্মন এবং রজার ফোর্ড এর ধৈর্যশীল ব্যাটিং এ তারা মোটামোটি শক্ত ভীত গড়ে তুলেছিল ড্র এর জন্য। লি-জর্মন তখন অপরাজিত ছিলেন ৭৫ রান করে।
জন মরিসন বোলিং এ আমন্ত্রণ জানালেন বুর্ট ভেন্স কে।ভেন্স বল করা শুরু করলেন। তার করা শুধু প্রথম এবং দ্বিতীয় বলটি হয়তো লিগ্যাল ডেলিভারি ছিল। এর পর যা হল তা এখন ইতিহাস। ফুলটস এর পর ফুলটস ,একের পর এক নো-বল। আর এই দিকে জর্মন খেলে যাচ্ছিলেন একের পর এক বাউন্ডারি। জর্মন সেই ওভার এ তুলে নেন তার সেঞ্চুরি। মাত্র ৬ বল খেলে তিনি ৮ টি ছক্কা এবং ৫ টি চার হাঁকান সেই ওভার এ। একই সেই ওভার থেকে করলেন ৭০ রান। তবে ফোর্ড ওভার এর ২ টি বল খেলেছিলেন যাতে তিনি ৫ রান সংগ্রহ করেন।
ভেন্সের বোলিংয়ে রানের ধারা ছিল যথাক্রমে ০,৪,৪,৪,৬,৬,৪,৬,১,৪,১,০,৬,৬,৬,৬,৬,৬,০,০,৪,১

cc003905b109fae0d216708e3fd7b562-9.jpg

ভান্স সেই ৭৭ রান দেয়া বোলার

কি হচ্ছে মাঠে এইটা ? এ দেখে সবাই হতবাক। এতটাই হতবাক যে স্কোরবোর্ড এ রান বদলানোর কোথাও ভুলে গিয়েছিলো। এদিকে আম্পায়ারের চোখ ও চড়কগাছ। এতটাই যে ৫ টা লিগ্যাল ডেলিভারি তাই ওভার ঘোষণা করে দিলেন। অবস্থা কিছুতেই সামাল দেয়া যাচ্ছিলো না যতক্ষণ না ইভান গ্যারি সেশন এর শেষ ওভার তা করলো। সেশন শেষ হবার আগে জয়ের জন্য ক্যান্টারবুরীকে দরকার ছিল ১৮ রান। সেশনের শেষ ওভার এ জর্মন আরো ১৭ রান তুলে নিলেন।
কিন্তু স্কোর বোর্ড এর কর্মকর্তারা তখন ভেন্স এর ওভার এ বিচলিত। জয়ের জন্য সেন্টারব্র্যায়ের দরকার ছিল ১ রান। কিন্তু স্কোর দেখতে না পাড়ায় ফোর্ড লাস্ট বলটি ডিফেন্সিভ খেলে। কারণ তার ধারণা ছিল ম্যাচ টি তারা ড্র করতে পেরেছে।

মজার বেপার হলো জন মরিসন ও ভেবেছিলেন টার্গেট এ আরো রান আছে। পরবর্তীতে জন মরিসন বলেন “আমিতো প্রায় হার্ট এটাক করে বসেছিলাম যখন শুনলাম সেন্টারব্র্যায়ের শুধুমাত্র ১ রান লাগতো জয় এর জন্য এবং আমরা ভেন্স এর বোলিং এর জন্য অনেক ঠান্ডা ফিল্ডিং করছিলাম ”

“I nearly had heart failure when I learnt a little time after the game that Canterbury only needed one to win and we had Vance bowling to a very leaky field”
John Morrison

 

4895446.jpg

ট্রফি হাতে ওয়েলিংটনের ক্যাপ্টেন জন মরিসন

ম্যাচ শেষেও ভেন্স এর ওভার নিয়ে কতে থাকলো কঠোর সমালোচনা। এই ব্যাপার নিয়ে মরিসন বলেন ” ঘটনাটি নিয়ে সকল প্রকার বিতর্ক চলছিল। আমাদের কপাল ভালো ছিল যে আমরা কোনো পয়েন্ট হারায়নি। আপনারা ভাবতে পারেন কতটা সৌভাগ্যবান হলে আমরা নিশ্চিত হারানো পয়েন্ট ফিরে পেয়েছি। যদি পয়েন্ট হারাতাম তবে হয়তো চ্যাম্পিয়নশিপ টাও পেতাম না তখন আরো বেশি বিতর্ক হতো। যাই হোক চ্যাম্পিয়নশিপ জেতায় আমরা সকল সমালোচনা থেকে বেঁচে গেছি এবং বিষয়টা বেশিদূর গড়ায়নি। ”

ঘটনাটি অনেকটাই স্টিভ ও ‘শৌঘ্নেসসির ৩৫ মিনিট এর সেঞ্চুরির মতো। অন্য একদিন না হয় সেইটা নিয়ে লিখবো। তবে বলে রাখি আজও জর্মন এবং ফোর্ড এর ৯ম উইকেট এ করা ১৮২ রান এর জুটি ক্যান্টারবুরী ৯ম উইকেট এ করা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।